সাবিনাদের ২৬-০ গোলের ফুটসালের গল্প

ফুটসাল লীগ বাংলাদেশ ২০২৫-২৬

বাংলাদেশ ফুটসাল লিগ ২০২৫-২৬! নতুন এক যাত্রার নাম। ১১টি ক্লাব দলকে নিয়ে প্রথম বারের মত যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই দল গঠন করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের ফুটসাল ইতিহাসে একটি বড় মাইল ফলক। বিশ্বকাপর বিরতির পর গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া ‘সাবিনাদের দল ২৬-০ গোলে জয় লাভ করে ফুটসালের গল্প’ তৈরী করেছে।

বিশ্বকাপের আগেই এই ফুটসাল লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিশ্বকাপ বিরতির পর গতকাল প্রথম খেলা অনুষ্ঠিত হয় প্রথম খেলায় নারী বিভাগে পরস্পর মোকাবেলা করে ফকির এফসি বনাম ঢাকা অ্যাথলেটিকস ক্লাব খেলায় ফকির এফসি ১০-২ গোলে ব্যবধানে জয় লাভ করে দীর্ঘ বিরতির পর শুভ সূচনা করে। অপরদিকে দিনের ২য় ম্যাচে পুরুষ বিভাগের এই দুটি দলই মোকাবেলা করে এবং যথারিতি ফকির এফসি ১২-১ গোলে জয় লাভ করে। প্রতিদিন ৪টি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারী এবং পুরুষদের। নিয়ম অনুযায়ী যে দুটি দল খেলবে সেই দলেরই নারী এবং পুরুষ দুটি দল খেলবে একই দিনে। সেই নিয়মেই গতকাল আইএম ১০ এফসি (IM 10 FC ) এবং স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকস প্রথমে নারী দল মোকাবেলা করে যে ম্যাচে সাবিনাদের দল ২৬-০ গোলের জয় পায় স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকসকে পরাজিত করে। যে দলে ছিলেন সাবিনা, কৃষ্ণা রানি সরকার, মাসুরা, মার্জিয়া, গোল রক্ষক স্বপ্নার মত খোলোয়াড়রা। দিনের শেষ ম্যাচে যথারিতি নারী বিভাগের এই দুটি দলই মুখোমুখি হয় এবং এখানেও জয় লাভ করে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের কোচিং এ গড়া ‘আইএম ১০ এফসি’। পুরুষ বিভাগে মামুনুলের বয়েজরা জয় লাভ করেছে ১০-৩ গোলের বড় ব্যবধানে। ‘আইএম ১০ এফসি’র মইন হ্যাট্রিক করেন। এছাড়া শাকিল, মুস্তাফিজ, নিটলদের সমন্বয়ে গড়া দলটিকে‘ মনে হয়েছে চ্যাম্পিয়নের জন্যেই তার দল গড়েছে।

ফুটসাল যুগে বাংলাদেশঃ

ফুটসাল কী? ফুটসাল হলো ৫-এ-সাইড (প্রতি দলে ৫ জন) ইনডোর ফুটবল। এটি সাধারণত হার্ড কোর্টে খেলা হয় এবং FIFA-এর নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে। খেলাটি দ্রুতগতির হওয়ায় খেলোয়াড়দের বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, কম জায়গা ব্যবহার করে বলের সুষ্ঠ বন্টন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বাড়ায়। বাংলাদেশ ফুটসাল লীগের বৈশিষ্ট্য: আয়োজক- বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। প্রথম আসর: ২০২৫–২৬ মৌসুম। ভেন্যু: মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়াম। পুরুষ বিভাগ: ১১টি ক্লাব এবং দল নারী বিভাগ: ১১টি ক্লাব দল।

ফুটসাল লীগের গুরুত্বপূর্ণঃ

 বাংলাদেশে ফুটসালের এই আনুষ্ঠানিক যাত্রার মাধ্যম ফুটসালের কাঠামো তৈরি হল যার কারণে জাতীয় ফুটসাল দলের জন্য খেলোয়াড় বাছাই সহজ হবে। তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের ফুটসাল খেলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে AFC ও FIFA আয়োজিত ফুটসাল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ভিত্তি শক্তিশালী হবে। জাতীয় ফুটসাল চালুর মাধ্যমে সাবেক জাতীয় খেলোয়াড়দের কোচিং পেশার দ্বার উন্মোচন হল এতে করে নতুন নতুন আইডিয়া দিয়ে তারা সাহায্য করতে পারবে যা দিন শেষে বাংলাদেশের ফুটবল লাভবান হবে। ক্রিকেটে যেমন টি-২০, ফুটবলে তেমনী নতুন শাখা বা ভার্সন হল ফুটসাল।

সাবিনাদের ২৬-০গোলের ফুটসালের গল্প

ফুটসালের ১১টি ক্লাব দলঃ

১. আইএম ১০ এফসি, ২. স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকস, ৩. বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিঃ, ৪. ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমী, ৫. জিনন এফসি, ৬. আনসার এন্ড ভিডিবি ফুটবল ক্লাব, ৭. ফকির এফসি, ৮. ঢাকা অ্যাথলেটিক ক্লাব, ৯. চাঁদপুর ফুটবল ক্লাব, ১০. বিকেএসপি ফুটবল ক্লাব, ১১. টেকভিল ফুটসাল ক্লাব।  

সারকথা: ফুটসালের এই নব জাগরণ যদি ঠিক রাখা যায় অর্থাৎ প্রতিবছর আয়োজন করা যায় মানসম্মত দল গঠন করে তাহলে এখান থেকেই ফুটসালের নতুন তারকা বের হবে এবং বাংলাদেশের ফুটসালকে সমৃদ্ধ করবে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে। বাংলাদেশের উচিত এখন থেকেই ফুটসাল বিশ্বকাপের খেলার পরিকল্পনা করা এবং কত সালের মধ্যে বিশ্বকাপে খেলবে এই ভাবে ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে যাত্রা করা উচিত।  

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles