সাইবারির গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটের পথে মরক্কো । ৭১ সেকেন্ডের সেই জাদুকরী মুহূর্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের দিকে শক্ত কদমে এগিয়ে গেল ‘অ্যাটলাস লায়নস’ খ্যাত মরক্কো। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে ইসমায়েল সাইবারির করা একমাত্র গোলটিই আফ্রিকান পরাশক্তিদের পূর্ণ ৩ পয়েন্ট এনে দেয়।
বোস্টন স্টেডিয়ামের গ্যালারির দর্শকরা যখন কেবল নিজেদের আসনে বসছেন, ঠিক তখনই ম্যাচের ৭১ সেকেন্ডের মাথায় (১ মিনিট ৫০ সেকেন্ড) গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেয় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের চোখধাঁধানো এক চিপ পাস স্কটিশ রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বোকা বানায়। চিতার গতিতে বক্সে ঢুকে চলন্ত বলেই বাঁ পায়ের নিখুঁত ও কোণাকুনি এক বুলেটের মতো শটে বল জালের ওপরের অংশে জড়িয়ে দেন তরুণ মিডফিল্ডার ইসমায়েল সাইবারি। চলতি বিশ্বকাপে এটি সাইবারির টানা দ্বিতীয় গোল, যা ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই মরক্কোকে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়।
গোলের পর আরও বেশি ক্ষিপ্র হয়ে ওঠে ফিফা র্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে থাকা মরক্কো। আশরাফ হাকিমি এবং আজদিন উনাহির চমৎকার বোঝাপড়ায় ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট মাঠের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ মরক্কোর হাতে ছিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে স্কটল্যান্ড ম্যাচে ফেরার কিছুটা চেষ্টা করে। স্কটিশ মিডফিল্ডার জন ম্যাকগিন সমতায় ফেরার একটি ভালো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মরক্কো।
দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ডের লড়াই ও রোমাঞ্চ
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যরা। ম্যাচের ৫২ মিনিটে স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান এক অসাধারণ সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। ৫৮ মিনিটে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ আরও একটি সুযোগ তৈরি করলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচ যত গড়িয়েছে, শারীরিক ফুটবলের তীব্রতা তত বেড়েছে। ৬৫ মিনিটে মরক্কোর আক্রমণ রুখতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন স্কটিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন। এরপর ৭২ মিনিটে ফাউল করে বসেন স্কট ম্যাকটমিনেও। শেষ দিকে (৮৩ মিনিটে) দলের শক্তি বাড়াতে এবং ব্যবধান ধরে রাখতে সাইবারি ও ব্রাহিম দিয়াজকে তুলে নিয়ে সুফিয়ান রাহিমি ও আইয়ুব আমাইমুনিকে মাঠে নামান মরক্কোর কোচ। অতিরিক্ত সময়ের (৯০+৫ মিনিট) শেষ মুহূর্তে আমাইমুনি গোল করার একটি সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর বাড়েনি।
শেষ বাঁশি ও নকআউটের স্বপ্ন
নির্ধারিত সময় শেষে রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে মরক্কোর সমর্থকরা। প্রথমার্ধে মরক্কো যেমন শৈল্পিক ফুটবল খেলেছে, দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ডও ঠিক ততটাই দাঁতে দাঁত চেপে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে। তবে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে না পারার খেসারত দিতে হলো স্কটিশদের।
এই জয়ে টানা দুই ম্যাচে গোল করা সাইবারি যেমন মরক্কোর নতুন নায়ক বনে গেলেন, তেমনি এই ৩ পয়েন্ট কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টদের নকআউট পর্বের টিকিট পাওয়ার পথ অনেকটাই মসৃণ করে তুলল। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে পরের ম্যাচে অল-আউট জয় ছাড়া আর কোনো পথ খোলা রইল না স্কটল্যান্ডের সামনে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














