২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব থার্টি টু’ এর ম্যাচে জার্মানির বিরুদ্ধে প্রথমার্ধের ৪৩তম মিনিটে যখন হুলিও এনসিসো হেডে বলটি জালে জড়ালেন, তখন গ্যালারিতে থাকা প্যারাগুয়ের সমর্থকদের চোখে পানি চলে এসেছিল। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দেই হয়তো এই কান্না। কিন্তু এই গোলের পেছনে লুকিয়ে আছে প্রায় এক শতাব্দীর এক দীর্ঘ অপেক্ষা আর অদ্ভুত এক অভিশাপ মুক্তির গল্প! আসুন জেনে নেওয়া যাক , জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের গোল কেন ঐতিহাসিক?
খেলার ধারার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে করা এনসিসোর এই গোলটি শুধু জার্মানিকে স্তব্ধই করেনি, বরং প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসকে নতুন করে লিখিয়েছে।

নকআউট পর্বের ৫ ম্যাচের সেই ‘গোল-অভিশাপ’
প্যারাগুয়ে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম লড়াকু দল হলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের গোল করার রেকর্ড ছিল বড্ড মলিন, এক প্রকার অবিশ্বাস্য। ফুটবল ইতিহাসে এর আগে তারা যতবারই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পার করে নকআউট বা শেষ ১৬-র মঞ্চে পা রেখেছে, প্রতিবারই গোলপোস্টের সামনে গিয়ে তারা যেন খেই হারিয়ে ফেলত।

এর আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের খেলা টানা ৫টি ম্যাচে কোনো গোলই করতে পারেনি প্যারাগুয়ে। নিচে তাদের সেই গোলখরা ও বেদনার ইতিহাস দেওয়া হলো:
- ১৯৮৬ বিশ্বকাপ (শেষ ১৬): ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়।
- ১৯৯৮ বিশ্বকাপ (শেষ ১৬): ফ্রান্সের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে পরাজয় (গোল্ডেন গোল)।
- ২০০২ বিশ্বকাপ (শেষ ১৬): জার্মানির কাছে ১-০ গোলে পরাজয় (৮৮ মিনিটের গোল)।
- ২০১০ বিশ্বকাপ (শেষ ১৬): জাপানের সাথে ১২০ মিনিট পর্যন্ত ০-০ ড্র (পেনাল্টি শুটআউটে জয়)।
- ২০১০ বিশ্বকাপ (কোয়ার্টার ফাইনাল): স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়।
অর্থাৎ, ২০১০ সালে তারা যখন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল, তখনও কিন্তু মূল ম্যাচে কোনো গোল তারা করতে পারেনি! টাইব্রেকারের ভাগ্য নির্ধারণী শটে তারা পার পেয়েছিল।
হুলিও এনসিসো – একুশ শতকের নতুন নায়ক
নকআউট পর্বের ৪৫০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলা এই গোলখরা কাটাতে প্যারাগুয়ের প্রয়োজন ছিল বিশেষ কিছুর। আর ২০২৬ সালের ৩০ জুনের এই ঐতিহাসিক রাতে, জার্মানির হাই-লাইন ডিফেন্সের ফাঁক গলে সেই বিশেষ মুহূর্তটি এনে দিলেন তরুণ তুর্কি হুলিও এনসিসো। ম্যানুয়েল নয়ারের মতো কিংবদন্তিকে পরাস্ত করে করা তার এই হেডটি প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের নকআউট পর্বের সর্বপ্রথম গোল হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত যেদিকেই মোড় নিক না কেন, প্যারাগুয়ের ফুটবলের জন্য এই গোলটি একটি বিশাল মানসিক দেয়াল ভেঙে ফেলার প্রতীক। দীর্ঘদিনের অভিশাপ কেটে গেছে, বিশ্বমঞ্চের নকআউটেও এখন গোল করতে জানে লাল-সাদারা!
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩





















