Home Blog Page 17

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সূচি ঘোষণা

0

এশিয়ান গেমসের পুরুষ ও নারী ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সূচি ঘোষণা করেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটের ম্যাচগুলো। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সব ম্যাচই জাপানের নাগোয়ার পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। নারী ক্রিকেটের খেলা শুরু হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। এই বিভাগের সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২০ সেপ্টেম্বর।

এরপর ২২ সেপ্টেম্বর হবে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ ও ফাইনাল। অন্যদিকে পুরুষ ক্রিকেটের গ্রুপ পর্ব চলবে ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর। বাছাই করা দল হিসেবে পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু করবে। সূচি অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার-ফাইনালে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দলের। একই দিনে ভারত খেলবে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপের বিপক্ষে।

ড্র অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে কেবল সোনার পদকের ফাইনাল অথবা ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে। দুই ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ৩ অক্টোবর।

পুরুষ ক্রিকেটের সূচি

গ্রুপ পর্ব (২৪-২৬ সেপ্টেম্বর)

কোয়ার্টার-ফাইনাল-২৮ সেপ্টেম্বর

সকাল ৯টা-পাকিস্তান বনাম বি-২

দুপুর ২টা-ভারত বনাম এ-২

কোয়ার্টার-ফাইনাল -২৯ সেপ্টেম্বর

সকাল ৯টা-শ্রীলঙ্কা বনাম এ-১

দুপুর ২টা-বাংলাদেশ বনাম বি-১

সেমিফাইনাল-১ অক্টোবর

সকাল ৯টা-সেমিফাইনাল ১

দুপুর ২টা- সেমিফাইনাল ২

৩ অক্টোবর

সকাল ৯টা -ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ

দুপুর ২টা- ফাইনাল

নারী ক্রিকেটের সূচি

কোয়ার্টার-ফাইনাল

১৭ সেপ্টেম্বর

সকাল ৯টা-বাংলাদেশ বনাম চীন

দুপুর ২টা-পাকিস্তান বনাম থাইল্যান্ড

১৮ সেপ্টেম্বর

সকাল ৯টা -শ্রীলঙ্কা বনাম মালয়েশিয়া

দুপুর ২টা- ভারত বনাম জাপান

সেমিফাইনাল -২০ সেপ্টেম্বর

সকাল ৯টা-সেমিফাইনাল ১

২২ সেপ্টেম্বর

দুপুর ২টা- সেমিফাইনাল ২

সকাল ৯টা-ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ

দুপুর ২টা-ফাইনাল

এশিয়ান গেমসে ফাইনালের স্বপ্ন

0

এ মাসেই শুরু হচ্ছে এশিয়ান গেমস। এবারের আসরে ক্রিকেটের পুরুষ ইভেন্ট নিয়ে আগ্রহটা একটু বেশি। বাংলাদেশ পাঠাচ্ছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া মূল দল। ভারত ও পাকিস্তানও একই পথে হেঁটেছে। যদিও শুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিকল্পনা ছিল, এশিয়ান গেমসে পাঠানো হবে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের নাগোয়ার পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে হবে ক্রিকেটের ম্যাচগুলো। সব ম্যাচই হবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে।

এইচপি দল পাঠানোর ভাবনা বদলানোর পেছনে বড় কারণ ছিল ভারত ও পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে এইচপি দলের হয়ে সাব্বির রহমান, রুবেল হোসেনরা ভালো পারফর্ম করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের কেউই এশিয়ান গেমসের মূল দলে জায়গা পাননি। ভারত-পাকিস্তানের শক্তিশালী দল পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশও মূল দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে এইচপি দল যাওয়ার কথা ছিল। যখন দেখলাম অন্যান্য দেশ পুরো জাতীয় দল পাঠাচ্ছে, সেখানে আমরা কেন পাঠাব না? এটা একটা চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে।’

টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। ২০১০ সালের এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও তাই বড় স্বপ্ন দেখছে দল। লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা। তবে সেই পথটা সহজ হবে না। বিশেষ করে দীর্ঘদিন টি-টোয়েন্টি না খেলার পর দ্রুত এই সংস্করণের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

সালাউদ্দিন অবশ্য আশাবাদী, ভালো খেলতে পারলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফাইনালে যাওয়ার সহজ সুযোগ আছে, যদি ভালো খেলি। গত কয়েক সিরিজ ধরে টি-টোয়েন্টি খেলছি না। যত তাড়াতাড়ি পারি মানিয়ে নিতে হবে। তিন-চার মাস আগে যে ছন্দে ছিলাম, সেটাতে ফিরে আসার চ্যালেঞ্জ আছে। গত কয়েক মাস শুধু টেস্ট-ওয়ানডেই খেলেছি। আশা করি টি-টোয়েন্টিতেও আগের ছন্দে ফিরে আসব।’

এশিয়ান গেমসে ভালো ফলের জন্য সুযোগ-সুবিধার চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সালাউদ্দিন। তাঁর কাছে মূল বিষয় দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে ভালো খেলা।

সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি। ভালো খেলাই মুখ্য। চ্যালেঞ্জ থাকবেই। অন্যান্য জায়গায় অনেক সুবিধা পেয়েও তো অনেক সময় ভালো ফলাফল করতে পারি না। তাই সুযোগ-সুবিধা আমার কাছে মুখ্য বিষয় না। আমার কাছে মুখ্য বিষয় হলো—আমরা যেন ভালো খেলি।’

এশিয়ান গেমসে এবার মূল দল নিয়ে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের শক্তি, দীর্ঘদিন টি-টোয়েন্টি না খেলার বিরতি—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে। তবে সালাউদ্দিনের বিশ্বাস, নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ফাইনালের স্বপ্ন দেখা অমূলক নয়।

ভারতের কাছে হারের পর শাস্তি পেলেন ফাতিমা সানা

0

শেফালিকে ‘বিদায়’ দিয়ে শাস্তি পেলেন সানা

ভারতের বিপক্ষে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ম্যাচে শেফালি ভার্মাকে আউট করার পর বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি করে শাস্তির মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তাকে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।

শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচে পাকিস্তানের ইনিংস ছিল ব্যাটিং বিপর্যয়ের গল্প। ভারতের স্পিনারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। এরপর ভারত মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় এবং ম্যাচ জিতে নেয় সাত উইকেটে।

পাকিস্তানের হয়ে বোলিংয়ে অবশ্য আলো ছড়িয়েছিলেন ফাতিমা। ভারতের যে তিনটি উইকেট পড়েছিল, সবগুলোই নিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে একটি ছিল শেফালি ভার্মার উইকেট।

ভারতের রান তাড়ার দ্বিতীয় ওভারে ফাতিমার বলে ক্যাচ তুলে দেন শেফালি। বলটি সরাসরি ফাতিমার কাছেই গেলে ক্যাচটি নিয়ে শেফালিকে প্যাভিলিয়নের দিকে ইশারা করেন পাকিস্তানি অধিনায়ক। তার এই উদযাপনই পরে ম্যাচ কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

ঘটনাটিকে আইসিসির আচরণবিধির ২.৫ ধারা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই ধারায় আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো ব্যাটার আউট হওয়ার পর এমন ভাষা, কর্মকাণ্ড বা অঙ্গভঙ্গি নিষিদ্ধ, যা তাকে অপমান করতে পারে কিংবা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ায় উসকে দিতে পারে।

মাঠের আম্পায়ার নিমালি পেরেরা ও সাথিরা জাকির জেসি, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাবাব আহসানসহ ম্যাচের চার কর্মকর্তাই ফাতিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। পরে ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানি দাসের শুনানিতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ফলে আনুষ্ঠানিক শুনানি ছাড়াই তার বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করা হয়।

তবে ফাতিমার জন্য এটি প্রথম কোনো শাস্তির ঘটনা নয়। গত ২৪ মাসের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় অপরাধ। নতুন করে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ায় এই সময়ের মধ্যে তার মোট ডিমেরিট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে দুইয়ে।

মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানকে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দিতে ভারতের স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এন শ্রী চরানি ৩ উইকেট নেন মাত্র ৭ রানে। প্রেমা রাওয়াতও ৩ উইকেট নেন ৯ রান দিয়ে। দীপ্তি শর্মা নেন ২ উইকেট, আর শেফালি ভার্মা বল হাতে একটি উইকেট তুলে নেন।

মাত্র ৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে। ফলে গ্রুপের শীর্ষে থেকে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। তাদের সেমিফাইনাল ম্যাচ হবে বৃহস্পতিবার।

অন্যদিকে দুই ম্যাচে এক জয়ে পাকিস্তানের সামনে এখন শেষ সুযোগ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সোমবার হংকংয়ের মুখোমুখি হবে ফাতিমা সানার দল। সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই পাকিস্তানের সামনে।

তবে হংকং ম্যাচের আগে ফাতিমার শাস্তি পাকিস্তান শিবিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে তাকে। বিশেষ করে ২৪ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ায় ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন পাকিস্তানি অধিনায়ক।

রামুতে টেকনিক্যাল সেন্টারের জমি পেল বাফুফে

0

ফিফা-অনুমোদিত আধুনিক ফুটবল কমপ্লেক্স নির্মাণে ১৫.২০ একর জমি ৩০ বছরের জন্য লিজ দিয়েছে সরকার

দীর্ঘ অপেক্ষার পর কক্সবাজারের রামুতে প্রস্তাবিত ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য জমি বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের ঢালিরছড়া মৌজায় ১৫ দশমিক ২০ একর খাসজমি ৩০ বছরের জন্য বাফুফেকে লিজ দিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নের বহুল আলোচিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় একটি বাধা দূর হলো।

কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে জমি হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সরকারের পক্ষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. এ. মান্নান এবং বাফুফের পক্ষে সভাপতি তাবিথ আউয়াল চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে উভয় পক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিনিময় করে।

সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিশেষ বিবেচনায় প্রতীকী লিজ মূল্যে জমিটি বাফুফেকে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর নির্ধারিত হলো জায়গা

জাতীয় ফুটবলের জন্য আধুনিক একটি টেকনিক্যাল সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা বাফুফে নেয় প্রায় চার বছর আগে। শুরুতে রামুর খুনিয়াপালং এলাকায় একটি জায়গা নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আওতাভুক্ত হওয়ায় পরিবেশগত ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়।

ফলে ওই স্থান থেকে সরে এসে নতুন জায়গার সন্ধান শুরু করে বাফুফে। পরিবেশগত বিষয়সহ প্রয়োজনীয় আইন ও প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনার পর রশিদনগরের ঢালিরছড়ার জায়গাটিকে চূড়ান্ত করা হয়।

এবার জমি আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ায় প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

থাকছে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা

প্রস্তাবিত টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার অর্থায়নে গড়ে উঠতে যাওয়া এই কমপ্লেক্সে থাকবে একাধিক আধুনিক সুবিধা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে তৈরি করা হবে তিনটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল মাঠ। এর মধ্যে প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি কৃত্রিম টার্ফের মাঠও থাকবে।

আবাসিক সুবিধার অংশ হিসেবে ফুটবলার ও কোচদের জন্য পৃথক চারতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি থাকবে আধুনিক জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিট এবং খেলোয়াড়দের চোট থেকে পুনর্বাসনের জন্য বিশেষায়িত রিহ্যাবিলিটেশন ব্যবস্থা।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে মাল্টিমিডিয়া কনফারেন্স হল, ক্যানটিন এবং কোচদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও রাখা হবে।

জাতীয় দলগুলোর নিয়মিত ক্যাম্পের সুযোগ

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের মতে, এই প্রকল্প দেশের ফুটবল অবকাঠামোকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। জমি বুঝে পাওয়ার পর দ্রুতই সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ প্রাথমিক কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ফেডারেশনের।

টেকনিক্যাল সেন্টারটি চালু হলে শুধু জাতীয় পুরুষ দলের জন্য নয়, নারী দল এবং বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে এখান থেকেই প্রতিভাবান ফুটবলারদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে আন্তর্জাতিক মানের স্থায়ী প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর ঘাটতি দীর্ঘদিনের। সেই জায়গায় রামুর এই টেকনিক্যাল সেন্টার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দলের প্রস্তুতি, বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং কোচিং কাঠামো, সব ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে বাফুফে।

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে পিসিবির তদন্ত

0

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার আলোচনায় এসেছে খেলোয়াড়দের আচরণ ও শৃঙ্খলার বিষয়টি। দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে তদন্তে কোন কোন ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি পিসিবি। খেলোয়াড়দের আচরণ, শৃঙ্খলা এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ইতিমধ্যে ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের পর দল নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। সিরিজের তৃতীয় টেস্টের আগে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয় সাত ক্রিকেটারকে। একই সময়ে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া সাত ক্রিকেটার হলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আলী উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদ।

তাঁদের জায়গায় দলে নেওয়া হয়েছে পাঁচ অনভিষিক্ত ক্রিকেটার-আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রন্ধাওয়া ও রাজাউল্লাহ। এ ছাড়া দলে ফিরেছেন সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল। সাদা বলের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন ও বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকেকেও টেস্ট দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পেছনে দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ, খেলোয়াড়দের আচরণ এবং অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি।

বোর্ডের মিডিয়া ও ডিজিটাল কমিউনিকেশনস পরিচালক আমির মীর জানিয়েছেন, পিসিবির নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার যথাযথ সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অনুমাননির্ভর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে।

চীন জাতীয় দলের কাছে বাংলাদেশ হকি দলের লড়াকু হার

0

এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিমূলক তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক চীন সিনিয়র জাতীয় হকি দলের কাছে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। চীনের তিয়ানজিনের জিংহাই ডিস্ট্রিক্ট তুয়ানবো স্পোর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বিশ্ব ফুটবলের মতো হকিতেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের মূল দলের বিপক্ষে মাঠজুড়ে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ ছিল বেশ ধারালো। দলের হয়ে চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়ে একাই ২ গোল করেন রকি। এ ছাড়া প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে বাংলাদেশের হয়ে বাকি ১টি করে গোল অর্জন করেন আশরাফুল, আমিরুল ও মাহবুব।

এশিয়ান গেমসে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ হকি দল। সফরসূচি অনুযায়ী চীনে মোট পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে লাল-সবুজ পতাকাধারীদের। প্রথম দুটি ম্যাচ স্থানীয় প্রোভিন্স (প্রাদেশিক) দলের বিপক্ষে খেলার পর এটিই ছিল চীনের মূল জাতীয় দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম বড় পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়লেও শক্তিশালী চীনের সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করে এশিয়ান গেমসের আগে নিজেদের শারীরিক ও কৌশলগত উন্নতির ইতিবাচক বার্তাই জানান দিল বাংলাদেশ দল।

পাকিস্তান দলে রদবদলের কারণ জানালেন শোয়েব আখতার

0

পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও অস্থির সময়। দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং একসঙ্গে একাধিক নতুন ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সমালোচনার মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে একসঙ্গে সাতজন ক্রিকেটার পরিবর্তন করায় সেই সমালোচনা আরও বেড়েছে।

তবে পাকিস্তানের সাবেক তারকা পেসার শোয়েব আখতারের মতে, পিসিবির এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া নয়। তাঁর দাবি, বর্তমান দলকে ধীরে ধীরে সরিয়ে তরুণ ও নতুন ক্রিকেটারদের নিয়ে ভবিষ্যতের দল গড়ার পরিকল্পনা করছে বোর্ড।

‘আউটসাইড এজ শো’তে শোয়েব বলেন, বর্তমান পাকিস্তান দলের ওপর পিসিবির আস্থা অনেকটাই কমে গেছে। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করতে চাইছে তারা।

শোয়েবের ভাষায়, ‘পিসিবি নিজেরাই এই খেলোয়াড়দের নিয়ে খুব হতাশ। তারা এই পাকিস্তান দলের কাছ থেকে আর কিছু আশা করছে না। তাই পরিকল্পনা হলো, এই দলটাকে সরিয়ে তরুণ ও নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা। যারা শুধু পাকিস্তানের হয়ে খেলতে চায়। তারা এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছে এবং সঠিকভাবেই কাজ করছে।’

বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্যেও তিন পেসারকে ধরে রাখার পক্ষে শোয়েব। তাঁর পছন্দ শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফ। তবে তাঁর তালিকায় নেই পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজম।

শোয়েব বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সময়ে আমি শুধু শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফের ক্যারিয়ার বাঁচাতে চাই। এই তিনজনের সামনে এখনো অনেক ক্রিকেট পড়ে আছে।’

পাকিস্তান দলের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের বিষয়ে এক পিসিবি কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছেন শোয়েব। নতুন করে যাঁদের দলে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে বোর্ডের প্রত্যাশা কী-সেটিও জানতে চেয়েছিলেন তিনি।

শোয়েবের দাবি, ওই কর্মকর্তার উত্তর ছিল বেশ সরাসরি-‘কিছুই না।’ ওই কর্মকর্তা তাঁকে বলেছেন, ‘কিছুই না। আমরা পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করছি, যাদের বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝাতে ওই কর্মকর্তা আরও কঠিন মন্তব্য করেছেন বলেও জানিয়েছেন শোয়েব। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট এখন ‘ভেন্টিলেটরে’ আছে। পরিস্থিতি বদলাতে এবং নতুন পরিকল্পনার ফল পেতে অন্তত এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।

এ কারণেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের হারে খুব একটা অবাক নন শোয়েব। তাঁর মতে, ওই ম্যাচগুলোতে পাকিস্তান দলের মধ্যে লড়াই করার মানসিকতাই দেখা যায়নি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হেরে ইতিমধ্যেই সিরিজ খুইয়েছে পাকিস্তান। তৃতীয় টেস্টের আগে সাতজন নতুন ক্রিকেটার দলে যোগ দেওয়ায় পরিবর্তনের আভাস আরও স্পষ্ট হয়েছে।

শোয়েবের বক্তব্য অনুযায়ী, এই রদবদল শুধু ইংল্যান্ড সিরিজকে ঘিরে নয়; পাকিস্তান ক্রিকেটে সামনে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতিও চলছে। তরুণদের নিয়ে নতুন দল গড়াই এখন পিসিবির মূল লক্ষ্য।

এশিয়া কাপ ফাইনালে নাকভি, এবারও কি ট্রফি বিতর্ক

0

পুরুষদের এশিয়া কাপের পর এবার নারী এশিয়া কাপেও ট্রফি বিতরণ ঘিরে তৈরি হতে পারে নতুন আলোচনা। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে হওয়ার কথা নারী এশিয়া কাপের ফাইনাল। সেই ম্যাচে উপস্থিত থাকার কথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির।

তাতেই সামনে আসছে গত বছরের সেই বিতর্কিত দৃশ্য। পাকিস্তানকে হারিয়ে পুরুষদের এশিয়া কাপ জিতেও নাকভির হাত থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত। এবার নারী এশিয়া কাপের ফাইনালেও যদি ভারত চ্যাম্পিয়ন হয় এবং পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নাকভি থাকেন, তাহলে কি আবারও দেখা যাবে একই ঘটনা?

এবারের নারী এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ভারত। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেই সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে হারমানপ্রিত কৌরের দল। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় তাদের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

১৩ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। সেখানে নাকভির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ভারত ফাইনালে উঠলে এবং শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হলে ট্রফি তুলে দেওয়ার দায়িত্বও এসিসি সভাপতি হিসেবে তাঁর হাতেই থাকতে পারে।

তবে ভারতীয় দল তাঁর কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপের ফাইনালে ঠিক এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত। কিন্তু নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি ভারতীয় দল।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে লাবুশেন, চমক কনোলি

0

সবশেষ ১০ ইনিংসে নেই কোনো ফিফটি। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে নেই সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেও তিন ইনিংসে করেছেন মাত্র ১, ৩১ ও ৪ রান। এতটা বাজে ফর্মের পরও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে জায়গা ধরে রেখেছেন মার্নাস লাবুশেন।

লাবুশেনের সঙ্গে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে সম্ভাব্য বিকল্পও। তবে সেই নামটি কিছুটা চমকই জাগিয়েছে-কুপার কনোলি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যার অভিজ্ঞতা মাত্র ১৩ ম্যাচের, সেই তরুণকেই আবারও টেস্ট দলের বিবেচনায় এনেছে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে কনোলিকে অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ হিসেবে দেখা হয়। যদিও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন মাত্র একবার, চার নম্বরে চারবার। এমনকি গত মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন।

তারপরও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিতই অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে জায়গা পান কনোলি। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকও হয় তাঁর। সেই ম্যাচের একমাত্র ইনিংসে অবশ্য ভালো করতে পারেননি। তবে প্রতিভার ওপর আস্থা রেখে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে তাঁকে রাখা হয়েছে।

লাবুশেনের দলে টিকে যাওয়াটাই অবশ্য সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত অ্যাশেজের ব্রিসবেন টেস্টের পর আর ফিফটির দেখা পাননি এই ব্যাটসম্যান। সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে। এরপর কেটে গেছে ৪৩ ইনিংস।

এই সময়ে তাঁর ব্যাটিং গড় মাত্র ২৪.৬৯। টানা এতটা বাজে ফর্মের পরও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে জায়গা ধরে রাখা তাই বেশ বিরল ঘটনা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজ চলাকালে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং ধারাভাষ্যে সরাসরিই বলেছিলেন, লাবুশেনকে অনেক আগেই বাদ দেওয়া উচিত ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে ওয়ানডে দল থেকেও বাদ পড়েছেন তিনি। তবে টেস্টে আরেকবার সুযোগ দিলেন নির্বাচকেরা।

প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলির বিশ্বাস, এখনো দলের হয়ে ইতিবাচক অবদান রাখার সামর্থ্য আছে লাবুশেনের।

বেইলি বলেছেন, ‘এই সত্যটা আমরা অস্বীকার করছি না যে, মার্নের কাছ থেকে আরও কিছু রান চাই আমরা। এটা স্পষ্ট। তবে আমরা এ ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী যে, সে এখনো স্কোয়াডে একটি ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবে।’

লাবুশেনের প্রস্তুতি নিয়েও আশাবাদী বেইলি। তাঁর মতে, ওয়ানডে সিরিজের দলে না থাকায় লাবুশেন এবার পুরোপুরি লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সেটি তাঁর জন্য সুবিধাও হতে পারে।

স্পিন বিভাগেও রয়েছে কিছুটা চমক। নাথান লায়নের সঙ্গে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু কুনেমান। গত অ্যাশেজে লায়ন চোটে ছিটকে যাওয়ার পর তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন টড মার্ফি। এবার মার্ফির বদলে দলে ফিরেছেন কুনেমান।

পেস আক্রমণেও ফিরেছেন মাইকেল নিসার। গত অ্যাশেজে দারুণ বোলিং করা এই পেসার আবারও টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফেরা ম্যাট রেনশও ধরে রেখেছেন জায়গা। দ্বিতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে আছেন জশ ইংলিস।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ৯ অক্টোবর। ২০১৮ সালের বল টেম্পারিং বিতর্কের সেই সিরিজের পর এবারই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেয়ারি, কুপার কনোলি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, ন্যাথান লায়ন, মাইকেল নিসার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, বাউ ওয়েবস্টার।

পাকিস্তনের কোচ হতে ভয় পাচ্ছেন মুশতাক

0

নিজ দেশের জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছা আছে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের। পাকিস্তানের হয়ে আগেও কোচিং করিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। তবে সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত দেখে এবার সেই দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে খানিকটা শঙ্কিত তিনি।

মুশতাকের মূল উদ্বেগ কোচদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে। সফরের মাঝপথে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফে পরিবর্তন আনার মতো সিদ্ধান্ত তাঁকে ভাবাচ্ছে। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে পাকিস্তান দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কোচদেরও ভয় পাইয়ে দিতে পারে।

ইংল্যান্ড সফরের প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। একই সময়ে কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সফরের মাঝপথে এমন সিদ্ধান্তে কষ্ট পেয়েছেন মুশতাক।

বিবিসির ‘স্টাম্পড’ পডকাস্টে মুশতাক বলেছেন, ‘অবশ্যই, আমার দেশের জন্য কাজ করতে চাই আমি, বিশেষ করে এই সময়ে। আমার শুধু একটি জিনিস প্রয়োজন। মাঝে মাঝে নিজের দেশের জন্য কাজ করতেও ভয় লাগে, যখন মানুষ আপনাকে সম্মান করে না এবং কিছু আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের কারণে আপনাকে বরখাস্ত করে দেয়… যখন এসব দেখেন, সফরে গিয়ে কোচদের বরখাস্ত হতে দেখেন, তখন উদ্বিগ্ন ও ভীত হয়ে পড়বেন।’

বিশেষ করে সারফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকে সফরের মাঝপথে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মুশতাকের কাছে ভালো লাগেনি। তাঁর মতে, সিরিজ চলার সময় নয়, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত সিরিজ শেষ হওয়ার পর।

মুশতাক বলেছেন, ‘সাত ক্রিকেটার ও ম্যানেজমেন্ট পাল্টে ফেলা, বিশেষ করে সফরের মাঝপথে সরিয়ে দেওয়া সঠিক কাজ নয়। পাকিস্তান ক্রিকেটে এমনটা আগে কখনো ঘটেনি। অবশ্য পাকিস্তানি হিসেবে এবং সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে আমি ব্যথিত।’

তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কোচদের সম্মান ও কাজের নিশ্চয়তা দিতে পারলে দায়িত্ব নেওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত মুশতাক। এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে পাকিস্তান দলের কোচিং প্যানেলে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান দলের সঙ্গে ছিলেন মুশতাক। এরপর ২০২০ ও ২০২২ সালেও পাকিস্তানের কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন তিনি।

নিজ দেশের ক্রিকেটে কাজ করার আগ্রহ তাই এখনো আছে মুশতাকের। তবে সেই ইচ্ছার সঙ্গে জুড়ে গেছে একটি শর্ত-কোচ হিসেবে সম্মান ও চাকরির নিরাপত্তা।