ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধেই জোড়া গোলের লিড নিয়েছে জাপান। ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই তিউনিসিয়াকে চেপে ধরা সামুরাই ব্লু-রা বিরতিতে যাওয়ার আগে ২-০ গোলে এগিয়ে জাপান ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। জাপানের হয়ে গোল দুটি করেন দাইচি কামাদা এবং আয়াসে উয়েদা।
কামাদার রেকর্ড গড়া দ্রুততম গোল
ম্যাচের শুরুতেই তিউনিসিয়া রক্ষণ ভাগকে স্তব্ধ করে দেয় জাপান। ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র ৪ মিনিট। বাম প্রান্ত থেকে উইঙ্গার কেইতো নাকামুরার বাড়ানো এক চমৎকার ক্রস ডি-বক্সের ভেতর খুঁজে নেয় দাইচি কামাদাকে। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় খুব কাছ থেকে বল জালে জড়ান এই জাপানি মিডফিল্ডার।
এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন কীর্তি গড়েন কামাদা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে করা এই গোলটি এখন ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো জাপানি ফুটবলারের দ্রুততম গোল। তিনি ভেঙে দিয়েছেন ২০১৮ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ষষ্ঠ মিনিটে করা শিনজি কাগাওয়ার রেকর্ডটি। পাশাপাশি, জুনিচি ইনামোতোর (২০০২ বিশ্বকাপ) পর দ্বিতীয় জাপানি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের টানা দুই ম্যাচে গোল করার অনন্য গৌরবও অর্জন করলেন কামাদা।
উয়েদার ফিনিশিং ও জাপানের আধিপত্য
শুরুতেই গোল হজম করে তিউনিসিয়া যখন গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন জাপানি ফরোয়ার্ড আয়াসে উয়েদা। তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আক্রমণভাগের বিধ্বংসী রূপ আরও একবার প্রমাণ করলো এশিয়ান জায়ান্টরা। নিজেদের শেষ ১০টি বিশ্বকাপ ম্যাচের মধ্যে এই নিয়ে সপ্তমবারের মতো কোনো ম্যাচে জোড়া গোল করার কীর্তি গড়লো জাপান।
ব্যাকফুটে তিউনিসিয়া
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে তিউনিসিয়া ম্যাচে ফেরার কিছু চেষ্টা করলেও জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি। উল্টো গতিময় কাউন্টার অ্যাটাকে তিউনিসিয়ার ডিফেন্সকে বারবার পরীক্ষার মুখে ফেলেছে জাপানি ফরোয়ার্ডরা। ফলে ৪৫ মিনিট শেষে অতিরিক্ত ৫ মিনিটের খেলা শেষে ২-০ ব্যবধান ধরে রেখেই টানেলে ফেরে দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিসিয়া অল-আউট ফুটবল খেলে ম্যাচে ফিরতে পারে, নাকি জাপান গোলের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে সহজ জয় তুলে নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩





















