Home Blog Page 28

মেসির বিদায়ে এনজোর আবেগঘন চিঠি

0

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায় শেষ হওয়ার ঘোষণায় আবেগ সামলাতে পারেননি এনজো ফার্নান্দেজ। মেসিকে নিজের আদর্শ মানা ২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন হৃদয়ছোঁয়া এক চিঠি। সেখানে উঠে এসেছে ছোটবেলার স্বপ্ন, মেসির সঙ্গে একই মাঠে খেলার আকাঙ্ক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অবিশ্বাস্য গল্প।

প্রায় এক দশক আগে অভিমান করে মেসি যখন জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন তাঁকে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছিলেন এনজো। সেসময় তিনি ছিলেন কেবলই এক কিশোর। মেসির বয়স আর নিজের বয়সের হিসাব কষতেন এনজো-আদৌ কি কখনো আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর সঙ্গে খেলার সুযোগ হবে?

মেসি শেষ পর্যন্ত ফিরেছিলেন। আর এনজোর ছোটবেলার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল কল্পনার চেয়েও সুন্দরভাবে। শুধু একসঙ্গে মাঠে নামাই নয়, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করেছেন, কঠিন সময় পার করেছেন, আনন্দ উদযাপন করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে বিশ্বকাপও জিতেছেন।

মেসিকে উদ্দেশ্য করে এনজো লিখেছেন, ‘লিও, তুমি যখন সেই সময় জাতীয় দল ছাড়ার কথা বলেছিলে, আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি তখন স্রেফ একটা বাচ্চা ছিলাম। তোমার বয়স আর আমার বয়সের হিসাব করতাম, ভাবতাম কোনো দিন তোমার সঙ্গে খেলতে পারব কি না।’

নিজের সেই শিশুসুলভ হিসাব-নিকাশের কথাও জানিয়েছেন এনজো। লিখেছেন, ‘এটা শুনতে হয়তো বোকা বোকা লাগে, কিন্তু আমি সত্যিই হিসাব করতাম। ভাবতাম, তোমার হাতে আর কত বছর আছে, আমার প্রথম বিভাগে পৌঁছাতে কত বছর লাগবে। আর স্বপ্ন দেখতাম, অন্তত একবার হলেও আর্জেন্টিনার হয়ে আমরা একসঙ্গে খেলব। ভাগ্য ভালো, তুমি ফিরে এসেছিলে।’

এরপর সেই স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবে রূপ নিয়েছিল, সেটিও লিখেছেন এনজো। মেসির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। জাতীয় দলের ক্যাম্প, ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে কঠিন সময় ও আনন্দের মুহূর্ত-সবকিছুতেই তাঁরা ছিলেন একসঙ্গে।

এনজোর ভাষায়, ‘জীবন সেই ছোট্ট ছেলেটা যা কল্পনা করতে পেরেছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দরভাবে সবকিছু সাজিয়ে দিয়েছিল। আমি শুধু তোমার সঙ্গে খেলতেই পারিনি; আমরা একসঙ্গে জাতীয় দলের ক্যাম্প করেছি, ড্রেসিংরুম ভাগ করেছি, কথা বলেছি, একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছি, কঠিন সময় পার করেছি, অসাধারণ মুহূর্ত উপভোগ করেছি এবং শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

তবে এনজোর কাছে মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলার হিসেবে নয়। জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর মেসি যেভাবে তাঁকে আপন করে নিয়েছিলেন, সেটিই বেশি মনে থাকবে তাঁর।

এনজো লিখেছেন, ‘সবচেয়ে বেশি আমি কৃতজ্ঞ থাকব, যেদিন থেকে আমি দলে এসেছি, সেদিন থেকেই তুমি যেভাবে আমার সঙ্গে আচরণ করেছ তার জন্য। আমি এখানে এসেছিলাম আমার আদর্শের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু বদলে এমন একজন মানুষকে পেয়েছি, যিনি প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাকে দলের একজন মনে করিয়েছেন।’

মেসির ছোট ছোট আচরণও ভুলবেন না এনজো। তিনি লিখেছেন, ‘তোমার কাছ থেকে সবসময় একটি ভালো কথা, একটি পরামর্শ, একটি আলিঙ্গন কিংবা প্রয়োজনের সময় আমাকে স্বস্তি দেওয়ার মতো কোনো না কোনো কিছু পেয়েছি। আমি কখনোই সেটা ভুলব না।’

মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পরবর্তী জাতীয় দলের ক্যাম্পের কথাও ভাবতে কষ্ট হচ্ছে এনজোর। তাঁর ভাষায়, ‘আজ আমার পক্ষে কল্পনা করা কঠিন যে, পরের জাতীয় দলের ক্যাম্প তোমাকে ছাড়া হবে। মাঠে গিয়ে সামনে তোমাকে না দেখা, ১০ নম্বর জার্সি পরে দাঁড়িয়ে না থাকা, এটা ভাবাই কঠিন। এত বছর ধরে তোমাকে সেখানে দেখে এসেছি যে, অন্যভাবে ভাবাটাই অসম্ভব মনে হচ্ছে।’

চিঠির শেষদিকে আবার ফিরে গেছেন ছোটবেলার সেই এনজোর কাছে। মেসির সঙ্গে খেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়াকে জীবনের বড় সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘কত ভাগ্যবান ছিলাম আমি, লিও। সেই ছোট্ট ছেলেটা কত ভাগ্যবান ছিল, যে তখন হিসাব কষত, সে আদৌ সময়মতো পৌঁছাতে পারবে কি না, সেটাই না জেনে। তুমি যেভাবে আমার সঙ্গে আচরণ করেছ, তার জন্য ধন্যবাদ। তুমি আমাকে যা শিখিয়েছ, তার জন্য ধন্যবাদ। আর তোমার গল্পের একটি অংশ আমাকে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ।’

সবশেষে প্রিয় অধিনায়কের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে এনজো লিখেছেন, ‘আমরা তোমাকে অনেক মিস করব, ক্যাপ্টেন।’

মেসির বিদায়ে যে বার্তা দিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

0

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির অবসর কেবল ফুটবল অঙ্গনেই আলোড়ন তোলেনি, ছুঁয়ে গেছে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ পর্যায়কেও। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর অবসরের আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি বিশ্বজুড়ে ভক্তদের আবেগাপ্লুত করেছে। মেসির বিদায়ের পর তাঁকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন সতীর্থ, কিংবদন্তি ফুটবলার থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মেসির একটি ছবি পোস্ট করে তাঁকে সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগঘন বার্তায় বিদায় জানিয়েছেন তিনি।

ভক্তদের অভিবাদন জানানো মেসির একটি ছবি শেয়ার করে মিলেই লিখেছেন, ‘অনেক অনেক ধন্যবাদ, অসম্ভবকে সম্ভব করা মানুষ।’

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেসিকে উদ্দেশ্য করে এই বার্তা দেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। আবেগঘন এক বার্তায় মেসি জানিয়েছেন, জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবে দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি মনে করেছেন, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়ার সময় এখনই।

মেসির ভাষায়, ‘আমার যা কিছু ছিল, তার সবটুকু আমি উজাড় করে দিয়েছি এবং দেওয়ার মতো আর কিছুই আমার কাছে নেই। আর্জেন্টিনায় একদল অসাধারণ তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে, যারা তাদের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।’

আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক সাফল্যের অংশ হয়েছেন মেসি। তাঁর নেতৃত্বেই দলটি কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে। ফলে জাতীয় দল থেকে তাঁর বিদায় আর্জেন্টিনার ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবেই দেখছেন সমর্থকেরা।

যে পায়ে পূর্ণ হয়েছিল বিশ্বকাপের স্বপ্ন, সেই মেসিরই এবার বিদায়!

0

অগণিত স্মৃতি আর ভালবাসায় ফুটবল জাদুকরের বিদায়

সবুজ ঘাসের গালিচার সেই রূপকথার লড়াই শেষবারের মতো অশ্রু হয়ে ফুটেছিল বিশ্বকাপের ফাইনালে! তারপর! থামল সময়, স্তব্ধ হলো এক জাদুকরী অধ্যায়। সময় কতটা নিষ্ঠুর, তা হয়তো আজ প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর বুকের ভিড়ে জমতে থাকা ভারী নিঃশ্বাসই বলে দিচ্ছে। আমরা জানতাম একদিন এই দিনটি আসবে, তবুও কোনো প্রস্তুতিই যেন যথেষ্ট ছিল না এই শূন্যতা সহ্য করার।

বিশ্বকাপ ২০২২ জয়ের পর মেসি

লিও তুমি তো শুধু ফুটবলার নয় তুমি প্রজন্মের আবেগ, লক্ষ কোটি মানুষের শৈশব আর ভালোবাসার প্রতিশব্দ। তুমি পায়ের ছোঁয়ায় বলকে কথা বলিয়েছো। তুমি অমর!  

মেসিরি মত জাদুকর যখন আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চকে বিদায় জানান, তখন শুধু একটি ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে না—একটি আস্ত যুগের সূর্যাস্ত হয়। ধন্যবাদ লিওনেল মেসি, আমাদের এমন এক সুন্দর স্বপ্ন উপহার দেওয়ার জন্য, যা শেষ হয়েও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে আজীবন। বিদায় লিও; তুমি পূর্ণ করেছে আর্জেন্টিনা বাসির অপূর্ণতা, তুমি থাকবে বিশ্ব ফুটবলের মহা নায়ক হয়ে চিরদিন চিরকাল…!

১৯৮৭ সাল! ৩৯ বছর আগের কথা। শিশুটি যখন হাঁটি হাঁটি পা করে ঘরের ভেতরে দৌড়া দৌড়ি, বল নিয়ে ছোটাছুটি করছিল তখনই হয়তো বাবা হোর্হে মেসি অনুভব করেছিলেন ছেলেকে ফুটবলার বানাবেন। তার পরের অধ্যায় তো অনেক চড়াই উতরাইয়ের পর স্বপ্নের বার্সেলোনায়! ব্যস! বদলে গেল মেসির পৃথিবী, শুরু হলে স্বপ্নের পথে যাত্রা। যে যাত্রার ক্ষণে ক্ষণে ছিল শঙ্কা, ছিল চ্যালেঞ্জ, আর ছিল অভীষ্ট লক্ষ্য।

বিশ্বকাপ জয়ের পর পরিবার নিয়ে ট্রফি উদযাপন

“১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে জন্ম নেওয়া সেদিনের সেই ছোট্ট ছেলেটিই যে একদিন বিশ্ব জয় করবেন তা কি কেউ সেদিন ভেবেছিল? না, সেদিন কেউ ভাবতে পারেননি যে, ”লিওনেল আন্দ্রেস মেসি” একদিন মহা তারকা হবেন। শুধু সৃস্টি কর্তাই যেন জানতেন তিনি ফুটবল মাঠের জাদুকর হবেন, ফুটবল শাসন করবেন জ্যামপ্যাক্ট গ্যালারির সবুজ গাসের গালিচায় ফুটবল বিশ্বকে উপহার দিবেন চর্ম চক্ষু জুড়ানো ফুটবল কারিকুরির মহনীয় দৃশ্য!

বিদায় নিলেও কি ২১ বছরের আকাশী নীল জার্সির প্রেম-ভাল বাসা একদিনে চুকিয়ে দেওয়া যায়? না, তা জায়না! তারপরও তো চলতে চলতে তাকে কোন একসময় থেমে যেতে হত। তাই লিওনেল মেসি তোমার এই বিদায় শুধুই কথার কথা! তুমি থাকবে বিশ্ববাসীর হৃদয়ে “তুমি থাকবে ফুটবল মহাকাশের উজ্জ্বল তারা হয়ে, নীল দিগন্তে, মহাকালের ইতিহাসে।

মেসির ফেসবুক পেজে অবসরের সিদ্ধান্তকে কি সত্যিই বিশ্বাস করতে পেরেছেন তার ভক্ত সমর্থকরা? মেসি বলেন বিশ্বকাপ ‘ফাইনালের পর থেকে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। ‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা হৃদয়ে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এখনই সরে দাঁড়ানোর সময়। আমি শপথ করে বলতে পারি, সবসময় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক বছর গুলোতেই নয় যখন আমরা সবকিছু জিতেছি তখন এবং যখন জিতেতে পারিনি তখনও। আমরা জাতীয় দলের এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি।’ ‘ফুটবলের মাধ্যমে যেন আপনারা আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্ববোধ করেন, সেই চেষ্টা সবসময় করেছি।

বিশ্বকাপ জয়ের পর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে ট্রফিতে চুমু- অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্ত

ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। মাঠের ভেতর থেকে আপনাদের সমর্থনের শব্দ আমি খুব মিস করব। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে জাতীয় দলকে সমর্থন করব। ভালো সময় হোক কিংবা খারাপ সময়, সবসময় পাশে থাকব।’ ‘আমার সতীর্থদের সঙ্গে আপনাদের স্বপ্নের মুহূর্তগুলো উপহার দিতে পেরেছি, এ নিয়ে আমি শান্তি ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে এসব মুহূর্ত উপভোগ করা ছিল অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। আমি আপনাদের ভালোবাসি।


যে পায়ের জাদুতে কোটি কোটি মানুষ ফুটবলের প্রেমে পড়েছে, যে মানুষটা ম্যারাডোনার উত্তরসুরী হিসেবে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন, ফিনালিসিমা, কোপা আমেরিকা আর দিয়েছেন ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বসেরার বিশ্বকাপের ট্রফি সেই লিওনেল মেসি বিদায় বললে কি আর বিদায় দেওয়া যায়?

বিশ্বকাপ জয়ের পর স্ত্রীর সান্নিধ্যে মহা-তারকা লিওনেল আন্দ্রেস মেসি

আসলে রেকর্ড দিয়ে মাপা যায় নির্দিস্ট মাপের কিছু খেরোয়াড়কে কিন্তু কোন খেলোয়াড় যখন হয়ে যায় আকাশের মত বিশাল তখন তাকে মাপার সাধ্য আর রেকর্ডের থাকেনা-লিওনেল মেসি হলেন তেমনী আকাশের মত বিশাল ফুটবল হৃদয়ের খেলোয়াড়।  যিনি শুধু নিজ দেশেই নয় সারা বিশ্বের ফুটবলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়া ফুটবলার। মেসির দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২০৭ ম্যাচের রেকর্ড, ১২৫ গোল আর ৬৮ গোল বানিয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক মুহুর্তের ছবি কখন মুছে যাবেনা। বেঁচে থাকবে বহুকাল ধরে জ্বলবে ফুটবলের মহাকাশে।

শৈশবের স্বপ্ন থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মহাকাব্যিক যাত্রা! ব্যর্থতা, কান্না আর অসংখ্য সমালোচনা পেরিয়ে দেশের জার্সিতে নিজেকে অমর করে নেওয়া। তার বাঁ পায়ের জাদু হয়তো আর দেখা যাবে না বিশ্বমঞ্চে, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে মেসির গল্প থেকে যাবে চিরকাল- একজন শিল্পী, একজন ফুটবল নেতা, আর কোটি মানুষের ভালোবাসার এক অনন্য নাম হয়ে। লিওনেল মেসি স্যালুট তোমায়! বিশ্ব ফুটবলকে সমৃদ্ধ করার জন্য। তুমি রবে চিরকাল, তুমি থাকবে মহাকাল ফুটবলের ইতিহাসে, ফুটবলের আকাশে, ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ের ক্যানভাসে…!

মেসির অবসরে খুশি স্ত্রী রোকুজ্জো!

0

জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের পর আর্জেন্টিনায় আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অধিনায়ক তার বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরই তার সতীর্থ থেকে শুরু করে মা সেলিয়া হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। এবার মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোও তাকে উদ্দেশ্য করে হৃদয়ের অনুভূতি জানিয়ে তাকে চিঠি লিখেছেন।

কান্না কিংবা স্মৃতিচারণ নয়, মেসির স্ত্রী এই মুহূর্তকে গ্রহণ করেছেন হাসি দিয়ে এবং স্মরণ করেছেন জাতীয় দলের সঙ্গে তার মুহূর্তগুলোর কথা, যেখানে ছিল উত্থানপতন। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রোকুজ্জোর বার্তার শুরুতে ছিল, ‘এভাবে এই অধ্যায় তোমাকে শেষ করতে দেখে কী যে গর্ব হচ্ছে। অনেক অনেক বছর, অনেক মুহূর্ত, কত আনন্দ এবং অনেক ধাক্কাও ছিল।’ তিনি বলে গেলেন, ‘আমি তোমাকে কষ্ট পেতে ও পড়ে যেতে দেখেছি, আবার উঠেও দাঁড়িয়েছ। আমি দেখেছি যখন কোনো কিছু তোমার অনুকূলে ছিল না তখনও তুমি হাল ছাড়নি এবং সবসময় আবার চেষ্টা করেছ। আমি যথেষ্ট ভাগ্যবতী ছিলাম যে, বহু বছর পর আমি তোমার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে দেখেছি এবং আমাদের জীবনের কিছু সুখের মুহূর্তের অভিজ্ঞতাও হয়েছে।’

মেসির প্রত্যেক জয় উদযাপন এবং বেদনাদায়ক হারের পর তার সঙ্গেই ছিলেন পরিবার। সবসময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পেয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। সম্প্রতি বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে তার জীবনে বড় ধাক্কা লাগে। এজেন্ট হিসেবে সবসময় তিনি ছেলের পাশে ছিলেন। রোকুজ্জো জানালেন, বাবার মতোই মেসি তার তিন সন্তানের জন্য দারুণ দৃষ্টান্ত তৈরি করে গেছেন।

মেসির সহধর্মিনী লিখেছেন, ‘এই গল্পের এমন একটি বিষয় আছে, যেটা আমাকে নাড়া দেয়: আমাদের সন্তানরা এগুলো সরাসরি দেখে বড় হচ্ছে। তারা তাদের বাবাকে সে যা চেয়েছিল সেটার জন্য লড়াই করতে দেখেছে, কখনও হাল না ছাড়তে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখতে দেখেছে। তারপর তারা তাকে সবকিছু অর্জন করতে ও বিশ্বকাপ জিততে দেখল।’

রোকুজ্জোর বিশ্বাস, এখনও বুঝে উঠতে না পারলেও মাঠে মেসি কী অর্জন করেছেন, সেটার গুরুত্ব একদিন বুঝতে পারবে তার তিন সন্তান থিয়াগো, চিরো ও মাতেও। তিনি লিখেছেন, ‘হয়তো একদিন তারা সত্যিই বুঝতে পারবে এই গল্পের বিশালতা। আজ তারা তাদের বাবাকে নিয়ে শুধুই গর্বিত।’

শেষটা মেসির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘এবং আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমার পথচলার জন্য, তুমি যা জয় করেছ তার জন্য, সর্বোপরি এসব মুহূর্তের নেপথ্যে যে মানুষটা ছিল তার জন্য। তোমার সঙ্গে থেকে এই সব অভিজ্ঞতা অর্জন করা কী যে সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমরা তোমাকে সীমাহীন ভালোবাসি।’

মেসির অবসরে আবেগঘন শ্রদ্ধা, ‘চিরন্তন’ কিংবদন্তিকে বিদায়

0

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের ঘোষণায় আবেগাপ্লুত ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্তের পর মেসির সতীর্থ ও সাবেক সতীর্থরা জানিয়েছেন গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। কেউ বলেছেন ‘সর্বকালের সেরা’, কেউ আবার মেসিকে আখ্যা দিয়েছেন ‘চিরন্তন’ কিংবদন্তি হিসেবে।

মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য আনহেল ডি মারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আকাশি-সাদা জার্সিতে আর মেসিকে দেখা যাবে না, এটা মেনে নেওয়া কঠিন। মেসিকে দেখতে, উপভোগ করতে এবং এত বছর জাতীয় দলে তাঁর সঙ্গে খেলতে পারাটাকে নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন দি মারিয়া।

মেসির আরেক সতীর্থ রদ্রিগো ‍ডি পলও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ইন্টার মায়ামিতেও মেসির সঙ্গে খেলছেন তিনি। দে পল মেসিকে ‘সর্বকালের সেরা’ বলে উল্লেখ করে জানান, তাঁদের এত আনন্দ দেওয়ার জন্য মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তাঁর ভাষায়, মেসি ‘চিরন্তন’।

আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অধিনায়ককে। মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসা ও মুগ্ধতার কথা জানিয়ে রোমেরো বলেন, তাঁর এবং দেশের জন্য মেসি যা দিয়েছেন, তার জন্য তিনি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকবেন। অধিনায়কের প্রতি জানান ‘চিরন্তন কৃতজ্ঞতা’।

মেসির বিদায়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় দলটি মেসিকে ‘চিরন্তন ধন্যবাদ’ জানিয়ে বলেছে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তারা তাঁকে ভালোবাসবে।

শুধু সতীর্থরাই নন, মেসির অবসর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তিনি মেসিকে ‘অবিশ্বাস্য মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে অভূতপূর্ব বলে প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, মেসি লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং ফুটবলের সৌন্দর্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

সবচেয়ে আবেগঘন বার্তাগুলোর একটি এসেছে মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর কাছ থেকে। মেসির পুরো যাত্রার পাশে থাকতে পারাকে নিজের জন্য বড় সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। মেসির সব স্বপ্ন পূরণ হওয়ার গল্পকে প্রাপ্য বলেও মন্তব্য করেন আন্তোনেলা। শেষে ভালোবাসায় জানান, তারা মেসিকে অসীম ভালোবাসেন।

একজন ফুটবলারের বিদায়কে ঘিরে এমন সর্বব্যাপী আবেগই বলে দিচ্ছে, মেসি শুধু আর্জেন্টিনার একজন অধিনায়ক নন; তিনি বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য অধ্যায়। আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়সহ অসংখ্য স্মৃতি রেখে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সতীর্থদের ভাষায়, মেসি বিদায় নিলেও তিনি থেকে যাবেন ‘চিরন্তন’ হয়েই।

ইন্দোনেশিয়াকে উড়িয়ে বাংলাদেশের জয়

0

এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির অভিষেক ম্যাচেই ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট করে ৭১ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দলের জয়ে বল হাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন মারুফা আক্তার ও বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার। ব্যাট হাতে সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্না আক্তারের গুরুত্বপূর্ণ অবদানও ছিল।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। তবে ইন্দোনেশিয়ার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুতই চাপে পড়ে যায় তারা। নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা সোবহানা মোস্তারি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন। শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ১৮ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৯ রান সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার পেসার নি মাদে পুত্রি সুয়ান্দেউই সুইং দিয়ে বেশ ভালো পরীক্ষা নেন ব্যাটারদের। প্রথম দুই ওভারে চারটি বাউন্ডারি এলেও দ্রুতই রান তোলার গতি কমে যায়। পাওয়ারপ্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১ উইকেটে মাত্র ৩০ রান।

সোবহানা ও দিলারা আক্তারের জুটি দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ইন্দোনেশিয়ার স্পিনাররা নিয়মিত চাপ তৈরি করেন। দিলারা ৩১ বলে ২৭ রান করে আউট হন। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানাকেও ফেরান ১৬ বছর বয়সী লেগ স্পিনার সোফিয়া ভেলিচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পান ইন্দোনেশিয়ার এই তরুণ স্পিনার।

বাংলাদেশের ব্যাটারকে আউট করে ইন্দোনেশিয়ার খেলোয়াড়দের উল্লাস

একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সোবহানাও ৪০ রানে থামেন। রিতু মনি ও সোবহানাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়ান নি লুহ দেওয়ি। তবে স্বর্ণা দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। ১৮ বলে তাঁর ৩১ রানের ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও একটি চার।

শেষ দিকে ইন্দোনেশিয়ার বোলাররা আবারও দারুণভাবে ফিরে আসে। ১০৫ রানে ৩ উইকেট থেকে মাত্র ২১ রানে আরও পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ ১৭ বলেই পড়ে পাঁচ উইকেট। তবু শেষ পর্যন্ত ১২৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় তারা।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই মারুফা আক্তারের সুইংয়ের সামনে অস্বস্তিতে ছিল ইন্দোনেশিয়া। দ্বিতীয় ওভারেই রাহমাওয়াতি পাংগেস্তুতিকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত করেন মারুফা। পরের ওভারেই মারিয়া কোরাজনকে এলবিডব্লিউ করে ইন্দোনেশিয়াকে আরও চাপে ফেলেন তিনি।

নাহিদা আক্তারের স্পিনে একেবারেই ভেঙে পড়ে ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটিং। সুয়ান্দেউইকে ৩ রানে ফিরিয়ে শুরু করেন তিনি। একই ওভারে সোফিয়া ভেলিচ রানআউট হওয়ার পর নাহিদা বোল্ড করেন নি আরিয়ানিকে। শেষ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস থামে ৫৮ রানে।

নাহিদা ১৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। মারুফা পান গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ইন্দোনেশিয়ার কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

অ্যাস্টন ভিলার মাঠে আর্সেনালের কঠিন জয়

0

অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে আর্সেনাল। বুকায়ো সাকার দ্বিতীয়ার্ধের গোলে ভিলা পার্কে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নতুন মৌসুমে এটি আর্সেনালের টানা দ্বিতীয় জয়।

ম্যাচটি অবশ্য আর্সেনালের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে বলের দখল বেশি থাকলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে কার্যকর আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি মিকেল আর্তেতার দল। এমনকি প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের কেউই লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি।

বরং ম্যাচের শুরুতে গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পেয়েছিল ভিলা। ১৫ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার প্রায় ২২ গজ দূর থেকে নেওয়া জোরালো শট আর্সেনালের গোলপোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। জন ম্যাকগিনও দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করেছিলেন, তবে সফল হননি।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক ভিলা

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ভিলা। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেয় আর্সেনাল। ৫৪ মিনিটে বুকায়ো সাকাকে ফাউল করা নিয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন রেফারি জ্যারেড জিলেট। পরে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফাউলটি বক্সের বাইরে হয়েছিল। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।

ম্যাচ শেষে আর্সেনালের খেলোয়াড়রা

তবে সেই ফ্রি-কিক থেকেই আর্সেনাল পেয়ে যায় আত্মবিশ্বাস। দুই মিনিট পরেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বিরতির পর মাঠে নামা এবেরেচি এজে বল দেন রিকার্দো কালাফিওরিকে। তাঁর বাড়ানো বল থেকে কাছ থেকে জালে বল পাঠান সাকা।

গোল পরিশোধে মরিয়া ভিলা

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ভিলা। নিকোলাস জ্যাকসনের পাস থেকে ম্যাকগিন সুযোগ পেলেও শট নিতে পারেননি। পরে ম্যাটি ক্যাশের প্রচেষ্টাও আর্সেনালের রক্ষণ আটকে দেয়।

শেষ দিকে আক্রমণে খেলোয়াড় বাড়িয়ে চাপ তৈরি করেছিল ভিলা। কিন্তু আর্সেনালের অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার সামনে সমতাসূচক গোল আর আসেনি। পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি স্বাগতিকরা।

আর্সেনালের গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট

ফলে নিজেদের সেরা ছন্দে না থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। অন্যদিকে গ্রীষ্মের দলবদলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হারানো ভিলার এটি টানা দ্বিতীয় হার। তবে নতুন কোচিং পরিকল্পনা ও নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা থাকছেই।

রায়োর চমক থামিয়ে বার্সার গোলবন্যা

0

রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের নৈপুণ্যে রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ গোলে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে বার্সেলোনা। ন্যু ক্যাম্পে পাওয়া এই জয়ে হান্সি ফ্লিকের দল ধরে রাখল মৌসুমের শতভাগ জয়ের রেকর্ড।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বার্সার জন্য মোটেও স্বস্তির ছিল না। ১২ মিনিটেই সার্জিও কামেয়োর গোলে এগিয়ে যায় রায়ো। আলভারো গার্সিয়ার দারুণ পাস থেকে বল পেয়ে কামেয়োর নেওয়া শটে প্রথমবারের মতো চলতি মৌসুমে গোল হজম করে বার্সা।

তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই ম্যাচে ফিরেছে স্বাগতিকরা। ১৯ মিনিটে রাফিনিয়া গোল করে সমতা ফেরান। এর মাত্র দুই মিনিট পরেই নিজের প্রথম গোলটি করেন ইয়ামাল। বক্সের ভেতর থেকে স্প্যানিশ তারকার দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ালে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ে। ৫১ মিনিটে ফ্লোরিয়ান লেজনের আত্মঘাতী গোলে বার্সার পক্ষে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। তবে রায়ো হাল ছাড়েনি। ৫৮ মিনিটে কর্নার থেকে কামেয়ো নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন।

