Home Blog Page 117

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর মেসির হাসি, সালাহর বিদায়!

আর্জেন্টিনা-মিসর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াই।

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে যতটা না প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ তার চেয়ে বেশী আলোচনা-সমালোচনা হল ফাউল দেয়া ও না দেয়ার নিয়ে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে মিসর তীব্র আপত্তি তুলেছে রেফারিং ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে। মিসর কোচ হোসাম হাসানের দাবি ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকো যে গোলটি করেছিরেন তা অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে, এবং আর্জেন্টিনা জয় সূচক গোল করার আগে ফাউল হলেও তা আমলে নেয়নি রেফারি। তবে এই দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ঘাম ঝরানো আর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর মেসির হাসি, সালাহর বিদায়!

ম্যাচ শেষে মিসর কোচ বলেছেন আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই মিসরের প্রতি অবিছার করা হয়েছে। আবার রেফারিকে ‘জালিম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন মিসর ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো যার একটি গোল বাতিল করেছিল ভিএআর দেখে।

ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষনঃ মিসরের গোল বাতিল আর আর্জেন্টিনার গোল বহাল রাখা নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে এক যুগের বেশি সময় রেফারিং করা ও ভিএআর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস।

রেফরি ডেভিসের ব্যাখ্যাঃ

৬২তম মিনিটে মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো একটি গোল করেন সেই গোলে মিসর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ফাউল করেছিলেন। ভিএআরের মতে, আত্তিয়া একই সময়ে মার্তিনেজের জার্সি ধরে টানেন এবং তাঁর পায়ের ওপর পা রাখেন। এই দুটি ঘটনাই ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়। ভিডিও দেখার পর ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে ভিএআরের সঙ্গে একমত হন এবং গোল বাতিল করেন। ঘটনাটি বক্সের বেশ বাইরে মিসরের অর্ধে ঘটেছিল বলে এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু নিয়ম হলে একই আক্রমণ পর্বে যদি কোনো ফাউলের সরাসরি পরিণতিতে গোল হয়, তাহলে সেই গোল বাতিল করতে হয়। রেফারিকে যখন একসঙ্গে জার্সি টানা ও পায়ে পা রাখার দৃশ্য দেখানো হয়, তখন তাঁর পক্ষে আগের সিদ্ধান্ত (গোল) বহাল রাখা সম্ভব ছিল না।

আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে রেফারি ফাউল দেয়নি: খেলার শেষের দিকে মিসর ২টি আলাদা ঘটনায় ফাউলের আবেদন করে যার একটি ঘটে যোগ করা সময়ের ২য় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করার আগে। দুটি ঘটনা আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকার ভেতরে ছিল।

প্রথম ঘটনা: আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মিসরের হামদি ফাতির জার্সি টানতে দেখা যায়। এরপর ফাতি মাটিতে পড়ে যান। তবে রেফারি কোনো ফাউল দেননি।

২য় ঘটনা: খেলার শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন তিনি যখন আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় ঢুকে যান তখন হুলিয়ান আলভারেস তাঁকে ফাউল করেছেন। কিন্তু রেফারির মতে, এটি ফাউল দেওয়ার মতো ঘটনা ছিল না। ভিএআর দুটি ঘটনাই পরীক্ষা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অর্থাৎ কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।

দুটি ঘটনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যঃ

প্রথম ঘটনায় দেখা যায় মিসরের মারওয়ান আত্তিয়া ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। কিন্তু সালাহর ঘটনায় দুজনের বুটের মধ্যে স্বাভাবিক সংস্পর্শ হয়েছিল, যা দুই খেলোয়াড়ের সমান গতি । তাই দুটি ঘটনা এক নয়।

সারসংক্ষেপঃ
১. মিশরের বাতিল হওয়া VAR গোল খেলার ৬২ মিনিটে।

২. মিশরের দাবিকৃত পেনাল্টি VAR-এ না দেখা। খেলার শেষের দিকে মোহাম্মদ সালাহর সাথে।  

এই ২টি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ম্যাচের পর বিশ্বজুড়ে সমর্থক, সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের মধ্যে রেফারিং নিয়ে তীব্র বিতর্ক হতে দেখা যায়।  

২৩ বছর পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় উইন্ডিজের

দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ড্র হলেও প্রথম ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সুবাদে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের পঞ্চম দিনে লাঞ্চ বিরতির পর ৯ উইকেটে ২৫১ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসের ৫০ রানের লিড যোগ হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০২ রান। তবে জয়ের ঝুঁকি না নিয়ে স্বাগতিকরা নিরাপদ ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেয়। জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ ওভারে ১০৯ রান যোগ করলে ম্যাচটি ড্রয়ে শেষ হয়। বৃষ্টির কারণে মাঝখানে কিছু সময় খেলাও বন্ধ ছিল।

