ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের হাতে বল ছিল, পেনাল্টি স্পটের সামনে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলকে লিড এনে দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি বলটি বাড়িয়ে দিলেন ব্রুনো গুইমারেসের দিকে। ম্যাচের শেষভাগে নেইমার যখন ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করলেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তখন আর কিছুই করার ছিল না।

রবিবার বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই সেলেসাওদের সবচেয়ে দ্রুততম বিদায়। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের নেওয়া পেনাল্টি শটটি আটকে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরজান নিল্যান্ড। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্ত (স্টপেজ টাইম) পর্যন্ত নরওয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ব্রাজিল।
ম্যাচ শেষে এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ছেলে তথা দলের সহকারী কোচ ডেভিড আনচেলত্তি। মিক্সড জোনে তিনি বলেন:
“ম্যাচের আগেই এটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে পেনাল্টি পেলে ব্রুনো গুইমারেস শট নেবেন। ফুটবলে পেনাল্টি মিস হতেই পারে। আজ সেটিই হয়েছে।”
তবে কোচের এই ব্যাখ্যা ব্রাজিলের সমর্থকদের মনে ক্ষোভ আর প্রশ্ন দু’টিই বাড়িয়ে দিয়েছে। বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনিয়াকে স্লাইডিং ট্যাকল করা হলে প্রথমে ফাউল দেওয়া হয়নি। কিন্তু ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসে।
চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে চার গোল করে ব্রাজিলের সবচেয়ে ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বল প্রথমে তাঁর হাতেই ছিল এবং সবাই ভেবেছিল তিনিই শট নেবেন। কিন্তু নাটকীয়ভাবে গুইমারেস এগিয়ে এলে ভিনিসিয়াস তাঁর হাতে বল তুলে দেন। এরপর গুইমারেসের নেওয়া ‘স্টাটার-স্টেপ‘ (থেমে থেমে নেওয়া) শটটি বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্তভাবে রুখে দেন নরওয়েজিয়ান কিপার নিল্যান্ড।
টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পেনাল্টি মিস করার ঘটনা ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম।
ম্যাচের অন্যান্য হাইলাইটস:
- ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে অতিরিক্ত আক্রমণের জন্য মাঠ নামানো হয় অভিজ্ঞ তারকা নেইমারকে।
- শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের পক্ষে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করে পেলে-র পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েন নেইমার।
- তবে এই গোল সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিদায় নেওয়ার পর, এবারই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই ছিটকে গেল ব্রাজিল।
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন শেষবার বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। ২০০২ সালে তারা জিতেছিল পঞ্চম শিরোপা। তবে এরপর থেকে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের মিশন কেবলই এক অধরা স্বপ্ন হয়ে রইল সেলেসাওদের জন্য। আগামী চার বছর এই একটি পেনাল্টি মিসের আফসোস তাড়িয়ে বেড়াবে পুরো ব্রাজিল দলকে।


