Home Blog Page 16

নারী এশিয়া কাপ – বাঁচা মরার ম্যাচে আরব আমিরাতের মুখোমুখি বাংলাদেশ

0

নারী এশিয়া কাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে বাঁচা-মরার সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুবাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলেও ব্যাটারদের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল না। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয় ও ফিল্ডিংয়ের ভুল বড় ব্যবধানে জয় হাতছাড়া করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুই ম্যাচে মাত্র ১২৯ ও ১১৪ রানের সংগ্রহ ব্যাটিং বিভাগের দুর্বলতাই সামনে এনেছে। লঙ্কানদের বিরুদ্ধে বোলাররা স্বল্প পুঁজিতে লড়াইয়ের বার্তা দিলেও মিসফিল্ডিং ও ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হয় দলকে।

ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ের এই ঘাটতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি। অতীতের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি জানান, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে থেকেই ব্যাটিং ও ফিল্ডিং নিয়ে বাড়তি কাজ করা হলেও কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় ভুলগুলো বারবার ফিরে আসছে। তবে অতীত ভুল ও ব্যাটিংয়ের দুশ্চিন্তা পেছনে ফেলে আপাতত পুরো দল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রতিপক্ষ আরব আমিরাতকে হালকাভাবে না নিয়ে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। সমীকরণ অনুযায়ী এই ম্যাচে জয় পেলে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। তবে এখনই সেমিফাইনালের সমীকরণ বা প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে সম্পূর্ণ নজর সমনে থাকা ম্যাচটির ওপর রাখছে টাইগ্রেসরা।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে দুই দলের লড়াই।

ওসাকাকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে রিবাকিনা

0

ইউএস ওপেনের শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এলেনা রিবাকিনা। দুইবারের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন নাওমি ওসাকাকে কোনো সুযোগই দিলেন না কাজাখস্তানের দ্বিতীয় বাছাই এই তারকা। লুই আর্মস্ট্রং স্টেডিয়ামে মাত্র ৬৬ মিনিটের লড়াইয়ে ৬-১, ৬-৪ গেমে ওসাকাকে উড়িয়ে দিয়েছেন রিবাকিনা।

এই জয়ের ফলে ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন ২৭ বছর বয়সী রিবাকিনা। শেষ আটে তাঁর প্রতিপক্ষ চীনের ঝেং কিনওয়েন। আর এই ম্যাচটি জিততে পারলেই রিবাকিনা প্রথমবারের মতো নারী টেনিসের বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠবেন। এমনকি বর্তমান এক নম্বর আরিনা সাবালেঙ্কা নিউইয়র্কে নিজের শিরোপা ধরে রাখলেও রিবাকিনার শীর্ষস্থান দখল ঠেকানো যাবে না।

র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে অবশ্য বাড়তি চাপ নিতে চান না রিবাকিনা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি এটা চাই। এমন কেউ আছে বলে মনে হয় না, যে এটা চাইবে না।’ তবে পরের ম্যাচ নিয়েই মনোযোগী থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি ম্যাচের মতো পরের ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে চান।

ওসাকার বিপক্ষে রিবাকিনার পারফরম্যান্স ছিল প্রায় নিখুঁত। বিশেষ করে সার্ভিসে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। পুরো ম্যাচে নিজের সার্ভিস থেকে মাত্র চার পয়েন্ট হারিয়েছেন তিনি। বিপরীতে চারবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ওসাকা নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি। ম্যাচে রিবাকিনা মেরেছেন সাতটি এস ও ২৯টি উইনার। ওসাকার উইনার ছিল মাত্র নয়টি।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন রিবাকিনা। প্রথম সেটে ওসাকার সার্ভিস দুবার ভেঙে দ্রুত ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। এরপর নিজের সার্ভিস ধরে মাত্র ২১ মিনিটেই প্রথম সেট নিজের করে নেন। শক্তিশালী সার্ভিসের পাশাপাশি গভীর গ্রাউন্ডস্ট্রোক দিয়ে ওসাকাকে কোর্টের পেছনে ঠেলে রাখেন রিবাকিনা।

দ্বিতীয় সেটের শুরুতে অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ওসাকা। একবার রিবাকিনার সার্ভিস ভাঙার সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন রিবাকিনা। ৪-৩ গেমে এগিয়ে যেতে ওসাকার সার্ভিস ভেঙে দেন তিনি। সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

এলেনা রিবাকিনা

শেষ পর্যন্ত নিজের সার্ভিস ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করেন রিবাকিনা। ওসাকার পক্ষে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী ও গভীর শট সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ম্যাচের শেষ পয়েন্টের পর রিবাকিনার জয় নিশ্চিত হয় মাত্র ৬৬ মিনিটে।

