Home Blog Page 18

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের কারণ জানালেন সোবহানা

0

১১৪ রান করেও ম্যাচের একটা সময় পর্যন্ত জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট তুলে নিয়ে চাপও তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু শেষ দিকে একটি ক্যাচ মিসের পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। শেষ পর্যন্ত নারী এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ১১৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। রানটা বড় না হলেও বোলিংয়ে শুরুটা ভালো করেছিল তারা। একপর্যায়ে ৪৪ রানে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ।

তবে শেষ দিকে সেই নিয়ন্ত্রণ আর ধরে রাখতে পারেনি তারা। ১৮তম ওভারে ডিপ মিডউইকেটে একটি ক্যাচের সুযোগ হাতছাড়া হয়। ম্যাচ শেষে ওই ক্যাচ মিসকেই বড় আক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন বাংলাদেশের ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি।

সোবহানা বলেন, ‘১৮তম ওভার পর্যন্ত ম্যাচটা আমাদের হাতেই ছিল। ওই ওভারে ডিপ মিডউইকেটে একটা ক্যাচ মিস করেছি। ক্যাচটা নিতে পারলে হয়তো ম্যাচটাও আমরা জিততে পারতাম।’

তবে শুধু ফিল্ডিং নয়, ব্যাটিংয়েও ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন সোবহানা। ১১৪ রানকে যথেষ্ট মনে হয়নি তাঁর। বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল অন্তত ১৪০ রান।

সোবহানা বলেন, ‘এই রানটা যথেষ্ট ছিল না, কারণ আমাদের লক্ষ্য ছিল ১৪০-এর বেশি। মাঝের ওভারগুলোতে আমরা একটু ধীর হয়ে গিয়েছিলাম, আর শেষ তিন-চার ওভারও ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি।’

অর্থাৎ ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশার চেয়ে ২০-২৫ রান কম করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি ক্যাচ মিস—দুই ভুলেই ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের।

এই জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ-বি থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে ওঠার লড়াই এখন বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে। ৮ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে নকআউটের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। জিতলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে।

শেষ ম্যাচের আগে তাই ভুলগুলো শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় সোবহানার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের পুরো মনোযোগ শেষ ম্যাচে-এই ম্যাচটা জিততে হবে, তাহলেই সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’

দ্বিতীয়ার্ধের ঝড়ে ফ্রাঙ্কফুর্টকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বুন্দেসলিগার শীর্ষে অগসবুর্গ

0

বুন্দেসলিগায় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে স্বাগতিক আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে অগসবুর্গ। ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা অগসবুর্গ দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর আরও দুই গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে তারা। এই জয়ে সরাসরি বুন্দেসলিগার শীর্ষে উঠে গেছে ম্যানুয়েল বাউমের দল।

ডয়চে ব্যাংক পার্কে ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠের সমর্থকদের সামনে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিল ফ্রাঙ্কফুর্ট। আগের ম্যাচে ইউনিয়ন বার্লিনের সঙ্গে ড্র করায় হতাশ ছিল স্বাগতিকরা। তাই মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নিতে মরিয়া ছিল আদির হুটারের দল।

অন্যদিকে, গত সপ্তাহে সদ্য উন্নীত শালকের বিপক্ষে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামে অগসবুর্গ। ফ্রাঙ্কফুর্ট যে শালকের তুলনায় কঠিন প্রতিপক্ষ হবে, সেটি জানা ছিল তাদের।

ফ্রাঙ্কফুর্টের একাদশে মৌসুমে প্রথমবারের মতো শুরু করেন মারিও গোটজে ও রিৎসু দোয়ান। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে দলে যোগ দেওয়া লিলিয়ান ব্রাসিয়েরও জায়গা পান রক্ষণভাগে। অগসবুর্গের অ্যান্টন কাডে চোটের কারণে খেলতে না পারায় তার জায়গায় সুযোগ পান আরিজন ইব্রাহিমোভিচ।

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ফ্রাঙ্কফুর্ট। গত সপ্তাহে হ্যাটট্রিক করা ইয়ুনেস এবনুতালিব এবার গোল না করে সতীর্থকে গোল করান। তার নিখুঁত ক্রস বক্সের পেছনের পোস্টে গিয়ে পৌঁছালে সবচেয়ে উঁচুতে উঠে হেড করে ফ্রাঙ্কফুর্টকে এগিয়ে দেন জোনাথান বুরকার্ডট।

গোলের পরও প্রথমার্ধে দাপট ধরে রাখে ফ্রাঙ্কফুর্ট। বিশেষ করে এবনুতালিব অগসবুর্গের রক্ষণে একের পর এক সমস্যা তৈরি করেন। ব্যবধান দ্বিগুণ করার একাধিক সুযোগও পায় স্বাগতিকরা। এবনুতালিব, উজুন ও ওনিয়েদিকা—তিনজনই সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি।

প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময়ই অগসবুর্গ ছিল পিছিয়ে। তবে বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল তারা। ফাবিয়ান রিডারের ফ্রি-কিক অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

আর এই সুযোগগুলো নষ্ট করার খেসারত দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দিতে হয় ফ্রাঙ্কফুর্টকে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ২৬ সেকেন্ডের মধ্যেই সমতায় ফেরে অগসবুর্গ। মারিয়ুস উলফের ক্রস থেকে বল পান আরিজন ইব্রাহিমোভিচ। এলিয়াস বাউমের গায়ে লেগে বলের গতিপথ সামান্য পরিবর্তন হয় এবং শেষ পর্যন্ত বলটি ফ্রাঙ্কফুর্ট গোলরক্ষক নোয়া আতুবুলুকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

সমতায় ফেরার পর অগসবুর্গ যেন আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। এক মিনিটও না পেরোতেই ম্যাচে এগিয়ে যায় তারা। ইব্রাহিমোভিচের নিচু শট সাবেক ফ্রাইবুর্গ গোলরক্ষক আতুবুলুর হাত ফসকে যায়। সেই সুযোগে সামনে থাকা রবিন ফেলহাউয়ার বল জালে পাঠিয়ে অগসবুর্গকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

প্রথমার্ধে যেখানে ফ্রাঙ্কফুর্টের দাপট ছিল, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেখানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় অগসবুর্গ।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি ব্যবধান আরও বাড়ায় সফরকারীরা। বদলি হিসেবে নামা আলেক্সিস ক্লোদ-মরিস অসাধারণ বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান। তার দুর্দান্ত এই প্রচেষ্টায় হতবাক হয়ে যায় ডয়চে ব্যাংক পার্কের দর্শকরা।

তিন গোল হজমের পর বলের দখল আবারও নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ফ্রাঙ্কফুর্ট। তবে প্রথমার্ধের মতো সহজে আর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। আক্রমণভাগে সৃজনশীলতারও ঘাটতি দেখা যায়। রিৎসু দোয়ানের দূরপাল্লার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়াই হয়ে ওঠে তাদের সেরা সুযোগগুলোর একটি।

ম্যাচ যখন শেষের দিকে গড়াচ্ছিল, তখন অগসবুর্গের বড় জয়কে আরও দৃষ্টিনন্দন করেন ফাবিয়ান রিডার। অসাধারণ এক ফ্রি-কিকে তিনি বল জালে পাঠান। আতুবুলুর কিছুই করার ছিল না।

ফলে শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অগসবুর্গ।

ম্যাচটি যেন ছিল দুই অর্ধের সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প। প্রথমার্ধে ফ্রাঙ্কফুর্টের দাপট থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় অগসবুর্গ। যদিও স্কোরলাইন মাঠের পুরো চিত্রকে সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরে না, তবুও ফ্রাঙ্কফুর্টের জন্য এটি ছিল হতাশাজনক ও সতর্কবার্তামূলক হার।

অন্যদিকে, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে পাওয়া এই জয় অগসবুর্গের জন্য হয়ে উঠেছে অসাধারণ এক সাফল্য। তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা সরাসরি উঠে গেছে বুন্দেসলিগার শীর্ষে।

বেকারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে হামবুর্গকে ৫-০ গোলে হারাল মেইঞ্জ

0

শেরাল্ডো বেকারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বুন্দেসলিগায় হামবুর্গ এসভিকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে এফএসভি মেইঞ্জ ০৫। সুরিনামিজ এই ফরোয়ার্ড নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দুটি গোলে সহায়তা করেন।

নতুন বুন্দেসলিগা মৌসুমে ঘরের মাঠে হামবুর্গের হতাশাজনক শুরু অব্যাহত থাকল। হ্যানসিয়াটিক শহরের রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে বেকার ও ফিলিপ টিটজের নৈপুণ্যে মাইনজ শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই মাইনজ বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। বেকারের শক্তিশালী শট ঠেকাতে হামবুর্গ গোলরক্ষক ড্যানিয়েল হয়ার-ফার্নান্দেসকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। এরপর নাদিয়েম আমিরি সেট-পিস থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে গিয়ে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

তবে সতর্কবার্তা পেয়েও ঘরের দল নিজেদের শুধরে নিতে পারেনি। অধিনায়ক নিকোলাই রেমবার্গের ভুল পাস কাইশু সানো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বেকারের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় গোল করে মেইঞ্জকে এগিয়ে দেন সুরিনামিজ ফরোয়ার্ড।

বিরতির আগে হামবুর্গের হয়ে আলবার্ট গ্রোনবেক মাঝেমধ্যে হুমকি তৈরি করলেও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মেইঞ্জ গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শভোলোকে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি স্বাগতিকরা।

এরই মধ্যে মেইঞ্জ ব্যবধান দ্বিগুণ করে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সাজান নাদিয়েম আমিরি। তার তৈরি করা সুযোগে বেকার জায়গা করে নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ফিলিপ মভেনেকে। সহজ ট্যাপ-ইনে গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মভেনে।

প্রথমার্ধের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের দুয়োধ্বনির পর বিরতিতে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন হামবুর্গ কোচ মার্লিন পোলজিন। মাঠ ছাড়েন তোরুনারিগা, নাদির ও আদেলিন। তাদের জায়গায় নামেন শফিক নান্দজা, প্যাটসন দাকা ও ফাবিও ভিয়েরা। আর্সেনাল থেকে স্থায়ীভাবে হামবুর্গে ফেরার পর ভিয়েরাকে মাঠে নামতে দেখে সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া যায় বড় করতালি।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে আরও বিপদে পড়ে হামবুর্গ। বিরতির মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই তৃতীয় গোল হজম করে তারা। ডান দিক দিয়ে বেকারকে দারুণভাবে সামনে বাড়িয়ে দেন কাসি। বেকার বল নিয়ে আক্রমণে উঠে এবারও সতীর্থকে গোল করান। তার পাস থেকে ফিলিপ টিটজ সামনের পোস্টে বলের গতিপথ বদলে জালে জড়িয়ে দেন।

৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় স্বাগতিকদের জন্য। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে হামবুর্গে যোগ দেওয়া তেরেম মফি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

ম্যাচের শেষ ২৫ মিনিটে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল মেইঞ্জের হাতে। এরপর টিটজ আরও একবার হামবুর্গের রক্ষণে আঘাত হানেন। তার নেওয়া শট হয়ার-ফার্নান্দেসের গ্লাভস ফসকে জালে ঢুকে যায়। গোলরক্ষকের জন্য এটি মোটেও গর্বের মুহূর্ত ছিল না।

শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে সাবেক স্ট্রাইকার র‍্যান্সফোর্ড-ইয়েবোহা কনিগসডর্ফার পঞ্চম গোলটি করেন। ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গোলের পর উচ্ছ্বসিত উদযাপনে মাতেন।

মার্লিন পোলজিনের অধীনে ঘরের মাঠে এটিই হামবুর্গের সবচেয়ে বড় পরাজয়। অন্যদিকে, মেইঞ্জের জন্য এটি ছিল পাঁচ গোলের দুর্দান্ত এক জয়। বেকারের এক গোল ও দুই অ্যাসিস্ট এবং টিটজের জোড়া গোলে হামবুর্গকে কার্যত কোনো সুযোগই দেয়নি সফরকারীরা।

৯৬ মিনিটের অবিশ্বাস্য গোলে ম্যান ইউকে রুখে দিল এভারটন

0

প্রিমিয়ার লিগে নাটকীয় এক ম্যাচে এভারটনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দুইবার এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি রুবেন আমোরিমের দল। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক গোল করে এভারটনকে এক পয়েন্ট এনে দেন অভিষিক্ত আইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলস।

হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায়। বিরতির পর মাত্র ৬১ সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্দান্ত এক ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গোল করেন ব্রায়ান এমবেউমো। একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে এভারটনের জালে বল পাঠান তিনি।

তবে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি এভারটন। ঘরের মাঠে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে ডেভিড ময়েসের দল। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। টাইরিক জর্জের জোরালো শট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেন্নে ল্যামেন্সকে পরাস্ত করে। কাছের পোস্ট দিয়ে নেওয়া তার ভয়ংকর শট থামানোর কোনো সুযোগই ছিল না ল্যামেন্সের।

১-১ সমতায় ফেরার পর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। শেষ দিকে আবারও এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে বেঞ্জামিন শেশকো হেড করে গোল করে ইউনাইটেডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই ফিরবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে, অর্থাৎ ৯৫ মিনিট ১১ সেকেন্ডে গোল করে এভারটনকে সমতায় ফেরান আইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলস। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিজের এভারটন অভিষেকেই এমন অসাধারণ গোল করেন তিনি। দূরপাল্লার শটটি বাঁক খেয়ে সরাসরি গোলের ওপরের কোণে গিয়ে জড়ায়। ল্যামেন্সের পক্ষে সেটি ঠেকানো ছিল প্রায় অসম্ভব।

ডেডলাইন ডে-তে এভারটনে যোগ দেওয়া মেইটল্যান্ড-নাইলস বেঞ্চ থেকে নেমেই হয়ে যান ম্যাচের নায়ক। তার গোলটি শুধু দলকে এক পয়েন্টই এনে দেয়নি, গড়েছে এভারটনের ইতিহাসেও একটি বিশেষ নজির। ২০১৮ সালের আগস্টে রিচার্লিসনের পর এভারটনের হয়ে অভিষেকেই গোল করা প্রথম খেলোয়াড় তিনি।

এভারটনের মাঠ হিল ডিকিনসনে এটিই এখন পর্যন্ত ঘরের মাঠে সবচেয়ে দেরিতে করা গোল। ৯৫ মিনিট ১১ সেকেন্ডে করা মেইটল্যান্ড-নাইলসের গোলটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে নাটকীয় সমতাও নিশ্চিত করে।

এ ম্যাচে এভারটনের আক্রমণভাগ নিয়েও ছিল আলোচনা। দলটি বর্তমানে কার্যত একমাত্র স্ট্রাইকার থিয়েরনো বারির ওপর নির্ভরশীল। দলবদলের বাজারে এভারটনের কার্যক্রমকে ধারাভাষ্যকার ও সাবেক লিভারপুল তারকা জেমি ক্যারাগার ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। যদিও ম্যাচে বারির xG বা প্রত্যাশিত গোলের মূল্য ছিল মাঠের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি, তিনি একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

তবু শেষ পর্যন্ত সেটি এভারটনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। কারণ জর্জ ও মেইটল্যান্ড-নাইলসের অসাধারণ দুটি গোল ম্যাচে দলকে সমতায় রাখে।

অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য ড্রয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে থাকল রক্ষণভাগের দুর্বলতা। প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই অন্তত দুটি করে গোল হজম করেছে তারা। গত ৫০ বছরে মাত্র দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল ইউনাইটেডের ক্ষেত্রে। এর আগে ২০২০-২১ মৌসুমে প্রথম তিন লিগ ম্যাচেই অন্তত দুই গোল করে হজম করেছিল তারা।

ডেভিড ময়েসের এভারটন হয়তো স্কোয়াডের গভীরতায় খুব শক্তিশালী নয়, তবে গোল করার মতো খেলোয়াড়ের অভাব যে নেই, এই ম্যাচে তারই প্রমাণ মিলেছে। গ্রীষ্মে দলে যোগ দেওয়া টাইরিক জর্জ ও আইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলস দুজনই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধে জ্যাক গ্রিলিশের মাঠে নামাও এভারটনের আক্রমণে বাড়তি প্রাণ ফেরায়।

শেষ পর্যন্ত দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে এভারটন। আর দুইবার লিড নিয়েও জয়হীন থাকতে হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেইটল্যান্ড-নাইলসের সেই অসাধারণ গোলই শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

শেষ ওভারে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হার

0

শেষ ওভারে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের। একসময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। হারশিথা সামারাবিক্রমার দুর্দান্ত ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করে শেষ ওভারে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে গ্রুপ ‘বি’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে লড়াই করেও হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ১১৪ রান করে বাংলাদেশ। ধীরগতির উইকেটে শুরু থেকেই রান তুলতে ভুগেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন সোবহানা মোস্তারি। ৪১ বলের ইনিংসে একটি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি।

বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দিকে জুটি গড়ে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছিলেন মোস্তারি ও স্বর্ণা আক্তার। কিন্তু শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার ১৭ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার চামুদি প্রাবোদার দুর্দান্ত বোলিংয়ে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। ক্যারিয়ারসেরা ৩ উইকেটে ২১ রান নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন তিনি।

তবে ১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। বিশেষ করে মারুফা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই চামারি আতাপাত্তুকে প্রথম স্লিপে ক্যাচ বানান মারুফা। পরের ওভারে ইমেশা দুলানির স্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি।

ব্যাট হাতে শ্রীলঙ্কার ব্যাটার

পাওয়ারপ্লেতে তিন ওভার করে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মারুফা। এরপর সুলতানা খাতুনের বলে সঞ্জনা কাভিন্দি ফিরলে ১০ ওভারে ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

সেখান থেকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন সামারাবিক্রমা ও নীলাক্ষিকা সিলভা। তাদের ৩৮ রানের জুটি বাংলাদেশকে আবারও চাপে ফেলে। তবে ১৭তম ওভারে ফিরে এসে সিলভাকে বোল্ড করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন মারুফা। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ২১ রান নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন তিনি।

কিন্তু সামারাবিক্রমা ছিলেন অবিচল। রিতু মনির শেষ ওভারে ১৬ রান তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। এরপর নাহিদা আক্তারের বলে ছক্কা মেরে সমীকরণ নামিয়ে আনেন মাত্র ২ রানে। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।

জয়ের একেবারে কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হারানোয় বাংলাদেশের জন্য এটি নিঃসন্দেহে হতাশার হার। আর শ্রীলঙ্কার টানা সপ্তমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় এনে দিল সামারাবিক্রমার ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৮ রানের লড়াকু ইনিংস।

চেলসিকে হারিয়ে আর্সেনালের দারুণ প্রত্যাবর্তন

0

লন্ডন ডার্বিতে দারুণ প্রত্যাবর্তনে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্সেনাল। রবিবার এমিরেটস স্টেডিয়ামে শুরুতেই গোল হজম করেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে নেয় মিকেল আর্তেতার দল। এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাদের পয়েন্ট এখন সমান।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য আর্সেনালের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র দুই মিনিটেই মর্গান রজার্সের গোলে এগিয়ে যায় চেলসি। দ্রুতই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। ১১ মিনিটে রিকার্দো কালাফিওরি গোল করলেও ভিএআরের পর অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়।

তবে আর্সেনালকে থামিয়ে রাখা যায়নি। ২১ মিনিটে সাবেক চেলসি খেলোয়াড় কাই হাভার্টজ দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান। বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া তার নিয়ন্ত্রিত শট চেলসির গোলরক্ষক এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করে।

১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বক্সের মধ্যে ক্রিস্তোস জোলিসের বাড়ানো বল পেয়ে সুযোগসন্ধানী ফিনিশিংয়ে গোল করেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

শেষ দিকে ম্যাচে উত্তেজনাও বাড়ে। কাউন্টার অ্যাটাকে রজার্সকে ফাউল করার অভিযোগে ইংল্যান্ডের সতীর্থ ডেকলান রাইসের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। শেষ পর্যন্ত রজার্সই হলুদ কার্ড দেখেন।

গোলের পর চেলসির খেলোয়াড়রা

সমতায় ফেরার শেষ সুযোগটি পেয়েছিলেন চেলসির এস্তেভাও। বাঁ পায়ের বাঁকানো শটটি গোলের পথে থাকলেও দুর্দান্তভাবে সেটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। এরপর আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি চেলসি।

শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। দুই মিনিটে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ ঘুরিয়ে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানই জানান দিল আর্তেতার দল। সে সঙ্গে শক্তিশালী বার্তা দিয়ে রাখলো ম্যানচেস্টার সিটিকে।

ইয়ামালের জোড়া গোলে বার্সার বড় জয়

0

রিয়াল মাদ্রিদের হারের সুযোগটা দারুণভাবেই কাজে লাগাল বার্সেলোনা। লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়াকে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। জোড়া গোল করেছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। এই জয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা রিয়ালের সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়েছে তিন পয়েন্টে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভ্যালেন্সিয়ার ওপর ঝড় বইয়ে দেয় বার্সা। ষষ্ঠ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। ফারমিন লোপেজের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে পাওয়া বল অসাধারণ দক্ষতায় প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠান স্পেনের এই তরুণ তারকা।

দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিলেন ইয়ামাল। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। দ্বিতীয় গোলের জন্য অবশ্য বার্সাকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ২২ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান ২-০ করেন ফারমিন লোপেজ।

বিরতির পর বার্সার আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৪৯ মিনিটে ফারমিনের পাস থেকে রাফিনিয়া গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। এরপর একের পর এক আক্রমণে ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে সফরকারীরা।

গোলের পর বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা

ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে দানি ওলমোর পাস থেকে চতুর্থ গোলটি করেন পেদ্রি। পাঁচ মিনিট পর ওলমোর পাসেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। ম্যাচ শেষ হয় ৫-০ ব্যবধানে।

এই জয়ে চার ম্যাচে বার্সার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৭। বিপরীতে ভ্যালেন্সিয়ার শুরুটা একেবারেই হতাশাজনক-চার ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট তালিকার তলানিতে অবস্থান করছে। বার্সার এই পারফরম্যান্স শুধু বড় জয়ই নয়, শিরোপা ধরে রাখার শক্ত বার্তাও দিয়ে গেল।

টিভিতে আজকের খেলা: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0

নারী এশিয়ান কাপে আছে হংকং-পাকিস্তান ম্যাচ। লা লিগায় হেতাফে-সেলতা ও এলচে-সোসিয়াদাদ।

নারী এশিয়ান কাপ ক্রিকেট
হংকং-পাকিস্তান

রাত ৮-৩০ মি., টি স্পোর্টস

ইউএস ওপেন
শেষ ১৬

রাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস ১ ও ২

লা লিগা
হেতাফে-সেলতা

রাত ১১টা, টি স্পোর্টস, ফ্যানকোড

এলচে-সোসিয়াদাদ
রাত ১-৩০ মি., টি স্পোর্টস, ফ্যানকোড

সেরি আ
ক্যালিয়ারি-লেচ্চে

রাত ১০-৩০ মি., জি ফাইভ

উদিনেসে-লাৎসিও
রাত ১২-৪৫ মি., জি ফাইভ

নারী ক্রীড়াবিদদের সহযোগিতার আশ্বাস যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

0

ধানমণ্ডিস্থ শহীদ রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আন্তঃবিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতা। ১৪টি জেলার অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনালে রাঙ্গামাটি জেলাকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা।

প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর তিনি দেশের নারী ক্রীড়ার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, “আমাদের এই নারী ক্রীড়াবিদদের আমরা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চাই। নারী অগ্রযাত্রায় আমরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। নারীরা খেলাধুলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিধি পেরিয়ে আরও বহুদূরে এগিয়ে যাবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস। এ লক্ষ্যে সরকার নারী ক্রীড়াবিদদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও জানান, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। বর্তমান সরকার ছেলে ও মেয়ে উভয়ের খেলাধুলাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের নারীরা কেবল আবদ্ধ ঘর বা নির্দিষ্ট মাঠে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তারা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। প্রান্তিক অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান নারী ক্রীড়াবিদরা নিজ পরিবার ও দেশের নাম বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করবে।”

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্না এবং সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

ভারতের মুর্শিদাবাদে দূরপাল্লা সাঁতারে বাংলাদেশের চার পদক

0

স্বর্ণ জিতলেন ফয়সাল, রৌপ্য সোনিয়া ও পলাশের; ব্রোঞ্জ নুরুল ইসলামের

ভারতের মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব দূরপাল্লা সাঁতার প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি সাঁতারুরা একটি স্বর্ণ, দু’টি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জসহ মোট চারটি পদক জয় করেছেন।

৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ১৯ কিলোমিটার পুরুষ, ১৯ কিলোমিটার মহিলা এবং ৮১ কিলোমিটার পুরুষ ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশ-বিদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাঁতারু অংশগ্রহণ করেন। ৮১ কিলোমিটার ইভেন্টে ২৮ জন, ১৯ কিলোমিটার পুরুষ ইভেন্টে ৩৬ জন এবং ১৯ কিলোমিটার মহিলা ইভেন্টে ১৫ জন সাঁতারু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বাংলাদেশ থেকে মোট ৯ জন সাঁতারু প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৬ জন ১৯ কিলোমিটার এবং ৩ জন ৮১ কিলোমিটার ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন।

১৯ কিলোমিটার পুরুষ ইভেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে স্বর্ণপদক জয় করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁতারু ফয়সাল আহমেদ। একই দূরত্বের মহিলা ইভেন্টে রৌপ্যপদক অর্জন করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাঁতারু সোনিয়া আক্তার।

অন্যদিকে, কঠিনতম ৮১ কিলোমিটার পুরুষ ইভেন্টে রৌপ্যপদক জয় করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পলাশ চৌধুরী। একই ইভেন্টে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নুরুল ইসলাম।

বাংলাদেশের পদক অর্জন

স্বর্ণপদক
ফয়সাল আহমেদ — ১৯ কিমি পুরুষ — বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

রৌপ্যপদক
সোনিয়া আক্তার — ১৯ কিমি মহিলা — বাংলাদেশ নৌবাহিনী

রৌপ্যপদক
পলাশ চৌধুরী — ৮১ কিমি পুরুষ — বাংলাদেশ নৌবাহিনী

ব্রোঞ্জপদক
নুরুল ইসলাম — ৮১ কিমি পুরুষ — বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

বাংলাদেশী সাঁতারুদের এ সাফল্য আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার সাঁতার অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে ৮১ কিলোমিটারের মতো দীর্ঘ ও কঠিন ইভেন্টে দুটি পদক অর্জন বাংলাদেশের দূরপাল্লার সাঁতারের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন পদকজয়ীসহ অংশগ্রহণকারী সকল সাঁতারু, কোচ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনার প্রত্যাশা করছে।

মোট অর্জন

🥇 ০১টি স্বর্ণ | 🥈 ০২টি রৌপ্য | 🥉 ০১টি ব্রোঞ্জ — সর্বমোট ০৪টি পদক।