Home Blog Page 14

হালান্ডের জোড়া গোলে সিটির জয়

0

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন মৌসুমের শুরুটা জয় দিয়েই করল ম্যানচেস্টার সিটি। তবে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়টি মোটেও সহজ ছিল না। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাঠের উত্তেজনা গড়িয়ে যায় টানেল পর্যন্ত যায়। আর দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টিভেজা মাঠে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে সিটি। শেষ পর্যন্ত সব উত্তেজনা ছাপিয়ে দলের জয়ের নায়ক আর্লিং হালান্ড। নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে পোর্তোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এনজো মারেস্কার অধীনে শুভসূচনা করেছে সিটি।

এস্তাদিও দো দ্রাগাওয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরুটা ছিল ধীরগতির। ১৫ মিনিটের আগে সেভাবে আক্রমণে উঠতে পারেনি কোনো দল। এরপর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে সিটি। ফিল ফোডেন ও অঁতোয়ান সেমেনিওর সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে হালান্ডের জন্য ক্রস বাড়ান ফোডেন। শক্তিশালী হেডে গোলের চেষ্টা করেছিলেন হালান্ড, কিন্তু পোর্তোর অধিনায়ক দিয়োগো কস্তার দুর্দান্ত সেভে তা আটকে যায়।

এরপরও সিটির আক্রমণ থামেনি। ফোডেনের নিচু শট ঠেকানোর পর হালান্ডের ভলি এবং রায়ান শেরকির ফিরতি প্রচেষ্টাও রুখে দেন কস্তা। পোর্তোর গোলরক্ষকের একের পর এক সেভে প্রথমার্ধে গোলশূন্যই থাকে ম্যাচ।

খেলা শেষে ম্যানচেস্টার সিটি কোচ এনজো মারেস্কা

তবে মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে। উইলিয়াম গোমেসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর হলুদ কার্ড দেখেন ইয়োশকো গাভারদিওল। এরপর মার্ক গুয়েহির সঙ্গে পোর্তোর গ্যাব্রিয়েল ভেইগার সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হেডে যাওয়ার সময় গুয়েহির হাত ভেইগার গায়ে লাগে। পোর্তোর খেলোয়াড়েরা শাস্তির দাবি জানালেও রেফারি গুয়েহিকে কার্ড দেখাননি।

ভেইগাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য খেলা কিছু সময় বন্ধ থাকে। কিন্তু বিরতির বাঁশি বাজার পরও উত্তেজনা থামেনি। দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা ড্রেসিংরুমের দিকে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।

বিরতির সেই উত্তেজনার পর দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য মাঠের লড়াইয়ের রং বদলে দেন হালান্ড। ৪৭ মিনিটে সিটিকে এগিয়ে দেন তিনি। ডান প্রান্তে বল ধরে রাখার পর শেরকি তা দেন এনজো ফার্নান্দেজকে। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের উড়ন্ত ক্রস থেকে হালান্ড নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান। বলটি পোস্টে লেগে জালে ঢোকে। এবার আর কস্তার কিছুই করার ছিল না।

গোল খেয়ে পোর্তো অবশ্য ভেঙে পড়েনি। বরং ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। পেপে হেডে গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সেই সময় ডোনারুম্মার সঙ্গে সংঘর্ষের পর ফাউলের দাবি করে পেনাল্টির আবেদনও করে পোর্তো। রেফারি অবশ্য তাতে সাড়া দেননি।

এরপর কর্নার থেকে আলবার্তো কস্তার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আলান ভারেলার দূরপাল্লার শটও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটা সময় সিটিকে নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়।

শেষদিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে সিটি। আর যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। রায়ান এইত-নুরির কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে কাছ থেকে তা জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তাতে পোর্তোর ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলখরা কাটিয়ে ব্রুগাকে হারাল অ্যাস্টন ভিলা

0

অবশেষে গোলের দেখা পেল অ্যাস্টন ভিলা। নতুন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে গোল করতে না পারার হতাশা পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে উনাই এমেরির দল। মঙ্গলবার রাতে বেলজিয়ামের জান ব্রেইডেল স্টেডিয়ামে ক্লাব ব্রুগাকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ভিলা।

মৌসুমের শুরুটা ভিলার জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম তিন ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেনি তারা। সেই তিন ম্যাচে লক্ষ্যে শটও ছিল মাত্র একটি। এরই মধ্যে ইউরোপা লিগজয়ী দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়ে নতুন করে দল গড়ার চ্যালেঞ্জে পড়েছেন কোচ উনাই এমেরি।

তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে নিজেদের চেনা আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরেছে ভিলা। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ১১ মিনিটেই গোলখরা কাটান অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। পাউ তোরেসের দুর্দান্ত দৌড় ও নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে ব্রুগে গোলরক্ষক ইয়ান সোমেরকে পরাস্ত করেন ম্যাকগিন। নতুন মৌসুমে ভিলার এটিই ছিল প্রথম গোল।

এরপর দ্রুত ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল সফরকারীরা। জর্জ হেমিংসের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সোমের। কিছুক্ষণ পর গোলের সামনে থেকে আরেকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ১৯ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

এর খেসারতও দিতে হয় ভিলাকে। ১৮ মিনিটে জান ভির্জিলির দারুণ দৌড় ও পাসের পর হুগো ভেটলেসেনের শক্তিশালী শটে সমতায় ফেরে ব্রুগে। তবে তিন মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় ভিলা। জোয়াও গোমেসের পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া।

প্রথমার্ধের শেষদিকে আরও একবার আঘাত হানে ভিলা। ৪৩ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসন দুই ডিফেন্ডারের চাপ সামলে গোলরক্ষক সোমেরকে এড়িয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান। চেলসিতে সমালোচিত সময় কাটানো এই ফরোয়ার্ড ভিলায় যোগ দেওয়ার পর ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তির চাপও কিছুটা কমান এই গোলের মাধ্যমে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-১ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় ব্রুগে। ৬১ মিনিটে অ্যারন ওয়ান-বিসাকার হাতে জোয়াকিন সেইসের ক্রস লাগলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন নিকোলো ত্রেসোলদি।

এরপর শেষ প্রায় আধঘণ্টা ভিলার জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। সমতা ফেরাতে একের পর এক আক্রমণ চালায় ব্রুগে। ত্রেসোলদির একটি হেডার ভিলার গোলরক্ষক জিওন সুজুকির হাতে লেগে পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। যোগ করা সময়েও সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ত্রেসোলদি। কিন্তু তাঁর হেডার সরাসরি সুজুকির হাতে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অ্যাস্টন ভিলা।

গত মৌসুমে ইউরোপা লিগ জিতে ৩০ বছরের ট্রফিখরা কাটিয়েছিল ভিলা। কিন্তু গ্রীষ্মের দলবদলে মরগান রজার্স, অলি ওয়াটকিন্স, ইউরি তিলেমানস, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লুকাস দিনিয়ে ও এজরি কনসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের হারিয়েছে তারা। ক্লাবের আর্থিক নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন থেকেই বড় ধরনের পুনর্গঠন করতে হয়েছে দলটিকে।

তাই ব্রুগের বিপক্ষে এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট পাওয়ার ঘটনা নয়, এমেরির নতুন দলের সম্ভাবনারও প্রথম বড় ইঙ্গিত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পরের ম্যাচে অক্টোবরে ফেনেরবাহচের মুখোমুখি হবে অ্যাস্টন ভিলা। তার আগে প্রিমিয়ার লিগে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম লিগ জয়ের লক্ষ্য থাকবে তাদের।

আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

0

শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং নাহিদা, রাবেয়া ও মারুফার দুর্দান্ত বোলিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

দুবাইয়ে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টাইগ্রেসরা। সেখান থেকে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলের ইনিংস বড় করার সংগ্রাম চালিয়ে যান শারমিন আক্তার। ১৩ বলে ১৩ রান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন শারমিন। এরপর ইনিংসের ১৩তম ওভারের পর গতি বাড়িয়ে কভার ড্রাইভে রানের খাতা বড় করেন। ঈশা ওজার বলে টানা দু’টি বাউন্ডারিও হাঁকান ডানহাতি এই ব্যাটার।

ইনিংসের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাট হাতে গতি বাড়িয়ে বাংলাদেশের স্কোরকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন শারমিন আক্তার।

নাহিদা আক্তারের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। শেষ পর্যন্ত শারমিন করেন ৩৮ রান (৩১ বল)। নাহিদা করেন গুরুত্বপূর্ণ অপরাজিত ১৬ রান। তবে আমিরাতের অফস্পিনার সুরক্ষা কোট্টে ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বেশ ভুগিয়েছেন। তাঁর ২৪ বলের ১৬টিই ছিল ডট।

বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এছাড়া জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ব্যাটে আগে গুরুত্বপূর্ণ ১৬ রান।

১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আমিরাতকে চাপে রাখেন মারুফা আক্তার। ইনিংসের মাত্র চতুর্থ বলেই ইনসুইংয়ে অধিনায়ক ঈশা ওজাকে ফেরান তিনি। পরে সামাইরা ধরনিধারকার উইকেটও নেন মারুফা। পাওয়ারপ্লেতে তাঁর তিন ওভারে মাত্র ৬ রান আসে। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে আমিরাতকে চাপে রেখে দাপুটে পারফরম্যান্স বাংলাদেশের বোলারদের।

স্পিনাররাও এরপর চাপ ধরে রাখেন। রাবেয়া খান নেন ৩ উইকেট, নাহিদা আক্তার শিকার করেন ২ উইকেট। ১০ ওভারে আমিরাতের রান ছিল মাত্র ৩৪। পরের ওভারে থির্থা সতীশের বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে। শেষ পর্যন্ত ৭০টি ডট বল খেলে ৯ উইকেটে ৬৯ রানেই থামে আমিরাতের ইনিংস।

এই জয়ে বাংলাদেশ প্রথম সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগ্রেসরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ — ১০৩/৭ (২০ ওভার)
শারমিন আক্তার — ৩৮
নিগার সুলতানা — ২৩
নাহিদা আক্তার — ১৬*
জুয়াইরিয়া — ১৬
সুরক্ষা কোট্টে — ৩/১১

সংযুক্ত আরব আমিরাত — ৬৯/৯ (২০ ওভার)
রাবেয়া খান — ৩/১৪
মারুফা আক্তার — ২/৯
নাহিদা আক্তার — ২ উইকেট

ফল: বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ: সেমিফাইনাল বনাম ভারত, বৃহস্পতিবার

ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসি, কেইন ও হালান্ড, নেই রোনালদো

0

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন ও আর্লিং হালান্ড। মঙ্গলবার পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে আয়োজক `ফ্রান্স ফুটবল’ কর্তৃপক্ষ।

গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তালিকায় সবচেয়ে বড় দাবিদারদের একজন হিসেবে আছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৫ ম্যাচে তার গোল ৭৩টি। দুর্দান্ত এই মৌসুমে বায়ার্নকে বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ ও জার্মান সুপার কাপ – তিনটি শিরোপা জিততে সহায়তা করেছেন কেইন। পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও তুলেছেন তিনি।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে আরেক দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো আর্লিং হালান্ডও আছেন সংক্ষিপ্ত তালিকায়। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৪ ম্যাচে ৫৮ গোল করেছেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় লিওনেল মেসি। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী আর্জেন্টাইন তারকা ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনার হয়ে ৪৯ ম্যাচে ৭৫টি গোল অবদান রেখেছেন। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালেও জায়গা করে নেয়।

সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসি, কেইন ও হলান্ডের পাশাপাশি আছেন জুড বেলিংহাম, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও লামিনে ইয়ামালও।

তবে এবার বড় চমক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অনুপস্থিতি। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী পর্তুগিজ তারকা এবার ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাননি। আল-নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জিতলেও সেটি তাকে মনোনয়ন পাওয়াতে পারেনি।

এদিকে সেরা গোলরক্ষকের জন্য দেওয়া ‘লেভ ইয়াসিন’ ট্রফির ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কেপ ভার্দেকে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

ইয়াশিন ট্রফির দৌড়ে ভোজিনহার সঙ্গে আছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক উনাই সিমন, আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং আফ্রিকার দুই গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ও এদুয়ার্দ মেন্ডি।

এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনে। আগামী ২৬ অক্টোবর হবে ৭০তম আসরের জমকালো আয়োজন। প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউজের প্রতি সম্মান জানাতেই এবার প্রথমবারের মতো লন্ডনে বসছে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আসর।

দলে পরিবর্তনের খবরই জানতেন না বাবর, বললেন ‘খবর পেয়েছি পরে’

0

লর্ডসে ইংল্যান্ডের কাছে বড় হারের পর পাকিস্তান টেস্ট দলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড, পিসিবি। একসঙ্গে সাত ক্রিকেটারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দিয়েছে বোর্ড। তবে এত বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে দলের অধিনায়ক বাবর আজমের কোনো মতামতই নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিষয়টি স্পষ্ট করেন বাবর। তার দাবি, পিসিবির সিদ্ধান্ত প্রকাশের আগে তিনি কিছুই জানতেন না। বরং আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশের পরই পুরো বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।

বাবর বলেন, ‘এটা আমার জন্যও খবর ছিল। আমি পরে জানতে পেরেছি। পিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটা তারাই ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে।’

পিসিবির সিদ্ধান্তের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো চিন্তাভাবনা ছিল বলেও মন্তব্য করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তবে সেই কারণ জানতে হলে বোর্ডের কাছেই প্রশ্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

লর্ডসে পাকিস্তানের ১৯৪ রানের পরাজয়ের পরদিনই আসে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা। সাত ক্রিকেটারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাদের জায়গায় দলে নেওয়া হয় আরও সাতজনকে। নতুনদের মধ্যে পাঁচজনের এখনো টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি। ফলে এজবাস্টনে পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ কেমন হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা।

এমন পরিবর্তনে বিস্মিত হলেও বাবর এটিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। বরং নতুন ক্রিকেটারদের জন্য এটিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, তরুণ ক্রিকেটাররা দলে সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত এবং সেই উদ্দীপনা মাঠেও দেখা যেতে পারে।

তিন ম্যাচের সিরিজে ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পাকিস্তান। ফলে এজবাস্টন টেস্টে হারানোর মতো তেমন কিছু নেই বলেই মনে করেন বাবর। তার ভাষায়, ‘সিরিজ হেরে গেছি, কিন্তু আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমাদের স্বাধীনভাবে খেলতে হবে এবং দল হিসেবে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।’

নতুন ক্রিকেটারদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কয়েক দিনের অনুশীলনও করেছে পাকিস্তান। তাদের সঙ্গে পরিকল্পনা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন কোচিং স্টাফরা। নতুনদের জন্য এই সুযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাবর।

এদিকে লর্ডস টেস্টে বড় হারের পর পাকিস্তানের দল নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ। তবে প্রথম দুই টেস্টে নেওয়া একাদশের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বাবর। তার মতে, ম্যাচের আগে উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনা করেই একাদশ সাজানো হয়েছিল।

বাবর বলেন, ‘দল হিসেবে আমরা তিন বিভাগেই ভালো খেলতে পারিনি। আর ফলাফল যখন আপনার পক্ষে থাকে না, তখন বাইরে থেকে অনেক সমালোচনা আসবেই। তবে ওই সময় আমরা যেটাকে সেরা মনে করেছি, সেটিই করেছি। উইকেট ও কন্ডিশন যেভাবে বুঝেছিলাম, সেভাবেই একাদশ বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাইনি।’

এজবাস্টনে পাকিস্তানের একাদশে কারা থাকবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব দেখছেন বাবর। নিজেকেও সেই দায়িত্বের অংশ মনে করছেন তিনি। লর্ডসে দুই ইনিংসে মাত্র ৮ ও ৬ রান করেছিলেন এই ব্যাটার। এর আগে হাতে চোটের কারণে হেডিংলিতে প্রথম টেস্টেও খেলতে পারেননি তিনি।

তবে অতীতের ব্যর্থতা ভুলে সামনে তাকাতে চান পাকিস্তান অধিনায়ক। তার মতে, সিরিজ কিংবা টুর্নামেন্টে নামলে প্রতিটি ক্রিকেটারই ভালো করার আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামে। আর সিনিয়র ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব আরও বেশি।

বাবর বলেন, ‘সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে আপনাকে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে কঠিন কন্ডিশনে পারফর্ম করতে হবে। আমরা ক্রিকেট খেলিই কঠিন পরিস্থিতিতে পারফর্ম ও আধিপত্য দেখানোর জন্য।’

এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানের জন্য তাই শুধু সিরিজের শেষ ম্যাচ নয়, নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোরও বড় সুযোগ। ব্যাপক পরিবর্তনের পর নতুনদের নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা কতটা লড়াই করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কাজাখস্তানকে হারিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়

0

বেঁচে রইল বিশ্বকাপের স্বপ্ন

চীনে চলমান অনূর্ধ্ব-২০ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্টে অবশেষে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কাজাখস্তানকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল (পুরুষ)। টানা দুই ম্যাচে হারের পর এই জয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। দ্রুত আক্রমণে কাজাখস্তানের রক্ষণে চাপ তৈরি করে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে তারা। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের হয়ে একটি করে গোল করেন শিমুল ইসলাম, মেহেদী হাসান অভি, তৈয়ব আলী ও মুন্না ইসলাম।

প্রথম দুই ম্যাচে অবশ্য কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক চীনের কাছে ৩-২ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার কাছে ৪-২ গোলে পরাজিত হয় তারা। ফলে টানা দুই হারে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপের সমীকরণ।

তবে কাজাখস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই জয় সেই হতাশা অনেকটাই কাটিয়ে দিয়েছে। ৪-২ গোলের জয়ে প্রথম পয়েন্টের দেখা পাওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশের যুবারা।

জুনিয়র এশিয়া কাপ থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে হলে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হবে বাংলাদেশের। কাজাখস্তানের বিপক্ষে পাওয়া এই জয় তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং বিশ্বকাপের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ। এখন পরের ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

‘আমিই বিশ্বের সেরা’ বললেন এমবাপে

0

ব্যালন ডি’অর না জিতলেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কিলিয়ান এমবাপের মনে কোনো সংশয় নেই। বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে-এমন প্রশ্নে নিজের নামটাই সবার আগে রেখেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। তাঁর সোজাসাপ্টা কথা, ‘আমি সবসময়ই মনে করি, আমিই বিশ্বের সেরা।’

গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন এমবাপে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দুর্দান্ত হলেও বড় কোনো ক্লাব শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। বিশ্বকাপে অবশ্য ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। এবারের ব্যালন ডি’অর জয়েরও ভালো সুযোগ দেখছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথা বলতে গিয়েই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করেছেন এমবাপে। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই মনে করি, আমিই বিশ্বের সেরা। তবে সবার নিজস্ব মতামত আছে। হয়তো মানুষ ভিন্নভাবে ভাবে। আমার মনে হয় না, এটা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন আছে।’

তবে পুরস্কারটি জেতার সিদ্ধান্ত যে তাঁর হাতে নেই, সেটিও জানেন এমবাপে। তাঁর ভাষায়, ‘অবশ্যই, এ বছর আমার জন্য ব্যালন ডি’অর জয়ের ভালো সুযোগ হতে পারে। তবে সাংবাদিকরাই ভোট দেন।’

ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে অবশ্য এমবাপের পাল্লা ভারী। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ১০৭ ম্যাচে করেছেন ৯০ গোল। টানা আট মৌসুম লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন-ফ্রান্সে ছয়বার ও স্পেনে দুবার। বিশ্বকাপে দুবার এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে দুবার গোল্ডেন বুট জিতেছেন তিনি। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপও জিতেছেন।

তবে ক্লাব ফুটবলে এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতা হয়নি এমবাপের। পিএসজি ছাড়ার পর সাবেক ক্লাবটি প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতায় বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব নিয়ে অবশ্য ভাবতে চান না তিনি।

এমবাপে এখন অতীত নয়, ভবিষ্যতের দিকেই তাকাতে চান। তাঁর লক্ষ্য রিয়ালকে জেতানো এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের মৌসুম ভালোভাবে শুরু করা।

হামজাদের নতুন জার্সি উন্মোচন, দাম ১,৬০০ টাকা

0

প্রিয় দলের জার্সির প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের আলাদা আকর্ষণ থাকে। কেউ প্রিয় খেলোয়াড়ের জার্সি সংগ্রহে রাখেন, কেউ আবার মাঠে দলকে সমর্থন করতে গায়ে জড়ান সেই জার্সি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) জার্সি নিয়ে আগে তেমন ব্র্যান্ডিং দেখা না গেলেও সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে বিষয়টিতে পেশাদারত্ব আনার চেষ্টা চলছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হোম ও অ্যাওয়ে জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক জার্সি দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা যখন খেলতাম, তখন বাজার থেকে জার্সি কিনে এনে দিতেন কর্মকর্তারা। এত ব্র্যান্ডিং ও আনুষ্ঠানিকতা করে কখনো জার্সি পরা হয়নি। এ রকম ব্যবস্থার জন্য বাফুফে সভাপতিকে ধন্যবাদ।’

বাফুফের কিট পার্টনার ‘দৌড়’ তৈরি করেছে নতুন জার্সি। এর দাম রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। জার্সির দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে ফেব্রিকের কথা জানিয়েছেন দৌড়ের স্বত্বাধিকারী আবিদ আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ফেব্রিকের কারণে দামটা একটু বেশি। তবে সামনে আমরা ফ্যান এডিশন করছি, যেটা ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। বাফুফের অনুমোদন পেলে এটা বাজারে ছাড়া হবে।’

দৌড়ের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক শোরুম নেই। তবে এবার ইনফিনিটিতে বাংলাদেশের জার্সি পাওয়া যাবে। সমর্থকদের জন্য অফলাইনেও জার্সি বিক্রির ব্যবস্থা করার ওপর জোর দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘অনলাইনে জার্সি বিক্রি হচ্ছে। আমরা চাই অফলাইনে দৌড়ের শোরুম থেকেও যেন সমর্থকেরা জার্সি সংগ্রহ করতে পারেন।’

বাফুফের সঙ্গে দৌড়ের চুক্তির মেয়াদ দুই বছর। এরই মধ্যে চুক্তির প্রায় দেড় বছর পার হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, প্রতি দুই বছর পরপর জাতীয় দলের জার্সিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে তুলনামূলক নতুন ব্র্যান্ড দৌড়। তবে হামজা চৌধুরী ও সামিত সোমদের মতো খেলোয়াড়দের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্র্যান্ডটির পরিচিতি বেড়েছে।

দৌড়ের সঙ্গে চুক্তি করে বাফুফে কীভাবে লাভবান হচ্ছে, সেটিও অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে। বাফুফের মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম বলেন, জার্সি বিক্রি থেকে বাফুফে লভ্যাংশ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দৌড়ের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি—তারা জার্সি বিক্রি করলে সেখান থেকে লভ্যাংশ দেবে। সেটা প্রতি মাসে তারা পরিশোধ করছে। বছর শেষে সেটা ভালো অঙ্কই। এর পাশাপাশি বিগত সময়ে জার্সি কিনতে যে খরচ হতো, সেটাও হচ্ছে না।’

দৌড়ের কর্মকর্তা আবিদ আলম চৌধুরী জানান, গত এক বছরে প্রায় ২০ হাজার জার্সি বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় বাফুফেকে নিয়মিত রয়্যালটিও দেওয়া হয়েছে।

আবিদ বলেন, ‘গত এক বছর আমরা বিশ হাজারের মতো জার্সি বিক্রি করেছি। প্রতি মাসে বাফুফের রয়্যালিটি বুঝিয়ে দিয়েছি। বাফুফের সঙ্গে যখন চুক্তি হয়, তখন অনেক খেলা বা টুর্নামেন্ট সূচিতে ছিল না। অতিরিক্ত খেলার জন্য আমরা চুক্তির বাইরেও বাফুফেকে কয়েক হাজার জার্সি অতিরিক্ত সরবরাহ করেছি। পাশাপাশি বাজারে লোগো ব্যবহার করে বিক্রি হওয়ায় বাস্তবিক অর্থে আমরা সেভাবে লাভ করতে পারিনি।’

জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে বাফুফে ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে কমলাপুর ও সিলেট স্টেডিয়াম নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাফুফের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষে পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী এতে স্বাক্ষর করেন।

দুই স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেছেন বাফুফে সভাপতি। তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘এই দুই স্টেডিয়ামের মালিকানা অবশ্যই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। বাফুফে সিকিউরিটি ও অন্য ব্যবস্থাপনা দেখাশোনা করবে। এই স্টেডিয়ামে অন্য ফেডারেশনও খেলাধুলা আয়োজন করতে পারবে, সেটা বাফুফের সঙ্গে সমন্বয় করে। এই স্টেডিয়াম দুটো শুধু ফুটবল কিংবা বাফুফের ভাবার কোনো কারণ নেই।’

আইসিসির র‍্যাঙ্কিংয়ে উড়ছে মারুফা

0

নারী এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গেছে বাংলাদেশ। তবে সেই ম্যাচে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন মারুফা আক্তার। তাঁর দারুণ বোলিংয়ের পুরস্কার মিলেছে আইসিসির টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে। ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের এই পেসার।

নারী ক্রিকেটারদের সাপ্তাহিক র‍্যাঙ্কিং হালনাগাদ আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে আইসিসি। এতে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারই উন্নতি করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছেন মারুফা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১৪ রানের পুঁজি নিয়েও ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল বাংলাদেশ। তাতে বড় অবদান ছিল মারুফার। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। এই পারফরম্যান্সে র‍্যাঙ্কিংয়ে একসঙ্গে ১৯ ধাপ এগিয়েছেন মারুফা। এখন ১৮ নম্বরে আছেন তিনি, বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

এই প্রথম টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা ২০-এ জায়গা করে নিলেন মারুফা। এর আগে এই সংস্করণে তাঁর ক্যারিয়ারসেরা অবস্থান ছিল ২৩ নম্বর, ২০২৪ সালে সেখানে উঠেছিলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া সুলতানা খাতুনও এগিয়েছেন র‍্যাঙ্কিংয়ে। ৯ ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৩৭ নম্বরে আছেন এই অফ স্পিনার।

বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শ্রী চারানি। তাঁর সতীর্থ দীপ্তি শর্মা দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ছয় নম্বরে।

ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে যথারীতি শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছেন সোবহানা মোস্তারি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চারটি চারে ৩৪ রান করা এই ব্যাটার তিন ধাপ এগিয়ে এখন ৩৬ নম্বরে।

চারটি চারে ২৬ রান করা দিলারা আক্তার এগিয়েছেন পাঁচ ধাপ। বাংলাদেশের এই ওপেনার এখন আছেন ৬২ নম্বরে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ৪ রান করে আউট হয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা। তবু র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়েছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার ইমেশা দুলানির অবনতির কারণে নিগার এখন ২১ নম্বরে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে তিনিই সবার ওপরে।

তিনটি চারে ১৪ রান করা জুয়াইরিয়া ফেরদৌসও ছয় ধাপ এগিয়েছেন। বাংলাদেশের এই ওপেনার যৌথভাবে ৯৬ নম্বরে আছেন।

মেয়েদের টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এই তালিকায় সবার ওপরে রাবেয়া খান। তিনি আছেন ৩২ নম্বরে।

‘ওরা বাবাকে জেলের ভেতরই মেরে ফেলতে চায়’-শঙ্কায় ইমরান খানের ছেলেরা

0

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেটার ইমরান খানের নিরাপত্তা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান। একই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তাঁরা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট বর্জনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিষয়টি। ইমরান খানের ছেলেদের দাবি, তাঁদের বাবাকে কারাগারে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে এবং তাঁকে নীরব করার চেষ্টা চলছে।

লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে বিতর্কের সূত্রপাত। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল অ্যাথারটনের নেওয়া সুলাইমান ও কাসিমের একটি সাক্ষাৎকার স্কাই স্পোর্টসে প্রচারিত হয়। সেখানে তাঁরা বাবার স্বাস্থ্য ও কারাগারে তাঁর অবস্থার কথা তুলে ধরেন।

এরপর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই সাক্ষাৎকার সরিয়ে না নিলে টেস্টের প্রথম দিনের লাঞ্চের পর পাকিস্তান দলকে মাঠে না নামানোর হুমকি দিয়েছিল পিসিবি। যদিও পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে ইমরান খানের নির্জন কারাবাস নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তাঁর ছেলেরা। বাবার নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর আশঙ্কার কথা বলেছেন কাসিম।

দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাসিম অভিযোগ করেন, তাঁর বাবাকে ধীরে ধীরে নীরব করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, কর্তৃপক্ষ এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যাতে কারাগারের ভেতরেই ইমরান খানের মৃত্যু হলে সেটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানো যায়।

পিসিবির কথিত প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে কাসিম বলেন, এ ঘটনায় বোর্ড নিজেদের ভাবমূর্তিরই ক্ষতি করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘তারা নিজেদের সম্পূর্ণ বোকা বানিয়ে ফেলেছে।’

অন্যদিকে সুলাইমান বলেন, বাবাকে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারের ঘটনায় পিসিবি এতটা কঠোর অবস্থান নেবে, তা তিনি ভাবেননি। তাঁর মতে, বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না; বরং ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলা হয়েছিল।

সুলাইমান বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাজ হওয়া উচিত নয় একজন সাবেক পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে নিয়ে করা সাক্ষাৎকার সরিয়ে নেওয়ার দাবি করা। এটা রাজনীতির বিষয় ছিল না, এটা ছিল মানবিক পরিস্থিতি আর তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়।’

ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি অস্বীকার করে আসছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কারাগারে ইমরান খান প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।

তবে সরকারি এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন তাঁর ছেলেরা। সুলাইমানের অভিযোগ, বাবার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিবারকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর দাবি, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই সরকারি সূত্রনির্ভর এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই।

সুলাইমান বলেন, ‘তারা আমাদের এসবের কোনো প্রমাণ দেয়নি। সবই সরকারি সূত্রের কাছ থেকে শোনা কথা। কোনো স্বচ্ছতা নেই, তারা কাউকে প্রবেশাধিকার দিতে চায় না। তাহলে আমরা কীভাবে এসব বিশ্বাস করব?’

তাঁর আরও দাবি, বাবার স্বাস্থ্যের বিষয়ে পরিবারের কাছে সর্বশেষ যাচাইযোগ্য তথ্য এসেছে প্রায় ছয় মাস আগে। তখন ইমরান খান নিজেই তাঁর চোখের সমস্যা এবং সেটির যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন।

ইমরান খানের ছেলেদের এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগেরও ভিত্তি নেই।

তবে বাবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না সুলাইমান ও কাসিমের। তাঁদের আশঙ্কা, ইমরান খানকে জনবিচ্ছিন্ন ও নীরব রাখার চেষ্টা ধীরে ধীরে আরও কঠোর হচ্ছে।