নিয়মিত ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়েছিলেন জর্ডান হার্মান। সেই সুযোগটা কী দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই ওপেনার! ওয়ানডে অভিষেকেই খেললেন ১৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। গড়লেন বিরল এক কীর্তিও—ওয়ানডে অভিষেকে দেড়শ রানের ইনিংস খেলা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান তিনি।
নামিবিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার দলে নেই টেম্বা বাভুমা, এইডেন মার্করামসহ নিয়মিত অনেক ক্রিকেটার। নতুন চেহারার দলে কনর এস্তেহেইজেনের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধনের দায়িত্ব পান ২৪ বছর বয়সী হার্মান।
সুযোগ পেয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন হার্মান। ১২৬ বলের ইনিংসে ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ১৫০ রান। ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা ২০তম ক্রিকেটার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চম ব্যাটসম্যান তিনি।
তবে হার্মানের কীর্তি শুধু সেঞ্চুরিতে থামেনি। ওয়ানডে ইতিহাসে অভিষেক ইনিংসেই ১৫০ রান করা দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হয়েছেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, এই তালিকার প্রথম ব্যাটসম্যানও দক্ষিণ আফ্রিকার। গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে অভিষেক ম্যাচে ১৪৮ বলে ১৫০ রান করেছিলেন ম্যাথু ব্রিটস্কি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৫টি ছক্কা।
হার্মানের আগে ওয়ানডে অভিষেকে সবশেষ সেঞ্চুরিও করেছিলেন ব্রিটস্কি। এবার তাঁর পাশে নাম লেখালেন হার্মান।
ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরির কীর্তি প্রথম গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের ডেনিস অ্যামিস। ১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাসের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ওয়ানডে অভিষেকে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন কলিন ইনগ্রাম। পরে এই তালিকায় নাম লেখান বাভুমা ও রিজা হেনড্রিকসও।
নামিবিয়ার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে খেলেন হার্মান। ৬১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর অবশ্য দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৯৩ বলে স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের রান। দ্বিতীয় পঞ্চাশ পেতে তাঁর লাগে মাত্র ৩২ বল।
এরপরও থামেননি হার্মান। ১২৫ বলে পূর্ণ করেন দেড় শ। তাঁর তৃতীয় পঞ্চাশও আসে ৩২ বলে। তবে পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। থামে তাঁর রেকর্ড গড়া ইনিংসেরও।
হার্মানের ১৫০ রানের পাশাপাশি টনি ডি জর্জির ৭২ রানে ভর করে নির্ধারিত সময়ে ৬ উইকেটে ৩৪৮ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।