অন্যদিকে ম্যাচ শেষে ওসাকা জানান, পায়ে ব্যথার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ফলে রিবাকিনার বিপক্ষে নিজের স্বাভাবিক পারফরম্যান্স করতে পারেননি চারবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী জাপানি তারকা। এবারের ইউএস ওপেনের আগে অবশ্য আত্মবিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ ছিল তাঁর। প্রথম তিন ম্যাচে কোনো সেট না হেরেই চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছিলেন ওসাকা। কিন্তু রিবাকিনার বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বর্তমান অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন রিবাকিনার সামনে এখন বড় সুযোগ। কোয়ার্টার ফাইনালে ঝেং কিনওয়েনকে হারাতে পারলেই প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেনিসের শীর্ষে উঠবেন তিনি। তবে কাজটি সহজ হবে না। চীনের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ঝেংও দুর্দান্ত লড়াই করে শেষ আটে উঠেছেন। চতুর্থ রাউন্ডে একসময় প্রথম সেটে ০-৫ গেমে পিছিয়ে থেকেও সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইগা শিয়নটেককে হারিয়েছেন তিনি।

টিভিতে আজকের খেলা: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0

নারী এশিয়ান কাপে আছে বাংলাদেশ-ইউএই ম্যাচ। চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বড় ম্যাচটা রিয়াল মাদ্রিদ-ইন্টার মিলানের।

ক্রিকেট
নারী এশিয়ান কাপ ক্রিকেট

বাংলাদেশ-ইউএই
রাত ৮-৩০ মি., টি স্পোর্টস

টেনিস
ইউএস ওপেন

কোয়ার্টার ফাইনাল
রাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস ১ ও ২

ফুটবল
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ

ক্লাব ব্রুগা-অ্যাস্টন ভিলা
রাত ১০-৪৫ মি., সনি টেন ২, ট্যাপমেড
রিয়াল মাদ্রিদ–ইন্টার মিলান
রাত ১টা, সনি টেন ২, ট্যাপমেড
এইকে এথেন্স-লিনৎস
রাত ১০-৪৫ মি., সনি লিভ, ট্যাপমেড
ডর্টমুন্ড-ভিয়ারিয়াল
রাত ১টা, সনি লিভ, ট্যাপমেড
পোর্তো-ম্যান সিটি
রাত ১টা, সনি লিভ, ট্যাপমেড
লিল-বেতিস
রাত ১টা, সনি লিভ, ট্যাপমেড

নাশরা সান্ধুর রেকর্ড বোলিংয়ে সেমিফাইনালে পাকিস্তান

0

হংকংকে ৭২ রানে হারিয়ে শেষ চারে পাকিস্তান, ৬ উইকেটে ৭ রান নিয়ে ইতিহাস গড়লেন নাশরা সান্ধু

নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হংকংকে ৭২ রানে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়েছে ফাতিমা সানার দল। পাকিস্তানের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাঁহাতি স্পিনার নাশরা সান্ধু। মাত্র ৭ রান খরচ করে ৬ উইকেট নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

এই ম্যাচে প্রথম পাকিস্তানি বোলার হিসেবে নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন নাশরা। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৭১ রানেই গুটিয়ে যায় হংকং। ফলে ১৪৪ রানের লক্ষ্য পেয়েও ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি তারা।

পাকিস্তানের ইনিংস

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। এবারের টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে তারা।

শুরুতে খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না পাকিস্তান। তবে শাওয়াল জুলফিকার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। ৩৫ বল মোকাবিলা করে ৪৭ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার।

জুলফিকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন আয়েশা জাফর। দুজন মিলে ৩৪ বলে ৪৭ রান যোগ করেন। জাফর ১৯ বলে ২৬ রান করে আউট হন।

অধিনায়ক ফাতিমা সানাও ব্যাট হাতে কার্যকর অবদান রাখেন। ২৪ বলে ২৪ রান করেন তিনি। তবে জুলফিকার ফিরে যাওয়ার পর পাকিস্তানের রান তোলার গতি কমে যায়। তার আউটের পর ৮.৪ ওভারে মাত্র ৫১ রান যোগ করতে পারে পাকিস্তান।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রানের সংগ্রহ পায় ফাতিমা সানার দল।

১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করলেন জয়লিন কৌর।

চার উইকেট নিয়ে উজ্জ্বল জয়লিন

পাকিস্তানের বিপক্ষে হংকংয়ের সেরা বোলার ছিলেন জয়লিন কৌর। ধীরগতির উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিনি ৪ উইকেট নেন ১৯ রান খরচ করে। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।

