কোহলি-গিলের সেঞ্চুরি! তিরুবনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৫ রানের জবাবে মাত্র ৪১.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০০ রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
গিল ১১০ রান করে নিজের ১০ম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অন্যদিকে, কোহলি ছিলেন আরও আগ্রাসী। ১৩৯ রানে অপরাজিত থেকে ওয়ানডেতে নিজের ৫৫তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ইনিংসে হাঁকান ৯টি ছক্কা। এই ইনিংসের পথে ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের মাইলফলকও পেরিয়ে যান কোহলি।
সিরিজ শুরুর আগে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে ভারতের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের জয়খরা কাটানোর আত্নবিশ্বাস ছিলো ক্যারিবীয় অধিনায়ক শাই হোপের কণ্ঠে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন জাস্টিন গ্রিভস ও জন ক্যাম্পবেল। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ১৩৫ রান। নতুন বলে ভারতের বোলারদের বিপক্ষে প্রভাব বিস্তার করেন গ্রিভস। বিশেষকরে কাভার ড্রাইভ ও অফসাইডে তিনি দ্রুত রান তোলেন গ্রিভস।
ক্যাম্পবেল ৬২ রান করে ফিরলেও গ্রিভস নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ওয়ানডেতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তবে এরপরই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়।
৩০তম ওভার শেষে এক উইকেটে ১৭৬ রানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের পরের চার উইকেট হারায় মাত্র ৩৪ ডেলিভারি ও ২২ রানে।
গ্রিভস সেঞ্চুরি করার পর আরও দ্রুত রান তুলতে গিয়ে কুলদীপের বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর তরুণ জুয়েল অ্যান্ড্রুকেও ফিরিয়ে দেন ভারতের এই বাঁহাতি স্পিনার। শেষদিকে আমির জাঙ্গুর ৪৩ বলে ৫৮ রানের ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৯৫ রান।
ভারতের হয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডেতে ফিরেই ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন কুলদীপ যাদব। তিনি তুলে নেন ৪০ রানে ৪ উইকেট। এছাড়া দুই উইকেট নিয়েছেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। নীতিশ কুমার রেড্ডি নিয়েছেন এক উইকেট।
উইকেটের চরিত্র অনুযায়ী ভারতের সামনে ২৯৬ রানের টার্গেট খুব একটা কঠিন কিছু ছিলো না। তবুও শুরু থেকেই আগ্রাসি ছিলেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল।
দলীয় ৭৪ রানের সময় রোহিত আউট হন ব্যক্তিগত ৩২ রানে যার মধ্যে বাউন্ডারি থেকে এসেছে ৩৪ রান। সংক্ষিপ্ত ইনিংসেও রোহিত দুই বাউন্ডারির বিপরীতে ছক্কা হাকিয়েছেন দু’টি।
রোহিতের মতো আগ্রাসি না হয়ে শুভমান গিল শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করেন। মাঝে একবার ক্যারিবীয় ফিল্ডারদের ক্যাচের সুযোগ দিয়েও বেঁচে যান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ারে ১০ম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন ভারতীয় অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ১১০ রান করে আউট হন তিনি।
কোহলির রেকর্ড ৯ ছক্কা
রোহিত শর্মার আউটের পর ওয়ান ডাউনে খেলতে নামা বিরাট কোহলিও ছিলেন আক্রমণাত্মক। একইসাথে ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। আলজারি জোসেফের ওভারে একাধিক বড় শট খেলেন কোহলি। আদায় করে নেন তিন ছক্কা। এমনকি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ছক্কা মেরেই। তার পুরো ইনিংসে ছিলো ৯টি ছক্কার মার। শুধু তাই নয় কোহলির ওয়ানডে ক্যারিয়ারেও এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড এটি।
শেষ পর্যন্ত ১৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি। ইনিংসের পথে ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের মাইলফলকও পেরিয়ে যান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ৮৬।
গিল আউট হওয়ার পর রুতুরাজ গায়কোয়ড়কে নিয়ে সহজ জয় তুলে নেন কোহলি। মাত্র ৪১.৪ ওভারেই ৩০০ রান তুলে নেয় ভারত। সব মিলিয়ে ৫০ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৯৫/৭ (৫০ ওভার) জাস্টিন গ্রিভস ১০১, জন ক্যাম্পবেল ৬২, আমির জাঙ্গু ৫৮; কুলদীপ যাদব ৪/৪০
- ভারত: ৩০০/২ (৪১.৪ ওভার) বিরাট কোহলি ১৩৯*, শুভমান গিল ১১০; রোমারিও শেফার্ড ১/৪২ ও রোস্টন চেজ ১/৬৪
- ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।




