পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ১৫০ ও এমবাপ্পের ১৯তম গোল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর রাউন্ড অফ থার্টি-টু’র উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স । অবশ্য তাদেরকে নির্ভর করতে হয়েছে পেনাল্টি থেকে পাওয়া একমাত্র গোলের ওপর। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ডেডলক ভাঙেন ফরাসি অধিনায়ক ও পোস্টার বয় কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা তাঁর একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ

ম্যাচের শুরু থেকেই গুস্তাভো আলফারোর রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে বারবার বাধা পাচ্ছিল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের লো ব্লক ডিফেন্স অর্থাৎ নিচে নেমে ডিফেন্স করার প্রবণতা এবং শারীরিক ফুটবল ফরাসি আক্রমণভাগকে প্রথমার্ধে পুরোপুরি বোতলবন্দী করে রাখে। ব্র্যাডলি বারকোলা এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে বেশ কয়েকবার ডান ও বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ শানালেও প্যারাগুয়ের ডি-বক্সের ভেতর চূড়ান্ত পাসটি দিতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

‘সুপার-সাব’ দুয়ের জাদু এবং পেনাল্টি আদায়

দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে বারকোলাকে তুলে নিয়ে তরুণ উইঙ্গার দেসিরে দুয়েকে মাঠে নামান ফরাসি কোচ দেশম। এই একটি পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। মাঠে নেমেই গতি আর ড্রিবলিংয়ে প্যারাগুয়ের ডিফেন্সকে এলোমেলো করে দেন দুয়ে।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকার মুখে দুয়েকে ফাউল করে বসেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার। রেফারি প্রথমাংশে এড়িয়ে গেলেও ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের পর পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

এমবাপ্পের নিখুঁত ফিনিশিং ও রেকর্ডের হাতছানি

৬৯তম মিনিটে পেনাল্টি স্পটে বল বসান অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন পিনপতন নীরবতা। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে অত্যন্ত নিখুঁত এবং জোরালো শটে বলকে ডানপ্রান্ত দিয়ে জালের কোণায় পাঠিয়ে দেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। উল্লাসে ফেটে পড়ে ফরাসি গ্যালারি।

বিশ্বকাপে এমবাপ্পের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১৯তম ম্যাচে ১৯তম গোলটি করলেন এমবাপ্পে। একই সাথে বিশ্বকাপের শেষ ৬ ম্যাচে এটি তাঁর ১০ম গোল। বিশ্বমঞ্চে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় তিনি এখন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির (২০ গোল) চেয়ে মাত্র ২ গোল পিছিয়ে আছেন।

ম্যাচের শেষভাগ

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর প্যারাগুয়ে তাদের রক্ষণাত্মক কৌশল ভেঙে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। তবে উইলিয়াম সালিবা ও দায়ো উপামেকানোদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের রক্ষণভাগ কোনো সুযোগই দেয়নি লাতিন আমেরিকার দলটিকে। ম্যাচের বাকি সময়টা বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রেখে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে লে ব্লুজরা।

এই জয়ের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ আটে অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল ফ্রান্স, যেখানে সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মরক্কোর। অবশই, এই ম্যাচের পর ফরাসি শিবিরের আত্মবিশ্বাস যে অনেকটাই বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version