Home Blog Page 27

বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে বিসিবির কাঠগড়ায় তিনজন, সাময়িক নিষিদ্ধ

0

বিপিএল সর্বশেষ আসরে দুর্নীতির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অভিযুক্ত তিনজনই বিসিবির সাবেক কর্মকর্তা। মঙ্গলবার বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা ২০২৪-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে উঠে আসা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত তিনজন হলেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেসুর রহমান (শামীম), বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসাইন এবং বগুড়া জেলা থেকে বিসিবির সাবেক কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি। বিসিবির অভিযোগ অনুযায়ী, মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপিএলের ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা ম্যাচের অন্য কোনো দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা বা এ ধরনের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ-কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত বা সহায়তা করা, দুর্নীতির প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের তথ্য নির্ধারিত অ্যান্টিকরাপশন কর্মকর্তাকে সময়মতো না জানানো এবং তদন্তে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা। জাকির হোসাইনের বিরুদ্ধেও ম্যাচের ফল বা ম্যাচের কোনো দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত বা সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অ্যান্টিকরাপশন তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া নোটিশের জবাব না দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ার কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের তথ্য সময়মতো অ্যান্টিকরাপশন কর্মকর্তাকে না জানানো এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ বা অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের পর তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তাঁদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

এরপর আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা অনুযায়ী চলবে শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া। তবে এই বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে বিসিবি। উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাব এবং পরবর্তী শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

মারাদোনার পর মেসি, কার গায়ে উঠবে আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর?

0

ম্যারাডোনা পরেছিলেন। উত্তরাধিকার সূত্রে সেই বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এবার প্রশ্ন, মেসির পর আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি উঠবে কার গায়ে?

মেসির মতো আর কেউ হয়তো আসবেন না। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার বিদায়ের পর আর্জেন্টিনাকে শেষ পর্যন্ত নতুন একজনকে ১০ নম্বর জার্সি দিতেই হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার বিষয় নয়; একই সঙ্গে ঠিক করতে হবে, মেসি-পরবর্তী যুগে ১০ নম্বর জার্সিটি আসলে কী প্রতিনিধিত্ব করবে।

প্রায় দুই দশক মেসির গায়ে থাকা আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর এখন খালি। অবশ্য মেসি না থাকলে অন্য খেলোয়াড়রা আগেও এই নম্বর পরেছেন। তাই আর্জেন্টিনার ওপর অবিলম্বে কোনো একজনকে স্থায়ী উত্তরসূরি করার বাধ্যবাধকতা নেই।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ১ থেকে ২৬, সব নম্বরই খেলোয়াড়দের মধ্যে বরাদ্দ করতে হয়েছে। ফলে ১০ নম্বর জার্সি অবসর দেওয়ার সুযোগও ছিল না। নিয়মে পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপে এই বিখ্যাত জার্সির নতুন মালিক প্রয়োজন হবেই।

কিন্তু কে হবেন সেই খেলোয়াড়?

মেসির চেয়েও বড় এক নম্বর

আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির কিংবদন্তি অবশ্য মেসি তৈরি করেননি। তিনি পেয়েছিলেন সেই উত্তরাধিকার।

তার আগে এই নম্বরকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এমনকি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ব্যতিক্রমীভাবে বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে জার্সি নম্বর দেওয়ার পরীক্ষা চালালেও ম্যারাডোনার জন্য রাখা হয়েছিল ১০ নম্বর। ফিফার রেকর্ড অনুযায়ী, সেই বিশ্বকাপে তিনজন খেলোয়াড় এই নিয়মের ব্যতিক্রম ছিলেন ড্যানিয়েল পাসারেয়া পেয়েছিলেন ৬, হোর্হে ভালদানো ১১ এবং মারাদোনা তার কাঙ্ক্ষিত ১০ নম্বর।

চার দশক পরও আর্জেন্টিনার ফুটবলে ১০ নম্বর মানেই যেন মারাদোনা ও মেসি দেশটির ইতিহাসের দুই শ্রেষ্ঠ ফুটবলারের প্রতিচ্ছবি।

২০০৯ সালের মার্চে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্রথমবার সিনিয়র আর্জেন্টিনা দলের ১০ নম্বর জার্সি পরেন মেসি। এর আগে তিনি ১৮ ও ১৯ নম্বরসহ বিভিন্ন জার্সি পরে খেলেছিলেন। এরপর ১০ নম্বর জার্সিটিও মেসির সঙ্গে ততটাই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে যায়, যতটা আগে ম্যারাডোনার সঙ্গে ছিল।

তাই এবার আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্ত শুধু একটি খালি নম্বর পূরণ করার বিষয় নয়। আর অবশ্যই এর অর্থ ‘পরবর্তী মেসি’ খুঁজে বের করাও নয়।

কারণ, মেসির বিকল্প কেউ নেই।

বরং বড় প্রশ্ন, মেসি-পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনা ১০ নম্বর জার্সিকে কী হিসেবে দেখতে চায়? দলের প্রধান সৃজনশীল খেলোয়াড় হিসেবে? সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক তারকা হিসেবে? ভবিষ্যতের উজ্জ্বলতম প্রতিভা হিসেবে? নাকি শুধু লিওনেল স্কালোনির দলের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে?

নিকো পাজ: সবচেয়ে রোমান্টিক পছন্দ?

আর্জেন্টিনা যদি ১০ নম্বর জার্সির ঐতিহ্যবাহী পরিচয় ধরে রাখতে চায় অর্থাৎ মাঝমাঠ ও আক্রমণের মাঝখানে খেলা সৃজনশীল ‘এনগানচে’কে এই নম্বর দিতে চায় তাহলে নিকো পাজের নাম সবার আগে আলোচনায় আসতে পারে।

২১ বছর বয়সী কোমো মিডফিল্ডার বাঁ পায়ের সৃজনশীল খেলোয়াড়। লাইনের মাঝখানে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে উঠে এসেছেন।

স্কালোনিও এর আগে পাজের ‘অসাধারণ ভবিষ্যৎ’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। একাধিক পজিশনে খেলতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও ছিল প্রতীকী এক মুহূর্ত। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১৮ নম্বর জার্সি পরে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন পাজ। মাঠ ছাড়েন মেসি, আর তার জায়গায় নামেন আর্জেন্টিনার উদীয়মান সৃজনশীল প্রতিভা।

অবশ্য এতে পাজ মেসির উত্তরসূরি হয়ে যান না।

কারণ, একটি জার্সির উত্তরাধিকার পাওয়া আর সেই জার্সিধারী মানুষটিকে প্রতিস্থাপন করা এক বিষয় নয়।

তবে আর্জেন্টিনা যদি এমন একজন তরুণ সৃজনশীল খেলোয়াড়কে ১০ নম্বর দিতে চায়, যিনি আগামী চক্রে দলের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে পাজের জোরালো দাবি রয়েছে।

থিয়াগো আলমাদা: অভিজ্ঞ বিকল্প

১০ নম্বরের আরেকটি সম্ভাব্য নাম থিয়াগো আলমাদা।

স্কালোনির দলে তার অভিজ্ঞতা পাজের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও ছিলেন দলের সঙ্গে।

তবে এবারের বিশ্বকাপে আলমাদা পরেছেন ১৬ নম্বর জার্সি।

পাজের মতো ‘ভবিষ্যৎ সুপারস্টার’ হওয়ার আলোচনায় হয়তো আলমাদা ততটা এগিয়ে নেই। কিন্তু তিনি কারিগরিভাবে দক্ষ, ফরোয়ার্ডদের পেছনে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং স্কালোনির আর্জেন্টিনার চাহিদা সম্পর্কে তার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে।

তাই স্কালোনি যদি ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেন, তাহলে ১০ নম্বরের জন্য আলমাদাও শক্তিশালী প্রার্থী।

হুলিয়ান আলভারেজ: নতুন আক্রমণভাগের নেতা?

আরেকটি পথও খোলা আছে। আর্জেন্টিনা চাইলে ঐতিহ্যবাহী প্লেমেকার খোঁজার চিন্তা বাদ দিয়ে দলের ভবিষ্যৎ প্রধান আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের গায়েও তুলে দিতে পারে ১০ নম্বর।

সেক্ষেত্রে আলোচনায় আসবেন হুলিয়ান আলভারেজ।

২০২৬ বিশ্বকাপে ৯ নম্বর জার্সি পরেছেন আলভারেজ। তিনি এখন দলের প্রতিষ্ঠিত সেন্টার-ফরোয়ার্ড। তাই জার্সি বদলের কোনো সুস্পষ্ট কারণও নেই।

তবে ২৬ বছর বয়সে তিনি ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার হাতে আছে বিশ্বকাপজয়ীর পদক এবং মেসি-পরবর্তী প্রজন্মের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ তারকাদের একজন তিনি।

যদি ১০ নম্বর জার্সি কোনো নির্দিষ্ট পজিশনের বদলে দলের সবচেয়ে বড় তারকার প্রতীক হয়ে ওঠে, তাহলে আলভারেজেরও শক্তিশালী দাবি রয়েছে।

তবে আপাতত এটি কেবল একটি বিতর্ক, কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তরাধিকার পরিকল্পনা নয়।

এমন পরিস্থিতি আগেও সামলেছেন স্কালোনি

মেসি না থাকলে আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি অন্য খেলোয়াড়ের গায়ে ওঠার ঘটনা নতুন নয়। তাই স্কালোনির ওপরও এখনই একজন স্থায়ী উত্তরসূরি ঘোষণা করার কোনো চাপ নেই।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চোটের কারণে মেসি না থাকায় চিলির বিপক্ষে ম্যাচে ১০ নম্বর কে পরবেন? এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল স্কালোনিকে।

বিষয়টি তখন খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, মেসির অনুপস্থিতিতে অ্যাঞ্জেল কোরেয়াও এর আগে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন।

তবে এরপর স্কালোনির একটি মন্তব্যেই বোঝা গিয়েছিল, মেসি থাকাকালীন জার্সিটির গুরুত্ব কতটা ছিল।

“আমরা জানি ১০ নম্বরের একজন মালিক আছে,” বলেছিলেন স্কালোনি। একই সঙ্গে জানিয়েছিলেন, এই নম্বরটির প্রতি আর্জেন্টিনার মানুষের বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে।

পরের ম্যাচে ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন পাওলো দিবালা। মেসি ক্যারিয়ারে অনুপস্থিত থাকলে আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও এই জার্সি পরেছেন।

কিন্তু স্কালোনি যে ‘মালিকের’ কথা বলেছিলেন, সেই মেসি এখন সত্যিই সরে দাঁড়িয়েছেন।

তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারও বিশাল। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচ, ১২৫ গোল, দু’টি কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপা।

এখন মেসিকে কেন্দ্র করে দল সাজানোর সুযোগ নেই। মেসি-পরবর্তী যুগে নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

তাই হয়তো তাড়াহুড়ো করে নতুন কোনো ‘নির্বাচিত উত্তরসূরি’ ঘোষণা না করাই ভালো।

১০ নম্বর যদি আর্জেন্টিনার প্রধান সৃজনশীল খেলোয়াড়ের প্রতীক হিসেবেই থাকে, তাহলে নিকো পাজ কিংবা থিয়াগো আলমাদা হতে পারেন স্বাভাবিক পছন্দ।

যদি এই নম্বর দলের নতুন আক্রমণাত্মক মুখের প্রতীক হয়ে ওঠে, তাহলে হুলিয়ান আলভারেজও থাকবেন আলোচনায়।

অথবা স্কালোনি চাইলে জার্সিটি এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আরেক খেলোয়াড়ের কাছে ঘুরতে দিতে পারেন যতক্ষণ না কেউ নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে ১০ নম্বরকে নিজের করে নেন।

আর্জেন্টিনা হয়তো আর কখনো লিওনেল মেসি পাবে না।

কিন্তু বিখ্যাত নীল-সাদা ১০ নম্বর জার্সি আবারও কোনো একদিন উঠবে নতুন একজনের গায়ে।

আর সেই নতুন ১০ নম্বর কে ? তা দেখার অপেক্ষায় থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

যে সিদ্ধান্তের কারণে আর্জেন্টিনার জার্সিতে এক দশকের রাজত্ব করলেন মেসি

0

“আমি আমার সবটুকু দিয়েছি। এখন আর দেওয়ার মতো কিছুই বাকি নেই।” বিদায় বেলা এমন একটা বার্তা দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এই তারকা অধিনায়ক হিসেবে দেশকে এনে দিয়েছেন কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা। জিতেছেন ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাও।

কিন্তু আর্জেন্টিনার বিখ্যাত নীল-সাদা জার্সিতে মেসির সবচেয়ে সফল সময়টা হয়তো দেখাই হতো না। কারণ, এক দশক আগে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

২০১৬ সালের ২৬ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছিলেন মেসি। নিজের ২৯তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন পর, কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করার পরই আসে সেই সিদ্ধান্ত।

তখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ১১৩ ম্যাচ খেলেছিলেন মেসি। কিন্তু আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলবেন না বলে সিদ্ধান্তে নিয়েছিলেন। যেখানে তিনি ছিলেন প্রায় অনড়।

“আমার জন্য জাতীয় দল এখানেই শেষ। আমি সবকিছু করেছি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাটা খুব কষ্টের,” বলেছিলেন মেসি।

তার হতাশার কারণও ছিল যথেষ্ট। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালেও স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। বিশ্বসেরা হিসেবে বিবেচিত মেসিও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে শিরোপা এনে দিতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

চোখের পানি সামলে মেসি বলেছিলেন, “আমি সবচেয়ে বেশি যেটা চেয়েছিলাম, সেটা পাইনি। তাই মনে হয়, এখানেই শেষ। সবার জন্য এটাই হয়তো ভালো।”

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলান মেসি। আর সেই ফিরে আসাই বদলে দেয় আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাস।

অবসরের ঘোষণা থেকে সিদ্ধান্ত বদলের পরবর্তী ১০ বছরে মেসি লিখেছেন ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের গল্প। এই সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে আরও ৯৪টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, করেছেন আরও ৭০ গোল। আর জিতেছেন চারটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা।

২০২১ সালে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার শিরোপা এনে দেন মেসি। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা শিরোপা ধরে রাখে আর্জেন্টিনা।

অর্থাৎ ২০১৬ সালের সেই সিদ্ধান্তের পর মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারই হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়গুলোর একটি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ২০১৬ সালের জুনের সেই অবসর ঘোষণা থেকে ১২ আগস্টের সিদ্ধান্ত বদলের মধ্যকার ছয় সপ্তাহ। ১২ আগস্ট মেসি ঘোষণা দেন, দেশের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তিনি আবার আর্জেন্টিনার হয়ে খেলবেন।

মাত্র ছয় সপ্তাহের এই সময়টুকু তাই আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসে এমনকি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

কারণ, মেসি যদি সেদিন নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতেন, তাহলে হয়তো বিশ্ব দেখতই না নীল-সাদা জার্সিতে তার জীবনের সবচেয়ে সফল এক দশক।

দক্ষিণ আফ্রিকায় হৃদয়-জাকেরের প্রতিরোধ

0

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে ভিসা জটিলতার কারণে খেলতে পারেননি তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলি। দ্বিতীয় ম্যাচে দলের ব্যাটিং যখন ধুঁকছিল, তখন তাঁরাই হয়ে উঠলেন প্রতিরোধের মূল ভরসা। এর আগে বল হাতেও প্রথম দিনের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদের কার্যকর বোলিংয়ের পর হৃদয়-জাকেরের ব্যাটিংয়ে স্বস্তির দিন পার করেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

পচেফস্ট্রুমে প্রথম দিনটি ছিল পুরোপুরি দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের। ৪ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা স্বাগতিকেরা শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ৫১২ রানে। শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে তারা মাত্র ১০১ রান যোগ করেই।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল নাঈম হাসান। অফ স্পিনার নিয়েছেন ৪ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের শিকার ৩ উইকেট।

দিনের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে ধাক্কা দেন রেজাউর রহমান রাজা। আগের দিন ১১১ রানে অপরাজিত থাকা কিপার-ব্যাটার সিনেথেম্বা কেশিলেকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। কেশিলে এরপর আর মাত্র ১৭ রান যোগ করতে পেরেছেন।

এরপর ডেলানো পটগিটারকে বোল্ড করে দ্রুতই আরেকটি উইকেট তুলে নেন নাঈম। তবে গ্যাভিন ক্যাপলান ও কাইল সিমন্ডস কিছুটা সময় দলকে সামলে নেন।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে মাত্র ২৩ ম্যাচ খেলেই অষ্টম শতকের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন ক্যাপলান। শেষ পর্যন্ত ৯৭ রানে তাঁকে বোল্ড করেন হাসান মুরাদ। এরপর আট নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন সিমন্ডস। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ৪১ বলে ৬৬ রান করেন তিনি। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ পেরিয়ে যায় ৫০০।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। ২৩ টেস্ট খেলা ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ফিরে যান মাত্র ৯ রানে। আগের ম্যাচেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ১৯ ও ১ রান।

তিন নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও তাওহিদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ৩৯ রানের জুটির পর ভাঙে সেই জুটি। নাঈম শেখ আউট হন ৩৪ রানে।

এরপর হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন আফিফ হোসেন। কিন্তু এই জুটিও বড় হয়নি। আগের ম্যাচে ৮ ও ৬ রানে আউট হওয়া আফিফ এবার করেন ২৯ রান।

আফিফ ফেরার পর বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় আরও নড়বড়ে। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন হৃদয় ও জাকের। দিনের শেষভাগে তাঁদের ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে স্বস্তি এনে দেয়।

দিন শেষের সময় জুনে টেস্ট অভিষেক হওয়া হৃদয় অপরাজিত ৭৫ রানে। ১১টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস। অন্য প্রান্তে জাকের অপরাজিত ৪৭ রানে। তাঁর ইনিংসে আছে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা।

দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ৩১১ রান পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে হৃদয়-জাকেরের প্রতিরোধে অন্তত দিন শেষের স্বস্তিটুকু পেয়েছে সফরকারীরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: ১১৫.১ ওভারে ৫১২/১০
বাংলাদেশ ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: ৫৭ ওভারে ২০১/৪

র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি মারুফা ও সোবহানার

0

নারী এশিয়া কাপে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের মারুফা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। আইসিসির সাপ্তাহিক টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে দুজনেরই। ব্যাটিং ও অলরাউন্ডারদের তালিকায় এক ধাপ করে এগিয়েছেন স্বর্ণা আক্তারও।

মঙ্গলবার প্রকাশিত মেয়েদের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বোলারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে ৩৭ নম্বরে উঠে এসেছেন মারুফা। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ৭১ রানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। তিন ওভার বোলিং করে মাত্র ৬ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ২ উইকেট।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন রাবেয়া খান। তিনি আছেন ২০তম স্থানে। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেট নেওয়া নাহিদা আক্তার অবশ্য দুই ধাপ পিছিয়ে ২৮ নম্বরে নেমে গেছেন। অন্যদের অবনতির সুযোগে এক ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৪৬ নম্বরে আছেন সুলতানা খাতুন। বোলারদের তালিকার শীর্ষে আছেন ভারতের শ্রী চারানি।

ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের জন্য সুখবর এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৪২ বলে ৪০ রান করেছিলেন সোবহানা। ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। এই পারফরম্যান্সে এক ধাপ এগিয়ে ৩৯ নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি।

স্বর্ণাও পেয়েছেন র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির সুফল। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১৮ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন তিনি। একটি ছক্কা ও তিনটি চার ছিল তাঁর ইনিংসে। এতে ব্যাটারদের তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫৪ নম্বরে উঠেছেন স্বর্ণা।

অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়েও দুই ধাপ উন্নতি হয়েছে স্বর্ণার। রাবেয়া খানের সঙ্গে যৌথভাবে ৩১ নম্বরে আছেন তিনি। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস।

বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে অবশ্য শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেননি অধিনায়ক নিগার সুলতানা। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১০ রান করা নিগার দুই ধাপ পিছিয়ে ২২ নম্বরে নেমেছেন। ব্যাটারদের তালিকার শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি।

এদিকে র‍্যাঙ্কিংয়ের তিন বিভাগেই ক্যারিয়ারসেরা রেটিং পয়েন্ট পেয়েছেন শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অপরাজিত ৪৮ রান করে ব্যাটারদের তালিকায় ৭৩৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

একই ম্যাচে বল হাতে একটি উইকেট নেওয়ায় বোলারদের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে ৩৩ নম্বরে উঠেছেন আতাপাত্তু। এই বিভাগে তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৫২২। আর অলরাউন্ডারদের তালিকায় ৪০৫ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই তৃতীয় অবস্থানে আছেন শ্রীলঙ্কার এই তারকা।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ‘এ’ দলে চমক মিঠুন

0

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের কোনো দলে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারকে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

তাওহিদ হৃদয়কে অধিনায়ক করে তিন ম্যাচের আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। আগামী রোববার শুরু হবে সিরিজ। পরের দুটি ম্যাচ ৯ ও ১২ সেপ্টেম্বর।

মিঠুনের দলে ফেরাটাই এবারের স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক। গত চার বছর বাংলাদেশের কোনো দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। সর্বশেষ ২০২২ সালে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি আনঅফিসিয়াল টেস্টে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে অবশ্য নিয়মিতই দেখা গেছে মিঠুনকে। গত জুনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ঢাকা লিওপার্ডের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ১১ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটিতে ৩২১ রান করেন এই উইকেটকিপার–ব্যাটার।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও মিঠুনের অভিজ্ঞতা কম নয়। এখন পর্যন্ত ২৪০ ম্যাচ খেলে তাঁর রান ৬ হাজার ৭৪২। চারটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে ৪৮টি ফিফটি। ব্যাটিং গড় ৩৩.২১।

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চলমান দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হৃদয়। জাতীয় দলকেও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। চারদিনের ম্যাচের দলে থাকা বেশির ভাগ ক্রিকেটারকেই ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে।

মিঠুনের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজের জন্য নতুন করে দলে ডাক পেয়েছেন আলিস আল ইসলাম ও সাইফ হাসান।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল

মোহাম্মদ নাঈম শেখ, পারভেজ হোসেন, মাহমুদুল হাসান, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান, আফিফ হোসেন, জাকের আলি, মোহাম্মদ মিঠুন, আলিস আল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, আল ফাহাদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মুশফিক হাসান ও রেজাউর রহমান রাজা।

সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে দেশে পাঠিয়ে দিল পাকিস্তান

0

ইংল্যান্ড সফরে টানা দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। তৃতীয় টেস্টের আগে ৭ ক্রিকেটারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি কোচিং প্যানেল থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দুজনকে।

হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। এরপর লর্ডস টেস্টেও ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় তারা। দুই ম্যাচেই ব্যাটিং-বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে কার্যত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি পাকিস্তান। এর পরই দলে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড।

সবচেয়ে বড় চমক এসেছে কোচিং প্যানেলে। মাত্র পাঁচটি টেস্টের পরই প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে বোলিং কোচ উমর গুলকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তাঁদের জায়গায় বার্মিংহামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন মাইক হেসন। বোলিং কোচ হিসেবে থাকবেন অ্যাশলে নফকে। দুজনই এর আগে পাকিস্তানের সাদা বলের ক্রিকেটের কোচিং সেটআপে কাজ করেছেন।

এদিকে টেস্ট স্কোয়াড থেকেও বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আঘা, আলী উসমান, আমির জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররাম শাহজাদ।

তাঁদের জায়গায় দলে ফিরেছেন সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া ও রাজাউল্লাহ।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তানের সামনে এখন শেষ টেস্টটি অনেকটাই নিয়মরক্ষার। তবে এমন পরিস্থিতিতেও একসঙ্গে এতজন ক্রিকেটার ও কোচকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা পাকিস্তান ক্রিকেটে বেশ বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটির ক্রিকেটে একাধিকবার পরিবর্তন এলেও সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে এমন বড় রদবদল খুব একটা দেখা যায়নি।

বার্মিংহামে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।

শেষ টেস্টে পাকিস্তানের স্কোয়াড

বাবর আজম (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফজল, আরাফাত মিনহাস, আজান আওয়াইস, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলি, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, গাজী ঘোড়ি, রাজাউল্লাহ, সাদ বেগ, সাইম আইয়ুব, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শফিক, উবাইদ শাহ

‘লিও, তুমি সর্বকালের সেরা’মেসিকে বিদায়ী বার্তা লিসান্দ্রোর

0

দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। সাদা-আকাশি জার্সিতে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে সর্বোচ্চ গোল, সর্বাধিক অ্যাসিস্ট ও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়ে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি।

মেসির বিদায়ের ঘোষণায় আবেগঘন হয়ে পড়েছেন তাঁর সতীর্থরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক স্মৃতিচারণা ও ভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন দলের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় লিসান্দ্রো জানান, মেসির বিদায়ের জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। তবে তাঁর চোখে এই বিদায়ও ছিল একজন রাজার মতোই।

লিসান্দ্রো লিখেছেন, ‘সত্যি বলতে, ভীষণ মন খারাপ লাগছে। এমন একটি বিদায়ের জন্য কেউ কখনো প্রস্তুত থাকে না। তবে হৃদয়ের গভীর থেকে তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তুমি শুধু আমার কাছেই নও, পুরো বিশ্বের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মাঠে যেমন তুমি জয়ী, জীবনেও তেমনি সফল।’

মেসির সঙ্গে একই দলের হয়ে খেলতে পারাকে নিজের জন্য বিশেষ সৌভাগ্য হিসেবেও উল্লেখ করেছেন ‘দ্য বুচার’খ্যাত এই ডিফেন্ডার। নিজের কন্যার কথাও তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মেয়ে ভবিষ্যতে এটা ভেবে অত্যন্ত গর্বিত হবে যে, তার বাবা এত অসাধারণ একজন মানুষের সঙ্গে একই দলে খেলেছে।’

বার্তার শেষাংশে মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অ্যাথলেট হিসেবে অভিহিত করেন লিসান্দ্রো। তাঁর ভাষায়, ‘তুমি ক্রীড়া ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অ্যাথলেট। কারণ ফুটবলের কথা বললে সত্যি বলতে, তোমার সঙ্গে অন্য কারও কোনো তুলনা হয় না। তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।’

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে তাঁর পাশে থাকা সতীর্থদের এমন আবেগঘন বার্তাই যেন আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে—আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসির শূন্যতা পূরণ করা কতটা কঠিন।

কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’

0

চলতি বছর মাঠে গড়াচ্ছে না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এক বছর বিরতির পর আগামী বছর আরও গোছানোভাবে বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরই মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ হিসেবে এনসিএল টি-টোয়েন্টির নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নামে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আশাবাদী বিসিবির পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তাঁর মতে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সম্পৃক্ততাও এতে বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

নান্নু বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট যেটা হচ্ছে, এটা অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেক কিছু বদলে যাবে। খেলোয়াড়, ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক-যারা থাকবে, তাদের সম্পৃক্ততা বাড়বে।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন নান্নু। এতে ঢাকার বাইরের ক্রিকেটারদের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়েরাও অনুপ্রাণিত হবেন বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, ‘পুরো বাংলাদেশব্যাপী খেলা হবে, অনেকগুলো ভেন্যুতে খেলা হবে। অনেক কিছুরই উন্নতি হবে। দেখবেন, আমাদের অন্যান্য জেলার খেলোয়াড়রা একটু উৎসাহিত হবে। যারা তরুণ খেলোয়াড়, তারাও অনুপ্রাণিত হবে। আমি আশা করি, এই টুর্নামেন্টটা হলে খেলোয়াড়রা যথেষ্ট উপকৃত হবে।’

তবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ঠিক কবে মাঠে গড়াবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাতে পারেননি নান্নু। তিনি জানিয়েছেন, বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ শিগগিরই টুর্নামেন্টটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবে।

নতুন এই প্রতিযোগিতার কাঠামোও হতে পারে কিছুটা ভিন্ন। কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন নান্নু। ইংল্যান্ডের কাউন্টি দলগুলো যেভাবে নিজেদের দল পরিচালনা করে, অনেকটা সেই কাঠামো অনুসরণ করেই বাংলাদেশের এই টুর্নামেন্ট সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নান্নু বলেন, ‘এটা হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা উন্নতি হবে। কাউন্টি দলগুলো যেভাবে ওউন করে, যেভাবে চালায়, ঠিক সেই আঙ্গিকে একটা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, এখান থেকে খেলোয়াড়রা যথেষ্ট উপকৃত হবে, আঞ্চলিক অবকাঠামোগুলো উপকৃত হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি যারা আসবে, তাদেরও দায়িত্ব অনেক বেশি থাকবে।’

বিসিবির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রিকেট অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় ও তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে-এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেসির অবসরকে ‘বৈশ্বিক বোমা বিস্ফোরণ’ বলছে বিশ্ব গণমাধ্যম

0

অনেকটা আকস্মিকভাবেই এলো ঘোষণা। সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান লিওনেল মেসি। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। প্রধান শিরোনাম হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে মেসির এই সিদ্ধান্তকে দেখছে বিশ্ব ক্রীড়া গণমাধ্যম।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অসংখ্য রেকর্ড, সাফল্য আর স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন মেসি। তাঁর বিদায়ে জাতীয় দলে যে বড় শূন্যতা তৈরি হবে, সেটিও উঠে এসেছে বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে। পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে মেসির অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান এবং তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্নগুলো।

আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী ক্রীড়া দৈনিক ‘ওলে’ ২০২৬ সালের ৩১ আগস্টকে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, দিনটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মেসির নিজের কথাই বিশেষভাবে সামনে এনেছে পত্রিকাটি । তাদের শিরোনাম, ‘আমি আমার সর্বস্ব উজার করে দিয়েছি।’

‘ওলে’র প্রতিবেদনে মেসির হাতে লেখা বার্তার ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলকে ভালোবাসতেন এবং ভবিষ্যতেও ভালোবাসবেন, মেসির এমন বক্তব্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, খেলোয়াড় হিসেবে বিদায় নিলেও আর্জেন্টিনার পাশে থাকবেন তিনি। ভালো সময় হোক কিংবা খারাপ, মাঠের বাইরে থেকে জাতীয় দলকে সমর্থন করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মেসি।

তবে তাঁর বিদায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করছে ‘ওলে’। মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘ এক যুগের পর জাতীয় দলকে এখন নতুন করে পথচলা শুরু করতে হবে, এমনই ইঙ্গিত তাদের বিশ্লেষণে।

স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক ‘মার্কা’ মেসির অবসরকে বলেছে ‘বৈশ্বিক বোমা বিস্ফোরণ’। মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। নতুন অধিনায়ক কে হবেন, নেতৃত্ব কার হাতে যাবে এবং মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা কেমন হবে, এসব প্রশ্ন সামনে আসবে বলে মনে করছে ‘মার্কা’।

মেসির আন্তর্জাতিক রেকর্ডও আলাদা করে তুলে ধরেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমটি। ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল, আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড তাঁর দখলে। এই পরিসংখ্যানের পুনরাবৃত্তি করা যে কঠিন, সেটিও উল্লেখ করেছে ‘মার্কা’।

কাতালান সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’ও মেসির অবসরকে বিশ্ব ফুটবলের বড় ঘটনা হিসেবে দেখেছে। তাদের ভাষায়, ‘বিশ্ব ফুটবলে বোমা ফাটল।’ ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে উল্লেখ করে তারা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে নামবেন না এই কিংবদন্তি।

ইতালির ‘লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত’ অবশ্য মেসির সিদ্ধান্তের মানবিক দিকটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির চোখে, এটি ছিল ‘যন্ত্রণাদায়ক কিন্তু অপরিহার্য’ একটি সিদ্ধান্ত। মেসির বক্তব্য, ‘আমার আর দেওয়ার কিছুই নেই, এই দলে দারুণ সব খেলোয়াড় আছে যারা সুযোগ পাওয়ার যোগ্য’ তুলে ধরে তারা বলেছে, এর মধ্য দিয়েই জাতীয় দলে ‘ফ্লিস’ যুগের অবসান ঘটল।

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং দুইবারের কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিদায় জানাচ্ছেন মেসি, এটিও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছে ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমটি।

ফ্রান্সের প্রভাবশালী ক্রীড়া দৈনিক ‘লেকিপ’ মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকিয়েছে। মেসির নিজের কথাই সামনে এনে তারা বলেছে, সিদ্ধান্তটি এখনো তাঁর অন্তরে গভীরভাবে আঘাত করছে। তবে একই সঙ্গে মেসি বিশ্বাস করেন, সরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময় এসে গেছে।

ফরাসি ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ফুট মের্কাটো’ মেসির অবসরকে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছে। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে মেসির দীর্ঘ অপেক্ষার গল্পও।

বেশ কয়েকটি বড় ফাইনালে তিক্ত হারের পর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক শিরোপার খরা কাটান মেসি। এরপর শুরু হয় তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল অধ্যায়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতে সেই স্বর্ণযাত্রাকে পূর্ণতা দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনাকে আরও সাফল্য এনে দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে।

মেসির অবসর তাই কেবল একজন ফুটবলারের জাতীয় দল ছাড়ার খবর নয়। এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি যুগের সমাপ্তি। যে খেলোয়াড়কে ঘিরে প্রায় দুই দশক ধরে জাতীয় দলের স্বপ্ন, প্রত্যাশা, হতাশা ও সাফল্যের গল্প লেখা হয়েছে, সেই মেসি এবার থাকবেন মাঠের বাইরে।

তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার মুছে যাওয়ার নয়। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, অসংখ্য রেকর্ড আর কোটি মানুষের ভালোবাসা, সবকিছু মিলিয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার হয়ে থাকবে ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।

মেসি বিদায় নিলেন। কিন্তু তাঁর গল্পের শেষ নেই আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে তাঁর উত্তরাধিকার বেঁচে থাকবে আরও বহু প্রজন্ম।