Home Blog Page 116

শরিফুলের ৪ উইকেট ও তানজিদের ৯৪: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সান্ত্বনার জয়

0

হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ১৪১ রান ডিফেন্ড করে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪৭ রান তাড়া করে জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল জিম্বাবুয়ে। তবে শেষ ম্যাচে ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের ১৫১ রানের অনবদ্য জুটিতে ৮৪ বল (১৪ ওভার) বাকি থাকতেই সহজ জয় তুলে নেয় টাইগাররা।

ধীরগতির শুরু ও জিম্বাবুয়ের বিপর্যয়

জিম্বাবুয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে ৫০ রান করেন ব্র্যাড ইভান্স।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পিচে বল কিছুটা আটকে আসায় শুরুটা ছিল বেশ সতর্ক। তাসকিন আহমেদ প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে দারুণ চাপ সৃষ্টি করেন। অন্য প্রান্তে শরিফুল ইসলাম প্রথম আঘাত হানেন। বেন কারান (০) ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের দিকে বল গাইড করতে গিয়ে প্লেড-অন হন।

পরের ওভারেই তাসকিনের একটি চমৎকার আউটসুইঙ্গারে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্রায়ান বেনেট। এরপর টানা ১৭ বল কোনো রান করতে পারেনি স্বাগতিকরা। পাওয়ারপ্লে শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ২১/২।

দলীয় অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন ২০ বলে মাত্র ৫ রান করে শরিফুলের বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন। এরপর মাঠে আসেন ওয়েসলি মাধেভেরে। শুরুতে তানভীর ইসলামের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ০ রানে জীবন পান তিনি, যা বাংলাদেশের জন্য বেশ মন্থর ও ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়। মাধেভেরে ও ইনোসেন্ট কাইয়া মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। ২৫ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের রান ছিল ৭২/৩।

মাধেভেরে-ইভান্সের প্রতিরোধ ও বাংলাদেশের ভুল

জিম্বাবুয়েকে ১৯৯ রানে আটকে রাখতে ৪টি উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম।

তাসকিন আহমেদ গতি ও শর্ট বলের সাহায্যে কাইয়াকে (যিনি পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও তানভীরের বলে পুল শট খেলতে গিয়ে টপ-এজ হয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন। ৫ বল পর ক্লাইভ মাদান্দেও ক্যাচ আউট হলে ১০৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন আগের ম্যাচের নায়ক ব্র্যাড ইভান্স (যিনি দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৮ রান করেছিলেন)। ইভান্স শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেন। শরিফুলকে কাভার ড্রাইভে চার মেরে ইনিংস শুরু করার পর তানভীরের বলে কট-বিহাইন্ডের জোরালো আপিল থেকে বেঁচে যান। এরপর মাধেভেরে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন এবং ইভান্সকে সাথে নিয়ে রান তুলতে থাকেন। ১৩ রানের মাথায় মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নিজের ফলোথ্রুতে ইভান্সের একটি সহজ ক্যাচ মিস করেন।

সেঞ্চুরির পথে থাকা মাধেভেরেকে (৭৫ রান) ফিরিয়ে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। কম গতির বলে বিভ্রান্ত হয়ে মাধেভেরে কাভারে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর মাসাকাদজা রানআউট হন তৌহিদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে। শেষ পর্যন্ত ইভান্স তাসকিনকে চার ও ছক্কা মেরে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন। তবে শরিফুলের শর্ট বলে আউট হওয়ার আগে তিনি ৫০ রান করেন। জিম্বাবুয়ে ১১ বল বাকি থাকতেই ১৯৯ রানে অলআউট হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম ৪৪ রানে ৪টি এবং তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩১ রানে ১টি উইকেট নেন।

তানজিদ-সৌম্যর বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি

২০০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উইকেটে খেলছিল। তানজিদ হাসান তামিম এবং সৌম্য সরকার শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন। বিশেষ করে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা আর্নেস্ট মাসুকু প্রথম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে বসেন।

পুরো ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা চরম ফিল্ডিং বিপর্যয়ের পরিচয় দেন। তানজিদ হাসান একাই তিনবার জীবন পান। প্রথমে ২৩ রানের মাথায় ইভান্সের বলে মাসাকাদজা তার সহজ ক্যাচ মিস করেন। এরপর ৩৭ রানে চনাকার বলে এবং ৬৫ রানে সিকান্দার রাজার বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ইনোসেন্ট কাইয়া তার ক্যাচ ফেলে দেন।

পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৯ রান তোলে। তানজিদ মাত্র ৪৯ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন, যা ২০২৬ সালে তার ১২টি ওয়ানডে ইনিংসে ষষ্ঠ পঞ্চাশোর্ধ্ব রান। অন্য প্রান্তে কিছুটা ধীরগতির হলেও সৌম্য সরকার রাজাকে ছক্কা ও চার মেরে দলের রান ১০০ পার করেন। অবশেষে দলীয় ১৫১ রানের মাথায় চনাকার একটি নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার (৬৯ রান)।

সেঞ্চুরির আক্ষেপ ও জয় নিশ্চিত

সৌম্যর বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয় যখন সময়ের ব্যাপার, তখন সবার নজর ছিল তানজিদের সেঞ্চুরির দিকে। নাজমুল হোসেন শান্ত মাঠে এসে চিভাঙ্গার এক ওভারে ৩টি চার মেরে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। তানজিদও মাধেভেরের বলে ১০ রান নিয়ে দ্রুত ৮০ এবং পরে ৯০-এর ঘরে পৌঁছান।

বাংলাদেশের জয়ের জন্য যখন মাত্র ৩ রান প্রয়োজন, তখন তানজিদ ৯৪ রানে ব্যাটিং করছিলেন। সেঞ্চুরি করার উদ্দেশ্যে তিনি সিঙ্গেলস নেওয়া বন্ধ করে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন। শান্তও তাকে স্ট্রাইক দেওয়ার জন্য অন্য প্রান্তে একটি মেডেন ওভার খেলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরির জন্য বড় শট খেলতে গিয়ে লং-অনে ব্র্যাড ইভান্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তানজিদ। ১১২ বলে খেলা তার ৯৪ রানের চমৎকার ইনিংসে ছিল দারুণ সব শটের মার।

তানজিদ সেঞ্চুরি না পেলেও শান্ত বাকি কাজ সহজেই শেষ করেন এবং বাংলাদেশ ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে মাঠ ছাড়ে। জিম্বাবুয়ের পক্ষে চনাকা, ইভান্স ও মাসুকু ১টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

  • জিম্বাবুয়ে: ১৯৯/১০ (৪৮.১ ওভার; মাধেভেরে ৭৫, ইভান্স ৫০; শরিফুল ৪-৪৪, তাসকিন ২-৩২, তানভীর ২-৩৬)
  • বাংলাদেশ: ২০০/৩ (৩৬ ওভার; তানজিদ ৯৪, সৌম্য ৬৯, শান্ত ১৪*; মাসুকু ২-৩৩, চনাকা ১-১৪)
  • ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।

সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ে-ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তিরা। একদিকে গোল্ডেন বুট ও বিশ্বসেরার মুকুটের খোঁজে থাকা আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে লড়বে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মাঠে নামবে এই আসরের চমক সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।

চাপ কি শুধুই ইংল্যান্ডের? মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে হালান্ড

ছবি এআই

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ইতিমধ্যে মাঠের বাইরে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। ম্যাচ পূর্ববর্তী এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, সব চাপ এখন ইংল্যান্ডের ওপর। কারণ ১৯৬৬ সালের পর থ্রি লায়ন্সরা আর কোনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি এবং এই দীর্ঘ খরা কাটানোর চাপ তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।

অপরদিকে ইংল্যান্ড দল এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, যার মধ্যে ২০১৮ সালের আসরে তারা সেমিফাইনালে খেলেছিল। তবে এবারের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জিততে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের মাঝপথে জ্যারেল কোয়ানসার লাল কার্ড দেখার পর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ড কোনোমতে ম্যাচটি বাঁচায়। তবে লাল কার্ডের কারণে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা কোয়ানসাকে আজ ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ইংলিশদের।

মেসির ম্যাজিক বনাম সুইজারল্যান্ডের রূপকথা

ছবি: এআই।

আজকের অপর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের। এবারের আসরে আর্জেন্টিনার পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। কেপ ভার্দে এবং মিশরের বিপক্ষে আগের দুটি ম্যাচেই ৩-২ ব্যবধানে ঘাম ঝরানো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। তবে দলের এই কঠিন সময়ে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বর্তমান টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার চমৎকার সব গোলের ওপর ভর করেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালের খুব কাছে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা।

এদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য এবারের বিশ্বকাপ একটি রূপকথার মতো। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র বাধা পার করতে পেরেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ক্লিন শিট (কোনো গোল না খাওয়া) এবং শেষ ১৬-র ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে নাটকীয় জয় তাদের কানসাস সিটির এই মহাড়াকৃতির মঞ্চে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তবে সুইসদের জন্য বড় ধাক্কা হলো তাদের ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড জোহান মাঞ্জাম্বির ইনজুরি। হাঁটুর চোটের কারণে কলম্বিয়া ম্যাচের পর আজকের কোয়ার্টার ফাইনালেও মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে টুর্নামেন্টে ৩ গোল করা এই তরুণ তারকাকে।

আজকের এই দুই ম্যাচের বিজয়ীরা আগামী বুধবারে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হবে।

হোয়াইটওয়াশ এড়াতে ২০০ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ২০০ রান। শনিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শুরুর দিকেই জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। দলীয় ১২ রানের মধ্যে ওপেনার বেন কারানকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। ১৩ বলে মাত্র ২ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

এরপর তাসকিন আহমেদের শিকার হন আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। ১৯ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর ইনোসেন্ট কাইয়া ও ক্রেইগ আরভিন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেটি দীর্ঘ হয়নি। ২০ বলে ৫ রান করা আরভিনকেও ফেরান শরিফুল। মাত্র ২৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

সেখান থেকে ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরে চতুর্থ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন। কাইয়া ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৬৭ বলে ২৫ রান করেন। তবে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নেন মাধেভেরে। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করে জিম্বাবুয়ের রানও এগিয়ে নেন তিনি।

কাইয়ার বিদায়ের পর অধিনায়ক সিকান্দার রাজা শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তানভীর ইসলামের বলে অদ্ভুত এক শট খেলতে গিয়ে ২৫ বলে ১১ রান করে আউট হন রাজা। এরপর ক্লাইভ মাদান্দেকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন শরিফুল।

অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান ওয়েসলি মাধেভেরে। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৭৪ বলে ৭৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স দ্রুত রান তুলে জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। আগের ম্যাচের মতো এবারও ফিফটি করেন এই অলরাউন্ডার। ৪৩ বলে ৫০ রান করে আউট হওয়ার আগে দলকে ২০০ রানের খুব কাছাকাছি নিয়ে যান তিনি।

শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯/১০

আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার মানসিক দৃঢ়তা ও দলগত শৃঙ্খলার লড়াই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপের আকাশে বাতাসে গুঞ্জন আর্জেন্টিনা এখনও শক্ত কোন প্রতিপক্ষের সামনে পড়েনি যারা আর্জেন্টিনা ফুটবলের ভক্ত তারা হয়তো মন খারাপ করতে পারেন কিন্তু এই কথার মধ্যেই আর্জেন্টিনা যে বড় দল তার স্বীকৃতি পাওয়া যায়, কিভাবে? চলুন একটু সংক্ষেপে দেখা যাক, সুইজারল্যান্ড এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল বাঁধা পার হতে পারেনি একবারও অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ৬ বার ফাইনাল খেলে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? আর্জেন্টিনার কাছে সুইজারল্যান্ড কোন বাধাই নয়, তাই নয় কি? ব্যাপারটা কিন্তু এমনই হওয়া উচিত তাই না? কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? না মোটেও তা নয় কারণ একটাই তা হল ফুটবলে বিশেষ করে যারা বিশ্বকাপ খেলে সেই সমস্ত দেশ গুলোর মধ্যে পার্থক্যটা ক্রিকেটের মত ছোট বা বড় দলের মত বোঝা যায় না। তাই পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড অনেক বড় পার্থক্য থাকলেও বাস্তবে মাঠে খেলায় বড় কোন পার্থক্য থাকবেনা। এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার মানসিক দৃঢ়তা ও দলগত শৃঙ্খলার লড়াই।

