Home Blog Page 125

ব্যর্থতা সত্ত্বেও আনচেলোত্তির ওপর আস্থা ব্রাজিলের

বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্যর্থ হওয়া বেশিরভাগ ফুটবল কোচের একটাই ঠিকানা হয়- বিদায়। তবে ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও কোচ কার্লো আনচেলোত্তির ওপর আস্থা রাখছে তারা।

বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। এ নিয়ে ২০০২ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি টানা ষষ্ঠ আসরে ব্যর্থতা সঙ্গী করে বিদায় নিয়েছে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, আগামী বিশ্বকাপ অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন আনচেলোত্তি।

শান্ত থাকার আহ্বান

ব্রাজিলের বিদায়ের পর জাতীয় দলের সমম্বয় রদ্রিগো কায়েতানো বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য্য ধরে নতুন চক্র শুরু করা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া। এখন আমাদের শান্তভাবে কাজ চালিয়ে নিতে হবে। কোচের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এক সঙ্গে থাকার যে পরিকল্পনা রয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। অবশ্যই প্রয়োজনীয় কিছু পরিবর্তন ও মূল্যায়ন করা হবে। তবে আমাদের সামনে এগুতে হলে কিছুটা স্থিরতা দরকার।

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি

গত বছর দায়িত্ব নেন আনচেলোত্তি

২০২৫ সালের মে মাসে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন ৬৭ বছর বয়সী আনচেলোত্তি। চলতি বছরের মে মাসেই তার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩০ পর্যন্ত করা হয়। পরিস্কার এক লক্ষ্য ছিল ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের। আনচেলোত্তিকে দুঃশ্চিন্তা মুক্ত থাকার ব্যবস্থা করা। তার অভিজ্ঞ নেতৃত্বে ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দেবেন এমনই ছিল আশা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়নি। বরং ১৯৬৬ সালের পর সবচেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল সেলেসাওরা। এবার শেষ ষোলোর গণ্ডি পার হতে পারেনি।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হতাশার চিত্র তুলে ধরে কায়েতানো বলেন, আমরা এখনো এই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, পুরো দল-সবাই ভীষণ দুঃখিত, হতাশ। সবাই খুব ভেঙে পড়েছে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ব্রাজিল

ব্যর্থতার মাঝেও কোয়েতানো কিছু ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপজুড়ে খেলোয়াড়দের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব ছিল প্রশংসনীয়। এই ৩৮ দিনে আমরা খেলোয়াড়দের যে প্রতিশ্রুতি, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব দেখেছি, সেটিকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমরা এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকবা। আশা করছি এই ব্যর্থতা আগামী দিনের সাফল্যের প্রেরণা হয়ে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর পরীক্ষা দারুণভাবে উতড়ে গেল বেলজিয়াম। সিয়েটলের লুমেন ফিল্ডে বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে তারা ৪-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দল হিসেবে তারা শেষ আটে পৌঁছেছে। আগামী ১০ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম স্পেনের মুখোমুখি হবে।

৪-১ গোলের বিশাল জয়ে বেলজিয়ামের হয়ে গোল করেছেন চার্লেস ডি কেতেলায়েরা, হ্যান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকু। কেতেলায়েরা জোড়া গোল করেন। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ব্যবধান কমান মালিক টিলমান।

তিন স্বাগতিকের বিদায়

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের মাঝ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশেরই বিদায় হয়ে গেল। এর আগে কানাডা ও মেক্সিকো বিদায় নেয়।

এ ম্যাচের আগে শেষ ষোলোর অন্য এক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও পর্তুগাল। নাটকীয় জয়ে স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ১-০ গোলে জয় স্পেনের। নির্ধারিত সময়ের খেলার ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে স্পেনের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মাইকেল মেরিনো। স্পেনের জয়ের মাঝ দিয়ে বিদায় হয় পর্তুগালের। কান্নাজড়িত চোখের জলে বিদায় নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

