Home Blog Page 25

এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তান দলে পাঁচ নতুন ক্রিকেটার

0

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টের আগে পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হেরে ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পাকিস্তান। ফলে এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টটি সিরিজের ফলাফলের দিক থেকে নিয়মরক্ষার হলেও, দলটির জন্য এটি হয়ে উঠেছে নতুনদের পরখ করার মঞ্চ।

শেষ টেস্টের জন্য পাঁচজন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে দলে ডেকেছে পাকিস্তান। সব মিলিয়ে পরিবর্তন এসেছে সাতজন খেলোয়াড়ের। পাঁচ নতুন মুখের মধ্যে তিনজনই পেস বোলার। বাকি দুজনের একজন অলরাউন্ডার এবং অন্যজন উইকেটকিপার-ব্যাটার। মজার বিষয়, পাঁচজনের মধ্যে শুধু আরাফাত মিনহাসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বাঁহাতি স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার মিনহাস পাকিস্তানের হয়ে তিনটি ওয়ানডে ও চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও গত মৌসুমটা বেশ ভালো কেটেছে তার। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১৭ ম্যাচে ৬৮৪ রান করেছেন, সঙ্গে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। এর মধ্যে রয়েছে অপরাজিত ১৫২ রানের একটি সেঞ্চুরি।

উইকেটকিপার-ব্যাটার সাদ বেগও ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় দলের ডাক। সর্বশেষ কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে করাচি রিজিয়ন ব্লুজকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে এক হাজার রান করে হন টুর্নামেন্টসেরা। সব মিলিয়ে গত মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১ হাজার ৩৬৯ রান করেছেন বেগ। উইকেটের পেছনে ৫০টি ক্যাচ ও ছয়টি স্টাম্পিংসহ তার ডিসমিসাল ৫৬টি।

দলে ডাক পাওয়া পেসার মোহাম্মদ ইমরানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। আট ম্যাচে ২৩ উইকেট রয়েছে তার। পাকিস্তান শাহিনসের হয়েও খেলেছেন তিনি। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি ইমার্জিং এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে পাঁচ দিনের পেস বোলিং ক্যাম্পেও অংশ নেন তিনি।

২১ বছর বয়সী রাজাউল্লাহও দলে জায়গা পেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের সুবাদে। ডানহাতি এই পেসারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আট ম্যাচে উইকেট ৩০টি। গড় মাত্র ২০ দশমিক ৮৬। এর মধ্যে তিনবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে। ব্যাট হাতেও কার্যকর রাজাউল্লাহ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি আছে তার।

পাঁচজনের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ ইমরান রানধাওয়া। ২০১৫-১৬ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। ৫৮ ম্যাচে ১১০ উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। ব্যাট হাতেও কম যান না তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরি ও ১০টি ফিফটি রয়েছে তার। গত দুই মৌসুমে নিয়েছেন ৫৫ উইকেট। ২০২৬ সালের পিএসএলে মুলতান সুলতানসের হয়ে খেলেছেন। বিপিএলেও ঢাকা ডমিনেটর্সের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অর্থাৎ, সিরিজ হারের পর এজবাস্টনে পাকিস্তানের সামনে একদিকে যেমন সম্মান বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে ভবিষ্যতের দল গড়ার সুযোগ। নতুন পাঁচ ক্রিকেটারের কাউকে টেস্ট অভিষেক করিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনাই যেন স্পষ্ট পাকিস্তানের। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় ঘরোয়া ক্রিকেটের এই পারফর্মাররা নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারেন।

প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে শিরোপা জয়ের অভিযানে সাবালেঙ্কা

0

ইউএস ওপেনে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশনে দারুণ ছন্দে এগোচ্ছেন আরিনা সাবালেঙ্কা। দ্বিতীয় রাউন্ডে র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৬০ নম্বরে থাকা পোলিনা ইয়াতচেঙ্কোকে মাত্র ৫৩ মিনিটে ৬-১, ৬-১ গেমে উড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বের এক নম্বর এই বেলারুশিয়ান তারকা। দ্রুততম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের তালিকায় এটি সাবালেঙ্কার অন্যতম সংক্ষিপ্ত ম্যাচ।

ফলাফল দেখে ম্যাচের কঠিনতাও বোঝা যায় না। সাবালেঙ্কার গতি, শক্তি ও আক্রমণাত্মক টেনিসের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেননি ২২ বছর বয়সী ইয়াতচেঙ্কো। পুরো ম্যাচে মাত্র তিনটি উইনার আদায় করতে পেরেছেন তিনি। বিপরীতে সাবালেঙ্কার ব্যাট থেকে এসেছে ২৪টি উইনার।

ইউএস ওপেনের প্রথম দুই রাউন্ডে বড় কোনো অঘটন না ঘটলেও সাবালেঙ্কার জন্য এবারের টুর্নামেন্টের গুরুত্ব অন্যরকম। বছরের শুরুতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই তারকা এখন মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামে এসে নিজের হারানো ছন্দ পুরোপুরি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। লক্ষ্যও বড়-ইউএস ওপেনে টানা তৃতীয় শিরোপা জিতে বিরল ‘থ্রি-পিট’ অর্জন।

২০২৬ মৌসুমের শুরুতে সাবালেঙ্কাকে থামানোই কঠিন মনে হচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন, এরপর ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মায়ামি-দুটি টুর্নামেন্ট পরপর জিতে করেছিলেন ‘সানশাইন ডাবল’। বছরের প্রথম ২৭ ম্যাচে তাঁর হার ছিল মাত্র একটি। মেলবোর্নে এলেনা রিবাকিনার কাছে পরাজয়ই ছিল সেই সময়ের একমাত্র হার।

কিন্তু এরপর ছবিটা বদলে যায়। সানশাইন ডাবল শেষ করার পরের পর্বে তাঁর জয়-পরাজয়ের হিসাব নেমে আসে ১৭-৭-এ। গত পাঁচ মাসে মাত্র একবার কোনো ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছেন তিনি। ফলে ইউএস ওপেন শুরুর আগে নিজেই স্বীকার করেছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ‘বেশ কিছু বিষয়’ নিয়ে লড়াই করছিলেন এবং সময়টা তাঁর সেরা ফর্মের কাছাকাছি ছিল না।

তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের পারফরম্যান্স অন্তত আত্মবিশ্বাস ফেরানোর মতো। শুরু থেকেই ইয়াতচেঙ্কোর ওপর চাপ তৈরি করেন সাবালেঙ্কা। বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়ের শক্তিশালী সার্ভ ও বেসলাইন আক্রমণের সামনে রীতিমতো নার্ভাস দেখাচ্ছিল রুশ এই কোয়ালিফায়ারকে।

ম্যাচে সার্ভ করছেন আরিনা সাবালেঙ্কা

প্রথম সেটে সাবালেঙ্কার দাপট ছিল একেবারেই একতরফা। ইয়াতচেঙ্কো একসময় ৫-১ গেমে পৌঁছে স্কোরবোর্ডে নিজের নাম তুলতে সক্ষম হন। সেই মুহূর্তে স্বস্তির হাসিও ফুটে ওঠে তাঁর মুখে। কিন্তু স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। মাত্র দেড় মিনিটেরও কম সময়ে নিজের সার্ভ ধরে ‘লাভ’ গেমে সেট জিতে নেন সাবালেঙ্কা।

মাত্র ২৪ মিনিটেই প্রথম সেট শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সেটের আগে ইয়াতচেঙ্কো মানসিকভাবে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করেন। পোশাক বদলানোর জন্য বাথরুম বিরতিও নেন তিনি। অন্যদিকে অপেক্ষার সময়টাকে কাজে লাগান সাবালেঙ্কা-সার্ভ অনুশীলন করে নিজের ছন্দ ধরে রাখেন।

ফিরে এসে দ্বিতীয় সেটেও একই চিত্র। দ্রুত দুইবার ইয়াতচেঙ্কার সার্ভ ভেঙে ৩-০ এগিয়ে যান সাবালেঙ্কা। যদিও চতুর্থ গেমে নিজের সার্ভ হারিয়ে সামান্য সুযোগ তৈরি করেছিলেন প্রতিপক্ষকে। কিন্তু সেই ভুল দ্রুত শুধরে নেন তিনি। এরপর আরও দুটি ব্রেক নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে রাখেন সাবালেঙ্কা।

তৃতীয় রাউন্ডে সাবালেঙ্কার প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তানের কামিলা রাখিমোভা। প্রথম দুই রাউন্ডের মতো ম্যাচটি সহজ হবে কি না, তা অবশ্য আগে থেকে বলা কঠিন। তবে ইয়াতচেঙ্কোর বিপক্ষে ৫৩ মিনিটের নির্মম পারফরম্যান্স সাবালেঙ্কাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাস দেবে।

এদিকে সাবালেঙ্কার শীর্ষস্থান দখলের পথেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেসিকা পেগুলা ও কোকো গফ। তৃতীয় বাছাই পেগুলা দ্বিতীয় রাউন্ডে স্বদেশি সোফিয়া কেনিনকে ৬-৩, ৬-১ গেমে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন। ইউএস ওপেন জিততে পারলে সাবালেঙ্কাকে সরিয়ে বিশ্বের এক নম্বর হওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর।

চতুর্থ বাছাই গফের সামনেও রয়েছে একই সম্ভাবনা। ফলে শুধু শিরোপা নয়, র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিয়েও এবারের ইউএস ওপেনের লড়াই জমে উঠছে।

নারীদের ড্রয়ে অবশ্য এখনো বড় কোনো অঘটনের ঢেউ ওঠেনি। উইম্বলডনের রানার্সআপ কারোলিনা মুচোভা, দুইবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনালিস্ট মার্তা কোস্তিউক এবং যুক্তরাষ্ট্রের উঠতি তারকা ইভা ইয়োভিচও সরাসরি সেটে জয় পেয়েছেন।

পিছিয়ে পড়েও বড় জয় বায়ার্নের

0

ডিএফবি-পোকাল শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বড় অঘটনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হতে দেয়নি বায়ার্ন মিউনিখ। দ্বিতীয় স্তরের দল ওসনাব্রুকের বিপক্ষে শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-১ গোলের জয় পেয়েছে জার্মানির বর্তমান বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা। জয়ে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করেছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।

বায়ার্নের শুরুটা অবশ্য ছিল বেশ অস্বস্তিকর। ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটেই রবেন মেইসনারের অসাধারণ গোলে এগিয়ে যায় ওসনাব্রুক। গোলটি ছিল বায়ার্নের রক্ষণভাগের ভুলের পরিণতি নয়, বরং মেইসনারের ব্যক্তিগত দক্ষতার দারুণ প্রদর্শন।

একটি সাধারণ ক্লিয়ারেন্স সামলাতে ব্যর্থ হন বায়ার্নের নতুন মুখ জোনাথন তাহ। মাটিতে পড়ে যান তিনি, আর সেই সুযোগে কিম মিন-জায়ের সঙ্গে লাফিয়ে বল দখলে নেন মেইসনার। এরপর প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বল মাটিতে পড়ার আগেই ডান পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে সেটিকে পাঠিয়ে দেন গোলে। গোলরক্ষক জোনাস ক্রুমরির কিছুই করার ছিল না।

হঠাৎ পাওয়া এই ধাক্কাই যেন বায়ার্নকে জাগিয়ে দেয়। মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে সমতা ফেরান হ্যারি কেন। জশুয়া কিমিখের নিখুঁত চিপ থেকে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। দুই সেন্টার-ব্যাকের মাঝ দিয়ে ছুটে গিয়ে মাথা দিয়ে বলটি সামান্য তুলে নেন তিনি। এরপর বল মাটিতে পড়তেই নিচু ভলিতে জালে জড়িয়ে দেন কেন।

সমতা ফেরানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় বায়ার্ন। ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার গোলটিও আসে দারুণ প্রেসিং ও নিখুঁত সমন্বয় থেকে।

ওসনাব্রুকের অর্ধে বল কেড়ে নেন টম বিসফ। দ্রুত বল দেন মাইকেল অলিসের কাছে। এরপর ১৮ গজের কাছাকাছি জায়গা থেকে শেষ রক্ষণভাগ ভেদ করে লুইস দিয়াজকে বল বাড়িয়ে দেন অলিস। দিয়াজ প্রথম স্পর্শেই শট নেন। ক্রুমরি তা ঠেকাতে পারলেও বল বিপদসীমার মধ্যেই থেকে যায়। দৌড় থামাননি বিসফ। ছুটে গিয়ে ফিরতি বল পেয়ে কোণাকুণি শটে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।

গোলের পর মাইকেল ওলিসে

বিরতির পরও বায়ার্নের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ওসনাব্রুকের জন্য ম্যাচে ফেরার সুযোগ থাকলেও ৭৩ মিনিটে সেই সম্ভাবনাও কার্যত শেষ করে দেন অলিসে।

ওসনাব্রুকের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রবিন ফাবিনস্কি স্লাইডিং চ্যালেঞ্জে দুর্বলভাবে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে ফাঁক বুঝে বলটি পায়ের কাছ থেকে কেড়ে নেন অলিসে। এরপর সামনে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ক্রুমরিকে বোকা বানিয়ে দারুণ এক চিপে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বায়ার্ন তখন পুরোপুরি নিশ্চিন্ত।

শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেন। বক্সের মধ্যে বায়ার্নকে দেওয়া স্পট-কিক ঠেকাতে সঠিক দিকেই ঝাঁপ দিয়েছিলেন ক্রুমরি। কিন্তু কেনের শট ছিল এতটাই নিখুঁত যে তাঁর পক্ষে বল আটকানো সম্ভব হয়নি। বাঁ পোস্টের ঠিক ভেতর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।

এই ম্যাচে কোম্পানি ওসনাব্রুককে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেননি। মাত্র দুই মৌসুম তৃতীয় স্তরে কাটানোর পর নতুন করে বুন্দেসলিগায় ফেরা দলটির বিপক্ষে বায়ার্নের একাদশে রাখা হয়েছিল সপ্তাহান্তে স্টুটগার্টকে ৫-১ গোলে হারানো ম্যাচের ছয়জন খেলোয়াড়কে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কেন, অলিসে, দিয়াজ ও কিমিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তারকারা।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শুরুতে মেইসনারের সেই অসাধারণ গোল বায়ার্নকে কিছুটা বিপাকে ফেললেও কেনের সমতায় ফেরানো গোলের পর আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেনি তারা। বিসফ ও অলিসের গোলে ব্যবধান বাড়ে, আর শেষদিকে কেনের পেনাল্টি নিশ্চিত করে ৪-১ জয়।

গোটা বিশ্ব আমাদের দেখে হাসছে: আকিব জাভেদ

0

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ঘিরে অস্বস্তি এবার প্রকাশ্যেই চলে এসেছে। ইমাম উল-হকের চোট নিয়ে বিতর্ক, একাধিক ক্রিকেটারের বাদ পড়া এবং সিরিজে দলের ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে তীব্র সমালোচনা। পরিস্থিতিতে ব্যথিত পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদও। দলের পরিকল্পনা, একাদশ নির্বাচন এবং ক্রিকেটার বাছাই নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই পাকিস্তানি পেসার।

আকিবের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, পাকিস্তান শুধু সিরিজই হারাচ্ছে না, দলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর ভাষায়, ‘গোটা বিশ্ব আমাদের দেখে হাসছে। কারণ আমরা লড়াইটাই করতে পারছি না।’

দলের ব্যাটিং-বোলিং ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আকিব। তাঁর মতে, পাকিস্তানের প্রথম সাত ব্যাটারের মধ্যে কেউ নিয়মিত বল করেন না। ফলে একাদশে একজন অলরাউন্ডারের বদলে এমন একজন পেসারকে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যিনি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন।

আকিব জাভেদ

এই জায়গায় তাঁর পছন্দ উবেদ শাহ। আকিব মনে করেন, একজন গতি-নির্ভর বোলার দলের বোলিং আক্রমণের চেহারাই বদলে দিতে পারেন। একই সঙ্গে ফর্মহীন সলমন আগাকে বসানোর সিদ্ধান্ত বুঝতে পারলেও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জায়গায় ঘাজি ঘোরিকে সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আকিবের বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর অসন্তোষ। তাঁর মতে, সিরিজ হেরে যাওয়ার পরও যদি টিম ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজনীয় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তাহলে নির্বাচকদের হস্তক্ষেপ করতেই হবে।

তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক কমিটি যে নিয়মিতভাবে দলের একাদশে হস্তক্ষেপ করছে-এমন অভিযোগ মানতে নারাজ আকিব। তাঁর দাবি, প্রথম একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁরা সরাসরি ভূমিকা নিতে চান না। কিন্তু দলের পরিকল্পনা ও নেওয়া সিদ্ধান্তের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে বার্তা পাঠানো হয়।

পাকিস্তান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো একসঙ্গে সাত নতুন ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন সিরিজের মাঝপথে এত পরিবর্তন-তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আকিব।

তাঁর যুক্তি, পাকিস্তান যেহেতু সিরিজ হেরে গেছে, তাই এখন নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হারানোর তেমন কিছু নেই। বরং তরুণদের ইংল্যান্ডের মতো আন্তর্জাতিক পরিবেশে পাঠিয়ে তাদের সামর্থ্য যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।

আকিবের মতে, এতে বিশ্বের ক্রিকেটমহলও পাকিস্তানের নতুন প্রতিভাদের সম্পর্কে জানতে পারবে। একই সঙ্গে যেসব ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের জন্যও রয়েছে স্পষ্ট বার্তা-নিজেদের খেলায় উন্নতি করতে হবে এবং যোগ্যতা প্রমাণ করে আবার জাতীয় দলে ফিরতে হবে।

টিভিতে আজকের খেলা: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেটে আজ মুখোমুখি ভারত ও হংকং। নিউইয়র্কে চলছে ইউএস ওপেন। রাতে আছে লা লিগা ম্যাচ।

গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি
অনূর্ধ্ব-১৯ দল-অনূর্ধ্ব-১৭ দল
সকাল ৯-৩০ মি., টি স্পোর্টস

নারী এশিয়ান কাপ ক্রিকেট
ভারত-হংকং
রাত ৮-৩০ মি., টি স্পোর্টস

ইউএস ওপেন
২য় রাউন্ড
রাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস ১ ও ২

লা লিগা
সোসিয়েদাদ-সেল্তা ভিগো
রাত ১টা, টি স্পোর্টস

শেষ ১০ ম্যাচে হামজা আমাদের সেরা খেলোয়াড় ছিল : শেফিল্ড কোচ

0

লেস্টার সিটির সঙ্গে দুই দশকের সম্পর্কের ইতি টেনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে স্থায়ীভাবে যোগ দিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার। এক বছরের চুক্তিতে তাকে দলে ভিড়িয়েছে ‘দ্য ব্লেডস’।

হামজার ট্রান্সফার ফি প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ। তবে শেফিল্ডে তার প্রত্যাবর্তন যে কেবল দলকে শক্তিশালী করার জন্য নয়, আগের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও, তা স্পষ্ট করেছেন কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার।

লেস্টারের একাডেমি থেকে উঠে আসা হামজার ক্যারিয়ারের বড় একটি অংশ কেটেছে ক্লাবটিতেই। লেস্টারের হয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের সাক্ষী হয়েছেন তিনি, জিতেছেন এফএ কাপও। দীর্ঘ এই পথচলার পর এবার পাকাপাকিভাবে লেস্টার অধ্যায় শেষ করে শেফিল্ডে থিতু হলেন বাংলাদেশের এই তারকা।

শেফিল্ডে হামজার অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে লেস্টার থেকে ধারে ক্লাবটিতে খেলেছিলেন তিনি। সে সময় চ্যাম্পিয়নশিপে ১৬টি লিগ ম্যাচে মাঠে নামেন। এরপর সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফ ফাইনালেও খেলেছিলেন হামজা। ম্যাচটিতে শেফিল্ড হেরে গেলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন তিনি।

হামজার সেই পারফরম্যান্সই তাকে আবার শেফিল্ডে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ধারে থাকা সময়ের শেষ ১০ ম্যাচে তাকে দলের সেরা পারফর্মার হিসেবে দেখেছেন কোচ ওয়াইল্ডার। প্লে-অফের সেমিফাইনাল ও ফাইনালও ছিল সেই সময়ের অংশ।

হামজার বহুমুখী সক্ষমতাও শেফিল্ডের জন্য বড় সম্পদ। স্বাভাবিকভাবে তিনি একজন মিডফিল্ডার হলেও প্রয়োজনে রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন। দলের রাইট-ব্যাক পজিশনে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং স্কোয়াডে বাড়তি বিকল্প তৈরি করতেই হামজাকে দলে ফেরানোর প্রয়োজনীয়তা দেখেছেন ওয়াইল্ডার।

হামজাকে নিয়ে শেফিল্ড কোচ বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, হামজা ওই ভূমিকায় খেলতে পারে এবং এর বাইরেও আরও অনেক কিছু দিতে পারে। এখানে তার প্রথম স্পেলের শেষ ১০ ম্যাচে সে সম্ভবত আমাদের সেরা খেলোয়াড় ছিল।’

ওয়াইল্ডারের সঙ্গে হামজার সম্পর্কও বেশ পুরোনো। ২০২২-২৩ মৌসুমে ওয়াটফোর্ডে ধারে খেলার সময় এই কোচের অধীনেই কাজ করেছিলেন তিনি। এরপর শেফিল্ড ইউনাইটেডেও দুজনের একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ফলে পরিচিত কোচের অধীনে পরিচিত পরিবেশে ফেরার সিদ্ধান্তটিও হামজার জন্য তুলনামূলক সহজ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ফুটবলের জন্যও হামজার শেফিল্ডে স্থায়ীভাবে যোগ দেওয়ার খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। ইংলিশ ফুটবলের অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার ক্লাব পর্যায়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় দলেও তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবেন, এমন প্রত্যাশাই থাকবে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের।

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছাপিয়ে নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক ভারত

0

প্রথমবারের মতো নারী ক্রিকেটে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ঐতিহাসিক এই আসরের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে স্বত্ব পেয়েছে ভারত। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দুই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ছয় দলের এই টুর্নামেন্ট।

এর আগে নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী আসর শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে টুর্নামেন্টের আয়োজক পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার পরিবর্তে ভারতকে আয়োজক হিসেবে বেছে নিয়েছে আইসিসি।

আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের ভেন্যু মূল্যায়ন করা হয়েছিল। সেখান থেকে গত ১ সেপ্টেম্বর আইসিসির বোর্ড ভারতের প্রস্তাব অনুমোদন করে। ফলে নারী ক্রিকেটে নতুন এই প্রতিযোগিতার প্রথম আসর বসতে যাচ্ছে ভারতের মাটিতে।

ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। মুম্বাইয়ের দ্য ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া এবং বরোদার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হবে।

নারী ক্রিকেটে আইসিসির নতুন এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ছয়টি দল স্বাগতিক ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে হবে প্রতিযোগিতা। অর্থাৎ প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে।

আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী আসরকে নারী ক্রিকেটের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের সেরা দলগুলোকে নিয়ে এই প্রতিযোগিতা নারী ক্রিকেটে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। একই সঙ্গে র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে দলগুলোর জন্য এটি বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

আইসিসির সূচি অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি বছরই নারী ক্রিকেটে একটি বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নারী ক্রিকেটের খেলোয়াড়, দল ও সমর্থকদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে শ্রীলঙ্কায় আয়োজক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দেশটির ক্রিকেট প্রশাসনের জটিলতা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বর্তমানে সরকার-নিযুক্ত একটি ‘ট্রান্সফরমেশন কমিটি’র মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই কমিটির দায়িত্ব দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র ও প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কার আনা।

আইসিসির নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ড রাজনৈতিকভাবে নিয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে না। এর আগেও একই কারণে শ্রীলঙ্কা ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব হারিয়েছিল। পরে সেই টুর্নামেন্ট দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজন করা হয়।

তবে আইসিসির সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া সংস্কারের রূপরেখা অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে নারী ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মাধ্যমে। আর ঐতিহাসিক এই আসরের প্রথম আয়োজক হিসেবে ভারতের নাম যুক্ত হওয়ায় দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসেও যোগ হচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়।

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বাংলাদেশের নেতৃত্বে লিটন, সহ-অধিনায়ক হৃদয়

0

২০তম এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেট ইভেন্টকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এশিয়ান গেমসের জন্য দল ঘোষণা করে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। দলে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেল থাকলেও নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের নিয়মিত ওপেনার ও উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন কুমার দাসকে। তাঁর ডেপুটি হিসেবে থাকছেন তাওহীদ হৃদয়।

জাপানের আইচি-নাগোয়া অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামবেন লিটন, হৃদয়সহ জাতীয় দলের একাধিক পরিচিত মুখ। দলে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা।

ব্যাটিং বিভাগে লিটন ও শান্তর সঙ্গে রয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি। অলরাউন্ডার হিসেবে দলে আছেন শেখ মেহেদী হাসান ও সাইফউদ্দিন। বোলিং বিভাগে রয়েছেন রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ।

দলের নেতৃত্বে লিটন কুমার দাস থাকায় এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞতার ছাপ থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা লিটনের সঙ্গে শান্তর উপস্থিতিও দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অন্যদিকে সহ-অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তরুণ এই ব্যাটারের ওপরও তাই থাকবে বাড়তি প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের স্কোয়াডে পেস আক্রমণেও রয়েছে শক্তি। মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাইফউদ্দিন থাকায় বৈচিত্র্যপূর্ণ পেস বোলিং আক্রমণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। স্পিন বিভাগে নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের সঙ্গে অলরাউন্ডার শাক মেহেদী হাসানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাসও রয়েছে। এর আগে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে বাংলাদেশ পদক জিতেছে। এবারও শক্তিশালী দল নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে চাইবে বাংলাদেশ।

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেট ইভেন্টে বাংলাদেশ দলের মূল লক্ষ্য থাকবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে তরুণদের সমন্বয়ে গড়া এই দল সেই লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াড

লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী চৌধুরী, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ।

ট্রিপল সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়লেন হৃদয়

0

তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে লেখা হলো বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস। দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টের চতুর্থ দিনে অসাধারণ এই কীর্তি গড়েন তিনি।

দিনের খেলা শুরু করেছিলেন ২০৪ রানে। একের পর এক সতীর্থ ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে এগিয়ে যান হৃদয়। নাঈম হাসান ১৬ ও হাসান মুরাদ ১১ রানে আউট হওয়ার পর রেজাউর রহমানকে নিয়ে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ধীরে ধীরে নিজের আগের সেরা ২১৭ রান ছাড়িয়ে যান হৃদয়।

৩৮১ বলে ২৫০ রান পূর্ণ করার পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। লাঞ্চে যান ২৭৪ রানে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল তৃতীয় নতুন বল নিলেও হৃদয়কে থামাতে পারেনি। ২৯৪ রানে একবার কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন থেকে বেঁচে যান তিনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে নয়, পিচে লেগেছিল।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পেসার ম্যাথু বোস্টের বল মিড-অনে ঠেলে দ্রুত দুটি রান নিয়ে ৪৫০ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। মাইলফলক ছোঁয়ার পরপরই দুটি বিশাল ছক্কা মেরে নিজের উদযাপনটাও স্মরণীয় করে রাখেন তিনি।

চা-বিরতিতে হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ৪৭০ বলে ৩৩৩ রানে। ট্রিপল সেঞ্চুরি পূরণের পর মাত্র ২০ বলে করেছেন ৩৩ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কার মার। অন্য প্রান্তে রেজাউর রহমান অপরাজিত ছিলেন ৩১ রানে।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ছিল তামিম ইকবালের। ২০২০ সালে মিরপুরে বিসিএলের ম্যাচে অপরাজিত ৩৩৪ রান করেছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে রকিবুল হাসানের ৩১৩ রানের ইনিংস ছিল তার আগের সেরা।

দেশের বাইরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রথম শ্রেণির ইনিংসের রেকর্ডও এতদিন ছিল ২০০৩ সালে শাহরিয়ার হোসেনের করা ২১৮ রান। হৃদয়ের ৩৩৩ রানের ইনিংস সেই রেকর্ডও বহু দূরে ঠেলে দিয়েছে।

দ্বিতীয় দিনে একপর্যায়ে ৪ উইকেটে ১৩৫ রানে চাপে থাকা বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছেন হৃদয়। তাঁর অবিশ্বাস্য ইনিংসেই এখন ম্যাচে বড় লিডের পথে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

আড়াই বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরলেন শানাকা

0

অবশেষে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে দলে ফিরলেন সাবেক অধিনায়ক দাসুন শানাকা। ইংল্যান্ড সফরের জন্য ঘোষিত ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। সবশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি।

শানাকার ফেরার পাশাপাশি ওয়ানডে দলে নতুন মুখও আছে। প্রথমবার জাতীয় দলের ওয়ানডে স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন আনক্যাপড লেগস্পিনার সচিন্দু কলম্বাগে। তবে জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে খেলা পেসার মিলান রত্নায়েকে ও প্রমোদ মধুশান এবার দলে নেই।

শানাকার অন্তর্ভুক্তিতে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডারে বাড়বে অভিজ্ঞতা। ৭১টি ওয়ানডে খেলা এই অলরাউন্ডার এর মধ্যে ৪৩ ম্যাচেই নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে। দীর্ঘদিন পর তার প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একজন ক্রিকেটারের ফেরার গল্প নয়, দলের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ করছে।

টি-২০ দলে অবশ্য আরও একটি পরিচিত মুখের প্রত্যাবর্তন হয়েছে। সাবেক অধিনায়ক আসালাঙ্কা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলে ছিলেন না। তবে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি।

ইংল্যান্ড সফর শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর। প্রথমে হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সাউদাম্পটন, কার্ডিফ ও ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ তিনটি। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রথমটি চেস্টার-লে-স্ট্রিটে। পরের দুই ম্যাচ হবে লিডস ও দ্য ওভালে।

ওয়ানডে দল: কুশল মেন্ডিস, চারিথ আসালাঙ্কা, পাথুম নিসাঙ্কা, কামিল মিশারা, কামিন্দু মেন্ডিস, জনিথ লিয়ানাগে, পাভান রত্নায়েকে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ভেল্লালাগে, মহীশ থিকশানা, দুশমন্ত চামিরা, এশান মালিঙ্গা, আসিথা ফার্নান্দো ও দিলশান মাদুশাঙ্কা, দাসুন শানাকা, সচিন্দু কলম্বাগে।