পাকিস্তানি ব্যাটারদের বড় শট খেলার সুযোগ না দিয়ে অফ স্টাম্পের বাইরে বল করে যেতে থাকেন কৌর। তার বোলিংয়ের ফাঁদে পড়ে আয়েশা জাফর ও জুলফিকার।

শেষ ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে নিজের চার উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। সাদাফ শামাস লং-অনে ক্যাচ দেন। এরপর ইমান ফাতিমাকে এলবিডব্লিউ করেন কৌর।

শুরুতেই চাপে হংকং

পাকিস্তানের দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে হংকংকে ১২.৩ ওভারের মধ্যে ম্যাচ জিততে হতো। কারণ সেমিফাইনালের দৌড়ে রানরেটের হিসাবও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে শুরু থেকেই কঠিন পরীক্ষায় পড়ে হংকং। প্রথম ওভারেই মারিকো হিলের প্রতিরোধ ভেঙে দেন ফাতিমা সানা।

দ্বিতীয় ওভারের শুরুতেই সাদিয়া ইকবাল আর্ম বল দিয়ে নাতাশা মাইলসকে এলবিডব্লিউ করেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে হংকং।

ক্যারি চ্যান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ৩০ রান করে তিনিই হন হংকংয়ের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।

নাশরা সান্ধুর রেকর্ড

হংকংয়ের ইনিংসের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে নাশরা সান্ধুর স্পেলে। পাওয়ারপ্লের পর আক্রমণে এসে বাঁহাতি এই স্পিনার পুরো ম্যাচের চিত্রই বদলে দেন।

তার নিখুঁত লাইন ও লেংথের সামনে কোনোভাবেই স্বস্তিতে ব্যাট করতে পারেনি হংকংয়ের ব্যাটাররা। নাশরা শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন।

নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি পাকিস্তানের কোনো বোলারের প্রথম ছয় উইকেটের ঘটনা। একই সঙ্গে তার ৬ উইকেটে ৭ রান এশিয়া কাপের ম্যাচটিকেও আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

নাশরার ফ্লাইটেড ডেলিভারি ইয়াসমিন দাসওয়ানিকে সমস্যায় ফেলে। এরপর মারিনা ল্যাম্পলফকে বোল্ড করেন তিনি। নিজের পরের ওভারে মাত্র চার বলের মধ্যে মেরিয়াম বিবিকে ক্যাচে পরিণত করেন।

শেষ ওভারে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন নাশরা। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম দুটি উইকেট আসে টানা দুই বলে। প্রতিটি উইকেটের পর তার উদযাপনে বাড়তে থাকে উচ্ছ্বাস।

শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ৭১ রানে অলআউট হয় হংকং। নাশরা সান্ধুর ৬ উইকেটের পাশাপাশি পাকিস্তানের বোলিং ইউনিটও পুরো ম্যাচে ছিল দুর্দান্ত।

সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বে তাদের জয় এসেছে একটি ম্যাচে। শেষ ম্যাচে হংকংকে হারিয়ে সেই জয়টিই তাদের শেষ চারে জায়গা করে দিয়েছে।

সেমিফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের লড়াই।

অন্যদিকে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে হংকং। পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের ফলে গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়েছে তাদের এশিয়া কাপ অভিযান।

স্কোরকার্ড

পাকিস্তান — ১৪৩/৮ (২০ ওভার)
শাওয়াল জুলফিকার — ৪৭ (৩৫)
আয়েশা জাফর — ২৬ (১৯)
ফাতিমা সানা — ২৪*
অন্যান্য — প্রয়োজন অনুযায়ী
বোলিং: জয়লিন কৌর ৪/১৯

হংকং — ৭১ (১৯ ওভার)
ক্যারি চ্যান — ৩০ (৪৭)
অন্যান্য — উল্লেখযোগ্য নয়
বোলিং: নাশরা সান্ধু ৬/৭

ফল: পাকিস্তান ৭২ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচের পারফরম্যান্স: নাশরা সান্ধু — ৬ উইকেটে ৭ রান।
পরবর্তী ম্যাচ: সেমিফাইনালে পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা, শুক্রবার।

জাতীয় জুনিয়র কুস্তি – বালকে নারায়ণগঞ্জ ও বালিকায় নড়াইল চ্যাম্পিয়ন

0

বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় সমাপ্ত হলো দুই দিনব্যাপী ‘৩০তম জাতীয় জুনিয়র কুস্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬’। জমজমাট এই প্রতিযোগিতায় বালক বিভাগে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং বালিকা বিভাগে নড়াইল জেলা দল শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

রাজধানীর জাতীয় রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উদীয়মান কুস্তিগীরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই আসর। খেলা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ও বিজিত দলের মাঝে পদক ও ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

বালক বিভাগের ফলাফল

বালক বিভাগে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে শিরোপা জিতেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা দল। তারা ৩টি স্বর্ণ ও ১টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৪টি পদক অর্জন করে টেবিলের শীর্ষে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়।

  • চ্যাম্পিয়ন: নারায়ণগঞ্জ জেলা (৩টি স্বর্ণ, ১টি ব্রোঞ্জ; মোট: ৪টি পদক)
  • প্রথম রানার্সআপ: নড়াইল জেলা (১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য; মোট: ২টি পদক)
  • দ্বিতীয় রানার্সআপ: খুলনা জেলা (১টি স্বর্ণ, ৪টি ব্রোঞ্জ; মোট: ৫টি পদক)

বালিকা বিভাগের ফলাফল

বালিকাদের বিভাগে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নড়াইল জেলার মেয়েরা। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা সর্বোচ্চ ৫টি স্বর্ণসহ মোট ৭টি পদক ছিনিয়ে নেয়।

  • চ্যাম্পিয়ন: নড়াইল জেলা (৫টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য, ১টি ব্রোঞ্জ; মোট: ৭টি পদক)
  • প্রথম রানার্সআপ: কুড়িগ্রাম জেলা (১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য, ১টি ব্রোঞ্জ; মোট: ৩টি পদক)
  • দ্বিতীয় রানার্সআপ: রংপুর জেলা (১টি স্বর্ণ, ২টি ব্রোঞ্জ; মোট: ৩টি পদক)

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান। তিনি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পদক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে ফেডারেশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান বাবলু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাজহারুল হক (অব.), বাজলুর রহমান ও মোঃ নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন আজাদ এবং কোষাধ্যক্ষ এ কে এম আব্দুল মবিনসহ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা। বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে কুস্তি খেলার প্রসারে এই ধরনের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এশিয়ান গেমসে চার ডিসিপ্লিনে পদকের আশা – অ্যাথলেটরা থাকবেন ক্রুজে

0

কাবাডি, আর্চারি, শুটিং ও ক্রিকেটে পদকের প্রত্যাশা; জাপানে যাচ্ছে ২৬০ সদস্যের বাংলাদেশ দল

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে ২০তম এশিয়ান গেমস। মহাদেশের অন্যতম বড় এই ক্রীড়া আসরে এবার ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। পদকের সম্ভাবনা বিবেচনায় কাবাডি, আর্চারি, শুটিং ও ক্রিকেটকে এগিয়ে রাখছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। পাশাপাশি উশু, জুডো ও কারাতেতেও ভালো ফলের প্রত্যাশা রয়েছে।

এশিয়ান গেমস সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন ও বিওএর সহসভাপতি মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় নির্দিষ্ট কয়েকটি ডিসিপ্লিন থেকে পদকের আশা করছে বাংলাদেশ। তবে প্রতিদিনের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের গেমসে বাংলাদেশের অন্যতম বড় দল যাচ্ছে ক্রিকেট ও হকিতে। পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দল মিলিয়ে ৩০ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকবেন ১১ কর্মকর্তা। হকির দুই দলের ৩৬ খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকবেন ৯ কর্মকর্তা। নারী ফুটবল দলে থাকছেন ২৩ খেলোয়াড় ও সাত কর্মকর্তা।

কাবাডিতে পুরুষ ও নারী দল মিলিয়ে খেলোয়াড় ২৪ জন, সঙ্গে থাকবেন ছয় কর্মকর্তা। আর্চারিতে ১২ খেলোয়াড় ও চার কর্মকর্তাসহ ১৬ সদস্যের দল অংশ নেবে। শুটিংয়ে থাকছেন ১২ খেলোয়াড় ও চার কর্মকর্তা। ব্যাডমিন্টনে পাঁচ খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, টেবিল টেনিসে ছয় খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, ভারোত্তোলনে চার খেলোয়াড় ও তিন কর্মকর্তা এবং উশুতে চার খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা থাকছেন।

এ ছাড়া সার্ফিংয়ে নারী ও পুরুষ একজন করে খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকবেন একজন কর্মকর্তা। সাঁতারে দুই খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, অ্যাথলেটিকসে দুই খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা এবং বক্সিংয়ে দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকবেন তিন কর্মকর্তা।

অ্যাথলেট ভিলেজের বদলে ক্রুজ শিপে আবাসন

এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে সাধারণত একই এলাকায় খেলোয়াড়দের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়, যা ‘অ্যাথলেট ভিলেজ’ নামে পরিচিত। তবে আইচি-নাগোয়ায় আবাসন সংকট থাকায় এবার ভিন্ন পদ্ধতি বেছে নিয়েছে আয়োজকরা। হোটেল, রিসোর্টের পাশাপাশি ক্রুজ শিপেও ক্রীড়াবিদদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের আটটি ডিসিপ্লিনের সদস্যরা থাকবেন একটি ক্রুজ শিপে। সেখানে আর্চারি, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, রেসলিং, টেবিল টেনিস ও উশুর সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি ডিসিপ্লিনগুলোর জন্য বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে কোন দল ঠিক কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানাবে বিওএ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সীমিত উপস্থিতি

এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৬৫ জন কর্মকর্তা ও অফিসিয়াল অংশ নিতে পারবেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪৫ জন অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার জায়গা।

তবে যেসব অ্যাথলেটের পরদিনই প্রতিযোগিতা রয়েছে, তাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে না রাখার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। কারণ খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা।

গেমস শুরুর আগেই মাঠে নামবে নারী ফুটবল

এবার বাংলাদেশের দুটি ডিসিপ্লিন এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই প্রতিযোগিতায় নামবে। নারী ফুটবল দলের ম্যাচ রয়েছে ১৪ ও ১৭ সেপ্টেম্বর। তাই দলটি নির্ধারিত সময়ের আগেই জাপানে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল বর্তমানে চীনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে নারী ক্রিকেট দল ব্যস্ত রয়েছে এশিয়া কাপ নিয়ে। পুরুষ ক্রিকেটাররাও এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে রয়েছেন। পুরুষ ও নারী হকি দলও চীনে অবস্থান করে প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে।

২৬০ সদস্যের কন্টিনজেন্ট

সব মিলিয়ে এবার এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ২৬০ সদস্য। এর মধ্যে পুরুষ অ্যাথলেট ৯০ জন এবং নারী অ্যাথলেট ৯৭ জন। দলের সঙ্গে থাকবেন ৬১ জন পুরুষ কর্মকর্তা ও ১২ জন নারী কর্মকর্তা।

তবে বড় কন্টিনজেন্ট নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেসব ডিসিপ্লিনে পদকের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম, সেসব খেলায় এত বড় বহর পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

জবাবে শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ বলেন, এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার একমাত্র লক্ষ্য পদক জয় নয়। বড় আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদরা অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। অনেক ডিসিপ্লিনে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও এ ধরনের বড় মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করার সুযোগ করে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মকর্তা বাছাইয়ে ফেডারেশনের মনোনয়ন

কন্টিনজেন্টে কর্মকর্তাদের সংখ্যা ও নির্বাচন নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে। বিওএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোচ, ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম দিয়েছে নিজ নিজ ফেডারেশন। বিওএ মূলত মনোনীত কর্মকর্তাদের ন্যূনতম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি যাচাই করেছে।

ডোপিং ও শৃঙ্খলায় বিশেষ নজর

বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের ঘিরে ডোপিং কিংবা শৃঙ্খলাজনিত কোনো ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়েও এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

ইমরোজ আহমেদের তথ্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আলাদা মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের অ্যান্টি-ডোপিং, সেফগার্ডিং এবং প্রতিযোগিতা প্রভাবিত করার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।

জাপানে যাওয়ার আগে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের আচরণবিধি সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কোথায় কীভাবে থাকতে হবে, কোন ধরনের কর্মকাণ্ড করা যাবে কিংবা যাবে না—এসব বিষয়েও দলকে আগেই অবহিত করা হয়েছে।

এশিয়ান গেমসে এবার বড় বহর নিয়ে গেলেও পদকের মূল প্রত্যাশা চার ডিসিপ্লিনে—কাবাডি, আর্চারি, শুটিং ও ক্রিকেট। তবে বিওএর আশা, প্রত্যাশার তালিকার বাইরে থাকা উশু, জুডো ও কারাতের মতো ডিসিপ্লিন থেকেও চমক আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে জাপান থেকে বাংলাদেশের অর্জনের পাল্লা কতটা ভারী হয়।

মেসিকেও ছাড়িয়ে গেছেন ইয়ামাল, দাবি রিয়াল কিংবদন্তির

0

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ফুটবল বিশ্বে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করে ফেলেছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। বয়সের তুলনায় তার পরিণত পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই মুগ্ধ করেছে ফুটবল বিশ্বের অনেক কিংবদন্তিকে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা স্টিভ ম্যাকম্যানাম্যান। তার মতে, এই বয়সে ইয়ামাল যে পর্যায়ে পৌঁছেছেন, সেখানে লিওনেল মেসি কিংবা মাইকেল ওয়েনও তার পেছনে।

সাবেক ইংলিশ উইঙ্গার ম্যাকম্যানাম্যান ইয়ামালকে বর্তমান ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তার বিশ্বাস, এখনকার পারফরম্যান্সই ইয়ামালের সর্বোচ্চ সীমা নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবেন।

রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা স্টিভ ম্যাকম্যানাম্যান

ম্যাকম্যানাম্যানের চোখে ইয়ামালের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তার স্বাভাবিক প্রতিভা ও দ্রুত উন্নতি করার ক্ষমতা। এত অল্প বয়সে বড় মঞ্চে নিয়মিত পারফর্ম করাকে তিনি অসাধারণ বলে মনে করেন। তার মতে, কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারলে ইয়ামালের উন্নতির পথ আরও প্রশস্ত হবে।

তবে ইয়ামালের প্রশংসা করতে গিয়ে একটি বিষয় নিয়ে সতর্কও করেছেন ম্যাকম্যানাম্যান। এত অল্প বয়সে নিয়মিত বড় ম্যাচ খেলা এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠার কারণে চোটের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বার্সেলোনায় তরুণ খেলোয়াড়দের চোটের উদাহরণ টেনে তিনি গাভি ও পেদ্রির কথা উল্লেখ করেন। দুজনই ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গুরুতর চোটের শিকার হয়েছেন। ইয়ামালও এরই মধ্যে পেশির সমস্যায় পড়েছেন। তাই অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার চাপ থেকে তাকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি বলে মনে করেন সাবেক রিয়াল তারকা।

তবে এসব সতর্কতার মাঝেও ইয়ামালকে নিয়ে নিজের মূল্যায়নে কোনো দ্বিধা রাখেননি ম্যাকম্যানাম্যান। তার মতে, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারদের মধ্যে ইয়ামালই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড়, যাকে তিনি দেখেছেন।

এই জায়গাতেই এসেছে সবচেয়ে বড় তুলনা। ইয়ামালের সঙ্গে নিজের সময়ের ইংলিশ তারকা মাইকেল ওয়েন এবং লিওনেল মেসির কৈশোরের তুলনা করেছেন ম্যাকম্যানাম্যান। মেসি যখন ১৭-১৮ বছরের তরুণ, তখনকার পারফরম্যান্সও তার চোখে অসাধারণ ছিল। কিন্তু ইয়ামালকে সেই দুজনের চেয়েও এগিয়ে রাখছেন তিনি।

অর্থাৎ, মেসি ও ওয়েনের মতো সর্বকালের আলোচিত দুই ফুটবলারের কৈশোরের সঙ্গে তুলনা করেও ইয়ামালকে এগিয়ে রাখার মতো প্রতিভা দেখছেন ম্যাকম্যানাম্যান।

এদিকে শুধু ইয়ামাল নয়, বার্সেলোনার আরেক খেলোয়াড় রোনাল্ড আরাউহো নিয়েও কথা বলেছেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা। বর্তমানে লিভারপুলে ধারে থাকা উরুগুইয়ান ডিফেন্ডারকে ইংলিশ ফুটবলের জন্য উপযোগী মনে করেন তিনি।

লিভারপুলে নিজের সামর্থ্যের ছাপ রাখছেন রোনাল্ড আরাউহো।

আরাউহোর রক্ষণাত্মক দক্ষতার প্রশংসা করে ম্যাকম্যানাম্যান বলেন, রাইট-ব্যাক কিংবা সেন্টার-ব্যাক—দুই জায়গাতেই খেলতে পারার সক্ষমতা তাকে বাড়তি সুবিধা দেবে। বিশেষ করে উইংয়ে প্রতিপক্ষের দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডদের সামলানোর ক্ষেত্রেও তার সামর্থ্য রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বিপক্ষে আরাউহোর পারফরম্যান্সের উদাহরণও টেনেছেন ম্যাকম্যানাম্যান। কুন্দে সেন্টার-ব্যাকে চলে গেলে রাইট-ব্যাকে দায়িত্ব নিয়ে ভিনিসিয়ুসকে সামলানোর ক্ষেত্রে আরাউহো ভালো কাজ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শেষ পর্যন্ত ইয়ামালই। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মেসি-ওয়েনের মতো কিংবদন্তিদের কৈশোরের সঙ্গে তুলনা এবং তাদেরও ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি—বার্সেলোনার তরুণ তারকাকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ যে আরও উঁচুতে উঠছে, ম্যাকম্যানাম্যানের মন্তব্যে সেটিই স্পষ্ট।

মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর আরচ্যারী ফেডারেশনের

0

মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় হবে আরচ্যারী প্রশিক্ষণ

​তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান নারী আরচ্যার তুলে আনতে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশন। আজ ধানমণ্ডিস্থ রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এই পদক্ষেপের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তারা।