ক্যাম্পবেল ১১৩ বলে ৫১ এবং কিং ১২৯ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ফলে কোনো উইকেট না হারিয়েই ড্র নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এর আগে দিনের শুরুতে ২ উইকেটে ৯২ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিস ৪৪ রান করার পর আউট হলেও দিনেশ চান্দিমাল দারুণ ব্যাটিং করেন। ১০৭ বলে ৭১ রানের ইনিংসে চারটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন তিনি। অধিনায়ক ধানাঞ্জয়া ডি সিলভা ৩৪ এবং সোনাল দিনুশা ২৮ রান করে দ্রুত লিড বাড়ানোর চেষ্টা করেন। পরে মিলান রাথ্নায়াকা ২০ রানে পৌঁছানোর পর ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা।

এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বশেষ ব্রায়ান লারার নেতৃত্বে ঘরের মাঠে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। এরপর দুই দলের মধ্যকার সাতটি সিরিজের তিনটিতে জয় পায় শ্রীলঙ্কা, আর চারটি সিরিজ ড্র হয়।

এছাড়া প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবারও কোনো টেস্ট সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বশেষ ২০২৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল তারা। এরপর টানা ১০ সিরিজের মধ্যে ছয়টিতে পরাজয়ের হতাশা সঙ্গী হয়েছিল দলটির।

প্রথম টেস্টে কঠিন পরিস্থিতিতে ১৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হওয়া অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রেভস পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজের দীর্ঘ প্রতীক্ষার সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

 সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৫৪৯/৯

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৪৯৯/১০

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ৪৯ ওভারে ২৫১/৯

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩০২) ৪০ ওভারে ১০৯/০

ফল: ম্যাচ ড্র

সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ ১-০ তে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তদন্তের দাবি মিশরে

বাঁচা মরার ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তদন্তের দাবি মিশরের, বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের আবেদন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

সংস্থাটির সভাপতি হানি আবো রিদা ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ম্যাচ পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করা রেফারি ও অন্যান্য ম্যাচ অফিসিয়ালদের টুর্নামেন্টের বাকি অংশ থেকে বহিষ্কারের আবেদনও করেছেন।

৭ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে টানা তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ফলে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মাঠে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি হলুদ কার্ডও দেখেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ম্যাচের কিছু সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং ফরাসি রেফারি ফঁসোয়া লুতেক্সিয়েরের ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা। অন্যদিকে, কোয়ার্টার-ফাইনালে মিশরের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রথমটি, ভিএআরের হস্তক্ষেপে আগের একটি ফাউলের কারণে মিশরের একটি গোল বাতিল করা। দ্বিতীয়টি, আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে মিশরের খেলোয়াড়ের ওপর ফাউলের অভিযোগ উঠলেও সেটি ভিএআরে পর্যালোচনা না করা। মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এই দুটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে, মিশরের আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। ম্যাচটি আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।

দেখে নিন কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার মুখোমুখি

জমে উঠেছে বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে টিকে রইল ৮। নানা নাটকীয়তা, স্বপ্নভঙ্গ ও বিতর্ক শেষে বিশ্বকাপ এখন শেষ ভাগে এসে পৌঁছেছে। শেষ ষোলোয় সবচেয়ে বেশি নাটকীয়তা দেখা গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ম্যাচে।

মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত ম্যাচে ৩-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে এই ম্যাচের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মিশরের বাতিল হওয়া একটি গোল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউলের অভিযোগ তুলে রেফারি ও ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করেছে সালাহর মিসর। এছাড়া ফেবারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট খেলতে আসা স্পেনও উঠেছে কোয়ার্টারে ফাইনালে।

হাইভোল্টেজ ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে বেলজিয়াম স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে।

বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্সও। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে সহজেই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে ২০২২ সালের রানার্সআপরা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা আফ্রিকার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে।

মরক্কো শেষ আটে উঠেছে স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে। এছাড়া ইংল্যান্ডের কোয়ার্টারে উঠতে লড়াই-ই করতে হয়েছে। টুর্নামেন্টের সহ–আয়োজক মেক্সিকোকে ৩–২ গোলে হারিয়ে হ্যারি কেইনরা এখন শেষ আটে।

সেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেওয়া নরওয়ে। আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে নরওয়ে হারিয়েছে ২-১ গোলে। শেষ ষোলোর সবচেয়ে নিষ্প্রাণ ম্যাচটি ছিল কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের।

ম্যাচের ১২০ মিনিটেও কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপের সেই লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ড ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ আটে উঠেছে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই

ফ্রান্স বনাম মরক্কো

বাংলাদেশ সময় রাত ২টা

ভেন্যু: জিলেট স্টেডিয়াম, ফক্সবরো, ম্যাসাচুসেটস

শুক্রবার, ১০ জুলাই

স্পেন বনাম বেলজিয়াম

বাংলাদেশ সময় রাত ১টা

ভেন্যু: সোফি স্টেডিয়াম, ইনগলউড, ক্যালিফোর্নিয়া

শনিবার, ১১ জুলাই

নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড

বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা

ভেন্যু: হার্ড রক স্টেডিয়াম, মায়ামি গার্ডেনস

রোববার, ১২ জুলাই

আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড

বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা

ভেন্যু: অ্যারোহেড স্টেডিয়াম, কানসাস সিটি

পেনাল্টি মিসের লজ্জার রেকর্ড মেসির

বিশ্বকাপ ফুটবলের চলমান আসর যেন লিওনেল মেসিকে দু’হাত উজাড় করে দিয়ে চলেছে। গোল করছেন, করাচ্ছেন। প্রতি ম্যাচেই একের পর এক গোল করে বিষ্ময় উপহার দিয়ে চলেছেন। কখনো নিজের রেকর্ড ভাঙ্গছেন, কখনো তা সমৃদ্ধ করছেন, আবার কখনো নিজের গড়া রেকর্ডকে ধরাঁছোয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার রেকর্ড গড়ছেন লজ্জার।

এবারের বিশ্বকাপে মেসি এমন এক লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন তা আর কারো নেই। পেনাল্টি থেকে গোল করার ব্যর্থতার রেকর্ড। একই ভুল বারবার করছেন মেসি। মিসরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ম্যাচের ২১ মিনিটের সময় নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মিসরের ডিফেন্ডার। পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্বাভাবিকভাবেই পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান অধিনায়ক মেসি। কিন্তু জঘন্য এক শট মারেন বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা। গোলরক্ষকের বাম দিক দিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন তিনি। কোনো দুর্ভেদ্য শট ছিল না। ফলে মিসরের গোলরক্ষক মুস্তাফা বোশ সহজেই তা ফিরিয়ে দেন।

শেষ হতে পারতো মেসিদের বিশ্বকাপ

মেসির এই ব্যর্থতায় শেষ হয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। যে গোল দিয়ে তারা সমতায় ফিরতে পারতো, মেসির ব্যর্থতা মিসরকে আরো উজ্জ্বীবিত করে দেয়। তার সুফলও তারা ঘরে তোলে। দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। সে সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন উজ্জ্বল করে তোলে।

পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ মেসি

মেসি এবারের বিশ্বকাপে এবার নিয়ে দুইবার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেবারও একই অবস্থা। গোলরক্ষকের বাম দিক থেকে মারতে গিয়ে বাইরে পাঠান বল। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের লজ্জাটা ঘানার অসমো গিয়ানের সঙ্গে ভাগাভাগি করছিলেন। এবার এক আসরে দুই পেনাল্টি নষ্ট করে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। বিশ্বকাপে চার পেনাল্টি নষ্টের রেকর্ড আর কারো নেই।

প্রথম ব্যর্থতা ২০১৮ বিশ্বকাপে

বিশ্বকাপে মেসি প্রথমবার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ২০১৮ সালে। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষেও ব্যর্থ হন। তবে ২০১৮ ও ২০২২ সালের ব্যর্থতার সঙ্গে এবারের ব্যর্থতা ভিন্ন। ওই দুই আসরে মেসিকে লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। কিন্তু এবার ভিন্ন। এবার পেনাল্টি মিস করলেও পরে ঠিকই গোলের দেখা পেয়েছেন। দলও জয় পেয়েছে। যা তার পেনাল্টি মিসের দুঃখকে কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পেনাল্টি মিসের রেকর্ড ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।

কলম্বিয়াকে কাঁদিয়ে সুইজারল্যান্ড শেষ আটে

বিশ্বকাপ ফুটবলে গত কয়েক আসর ধরে নিয়মিত মুখ সুইজারল্যান্ড। কিন্তু খুব বেশি দূরে যাওয়া হয় না। গ্রুপ পর্বটা পার হওয়ার পরই বিদায়ের টিকিট কাটতে বাধ্য হয় দলটি। তবে এবারের আসর ভিন্ন। একের পর এক চমক দেখিয়ে দলটি পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ভ্যানকুয়েভারে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মঙ্গলবার রাতে তারা কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় পেয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের শেষ আটে ওঠার মাঝ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন আপ চূড়ান্ত হলো। সুইজারল্যান্ডের ম্যাচের আগে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে মিসরকে হারিয়ে শেষ আটে খেলা নিশ্চিত করে।

সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা

কোয়ার্টার ফাইনালে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স মরক্কোর বিপক্ষে খেলবে। স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। নরওয়ের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আর শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

বিশ্বকাপের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ড নিয়মিত প্রথম রাউন্ড পার হতো। খেলতো কোয়ার্টার ফাইনালে। মাঝের কয়েকটি আসরে তাদের অনুপস্থিতি নিয়মিত হয়ে পড়েছিল। অবশেষে ২০০৬ সাল থেকে আবার তারা নিয়মিত হলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায় নিত। এবার দলটি রূপকথা রচনা করে চলেছে। বারবার আটকে যাওয়ার গোরো খুলেছে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম অর্থাৎ ৭২ বছর পর তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। প্রথম চার আসরের তিনটিতেই তারা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল।

টাইব্রেকারে হারের পর কলম্বিয়ার খেলোয়াড়রা

টাইব্রেকার হওয়ায় কলম্বিয়ার সামনে সুযোগ ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার। কিন্তু দলটি একের পর এক ব্যর্থ হয়েছে। গোল করতে পারেনি। ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। দাভিনসন সানচেজ ও কুচো হার্নান্দেজ গোল করতে ব্যর্থ হন। এর মধ্যে হার্নান্দেজের শট রুখে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। সুইজারল্যান্ডের হয়ে শুধু মানুয়েল আকাঞ্জি গোল করতে ব্যর্থ হন।

সুযোগ বেশি পেয়েছিল কলম্বিয়া

নির্ধারিত সময়ের খেলায় অবশ্য কলম্বিয়ায় গোলের বেশি সুযোগ পেয়েছিল। ১২০ মিনিটের খেলায় অন্তত ১৫টি শট তারা সুইজারল্যান্ডের পোস্ট লক্ষ্য করে নিয়েছিল। তার মধ্যে তিনটি শট লক্ষ্যে ছিল। কর্নার আদায়ও করেছে সাতটি। কিন্তু এ থেকে তারা কোনো সুফল আদায় করতে পারেনি।

ম্যাচে কলম্বিয়া ২১ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পায়। তখন কেভিন পুয়ের্তার দারুণ বাঁকানো শট দুর্দান্ত সেভে ফিরিয়ে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক কোবেল। ম্যাচে সুইসদের সামনে সহজ সুযোগ এসেছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। এনদোয়ের পাস থেকে জিব্রিল সো ফাঁকা অবস্থায় বল পেয়েছিলেন কিন্তু তার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।

টিভিতে আজকের খেলা: ৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলে আজ কোনো ম্যাচ নেই। উইম্বলডনে চলছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

টেনিস
উইম্বলডন
কোয়ার্টার ফাইনাল
সন্ধ্যা ৬টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

বিশ্বকাপ ফুটবল: পুনঃপ্রচার
আর্জেন্টিনা–মিসর
সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস

মহাকাব্যিক কামব্যাক! মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

পরাজয়ের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে নিলো আর্জেন্টিনা: মেসির জাদুতে মিশরের বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়

পরাজয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্ত থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আরও একবার নিজেদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখলো আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসি। মঙ্গলবার বিকেলে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও মাত্র ১৩ মিনিটের ঝড়ে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধেই মিশরের চমক ও মেসিকে রুখে দেওয়া

ম্যাচের শুরুতেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চমকে দেয় মিশর। ১৫তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন ইয়াসের ইব্রাহিম। ২০২২ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা।

২১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শৌবির বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেসির শট রুখে দিলে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।

ভিএআর (VAR) নাটক ও জিকোর দ্বৈত রূপ

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মোস্তফা জিকো। তবে ভিএআর (VAR) রিভিউতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করেছিলেন মিশরের আত্তিয়া। ফলে গোলটি বাতিল হয় এবং ব্যবধান ১-০ ই থাকে।

তবে এতে দমে যায়নি মিশর। ৬৭তম মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে বক্সে পাস দেন হাইসেম হাসানকে। হাসানের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি সেই জিকো। এবার আর কোনো বাধা ছাড়াই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় মিশর।

১৩ মিনিটের অতিমানবীয় কামব্যাক

দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় আরও একবার জ্বলে উঠলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুসজ্জিত তারকা লিওনেল মেসি।

  • প্রথম আঘাত (৭৯ মিনিট): মেসির চমৎকার লব পাস থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো জোরালো হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার শিবিরে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন (২-১)।
  • সমতা (৮৩ মিনিট): মিশরীয় ডি-বক্সের ভেতর বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ের এক পর্যায়ে বল পান মেসি। বাম পায়ের নিখুঁত স্ট্রাইকে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ সমতায় ফেরান তিনি (২-২)। এটি চলতি টুর্নামেন্টে মেসির অষ্টম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২১তম গোল। একই সাথে বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি।
  • বিজয়সূচক গোল (৯০+২ মিনিট): ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ হেডের সাহায্যে গোল করে আর্জেন্টিনার এই অলৌকিক কামব্যাক সম্পূর্ণ করেন (৩-২)।

রেকর্ডের সামনে আর্জেন্টিনা

এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। আগামী শনিবার কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে তারা।

উল্লেখ্য, ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডের হাতছানি এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে।

ফ্রান্স ম্যাচের আগে মরক্কো শিবিরে দুশ্চিন্তা, চোটে অনিশ্চিত সাইবারি

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল মরক্কো। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ায় তার খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নকআউট পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই খবর স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় ফেলেছে মরক্কো শিবিরকে।

রাউন্ড অব ১৬-এ কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে চোট পান সাইবারি। ম্যাচ চলাকালীন হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করার পর আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। পরে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। মরক্কো শিবিরের প্রাথমিক ধারণা, এটি হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেন বা পেশির টান। তবে এখন পর্যন্ত চোটের প্রকৃত অবস্থা বা কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি মরক্কো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা চলছে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় কি না, সেটিই এখন দেখছে দলটির মেডিকেল স্টাফ। ম্যাচের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেই তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সাইবারির সম্ভাব্য অনুপস্থিতি মরক্কোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। গতি, ড্রিবলিং ও সুযোগ তৈরির দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণকে নিয়মিত চাপে রেখেছেন এই উইঙ্গার। তাই ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাকে না পেলে মরক্কোর আক্রমণভাগে প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখার স্বপ্ন দেখছে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা এবারও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। তবে সেই লড়াইয়ে সাইবারি খেলতে পারবেন কি না, সেটিই এখন মরক্কো শিবিরের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে ফিরে পাওয়ার আশাতেই অপেক্ষা করছেন।

মিশরের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা বনাম মিসর ম্যাচকে সামনে রেখে শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। দলের অনুশীলন ও আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মিডফিল্ড, রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি নিশ্চিত করেছেন যে, একাদশে অন্তত তিনটি পরিবর্তন থাকবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে মিডফিল্ডে। দীর্ঘদিন পর শুরুর একাদশে ফিরছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাঁর ফেরায় জায়গা হারাতে পারেন থিয়াগো আলমাদা, যিনি আগের ম্যাচে একাদশে ছিলেন।

রক্ষণভাগেও আসছে পরিবর্তন। চোট কাটিয়ে বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো আবারও প্রথম একাদশে ফিরছেন। আগের ম্যাচে ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফাকুন্দো মেদিনাকে। ফলে তাঁর পরিবর্তে শুরু থেকেই খেলতে পারেন তাগলিয়াফিকো।

আক্রমণভাগেও বদলের আভাস মিলেছে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে এবার শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেজকে। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে শুরুর একাদশে থাকা মার্তিনেজকে এবার বেঞ্চে বসতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলভারেজের গতি ও প্রেসিং ক্ষমতাকে কাজে লাগাতেই এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছেন স্কালোনি।

অনুশীলনে স্কালোনি মিডফিল্ডে রদ্রিগো দি পলর জায়গায় নিকো গঞ্জালেজকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছেন। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই এই পরিবর্তন দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্বিতীয়ার্ধে গঞ্জালেজকে মাঠে নামানো হতে পারে।

আর্জেন্টিনার একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মিসরের বিপক্ষে প্রথম একাদশে নিশ্চিতভাবেই দেখা যেতে পারে পারেদেস, তাগলিয়াফিকো ও আলভারেজকে। এখন দেখার বিষয়, স্কালোনির কৌশল মাঠে কতটা সফল হয় এবং জয় দিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে কি না।

মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলকিপার); নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; হুলিয়ান আলভারেজ ও লিওনেল মেসি।