বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেক ম্যাচেই ঝলক দেখালেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই নরওয়েজিয়ান তারকা জোড়া গোল করে নরওয়েকে ইরাকের বিপক্ষে জয় এনে দিয়েছেন। বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ জয় পেয়েছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই গোল পেয়ে হালান্ড জানিয়ে দিলেন এই মঞ্চেও তিনি সমান বিধ্বংসী।
প্রথমার্ধে নরওয়ের আধিপত্য
শুরু থেকেই নরওয়ে দাপুটে ফুটবল খেলতে থাকে। ২৯ মিনিটে স্যান্ডার বার্গের অসাধারণ পাসে পেনাল্টি বক্সের বাম দিকে বল পান ডেভিড মোলার ওলফে। তার নিচু ক্রস থেকে সহজেই বল জালিয়ে পাঠিয়ে দেন হালান্ড। এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর নরওয়ের আক্রমণের ধারা অব্যাহত থাকে। হালান্ড দারুণ সব গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তবে ম্যাচে চমক দেখা যায় ৩৯ মিনিটে। খেলায় সমতায় ফেরায় ইরাক। আইমেন হুসেন গোল করে ম্যাচে দারুণ উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। দারুণ সমম্বয়ে তৈরি হয় গোলটি। আলী জসিমের কৌশলী রিভার্স পাস থেকে বল পান আমির আল আম্মারি। তার ক্রস থেকে আইমেন হুসেন দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি এশিয়ার দলটির আনন্দ। মাত্র চার মিনিট স্থায়ী ছিল তাদের এই গোল। ৪৩ মিনিটে আবার গোল করেন হালান্ড। প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে হালান্ড প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে দিলেন। জানিয়ে দিলেন শুধু ক্লাব ফুটবলে নয় বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি আলো ছড়াতে এসেছেন।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ইরাক খেলায় সমতায় ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল। আলী আল হামাদি নরওয়ের গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিস্টোফার আজারের শেষ মূহুর্তের চমৎকার ব্লক থেকে গোল হজম থেকে রেহাই পায় নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে স্পষ্ট আধিপত্য
বিরতির পর ইরাক সমতায় ফেরানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। দারুণ সব সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু নরওয়ের রক্ষণভাগের দক্ষতায় তাদের আর গোল পাওয়া হয়নি। বরং আরও গোল হজম করতে হয়। ৭৬ মিনিটে ওডেগার্ডের কর্নার থেকে লিও ওস্টিগার্ড দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠিয়ে দেন। নরওয়ের জন্য নিশ্চিত হয়ে যায়। দল এগিয়ে যায় ৩-১ গোলে। হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন হালান্ড। কিন্তু ইরাকের গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তার তৃতীয় গোল পাওয়া হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের খেলায় নরওয়ে চতুর্থ গোল পায়। তবে নরওয়ের খেলোয়াড় নয়, গোলটি করেন ইরাকের আইমেন হুসেন, আত্মঘাতি গোল। এ ম্যাচের জয়ের ফলে গ্রুপে নরওয়ে এখন শীর্ষে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩











