Home Blog Page 29

আর্জেন্টিনা ব্যর্থ হলেও স্পেনকে হারিয়ে জার্মানির শিরোপা জয়

0

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ছোঁয়ার স্বপ্ন ভেঙেছিল আর্জেন্টিনার। তবে হকির বিশ্বমঞ্চে স্প্যানিশদের সেই একই ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল জার্মানি। পুরুষ হকি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে স্প্যানিয়ার্ডদের ১-০ গোলে পরাস্ত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে জার্মানরা। এই জয়ের মাধ্যমে হকি ইতিহাসে সর্বাধিক চারবার বিশ্বজয়ের রেকর্ডে পাকিস্তানের পাশে নাম লেখাল তারা।

ফুটবল ও হকির বিপরীতমুখী চিত্র

চলতি বছরের ১৯ জুলাই ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি উঁচিয়ে ধরার খুব কাছাকাছি গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। সেদিন দুর্দান্ত খেলেই আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করে স্পেন।

তবে দেড় মাসের ব্যবধানে হকির ফাইনাল মঞ্চে ঘটে ঠিক উল্টো ঘটনা। এবার জার্মানির বিপক্ষে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করে স্প্যানিশরা। বেলফিয়াস হকি অ্যারেনায় প্রায় ৮ হাজার উপস্থিত দর্শকের সামনে জার্মান ডিফেন্সের তৈরি জমাট দেয়াল ভাঙতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় স্পেনের আক্রমণভাগ।

স্ট্রুথোপের গোল ও ঐতিহাসিক মাইলফলক

চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণী ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেনি। অবশেষে ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন জার্মানির মিচেল স্ট্রুথোপ। তার এই একক গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

এই জয়ের ফলে চারবার শিরোপা জিতে হকির ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে পাকিস্তানের রেকর্ডে ভাগ বসাল জার্মানি। এর আগে ২০০২, ২০০৬ এবং ২০২৩ সালেও বিশ্বকাপ জিতেছিল ইউরোপের এই পরাশক্তি।

অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালের টিকিট পেলেও ইতিহাস গড়া হলো না স্পেনের। তিনবার ফাইনাল খেলে প্রতিবারই হারের তিক্ততা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাদের।

ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা

ফাইনালে পৌঁছাতে না পারলেও টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চমক দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের নামে নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টাইনরা।

অভিযোগ মাথায় নিয়েই চীন উড়াল দিচ্ছেন নারী দলের ম্যানেজার: বাফুফের তদন্ত নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন

0

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চীনের গুয়াংজুতে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আজ সোমবার রাতে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। তবে দল যখন দেশ ছাড়ার ঠিক শেষ মুহূর্তে, ঠিক তখনই আলোচনার তুঙ্গে নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমি। চলতি বছরের মে-জুন ভারতে অনুষ্ঠিত সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আবারও তাকেই এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ রাত ৯টায় ঋতুপর্ণাদের ফ্লাইট থাকলেও বিকেলে জরুরি তলব করা হয়েছে অভিযুক্ত ম্যানেজারকে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বাফুফের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং তদন্তের সদিচ্ছা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।

শেষ মুহূর্তে জুম মিটিংয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ

সাফ নারী ফুটবলে শৃঙ্খলাজনিত ঘটনার পর দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) চিঠির প্রেক্ষিতে বাফুফে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেনি এই কমিটি। অবশেষে আজ বিকেলে কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও, রাতে ফ্লাইট থাকায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না অভিযুক্ত ম্যানেজার নওমি।

তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন জানান:

“যেহেতু রাতে দলের যাত্রা, তাই নওমি এবং দলের সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন সশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না। তারা লিখিত জবাব জমা দেবেন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আমাদের সাথে যুক্ত হবেন। তবে উক্ত ঘটনার সময় সাফে মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা সাঈদ সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেবেন।”

তদন্ত কমিটিতে নাটকীয় রদবদল ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

তদন্ত কার্যক্রমের ধীরগতির পাশাপাশি কমিটির গঠন পরিবর্তন নিয়েও বাফুফের ভেতরে-বাইরে চটেছেন অনেকেই। প্রথমে এই কমিটিতে বাফুফে সদস্য ও কর্মকর্তা ছাড়া একজন নিরপেক্ষ সরকারি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আগে নারী দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলাতে যিনি কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন, তাকে বাদ দিয়ে সম্প্রতি পুলিশ কর্মকর্তা নুসরাত লুনাকে অন্তর্ভুক্ত করেন কমিটি প্রধান হিলটন।

ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছিলেন আতিকুর রহমান। তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকে এক ধরনের লোকদেখানো আয়োজনে রূপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে তদন্ত বিলম্বিত হওয়া প্রসঙ্গে কমিটির চেয়ারম্যান বলেন:

“মাঝে ফুটবল বিশ্বকাপ এবং আমাদের ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে কাজ কিছুটা থমকে গিয়েছিল। তবে হোটেল ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রিপোর্টই তৈরি করব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের এখতিয়ার বাফুফে সভাপতির।”

বাফুফের দ্বিমুখী নীতি ও ম্যানেজমেন্ট বিতর্ক

বাফুফের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও জাতীয় দলের ম্যানেজার নির্বাচন নিয়ে বাফুফে সভাপতির অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।

বিতর্ক, সাফ থেকে আসা অভিযোগ কিংবা অনূর্ধ্ব-২০ দলের ম্যানেজমেন্ট নিয়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা; কোনো কিছুই বাধা হতে পারেনি অভিযুক্ত ম্যানেজারের চীনযাত্রায়। বাফুফে সভাপতির চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া এটা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা, যা দেশের ফুটবলের পেশাদারত্বকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলছে।

মাঠে ফিরলেন নাহিদ রানা, তবে এখনই ম্যাচ নয়

প্রায় দেড় মাস পর আবারও বল হাতে দেখা গেল নাহিদ রানাকে। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে খেলতে পারেননি বাংলাদেশের এই পেসার। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে সোমবার মিরপুরে বোলিং অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি।

গেল মাসে জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময় চোটে পড়েন নাহিদ। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। দেশে ফেরার পর শুরু হয় চোট সারানোর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আজ মিরপুরের একাডেমি মাঠে বোলিং করেন নাহিদ।

প্রথম দিনের অনুশীলনে অবশ্য পুরো রানআপ নিয়ে বোলিং করেননি এই তরুণ পেসার। ছোট রানআপে বল করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর বোলিংয়ে ফেরায় আপাতত তাঁর ওপর কোনো ধরনের বাড়তি চাপ দিতে চায় না বাংলাদেশ দলের ম্যানেজমেন্ট।

নাহিদের অনুশীলনের সময় পাশে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিজিও বায়েজেদুল ইসলাম। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলায় নিয়মিতই ফিজিওদের তত্ত্বাবধানে থাকছেন এই পেসার। মাঠে ফিরলেও এখনই ম্যাচ খেলার মতো পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠেননি তিনি।

তবে নাহিদকে নিয়ে আশাবাদী নির্বাচকেরা। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগেই ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবেন তিনি। সে লক্ষ্যেই তাঁর পুনর্বাসন ও বোলিংয়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। সেই সিরিজ দিয়েই নাহিদকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানোর পরিকল্পনা নির্বাচকদের। তবে চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার আগে তাঁকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদ রানার গতি বড় অস্ত্র। তাই তাঁর ফেরার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর বদলে ধাপে ধাপে এগোতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দল। পুনর্বাসনের পর বোলিংয়ের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ম্যাচ খেলার উপযোগী করে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।

হামজার নতুন ঠিকানা শেফিল্ড ইউনাইটেড!

0

হামজা চৌধুরীর পরবর্তী ঠিকানা নিয়ে এত দিন আলোচনায় ছিল ডার্বি কাউন্টির নাম। দলবদলের আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে বদলে গেল সব হিসাব। ডার্বিতে নয়, পুরোনো ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডেই ফিরছেন বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লেস্টার সিটির সঙ্গে হামজাকে স্থায়ীভাবে দলে ভেড়ানোর ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছেছে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেড। ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার এখন মেডিক্যাল পরীক্ষার অপেক্ষায় আছেন। সেটি সম্পন্ন হলেই আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ হবে।

গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছিলেন হামজা। চ্যাম্পিয়নশিপে ক্লাবটির জার্সিতে ১৯ ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি, যার ১৬টিতে ছিলেন শুরুর একাদশে। তাঁর পারফরম্যান্সে ভর করে প্লে-অফ ফাইনালেও জায়গা করে নেয় শেফিল্ড। যদিও ফাইনালে সান্দারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় তাদের।

