ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ফুটবল লিকসের প্রতিষ্ঠাতা রুই পিন্টো। তার দাবি, ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিচালনায় ইনফান্তিনোর কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়। ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের তদন্তের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৮ সালে ফুটবল লিকসের প্রকাশ করা নথির পর। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের স্পিগেলের মাধ্যমে ওই নথিগুলো প্রকাশ্যে আসে। ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ২ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ৩৭ বছর বয়সী পিন্টো ২০১৮ সালের অভিযোগ গুলো আবার সামনে আনেন। তার দাবি, তখন উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকা ইনফান্তিনো ম্যানচেস্টার সিটি ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই, পিএসজি-কে আর্থিক সুষ্ঠুতা নীতির (এফএফপি) নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করেছিলেন।
পিন্টোর অভিযোগ, ২০১৪ সালে দুই ক্লাবের স্পনসরশিপ চুক্তির মূল্য অতিরঞ্জিত করার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলার সময় ইনফান্তিনো তুলনামূলক নমনীয় শাস্তির ব্যবস্থা করতে ভূমিকা রেখেছিলেন। পিন্টো লিখেছেন, ২০১৪ সালেই এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ম্যানচেস্টার সিটির অনিয়ম সম্পর্কে জানতেন। তিনি হলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
তার আরও অভিযোগ, ইনফান্তিনো নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোপন নথি শেয়ার করেছিলেন এবং তদন্তকারী সংস্থার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে সিটি ও পিএসজিকে শুধু জরিমানা দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পিন্টোর দাবি, বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য ফুটবল লিকসের প্রকাশিত নথিতেও ছিল।
এরপর ইনফান্তিনো সম্পর্কে নিজের কঠোর মন্তব্য করেন পিন্টো। তিনি বলেন,
উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক সময়ে ফিফা সভাপতি হিসেবে তার ভূমিকা বিবেচনায় আমার মতে, ইনফান্তিনো ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর এবং ভবিষ্যৎ ফুটবলে তার কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়।
অভিযোগ গুলো প্রথম প্রকাশ্যে আসার সময় উয়েফা জানিয়েছিল, এ ধরনের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদকের সহযোগিতা করা তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তদন্তকারী সংস্থাকে সহায়তার জন্য আলোচনা, বৈঠক, নথি ও বিভিন্ন সমাধানের পথ নিয়ে কাজ করাও সেই দায়িত্বের অংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল উয়েফা।
ইনফান্তিনোকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক
ইনফান্তিনোও সে সময় নিজের ভূমিকার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, তার দায়িত্বের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, নথি ও ধারণা বিনিময় এবং ফুটবলের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করা রয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, নিজের দায়িত্ব তিনি সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গেই পালন করেছেন। পিন্টোর নতুন মন্তব্যের বিষয়ে ফিফার কাছে প্রতিক্রিয়া চেয়েছে বিবিসি স্পোর্ট। ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে। বিশ্বকাপে অংশীদারিত্ব বিক্রির তার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়।
এ ছাড়া ফিফার ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ, এফএফই প্রকল্প নিয়ে উয়েফা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ক্রিমিনাল মিসম্যানেজমেন্ট’-এর অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুইস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও সম্প্রতি ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
এক বিবৃতিতে সুইস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক মাসের বিভিন্ন ঘটনা পুনর্মূল্যায়নের পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, ফিফার নেতৃত্ব, পরিচালনা কাঠামো, স্বচ্ছতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ফিফা ও উয়েফা, দুই সংস্থার সদর দপ্তরই সুইজারল্যান্ডে। ২০১৬ সালে প্রথমবার ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। ২০২৭ সালের মার্চে চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে বিকল্প প্রার্থী খুঁজে বের করতে হবে। ফলে নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক গুলো ফুটবল প্রশাসনের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।