বিশ্বকাপে এখন তিন কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন আপ চূড়ান্ত হয়েছে। ফ্রান্স খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে। নরওয়ের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আর স্পেন পেয়েছে বেলজিয়ামকে। কোয়ার্টার ফাইনালের অন্য ম্যাচে জায়গা করে নেওয়ার জন্য লড়ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, মিসর, সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া। আজ রাতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলবে মিসর। সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া।

গোলের পর রোমেলু লুকাকু

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বেলজিয়াম। বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। প্রথমার্ধেই তার সুফল পেয়ে যায় বেলজিয়ানরা। বিরতিতে যাওয়ার আগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।

উজ্জ্বল তারকা কেতেলায়েরা

ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা ছিলেন চার্লেস ডি কেতেলায়েরে। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জোড়া গোল করে দলের বড় জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তাঁর গতি, পজিশনিং ও গোল করার দক্ষতার সামনে অসহায় দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল স্বাগতিকরা। নিজেদের দর্শকদের সামনে আক্রমণের গতি বাড়ালেও বেলজিয়ামের সুসংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কাছে বারবার আটকে যায় তারা। বরং সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও দুটি গোল করে ব্যবধান ৪-১-এ নিয়ে যায় বেলজিয়াম। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনই নিশ্চিত করে স্বাগতিকদের বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি।

টিভিতে আজকের খেলা ৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে আজ শেষ ষোলোতে মিসরের মুখোমুখি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পরের ম্যাচে সুইজারল্যান্ড খেলবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে।

বিশ্বকাপ ফুটবল: শেষ ১৬
যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম
সকাল ৬টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

আর্জেন্টিনা-মিসর
রাত ১০টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া
রাত ২টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

টেনিস
উইম্বলডন
কোয়ার্টার ফাইনাল
বিকেল ৪টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

ক্রিকেট
৩য় টি-টুয়েন্টি
ইংল্যান্ড-ভারত
রাত ১০-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১

তিন ম্যাচ আগেও বিশ্বকাপসেরা, আজ দলেই নেই সঞ্জু

0

মাত্র তিন ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হিসাবে খুব বড় কোনো সময় নয়। অথচ এই তিন ম্যাচই বদলে দিতে পারে একজন ক্রিকেটারের অবস্থান, বদলে দিতে পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। সঞ্জু স্যামসনের সাম্প্রতিক ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে ভারতের হয়ে সঞ্জুর ব্যাট থেকে আসে ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯ রানের তিনটি দুর্দান্ত ইনিংস। ফাইনালেও খেলেন ম্যাচজয়ী ইনিংস। পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন ভারতের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটারদের একজন এবং টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।

কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ছবিটা বদলাতে সময় লাগেনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে টানা তিন ইনিংসে ব্যর্থ হন সঞ্জু। রান করেন যথাক্রমে ৫, ০ ও ১।

এরপরই আসে বড় সিদ্ধান্ত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির একাদশে জায়গা পাননি তিনি। তার বদলে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীর।

বৈভবের দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে খুব একটা বিতর্ক নেই। আইপিএলে তার ব্যাটিং, ভয়ডরহীন মানসিকতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে অনেক আগেই আলোচনায় এনে দিয়েছিল। ভারতের ভবিষ্যৎ হিসেবে তাকে দেখা হচ্ছিল। তবে প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। সুযোগটা কেন এল ঠিক সেই ক্রিকেটারের জায়গায়, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন?

