বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক রাখতে চায় ফিফা

খেলায় মাত্র তিন মিনিটের বিরতি, অথচ সেখানেই বিজ্ঞাপন থেকে শত শত কোটি ডলারের সম্ভাবনা! ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতি অর্ধে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেককে ঘিরে সম্প্রচারকারীদের বিপুল বিজ্ঞাপন আয় ফিফার নজর কেড়েছে। তাই ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপেও এই বিরতি বাধ্যতামূলক রাখার কথা ভাবছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এমন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের পানি পান ও শরীর ঠান্ডা রাখার সুযোগ দিতে প্রতি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে তিন মিনিট করে খেলা বন্ধ রাখার নিয়ম চালু করেছিল ফিফা। আবহাওয়া বা তাপমাত্রা যেমনই হোক, প্রতিটি ম্যাচেই ছিল এই বিরতি। ফিফার ব্যাখ্যা ছিল, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত।

তবে মাঠের সেই স্বস্তির তিন মিনিট দ্রুতই সম্প্রচার ব্যবসার জন্য হয়ে ওঠে মূল্যবান বিজ্ঞাপনের সময়। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পাওয়া ফক্স স্পোর্টস এই বিরতিতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আয় করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শুধু এই তিন মিনিটের বিরতিকে ঘিরেই ফক্সের বিজ্ঞাপন আয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ২ লাখ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে খেলোয়াড়দের পানি পানের জন্য তৈরি হওয়া বিরতিই পরিণত হয়েছে সম্প্রচারকারীদের জন্য বড় বাণিজ্যিক সুযোগে।

এই অভিজ্ঞতার পর ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্বের নতুন চুক্তিতে প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের বিরতির শর্ত যুক্ত করার কথা ভাবছে ফিফা। এমনটা হলে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ম্যাচ থামবে এবং সেই সময় বিজ্ঞাপনের জন্য আগেই নিশ্চিতভাবে বিক্রি করা যাবে।

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে ফিফার প্রধান বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মকর্তা আর্সেন ওয়েঙ্গার অবশ্য জানিয়েছিলেন, হাইড্রেশন ব্রেক ম্যাচের ফল কিংবা খেলার প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। তবে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপেও এই ব্যবস্থা থাকবে কি না, তখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

এখন সেই সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিক হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব ঘিরে ইতিমধ্যেই বড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নেটফ্লিক্স, ডিজনি ও ইউটিউবের পাশাপাশি আমাজন ও অ্যাপলও আগ্রহী বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।

প্রতিবেদনগুলো বলছে, প্রতিটি বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫০ কোটি থেকে ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাজেট ধরছে। ফিফা যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারস্বত্ব একসঙ্গে বিক্রির পরিকল্পনাও করছে। এতে স্বত্বের মূল্য আরও বাড়তে পারে।

অর্থাৎ বিশ্বকাপের লড়াই এখন শুধু মাঠের ৯০ মিনিটে সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন আর বিপুল অর্থের হিসাবও হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের বড় অংশ। আর সেই বাণিজ্যিক সমীকরণে খেলোয়াড়দের পানি পানের তিন মিনিটের বিরতিও এখন ফিফার কাছে হতে পারে কোটি কোটি ডলারের সম্পদ।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles