Home Blog Page 26

কেন্টের একাদশে হাসান মাহমুদ, নেই খালেদ আহমেদ

0

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের হয়ে মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। তবে কেন্টের স্কোয়াডে থাকা আরেক বাংলাদেশি পেসার খালেদ আহমেদ জায়গা পাননি একাদশে।

ক্যান্টারবারির সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন টুর টুর্নামেন্টের ৪২তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে কেন্ট ও উস্টারশায়ার। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উস্টারশায়ার।

কেন্টের ঘোষিত একাদশে আছেন হাসান মাহমুদ। ব্যাটিং ইনিংস শেষে বল হাতে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে বাংলাদেশের এই পেসারকে। কেন্টের একাদশে তাঁর সঙ্গে আছেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল বেল-ড্রামন্ড, ক্রিস বেঞ্জামিন, গ্রান্ট স্টুয়ার্ট, কিথ ডাজিয়ন, ম্যাট মিলনেস ও ম্যাট কুইনরা।

তবে খালেদ আহমেদকে একাদশে রাখা হয়নি। ফলে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের হয়ে বাংলাদেশের দুই পেসারের মধ্যে কেবল হাসান মাহমুদেরই মাঠে নামার সুযোগ হয়েছে।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য ভালো শুরু করতে পারেনি কেন্ট। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৭ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ৫০ রান। শুরুতেই ফিরে গেছেন জ্যাক ক্রলি ও বেন কম্পটন। ক্রলিকে ফেরান বেন অ্যালিসন, আর কম্পটনকে সাজঘরে পাঠান টম টেলর।

কেন্টের হয়ে উইকেটে আছেন স্যাম নর্থইস্ট ও তাওয়ান্ডা মুইয়ে। নর্থইস্ট অপরাজিত ২৩ রানে, মুইয়ের সংগ্রহ ১০ রান।

উস্টারশায়ারের বোলারদের মধ্যে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন টম টেলর ও বেন অ্যালিসন। দুজনেই নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

এখন কেন্টের হয়ে বল হাতে হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্সের দিকেই থাকবে নজর। পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের এই পেসার কতটা কার্যকর হতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

রোসারিও থেকে বিশ্বজয় আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির মহাকাব্য!

0

২৪ জুন! ১৯৮৭ সাল! শীতের রাত! স্থানীয় সময় রাত ৮.৩০ মিনিট! আর্জেন্টিনার ছোট্ট শহর ‘রোসারিওর রাতের আঁধারে বাবা হোর্হে মেসির ঘর আলোকিত করে ধরাতে আসলেন মা সেলিয়া মারিয়ার কোল জুড়ে এক ফুটফুটে শিশু! কিন্তু সেই শিশুটি কোন সাধারন শিশু নয়! শিশুটি ছিল রোজারিওর গর্বের ধন আকাশের চাঁদ। শুরু হল রোজারিওর নতুন গল্প লেখার উপলক্ষ, পৃথিবী পেল ফুটবল দিগন্তের রক্তিম সূর্য নাম তার লিওনেল আন্দ্রেস মেসি! আন্দ্রেস মেসি! মেসি!

কাতার বিশ্বকাপ জয় করে মেসিরা

রোজারিও থেকে যে গল্পের শুরু সেই গল্প আজ বদলে দিয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চার লিওনেল মেসির পায়ে ছিল জাদু, চোখে ছিল স্বপ্ন- কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে ছিল অসংখ্য বাধা। বার্সেলোনার কিশোর প্রতিভা থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হয়ে মেসি ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব শিরোপাই জিতেছেন। কিন্তু একটা অপূর্ণতা তাকে তাড়া করে ফিরেছে বছরের পর বছর আর তা হল আর্জেন্টিনার জার্সিতে একের পর এক ব্যর্থতা, কান্না, হতাশা আবার কখনো অবসর, ক-খ-নো সমালোচনার ঝড়! কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষারও অবসান হয়েছে রাজকীয়ভাবে।

অপেক্ষার ফল নাকি মধুর হয়! তাই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গা অপেক্ষার ফল মেসি পেলেন কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, আর সবচেয়ে বড় আজীবনের লালিত স্বপ্ন- বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে। কাতারের আকাশে যখন মেসি তুলে ধরলেন বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি, তখন মেসির শুধু একটি শিরোপা পাওয়ার আশাই পূর্ণ হয়নি- সেদিন পূর্ণতা পেয়েছিল এক ফুটবল কিংবদন্তির গল্প।

৮টি ব্যালন ডি’অর পুরস্কার, অসংখ্য রেকর্ড, অগণিত গোল আর ট্রফির পাহাড় পেরিয়ে আজ তিনি শুধু একজন ফুটবলারই নন-তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন এক ফুটবল-যুগের নাম।

ফুটবল ক্যারিয়ারের সেরা মুহুর্ত

২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিওলেন মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচের অর্জনটা কোন সাধারন অর্জন নয় এই অর্জন অসামান্য। কিছু দ্বিমত থাকলেও মেসিই হলেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার! কেন মেসি সেরা তা তার অর্জনের দিকে তাকালে তার নিন্দুকেরাও হয়তো বাধ্য হবেন বলতে যে, মেসি হলেন এই গ্রহের সেরা ফুটবলারদের অন্যতম একজন।

২টি বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার-গোল্ডেন বল জেতা একমাত্র ফুটবলার হলেন মেসি তা কি তার সেরা হওয়া প্রমান করেনা? আবার বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৬ বার ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জেতাটা কি শুধুই সাধারন ঘঠনা? সবচেয়ে বেশী ৬ বার বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার কয়জন রয়েছেন এই ধরাতে? আবার বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৩৪টি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি ২৩ জয়ের রেকর্ড কার দখলে? ৩টি বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম একাদশে থাকা আর সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ফুটবলারটির নাম কি লিওনেল মেসি নয়?

বিশ্বকাপ ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৫টি গোল দাতা যেমন মেসি তেমনি আবার বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি গোলদাতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২৫টি গোল এবং ২০৭টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলা ফুটবলারের নামটাও হল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু করা মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হবে যে ১৯ জুলাই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চে তা হয়তো মেসি নিজেও ভাবতে পারেননি। কিন্তু যার শুরু আছে, তার শেষ ও তো আছে! এটাই তো এই ধরনীর নিয়ম। আর নিয়মের বেড়াজাল মেনেই তো তিনি সকল অর্জনে আর্জেন্টিনার ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাই এই বিদায় তাঁর পাঁড় ভক্তদের মেনে নেওয়াই শ্রেয়। কিন্তু যারা বিদায় বেলায় বা ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে ভাল কিছু রেখে যান তারা তো হয়ে যান ইতিহাসের অংশ।  

বিশ্ব জয়ের পর একান্ত সেরা মুহুর্ত

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের যে কীর্তি, ১১টি হ্যাট্রিক আর সতীর্থদের দিয়ে ৬৮ গোলের যে মহোৎসব করিয়েছেন তা কি ইতিহাসের অংশ নয়!

জাতীয় দলের হয়ে মেসির জেতা ৪টি ট্রফির মধ্যে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নিঃসন্দেহে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। আবার নিজ মহাদেশে যখন কোপা আমেরিকার ট্রফিটাতে হাত ছোঁয়াতেই পারছিলেন না তখন ২০২১ সালের কোপার ট্রফি জয়ের কথা কি তিনি ভুলতে পারবেন? ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে ফুটবল যেন তাকে দু-হাত ভরে দিয়েছে। ২১ সালের পর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ও একই সাথে প্রথমবার জিতেছেন ফিনালিসিমা ট্রফি, এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! বিশ্বকাপ জয়ের পরের বছর ও মেসিকে হতাশ করেনি, জীবনের ২য় অধরা ট্রফিটা নিজের করে নিলেন ২য় বার কোপা আমেরিকা জয় করে।

ম্যারাডোনা, ক্যানিজিয়া, বাতিস্তুতা আর ওর্তেগার দেশের আকাশী নীল-সাদা জার্সিতে ফুটবল জাদুকর মেসি ১৭,১২০ মিনিট সবুজ ঘাসের গালিচায় তার ফুটবল পেখম মেলে আলবিসেলেস্তাদের যে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে ফুটবলের ইতিহাস তৈরী করেছেন তার ঋণ কি কখনো শোধ হয়? আর শোধ হয়না বলেই তো তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবল আকাশে হয়ে থাকবেন জনম জনমের ফুটবলের সুখ পাখি।

মেসি তার ক্যারিয়ারে প্রতিবেশী দেশ ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও চিলির বিপক্ষে সবচাইতে বেশী ১৪ টি করে ম্যাচ খেলেছেন আবার সবচাইতে বেশী ১১টি গোল করেছেন বলিভিয়ার বিপক্ষে। তাইতো তার সময়ে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বি ‘রোনালদোকে’ পেছনে ফেলে ‘পেলে’ আর ‘ম্যারাডোনাদের’ কাতারে উঠে বিশ্ব ফুটবল বোদ্ধাদের কাছে হয়েছেন সেরাদের একজন।

ইয়েস বিশ্বকাপ …

ক্লাব ফুটবলেও মেসির অর্জন ইর্ষনী! তবে মেসির ক্লাব ফুটবলের অধিংকাশ সময় জড়িয়ে আছে তার শৈশবের ক্লাব বার্সেলোনায়, যেখানে তিনি স্বপ্নের পথে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে গেছেন তার স্বপ্নের সিঁড়ি দিয়ে, যে ক্লাবের প্রতিটি ঘাস, ইট-পাথর আর ভবন কথা বলতো তার সাথে, তাঁকে চিনতো, তাঁকে জানতো এবং তাঁকে বুঝতে পারতো। বলা যায় মেসি ছিলেন বার্সেলোনার ঘরের ছেলে। তাইতো ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে যারা সবচেয়ে বেশী অর্জনে নিজেকে এবং ক্লাবকে সমৃদ্ধ করেছেন তাদের মধ্যে লিওনেল মেসি যে সবার শীর্ষে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

ক্লাব ফুটবলে মেসি স্পেনের বার্সেলোনার হয়ে ৩৫টি, পিএসজির হয়ে ৩টি এবং বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে ৪টি শিরোপার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ৪টি, অ-২০ জাতীয় দলের হয়ে ১টি বিশ্বকাপ এবং অ-২৩ দলের হয়ে একবার অলিম্পিক শিরোপা জয় সহ মোট ৪৮টি শিরোপা জেতা বিশ্বের একমাত্র ফুটবলারের নাম হল লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।  

লিওনের মেসি; রেকর্ডের পাতায় তার নাম, ট্রফির মঞ্চে তার ছাপ, আর কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে তার জায়গা। শৈশবের ছোট্ট রোসারিও থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা তাকে নিয়ে গেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে। ভেঙেছেন অসংখ্য রেকর্ড, জিতেছেন প্রায় সবকিছু, পেয়েছেন ব্যক্তিগত স্বীকৃতির সর্বোচ্চ সম্মান।

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে পাওয়ার পর প্রথম মুহুর্ত

কিন্তু মেসির গল্প যে শুধু গোল, ট্রফি কিংবা রেকর্ডের গল্প তা নয়। মেসির গল্প হল হাল না ছাড়ার গল্প। ব্যর্থতার পর ফিরে দাঁড়ানোর গল্প। আর অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প!

যে বিশ্বকাপ একসময় ছিল অধরা, সেই বিশ্বকাপ একদিন উঠেছিল তার হাতে। আর্জেন্টিনার আকাশে উড়েছিল নীল-সাদা পতাকা, আর পূর্ণতা পেয়েছিল এক কিংবদন্তির গল্প।

হয়তো একদিন তার রেকর্ডগুলো ভেঙে যাবে। হয়তো নতুন কোনো তারকা ফুটবল বিশ্বকে মাতাবেন। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসির অধ্যায়টি মুছে ফেলা যাবে না কখনোই। কারণ কিছু খেলোয়াড় ফুটবল খেলেন… আর কিছু খেলোয়াড় ফুটবলের ইতিহাস হয়ে যান।

লিওনেল মেসি-শুধু একজন ফুটবলারই নন, তিনি একটি যুগের নাম। মেসি শুধু ফুটবলের ইতিহাসই লেখেননি-মেসিই হয়ে উঠেছেন ফুটবল ইতিহাসের অপর নাম! লিওনেল আন্দ্রেস মেসি!

পিসিবির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ রমিজ

0

সিরিজের মাঝপথে দলের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো এবং দুই কোচকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক সভাপতি রমিজ রাজা। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এতে দলের ভাবমূর্তি ও খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস-দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে বাজে পারফরম্যান্স করছে পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টেও ১৯৪ রানে হেরেছে সফরকারীরা। দুই টেস্টের চার ইনিংসের একটিতেও ২০০ রানের দেখা পায়নি পাকিস্তান। ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২–০ ব্যবধানে সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে তাদের।

এরপরই বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। তৃতীয় টেস্টের আগে হঠাৎ করেই সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা ও ইমাম-উল-হক।

খেলোয়াড়দের দেশে ফেরানোর পাশাপাশি টেস্ট দলের প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে পিসিবি। তাঁদের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকে। সাদা বলের ক্রিকেটে পাকিস্তান দলের কোচিং স্টাফে আগে থেকেই আছেন এই দুই কোচ।

পিসিবির এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এবার সেই সমালোচনায় যোগ দিলেন রমিজ রাজাও। বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে কথা বলতে গিয়ে সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দেখে তাঁর মনে হচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেটের কর্তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

রমিজ বলেন, ‘আমি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু আসলে তা নয়। এটা দেখাচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেট আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এটা ক্রিকেটের জন্য ভালো নয়, দলে আসা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের জন্যও ভালো নয়। এমনকি যারা দলে রয়ে গেছে, তাদের জন্যও নয়। কারণ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত একটি দলকে স্বার্থপর করে তোলে।’

এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের দলে বেশ কয়েকজন অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে নেওয়া হয়েছে। আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাইদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রাজাউল্লাহ-এই পাঁচজনের কারও টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এ ছাড়া সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকেও দলে ফিরিয়েছে পাকিস্তান।

নতুনদের নিয়ে পিসিবির পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রমিজ। তাঁর প্রশ্ন, টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা না থাকা খেলোয়াড়দের হঠাৎ করে দলে এনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা কোথায়?

রমিজ বলেন, ‘তারা যে ফল এনে দেবে, তার নিশ্চয়তা কী? এদের কয়েকজন তো টেস্ট ক্রিকেটই খেলেনি। কেন এমন করা হলো, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।’

সিরিজ চলাকালে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকেও নজিরবিহীন মনে করছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। তাঁর মতে, ফুটবলে মৌসুমের মাঝপথে কোচ বা ম্যানেজারকে বরখাস্ত করার ঘটনা দেখা গেলেও ক্রিকেটে এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না।

রমিজ বলেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেটে আমরা এমন ঘটনা কতবার দেখেছি? কখনোই না। এটা অনেকটা ফুটবলের মতো-মৌসুমের মাঝপথে একজন ম্যানেজারকে বরখাস্ত করা। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, কীভাবে পরিস্থিতি ঠিক করা যায়, আমার কোনো ধারণা নেই।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তান খেলবে বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে। ম্যাচটি শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর। সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট জিতে ইতিমধ্যে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।

হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি

0

গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল হৃদয়ের। তবে অভিষেকটা মনে রাখার মতো হয়নি। এরপর জাতীয় দল থেকে জায়গা হারান এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টেও সুযোগ পাননি তিনি।

জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময়টাকে অবশ্য হতাশায় কাটাননি হৃদয়। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে বরং ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন। পচেফস্ট্রুমে তৃতীয় দিনের খেলায় ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ ও দৃঢ়তার অসাধারণ প্রদর্শনীতে তুলে নিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি।

পুরো ইনিংসজুড়েই হৃদয় ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। প্রতিপক্ষ বোলারদের খুব একটা সুযোগ দেননি। একাগ্রতা ধরে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়েছেন ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকে। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় দিনের একেবারে শেষ দিকে বাঁহাতি স্পিনার সিমন্ডসকে কাট করে চার মেরে ১৯৯ থেকে ২০০ রানে পৌঁছান তিনি।

ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসটি হৃদয় খেলেছেন ৩৩৫ বলে। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২২টি চার ও একটি ছক্কা। দীর্ঘ এই ইনিংসে ছিল যেমন ধৈর্য, তেমনি প্রয়োজনের সময়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ছাপও।

হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ ‘এ’ দলও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তৃতীয় দিনের শেষে ৬ উইকেটে ৪৭১ রান করেছে তারা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রথম ইনিংসের ৫১২ রানের জবাব দিতে এখনো ৪১ রান পিছিয়ে বাংলাদেশ।

দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর পাশাপাশি হৃদয়ের এই ডাবল সেঞ্চুরি ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের বাইরে চলে যাওয়ার পর ব্যাট হাতে এমন একটি ইনিংস নির্বাচকদের সামনে তাঁর দাবিটা যে নতুন করে তুলে ধরবে, তাতে সন্দেহ নেই।

মেসির পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হচ্ছেন রোমেরো?

0

কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে ঘিরেই গত দুই দশক ধরে আবর্তিত হয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল। জাতীয় দল থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো তাই শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় নয়, বরং একটি যুগের অবসানও। তবে মেসি-পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব দেবেন কে-এই প্রশ্নের উত্তরও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।

সবার আগে যে নামটি সামনে এসেছে, তিনি ক্রিশ্চিয়ান ‘কুটি’ রোমেরো। এত দিন মেসি ও নিকোলাস ওতামেন্দির পর আর্জেন্টিনা দলের তৃতীয় পছন্দের অধিনায়ক ছিলেন টটেনহ্যাম হটস্পারের এই ডিফেন্ডার। এবার সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের সমর্থনে নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই উঠতে পারে বলে জানা গেছে।

আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে রোমেরো দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ একজন কণ্ঠস্বর। মাঠে তাঁর আগ্রাসী মানসিকতা, সতীর্থদের সংগঠিত করার ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার স্বভাব তাঁকে মেসির উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। মেসির অনুপস্থিতিতে দলের রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি সতীর্থদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত রাখার দায়িত্বও নিতে হবে তাঁকে।

রোমেরোর নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করেছেন মেসি নিজেও। আর্জেন্টিনার রক্ষণকে শক্তিশালী করে তুলতে রোমেরোর ভূমিকার কথা একাধিকবার স্বীকার করেছেন তিনি। ফলে মেসির পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে রোমেরোর নাম সামনে আসাটা খুব একটা বিস্ময়ের নয়।

তবে দায়িত্বটা সহজ হবে না। লিওনেল স্কালোনির অধীনে গত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনা পেয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা-তিনটি বড় শিরোপাই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। এই সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন মেসি।

এবার মেসিকে ছাড়া সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে নতুন নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অধিনায়ক পরিবর্তন নয়, মেসির বিদায়ের সঙ্গে আর্জেন্টিনা দলও ঢুকতে যাচ্ছে নতুন এক প্রজন্মে। তরুণদের সামনে এগিয়ে নেওয়া এবং দলের মধ্যে আগের মতো ঐক্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে রোমেরোর ভূমিকা তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মাঠে তাঁর লড়াকু মানসিকতা আর ড্রেসিংরুমে প্রভাব-দুই মিলিয়ে রোমেরো হতে পারেন মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান নেতা। মেসির রেখে যাওয়া সাফল্যের উত্তরাধিকার তিনি কতটা এগিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানসিটিতে এনজো

0

চেলসির সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ২৫ বছর বয়সী এই তারকার জন্য প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড-সমান ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করছে সিটি। চেলসি থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইতিহাদে পা রাখছেন এনজো।

এই অঙ্কটি গত মৌসুমে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে লিভারপুলের আলেকজান্ডার ইসাককে দলে ভেড়াতে দেওয়া ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সমান। ফলে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়ল না হলেও সেই রেকর্ডে ভাগ বসাল এনজোর দলবদল।

২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপাজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এনজো। চলতি গ্রীষ্মে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন তিনি; তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তাঁর দল।

ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বসিত এনজো বলেছেন, সিটির মতো ক্লাবে খেলতে পারা প্রত্যেক ফুটবলারেরই স্বপ্ন। নতুন ক্লাবের হয়ে আরও শিরোপা জয়ে অবদান রাখার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি।

চেলসির সঙ্গে এনজোর সম্পর্ক অবশ্য গত কয়েক মাসে বেশ তিক্ত হয়ে উঠেছিল। গত মৌসুম থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সমর্থকদের সঙ্গে দূরত্বও তৈরি হয়। প্রাক-মৌসুমের শেষ ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে এবং প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামের বিপক্ষে ম্যাচে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয়েছিল তাঁকে।

এনজো ফার্নান্দেজ

নতুন কোচ জাবি আলোনসোও লুটনের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচে তাঁকে স্কোয়াডে রাখেননি। আলোনসোর ভাষ্য ছিল, দুজনের আলোচনার পরই এনজোকে ম্যাচের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

চেলসি ১৪ আগস্টের মধ্যে এনজোর জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছিল এবং তাঁর মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড। শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটি শেষ ৪৮ ঘণ্টায় আলোচনায় গতি বাড়িয়ে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে চুক্তি সম্পন্ন করে। এতে ২০২৩ সালে বেনফিকা থেকে ১০৭ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনা এনজোর জন্য চেলসি উল্লেখযোগ্য অঙ্কের মুনাফাও পেল।

অন্যদিকে এনজোর বিকল্প হিসেবে মোনাকোর লামিনে কামারাকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল চেলসি। ৫৫ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি হলেও শেষ পর্যন্ত মোনাকো সেই সমঝোতা থেকে সরে যায়। ফলে এনজোর জায়গা পূরণে নতুন করে ভাবতে হবে চেলসিকে।

চোটের অজুহাতে নাটক, ইমামকে দেশে ফেরাল পাকিস্তান

0

চোট পাননি, অথচ চোটের অজুহাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্টে ব্যাট করতে নামেননি-পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল-হককে ঘিরে এমন অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত দেশটির ক্রিকেটাঙ্গন। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংসেই ব্যাট না করা ইমামকে ম্যাচ শেষে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে তাঁর অতীতের কয়েকটি ঘটনাও সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি নিছক ভুল সিদ্ধান্ত, নাকি চোটের অজুহাতে মাঠ এড়িয়ে যাওয়ার পুরোনো প্রবণতা?

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন ইমাম জানান, পায়ের পেশিতে টান ধরেছে। সেই কারণে ম্যাচের দুই ইনিংসেই ব্যাট করতে নামেননি তিনি। ফলে পাকিস্তানকে কার্যত এক ব্যাটার কম নিয়েই খেলতে হয়। কিন্তু ম্যাচের চতুর্থ দিনে ইমামকে অনুশীলনে দেখা যায়। পায়ে টেপ লাগানো থাকলেও তাঁর চলাফেরায় গুরুতর চোটের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি-এমন দাবি থেকেই শুরু হয় সমালোচনা।

ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডও প্রশ্ন তুলেছেন ইমামের সিদ্ধান্ত নিয়ে। তাঁর যুক্তি, অতীতে গুরুতর চোট নিয়েও ঋষভ পন্থ, ক্রিস ওকস কিংবা নেথান লায়নের মতো ক্রিকেটাররা দলের প্রয়োজনে মাঠে নেমেছেন। সেই তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ টেস্টে ইমামের দুই ইনিংসেই ব্যাট না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে বিতর্কের সবচেয়ে বড় কারণ ইমামের অতীত। ২০২৫ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরের একটি ওয়ানডের আগে নেটে গোড়ালিতে চোট পাওয়ার দাবি করেছিলেন তিনি। স্ক্যানে উল্লেখযোগ্য চোট ধরা না পড়লেও ইমাম তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তাঁর গোড়ালিতে কালশিটের মতো দাগ দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, সেটি নাকি রক্ত জমাট নয়, কলমের কালি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তখনও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

ইমাম উল হক

এর আগেও ইমামের চোটের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন পিচে খেলার পরিস্থিতি তৈরি হলে ইমাম চোটের অজুহাত দিতে পারেন-এমন আশঙ্কা আগেও দলের ফিজিওর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে মুলতানে একটি টেস্টের আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল বলেও দাবি করেছেন ওয়াসিম। পরীক্ষায় চোট না মিললেও ইমাম খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য।

পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ইমামের অনুপস্থিতি দলের ব্যাটিং গভীরতাকে প্রভাবিত করেছে। মাঠে নামতে না পারা এক ব্যাটারের জায়গা পূরণ করাও টেস্ট ক্রিকেটে সহজ নয়। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দল।

এখন ইমামের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নিজের শারীরিক অবস্থার ব্যাখ্যা দেওয়া নয়, বরং তাঁর সিদ্ধান্তের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা। অতীতের অভিযোগের সঙ্গে লর্ডসের ঘটনাটি মিলে যাওয়ায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

টিভিতে আজকের খেলা: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেটে আজ মুখোমুখি শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। নিউইয়র্কে চলছে ইউএস ওপেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় চার দিনের ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

চার দিনের ম্যাচ
বাংলাদেশ ‘এ’-দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’
বেলা ১-৩০ মি., ইউটিউব/ক্রিকেটএসএটিভি

নারী এশিয়ান কাপ ক্রিকেট
শ্রীলঙ্কা-ইন্দোনেশিয়া
রাত ৮-৩০ মি., টি স্পোর্টস

ইউএস ওপেন
২য় রাউন্ড
রাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস ১ ও ২

জার্মান কাপ
ওসনাব্রুক-বায়ার্ন
রাত ১২-৪৫ মি., ফ্যানকোড

পাকিস্তান দলে গণছাঁটাই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত-আফ্রিদি

0

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একসঙ্গে একাধিক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। তাঁর মতে, এটি পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির ইতিহাসে ‘সবচেয়ে মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত’।

প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলে এত বড় পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা চলছে ক্রিকেট মহলে। ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে পিসিবির এমন সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে করছেন আফ্রিদি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাবেক এই অধিনায়ক লিখেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি বা কারণ কী, তা আমার মাথায় আসছে না! এমনকি যাদের দলে নেওয়া হয়েছে, তাও কোনো অর্থ বহন করে না। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ম্যাচের জন্য টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়দের নেওয়া হলো? এটি কেমন চিন্তাভাবনা ও পদ্ধতি?’

কোচিং স্টাফের পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আফ্রিদি। তিনি লিখেছেন, ‘মাত্র পাঁচটি টেস্টের পর কোচকে কেন বরখাস্ত করা হলো? অনেক অভিজ্ঞ নির্বাচক থাকা সত্ত্বেও এটি একটি নির্বাচক কমিটির নেওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত।’

সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়েছেন সাত ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী উসমান ও খুররম শাহজাদ টেস্ট খেলেছেন। আমির জামাল ও মোহাম্মদ ওয়াইস জাফরকে অবশ্য কোনো ম্যাচ না খেলিয়েই দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তাঁদের জায়গায় দলে নেওয়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে কেবল সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলের। বাকি পাঁচজন—আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রেজাউল্লাহ-এখনো আন্তর্জাতিক টেস্টে অভিষিক্ত হননি।

খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফেও এসেছে বড় পরিবর্তন। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও তাঁর সহকারী উমর গুলকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সীমিত ওভারের দলের কোচ মাইক হেসন এবং সাবেক অস্ট্রেলীয় পেসার অ্যাশলি নফকে।

পিসিবির এমন সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক চেয়ারম্যান ও অধিনায়ক রমিজ রাজাও। তিনি বলেছেন, ‘আমি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু আসলে তা নয়। এটি পরিষ্কার প্রমাণ করে যে পাকিস্তান ক্রিকেট চরম আতঙ্কে ভুগছে এবং প্যানিক বাটন চেপে বসেছে।’

ইংল্যান্ড সফরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট। দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে ইমরান খানের ছেলেদের একটি সাক্ষাৎকার স্কাই স্পোর্টসে সম্প্রচারিত হওয়া নিয়ে পিসিবি টেস্ট ও পুরো সফর বাতিলের হুমকি দিয়েছিল। যদিও অধিনায়ক বাবর আজম ও বিদায়ী কোচ সরফরাজ আহমেদ ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচিতেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

এত সব বিতর্ক ও অস্থিরতার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে পাকিস্তান দলের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ক্ল্যারেন্স হাউসে এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা।

মালয়েশিয়ার কাছে হার অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দলের

0

চিনের মকিতে চলমান অনূর্ধ্ব- ২০ জুনিয়র হকি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে আজ নিজেদের দ্বিতীয় অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ দল। চীনের মকির মরিন দাউর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনূর্ধ্ব-২০ ছেলে ও মেয়েদের দল আলাদা দু’টি গ্রাউন্ডে তাদের প্রস্তুতি সারে। ১ নম্বর গ্রাউন্ডে ছেলেরা কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত থাকলেও, ২ নম্বর গ্রাউন্ডে মালয়েশিয়ার মেয়েদের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটিতে ৪-১ গোলে জয় পেয়েছে মালয়েশিয়া।

তিন কোয়ার্টারের এই বিশেষ ম্যাচটিতে প্রতিটি কোয়ার্টারের স্থায়িত্ব ছিল ১২ মিনিট করে। ম্যাচের শুরুটা দারুণ করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথম কোয়ার্টারেই নলিমা নুপুরের চমৎকার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ নারী দল। তবে প্রাথমিক এই ধাক্কা সামলে দ্রুত খেলায় ফেরে শক্তিশালী মালয়েশিয়া। পরবর্তীতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তারা একে একে লক্ষ্যভেদ করে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের মেয়েদের।

ম্যাচ শেষে দলের হেড কোচ আরিফ আলী মেয়েদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, “মালয়েশিয়া অত্যন্ত শক্তিশালী ও বড় দল। তাদের বিপক্ষে মেয়েরা যথেষ্ট ভালো লড়াই করেছে। তবে ম্যাচের কিছু কিছু জায়গায় বেশ কিছু দুর্বলতা ও ল্যাকিংস চোখে পড়েছে, যা নিয়ে দ্রুত কাজ শুরুর কথা জানান তিনি।

মূল পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল। কোচ আরিফ আলী আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, মূল লড়াইয়ে মাঠে নামার আগেই এই প্রস্তুতি ম্যাচের ভুল-ত্রুটিগুলো পুরোপুরি শুধরে নিয়ে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।