ভারতের টপ অর্ডারেও খুব বেশি পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মা দারুণ ছন্দে, তিন নম্বরে খেলছেন ঈশান কিষাণ। ফলে নতুন কাউকে জায়গা দিতে হলে কাউকে না কাউকে সরে দাঁড়াতেই হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই নামটি হয়ে গেল সঞ্জু স্যামসন।

এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররাও। সঞ্জয় মাঞ্জরেকার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, প্রথমে তার মনে হয়েছিল স্যামসন হয়তো চোট পেয়েছেন। কারণ মাত্র তিনটি ব্যর্থ ইনিংসের পর তাকে বাদ দেওয়া তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। আম্বতি রায়ডুও মনে করিয়ে দিয়েছেন, মাত্র তিন ম্যাচ আগেই যিনি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন, তাকে এত দ্রুত ভুলে যাওয়া সহজ নয়।

খেলাধুলার বাস্তবতা অবশ্য এমনই। এখানে অতীতের অর্জন সম্মান এনে দেয়, কিন্তু ভবিষ্যতের জায়গা নিশ্চিত করে না। প্রতিটি সিরিজ, প্রতিটি ম্যাচ, এমনকি প্রতিটি ইনিংস নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ।

বৈভব সূর্যবংশীর অভিষেকের দিনে ভারতীয় ক্রিকেট নতুন এক তারকার আগমনে উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসনের জন্য এটি হয়তো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বারবার দেখিয়েছে, বড় খেলোয়াড়দের গল্প শেষ হয়ে যায় না একটি ব্যর্থ অধ্যায়ে। এখন দেখার বিষয়, এই ধাক্কা সামলে সঞ্জু আবারও নিজের গল্প নতুন করে লিখতে পারেন কি না।

পেনাল্টি না নিয়ে ভিনিসিয়ুস কি দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়েছেন?

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন, দলের সেরা ফর্মে থাকা পেনাল্টি স্পেশালিস্ট ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজে শট না নিয়ে কেন ব্রুনো গুইমারেসকে বল ছেড়ে দিলেন? ভিনিসিয়ুস কি চাপের মুখে দায়িত্ব ছেড়ে পালালেন?

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে এই প্রশ্নের উত্তর দেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ছেলে তথা দলের সহকারী কোচ ডেভিড আনচেলত্তি। সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন:

“এখানে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নেই। ম্যাচের আগেই আমাদের রণকৌশল সাজানো হয়েছিল এবং এটি নির্ধারিত ছিল যে পেনাল্টি পেলে ব্রুনো গুইমারেসই প্রথম শটটি নেবেন। ভিনিসিয়ুস কেবল দলের সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা মেনে চলেছেন। ফুটবলে পেনাল্টি মিস হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। আজ আমাদের ভাগ্য খারাপ ছিল, তাই মিস হয়েছে।”

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ভিনিসিয়ুস দায়িত্ব এড়াননি, বরং একজন সুশৃঙ্খল ‘টিম প্লেয়ার’ হিসেবে কোচের পূর্বপরিকল্পনাকে সম্মান জানিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখিয়েছেন তিনি।

মাঠে যা ঘটেছিল: ভিএআর নাটক ও পেনাল্টি মিস

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে লড়ছিল। প্রথমার্ধের ১৪তম মিনিটে ব্রাজিলের ম্যাথিউস কুনিয়া বল নিয়ে নরওয়ের ডি-বক্সে ঢুকে পড়লে তাঁকে লক্ষ্য করে একটি স্লাইডিং ট্যাকল করেন নরওয়ের ডিফেন্ডার। প্রথমে রেফারি ফাউলের বাঁশি না বাজালেও, ব্রাজিলের ফুটবলারদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর সাহায্য নেন। রিপ্লে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

বল হাতে ভিনিসিয়ুস যখন স্পটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস তাঁর কাছে আসেন। ভিনিসিয়ুস বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বলটি তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বক্সের বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ান। গুইমারেস তাঁর চেনা ভঙ্গিতে ‘স্টাটার-স্টেপ’ (থেমে থেমে দৌড়ানো) নিয়ে শট নিলেও নরওয়ের গোলরক্ষক ওরজান নিল্যান্ড ভুল করেননি। তিনি বাম দিকে চমৎকার ডাইভ দিয়ে বলটি রুখে দেন।

টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপের মূল সময়ে ব্রাজিলের পেনাল্টি মিস করার ঘটনা ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম। এই একটি মিস পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। এরপর একের পর এক আক্রমণ করেও নরওয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিল না সেলেসাওরা।

নেইমারের রেকর্ড ও অধরা ‘হেক্সা’ মিশন

ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে দলের আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে চোট কাটিয়ে ফেরা অভিজ্ঞ তারকা নেইমারকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (স্টপেজ টাইম) ব্রাজিল আরেকটি পেনাল্টি পেলে এবার আর কোনো ভুল হয়নি। নেইমার ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান।

এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলের মহানায়ক পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলীয় হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন নেইমার। কিন্তু তাঁর এই ঐতিহাসিক রেকর্ডও ব্রাজিলের বিদায়ের বিষাদকে কমাতে পারেনি। ১৯৯০ বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিদায় নেওয়ার পর, এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল ব্রাজিল।

১৯৯৪ সালে যখন শেষবার যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, সেবার ট্রফি জিতেছিল ব্রাজিল। ২০০২ সালে তারা ঘরে তোলে পঞ্চম বিশ্বকাপ। এরপর থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ষষ্ঠ শিরোপা বা ‘হেক্সা’ জয়ের মিশন ব্রাজিলের জন্য কেবলই এক দূর আকাশের তারা হয়ে রইল। কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে আরও চার বছরের জন্য দ্বিতীয় guessing (অনুশোচনা) আর আফসোসের সাগরে ডুবল সাম্বার দেশ।

১৪১ রানও তাড়া করতে পারল না বাংলাদেশ, নাহিদের ৬ উইকেট ম্লান করে জিম্বাবুয়ের জয়

0

ওয়ানডে ম্যাচে মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন লক্ষ্য সাধারণত বড় কোনো পরীক্ষা নয়। কিন্তু হারারেতে সেটিই বাংলাদেশের জন্য হয়ে দাঁড়াল দুর্ভেদ্য পাহাড়। নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে দেড়শর আগেই গুটিয়ে দেওয়ার পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২৫ রানের হতাশাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের। ফলে ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানেই অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। দলের সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে নিউম্যান নিয়ামুরির ব্যাট থেকে। জবাবে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম। ৬ বলে ৮ রান করেন তিনি। আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারও ব্যর্থ হন, ১০ বলে করেন মাত্র ৬ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দায়িত্ব ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে। কিন্তু তিনিও হতাশ করেন। মাত্র ৭ বলে ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

১৭ রানেই ৩ উইকেট হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৪৯ রানের জুটি ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিল। হৃদয় ৫৮ বলে ২৫ রান করে আউট হলে সেই জুটি ভেঙে যায়। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৭ বলে ৩ রান করে ফিরে যান। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ইনিংস বড় করতে পারেননি, তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।

এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। ৪৪ বলে ৩১ রান করে তিনিও ফিরে গেলে বাংলাদেশের প্রতিরোধ শেষ হয়ে যায়। শেষদিকে আর কোনো ব্যাটার দাঁড়াতে না পারায় ১১৬ রানেই থামে সফরকারীদের ইনিংস।

এর আগে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত থ্রোতে বেন কারানের রান আউটের মাধ্যমে। পরের বলেই তাসকিন আহমেদের শিকার হন ব্রায়ান বেনেট। এরপর প্রথম বলেই ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে স্বাগতিকদের আরও চাপে ফেলেন এই পেসার।

এরপর বল হাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন নাহিদ রানা। তার গতি ও বাউন্সে একে একে ফিরেছেন সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদানধে ও ইনোসেন্ট কাইয়া। ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে তখন একশর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায়।

সেই অবস্থায় নবম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামুরি ৬৩ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। ২৭ রান করা এনগারাভাকে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ। ইনিংসে এটিই ছিল তার ষষ্ঠ উইকেট। ১৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি নাহিদের তৃতীয় পাঁচ উইকেট শিকার এবং ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে তার চেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে শুধু মোস্তাফিজুর রহমানের।

তবে নাহিদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংও শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসেনি। ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে না পেরে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

ইংল্যান্ড ও নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনাল – এক টিকিটের দাম ৮০ লাখ ডলার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের ৩-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ের পর এই ম্যাচের টিকিটের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি এখন চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে পরিণত হয়েছে।

চাহিদার এই তীব্র বৃদ্ধির কারণে টিকিটের পুনঃবিক্রয় (রিসেল) মূল্য অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফিফার অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মে কিছু টিকিটের দাম ৬০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৮০ লাখ ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, গ্যালারির সবচেয়ে সস্তা আসনের টিকিটের দামও এখন ১,৭০০ পাউন্ডের (প্রায় ২,৩০০ ডলার) ওপরে। স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার স্বপ্ন দেখা সাধারণ সমর্থকরা এখন টিকিটের এই রেকর্ডভাঙা দাম দেখে হাহাকার করছেন।

মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

এস্তাদিও আজতেকায় মেক্সিকোর বিপক্ষে একটি থ্রিলার ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। ম্যাচে জুড বেলিংহাম দুর্দান্ত দুটি গোল করেন এবং হ্যারি কেইন পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল যোগ করেন। স্বাগতিক মেক্সিকোর শেষ মুহূর্তের জোরালো আক্রমণ রুখে দিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে টমাস টুখেলের শিষ্যরা।

কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে, যারা শেষ ষোলোর ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছে। নরওয়ের হয়ে দু’টি গোলই করেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড। আগামী শনিবার মিয়ামিতে এই হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হবে, যা যুক্তরাজ্য সময় রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর রাত তিনটায়) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম

সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ইউরোপের দুই পরাশক্তি মুখোমুখি হওয়ায় টিকিটের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। ফিফার অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মে ‘ক্যাটাগরি ১’-এর দুটি টিকিট রেকর্ড ৬০,৩২,৭১০ পাউন্ডে (প্রায় ৮.০৫ মিলিয়ন ডলার) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, ‘ব্লক ১০৬’-এর এই আসনগুলো কিন্তু মাঠের একেবারে কাছাকাছিও নয়।

যারা কিছুটা কম দামে টিকিট খুঁজছেন, তাদেরও পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড়। বর্তমানে সবচেয়ে কমদামী ‘ক্যাটাগরি ২’ আসনের একটি টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ১,৭২৩ পাউন্ড (প্রায় ২,৩০০ ডলার)। আসনের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে দামের তারতম্য হলেও, প্রতিটি টিকিটের জন্যই গুনতে হচ্ছে চড়া প্রিমিয়াম।

সেমিফাইনালের টিকিটও চড়া

ইংল্যান্ড যদি নরওয়েকে হারাতে পারে, তবে সেমিফাইনাল খেলতে তারা আটলান্টায় যাবে। সম্ভাব্য সেই ম্যাচের টিকিটের দামও এখনই চড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে সেমিফাইনালের রিসেল টিকিটের মূল্য ২,৭০০ পাউন্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬,০০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।

ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ড: এই নিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাল থ্রি লায়ন্সরা, যা ২০১৮ সাল থেকে তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রমাণ। তবে গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

মেক্সিকো জয় অতীত, ফোকাস এখন নরওয়েতে

মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের উদযাপনের মধ্যেই দলের অন্যতম তারকা জুড বেলিংহাম সতীর্থদের দ্রুত নরওয়ে ম্যাচের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও নকআউট পর্বে তারা কেবল একটি ম্যাচই জিতেছেন। বেলিংহাম বলেন:

“নরওয়ে দলে বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে যাদের সম্পর্কে আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। তারা মেক্সিকোর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। মেক্সিকোর বিপক্ষে এই স্মরণীয় জয়টি অল্প সময়ের জন্য উপভোগ করে আমাদের এখন পুরোপুরি কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।”

ভিনিসিয়ুসের বদলে ব্রুনো গুইমারেস কেন পেনাল্টি নিলেন? ভক্তদের প্রশ্ন

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের হাতে বল ছিল, পেনাল্টি স্পটের সামনে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলকে লিড এনে দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি বলটি বাড়িয়ে দিলেন ব্রুনো গুইমারেসের দিকে। ম্যাচের শেষভাগে নেইমার যখন ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করলেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তখন আর কিছুই করার ছিল না।

ব্রুনো গুইমারেস

রবিবার বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই সেলেসাওদের সবচেয়ে দ্রুততম বিদায়। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের নেওয়া পেনাল্টি শটটি আটকে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরজান নিল্যান্ড। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্ত (স্টপেজ টাইম) পর্যন্ত নরওয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ব্রাজিল।

ম্যাচ শেষে এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ছেলে তথা দলের সহকারী কোচ ডেভিড আনচেলত্তি। মিক্সড জোনে তিনি বলেন:

“ম্যাচের আগেই এটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে পেনাল্টি পেলে ব্রুনো গুইমারেস শট নেবেন। ফুটবলে পেনাল্টি মিস হতেই পারে। আজ সেটিই হয়েছে।”

তবে কোচের এই ব্যাখ্যা ব্রাজিলের সমর্থকদের মনে ক্ষোভ আর প্রশ্ন দু’টিই বাড়িয়ে দিয়েছে। বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনিয়াকে স্লাইডিং ট্যাকল করা হলে প্রথমে ফাউল দেওয়া হয়নি। কিন্তু ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসে।

চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে চার গোল করে ব্রাজিলের সবচেয়ে ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বল প্রথমে তাঁর হাতেই ছিল এবং সবাই ভেবেছিল তিনিই শট নেবেন। কিন্তু নাটকীয়ভাবে গুইমারেস এগিয়ে এলে ভিনিসিয়াস তাঁর হাতে বল তুলে দেন। এরপর গুইমারেসের নেওয়া ‘স্টাটার-স্টেপ‘ (থেমে থেমে নেওয়া) শটটি বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্তভাবে রুখে দেন নরওয়েজিয়ান কিপার নিল্যান্ড।

টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পেনাল্টি মিস করার ঘটনা ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম।

ম্যাচের অন্যান্য হাইলাইটস:

  • ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে অতিরিক্ত আক্রমণের জন্য মাঠ নামানো হয় অভিজ্ঞ তারকা নেইমারকে।
  • শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের পক্ষে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করে পেলে-র পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েন নেইমার।
  • তবে এই গোল সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিদায় নেওয়ার পর, এবারই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই ছিটকে গেল ব্রাজিল।

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন শেষবার বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। ২০০২ সালে তারা জিতেছিল পঞ্চম শিরোপা। তবে এরপর থেকে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের মিশন কেবলই এক অধরা স্বপ্ন হয়ে রইল সেলেসাওদের জন্য। আগামী চার বছর এই একটি পেনাল্টি মিসের আফসোস তাড়িয়ে বেড়াবে পুরো ব্রাজিল দলকে।

নাহিদের দেশ সেরা বোলিংয়ে ১৪১ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে

0

জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে হতাশাজনক হারের পর সাদা বলের ক্রিকেটে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার হারারেতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে মাত্র ১৪১ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৬.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে তারা।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। মাত্র ২১ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে গড়েছেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। অন্যদিকে তাসকিন আহমেদও নতুন বলে দারুণ ছন্দে ছিলেন এবং শুরুতেই জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলে দেন।

জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার বেন কারান ও ব্রায়ান বেনেট সতর্ক শুরু করেছিলেন। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩৬ রান। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউট হন কারান। পরের বলেই তাসকিনের শিকার হন বেনেট। এরপর প্রথম বলেই অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন এই ডানহাতি পেসার।

এরপর পুরো ইনিংসে আধিপত্য দেখান নাহিদ রানা। তার গতি ও অতিরিক্ত বাউন্স সামলাতে ব্যর্থ হন সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদানধে ও ইনোসেন্ট কাইয়াসহ জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। রাজা মাত্র ১ রান করে, মাধেভেরে রানের খাতা না খুলেই এবং মাদানধে ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

