মাঝমাঠের এক ‘মরক্কান ডিনামাইট’
নিউজার্সি স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচের দিকে তাকিয়ে পুরো বিশ্ব। সেই ম্যাচের ২১তম মিনিটেই যেন পুরো ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিলেন অ্যটলাস লায়নদের ২৪ বছর বয়সি একজন যোদ্ধা। যার নাম ইসমাইল সাইবারি । ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়ে জানিয়ে দিলেন কেন ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো তাকে কিনতে মুখিয়ে আছে। ডাচ জায়ান্ট পিএসভি আইন্দহোভেন এর অলরাউন্ডার এই ফুটবলারকে নিয়ে খেলা লাইভের পাঠকদের জন্য বিশেষ আয়োজন।
ফুটবল মাঠে কিছু খেলোয়াড় থাকেন যারা শুধু খেলেন না, প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে একাই তছনছ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। পিএসভি আইন্দহোভেনের মরক্কান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি ঠিক সেই জাতের ফুটবলার। গতি, শক্তিমত্তা আর নিখুঁত ড্রিবলিংয়ের এক দুর্দান্ত প্যাকেজ তিনি।
তাকে মাঠে দেখা মানেই বাড়তি উত্তেজনা। মাঝমাঠ থেকে যখন তিনি বল পায়ে প্রতিপক্ষের বক্সে ঝড় গতিতে ঢুকে পড়েন, তখন ডিফেন্ডারদের জন্য তাকে আটকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ক্যারিয়ারের উত্থান: বেলজিয়াম থেকে নেদারল্যান্ডস
সাইবারির জন্ম স্পেনে হলেও তার বেড়ে ওঠা বেলজিয়ামে। সেখানেই অ্যান্ডারলেখটের মতো নামী ক্লাবের একাডেমিতে তার ফুটবলের হাতেখড়ি। তবে তার ভেতরের আসল স্ফুলিঙ্গটা জ্বলে ওঠে ২০২০ সালে, যখন তিনি ডাচ জায়ান্ট পিএসভি আইন্দহোভেনে যোগ দেন।
- ধৈর্য ও পরিশ্রম: পিএসভির যুব দল (Jong PSV)-এ নিজের জাত চিনিয়ে মূল দলে জায়গা করে নেন।
- ব্রেকথ্রু সিজন: ২০২৩-২৪ সিজনটা ছিল তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। পিএসভিকে ডাচ লিগ (Eredivisie) জেতাতে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ পারফর্ম করতে তিনি রেখেছিলেন প্রধান ভূমিকা। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ালিফায়ারে রেঞ্জার্সের বিপক্ষে তার জোড়া গোল ভক্তরা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
জাতীয় দলে ‘অ্যাটলাসের সিংহ’
মরক্কোর অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ২০২৩ সালে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (AFCON) জিতেই নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন। ফাইনালে গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। এরপর দ্রুতই তার ডাক আসে মরক্কোর মূল জাতীয় দলে। হাকিম জিয়েশ, আশরাফ হাকিমিদের মতো তারকাদের পাশে সাইবারি এখন মরক্কোর মাঝমাঠের অন্যতম বড় ভরসা।
খেলার স্টাইল: কেন তিনি স্পেশাল?
সাইবারি আধুনিক ফুটবলের একজন আদর্শ ‘বক্স-টু-বক্স’ বা ‘অ্যাটাকিং’ মিডফিল্ডার। তার খেলার মূল শক্তিগুলো হলো:
- শারীরিক শক্তি (Physicality): তার কাঁধের ধাক্কায় ছিটকে যান অনেক বাঘা বাঘা ডিফেন্ডার। বল হোল্ড করায় তিনি দারুণ পারদর্শী।
- লড়াকু মানসিকতা: মাঠে তিনি কখনো হাল ছাড়েন না। প্রেস করে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ায় তার জুড়ি নেই।
- ভার্সেটাইল বা বহুমুখী: তিনি যেমন উইংয়ে খেলতে পারেন, তেমনই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে স্ট্রাইকারের ঠিক পেছনেও সমান কার্যকর।
ভবিষ্যতের সুপারস্টার? ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোর নজর ইতিমধ্যেই এই ২৪ বছর বয়সী তারকার ওপর পড়েছে। যে গতিতে তিনি এগোচ্ছেন, তাতে খুব দ্রুতই তাকে ইউরোপের কোনো হাই-প্রোফাইল ক্লাবে বড় অঙ্কের ট্রান্সফারে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
ইসমাইল সাইবারি হলেন সেই ফুটবলার, যার খেলা দেখার জন্য টিকিটের পুরো পয়সা উসুল হয়ে যায়। ফুটবল বিশ্বে মরক্কোর যে জয়জয়কার চলছে, তার অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি হয়ে ওঠার সব যোগ্যতাই এই তরুণের রয়েছে!
