Home Blog Page 12

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার ঝড়, রাফিনহার জোড়া গোল

0

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শুরুর ম্যাচে গোল উৎসব করেছে বার্সেলোনা। বুধবার রাতে নিজেদের মাঠের খেলায় ফেয়েনুর্ডের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে ৫-১ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। সেই জয়ের মূল নায়ক আবারও রাফিনহা। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড করেছেন জোড়া গোল, সঙ্গে গোল পেয়েছেন করিম আদেয়েমি, লামিনে ইয়ামাল ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

তৃতীয় মিনিটে বার্সার প্রথম গোল

ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন রাফিনহা। প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে অসাধারণ দক্ষতায় কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি। চলতি মৌসুমে গোলের ধারায় থাকা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের এটি ছিল পাঁচ ম্যাচে সপ্তম গোল। মৌসুমের পাঁচ ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি।

ফেয়েনুর্ডের পেনাল্টির আবেদন নাকচ

বার্সার আক্রমণ অবশ্য সেখানেই থামেনি। ২০ মিনিটে ফেয়েনুর্ডের আনিস হাজ-মুসার পড়ে যাওয়াকে ঘিরে পেনাল্টির আবেদন উঠলেও তা নাকচ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সা। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল ফেয়েনুর্ডের ডান দিকের ওপরের কোণে পাঠান নতুন মৌসুমে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে আসা আদেয়েমি। গোলের পর তাঁর চিরচেনা ব্যাক-ফ্লিপ উদযাপনও দেখা যায়।

গ্যাব্রিয়েল জেসুস গোলের পর

দ্বিতীয়ার্ধেও রাফিনহার জাদু

দ্বিতীয়ার্ধে আবারও রাফিনহার জাদু। ৫৭ মিনিটে নিখুঁত সময়ে দৌড়ে গিয়ে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর অষ্টম গোল, আর পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তৃতীয়বার জোড়া গোল করলেন বার্সার এই আক্রমণভাগের তারকা।

চার গোলের পরও ক্ষান্ত হয়নি বার্সা। ৭৭ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন ইয়ামাল। তবে পাঁচ গোল করেও এবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লিন শিট পাওয়া হলো না বার্সার। ৮২ মিনিটে ফেয়েনুর্ডের বদলি খেলোয়াড় সেম স্টেইন একটি গোল শোধ করেন।

শেষ পর্যন্ত বার্সার পঞ্চম গোলটি আসে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের পা থেকে। মাসের শুরুতে আর্সেনাল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দারুণ এক হেডে নতুন দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান। এর মধ্য দিয়ে মাত্র পাঁচ ম্যাচে বার্সার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ২২-এ।

ফেয়েনুর্ডের কোচ জিওভান্নি ফন ব্রংখর্স্টের জন্যও ম্যাচটি ছিল বিশেষ। ২০০৫-০৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়েই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন তিনি। তবে পুরোনো ক্লাবের বিপক্ষে কোচ হিসেবে ফেরাটা তাঁর জন্য সুখকর হলো না। রাফিনহার দুর্দান্ত ফর্ম ও বার্সার আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো ডাচ ক্লাবটিকে।

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের জন্য বাফুফের খেলোয়াড় বাছাই

0

আজারবাইজানে অনুষ্ঠেয় ‘ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ সামনে রেখে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল গঠনের লক্ষ্যে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে এই ট্রায়াল। চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান কিশোর ফুটবলারদের মধ্য থেকে যোগ্য ও সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় বাছাই করাই এই ট্রায়ালের মূল উদ্দেশ্য।

বাফুফে অনুমোদিত একাডেমিগুলোর খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এই বাছাই কার্যক্রম। দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন একাডেমি থেকে মোট ৩২০ জন ফুটবলার ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিটি একাডেমি থেকে সর্বোচ্চ দুজন করে খেলোয়াড়কে ট্রায়ালে পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বাফুফের অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ফুটবল লিগ কমিটির উদ্যোগে এই ট্রায়ালের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার খুঁজে বের করে তাদের মধ্য থেকে সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গঠন করাই কমিটির লক্ষ্য।

ট্রায়ালে অংশ নেওয়া কিশোর ফুটবলারদের দক্ষতা, টেকনিক, শারীরিক সক্ষমতা, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, গতি এবং মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন সংশ্লিষ্ট কোচ ও কর্মকর্তারা। কয়েক দিনব্যাপী এই বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হবে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলের প্রাথমিক কাঠামো।

আজারবাইজানে অনুষ্ঠেয় ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার বড় সুযোগ। তাই এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে এখন থেকেই একটি শক্তিশালী ও প্রতিশ্রুতিশীল দল গড়ে তুলতে চাইছে বাফুফে।

বাফুফের এই উদ্যোগের ফলে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন একাডেমিতে বেড়ে ওঠা তরুণ ফুটবলারদের জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে বয়সভিত্তিক জাতীয় দলকে আরও শক্তিশালী করার পথও তৈরি হচ্ছে।

১২ সেপ্টেম্বর ট্রায়াল শেষ হওয়ার পর বাছাই করা খেলোয়াড়দের নিয়ে পরবর্তী ধাপে প্রশিক্ষণ ও দল গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। লক্ষ্য একটাই, আজারবাইজানে অনুষ্ঠেয় ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো একটি শক্তিশালী দল প্রস্তুত করা।

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ফাইনাল, জিডি ট্রফি জিতলো অনূর্ধ্ব-১৯ দল

0

বৃষ্টির বাধায় শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াল না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের মধ্যকার গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি অর্থাৎ জিডি ট্রফির ফাইনাল। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানা বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী, ফাইনালে কোনো ফল না হলে পয়েন্ট টেবিলে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা দলই চ্যাম্পিয়ন হবে। সেই নিয়মেই শিরোপা উঠেছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হাতে।

টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে দারুণ পারফর্ম করেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ওপেনার এসকে জারিফ সিয়াম। চার ম্যাচে ৯৬ স্ট্রাইক রেটে সর্বোচ্চ ১৮০ রান করেছেন তিনি। অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে একটি ব্যাট উপহার দেওয়া হয়েছে।

ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে শুরুতেই চাপে পড়ে তারা। এরপর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ৫৪ বলে ৪৭ রান করে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। আহরার আমিন পিয়ান করেন ৬১ বলে ৪৬ রান। দেবাশীষ সরকার দেবা ৪১ বলে ৪৩ রান করে অবদান রাখেন।

শেষ দিকে মাহফুজুর রহমান রাব্বি ২৬ বলে দ্রুত ৩১ রান করলে কিছুটা গতি পায় অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৪ ওভারে ২৪৫ রানে অলআউট হয় তারা।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বল হাতে ছিলেন তাফিউল আলম তামিম। দুর্দান্ত বোলিংয়ে তিনি একাই নেন ছয় উইকেট। শেখ আতিউর রহমান শিকার করেন তিন উইকেট। একটি উইকেট পান আল রাফি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তবে ১৭.২ ওভারে ৫ উইকেটে ৯৯ রান করার পর আবারও বৃষ্টি নামে। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচ শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় ফাইনাল পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে আবদুল্লাহ আল মুয়ী ১৯ বলে ২০ রান করেন। ফারহান সাদিক মাত্র ১৫ বলে ২৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। আহসান আল মুমিন করেন ২৭ বলে ২৪ রান।

অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বোলারদের মধ্যে একটি করে উইকেট নেন মহিউদ্দিন তারেক, শেখ পারভেজ জীবন, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, স্বাধীন ইসলাম ও আহরার আমিন পিয়ান।

ফাইনাল শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে নিষ্পত্তি না হলেও টুর্নামেন্টের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে জিডি ট্রফি ঘরে তুলেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

সাতজনকে বাদ দিয়েও ১৩৩ রানে অলআউট পাকিস্তান

0

দ্বিতীয় টেস্টের পর দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল পাকিস্তান। সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল দুই কোচকেও। এত বড় অদলবদলের পরও অবশ্য বদলায়নি পাকিস্তানের ভাগ্য। ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের সামনে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়েছে বাবর আজমের দল।

এজবাস্টনে বুধবার শুরু হওয়া তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসে নেতৃত্ব দিয়েছেন জস টং। ৪২ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন এই ইংলিশ পেসার। জোফরা আর্চার ১৫ রানে ৩টি এবং ওলি রবিনসন ২৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

পাকিস্তানের প্রথম আট ব্যাটারের সাতজনই দুই অঙ্কের রান ছোঁয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন। ব্যতিক্রম ছিলেন সাউদ শাকিল। ৪৭ বলে ৪৩ রান করে তিনিই দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তাঁর ইনিংসে ছিল লড়াইয়ের চেষ্টা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান আসে পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের ব্যাট থেকে।

চার পরিবর্তন নিয়ে তৃতীয় টেস্টে একাদশ সাজিয়েছিল পাকিস্তান। তিন ক্রিকেটারের অভিষেকও হয়। তবে শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের পেসারদের তোপে পড়ে পাকিস্তান।

তৃতীয় ওভারেই সাইম আইয়ুবকে শূন্য রানে ফেরান রবিনসন। এরপর আর্চারের গতির কাছে পরাস্ত হন আজান আওয়াইস। আব্দুল্লাহ শফিককেও ফেরান রবিনসন।

আর্চারের বলে হকচকিয়ে ব্যাট চালিয়ে শান মাসুদ বিদায় নিলে মাত্র ২৬ রানেই পাকিস্তান হারায় ৪ উইকেট। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে থাকা অধিনায়ক বাবর আজমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৫তম ওভারে তাঁর অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেন টং।

পাকিস্তানের তিন অভিষিক্ত-গাজী ঘোরি, মোহাম্মদ ইমরান ও রেজাউল্লাহ-কেউই প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দ্রুতই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।

শেষ দিকে সাউদ শাকিল ও মোহাম্মদ আব্বাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে দলের সবচেয়ে বড় জুটি আসে একেবারে শেষ উইকেটে। আব্বাস ও আলি মিলে যোগ করেন ২৬ রান। তাতেই কোনোরকমে ১৩৩ রানে পৌঁছায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত মাঠ তৈরির উদ্যোগ

0

বগুড়া, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার বিকেলে বগুড়ায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন করে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এরই মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে।

বগুড়ায় ‘আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বগুড়ায় দ্রুত একটি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দ্রুতই এর বাস্তবায়ন করা হবে।

খেলার মাঠে দর্শকদের বসার জায়গার সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, মাঠের চারপাশে খুব দ্রুত গ্যালারি নির্মাণ করা হবে। ভবিষ্যতে সেই গ্যালারিতে বসেই দর্শকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারবেন।

এ সময় মাঠটির সঙ্গে নিজের পুরোনো স্মৃতিও তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে তিনি নিজে এই মাঠে এসে খেলেছেন। সেই মাঠে আবার ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পেরে তার ভালো লাগছে বলেও জানান তিনি।

দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের মাদক ও নানা ধরনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিসর আরও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তানদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ কাজে দর্শকসহ দেশের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ, মাদকমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে বগুড়া সিটি করপোরেশন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

অভিষেকেই ১৫০, হার্মানের অনন্য কীর্তি

0

নিয়মিত ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়েছিলেন জর্ডান হার্মান। সেই সুযোগটা কী দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই ওপেনার! ওয়ানডে অভিষেকেই খেললেন ১৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। গড়লেন বিরল এক কীর্তিও—ওয়ানডে অভিষেকে দেড়শ রানের ইনিংস খেলা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান তিনি।

নামিবিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার দলে নেই টেম্বা বাভুমা, এইডেন মার্করামসহ নিয়মিত অনেক ক্রিকেটার। নতুন চেহারার দলে কনর এস্তেহেইজেনের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধনের দায়িত্ব পান ২৪ বছর বয়সী হার্মান।

সুযোগ পেয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন হার্মান। ১২৬ বলের ইনিংসে ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ১৫০ রান। ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা ২০তম ক্রিকেটার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চম ব্যাটসম্যান তিনি।

তবে হার্মানের কীর্তি শুধু সেঞ্চুরিতে থামেনি। ওয়ানডে ইতিহাসে অভিষেক ইনিংসেই ১৫০ রান করা দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হয়েছেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, এই তালিকার প্রথম ব্যাটসম্যানও দক্ষিণ আফ্রিকার। গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে অভিষেক ম্যাচে ১৪৮ বলে ১৫০ রান করেছিলেন ম্যাথু ব্রিটস্কি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৫টি ছক্কা।

হার্মানের আগে ওয়ানডে অভিষেকে সবশেষ সেঞ্চুরিও করেছিলেন ব্রিটস্কি। এবার তাঁর পাশে নাম লেখালেন হার্মান।

ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরির কীর্তি প্রথম গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের ডেনিস অ্যামিস। ১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাসের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ওয়ানডে অভিষেকে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন কলিন ইনগ্রাম। পরে এই তালিকায় নাম লেখান বাভুমা ও রিজা হেনড্রিকসও।

নামিবিয়ার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে খেলেন হার্মান। ৬১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর অবশ্য দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৯৩ বলে স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের রান। দ্বিতীয় পঞ্চাশ পেতে তাঁর লাগে মাত্র ৩২ বল।

এরপরও থামেননি হার্মান। ১২৫ বলে পূর্ণ করেন দেড় শ। তাঁর তৃতীয় পঞ্চাশও আসে ৩২ বলে। তবে পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। থামে তাঁর রেকর্ড গড়া ইনিংসেরও।

হার্মানের ১৫০ রানের পাশাপাশি টনি ডি জর্জির ৭২ রানে ভর করে নির্ধারিত সময়ে ৬ উইকেটে ৩৪৮ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাপোলি-আর্সেনাল মহারণ

0

নেপলসে জয়ের স্বপ্ন গানারদের, সম্ভাব্য একাদশ ও ম্যাচের পূর্বাভাস

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমের শুরুতেই বড় পরীক্ষায় নামছে নাপোলি ও আর্সেনাল। নেপলসের স্তাদিও দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনায় মুখোমুখি হবে ২০২৪–২৫ সিরি আ চ্যাম্পিয়ন নাপোলি এবং ২০২৫–২৬ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল।

ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চে নতুন মৌসুমের শুরুতেই জমে উঠতে যাচ্ছে নাপোলি বনাম আর্সেনাল লড়াই। একদিকে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রানার্স-আপ আর্সেনাল, অন্যদিকে গতবার লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া নাপোলি। তাই দুই দলের লক্ষ্যও পরিষ্কার—আর্সেনালের চোখ শিরোপায়, আর নাপোলির প্রথম লক্ষ্য নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া।

দারুণ ছন্দে আর্সেনাল

মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে মিকেল আর্তেতার দলের। কমিউনিটি শিল্ডে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারানোর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানও টানা তিন জয় দিয়ে শুরু করেছে আর্সেনাল।

সর্বশেষ ম্যাচে চেলসির বিপক্ষেও কঠিন লড়াইয়ের পর জয় পেয়েছে গানাররা। ফলে নাপোলির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকার কথা নয়।

আর্সেনালের আরেকটি বড় শক্তি তাদের স্কোয়াডের গভীরতা। গত মৌসুমের শক্তিশালী দলটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে তারা। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিলেও দলের সামগ্রিক মান খুব বেশি কমার কথা নয়।

আক্রমণভাগে বিশেষ নজর থাকবে বুকায়ো সাকা ও মার্টিন ওডেগার্ডের দিকে। দুজনই দারুণ ফর্মে রয়েছেন এবং নাপোলির রক্ষণকে বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারেন।

আর্সেনালের রক্ষণও বড় ভরসা

শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণেও দুর্দান্ত আর্সেনাল। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত মরগান রজার্সই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তাদের বিপক্ষে গোল করতে পেরেছেন।

প্রিমিয়ার লিগের প্রথম তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাত্র ০.৯ প্রত্যাশিত গোল (xG) করতে দিয়েছে আর্সেনাল। চোটের সমস্যার মধ্যেও আর্তেতার রক্ষণভাগ নিজেদের সংগঠিত রাখতে পেরেছে।

এই শক্ত রক্ষণই নাপোলির বিপক্ষে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিপাকে নাপোলি

আর্সেনালের বিপরীতে নাপোলির মৌসুমের শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। আন্তোনিও কন্তের বিদায়ের পর নতুন কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির অধীনে এখনো পুরোপুরি স্থির হতে পারেনি দলটি।

নাপোলি তাদের সর্বশেষ দুটি ম্যাচে হেরেছে—কোমো এবং ইন্টারের বিপক্ষে।

বিশেষ করে ইন্টারের বিপক্ষে ৩–২ গোলের হারটি ছিল বেশ হতাশাজনক। সান সিরোতে একসময় দুই গোলের লিড নিয়েছিল নাপোলি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি তারা।

আলেগ্রির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। আর সেই জায়গাতেই আর্সেনালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নাপোলিকে ভুগতে হতে পারে।

মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে আর্সেনাল

ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ইতালিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে ৪০ ম্যাচ খেলে ২১টিতে জয় পেয়েছে আর্সেনাল।

নাপোলির বিপক্ষেও তাদের রেকর্ড ভালো। দুই দল এর আগে মোট চারবার মুখোমুখি হয়েছে। আর্সেনাল জিতেছে তিন ম্যাচে।

সবশেষ দুটি সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০১৮–১৯ ইউরোপা লিগে। দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছিল ইংলিশ ক্লাবটি।

আরও একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, দুই দলের আগের চার ম্যাচের কোনো একটিতেই উভয় দল গোল করতে পারেনি।

গত চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও দুর্দান্ত ছিল গানাররা

গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে আট ম্যাচের আটটিতেই জয় পেয়েছিল আর্সেনাল। এর ফলে লিগ পর্বের টেবিলের শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে যায় তারা।

পুরো টুর্নামেন্টে ৯০ মিনিটের হিসেবে অপরাজিত ছিল গানাররা। একমাত্র পরাজয় এসেছিল ফাইনালে।

এই পরিসংখ্যানও নাপোলির বিপক্ষে আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে।

নাপোলির সম্ভাব্য একাদশ

নাপোলির জন্য বড় ধাক্কা স্কট ম্যাকটমিনের অনুপস্থিতি। সামান্য হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির কারণে স্কটিশ মিডফিল্ডারটি আপাতত মাঠের বাইরে থাকবেন।

চোটের কারণে নেই আলেসান্দ্রো বুওনজর্নো ও লুকা মারিয়ানুচ্চিও। হার্নিয়ার কারণে জিওভানেও খেলতে পারবেন না।

অ্যাডাক্টর চোটের কারণে আন্দ্রে-ফ্রাঙ্ক জাম্বো আনগিসার খেলার সম্ভাবনা নেই। ডেভিড নেরেসের অংশগ্রহণ নিয়েও রয়েছে সংশয়।

আনগিসার জায়গায় মিডফিল্ডে দেখা যেতে পারে সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি তারকা কেভিন ডি ব্রুইনেকে। আর আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্ট্রাইকার রাসমুস হইলুন্দের।

নাপোলির সম্ভাব্য একাদশ (৪-৩-৩):
মেরেত; দি লরেঞ্জো, রাহমানি, মারিন, স্পিনাজোলা; ডি ব্রুইনে, লোবটকা, ভারগারা; পলিতানো, হইলুন্দ, সান্তোস।

আর্সেনালের সম্ভাব্য একাদশ

চেলসির বিপক্ষে জয়ের পর একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনতে পারেন আর্তেতা।

রক্ষণে উইলিয়াম সালিবা ও ক্রিসথিয়ান মোসকেরা অনুপস্থিত থাকবেন। তবে চোট কাটিয়ে জুরিয়েন টিম্বার দলের সঙ্গে নেপলসে গেছেন। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের পর প্রথমবার মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারেন তিনি।

মিডফিল্ডে মার্তিন সুবিমেন্দিকে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রুনো গিমারায়েসও প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আর্সেনালের হয়ে শুরু করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ডেকলান রাইসকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে।

আক্রমণে কাই হাভার্টজের পরিবর্তে ভিক্টর গিয়োকেরেসকে দেখা যেতে পারে। বাঁ প্রান্তে এবেেরেচি এজে সুযোগ পেতে পারেন, ফলে গ্রীষ্মের নতুন সংযোজন ক্রিস্তোস তজোলিস বেঞ্চে থাকতে পারেন।

আর্সেনালের সম্ভাব্য একাদশ (৪-২-৩-১):
রায়া; হোয়াইট, কনসা, গ্যাব্রিয়েল, হিনকাপিয়ে; সুবিমেন্দি, গিমারায়েস; সাকা, ওডেগার্ড, এজে; গিয়োকেরেস।

কখন, কোথায় নাপোলি বনাম আর্সেনাল?

  • ম্যাচ: নাপোলি বনাম আর্সেনাল
  • প্রতিযোগিতা: উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
  • ভেন্যু: স্তাদিও দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা, নেপলস, ইতালি
  • তারিখ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর
  • কিক-অফ: রাত ৮টা BST / বিকেল ৩টা ET / দুপুর ১২টা PT
  • রেফারি: গ্লেন নিয়বার্গ (সুইডেন)
  • VAR: কার্লোস দেল সেরো গ্রান্দে (স্পেন)

ম্যাচের পূর্বাভাস

নেপলসের উত্তপ্ত পরিবেশ নাপোলিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা, আর্সেনালের শক্ত রক্ষণ এবং সাম্প্রতিক মুখোমুখি রেকর্ড—সবকিছু বিবেচনায় ম্যাচে এগিয়ে থাকবে গানাররাই।

নাপোলি এখনো আলেগ্রির অধীনে নিজেদের সেরা ভারসাম্য খুঁজছে। বিপরীতে আর্সেনাল মৌসুমের শুরুতেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। ফলে নাপোলির রক্ষণে সামান্য ফাঁক পেলেই তা কাজে লাগাতে পারে আর্তেতার দল।

পূর্বাভাস: নাপোলি ০–২ আর্সেনাল।

অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের সামনে আতলেতিকো

0

চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন মৌসুমের শুরুতেই বড় পরীক্ষার সামনে লিভারপুল। আজ রাতে অ্যানফিল্ডে স্প্যানিশ জায়ান্ট আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ইংলিশ ক্লাবটি। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচ। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচেই দুই দলের লড়াই তাই বাড়তি উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।

নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক হতে যাচ্ছে লিভারপুলের। অ্যানফিল্ডে নিজেদের দর্শকদের সামনে শুরুটা জয় দিয়ে করতে চাইবে দলটি। ইরাওলার অধীনে লিভারপুলের খেলায় উচ্চপ্রেসিং ও সংগঠিত আক্রমণের ছাপ দেখা যাচ্ছে। দলে ভির্জিল ফন ডাইক, আলিসন, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও আলেকজান্ডার ইসাকের মতো তারকারা থাকায় আক্রমণ ও রক্ষণ-দুই বিভাগেই প্রত্যাশা থাকবে বড়।

অন্যদিকে আতলেতিকো মাদ্রিদকে নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ কোচ দিয়েগো সিমিওনে। তবে ম্যাচের আগে কিছুটা অস্বস্তিতে স্প্যানিশ দলটি। সর্বশেষ লিগ ম্যাচে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগে সেই হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন সিমিওনের দলের লক্ষ্য।

আতলেতিকোর আক্রমণভাগেও রয়েছে অনিশ্চয়তা। আলেক্সান্ডার সর্লোথ চোটে বাইরে, আর নতুন ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিডও পুরোপুরি প্রস্তুত নন। জুলিয়ান আলভারেজকেও শুরু থেকে খেলানোর বিষয়ে সিমিওনে সতর্ক। ফলে অ্যানফিল্ডে গোলের জন্য নতুন সমীকরণ খুঁজতে হবে স্প্যানিশ দলটিকে।

তবে আতলেতিকোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই লিভারপুলের। চ্যাম্পিয়নস লিগে সিমিওনের দল বরাবরই কঠিন প্রতিপক্ষ। অ্যানফিল্ডের উত্তপ্ত পরিবেশ, লিভারপুলের আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং আতলেতিকোর জমাট রক্ষণ-সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে পারে কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা।

যে কারণে ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত পন্টিং

0

ক্রিকেটের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিতে জায়গা ধরে রাখতে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য। বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বিস্তারের কারণে ভবিষ্যতে ৫০ ওভারের ক্রিকেট আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তবে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন তিনি।

পন্টিংয়ের মতে, সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে ওয়ানডের গুরুত্ব কমার সম্ভাবনাই বেশি। টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট চালু হওয়ায় ক্রিকেটের সূচিতে কোনো একটি সংস্করণকে জায়গা ছাড়তে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘সময় যত এগোবে, বিশ্বজুড়ে যত বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা হবে এবং আরও বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট শুরু হবে, ততই ৫০ ওভারের ক্রিকেট কম খেলা হবে। এটি অনিবার্য। সত্যি বলতে, বিষয়টি আমি খুব একটা পছন্দ করি না। আমি এই ফরম্যাটে খেলতে ভালোবাসি। কিন্তু কোথাও না কোথাও কিছু একটা ছাড়তে হবে। আর সবচেয়ে স্পষ্ট বিকল্প হলো ৫০ ওভারের ক্রিকেট।’

টেস্ট ক্রিকেট অবশ্য এখনো শক্ত অবস্থানে আছে বলে মনে করেন পন্টিং। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় ক্রিকেটীয় দেশগুলো টেস্টকে গুরুত্ব দিয়ে গেলে এই সংস্করণ টিকে থাকবে বলে বিশ্বাস তাঁর।

তবে টি-টোয়েন্টি লিগের বিস্তার যে ক্রিকেটারদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে, সেটিও স্বীকার করেছেন পন্টিং। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য এসব ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।

পন্টিং বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এসব টুর্নামেন্ট থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন খেলোয়াড়েরাই। ডব্লিউসিএলের মতো একটি টুর্নামেন্ট ক্যারিয়ারের শেষ দিকে থাকা অনেক খেলোয়াড়কে উপার্জনের সুযোগ দেয়।’

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার মনে করেন, ভবিষ্যতে ক্রিকেট ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো কাঠামোর দিকে এগোতে পারে। তবে ক্রিকেটে থাকা বিপুলসংখ্যক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে এমন কাঠামো চালু করা সহজ হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