কেন মানসিক দৃঢ়তায় এগিয়ে আর্জেন্টিনা: বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মানসিক দৃঢ়তা ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা আছে আর এই দৃঢ়তার কারণ হলো বিশ্বকাপে তাদের অতিতের অর্জন, দলে বিশ্বতারকার উপিস্থিতি, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও ফুটবল ঐতিহ্য।

সুইজারল্যান্ডের দলীয় শৃঙ্খলা তাদের আত্নবিশ্বাসের কারণ: সুইজারল্যান্ডের শক্তি হলো শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, ফিটনেস এবং দলগত বোঝাপোড়া। তাই এই ম্যাচকে আর্জেন্টিনার তারকা বনাম সুইজারল্যান্ডের দলগত ফুটবলের এক আকর্ষণীয় লড়াইয়ের ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুইস ফরোয়ার্ড জেকি আমদৌনি বলেছেন, তারা আর্জেন্টিনার খেলায় এমন কিছু দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছেন যেখানে আঘাত করা সম্ভব। অর্থাৎ তারা শুধু রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে মাঠে নামছে না, আর্জেন্টিনার দুর্বলতা খুঁজে প্রতি আক্রমন গুলোর সফল বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া হবেন। সুইজারল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেনিস জাকারিয়া বলেছেন, মেসিকে থামানোর বিশেষ পরিকল্পনায় থাকবে ডাবল মার্কিং ও মাঝ মাঠে চাপ বাড়ানোর কৌশল।

বিশ্বকাপের সুইজার‌ল্যান্ডের সফলতা:

১৯৩৪ (ইতালি বিশ্বকাপ)- প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল। ১৯৩৮ (ফ্রান্স বিশ্বকাপ)-টানা দ্বিতীয়বার শেষ আটে। ১৯৫৪ (সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপ)-স্বাগতিক হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে অস্ট্রিয়ার কাছে ঐতিহাসিক ৭-৫ ব্যবধানে হারে। এটি এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ (১২ গোল) । ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে সুইজারল্যান্ড। তাই তাদের কাছে এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, নতুন ইতিহাস লেখার দিন।

সুইজার‌ল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সতর্কতা:

নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও নিজেদের দুর্বলতা নিজেরাই উপলব্ধি করতে পেরেছে আর এটাই হচ্ছে বড় দলগুলো একটা বড় শক্তি যে, কোথায় কি দুর্বলতা আছে তা নিজেরাই বের করা। তাই ইউরোপের অন্যতম সংগঠিত দল সুইজারল্যান্ডকে মোকাবেলা করার জন্য বেশ ভাল ভাবেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্কালোনির দল।

বিশ্বকাপে দু-দলের মুখোমুখি লড়াই:

বিশ্বকাপে এর আগে দুই দল ২বার লড়েছে যার মধ্যে দুইবারই আর্জেন্টিনা জিতেছে। প্রথম ১৯৬৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে আর সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে শেষ ষোলতে ১-০ গোলে, ১১৮তম মিনিটে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া গোলটি করেছিলেন। এছাড়া আরো ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে উভয় দল যার মধ্যে আর্জেন্টিনা ৩টি জয় লাভ করে বাকি ২টি ড্র হয়, সুইজারল্যান্ডের কোন জয় নেই।

ম্যাচের প্রধান চরিত্র: ৪র্থ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের প্রধান চরিত্র হতে পারেন লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মেসি এবার ৮ গোল করে এম বাপ্পের সাথে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর হতে পারে অন্যান্য খেলোয়াড়দের গোল পাওয়া। বিশ্বকাপ শুরুর দেকে মেসি নির্ভর হয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা সময়ের সাথে সাথে তা এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।    

সুইজারল্যান্ডের কৌশল: এই ম্যাচকে অনেক বিশেষজ্ঞ ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে কৌশলগত কোয়ার্টার ফাইনালগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন, কারণ এখানে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক শক্তির বিপরীতে সুইজারল্যান্ডের দৃঢ় রক্ষণ মুখোমুখি হবে। তারা চাইবে ম্যাচটাকে যতদুর নেওয়া যায় যদি বুঝে ভেলে যে গোল আসছেনা তখন তারা টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। ১৯৫৪ সালের পর থেকে সুইজারল্যান্ড আর কখনও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি, তাই দীর্ঘ ৭২ বছরের প্রতিক্ষার অবসান এত সহজে নষ্ট করতে চাইবেনা। আগামীকাল ১১ জুলাই সকাল ৭ টায় শুরু হবে শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বললেন, শেষ ম্যাচে নিজেদের বোলিং নিয়ে তিনি হতাশ। হোয়াইওয়াশের লজ্জা এড়াতে এই ম্যাচে জিততেই হবে বাংলাদেশকে।

হারারেতে ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায়। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বড় জুটির আশার কথার জানিয়েছেন মিরাজ।

দীর্ঘ ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে দুইটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। একাদশে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও তানভির ইসলাম। খেলছেন না নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন।

এর মধ্য দিয়ে পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে খেলবেন সাইফ। নাহিদের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। সবশেষ ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে ওয়ানডে খেলেছিলেন সাইফ। লেগ স্পিনার রিশাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির।

তৃতীয় ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার বদলে টস করেছেন সিকান্দার রাজা। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তিন পরিবর্তন নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামছে স্বাগতিকরা। তিন পেসার রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে বিশ্রাম দিয়েছে। বদলি হিসেবে খেলছেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তানাকা শিভাঙ্গা ও আর্নেস্ট মাসুকু।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, তানভির ইসলাম।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্র্যাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাডান্ডে, ওয়েসলি মাধেভেরে, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তানাকা শিভাঙ্গা ও আর্নেস্ট মাসুকু।

২৫ বছর পর বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন জিম্বাবুয়ের

এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। এখন সিরিজ বাঁচানোর সুযোগ নেই। এবার হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর চ্যালেঞ্জ। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে আজ (শনিবার) বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় টানা দুই হার দেখেছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। এখন শেষ ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য শুধু সান্ত্বনার নয়, ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোরও।

শেষ ম্যাচের আগে দলে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। প্রথম ওয়ানডেতে চোট পাওয়া পেসার মোস্তাফিজুর রহমান সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন। ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড–ওয়ান মাসল টিয়ার ধরা পড়ায় প্রায় চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। তার পরিবর্তে পাঁচ বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

নতুন বলে এবং শেষের ওভারে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে বাড়তি শক্তি যোগ করতে পারে। ব্যাটিং বিভাগে অবশ্য আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ রয়েছে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তানজিদ হাসান ও তাওহীদ হৃদয় দারুণ শুরু করলেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সেই ভুল শুধরে বড় জুটি গড়তে পারলেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ দাঁড় করানো সম্ভব বলে বিশ্বাস টিম ম্যানেজমেন্টের।

অন্যদিকে টানা দুই জয় পাওয়া জিম্বাবুয়ে রয়েছে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। নিজেদের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং-দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। তাই শেষ ম্যাচেও জয়ের ধারা ধরে রেখে ২৫ বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য তাদের।

হারারের পেস ও বাউন্স সহায়ক উইকেটে টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে দলীয় পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া।

কে এই ইয়াসিন বুনো, যিনি হয়ে উঠলেন গোলরক্ষকদের আতঙ্ক

“একজন গোলরক্ষকের গল্প। যে ছোটবেলায় গোলপোস্টে দাঁড়াতে চাইতই না। স্বপ্ন ছিল স্ট্রাইকার হওয়ার। কিন্তু ভাগ্য তাকে বানিয়েছে এমন একজন নায়ক, যার হাত ধরে বিশ্বকাপের ইতিহাস লিখেছে মরক্কো। তিনি ইয়াসিন বুনো।”

কানাডার মন্ট্রিয়ালে জন্ম তাঁর। বাবা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, আর মা ছিলেন একজন হেয়ারড্রেসার। জন্মের কয়েক বছর পরই পরিবার ফিরে যায় মরক্কোতে। তখন বুনোর বয়স মাত্র তিন।

পরবর্তীতে কানাডা একাধিকবার তাকে নিজেদের জাতীয় দলের হয়ে খেলার প্রস্তাব দেয়। এমনকি ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কানাডার কোচ বেনিতো ফ্লোরো ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু বুনোর উত্তর ছিল একটাই, তিনি খেলবেন শুধু মরক্কোর হয়েই।