গোলের পর রাফিনিয়া

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বার্সা। ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের দারুণ ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে ৭৪ মিনিটে রাফিনিয়া নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। শেষ মুহূর্তে করিম আদেয়েমির পাস থেকে ইয়ামালও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে জয়কে আরও বড় করেন।

এই জয়ে প্রথম তিন ম্যাচেই ১২ গোল করল বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে ফ্লিক অবশ্য দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হলেও দ্বিতীয়ার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ আরও ভালো করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের চাপের সময় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার জায়গায় উন্নতি চান তিনি।

ইয়ামালের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফ্লিকও। নতুন মৌসুমে প্রথম গোলের পাশাপাশি জোড়া গোল করে ১৯ বছর বয়সী এই তারকা আবারও জানিয়ে দিলেন, বার্সার আক্রমণভাগে তাঁর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। আর রাফিনিয়ার দুই গোলের সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বও বার্সার আক্রমণকে দিয়েছে বাড়তি ধার।

টিভিতে আজকের খেলা: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেটে আজ মুখোমুখি পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড। নিউইয়র্কে চলছে ইউএস ওপেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় চার দিনের ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

ক্রিকেট
চার দিনের ম্যাচ

বাংলাদেশ ‘এ’-দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’
বেলা ১-৩০ মি., ইউটিউব/ক্রিকেটএসএটিভি

নারী এশিয়ান কাপ ক্রিকেট
পাকিস্তান-থাইল্যান্ড
রাত ৮-৩০ মি., টি স্পোর্টস

টেনিস
ইউএস ওপেন

১ম রাউন্ড
রাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস ১ ও ২

ফুটবল
জার্মান কাপ

এইচইবিসি-ডর্টমুন্ড
রাত ১২-৪৫ মি., ফ্যানকোড

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মেসি, শেষ হলো আর্জেন্টিনা অধ্যায়

0

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ অধ্যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের মহাতারকা। ২০২৬ বিশ্বকাপে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তোলার পরই জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় মেসি জানান, সিদ্ধান্তটি তাঁর আত্মায় গভীরভাবে আঘাত করেছে এবং এখনো কষ্ট দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি বুঝে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, এটাই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময়।

মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য তিনি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে যখন দল সবকিছু জিতেছে, তখনই নয়; সাফল্যের আগের কঠিন সময়গুলোতেও জাতীয় দলের হয়ে তিনি লড়াই করে গেছেন। প্রতিটি ম্যাচে দেশের জার্সির জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা ছিল দীর্ঘ, নাটকীয় এবং অসংখ্য অর্জনে ভরা। ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর একের পর এক বড় টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে শুরুর দিকে সাফল্যের বদলে হতাশাই ছিল বেশি। কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, সব মিলিয়ে একটা সময় জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যায় গল্প। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতেন মেসি। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ। ফ্রান্সের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে টাইব্রেকারে জয় পেয়ে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেন তিনি। নিজেও জেতেন কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ শিরোপা এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

এরপরও থামেননি মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে আবারও ফাইনালে নিয়ে যান তিনি। অর্থাৎ টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন। তবে এবার শেষটা হয়েছে হতাশায়। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকেই মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যু তাঁকে আরও নাড়া দেয়। আগস্টে বাবাকে হারানোর পর মেসি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় ফুটবল চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তাঁর মনে গুরুতর সংশয় তৈরি হয়েছে।

জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনই থামছেন না মেসি। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তাঁর চুক্তি রয়েছে ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। ফলে ক্লাব ফুটবলে আরও কিছু সময় তাঁকে মাঠে দেখা যাবে।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিদায় তাই শুধু একজন ফুটবলারের অবসর নয়, এটি একটি যুগের সমাপ্তি। যে জার্সিতে দীর্ঘদিন ব্যর্থতার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, সেই জার্সিতেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও আরও বহু সাফল্য এনে দিয়েছেন তিনি। আর তাই মেসির বিদায়ে আর্জেন্টিনা শুধু একজন অধিনায়ককে নয়, হারাল তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটিকে।