বিশ্বকাপ ফুটবলে শেষ বত্রিশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোলশূন্যভাবে শেষ হয়েছে নেদারল্যান্ডস-মরক্কোর প্রথমার্ধ । কোনো দল গোল করতে না পারলেও ম্যাচে উত্তেজনা, গতি আর কৌশলগত লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে একাধিক গোল হলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।
বিশ্বকাপে এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস ও মরক্কো। ৩২ বছর আগে ১৯৯৪ সালে প্রথম এবং শেষবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটো। সেই লড়াইয়ে জয় হয়েছিল কমলা জার্সী ধারীদের। ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল ইউরোপের দেশটি। ডেনিস বার্গক্যাম্প ও ব্রায়ান রয় করেছিলেন গোল।
বলের দখল নেওয়ার চেষ্টা
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছে নেদারল্যান্ডস। ডাচরা মাঝ মাঠে ছোট ছোট পাসে খেলার ছন্দ তৈরি করে মরক্কোর ওপর চাপ তৈরি করতে থাকে । বিশেষ করে দুই উইং ব্যবহার করে দ্রুত আক্রমণে ওঠার চেষ্টা ছিল স্পষ্ট। তবে মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণভাগ বারবার তাদের সেই আক্রমণ রুখে দেয়।
অন্যদিকে মরক্কো প্রথম থেকেই কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে খেললেও সুযোপ পেলে দ্রুত প্রতি আক্রমণে উঠেছে। নেদারল্যান্ডসের ওপর চাপ তৈরি করার চেস্টা করেছে। দূর পাল্লার শটে ডাচ গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিয়েছে।
শুরুতে বল দখলের লড়াইয়ে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল ডাচদের। তবে গোল হতে পারে মরক্কোর গোলমুখে এমন আক্রমণ তারা রচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। মরক্কোর রক্ষণ ভাগ তাদের সব আক্রমণ রুখে দেয়। ফলে দূরপাল্লার শটে মরক্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে। তাদের সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
মরক্কোর সুযোগ নষ্ট
বিরতির ঠিক আগেই মরক্কোর সাইবারি সমর্থকদের হতাশা বাড়িয়েছে। নিশ্চিত গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। নিজের ব্যর্থতার নিজেই অবাক হয়েছেন। হাকিমি এক বিপদজনক ক্রস করেছিলেন। বলের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন সাইবারি। কাছাকাছি পৌঁছেছিলেনও। শুধুমাত্র বাকি ছিল একটা স্পর্শ। কিন্তু বলের পজিশন এবং নিজের অবস্থান এক এক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন যে, সেখান থেকে বলে কিভাবে স্পর্শটা দিবেন সেটাই ঠিক করতে পারেননি। না পেরেছেন মাথা ছোঁয়াতে, না পেরেছেন শট নিতে। ফলে বুকভরা এক আফসোস নিয়ে বিরতিতে যেতে হয়েছে মরক্কোকে।
উভয় দল প্রথমার্ধে সাবধানী ফুটবল খেলেছে। মরক্কোর গতি ও শারীরিক শক্তির খেলা ডাচদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাচরাও তাদের গতিতে মরক্কোকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