এক পর্যায়ে ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে একশর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে নবম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামুরি ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন। এনগারাভা ২৭ রান করে আউট হলেও নিউম্যান নিয়ামুরি সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন।

শেষ পর্যন্ত এনগারাভাকেও বোল্ড করে ইনিংসে নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন নাহিদ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ম্যাচেই এটি তার তৃতীয় পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সর্বাধিক পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় এখন তার ওপরে আছেন শুধু মোস্তাফিজুর রহমান।

টেস্টের হতাশা কাটিয়ে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের এমন দাপুটে সূচনা দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নামবে টাইগাররা, যেখানে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তাদের সামনে।

‘পর্তুগালের নয়, বিশ্বের সেরা মাঝমাঠ স্পেনের’ দাবি রদ্রির

‘পর্তুগালের নয়, বিশ্বের সেরা মাঝমাঠ স্পেনের’দাবি রদ্রির।  স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি মনে করেন, পর্তুগালের তারকাখচিত মিডফিল্ড যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বিশ্বের সেরা মাঝমাঠ এখন স্পেনেরই। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার আগে এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন তিনি।

ডালাসের কটন বোল স্টেডিয়ামে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রদ্রি বলেন, পর্তুগাল তাদের অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ। দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরকে ভালোভাবে চেনেন এবং প্রতিপক্ষের সামর্থ্য সম্পর্কে স্পেনের পূর্ণ ধারণা রয়েছে। তার মতে, বর্তমান পর্তুগাল দল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রজন্ম।

তবে প্রতিপক্ষকে সম্মান জানালেও নিজের দলের ওপরই আস্থা রাখছেন স্পেন অধিনায়ক। রদ্রির ভাষায়, “আমার মতে বিশ্বের সেরা দল এবং সেরা মাঝমাঠ আমাদেরই। পর্তুগালের দলে অসাধারণ সব তারকা রয়েছে, তারা দল হিসেবেও দারুণ খেলে। কিন্তু আমরা প্রমাণ করতে চাই, আমাদের দলই আরও ভালো।”

স্পেনের মাঝমাঠে রয়েছেন পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইস ও অ্যালেক্স বায়েনার মতো সৃজনশীল ফুটবলার। অন্যদিকে পর্তুগালের শক্তি ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্দেস, রুবেন নেভেস ও বের্নার্দো সিলভাদের নিয়ে গড়া অভিজ্ঞ মিডফিল্ড। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দুই দলের মাঝমাঠের লড়াইই হতে পারে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

গত বছর উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে দুই দলের সর্বশেষ দেখায় ২-২ সমতার পর টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। তবে চলতি বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের বিচারে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তাদের জালে কোনো গোল ঢোকেনি। শেষ ষোলোর আগে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে তারা। বিপরীতে পর্তুগালকে শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কঠিন লড়াই করে জয় পেতে হয়েছে।

রদ্রি বিশ্বাস করেন, নকআউট পর্বেই স্পেন তাদের সেরা ফুটবল খেলবে। তিনি বলেন, “আমরা আরও ভালো খেলতে পারি। এমন টুর্নামেন্টে কখন সেরাটা দিতে হয়, সেটা আমরা জানি। গ্রুপ পর্ব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু এখন নকআউটে স্পেনের আসল শক্তি দেখা যাবে।”

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও একই সুরে কথা বলেছেন। তার মতে, পর্তুগাল দুর্দান্ত দল হলেও বিশ্বের সেরা দল স্পেন। তিনি বলেন, দুই দলের খেলার ধরনে অনেক মিল রয়েছে। তাই ম্যাচে ছোট ছোট মুহূর্ত এবং খুঁটিনাটি বিষয়ই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন। সমালোচনা থাকলেও তিনি জানিয়েছেন, নিজেকে এখন পুরোপুরি ফিট মনে হচ্ছে এবং পর্তুগালের বিপক্ষে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।