কাসাব্লাঙ্কার রাস্তাতেই শুরু তাঁর ফুটবলজীবন। বন্ধুদের সঙ্গে গাড়ি পার্কিংয়ের ঢালু জায়গায় খেলতেন। এক পাশে দুটি ময়লার ডাস্টবিন ছিল গোলপোস্ট, আর অন্য পাশে দেয়ালে আঁকা ছিল গোল। অসমান মাঠে খেলারও ছিল আলাদা নিয়ম।

মজার বিষয় হলো, বুনো কখনোই গোলরক্ষক হতে চাননি। তাঁর স্বপ্ন ছিল স্ট্রাইকার কিংবা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হওয়া। ছোটবেলায় তিনি মুগ্ধ ছিলেন রোনালদো, রোনালদিনিয়ো, রিভালদো, সার্জিও আগুয়েরো আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর খেলায়। তবে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি এরিয়েল ওর্তেগা। তাঁর ড্রিবল আর ফিনিশিং নকল করার চেষ্টা করতেন ছোট্ট বুনো।

এদিকে পরিবারের সংগ্রামও ছিল সমানতালে। বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন, আর মা ছোট্ট একটি হেয়ার সেলুন দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরে সেটি ফ্যাশন বুটিক, এরপর রেস্টুরেন্টে রূপ নেয়। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে প্রথম বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার পর বুনো পুরো ভবনটাই কিনে দেন মায়ের নামে। কারণ, তিনি চেয়েছিলেন জীবনে কোনো দিন যেন তাঁর মাকে সেই জায়গা ছেড়ে যেতে না হয়।

সাত বছর বয়সে তিনি প্রথম যে বিশ্বকাপটি মনে রাখতে পারেন, সেটি ছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ। সেবার অল্পের জন্য নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি মরক্কো। সেই আক্ষেপই একদিন তাঁর ভেতরে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন জাগিয়ে তোলে।

মাত্র দশ বছর বয়সে প্রথমবার স্পেনে যান। জারাগোজার একটি বাজারে চাচার সঙ্গে কাজ করতেন। সেই বাজারের পাশেই ছিল লা রোমারেদা স্টেডিয়াম। ভাগ্যের কী অদ্ভুত পরিহাস! প্রায় এক দশক পর সেই একই স্টেডিয়ামেই রিয়াল জারাগোজার হয়ে খেলেন ইয়াসিন বুনো।

২০১৮ বিশ্বকাপে দুই দশক পর মরক্কোর বিশ্বকাপে ফেরার অংশ ছিলেন তিনি। কিন্তু আসল ইতিহাস লেখেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। শেষ ষোলোর টাইব্রেকারে স্পেনের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে মরক্কো প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়।

আজও যখন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আসে, বুনো যেন আরও বড় হয়ে ওঠেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি সেভ, ফ্রান্সের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি ঠেকানো, বারবার প্রমাণ করেছেন, বড় মঞ্চের জন্যই যেন তাঁর জন্ম।

কাসাব্লাঙ্কার সেই ছোট্ট রাস্তা থেকে বিশ্বকাপের মহামঞ্চ; ইয়াসিন বুনোর যাত্রা আমাদের শেখায়, স্বপ্নের পথ সব সময় পরিকল্পনামতো হয় না। কখনো কখনো জীবন নিজেই আমাদের জন্য আরও বড় এক গল্প লিখে রাখে। আর সেই গল্পের নাম, ইয়াসিন বুনো।

বিশ্বকাপে ফিফার লাল কার্ড নীতি প্রশ্নবিদ্ধ!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপে রেফারিং ও লাল কার্ড বিতর্ক যেন থামছেইনা। বিশেষ করে ট্রাম্পের ফোন কলের পর যখন ফিফা যুক্তরাষ্ট্রের বালোগানকে লাল থেকে মুক্তি দিয়ে খেলার সুযোগ করে দিলেন। শেষ ৩২-এ বসনিয়ার খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বালোগান। ঘটনার ‍শুরু ও শেষ অবশ্য সবারই জানা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁর থাকার কথা মাঠের বাইরে। কিন্তু যুক্ত রাষ্ট্রের আপিলে সেই নিয়ম বদলে গেল ফিফার নির্দেশনায়। ফলে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন বালোগান তাই বলাই যায় বিশ্বকাপে ফিফার লাল কার্ড নীতি প্রশ্নবিদ্ধ!

অপরদিকে একেবারেই যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেছে ইংল্যান্ড। শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকান খেলোয়াড়ের পা মাড়িয়ে দেওয়ায় লাল কার্ড দেখেছিলেন ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। দুই খেলোয়াড়ের ঘটনা পুরোপুরি এক। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখেছেন দুজনেই। ভিএআর দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর এই সিদ্ধান্ত দেয়। মাঠে রেফারির নেওয়া সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিল দুই দল। কোয়ানসার ক্ষেত্রে একই নিয়ম বিবেচনার আপিল করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ডিসিপ্লিনারি কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে, এক ম্যাচ নয়, তাঁকে বরখাস্ত করা হবে ২ ম্যাচের জন্য। অর্থাৎ একই জায়গা থেকে দুই খেলোয়াড়ের জন্য সিদ্ধান্ত এসেছে দুই রকম।

বালোগানের শাস্তি উঠিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফা নিজেদের ২৭ নম্বর ধারাকে ব্যবহার করেছে। ফিফার ২৭ নম্বর ধারায় লেখা আছে, ‘কমিটির সবাই যদি একমত হয়, তবে যেকোনো শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করতে পারবে। আর এই সেই নিয়ম মেনে বালোগানের শাস্তি ১ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও যদি তিনি একই ধরনের কাজ করেন, অর্থাৎ লাল কার্ড দেখেন, তবে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় ধরনের শাস্তি। এই পরিবর্তনের বিষয়টি কি ফিফা স্বপ্রনোদিত হয়ে নিয়েছেন? উত্তর না। যার পেছনে যে শক্তি কাজ করেছে তা হল ফোন কল। ট্রাম্প ফোন করেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর কাছে তখন তিনি ফিফা টেকক্যাল কমিটির কাছে বিষয়টি বললে কমিটি বিবেচনায় নিয়ে বালোগানকে খেলার সুযোগ করে দেয়, তাহলে নেপথ্যের ঘটনা কি দাঁড়াচ্ছে? অবশ্যই ট্রাম্পের ফোন কল শক্তি!

তবে কি এখন ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাকে খেলাতে ইংল্যান্ডের প্রধান মন্ত্রীকে ফোন করতে বললেন কোচ টমাস টুখেল? আর যদি ফোন করেই বসেন তখন কি ফিফা বিষয়টি ব্যালেন্স করার জন্য কোয়ানসাকে খেলার সুযোগ করে দিবেন কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষ? সেটা অবশ্য ভিন্ন কথা আর ইংল্যান্ড তা করবেন কিনা তাদের ব্যাপার। কিন্তু কথা হচ্ছে একই ঘটনার জন্য একজন মাফ পাচ্ছেন অন্যজন নিষিদ্ধ হচ্ছেন ফিফার কেন এই দ্বৈত আচরণ?

 তবে প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে যে, একই দোষে দুজন খেলোযাড়ের দুই রকম শাস্তি হওয়াটা নিছকই কাকতালীয় কিছু? নাকি ফোন কল শক্তি?

মেসিদের বিশ্বকাপ যাত্রা থামাতে পারবে কি সুইজারল্যান্ড

জমে উঠেছে বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই। সেই লড়াইয়ে টিকে থাকতে সবশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামছে দুই শক্তিশালী দল। বিশ্বকাপের চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপ-দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড।

বাংলাদেশ সময় রবিবার সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটির মাঠে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। শক্তির বিচারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। লিওনেল স্কালোনির দল আক্রমণভাগে যেমন ধারালো, তেমনি বড় ম্যাচে তাদের অভিজ্ঞতাও সুইজারল্যান্ডের তুলনায় অনেক বেশি।

অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডকে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ও শক্তিশালী টাইব্রেকারে থেমে যেতে পারে মেসিদের বিশ্বকাপ যাত্রা! গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা জে গ্রুপের তিন ম্যাচেই জয় তুলে নেয়। তারা আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে হারিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠে।

শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারানোর পর শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকে শেষ দিকের ঝড়ে মিসরকে ব্যবধানে ৩-২ গেলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে বি গ্রুপে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারায় সুইসরা। এরপর শেষ ষোলোতে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে। দলটি তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং একাধিকবার ফাইনাল খেলেছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও পৌঁছাতে পারেনি। নকআউট পর্বে সুইসদের লড়াকু মানসিকতা আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

একাদশ আর্জেন্টিনা (৪-৩-৩)

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো

মিডফিল্ডার: রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গনসালেস

একাদশ সুইজারল্যান্ড (৪-২-৩-১)

গোলরক্ষক: গ্রেগর কোবেল

ডিফেন্ডার: সিলভান ভিডমার, মানুয়েল আকাঞ্জি, ফ্যাবিয়ান শার, রিকার্দো রদ্রিগেজ

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড: গ্রানিত জাকা, রেমো ফ্রয়েলার

অ্যাটাকিং মিডফিল্ড: ড্যান এনদোয়ে, জেরদান শাকিরি, রুবিন ভার্গাস

স্ট্রাইকার: ব্রিল এমবোলো

সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তারা। টানা তিনবার ফাইনাল খেলারও কীর্তি রয়েছে দেশটির। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয় করেছে। তারপর থেকেই ব্রাজিল হেক্সা মিশন পূরণের স্বপ্ন দেখে আসছে। স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে ভালো সুযোগটি এসেছিল ২০১৪ সালে। সেবার আয়োজক ছিল তারা। কিন্তু সে সময়ে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। হেক্সা মিশনও পূর্ণতা পায়নি। দেখতে দেখতে বিশ্বকাপের ছয়টি আসর শেষ। কিন্তু পূরণ হয়নি হেক্সা মিশন। এবারও ব্যর্থতা তারা। আর এ ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন দলটি তারকা খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

ব্রাজিলের হেক্সা মিশন পূরণের স্বপ্ন এবার খুব বেশি দূর যেতে পারেনি। শেষ ষোলোতেই থামতে হয়েছে তাদের। নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় হয়েছে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ফলে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অপেক্ষার প্রহর বেড়ে এখন ২৮ বছরে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষমা প্রার্থনা ভিনিসিয়ুসের

দলের এমন হতাশাজনক বিদায়ে সমর্থকদের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুকভাঙা কষ্ট নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মূলত ব্রাজিলের এবারের বিশ্বকাপের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যান রদ্রিগো ও এস্তেভাওয়ের মতো দুই তারকা। এরপর টুর্নামেন্টের সময় সেই তালিকায় যোগ হয় রাফিনিয়া ও লুকাস পাকেতার নাম। সেই সঙ্গে নেইমার জুনিয়র তো ছিলই। বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইনজুরিতে ভুগছিলেন তিনি। তারপরও তাকে দলে রাখা হয়েছিল। মাঝে মাঝে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। তবে দলে খুব বেশি অবদান রাখতে পারেননি।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় হতাশ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

এত ঝাঁক নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের পুরো চাপটা এসে পড়েছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাঁধে। সেই গুরুদায়িত্ব তিনি ভালোভাবে পালন করেছেন ঠিকই, তবে তা যথেষ্ঠ ছিল না। ব্রাজিলের খেলা পাঁচ ম্যাচে তিনি চার গোল করেছেন, একটা গোলে সহায়তা করেছেন। শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে তেমন কিছু করতে পারেননি। বরং আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল দেখতে হয়েছে। একটা গোল অবশ্য পরিশোধ করেছিল ব্রাজিল। কিন্তু তা ম্যাচের শেষ সময়ে, ফলে তা ফল নির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখেনি। ফলে দলকে বিদায় নিতে হয়। সে ধাক্কা কাটিয়ে চারদিন পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

ভিনিসিয়ুস যা লিখেছেন

নিজের পোস্টে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র লিখেছেন, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের বিষয়। আর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ছিটকে যাওয়া বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমাদের আরও দূরে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। আমি আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। দলকে বিশ্বসেরা বানানোর জন্য আমরা লড়াই করে যাব।’