সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে ঘরের মাঠের চেনা দর্শক আর গগনবিদারী উল্লাসের মাঝে ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘ডি’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র (নকআউট পর্ব) । নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারানোর পর, সকারুজদের বিপক্ষে এই জয়ে টানা দুই জয়ে শেষ ১৬-র টিকিট কাটল আমেরিকানরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় যুক্তরাষ্ট্র। আক্রমণভাগের মূল তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও মাঠের নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল না তাদের। ম্যাচের ১১ মিনিটেই ডেডলক ভাঙে স্বাগতিকদের। ফোলারিন বালোগুনের সিক্স-ইয়ার্ড বক্সে বাড়ানো একটি বিপজ্জনক পাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন অজি ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্গেস। এই আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মার্কিনরা।
৪৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে সার্জিনো ডেস্টের নেওয়া একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলপোস্টের দিকে ভেসে আসে। সেখানে ওত পেতে থাকা দীর্ঘদেহী মার্কিন ডিফেন্ডার অ্যালেক্স ফ্রিম্যান নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) গোলটি চেক করার পর রেফারির চূড়ান্ত বাঁশিতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ৪৫ মিনিটের বিপর্যয় কাটিয়ে বল পজিশন ও আক্রমণের দিক থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সকারুজরা। ম্যাচের শেষ ভাগে একের পর এক আক্রমণ শানায় তারা। তবে গোল লাইনের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায় মার্কিন ডিফেন্স। বিশেষ করে জেসন গেরিয়ার একটি নিশ্চিত গোলমুখী শট চমৎকারভাবে ব্লক করে যুক্তরাষ্ট্রের লিড ধরে রাখেন মিডফিল্ডার টাইলার অ্যাডামস।
অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র। দুর্দান্ত এই জয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের পরের রাউন্ডে পা রাখল মার্কিন বিশ্বকাপের সহ আয়োজকরা।
উভয় দলই তাদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করেছিলো। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে এবং অস্ট্রেলিয়া ২-০ গোলে তুরস্ককে পরাজিত করেছিলো।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















