রিমির চার গোলে জাতীয় পর্বে ময়মনসিংহ

রিমির চার গোলে জাতীয় পর্বে ময়মনসিংহ

রিমির চার গোলে জাতীয় পর্বে ময়মনসিংহ । ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় নতুন এক ফুটবল প্রতিভার ঝলক দেখা গেল। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্যায়ের ফাইনালে নেত্রকোণাকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জিতেছে স্বাগতিক ময়মনসিংহ জেলা দল। এই জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেছে তারা।

ফাইনালের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উদীয়মান ফুটবলার মোসা. রিমি। একাই চার গোল করে তিনি ম্যাচ সেরা হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জিতে নেন। শুরু থেকেই তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ আর ফিনিশিংয়ের সামনে নেত্রকোণার রক্ষণভাগ দাঁড়াতেই পারেনি। প্রতিপক্ষের জালে একের পর এক বল পাঠিয়ে তিনি ফাইনালকে একতরফা করে তোলেন।

রিমির পারফরম্যান্সে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরাও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। তার চার গোলের সুবাদে ময়মনসিংহ জেলা দল বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং জাতীয় পর্বে জায়গা করে নেয়। এর আগে সেমিফাইনালেও তিনি দারুণ ছন্দে ছিলেন। ওই ম্যাচে শেরপুর জেলার বিপক্ষে দুই গোল করে দলের ফাইনালের পথও সহজ করে দিয়েছিলেন এই তরুণী ফুটবলার।

টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচে রিমির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়। ড্রিবলিং, গতি আর গোলমুখে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে তিনি ইতিমধ্যে নজর কাড়তে শুরু করেছেন ফুটবল বিশ্লেষকদেরও। অনেকেই তার মধ্যে দেশের নারী ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন।

ঈশ্বরগঞ্জের চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী অবশ্য সহজ পথে আসেননি। বাবা-মা দুজনেই ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাই নানার কাছেই থেকে বেড়ে উঠছেন রিমি। সেখান থেকেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

আঞ্চলিক পর্বে এমন দুর্দান্ত সাফল্যের পর এখন রিমির লক্ষ্য জাতীয় মঞ্চ। ময়মনসিংহের ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, গোলের সেই ধারাবাহিকতা জাতীয় পর্বেও ধরে রেখে আরও বড় সাফল্য এনে দেবেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার।

Exit mobile version