Home Blog Page 13

ইমরানের পাশে দাঁড়ালেন ওয়াসিম আকরাম

0

কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। ইমরানের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রাজনীতির বাইরে ইমরানকে নিজের বন্ধু ও মেন্টর হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে মিস করার কথাও বলেছেন আকরাম।

‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ইমরানের সঙ্গে প্রায় তিন বছর তাঁর কথা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিষয়কে এক পাশে রেখে বন্ধুর স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

আকরাম বলেন, ‘তিনি আমার বন্ধু, আমি তাঁকে অনেক মিস করি। তাঁর সঙ্গে তিন বছর কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে তাঁর সঙ্গে যা ঘটছে, তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আদালতের আইন আদালতের আইন। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো আপস করা যায় না।’

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী আছেন ইমরান। দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে তাঁর। তবে ইমরান ও তাঁর দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত মাসে তাঁর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন দেশটির ২২ জন সাবেক অধিনায়ক। চিঠিতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

বর্তমান অধিনায়কদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সও ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারাও ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানান। তিনি ইমরানকে ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তি উল্লেখ করে ন্যূনতম মানবিক আচরণ পাওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

ইমরানের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, মঈন খান ও রমিজ রাজাও। অশ্রুসিক্ত এক আবেদনে ইমরানের মুক্তি দাবি করার পাশাপাশি সরকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার মতপার্থক্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন মিয়াঁদাদ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন লাঞ্চ বিরতিতে স্কাই স্পোর্টসে ইমরানের দুই ছেলে সুলেইমান খান ও কাশিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। সেখানে তাঁরা বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে স্কাই স্পোর্টসের কাছে অভিযোগ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তান দল মাঠে না নামার কথাও বিবেচনা করেছিল বলে খবর আসে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচটি খেলেছে পাকিস্তান এবং ১৯৪ রানে হেরেছে।

ওই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আকরাম বলেন, ‘এরপর এখানে (পাকিস্তানে) কিছুটা শোরগোল পড়ে যায়। পরে পড়েছি, পাকিস্তান সরকার ইমরানের সঙ্গে কতজন দেখা করেছেন, কতগুলো ফোনকল হয়েছে—সব সংখ্যাসহ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে আসলে কী বিশ্বাস করব, সেটা বোঝা কঠিন।’

ইমরানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন আকরাম। তিনি বলেন, ‘অবসর নেওয়ার পরও আমরা দুজন নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। আমি তাঁর সঙ্গে সময় কাটাতে যেতাম। তাঁর সঙ্গে কথা বলা মিস করি। রাজনীতি বাদ দিলে, একজন বন্ধু হিসেবে তাঁকে মিস করি।’

আকরামের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ইমরানের। আকরাম প্রায়ই ইমরানকে নিজের মেন্টর হিসেবে কৃতিত্ব দেন। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরানের নেতৃত্বে খেলেছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাকিস্তানের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ফাইনালে ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন আকরাম।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগের সূত্রপাত আদালতের একটি নির্দেশকে ঘিরে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তাঁকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

ইমরানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাই জানিয়েছেন আকরাম। তাঁর ভাষায়, ‘একজন মানুষ হিসেবে তাঁকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আমি হৃদয় থেকে কথা বলছি। তিনি দোষী সাব্যস্ত হন বা না হন, জেলে থাকুন বা না থাকুন-তাঁর স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কী ঘটছে, আমরা জানি না। সরকার বলছে, তাঁর স্বাস্থ্য নাকি ভালো। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন। আমি তাঁকে অনেক মিস করি।’

ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিয়ে আশাবাদী নিগার

0

আবারও সেমিফাইনালে ভারত। আবারও বাংলাদেশের সামনে কঠিন এক পরীক্ষা। উইমেন’স এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ কঠিন হলেও হাল ছাড়তে রাজি নন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব-এমন বিশ্বাসই তাঁর।

এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে নিগার জানিয়েছিলেন, সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হতে চান না তারা। তবে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যাওয়ার পর সমীকরণটা বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে ভারতের সামনে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অবশ্য কিছুটা শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের সেমিফাইনাল ভাগ্যও। একপর্যায়ে ১২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের রান ছিল মাত্র ৫৫। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার শারমিন আক্তার। ৩১ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে নাহিদ আক্তারের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ৪২ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাতে ২০ ওভারে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ১০৩ রান।

ছোট এই পুঁজিকেই পরে যথেষ্ট করে তোলেন বাংলাদেশের বোলাররা। নতুন বলে মারুফা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। এরপর স্পিনাররাও নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করেন। রাবেয়া খান ১৪ রানে ৩ উইকেট, সুলতানা খাতুন ১০ রানে ১ উইকেট এবং ফাহিমা খাতুন ১৬ রানে ১ উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ১৬ রান করার পর বল হাতে ১৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন নাহিদা আক্তার।

বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে ২০ ওভারে ৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি সংযুক্ত আরব আমিরাত। ৩৪ রানের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে নিগাররা।

তবে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক স্মৃতি খুব একটা সুখকর নয়। সর্বশেষ এশিয়া কাপেও গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ১০ উইকেটে হেরেছিল তারা। ২০২৩ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও ভারতের কাছে থেমে যেতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ২০১৮ এশিয়া কাপের ঐতিহাসিক সাফল্য ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিপক্ষে বড় মঞ্চে বারবারই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

তবু অতীতের ফলাফল নিয়ে পড়ে থাকতে চান না নিগার। তাঁর কাছে সেমিফাইনালের দিন নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিগার বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা (ভারত) খুব ভালো দল ও খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব আমাদের সেরা পারফরম্যান্স ওই দিনটিতে মেলে ধরার। তা করতে পারলে দিন শেষে ফলাফল মিলবেই। আমরা স্রেফ আমাদের শতভাগ উজাড় করে দিতে চাই এবং মাঠে নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে চাই।’

ভারতের বিপক্ষে সেই কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ নামবে বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে। অন্য সেমিফাইনালে শুক্রবার মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে রোববার।

জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে নারী দলের টানা চার জয়

0

হংকং চায়নাকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিল বাঘিনীরা

চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার মোকি শহরে চলমান অনূর্ধ্ব-২১ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ নারী হকি দল। টুর্নামেন্টে নিজেদের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী হংকং চায়নাকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

মোকির মরিন দাওয়া স্টেডিয়ামে, ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশের মেয়েরা। একের পর এক আক্রমণে তারা হংকংয়ের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে। ম্যাচের ৯ মিনিটে প্রথম সাফল্য আসে। পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক গোলে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন দলের অধিনায় শারিকা রিমন।

এরপর শুরু হয় মাঠের বাকি খেলোয়াড়দের ফিল্ড গোলের মহোৎসব। ১৯ মিনিটে আইরিন আক্তার রিয়ার চমৎকার এক ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। আক্রমণের ধার বজায় রেখে ২৬ মিনিটে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন কনা আক্তার। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই আধিপত্য বজায় রাখে বাঘিনীরা। ৩১ মিনিটে দলের চতুর্থ গোলটি করেন মোসাম্মত লিমা। এর ঠিক দুই মিনিট পর, ৩৩ মিনিটে আইরিন রিয়া নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোল করেন। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে হংকংয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন মোসাম্মত লিমা। এটি ছিল ম্যাচে লিমারও দ্বিতীয় ব্যক্তিগত গোল।

চীনের মাটিতে ৬-০ গোলের এই বিশাল জয় দেশের নারী হকির ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। পুরো টুর্নামেন্টে টানা চার ম্যাচ জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই অবিস্মরণীয় বিজয়ে চ্যালেঞ্জার্স গ্রুপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনসহ ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দলটিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি’র হ্যাটট্রিক মিশনে ১ম প্রতিপক্ষ স্লোভান ব্রাতিস্লাভা

0

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার রাতে স্লোভান ব্রাতিস্লাভার মুখোমুখি হবে পিএসজি। প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হবে। যা সরাসরি সম্প্রচার করবে টিএনটি স্পোর্টস।

দুই দলই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের পথচলা নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছে। পিএসজি এরই মধ্যে এই প্রতিযোগিতায় টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছে। এবার তাদের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশন। সব মিলিয়ে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে এটি তাদের ২০তম অংশগ্রহণ। অন্যদিকে স্লোভান ব্রাতিস্লাভা অংশ নিচ্ছে ষষ্ঠবারের মতো।

তবে ম্যাচের আগে দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে ফরাসি লিগ ওয়ানে মোনাকোর কাছে ২-১ গোলে হেরেছে পিএসজি। অন্যদিকে স্লোভান ব্রাতিস্লাভাও তাদের সর্বশেষ ম্যাচে এফসি ডিএসি ১৯০৪-এর কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে।

তবে পিএসজির জন্য আশার জায়গা হলো, দলটি টানা তিন ম্যাচে গোল করেছে। যদিও একই সঙ্গে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলও হজম করেছে তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয়হীন পিএসজি তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে।

অন্যদিকে স্লোভান ব্রাতিস্লাভার পরিসংখ্যান কিছুটা ইতিবাচক। প্রতিপক্ষের মাঠে শেষ সাত ম্যাচে তাদের হার মাত্র একটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৩ ম্যাচেও হেরেছে মাত্র দুইবার।

মুখোমুখি লড়াই

পিএসজি ও স্লোভান ব্রাতিস্লাভা এর আগে দুইবার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে একবার জয় পেয়েছে পিএসজি। সেই ম্যাচটিও পিএসজি নিজেদের মাঠে খেলেছিলো। অন্য ম্যাচটি ড্র হয়েছিলো।

তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবারই প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। সর্বশেষ দুই দলের সাক্ষাতে পিএসজি ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল।

দলীয় খবর

পিএসজির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপস্থিতি হতে পারেন নুনো মেন্দেস। কার্ড সাসপেনশনের কারণে এই ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না। স্লোভান ব্রাতিস্লাভার পক্ষ থেকে এই ম্যাচের আগে কোনো খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতির তথ্য দেওয়া হয়নি।

মোনাকোর বিপক্ষে পিএসজির সর্বশেষ একাদশে গোলরক্ষক ছিলেন মাতভেই সাফোনভ। রক্ষণে ছিলেন আশরাফ হাকিমি, মারকিনিওস, উইলিয়ান পাচো ও ওয়ারেন জাইর-এমেরি। মাঝমাঠে ছিলেন ভিতিনিয়া, ফাবিয়ান রুইজ ও জোয়াও নেভেস। আক্রমণভাগে ছিলেন ম্যাগনেস আকলিউশ, দেজিরে দুয়ে ও খভিচা কাভারাসখেলিয়া।

স্লোভান ব্রাতিস্লাভার সর্বশেষ একাদশে ছিলেন গোলরক্ষক ডোমিনিক তাকাচ। রক্ষণে সিজার ব্ল্যাকম্যান, কেনান বাজরিচ, কেভিন উইমার ও স্যামুয়েল কোজলোভস্কি। মাঝমাঠে ছিলেন পেতের পোকর্নি, ক্রিস্তিয়ান মার্তিনেজ, তিগরান বারসেঘিয়ান ও দাইকি মাতসুওকা। আক্রমণে ছিলেন আলাসানা ইরাজাং ও আন্দ্রাজ স্পোরার।

লুইস এনরিকের পরিসংখ্যান

পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে এর আগে স্লোভান ব্রাতিস্লাভার বিপক্ষে দুইবার কোচ হিসেবে মুখোমুখি হয়েছেন। সেই দুই ম্যাচে তার রেকর্ড একটি ড্র ও একটি হার। ফলে বুধবারের ম্যাচে স্লোভানকে হারিয়ে ব্যক্তিগত রেকর্ডও বদলাতে চাইবেন স্প্যানিশ এই কোচ।

সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে পিএসজিই ফেভারিট। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গোল হজমের প্রবণতা এবং টানা তিন ম্যাচ জয়হীন থাকা তাদের জন্য সতর্কবার্তা। অন্যদিকে স্লোভান ব্রাতিস্লাভার দুর্দান্ত অ্যাওয়ে রেকর্ড পিএসজির জন্য ম্যাচটিকে সহজ হতে দেবে না। তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন অভিযানে পার্ক দে প্রিন্সেসে পিএসজি কতটা দাপট দেখাতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জর্ডানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল

0

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে নিরাপদে জর্ডানের আম্মানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী জাতীয় ফুটবল দল। জর্ডান অনূর্ধ্ব-১৭ নারী জাতীয় দলের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশের যুবারা। আসন্ন ম্যাচ দুটিকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি।

বাংলাদেশ দল আম্মানে পৌঁছানোর পর কুইন আলিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি উম্মে সালমা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের স্বাগত জানান।

জর্ডান সফরটি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি শক্তিশালী জর্ডান দলের বিপক্ষে ম্যাচ দুটির মাধ্যমে নিজেদের ঘাটতিগুলোও চিহ্নিত করার সুযোগ পাবেন কোচিং স্টাফরা।

জর্ডান অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১০ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। দুই ম্যাচেই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার লক্ষ্যও থাকবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বয়সভিত্তিক দলগুলো ধারাবাহিকভাবে ভালো করার চেষ্টা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় অনূর্ধ্ব-১৭ দলটির জর্ডান সফরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশের মাটিতে শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জর্ডানে পৌঁছে দলের সামনে এখন মূল লক্ষ্য মাঠের প্রস্তুতি। নতুন পরিবেশ, আবহাওয়া ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দ্রুত নিজেদের সেরা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচেই দলগত সমন্বয়, আক্রমণ ও রক্ষণ, সব বিভাগেই নিজেদের উন্নতি যাচাই করতে চাইবে কোচিং স্টাফরা।

অন্যদিকে স্বাগতিক জর্ডানও বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দু’টিকে নিজেদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছে। ফলে আম্মানে দুই দলের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবলের প্রত্যাশা থাকছে।

সব মিলিয়ে জর্ডান সফর বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের জন্য শুধু দুটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাইয়ের বড় সুযোগ। আম্মানে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে বাংলাদেশের তরুণীরা।

বার্সেলোনা-ফেইনুর্ড ম্যাচের আগে বৃষ্টির শঙ্কা

0

বড় পরীক্ষায় ক্যাম্প ন্যুর মাঠ

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইউরোপীয় অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে আবহাওয়া পূর্বাভাস ভাবিয়ে তুলেছে বার্সা কর্তৃপক্ষকে।

কাতালান আবহাওয়া সংস্থা বুধবার সকালে বাইজ লোব্রেগাত ও বার্সেলোনেস এলাকায় ভারী বৃষ্টির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। ছয় মাত্রার সতর্কতা ব্যবস্থায় এটি ৪ নম্বর স্তরের সতর্কতা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাত্র তিন ঘণ্টায় ৯০ লিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো বাতাসের আশঙ্কাও রয়েছে।

আবহাওয়ার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে যা বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। ফলে বার্সেলোনার যুব দলই প্রথম এই বৈরী আবহাওয়ার মুখোমুখি হবে। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় জোহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামে ফেইনুর্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সেলোনার ‘জুভেনাইল এ’ দল। ম্যাচটি দুই দলেরই উয়েফা ইয়ুথ লিগ অভিযান শুরু করবে।

তবে মূল দলের ম্যাচ নিয়ে আপাতত বড় কোনো শঙ্কা নেই। বার্সেলোনা ও ফেইনুর্ডের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচটি শুরু হবে স্প্যানিশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। যা বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১১টায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ততক্ষণে ভারী বৃষ্টির মূল ধাক্কা কেটে যাওয়ার কথা এবং পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে।

তাই বৃষ্টি ম্যাচটি সরাসরি বাধাগ্রস্ত করার সম্ভাবনা কম। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুর মাঠের অবস্থা। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি জমলে স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ পড়তে পারে।

ম্যাচ শুরুর আগে মাঠ প্রস্তুত করার জন্য গ্রাউন্ড স্টাফদের হাতে কয়েক ঘণ্টা সময় থাকবে। এই সময়ে অতিরিক্ত পানি সরিয়ে মাঠকে খেলার উপযোগী করে তোলাই হবে তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে ইউরোপীয় অভিযানের প্রথম ম্যাচে বার্সেলোনার জন্য প্রতিপক্ষের পাশাপাশি প্রকৃতিও হয়ে উঠতে পারে বাড়তি পরীক্ষা। আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে গেলেও ভারী বৃষ্টির পর মাঠ কতটা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে, সেটিই এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার সামনে ফেইনুর্ড : ঘরের মাঠে দাপট দেখাতে প্রস্তুত কাতালানরা

0

ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেনের বার্সেলোনা ও নেদারল্যান্ডসের ফেইনুর্ড। স্পেনের বার্সেলোনার ঐতিহাসিক স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১১টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস-১।

ম্যাচটিকে ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের শক্তির জানান দিতে দুই দলই মাঠে নামবে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমে নিজেদের পথচলাটা দারুণভাবে শুরু করতে চায় বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার পরিকল্পনা থাকবে কাতালান জায়ান্টদের। বিশেষ করে বল দখলে রেখে দ্রুত পাসিং, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগের গতিশীলতার মাধ্যমে ফেইনুর্দের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে চাইবে স্বাগতিকরা।

বার্সেলোনার অন্যতম বড় শক্তি তাদের পাসিং ফুটবল। প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় বলের পেছনে ছুটিয়ে ক্লান্ত করে জায়গা তৈরি করা এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণে ওঠাই হতে পারে তাদের মূল কৌশল। নিজেদের অর্ধে বল হারানোর ঝুঁকি কমিয়ে ধীরে ধীরে ফেইনুর্ডের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করবে তারা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় কিছু করার লক্ষ্য থাকলে শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া বার্সেলোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারানো এড়াতে চাইবে দলটি। তাই ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ফেইনুর্ডও কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করতে রাজি নয়। ডাচ ক্লাবটির প্রধান অস্ত্র হতে পারে আক্রমণাত্মক প্রেসিং এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। বার্সেলোনা যখন আক্রমণে উঠে তাদের ফুলব্যাকদের সামনে পাঠাবে, তখন পেছনে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে ফেইনুর্ড।

ফেইনুর্ড সাধারণত প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে বল দখলের পর দ্রুত আক্রমণে যেতে পছন্দ করে। ফলে বার্সেলোনার পাসিং ছন্দ ভেঙে দিতে পারলে ম্যাচে নিজেদের সুযোগ তৈরি করতে পারবে ডাচ দলটি। বিশেষ করে বার্সেলোনার রক্ষণভাগ ভুল করলে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করাই হবে তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে এগিয়ে থাকবে বার্সেলোনাই। ঘরের মাঠ, সমর্থকদের উপস্থিতি এবং ইউরোপীয় পর্যায়ে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা, সবকিছু মিলিয়ে স্বাগতিকদেরই ফেভারিট হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ফেইনুর্দের লক্ষ্য থাকবে শুরুতে বার্সেলোনার চাপ সামলে ম্যাচকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা।

ম্যাচে মাঝমাঠের লড়াইটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বার্সেলোনা যদি সেখানে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে ফেইনুর্দকে দীর্ঘ সময় রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকতে হতে পারে। বিপরীতে ডাচ দলটি যদি প্রেসিংয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনার পাসিংয়ের গতি কমিয়ে দিতে পারে, তাহলে ম্যাচে তৈরি হতে পারে ভিন্ন চিত্র।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো মঞ্চে একটি ম্যাচের ফল পুরো অভিযানের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইবে দুই দল। বার্সেলোনার লক্ষ্য যেখানে ঘরের মাঠে দাপুটে জয় দিয়ে ইউরোপীয় অভিযান শুরু করা, সেখানে ফেইনুর্দের চোখ থাকবে কঠিন প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে অন্তত ইতিবাচক ফল নিয়ে ফেরার দিকে।

সব মিলিয়ে বার্সেলোনার আক্রমণ বনাম ফেইনুর্ডের প্রেসিং ও কাউন্টার অ্যাটাক; এই কৌশলগত লড়াইই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। ক্যাম্প ন্যুতে তাই শুধু দুই দলের লড়াই নয়, দেখা যাবে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও সংঘর্ষ।

এজবাস্টনে পাকিস্তানের শেষ পরীক্ষা

0

সিরিজের ফল প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে, কিন্তু নাটকের শেষ এখনো বাকি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে একতরফা হারের পর এজবাস্টনে আজ থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। দুই টেস্টের পরই পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রায় অর্ধেক স্কোয়াড বদলে যাওয়ার পর নতুন চেহারার দল নিয়ে অন্তত লড়াইয়ের ছাপ দেখাতে চায় পাকিস্তান।

প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হেরেছে তারা। ফলে শেষ টেস্টে অধিনায়ক বাবর আজম ও নতুন দায়িত্ব পাওয়া সাদা বলের কোচ মাইক হেসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ-একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পাকিস্তানকে মাঠে নামানো।

হেসনকে লাল বলের দায়িত্বে আনা হয়েছে মূলত শেষ মুহূর্তে। এর সঙ্গে দলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ রিজওয়ান, আলি উসমান ও খুররম শাহজাদকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় দলে ঢোকার সম্ভাবনায় রয়েছেন একাধিক নতুন মুখ। চারজনের অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

উইকেটকিপিংয়ে অভিষেক হতে পারে ২৩ বছর বয়সী গাজি ঘোরির। চারটি ওয়ানডে খেলা এই ক্রিকেটারকে এবার ইংল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে টেস্ট অভিষেকের চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে। মূল স্কোয়াডে থাকা আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফাজালের সঙ্গে ওপেনিংয়ে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে আছেন সাইম আইয়ুবও। প্রায় ১৮ মাস পর টেস্ট দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর।

বোলিংয়েও থাকছে নতুন মুখ। ২১ বছর বয়সী পেসার রাজাউল্লাহর অভিষেক হতে পারে। উবায়েদ শাহও প্রথম দুই টেস্টে একাদশের বাইরে থাকার পর সুযোগ পেতে পারেন। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে সক্ষম এই পেসার পাকিস্তানের আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারেন। স্পিনে সাজিদ খানের ওপর আস্থা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান টেস্ট

লর্ডস টেস্টে হারের মধ্যেও পাকিস্তানের জন্য কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। মোহাম্মদ আব্বাস ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে দীর্ঘদিনের দক্ষতার পুরস্কার হিসেবে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে জায়গা করে নিয়েছেন। ব্যাট হাতে সৌদ শাকিলও ভালো প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তবে ১৯৪ রানে অলআউট হওয়া দলটির ব্যাটিংয়ে আরও বড় অবদান প্রয়োজন।

অন্যদিকে সিরিজ জয়ের পরও ইংল্যান্ডের সামনে নিজেদের আরও ভালোভাবে যাচাই করার সুযোগ। জো রুটের দলের পেস আক্রমণ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। তবে সিরিজে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাটারই সেঞ্চুরি করতে পারেননি। রুটের পাশাপাশি এমিলিও গে, জর্ডান কক্স ও ড্যান লরেন্সের কাছ থেকেও বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকবে।

এজবাস্টনে পাকিস্তানের রেকর্ডও খুব সুখকর নয়। এই মাঠে আগের আট টেস্টে কোনো জয় নেই-তিনটি ড্র ও পাঁচটি হার। তাই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই শেষ টেস্টে অন্তত লড়াইয়ের একটি ছবি উপহার দিতে চাইবে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ-সিরিজ জয়ের পর তারা দেখতে চাইবে, এই সাফল্য দলটির আসল উন্নতির কতটা প্রতিফলন।