ওয়ার্নারের ভাষায়, ‘আমি সবসময় ভেবেছি, সময়ের সঙ্গে ক্রিকেট সম্ভবত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো মডেলের দিকে যাবে। কিন্তু ক্রিকেটে এতগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা থাকায় বিষয়টি কঠিন। স্থানীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যার নিয়মও পুরোপুরি বদলাতে হবে।’

অভিষেকেই হাসানের সাথে জ্বলে উঠলেন খালেদ

0

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার একসঙ্গে খেলতে নেমেই আলো ছড়ালেন বাংলাদেশের দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে প্রথম দিন হাসান নিয়েছেন ৪ উইকেট, খালেদের শিকার ৩। বাংলাদেশের দুই পেসারের দারুণ বোলিংয়ের পরও অবশ্য প্রথম ইনিংসে ৩০০ রান তুলেছে ডার্বিশায়ার।

ডার্বির কাউন্টি গ্রাউন্ডে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা কেন্টের হয়ে প্রথম ওভারেই বল হাতে পান হাসান। প্রথম দুই বলেই জোড়া উইকেট নিয়ে শুরুটা করেন স্বপ্নের মতো। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে বাড়তি লাফ পাওয়া বলে স্লিপে জ্যাক ক্রলির হাতে ক্যাচ দেন হ্যারি কেইম। পরের বলেই তীক্ষ্ণভাবে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন ম্যাথু মন্টেগোমারি।

আগের তিন ম্যাচে প্রথম ওভার করার সুযোগ পাননি হাসান। এবার সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের জানান দেন এই পেসার। পরে আরও দুই উইকেট নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেন ৪ উইকেট নিয়ে। ১৫.৫ ওভার বল করে ৩০ রান দিয়েছেন তিনি।

হাসানের জোড়া আঘাতের পর ডার্বিশায়ারের ব্যাটিংয়ে আবারও চাপ তৈরি করেন খালেদ। প্রথম পরিবর্তন বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে তৃতীয় ওভারেই পান নিজের প্রথম কাউন্টি উইকেট। ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ করেন তরুণ মুহাম্মেদ নাইমকে। এরপর অভিজ্ঞ ওয়েন ম্যাডসেনকেও একইভাবে ফেরান বাংলাদেশের এই পেসার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি রান করা ম্যাডসেন থামেন ২৯ রানে।

লাঞ্চের আগে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ডার্বিশায়ার। পরে মার্টিন অ্যান্ডারসন ও লুইস রিসের ৯১ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তারা। রিসকে ৩২ রানে ফেরান একানশ সিং। এরপর ব্রুক গেস্টকে এলবিডব্লিউ করে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন হাসান।

একপর্যায়ে ৭ উইকেটে ১৭২ রানে নেমে আসা ডার্বিশায়ারকে শেষ পর্যন্ত ৩০০ রানে নিয়ে যান অ্যান্ডারসন। ব্রেট র‌্যান্ডালের সঙ্গে তাঁর ৮৪ রানের জুটি দলকে বড় ধস থেকে বাঁচায়। র‌্যান্ডাল ২৯ রানে ফিরলেও অ্যান্ডারসন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১২৯ রানে। ১৯০ বলের ইনিংসে ছিল ১৫টি চার।

শেষ দিকে জ্যাক মর্লিকে বোল্ড করে নিজের তৃতীয় উইকেট পূর্ণ করেন খালেদ। আর শেষ ব্যাটসম্যান শোয়েব বাশিরকে এলবিডব্লিউ করে ডার্বিশায়ারের ইনিংস শেষ করেন হাসান।

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের প্রথম ম্যাচেই খালেদের ৩ উইকেট এসেছে ৭৩ রানে। অন্যদিকে আগের ম্যাচে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৭ উইকেট নেওয়া হাসানের এবারের ৪ উইকেট নিয়ে চার ম্যাচে তাঁর শিকার দাঁড়িয়েছে ২৩।

ডার্বিশায়ারের ৩০০ রানের জবাবে দিন শেষে কেন্টের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১১ রান।