আরচ্যারী ফেডারেশনের উন্নত কোচিং ফ্যাসিলিটি, ইকুইপমেন্ট এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মালিকানাধীন ডরমিটরিতে থাকা ও সুরক্ষার সুব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। বাংলাদেশের তারকা আরচ্যার বিউটি রায় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে কোচের দায়িত্বে থাকবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত এবং খেলাটির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চতা ও শারীরিক শক্তি সম্পন্ন ৫০ জন মেয়েকে বাছাই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরচ্যারী হুট করে গড়ে ওঠার মতো কোনো খেলা নয় উল্লেখ করে কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল জানান, একটি মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরি করতে সর্বনিম্ন তিন বছর সময় প্রয়োজন হয়। ২০৩২ অলিম্পিক গেমসে দেশকে বড় কোনো সাফল্য এনে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করা হচ্ছে।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী বালিকারা অধিকাংশই স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থী। তাই তাদের পড়াশোনা বন্ধ না করে, বরং স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং পড়ার চাপ কম থাকে এমন সময়ে এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এছাড়া মেয়েদের পারিবারিক জীবন ও পড়াশোনার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

শুরুতে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট এবং ইকুইপমেন্ট সহায়তা ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশন প্রদান করবে। পরবর্তীতে বিশ্বমানের সেরা কোম্পানিগুলোর ডিসকাউন্ট প্রাইজে এসব যন্ত্রপাতি আরও সাশ্রয়ী মূল্যে খেলোয়াড়দের মাঝে সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অর্জিত ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে এবং মহিলা আরচ্যারীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান আংশিক শূন্যতা পূরণ করতেই মূলত এই যৌথ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছোটনের বদলে হেড কোচ টিটু, তদন্তে বাফুফের দ্বৈত নীতি?

0

অ-১৭ নারী দলের জর্ডান সফরে কোচ বদল; মিরোনাকে তদন্তের কারণে বাইরে রাখলেও নওমিকে পাঠানো হচ্ছে এশিয়ান গেমসে

বাংলাদেশ অ-১৭ নারী ফুটবল দলের দায়িত্বে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কয়েক মাস ধরে গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে অনুশীলন করা দলটি এএফসি অ-১৭ বাছাইপর্বের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে জর্ডানে। তবে এই সফরে ছোটন আর প্রধান কোচ থাকছেন না। তার জায়গায় হেড কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাফুফের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর সাইফুল বারী টিটুকে। ছোটন থাকছেন সহকারী কোচ হিসেবে।

মঙ্গলবার জর্ডানের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে অ-১৭ নারী দল। তার আগে সোমবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ।

বাফুফে নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ।

বাংলাদেশ নারী ফুটবলে দীর্ঘদিন ছোটনের অধীনে সাফল্য এসেছে। সেই কোচকে কেন অ-১৭ দলের প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের শুরুতে সরাসরি উত্তর দিতে চাননি কিরণ। পরে তিনি বলেন, টেকনিক্যাল ডাইরেক্টরও মূলত কোচ এবং সাইফুল বারী টিটু প্রো লাইসেন্সধারী। ফেডারেশন তাকে এই দলের জন্য বেশি উপযুক্ত মনে করায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে কোচ পরিবর্তনের পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা। ছোটন মালয়েশিয়ায় রাজশাহী স্টারসের সঙ্গে থাকার সময় অ-১৭ দলের কোচিং স্টাফ মিরোনার সঙ্গে টিটুর দূরত্ব তৈরি হয়। বিষয়টি গড়ায় বাফুফে পর্যন্ত। মিরোনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও জর্ডান সফরের দলে রাখা হয়নি তাকে।

মিরোনাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় কিরণ জানান, তার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে পাঠানো হচ্ছে না।

বাম দিক থেকে মেঘলা রাণী রায়, সাইফুল বারি টিটু ও আলপি আক্তার।

এখানেই উঠছে বাফুফের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন। কারণ, সিনিয়র নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমির বিরুদ্ধে সাফ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়ার পর বাফুফে তদন্ত কমিটি করেছিল। সেই তদন্তের প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। অথচ নওমিকে এবার জাপানে এশিয়ান গেমসের বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একদিকে তদন্ত চলায় মিরোনাকে দল থেকে দূরে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে তদন্তাধীন নওমি নিয়মিতই দলের সঙ্গে সফর করছেন। বাফুফের কাছে এই দুই ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাওয়া হলে কিরণ বলেন, দুই বিষয় এক নয়। তার দাবি, নওমির সঙ্গে দলের কারও কোনো সমস্যা হয়নি। মিরোনাকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ কিছু প্রশ্ন থাকায় তার ক্ষেত্রে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মিরোনা সাবেক জাতীয় ফুটবলার এবং কয়েক বছর ধরে নারী ফুটবলের কোচিং স্টাফের সঙ্গে কাজ করছেন। এর আগে ছোটনসহ অন্য কোচদের অধীনে কাজ করার সময় তার সঙ্গে বড় ধরনের কোনো বিরোধের কথা সামনে আসেনি। কিন্তু টিটু দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

