প্রিয় দলের জার্সির প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের আলাদা আকর্ষণ থাকে। কেউ প্রিয় খেলোয়াড়ের জার্সি সংগ্রহে রাখেন, কেউ আবার মাঠে দলকে সমর্থন করতে গায়ে জড়ান সেই জার্সি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) জার্সি নিয়ে আগে তেমন ব্র্যান্ডিং দেখা না গেলেও সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে বিষয়টিতে পেশাদারত্ব আনার চেষ্টা চলছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হোম ও অ্যাওয়ে জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক জার্সি দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা যখন খেলতাম, তখন বাজার থেকে জার্সি কিনে এনে দিতেন কর্মকর্তারা। এত ব্র্যান্ডিং ও আনুষ্ঠানিকতা করে কখনো জার্সি পরা হয়নি। এ রকম ব্যবস্থার জন্য বাফুফে সভাপতিকে ধন্যবাদ।’
বাফুফের কিট পার্টনার ‘দৌড়’ তৈরি করেছে নতুন জার্সি। এর দাম রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। জার্সির দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে ফেব্রিকের কথা জানিয়েছেন দৌড়ের স্বত্বাধিকারী আবিদ আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘ফেব্রিকের কারণে দামটা একটু বেশি। তবে সামনে আমরা ফ্যান এডিশন করছি, যেটা ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। বাফুফের অনুমোদন পেলে এটা বাজারে ছাড়া হবে।’
দৌড়ের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক শোরুম নেই। তবে এবার ইনফিনিটিতে বাংলাদেশের জার্সি পাওয়া যাবে। সমর্থকদের জন্য অফলাইনেও জার্সি বিক্রির ব্যবস্থা করার ওপর জোর দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
তিনি বলেন, ‘অনলাইনে জার্সি বিক্রি হচ্ছে। আমরা চাই অফলাইনে দৌড়ের শোরুম থেকেও যেন সমর্থকেরা জার্সি সংগ্রহ করতে পারেন।’
বাফুফের সঙ্গে দৌড়ের চুক্তির মেয়াদ দুই বছর। এরই মধ্যে চুক্তির প্রায় দেড় বছর পার হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, প্রতি দুই বছর পরপর জাতীয় দলের জার্সিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে তুলনামূলক নতুন ব্র্যান্ড দৌড়। তবে হামজা চৌধুরী ও সামিত সোমদের মতো খেলোয়াড়দের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্র্যান্ডটির পরিচিতি বেড়েছে।
দৌড়ের সঙ্গে চুক্তি করে বাফুফে কীভাবে লাভবান হচ্ছে, সেটিও অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে। বাফুফের মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম বলেন, জার্সি বিক্রি থেকে বাফুফে লভ্যাংশ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দৌড়ের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি—তারা জার্সি বিক্রি করলে সেখান থেকে লভ্যাংশ দেবে। সেটা প্রতি মাসে তারা পরিশোধ করছে। বছর শেষে সেটা ভালো অঙ্কই। এর পাশাপাশি বিগত সময়ে জার্সি কিনতে যে খরচ হতো, সেটাও হচ্ছে না।’
দৌড়ের কর্মকর্তা আবিদ আলম চৌধুরী জানান, গত এক বছরে প্রায় ২০ হাজার জার্সি বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় বাফুফেকে নিয়মিত রয়্যালটিও দেওয়া হয়েছে।
আবিদ বলেন, ‘গত এক বছর আমরা বিশ হাজারের মতো জার্সি বিক্রি করেছি। প্রতি মাসে বাফুফের রয়্যালিটি বুঝিয়ে দিয়েছি। বাফুফের সঙ্গে যখন চুক্তি হয়, তখন অনেক খেলা বা টুর্নামেন্ট সূচিতে ছিল না। অতিরিক্ত খেলার জন্য আমরা চুক্তির বাইরেও বাফুফেকে কয়েক হাজার জার্সি অতিরিক্ত সরবরাহ করেছি। পাশাপাশি বাজারে লোগো ব্যবহার করে বিক্রি হওয়ায় বাস্তবিক অর্থে আমরা সেভাবে লাভ করতে পারিনি।’
জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে বাফুফে ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে কমলাপুর ও সিলেট স্টেডিয়াম নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাফুফের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষে পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী এতে স্বাক্ষর করেন।
দুই স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেছেন বাফুফে সভাপতি। তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘এই দুই স্টেডিয়ামের মালিকানা অবশ্যই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। বাফুফে সিকিউরিটি ও অন্য ব্যবস্থাপনা দেখাশোনা করবে। এই স্টেডিয়ামে অন্য ফেডারেশনও খেলাধুলা আয়োজন করতে পারবে, সেটা বাফুফের সঙ্গে সমন্বয় করে। এই স্টেডিয়াম দুটো শুধু ফুটবল কিংবা বাফুফের ভাবার কোনো কারণ নেই।’