হামজার সঙ্গে লেস্টারের সম্পর্ক অবশ্য দীর্ঘদিনের। মাত্র ৭ বছর বয়সে ক্লাবটির একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৭ সালে লেস্টারের মূল দলে অভিষেকের আগে ধারে বার্টন অ্যালবিয়নে খেলেছিলেন এই মিডফিল্ডার। পরবর্তীতে ধারে ওয়াটফোর্ডেও খেলেছেন তিনি।

লেস্টার বর্তমানে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে খেলছে। চলতি মাসে দলটির হয়ে লিগের প্রথম তিন ম্যাচেও মাঠে ছিলেন হামজা। তবে ইপসউইচ টাউন ও এমকে ডনসের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচে তাঁকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি। দলবদলের সম্ভাবনার কারণেই হামজাকে বাইরে রাখা হয়েছে বলে তখন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লেস্টারের কোচ রাসেল মার্টিন।

এবার সেই সম্ভাবনাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। লেস্টারের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৬৬ ম্যাচ খেলেছেন হামজা। এবার স্থায়ীভাবেই পুরোনো ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে ফেরার পথে তিনি।

হামজাকে দলে ফেরানোর পেছনে শেফিল্ডের আরেকটি কারণও রয়েছে। দলটির প্রথম পছন্দের রাইটব্যাক ফেমি সেরিকি চোটে পড়েছেন। একাধিক পজিশনে খেলার সক্ষমতার কারণে হামজাকে তাই বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছে ক্রিস ওয়াইল্ডারের দল। মিডফিল্ড সামলানোর পাশাপাশি রাইটব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি। ফলে সেরিকির অনুপস্থিতিতে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বাংলাদেশের এই ফুটবলার।

ইমরান খানকে নিয়ে কথা বললেই বিপদে পড়বেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা ইমরানকে নিয়ে ক্রিকেটারদের কাছে প্রশ্ন করতে পারেন-এমন আশঙ্কা থেকেই বোর্ড এই সতর্কতা জারি করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পাকিস্তানের সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। ফলে ইংল্যান্ড সফরে থাকা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদেরও ইমরানকে নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লর্ডসে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট চলার সময় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ম্যাচের মধ্যাহ্নবিরতিতে স্কাই স্পোর্টসে সাক্ষাৎকার দেন ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ইসা খান ও কাসিম খান। বাবার কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান তাঁরা। সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা নিয়ে পিসিবি আপত্তি জানিয়েছিল।

সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হলে মধ্যাহ্নবিরতির পর পাকিস্তান দল মাঠে না-ও ফিরতে পারে-এমন হুমকি দেওয়ার খবরও তখন প্রকাশিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পাকিস্তান দল মাঠে ফিরে খেলা চালিয়ে যায়। পাকিস্তান টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদও জানিয়েছিলেন, মধ্যাহ্নবিরতির সময় ক্রিকেটাররা ওই সাক্ষাৎকার দেখেননি।

বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হলে রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য না করার জন্য ক্রিকেটারদের নির্দেশ দিয়েছে পিসিবি। বোর্ডের আশঙ্কা, এ ধরনের মন্তব্য ক্রিকেটের বাইরেও নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইংল্যান্ড সফরে দলের মনোযোগেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে তারা।

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে ইমরান খানের অবস্থান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৯২ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে পাকিস্তান। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন ইমরান। তবে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পরও দেশটির রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছেন।

এদিকে ইংল্যান্ড সফরে লিডসের পর লর্ডস টেস্টেও হেরেছে পাকিস্তান। মাঠের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ইমরান খানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও পাকিস্তান দলের ইংল্যান্ড সফরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি, পিটিআই

ফিফার সভাপতিকে পদত্যাগ করতে বললেন প্লাতিনি

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কে এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন সাবেক উয়েফা সভাপতি ও ফ্রান্সের ফুটবল কিংবদন্তি মিচেল প্লাতিনি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। উয়েফাসহ একাধিক ফুটবল সংস্থার বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয় তাঁকে। তবে এর মধ্যেই ফিফা সভাপতির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ক্যানালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে প্লাতিনি বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক বিষয় এক জিনিস, কিন্তু ইনফান্তিনো ব্যর্থ হয়েছেন, কারণ তিনি ফুটবলের নিয়মের একজন রক্ষক এবং সেগুলোকে সম্মান করেননি।’

সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্লাতিনি। হাইড্রেশন বিরতি এবং ফাইনালে ৩০ মিনিটের বিরতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞাপন বিরতি কোনো নিয়ম নয়, ফাইনালে ৩০ মিনিটের হাফটাইম বিরতিও নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আর সেই লাল কার্ড, সেটা ছিল আরও বাজে বিষয়।’

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করে প্লাতিনি আরও বলেন, ‘তিনি রক্ষক (নিয়মের), যেগুলোকে তিনি পাত্তা দেন না। তাঁকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অর্থ ও ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের অভিযোগও তুলেছেন প্লাতিনি। তাঁর ভাষায়, ‘ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলো এই সমস্যার সমাধান করে তাঁকে নিচে নামাতে পারবে না। উয়েফা যদি তাঁর বিদায় চায়, তাহলে সেটা করতে হবে আদালতের মাধ্যমে। আমি সবসময় জানতাম, তিনি অর্থ ও ক্ষমতা ভালোবাসতেন।’

ইনফান্তিনোর সঙ্গে প্লাতিনির সম্পর্কের ইতিহাসও বেশ জটিল। ২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ফিফা থেকে নিষিদ্ধ হন প্লাতিনি। সে সময় তিনি উয়েফার সভাপতি ছিলেন এবং সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার সভাপতি হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। ব্লাটারের কাছ থেকে প্লাতিনি অবৈধভাবে ২ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন—এমন অভিযোগ উঠেছিল।

প্লাতিনি অবশ্য বরাবরই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। অভিযোগের পর উয়েফার সভাপতির পদ ছাড়তে হয় তাঁকে। এরপর ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো।

পুরোনো সেই ঘটনাকে সামনে রেখে প্লাতিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে নামাননি, বরং লাভবান হয়েছেন। কিন্তু এখন তাঁকে নিয়ে সারা বিশ্বে অনেক তদন্ত চলছে। গুঞ্জন রয়েছে, কীভাবে তিনি নির্দিষ্ট বিষয়ে এত কিছু জানতেন। দেখা যাক এরপর কী হয়।’

ইউএস ওপেনে প্রথম রাউন্ডেই বিদায়, কোর্টেই কাঁদলেন জোকোভিচ

0

রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে ইউএস ওপেনে নেমেছিলেন নোভাক জোকোভিচ। তবে নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশে স্টেডিয়ামে সেই স্বপ্নের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেলেন সার্বিয়ান তারকা। শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার মারিয়ানো নাভোনের কাছে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাঁকে।

জোকোভিচের হারটা এসেছে ৬-৭, ৭-৫, ৬-৪, ২-৬, ১-৬ গেমে। ম্যাচের শুরু থেকেই তাঁর শারীরিক অস্বস্তি চোখে পড়ছিল। নিউইয়র্কের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বারবার মাথায় আইসব্যাগ দিতে দেখা যায় ৩৯ বছর বয়সী এই তারকাকে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ হওয়ার পরও স্বস্তি পাচ্ছিলেন না তিনি। একপর্যায়ে এসি চালানোর অনুরোধও করেন ম্যাচের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে।

তৃতীয় সেটে জোকোভিচের শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ষষ্ঠ গেমে কয়েকবার বমি করেন তিনি। টুর্নামেন্টের একজন ফিজিও তাঁকে ওষুধ দেন। কোর্টসাইডে থাকা তাঁর দলও বারবার তরল পান করানোর চেষ্টা করে। ততক্ষণে ম্যাচ গড়িয়েছে চার ঘণ্টার কাছাকাছি।

এত কিছুর পরও অবশ্য লড়াই ছাড়েননি জোকোভিচ। প্রথম সেটের টাইব্রেকে হারের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচে ফিরেছিলেন তিনি। নাভোনের বিপক্ষে তখন ম্যাচ জয়ের খুব কাছেই চলে গিয়েছিলেন ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী তারকা।

কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন নাভোনে। চতুর্থ সেটে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৬-২ গেমে জিতে ম্যাচকে নিয়ে যান নির্ধারণী পঞ্চম সেটে। সেখানে আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না জোকোভিচের। দ্রুত ৪-১ গেমে পিছিয়ে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬-১ গেমে সেটটি জিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় জয় তুলে নেন নাভোনে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই জোকোভিচের শরীরী ভাষায় হতাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। শেষ সেটে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর কোর্টেই কেঁদে ফেলেন তিনি। গ্যালারিতে থাকা স্ত্রী জেলেনাকেও তখন বিচলিত দেখা যায়।

দীর্ঘ সময় ধরে গরম, পানিশূন্যতা ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো জোকোভিচকে। একই সঙ্গে শেষ হলো গ্র্যান্ড স্লামে তাঁর দীর্ঘ প্রথম রাউন্ড-জয়ের ধারাও।

নাভোনের কাছে হারের আগে গ্র্যান্ড স্লামে টানা ৭৮টি প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ জিতেছিলেন জোকোভিচ। সর্বশেষ ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথম রাউন্ডে হেরেছিলেন তিনি। সেবার তাঁকে হারিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পল গোল্ডস্টেইন।

নারী এশিয়া কাপে রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের দশম আসরে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে।

ইন্দোনেশিয়ার পর বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন দুই পরীক্ষা। ৬ সেপ্টেম্বর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ৮ সেপ্টেম্বর, স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার ফাইনাল খেলা। দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। কারণ আমরা বেশ কয়েকবার সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েছি। এবার আমরা সেমির বাধা টপকাতে চাই।’

দলের ব্যাটিং নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জ্যোতি। তাঁর মতে, টপ অর্ডার ভালো শুরু এনে দিতে পারলে বাংলাদেশ ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারবে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোকে তাই বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক।

জ্যোতি বলেছিলেন, ‘দল হিসেবে আমাদের ব্যাটিং বেশ ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে, এই টুর্নামেন্টে টপ-অর্ডাররা যদি ভালো ব্যাট করতে পারে, তবে আমার মনে হয়, আমাদের ফাইনালে খেলার ভালো সুযোগ থাকবে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালে আমরা ভারতকে এড়াতে পারব।’

গ্রুপ পর্ব শেষে শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিফাইনাল। ১৩ সেপ্টেম্বর হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল।

নারী এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্মৃতিও সুখকর। এখন পর্যন্ত একবারই শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এ ছাড়া ২০১২ ও ২০২৪ সালের আসরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

এশিয়া কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ভারত। এখন পর্যন্ত সাতবার শিরোপা জিতেছে তারা। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের ঝুলিতে রয়েছে একটি করে শিরোপা। এবার সেই শিরোপার লড়াইয়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

বাংলাদেশ দল : নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, শারমিন আক্তার সুপ্তা, শারমিন সুলতানা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, ঋতু মণি, ফাহিমা খাতুন, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, সুলতানা খাতুন, সানজিদা আক্তার মেঘলা ও ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা।

রিয়াদ-ইমরুলকে নিয়ে সাব্বিরের আবেগঘন বার্তা

ব্যাট হাতে সময়টা ভালোই কাটছে সাব্বির রহমানের। ৩৪ বছর বয়সে এসে আবারও ব্যাটে ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে এইচপি দলের হয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে নজর কেড়েছেন নিজের ব্যাটিং দিয়ে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে জাতীয় দলের সাবেক দুই ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েসের অবদান দেখছেন সাব্বির।

ঘরোয়া ক্রিকেটকে এখনো বিদায় জানাননি মাহমুদউল্লাহ। তবে অস্ট্রেলিয়ায় এইচপি দলের সঙ্গে তিনি ছিলেন পরামর্শকের ভূমিকায়। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগেও সাব্বিরের সঙ্গে কাজ করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। অন্যদিকে সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েস দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। এইচপি দল অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর তিনিও পরামর্শক হিসেবে সাব্বিরদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

দুই সিনিয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে সাব্বির লিখেছেন, ‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাই ও ইমরুল ভাই! আপনারা আমার কাছে শুধু কলিগ নন; আপনারা আমার গার্ডিয়ান, কোচ, মেন্টর এবং পথপ্রদর্শকও। আপনাদের থেকে ছোটবেলা থেকেই শিখেছি, এখন বড় হয়েও শিখছি। আসলে শেখার কোনো শেষ নেই। আশা করি, সামনেও আপনাদের কাছ থেকে আরও অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাব।’

ক্যারিয়ারের এই সময়ে রিয়াদ ও ইমরুল যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেটিও আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন সাব্বির। তিনি লিখেছেন, ‘এই সময়ে এসে আপনারা যেভাবে আমাকে ব্যাক করেছেন, সাপোর্ট করেছেন এবং বিশ্বাস রেখেছেন, সেটা আমার জন্য সত্যিই অনেক মূল্যবান। আপনাদের দেওয়া প্রতিটি পরামর্শ ও গাইডলাইন মেনে চলার চেষ্টা করেছি এবং এখনও করে যাচ্ছি।’

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে ৬ ইনিংসে ১৮৪ রান করেছেন সাব্বির। ব্যাটিং গড় ৩৬.৮ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৪.৩২। দলের সাফল্যেও রেখেছেন অবদান। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সাব্বির লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে ভালো খেলতে পারছি এবং সামনে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি। আমার এই ভালো করার পেছনে আপনাদের দুজনের অবদান অনেক বেশি। আপনাদের সাপোর্ট, গাইডলাইন ও বিশ্বাস আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’

সবশেষে দুই সিনিয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাব্বির লিখেছেন, ‘আপনাদের দুজনকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। সামনেও আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা, সাপোর্ট ও গাইডলাইন প্রত্যাশা করি।’

রবিনসনের আগুনে পুড়ল পাকিস্তান, লর্ডসে সিরিজ জয় ইংল্যান্ডের

0

লর্ডসের মেঘলা আকাশের নিচে পাকিস্তানের ব্যাটিংকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন ইংল্যান্ডের পেসাররা। আর শেষ দিনে সেই চাপেরই পূর্ণ প্রতিফলন ঘটল স্কোরবোর্ডে। অলিভার রবিনসনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১৯৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড।

জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ছিল ৩৮৯ রানের কঠিন লক্ষ্য। কিন্তু রবিনসন ও জোফরা আর্চারের বিধ্বংসী পেস আক্রমণের সামনে শুরুতেই পথ হারায় সফরকারীরা। মাত্র ১৪ রানেই হারায় প্রথম তিন উইকেট। আজান আওয়াইস, আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম-তিনজনই ফিরে যান ইংল্যান্ডের দুই পেসারের শিকার হয়ে।

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রতিরোধের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ান সৌদ শাকিল। চতুর্থ উইকেটে শান মাসুদের সঙ্গে ৯৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। মাত্র ৫৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা শাকিল খেলেছেন দারুণ সব শট। ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ৯৭ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি।

বৃষ্টির কারণে ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর রবিনসন ফিরে এসে ভাঙেন সেই জুটি। রিভিউ নিয়ে শান মাসুদকে এলবিডব্লিউ করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও ফেরান তিনি। রবিনসনের সেই সাফল্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে ইংল্যান্ডের হাতে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত শাকিলও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। জশ টাংয়ের শর্ট বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ৯৭ রানে থামেন তিনি। এরপর পাকিস্তানের লেজ গুটিয়ে নিতে বেশি সময় লাগেনি। টাং একে একে খুররম শাহজাদসহ শেষ সারির ব্যাটারদের ফেরান।

সৌদ শাকিল

ইংল্যান্ডের জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক অবশ্য রবিনসন। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৪ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচে তার শিকার দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩৫ রান-মাত্র ২৭ ওভারে। আর্চারও দুই ইনিংস মিলিয়ে নেন পাঁচ উইকেট।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তান অবশ্য লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ আব্বাস তুলে নেন পাঁচ উইকেট। লর্ডসে এটাই তার প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়ে নিজের পুরোনো স্মৃতিও ফিরিয়ে আনেন তিনি। ২০১৮ সালে একই মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ে আব্বাস নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।

তবে আব্বাসের অসাধারণ বোলিংও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে বাঁচাতে পারেনি। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে শেষ উইকেটের জুটিতে জশ টাং ও গাস অ্যাটকিনসন দলকে ২৯০ রানে পৌঁছে দেন। এরপর রবিনসন-আর্চারের পেস আক্রমণে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস ভেঙে পড়ে।

শেষ ইনিংসেও একই চিত্র। রবিনসনের নিখুঁত লাইন-লেন্থ, আর্চারের গতি এবং টাংয়ের আগ্রাসনে পাকিস্তানের ব্যাটিং বারবার বিপর্যস্ত হয়েছে। বাবর আজমকে ৯১ মাইল গতির বাউন্সারে অস্বস্তিতে ফেলে শেষ পর্যন্ত ক্যাচে পরিণত করেন আর্চার।

এই জয়ে ২০২৪ সালের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ড সফরের পর প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড। আর পাকিস্তানের জন্য লর্ডস টেস্ট হয়ে রইল হতাশার-ব্যাট হাতে শাকিলের একক প্রতিরোধ ও আব্বাসের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও শেষ হাসি হাসল ইংল্যান্ড।