টিটুকে নিয়ে অবশ্য বাফুফের অবস্থান স্পষ্ট। ফেডারেশনের মতে, তার কোচিংয়ের মান ও পেশাগত যোগ্যতা ছোটনের তুলনায় এই দায়িত্বের জন্য বেশি উপযুক্ত। তবে ফুটবলসংশ্লিষ্টদের একটি অংশের প্রশ্ন, টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর হিসেবে টিটুর পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার পর তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত সুফল কতটা পাওয়া যাচ্ছে?

কোচ পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে অ-১৭ দলের সহ-অধিনায়ক আলপি আক্তারের কাছেও জানতে চাওয়া হয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে যান। পরে অধিনায়ক মেঘলার পরামর্শে তিনি বলেন, দুই কোচই ভালো। তারা দুজনের অধীনেই অনুশীলন করেছেন এবং ফেডারেশন যেটিকে ভালো মনে করেছে, সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ এএফসি অ-১৭ বাছাইয়ের আগে দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থাকা কোচকে সরিয়ে নতুন কোচ আনার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে? বিশেষ করে নতুন কোচের সঙ্গে খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া তৈরি করতে সময়ও খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেকটি প্রশ্ন জর্ডান সফর নিয়েও। নারী ফুটবলে জর্ডানের অবস্থান বাংলাদেশের তুলনায় খুব একটা এগিয়ে নয়। ফলে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে সেখানে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের অ-১৭ দলের প্রস্তুতি কতটা সমৃদ্ধ হবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।

সব মিলিয়ে মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি বাফুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও এখন আলোচনায়। কোচ পরিবর্তন, তদন্তাধীন কর্মকর্তাদের বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বিদেশ সফরের যৌক্তিকতা, সব মিলিয়ে জর্ডান সফরের আগেই বাংলাদেশ নারী ফুটবলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

সম্ভাবনাময় খেলায় বাড়তি বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ঘোষণা

0

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য বাড়াতে পদকের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন ডিসিপ্লিনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব খেলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাড়ানো হবে বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা। এমনটাই জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

রোববার দুপুরে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) আয়োজিত কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সাংবাদিকদের শারীরিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান আমিনুল হক। তার মতে, ক্রীড়া নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের নিজেদেরও নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের পদকপ্রাপ্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। দেশে পঞ্চাশের ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন থাকলেও এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় প্রতিযোগিতায় অনেক ডিসিপ্লিন থেকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে না। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এবার সম্ভাবনাময় খেলাগুলোকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, যেসব ডিসিপ্লিন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। প্রশিক্ষণ ও অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও এসব খেলাকে দেওয়া হবে বাড়তি গুরুত্ব।

এদিকে স্পোর্টস কার্নিভালে এবার আটটি ডিসিপ্লিনের ১২টি ইভেন্টে অংশ নেন বিএসপিএর শতাধিক সদস্য। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন খেলায় নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা।

কার্নিভালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরস্কার মো. আবদুল মান্নান লাডু ট্রফি ‘স্পোর্টসম্যান অব দ্য ইয়ার জিতে নেন মিদুল হাসান। একাধিক ইভেন্টে সাফল্য পান তিনি। সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে জুটি গড়ে ক্যারম দ্বৈতেও শিরোপা জেতেন মিদুল। এছাড়া ক্যারম এককে রানারআপ, আর্চারিতে তৃতীয় এবং ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্বিতীয় হন তিনি।

প্রথম রানারআপ হয়েছেন মনজুর এলাহী শান্ত। শুটিং ও শটপুটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি ক্যারম এককে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি।

দ্বিতীয় রানারআপের পুরস্কার পেয়েছেন জাহিদ মুনীর। কলব্রিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি সুদীপ্ত আহমদ আনন্দের সঙ্গে জুটি বেঁধে টুয়েন্টি নাইনেও শিরোপা জেতেন তিনি। দাবায়ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন জাহিদ।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্পোর্টস কার্নিভালের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়া ও বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএসপিএ’র সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমদ আনন্দ। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ক্রীড়া উপকমিটির চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল আলম। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নতুন সদস্যদেরও ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ক্রীড়া সাংবাদিকদের এমন আয়োজন যেমন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সুস্থতার বার্তা দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পদক সম্ভাবনা বাড়াতে সরকারের নতুন পরিকল্পনাও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।