ভারতকে ধরার চ্যালেঞ্জ পাকিস্তানের – মাইক হেসন

এশিয়ান গেমসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে পাকিস্তানকে নিজেদের ক্রিকেটে আরও উন্নতি করতে হবে, এমনটাই মনে করছেন পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন। সাদা বলের ক্রিকেটে এই মুহূর্তে ভারতকে মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সেই ব্যবধান কমিয়ে আনা।

জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেট শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে পাকিস্তান দল জাপানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে করাচিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন হেসন।

ভারতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর ফলও পাকিস্তান কোচের বক্তব্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হেসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে পাকিস্তান বেশ কয়েকবার পরাজিত হয়েছে। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে ভারতের কাছে তিনবার এবং চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরও একবার হেরেছে পাকিস্তান।

এই বাস্তবতার কথা উল্লেখ করেই হেসন বলেন, “এই মুহূর্তে সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতই মানদণ্ড। আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো তাদের সেই পর্যায়ে ধরতে পারা।”

এশিয়ান গেমসে সম্ভাব্য ভারত-পাকিস্তান লড়াই

এশিয়ান গেমসে এখনো ভারত ও পাকিস্তান পুরুষ ক্রিকেটে মুখোমুখি হয়নি। তবে এবারের প্রতিযোগিতায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, দুই দল সেমিফাইনালে উঠতে পারলে ১ অক্টোবর নাগোয়ায় মুখোমুখি হতে পারে ভারত ও পাকিস্তান। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান।

তবে হেসন এখনই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে চান না। তার মতে, সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে হলে পাকিস্তানকে আগে নিজেদের নির্ধারিত ম্যাচগুলোতে ভালো করতে হবে। “দুই দলেরই সেমিফাইনালে পৌঁছানোর আগে অনেক ক্রিকেট খেলতে হবে। তাই আমরা এখনই নিজেদের অনেক দূরের কথা ভাবছি না,” বলেন তিনি।

‘সুযোগ পেলে ভারতকে চাপে রাখব’

ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য ম্যাচ নিয়ে অবশ্য আত্মবিশ্বাসী হেসন। গত বছরের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তান ভারতের ওপর যে চাপ তৈরি করতে পেরেছিল, সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে এবারও একই ধরনের লড়াইয়ের প্রত্যাশা তার।

হেসন বলেন, “আমরা যতটা সম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি ভারতের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাই, তাহলে অবশ্যই তাদের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করব, যেমনটা আমরা এশিয়া কাপের ফাইনালে করেছিলাম।”

অর্থাৎ ভারতকে বর্তমান সাদা বলের ক্রিকেটের মানদণ্ড হিসেবে স্বীকার করলেও তাদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না পাকিস্তান।

প্রথম লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল

ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য সেমিফাইনালের আগে পাকিস্তানকে পার হতে হবে কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা। ২৮ সেপ্টেম্বর পুল ‘বি’-এর শীর্ষ দলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে পাকিস্তান। ওই গ্রুপে রয়েছে হংকং, ওমান ও মালয়েশিয়া। এই ম্যাচে জয় পেলে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাবে পাকিস্তান। এরপরই সামনে আসতে পারে কাঙ্ক্ষিত ভারত-পাকিস্তান লড়াই। তবে হেসনের কাছে আপাতত প্রথম কাজ হলো শুরুটা ভালো করা। “আমাদের ভালোভাবে শুরু করতে হবে,” বলেছেন পাকিস্তান কোচ।

এশিয়ান গেমসে পদকের অপেক্ষায় পাকিস্তান

এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেটে পাকিস্তানের ইতিহাস অবশ্য খুব উজ্জ্বল নয়। এখন পর্যন্ত তারা এই প্রতিযোগিতায় ক্রিকেট থেকে কোনো পদক জিততে পারেনি। ২০১০ ও ২০২৩ সালের আসরে পাকিস্তান ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে হেরে যায়। আর ২০১৪ সালের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে অংশ নেয়নি তারা।

ফলে এবার জাপানের আসর থেকে অন্তত একটি পদক জয়ের লক্ষ্য থাকবে পাকিস্তানের। সেই লক্ষ্যে দলকে শুরু থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে হবে।

ভারত পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে, পাকিস্তানে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেল

এবারের এশিয়ান গেমসে ভারত পাঠিয়েছে তাদের পূর্ণ শক্তির দল। বিপরীতে পাকিস্তানের স্কোয়াডে রয়েছে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেল। দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে। তরুণ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া এই দলকে নিয়েই এশিয়ান গেমসে সাফল্যের চেষ্টা করবে পাকিস্তান।

ভারতের পূর্ণ শক্তির দল এবং পাকিস্তানের তুলনামূলক মিশ্র স্কোয়াড, দুই দলের প্রস্তুতি ও দল নির্বাচনে পার্থক্য থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চায় পাকিস্তান।

ব্যবধান কমানোই এখন হেসনের লক্ষ্য

পাকিস্তানের প্রধান কোচ হিসেবে মাইক হেসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো সাদা বলের ক্রিকেটে দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।

ভারতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পরাজয়গুলো ব্যবধানের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে হেসন মনে করেন, সেই ব্যবধান কমানোর সুযোগ রয়েছে এবং এশিয়ান গেমস হতে পারে নিজেদের প্রস্তুতি ও উন্নতি যাচাইয়ের আরেকটি মঞ্চ।

ভারত যেখানে টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং এশিয়ান গেমসের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, সেখানে পাকিস্তান চাইবে নিজেদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুনভাবে শুরু করতে। সেই যাত্রার প্রথম ধাপ ২৮ সেপ্টেম্বরের কোয়ার্টার ফাইনাল। এরপর সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে ১ অক্টোবর নাগোয়ায় দেখা হতে পারে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। তবে তার আগে পাকিস্তানকে প্রমাণ করতে হবে, ভারতকে ধরার দৌড়ে তারা কতটা এগিয়েছে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles