লিওনেল মেসি বনাম লামিন ইয়ামাল লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছেন সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমিকরা। এ দুই সুপারস্টার মুখোমুখি হবেন মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ‘ফিনালিসিমায়’। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে এই ম্যাচটি রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন করে এই ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফুটবল বিশ্বে বর্তমানে দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামাল। এ দুই তারকা একে অপরের মুখোমুখি হতে চলেছেন এক ঐতিহাসিক মঞ্চে। ‘ফিনালিসিমা’র নতুন ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। যেটি এ দুই তারকার জন্যই শত্রুপক্ষের ভেন্যু। কারণ এক সময় বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন লিওনেল মেসি। এখন ক্লাবটির হয়ে বিশ্ব মাতিয়ে রেখেছেন ১৮ বছরের তরুণ লামিন ইয়ামাল।
লিওনেল মেসি বনাম লামিন ইয়ামাল লড়াই নিয়ে সমস্যা
প্রাথমিকভাবে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ আগামী ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের কথা ছিল। কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিবিজড়িত সেই ভেন্যুতে প্রস্তুতির কাজও অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছিল। এই কাতারেই দীর্ঘ ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘কাদেনা কোপে’-র তথ্য অনুযায়ী, লজিস্টিক জটিলতা এবং সেই সপ্তাহে ইউরোপের অন্যান্য স্টেডিয়ামগুলো ব্যস্ত থাকায় শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকেই সবচেয়ে উপযুক্ত ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। অবশ্য স্পেনের মাটিতে খেলা আয়োজন নিয়ে আর্জেন্টিনার মনে কিছুটা দ্বিধা ছিল, কারণ এতে স্পেন ঘরের মাঠের বাড়তি সুবিধা পাবে।
লিওনেল মেসি রেকর্ড গড়ার অপেক্ষায়
বার্সেলোনার ইতিহাসের সেরা কিংবদন্তি এবং বর্তমানের সবচেয়ে বড় বিস্ময় বালকের এই ধ্রুপদী লড়াই এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। লিওনেল মেসি মাইলফলক ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। উত্তর আমেরিকার ক্লাব টুর্নামেন্ট কনক্যাক্যাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে সুযোগ ছিল ৯০০ গোলের কীর্তি গড়ার। শেষ পর্যন্ত তাকে আরও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। কারণ শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ন্যাশভিলের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ইন্টার মায়ামি।

লিওনেল মেসি এখন ৩৮ বছর বয়সি একজন তারকা। তবে এখনও ফর্মে আছেন তিনি। অপেক্ষায় আছেন পরবর্তী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দারুণ কিছু উপহার দেওয়ার জন্য। স্পেনের বিপক্ষে বহুল আকাঙ্ক্ষিত লড়াইয়ের আগেই ৯০০ গোলের মাইলফলক হয়তো ছুঁয়ে ফেলবেন মেসি।
কারণ, উত্তর আমেরিকান ক্লাব লড়াইয়ের দ্বিতীয় লেগ আগামী বুধবার মায়ামির মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলারের ক্যারিয়ারের বড় অংশই কেটেছে বার্সেলোনায়। যেখানে তিনি ৬৭২ গোল করেছেন। পরে পিএসজির হয়ে করেছেন ৩২ গোল। জাতীয় দল আর্জেন্টিনার হয়ে তার গোলসংখ্যা ১১৫।
আর্জেন্টিনা-স্পেন কেন ফিনালিসিমায় মুখোমুখি?
মূলত ইউরো ২০২৪-এর চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকা বিজয়ী আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই আন্তঃমহাদেশীয় লড়াইটি নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয়েছিল শিরোপা জয়ের পরপরই। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরোপ সেরা হয়েছিল স্পেন, আর কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোপার মুকুট ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। এরপর থেকেই ফুটবল প্রেমীরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি বনাম উদীয়মান লামিন ইয়ামাল লড়াইয়ের।
ফিনালিসিমা কাতার ফুটবল ফেস্টিভ্যালে ছয় ম্যাচের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের অংশ। এটি ২৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে- যেখানে স্পেন, আর্জেন্টিনা, কাতার, সৌদি আরব, মিশর এবং সার্বিয়া অংশগ্রহণ করবে। স্পনসরশিপ চুক্তি এবং দলের ফি সবই এই ইভেন্ট প্যাকেজের সাথে জড়িত, যার ফলে ভেন্যু পরিবর্তন জটিল হয়ে পড়েছিল।
কনমেবল এবং উয়েফা একটি উপযুক্ত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে গেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হয়েছে এবং ফিনালিসিমার স্থান সম্পর্কে বেশ দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন তারা।

এখন সব আশঙ্কা পেরিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু প্রস্তুত ঐতিহাসিক একটি রাতকে বরণ করতে। মাদ্রিদের কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির সামনে এটি হবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের ডেরায় দাঁড়িয়ে বার্সেলোনার বর্তমান ও অতীতের দুই কাণ্ডারি একে অপরের বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে মুখোমুখি হবেন।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















