লা লিগায় মৌসুমের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল আতলেতিকো মাদ্রিদ। শনিবার সান মামেসে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়ে অ্যাথলেটিক ক্লাব ৩-০ গোলে হারিয়েছে দিয়েগো সিমিওনের দলকে। নিকো উইলিয়ামস, রবার্ত নাভারো ও ওইহান সানসেতের গোলে বড় জয় পেয়েছে বাস্ক ক্লাবটি।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয় লিগ জয় তুলে নিয়েছে অ্যাথলেটিক। মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর সাবেক বরুসিয়া ডর্টমুন্ড কোচ এদিন তেরজিচের অধীনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। চার ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ এখন ৬ পয়েন্ট।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল আতলেতিকোর দখলে। তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পায় সফরকারীরা। অ্যাথলেটিকের রক্ষণ ভেঙে লি কাং-ইন শট নিলে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
এরপরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে আতলেতিকো। অ্যাথলেটিক গোলরক্ষক উনাই সিমোনকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষায় ফেলেন সফরকারীরা। আলেক্স বায়েনার প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন সিমোন। এরপর পাবলো বারিওসের শটও পোস্টে লাগে।
প্রথমার্ধে আতলেতিকোর একাধিক সুযোগের বিপরীতে স্বাগতিকদের হয়ে ওইহান সানসেতও গোলের চেষ্টা করেন। তার শক্তিশালী শট অবশ্য গোলের বদলে সাইড-নেটে গিয়ে লাগে। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে আতলেতিকোকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় অ্যাথলেটিক।
৪৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস গোল করে এগিয়ে দেন স্বাগতিকদের। এই গোলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার ভাই ইনাকি উইলিয়ামসের। ইনাকির নেওয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে সেই বল পেয়ে যান নিকো। এরপর নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠিয়ে অ্যাথলেটিককে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। আবারও আক্রমণের শুরুতে ছিলেন ইনাকি উইলিয়ামস। তার পাসে রবার্ত নাভারো বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করে স্কোরলাইন ২-০ করেন।
পরপর দুই গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আতলেতিকো। কোচ দিয়েগো সিমিওনে একাধিক পরিবর্তন আনেন দলে। অসুস্থতার কারণে কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকার পর এ ম্যাচে ফিরিয়ে আনা হয় আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজকেও।
তবে মাঠে নেমেও ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেননি আলভারেজ। আতলেতিকোর আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে সামলে নেয় অ্যাথলেটিকের রক্ষণ। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময়ই স্বাগতিকরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দুই গোলের লিডও নিরাপদে ধরে রাখে।
শেষদিকে আতলেতিকো ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও অ্যাথলেটিকের রক্ষণে বড় কোনো ফাঁক তৈরি করতে পারেনি। বরং ম্যাচের ৯০তম মিনিটে তৃতীয় গোল করে জয়কে আরও বড় করে তোলে স্বাগতিকরা।
একটি ক্রস ব্লক হওয়ার পর বল আলগা হয়ে গেলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান ওইহান সানসেত। এরপর ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করে নিজের দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। ফলে ৩-০ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় অ্যাথলেটিকের।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আতলেতিকো একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাথলেটিকের দুর্দান্ত রূপের সামনে পুরোপুরি নিষ্প্রভ হয়ে যায় সিমিওনের দল। বিশেষ করে বিরতির পর মাত্র দুই মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও রবার্ত নাভারোর গোলই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিকদের হাতে তুলে দেয়।
এই পরাজয়ের ফলে চলতি লা লিগা মৌসুমে আতলেতিকো মাদ্রিদের অপরাজিত শুরুর অবসান হলো। অন্যদিকে, মৌসুমের শুরুতে টানা দুই ম্যাচ হারের পর অ্যাথলেটিক এখন টানা দুই জয় তুলে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
চার ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে অ্যাথলেটিকের অবস্থানও শক্ত হয়েছে। আর সান মামেসে ৩-০ গোলের এই জয় নিঃসন্দেহে এদিন তেরজিচের দলের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় উপলক্ষ হয়ে থাকল।


