নেদারল্যান্ডসের কোচ জাভি, লক্ষ্য বিশ্বকাপ-ইউরো

রোনাল্ড কোম্যানের বিদায়ের পর নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বার্সেলোনার কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজ। ৪৬ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কোচ চার বছরের চুক্তিতে ডাচদের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর অধীনে ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০৩০ বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা অবস্থানে নেওয়াই এখন নেদারল্যান্ডসের প্রধান লক্ষ্য।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। শেষ ৩২-এর ম্যাচে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। হতাশাজনক সেই বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছাড়েন কোম্যান। তাঁর জায়গায় জাভিকে নিয়োগ দিয়ে নতুন পথচলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাচ ফুটবল ফেডারেশন।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে জাভি বলেছেন, নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ হওয়া তাঁর জন্য ‘অসাধারণ সম্মানের’। বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠার সময় ডাচ ফুটবলের দুই কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ ও রিনুস মিশেলসের দর্শনের গভীর প্রভাব তাঁর ওপর পড়েছিল। কোচ হিসেবে নিজের ফুটবল দর্শনের সঙ্গে ডাচ ফুটবলের ঐতিহ্যের মিলও দেখছেন তিনি।

জাভির ভাষায়, নেদারল্যান্ডসের ফুটবল সংস্কৃতি ও আক্রমণাত্মক, বল দখলভিত্তিক এবং সৃজনশীল ফুটবলের দর্শন তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। তাঁর লক্ষ্য শুধু জয় নয়, এমনভাবে জয় পাওয়া, যা খেলোয়াড় ও সমর্থকদের আনন্দ দেবে।

জাভি হার্নান্দেজ

মজার ব্যাপার হলো, বার্সেলোনায়ও কোম্যানের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন জাভি। ২০২১ সালে কঠিন সময়ে ন্যু ক্যাম্পের দায়িত্ব নিয়ে পরের মৌসুমেই বার্সাকে লা লিগা শিরোপা এনে দেন তিনি। ২০২৩ সালে জেতেন স্প্যানিশ সুপার কাপও। তবে ২০২৩-২৪ মৌসুমে কোনো শিরোপা না জেতায় তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় হান্সি ফ্লিককে।

খেলোয়াড় হিসেবে জাভির ক্যারিয়ার ছিল সাফল্যে ভরা। স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ ও ২০১২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন তিনি। কোচিংয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয় কাতারের আল সাদে ২০১৯ সালে। সেখানে সাতটি ট্রফি জয়ের পর বার্সেলোনায় ফেরেন।

বার্সেলোনা ছাড়ার পর দুই বছর কোচিংয়ের বাইরে ছিলেন জাভি। বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দলের প্রস্তাব পেলেও এতদিন কোনোটি গ্রহণ করেননি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এবার সেই সুযোগই পেলেন নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব নিয়ে। ডাচ ফুটবলের ঐতিহ্য আর জাভির দখলভিত্তিক আক্রমণাত্মক দর্শনের সমন্বয়ে নতুন যুগের স্বপ্ন দেখছে ‘অরেঞ্জ’রা।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles