Home Blog Page 32

মরিনিওর বার্তা—বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেই শুধু ব্যালন ডি’অর তা ঠিক নয়

0

ব্যালন ডি’অর পুরস্কার আসলে ব্যক্তিগত একটি পুরস্কার, মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের। নিজে ভালো খেলাই যথেষ্ট নয়, দল কী জিতেছে, সেটাও বেচনায় নেওয়া হয় ব্যালন ডি’অরের বেলায়। তবে এই ধারণার বিপরীত মত প্রকাশ করেছেন বিখ্যাত ফুটবল কোচ জোসে মরিনিও। মরিনিওর বার্তা হল বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেই শুধু ব্যালন ডি’অর নয়।

মরিনিওর কথা হল ব্যক্তিগতভাবে যাঁরা ফুটবল ইতিহাসে এমন জায়গা করে নেন যে অবসরের পরও তাঁদের অভাব অনুভূত হয়, ব্যালন ডি’অর তাঁদেরই পাওয়া উচিত। মালাগার বিপক্ষে রোববার লা লিগার ম্যাচ সামনে রেখে আজ ভালদেবেবাসে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মরিনিও। সংবাদ সম্মেলেনের একপর্যায়ে উঠে আসে আসন্ন ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গ। এবারের পুরস্কারের দৌড়ে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা রদ্রি ও লামিনে ইয়ামাল, পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা উসমান দেম্বেলে ও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জেতা হ্যারি কেইনের নাম আলোচনায় আছে এছাড়া মরিনিওর দল রিয়ালের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেও আছেন সেই দৌড়ে। তবে এঁদের মধ্যে আকারে–ইঙ্গিতে এমবাপ্পর প্রতিই সমর্থন জানিয়েছেন পর্তুগিজ এই কোচ। যদিও সর্বশেষ মৌসুমে রিয়াল বা ফ্রান্সের হয়ে কোনো ট্রফি নেই এমবাপ্পের।

রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিওর মতে, ব্যালন ডি’অরের মানদণ্ড শুধু দলীয় শিরোপা হওয়া উচিত নয়, ‘ব্যালন ডি’অর পাওয়া উচিত এমন খেলোয়াড়দের, যারা অবসরে গেলে আমরা আজীবন মিস করে থাকি। আমি ম্যারাডোনা, রোনালদিনিও, নাজারিও, ক্রিস্টিয়ানো, মেসি, জিদান, ম্যাথাউসকে মিস করি। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ বা বিশ্বকাপ জিতেছে বলে কাউকে ব্যালন ডি’অর দেওয়া যায় না।’ মরিনিও বিস্তারিত বলতে গিয়ে টেনে এসেছেন তাহলে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপ জেতা দুই কোচ পিএসজির লুইস এনরিকে ও স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগকে পুরস্কৃত করতে চাইলে ব্যালন ডি’অর লুইস এনরিকেকে দিন। স্পেনের জন্য দে লা ফুয়েন্তেও এটির যোগ্য। কিন্তু বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের কথা ভিন্ন। সে পিএসজি বা স্পেনেরই হতে হবে, এমন নয়।’

রিয়ালের খেলোয়াড় কে পেতে পারেন: মরিনিও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘দুই, তিন বা চারজন আছে। আমরা জানি, তারা কারা। তারা কোথায় আছে, সেটাও জানি-এখানেই। আমরা জানি, এই গ্রীষ্মে ব্যক্তিগতভাবে কে ইতিহাস গড়েছে। ব্যালন ডি’অরে রাজনীতি আছে। আর রাজনীতি ঢুকে পড়লে আমার বিষয়টা এতটা ভালো লাগে না।’

ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এগিয়ে এমবাপ্পে:

মরিনিও এমবাপ্পেকে ইঙ্গিত করে বলেন সর্বশেষ মৌসুমে ব্যক্তিগত অর্জনে দুর্দান্ত ছিলেন ফরাসি তারকা। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ- দুই আসরেই সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর, লন্ডনে।

দক্ষিণ সুরমায় পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের – যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

0

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক বলেছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মিনি স্টেডিয়ামের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য সম্ভাব্য তিনটি স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানগুলো যাচাই-বাছাই করে স্থানীয় জনগণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী জায়গাটি নির্বাচন করে দ্রুত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হবে।

তিনি আজ (শনিবার) সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে ২০১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে, কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে। অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করা হবে।”

তিনি বলেন, দক্ষিণ সুরমায় স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে তিনটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানটি নির্বাচন করা হবে। এমন স্থান নির্বাচন করা হবে, যেখানে দর্শকরা সহজে এসে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন এবং খেলোয়াড়দের জন্যও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মো: আমিনুল হক বলেন, দক্ষিণ সুরমায় শুধু একটি মিনি স্টেডিয়াম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ধরনের একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রায় পাঁচ থেকে ছয় একর জায়গার প্রয়োজন হবে। এ কারণে সরকারের ব্যয় কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, যেখানে সরকারি খাস জমি পাওয়া যাবে, সেখানে স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিতে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুদ্দোজা সেলিম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মো. কামাল উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ এমদাদুল হক শরীফসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এশিয়ান প্যারা গেমসের ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু

0

এশিয়ান প্যারা গেমস ২০২৬ সামনে রেখে ঢাকায় চলছে বাংলাদেশের প্যারা অ্যাথলেটদের নিবিড় প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতি কার্যক্রম দেখতে জাতীয় স্টেডিয়ামে চলমান প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বিসিবি’র পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু।

শনিবার, ২৯ আগস্ট জাতীয় স্টেডিয়ামে প্যারা অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় ক্যাম্পে অংশ নেওয়া অ্যাথলেটদের সঙ্গে কথা বলেন ইসরাফিল খসরু। তাদের প্রশিক্ষণের অগ্রগতি ও প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি এশিয়ান প্যারা গেমসে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনার লক্ষ্যে অ্যাথলেটদের উৎসাহ দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় মনোবলের ওপর গুরুত্ব দেন বিসিবি পরিচালক। অ্যাথলেটদের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মনিবেদনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার কথাও তুলে ধরেন ইসরাফিল খসরু। বিশেষ করে প্যারা স্পোর্টসের উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি। ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট, হুইলচেয়ার ক্রিকেটসহ বিভিন্ন প্যারা খেলার উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি, এনপিসি বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. সানোয়ার হোসেন, মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল, উপ-মহাসচিব মো. হেদায়তুল আজিজ, কোষাধ্যক্ষ মো. আসিফুল হাসান মাসুদ এবং নির্বাহী সদস্য মো. আনোয়ার কবির চৌধুরী ও মো. সাইফ উদ্দিন।

এনপিসি বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও অ্যাথলেটদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি আসন্ন এশিয়ান প্যারা গেমসে দেশের জন্য সম্মানজনক ফল অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ দেন।

এশিয়ান প্যারা গেমস সামনে রেখে এনপিসি বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে চলছে এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। যথাযথ প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এবারের আসরে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করবে বলে প্রত্যাশা করছে এনপিসি বাংলাদেশ।

চার মাস পর আলকারাজের প্রত্যাবর্তন, ইউএস ওপেনে শিরোপা ধরে রাখার মিশন

0

চার মাসেরও বেশি সময় পর আবারও প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরছেন কার্লোস আলকারাজ। ডান কবজির চোটের কারণে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডনের মতো বড় দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম মিস করার পর ইউএস ওপেনকে বেছে নিয়েছেন স্প্যানিশ তারকা। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরলেও নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক টেনিসেই কোর্টে নামতে চান ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।

সোমবার ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডে রোমান সাফিউলিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আলকারাজের প্রত্যাবর্তন। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে কবজির চোটে আক্রান্ত হওয়ার পর এটাই হবে তার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক একক ম্যাচ। ফলে দীর্ঘদিন পর পাঁচ সেটের গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচে কেমন পারফর্ম করেন, সেদিকেই থাকবে সবার নজর।

আলকারাজ নিজেও জানেন, এত দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ম্যাচে নামাটা সহজ হবে না। তবে চোট কাটিয়ে ফেরার জন্য যা যা করার প্রয়োজন, তার সবই করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের টেকনিকেও কোনো পরিবর্তন আনেননি এই স্প্যানিশ তারকা। বরং কোর্টে ফিরে নিজের পরিচিত ছন্দেই খেলতে চান।

দীর্ঘ বিরতির কারণে ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি অবশ্য রয়েছে। ইউএস ওপেনের আগে কয়েকটি মিশ্র দ্বৈতের ম্যাচ খেলে কিছুটা ম্যাচের জড়তা কাটানোর চেষ্টা করেছেন আলকারাজ। এমনকি এই সপ্তাহে সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে মিক্সড ডাবলসেও খেলেছেন তিনি। তবে আলকারাজ স্বীকার করেছেন, ইউএস ওপেনের আগে পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময়টা আদর্শ ছিল না।

তারপরও নিউইয়র্কে ফেরার সুযোগকে দারুণভাবে দেখছেন তিনি। আলকারাজের কাছে ইউএস ওপেনেই ফিরে আসার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এই টুর্নামেন্টের পরিবেশ ও গুরুত্ব। তিনি মনে করেন, চার মাসের বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফেরার জন্য এর চেয়ে ভালো মঞ্চ আর হতে পারে না।

ইউএস ওপেনে এবারও অন্যতম ফেবারিট আলকারাজ। গত বছর ফাইনালে ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। সেই জয়ের পর সিনারকে টপকে বিশ্বের এক নম্বর র‍্যাঙ্কিংও দখল করেছিলেন স্প্যানিশ তারকা। তবে এবার সিনার থাকছেন না। ডান হাঁটুর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন ইতালিয়ান তারকা। ফলে আলকারাজের শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবারের আসরে শীর্ষ বাছাই হয়েছেন আলেকসান্দার জভেরেভ। তবে আলকারাজের প্রথম ম্যাচ ঘিরেই টেনিসপ্রেমীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম বাছাই ফ্রান্সেস তিয়াফোও মনে করছেন, নিজের স্বাভাবিক ফর্মের কাছাকাছি থাকলেই আলকারাজকে হারানো অত্যন্ত কঠিন হবে। এমনকি পুরোপুরি সেরা অবস্থায় না থাকলেও পাঁচ সেটের ম্যাচে তাকে হারাতে প্রতিপক্ষকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।

জভেরেভও আলকারাজকে নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। জার্মান তারকার মতে, কব্জির চোট থেকে ফিরে প্রথম এক-দুই ম্যাচে কিছুটা জড়তা দেখা দিতে পারে। কিন্তু টুর্নামেন্ট যত এগোবে, আলকারাজ ততই শক্তিশালী হয়ে উঠবেন এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপার অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন।

তবে চার মাসের বিরতির পরই শিরোপা জয়ের লক্ষ্য স্থির করতে চান না আলকারাজ। নিজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না করে প্রতিটি ম্যাচ ও প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চান তিনি। চোট নিয়ে ভয় বা দুশ্চিন্তাও যেন তার খেলায় প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও নজর রাখছেন।

আলকারাজের জন্য এবারের ইউএস ওপেন তাই শুধু শিরোপা ধরে রাখার লড়াই নয়, বরং চোট কাটিয়ে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরারও পরীক্ষা। দীর্ঘ বিরতির পর কোর্টে ফিরে তিনি কত দ্রুত ম্যাচের গতি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের প্রথম উত্তর মিলবে রোমান সাফিউলিনের বিপক্ষে ম্যাচেই।

বিএসপিএ টেবিল টেনিসে রানার্স আপ শামীম হাসান ও শেখ সাদী জুটি

বিএসপিএলে টেবিল টেনিসে রানার্স আপ শামীম হাসান ও শেখ সাদী জুটি। কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভালের টেবিল টেনিস ইভেন্টের খেলা আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সার্বিক সহযোগিতায় পল্টনের উডেন ফ্লোরে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ক্রীড়া উৎসবের টেবিল টেনিস এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রুমেল খান। রানার আপ হয়েছেন শামীম হাসান, আর তৃতীয় হয়েছেন মাহমুদুন্নবী চঞ্চল।

দ্বৈত বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন মুকুল ও সামসুল আরেফিন জুটি। রানার্স আপ হয়েছে শামীম হাসান ও শেখ সাদী জুটি, আর তৃতীয় হয়েছে রুমেল খান ও মাহমুদুন্নবী চঞ্চল জুটি।

এদিকে আগামীকাল রবিবার ৩০ আগস্ট রবিবার অনুষ্ঠিত হবে ক্যারাম একক ও দ্বৈত ডিসিপ্লিনের খেলা। ক্যারাম দ্বৈতের কোয়ার্টার ফাইনাল আর এককে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে কাঁদলেন সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ। একসময়কার সতীর্থ ইমরান খানের প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেও ফেলেন তিনি।

সম্প্রতি ‘ন্যারেটিভস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কাউন্টি ক্রিকেট থেকে শুরু করে পাকিস্তান জাতীয় দল—দীর্ঘ সময় তাঁরা একসঙ্গে খেলেছেন এবং একে অপরের নেতৃত্বেও খেলেছেন।

ইমরানের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনো কোনো রকম শত্রুতা ছিল না। আমরা বছরের পর বছর একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি। বছরে ছয় মাসের বেশি একসঙ্গেই থাকতাম। বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে গিয়েছি। পাকিস্তানের হয়ে একসঙ্গে খেলেছি। দুজনেই দুজনের নেতৃত্বে খেলেছি। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক ছিল।’

এরপর ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলাম। এখন ইমরানের কথা ভাবলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। জানি না জেলের মধ্যে ও কী অবস্থায় রয়েছে।’

ইমরানের মুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমার মন বলছে, ওর সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। ওকে মুক্তি দিলে সমস্যা কী? আমাকে কেউ কি বুঝিয়ে বলবেন? ইমরানকে মুক্তি দিলে কি পাকিস্তান মুছে যাবে? সবার বোঝা উচিত, আমরা সবাই পাকিস্তানি।’

ইমরানকে সৎ মানুষ হিসেবেও উল্লেখ করেন মিয়াঁদাদ। তাঁর ভাষায়, ‘আমি ইমরানকে খুব ভালোভাবে চিনি। অত্যন্ত সৎ মানুষ। কোনো দুর্নীতি বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিল না। ইমরান দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিল।’

সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বানও জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান পাওয়া যেতে পারে। ইমরান অসম্ভব শ্রদ্ধার মানুষ। পাকিস্তানের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। আমাদের বোধহয় একটু ভাবা দরকার।’

ইমরানের কারাগারে কোনো অঘটন ঘটলে তার দায় নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেন মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর না করুন, জেলের ভেতরে ওর কিছু হয়ে গেলে গোটা পাকিস্তান কাঁদবে। তখন মানুষই প্রশ্ন তুলবে, ইমরানের মতো একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হলো?’

তিনি আরও বলেন, ‘ইমরান তো চুরি করেনি। যা করেছে, পাকিস্তানের স্বার্থে করেছে। নিজের সবকিছু দেশের জন্য দিয়েছে। দেশের জাতীয় নায়কের সঙ্গে এমন আচরণ দুর্ভাগ্যজনক, অত্যন্ত দুঃখের। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়।’

ইমরানের কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনেক সাবেক তারকাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড ও অ্যালান বর্ডারের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা তাঁর চিকিৎসা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানকে যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে সম্প্রতি লর্ডসে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের টেস্ট চলাকালে ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে ইংলিশ সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তাদের টানাপোড়েন তৈরি হয়। সাক্ষাৎকার সম্প্রচার বন্ধ না হলে পাকিস্তান দল ম্যাচের পরবর্তী সেশনে মাঠে নাও নামতে পারে—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকার ও টেস্ট—কোনোটিই বন্ধ হয়নি।

পাকিস্তানের ক্রিকেটাঙ্গনে ইমরানকে নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। সেই জায়গায় মিয়াঁদাদের সরাসরি মুক্তির দাবি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন ইমরান খান। তাঁর পরিবার ও দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তাঁর কারাবাসের পরিবেশ, চিকিৎসা ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্ব, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে বিধিনিষেধ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের অবস্থান ভিন্ন।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে এবার প্রকাশ্যে সরব হলেন তাঁর সাবেক সতীর্থ ও পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ। তাঁর আবেগঘন বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি দেশটির ক্রিকেটাঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

বিপিএল নিয়ে তামিমের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ক্রিকেটাররা

চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গেল দুই আসরে আর্থিক লোকসানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে আরেকটি ‘জোড়াতালি’র টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় না বোর্ড। সবকিছু নতুন করে গুছিয়ে এরপর বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে বিসিবির এই সিদ্ধান্তে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন দেশের ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে জাতীয় দলের বাইরে থাকা যেসব ক্রিকেটার নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য বিপিএল না হওয়া বড় ধাক্কা হতে পারে। এ কারণে বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল রোববার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা খেলোয়াড়েরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন।

বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের আগে ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে আলাদা করে আলোচনা করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমরা কালকে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বসব, তার আগে নিজেরা আলাদা করে বসব। ক্রিকেটাররা তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে জানাবে। শুধু বিপিএল নয়, দেশের সব ঘরোয়া লিগ নিয়েই আমরা কথা বলব।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে পারিশ্রমিক কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে বলে জানিয়েছেন মিঠুন। তাঁর ভাষায়, ‘সবশেষ ডিপিএলেও ভালোভাবে পারিশ্রমিক পায়নি ক্রিকেটাররা। সব মিলিয়ে ক্রিকেটাররা তাদের নিজেদের কথা বলবে।’

এর আগে বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবালও চলতি বছর বিপিএল মাঠে না গড়ানোর আভাস দিয়েছিলেন। টুর্নামেন্টটি নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার পরই আবার আয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

জাতীয় দলের নিয়মিত ২০ থেকে ২৫ জন ক্রিকেটারের বাইরে দেশের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল। চলতি বছর ডিপিএলেও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে বিপিএল না হলে তাঁদের আর্থিক সংকট আরও বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বিপিএলের বিকল্প হিসেবে ক্রিকেটারদের জন্য অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে কোয়াব। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন এর আগে বলেছিলেন, বিপিএল আয়োজন সম্ভব না হলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতে বিকল্প কোনো প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলা বয়কটের হুমকি দিয়েছিল পিসিবি!

ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান খান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচার করা নিয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হলে চলমান লর্ডস টেস্টসহ ইংল্যান্ড সফরের বাকি ম্যাচ বয়কট করার হুমকি দিয়েছিল পিসিবি। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বয়কটের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

অবাক করার মতো বিষয় হলো, পাকিস্তান দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ নাকি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে স্কাই স্পোর্টস ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিমের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে। সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হলে লর্ডস টেস্ট এবং তিন ম্যাচের সিরিজের বাকি অংশ বাতিল করার সম্ভাবনার কথা ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) জানিয়েছিল পিসিবি।

তবে পিসিবির আপত্তি সত্ত্বেও সাক্ষাৎকারটির প্রথম অংশ সম্প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস। এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে যথারীতি মাঠে নামে পাকিস্তান দল। ফলে ম্যাচ বয়কটের হুমকি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে পাকিস্তান কোচ সরফরাজকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি অবশ্য বিষয়টি সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতার কথা জানান।

সরফরাজ বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু ম্যাচ নিয়েই মনোযোগ দিচ্ছি। আপনি সাক্ষাৎকারটির কথা বলছেন? আমরা সাক্ষাৎকারটি সম্পর্কে কিছুই জানি না।’

প্রথম দিনের বিকেলের সেশনে পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা মাঠে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সরফরাজ বলেন, ‘সবাই ঠিক আছে। তখন আমরা মধ্যাহ্নভোজ করছিলাম।’

ইমরান খান বর্তমানে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী। ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই অলরাউন্ডার পাকিস্তানের হয়ে ২১ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। ১৯৯২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান।

ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন ইমরান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী আছেন ইমরান। তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্য তিনি অস্বীকার করেছেন। কয়েকটি মামলায় তাঁর স্ত্রীও কারাদণ্ড পেয়েছেন।

ইমরানের ছেলে সুলেমান ও কাসিমের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার মাইকেল আথারটন। লর্ডসের প্যাভিলিয়নে আগে ধারণ করা ওই সাক্ষাৎকারে তাঁরা তাঁদের বাবার সঙ্গে আচরণ এবং তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ইমরান খানের বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তাঁরা।

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও আছেন। ফলে ইমরানপুত্রদের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে পাকিস্তান সরকারবিরোধী অবস্থান বা প্রচারণা হিসেবে বিবেচনা করেছিল পিসিবি। সেই কারণেই সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট ও সিরিজের বাকি ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অবশেষে ফিফার দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার দুই আর্জেন্টাইন নির্বাহীর

0

ফিফার বহুল আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার দুই ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী। লাভজনক সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বাবা ও ছেলে হুগো জিনকিস ও মারিয়ানো জিনকিস গত বৃহস্পতিবার মার্কিন কৌঁসুলিদের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে এই স্বীকারোক্তি দেন।

২০১৫ সালে ফিফা ও উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর দুর্নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত তদন্তে জিনকিসদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ওই তদন্তের অংশ হিসেবে জুরিখে ফিফার কর্মকর্তাদের ওপর অভিযান চালানো হয়। এরপর একের পর এক গ্রেপ্তার, বিচার, দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং অপরাধ স্বীকারের ঘটনা ঘটে।

এবার সমঝোতা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র জিনকিসদের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহার করবে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ফিফা, কনক্যাকাফ ও কনমেবলকে প্রতারণার একটি পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে ৫ কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত করতেও সম্মত হয়েছেন বাবা-ছেলে।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের লাভজনক সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব পাওয়ার জন্য ফুটবল কর্মকর্তাদের সমর্থন আদায়ে জিনকিসরা কোটি কোটি ডলার ঘুষ দিয়েছেন এবং আরও ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন।

আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘ফুল প্লে’র সহমালিক ছিলেন হুগো ও মারিয়ানো জিনকিস। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার সম্প্রচারস্বত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবল প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনক্যাকাফের কর্মকর্তাদের ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এই কেলেঙ্কারিকে আরও বড় করে তোলে।

জিনকিস বাবা-ছেলের স্বীকারোক্তি সেই পুরোনো দুর্নীতি তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব যোগ করেছে। লাভজনক সম্প্রচারস্বত্ব পেতে ফুটবল প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘুষ দেওয়ার যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল, তাঁদের স্বীকারোক্তিতে সেটিই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ম্যাকাই টেস্টের আক্ষেপ তালহা জুবায়েরের কণ্ঠে

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকাইয়েও বাংলাদেশের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে বোলাররা ভালো করলেও ব্যাটিংয়ে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশের। সেই ব্যর্থতার খেসারত দিতে হয়েছে ইনিংস ব্যবধানে হেরে।

দ্বিতীয় টেস্টে হারলেও দুই ম্যাচের সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে একটি টেস্ট জয় নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। ডারউইনে পাওয়া জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য হয়ে থাকবে। তবু ম্যাকাই টেস্টের আক্ষেপটা থেকেই গেছে বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের।

শুক্রবার রাতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দলের একাংশ। বিমানবন্দরে বিসিবি কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেন। সেখানেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ম্যাকাই টেস্ট নিয়ে হতাশার কথা জানান তালহা।

তালহার মতে, দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটাররা ভালো করতে পারলে ম্যাচের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত। টসকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘এটা টিম গেম। চিন্তার জায়গা তো আছেই। ব্যাটাররা ভালো করলে হয়তো দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো করা যেত। সেখানে টস অনেক জরুরি ছিল। উইকেটে টেনিস বলের মতো বাউন্স ছিল, যেটা আমরা মানিয়ে নিতে পারিনি। সেখানে আমাদের একটু সমস্যা হয়েছে।’

তবে দলের পেস বোলারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তালহা। তাঁর বিশ্বাস, বিদেশের মাটিতে টেস্ট জিততে হলে পেসারদের কার্যকর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই দেখছেন তিনি।

তালহা বলেন, ‘পেসাররা ভালো হলে আপনি আশা করতে পারেন যে বাইরের দেশে গিয়ে টেস্ট ম্যাচ জিতবেন, ২০ উইকেট নিতে পারবেন। এটা ভালো সাইন। আশা করি সামনে এই ফর্মটা তারা ধরে রাখতে পারবে।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেও মনে করেন তালহা। ডারউইনের সেই জয়কে তিনি শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য হিসেবে দেখছেন না, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সক্ষমতার বার্তা হিসেবেও দেখছেন।

তাঁর ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আমরা দাপট দেখিয়ে হারাব-এতগুলো সেশন, কোনো সেশনেই তারা প্রথম টেস্টে আমাদের সঙ্গে পারেনি। দ্বিতীয় টেস্টে আমরা জানতাম, তারা অনেক শক্তভাবে কামব্যাক করবে। সেখানে টস অনেক জরুরি ছিল। টস আমাদের পক্ষে এলে খেলা ঘুরে যেতে পারত।’

তালহার মতে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় বাংলাদেশের জন্য বড় একটি অর্জন। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের হারানো অনেক বড় ব্যাপার। এটা বিশ্বকে একটা বার্তা দেওয়া যে, আমরা আসলে যে কাউকে হারাতে পারি। এই অভিজ্ঞতা আমাদের সামনের সফরগুলোতে কাজে লাগবে।’

ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের সঙ্গে তাই ম্যাকাইয়ের আক্ষেপও থাকছে বাংলাদেশের সফরস্মৃতিতে। তবে সিরিজ ড্র করে ফেরার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস ভবিষ্যতের পথচলায় বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।