টিভিতে আজকের খেলা: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0

আজ শুরু ইংল্যান্ড-পাকিস্তান তৃতীয় টেস্ট। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ মাঠে নামবে বার্সেলোনা, পিএসজি, লিভারপুল ও আর্সেনালের মতো শক্তিশালী দল।

ক্রিকেট
গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি

ফাইনাল
সকাল ৯-৩০ মি., টি স্পোর্টস

এজবাস্টন টেস্ট-১ম দিন
ইংল্যান্ড-পাকিস্তান
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ২

টেনিস
ইউএস ওপেন

কোয়ার্টার ফাইনাল
রাত ৯-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ১ ও ২

ফুটবল
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ

বার্সেলোনা-ফেইনুর্ড
রাত ১০-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ১

পিএসজি-স্লোভান
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ১

নাপোলি-আর্সেনাল
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ২

লিভারপুল-আতলেতিকো
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ৫

এমবাপ্পে-ভালভার্দের গোলে ইন্টারকে হারিয়ে রিয়ালের শুভসূচনা

0

লা লিগায় হারের ধাক্কা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ে ফিরল রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শুভসূচনা করেছে হোসে মরিনহোর দল। রিয়ালের হয়ে গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ফেদেরিকো ভালভার্দে। শেষ দিকে কার্লোস অগুস্তোর গোলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

রিয়ালের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন এমবাপ্পে। ১৪ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের গোলসংখ্যা ৭১-এ নিয়ে গেছেন ফরাসি তারকা। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রিয়াল কিংবদন্তি রাউলের সঙ্গে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। চলতি মৌসুমে এটি এমবাপ্পের পঞ্চম গোল।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো করেছিল ইন্টার। মার্কাস থুরাম ও লাউতারো মার্তিনেজের প্রচেষ্টা ঠেকাতে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুবার সেভ করতে বাধ্য হন। কিন্তু ম্যাচের স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে যায় রিয়াল।

ইন্টার ডিফেন্ডার ইয়ান বিসেকের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল পান ব্রাহিম দিয়াজ। তাঁর পাস থেকে এমবাপ্পে গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন। গত শুক্রবার রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করা এমবাপ্পে এবার অবশ্য সুযোগ নষ্ট করেননি।

মাত্র ৯ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল। বেঞ্জামিন পাভার্ডের কাছ থেকে বল পাওয়ার পর নিজেদের বক্সের ভেতর দ্বিধায় পড়ে যান ইন্টারের গোলরক্ষক মার্তিনেজ। রিয়াল অধিনায়ক ভালভার্দে তাঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে সেটি জালে পাঠান। ইন্টারের আরেকটি ভুলের মাশুল দিতে হয় তাদের।

বল দখলের লড়াইয়ে ইন্টার মিলানের অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ

দুই গোল হজম করেও বল দখলে এগিয়ে ছিল ইন্টার। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর খুব ভালো সুযোগও পেয়েছিল তারা। পাঁচ পরিবর্তনের পর দলে ফেরা কার্টিস জোন্সের শট বারে লেগে ফিরে আসে। বিরতির ঠিক আগে অবশ্য ইন্টারের গোলরক্ষক মার্তিনেজ দারুণ দুটি সেভ করে এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামকে আটকে দেন। পরে দিয়াজের শট পোস্টের বাইরের দিকে লেগে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ইন্টার বিরতির সময় সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি খেলোয়াড় জন স্টোনসকে মাঠে নামায়। এরপর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। রিয়ালের বেলিংহাম সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। ইন্টারের আলেসান্দ্রো বাস্তোনির শটও কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দেন।

শেষ পর্যন্ত ৭৭ মিনিটে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি করে ইন্টার। ডান দিক থেকে লাউতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বল পেয়ে কার্লোস অগুস্তো জালে পাঠান। ব্যবধান কমে আসে ২-১।

শেষ মুহূর্তে রিয়ালকে চাপে ফেলে দেয় ইন্টার। তবে রক্ষণ সামলে আর গোল হজম করেনি স্বাগতিকরা। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিযান শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদ।