সিরিজের পঞ্চম ও শেষ দিনের প্রথম সেশনেই ৭ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজে দ্বিতীয়বারের মতো ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে দলটি। রাবাদা ও হারমারের বোলিং তোপে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, সিরিজ জয়ের প্রায় দ্বারপ্রান্তে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিাক।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে স্বাগতিকরা। পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনেই দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন কাগিসো রাবাদা ও সাইমন হারমার।

দিনের প্রথম ওভারেই ম্যাট রেনশ ও মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধাক্কা দেন রাবাদা। এরপর নিজের বিধ্বংসী বোলিংয়ে তুলে নেন ট্রাভিস হেডের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটিও। ২৮৮ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লাঞ্চ বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৬০ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান থেকে এখনো অনেক দূরে তারা।
রাবাদার দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর স্পিনে অস্ট্রেলিয়াকে আরও চাপে ফেলেন সাইমন হারমার। নিউল্যান্ডসের ঘূর্ণিসহায়ক উইকেট দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে অ্যালেক্স ক্যারি ও কুপার কনোলিকে ফিরিয়ে দেন তিনি। লাঞ্চের ঠিক আগের বলে মিচেল স্টার্ককেও সাজঘরে পাঠান এই অফস্পিনার। ৮ ওভার বল করে মাত্র ৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন হারমার।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ক্যামেরন গ্রিন। ২৫ রানে অপরাজিত ছিলিন তিনি। তবে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাঁকে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হবে। দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। চতুর্থ দিনের উইকেট ছিল বেশ ব্যাটিংবান্ধব। কিন্তু রাবাদার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সেই প্রত্যাশা মুহূর্তেই ভেঙে যায়। ম্যাচের আগের অংশে পেটের পেশিতে ব্যথার কারণে নিজের সেরাটা দিতে না পারলেও শেষ দিনে পুরোনো ছন্দে ফেরেন তিনি।
প্রথম পাঁচ ওভারেই ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন রাবাদা। দুর্দান্ত লাইন-লেংথের পাশাপাশি বলের মুভমেন্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেন তিনি। ইনিংসের তৃতীয় বলেই লেগ সাইডে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রেনশ। শূন্য রানে বিদায় নেওয়া এই ওপেনারের জন্য সফরটি অবশ্য দারুণ কেটেছে। পুরো সফরে ৬১.৫০ গড়ে ৩৬৯ রান করেছেন তিনি।
এরপর ক্রিজে আসেন চাপে থাকা লাবুশেন। ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েই যখন প্রশ্ন উঠেছে, তখন প্রথম বলেই ঝুঁকিপূর্ণ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি। তবে দুই বল পরই রাবাদার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন লাবুশেন। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি তিনি।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা ট্রাভিস হেডকেও ফিরিয়ে দেন রাবাদা। শুরুতে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত গালিতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রাবাদা। সবচেয়ে কম বল খরচ করে এই মাইলফলকে পৌঁছানোর কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি।
রাবাদার তাণ্ডবের পরও স্বস্তি ফেরেনি অস্ট্রেলিয়া শিবিরে। জশ ইংলিস, যিনি প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন, গ্রিনের ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে যান মাত্র ৪ রানে। এরপর হারমারের ঘূর্ণিতে আরও বিপর্যস্ত হয় অস্ট্রেলিয়া। পানি পানের বিরতির পরপরই গ্রিনকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে কঠিন রিটার্ন ক্যাচটি হাতছাড়া করেন এই স্পিনার।
কিন্তু বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাঁকে। অপ্রয়োজনীয় রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন অ্যালেক্স ক্যারি। দুর্দান্ত ডাইভে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন মার্কো ইয়ানসেন। এরপর কনোলিকেও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন হারমার।
সব মিলিয়ে সিরিজের শেষ দিনটি এখন দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য জয়ের অপেক্ষায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয়বারের মতো ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণে এখন অপেক্ষা শুধু শেষ কয়েকটি উইকেটের।


