Home Blog Page 34

চেলসিতে যোগ দিতে মেডিকেলে মার্তিনেজ, ২০২৮ পর্যন্ত চুক্তির পথে

0

অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টেনে চেলসিতে যোগ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। শুক্রবার লন্ডনে পৌঁছে চেলসির মেডিকেল দেওয়ার কথা রয়েছে ৩৩ বছর বয়সী এই তারকার। এরপরই স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তিতে সই করবেন তিনি।

চেলসির গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের পারফরম্যান্স নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ফুলহ্যামের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের ম্যাচেও সানচেজের কিছু ভুল-ত্রুটি চোখে পড়ে। এরপরই গোলরক্ষক পজিশন শক্তিশালী করতে দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে চেলসি। মাত্র কয়েক দিনের আলোচনাতেই মার্টিনেজকে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি অনেকটা চূড়ান্ত করে ফেলেছে তারা।

বৃহস্পতিবার চেলসিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দেন মার্টিনেজ। এরপর শুক্রবারই মেডিকেল সম্পন্ন করতে লন্ডনে আসেন তিনি। দলবদল বিষয়ক নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল শেষে চেলসির সঙ্গে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তিতে সই করবেন মার্তিনেজ। চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হচ্ছে।

অ্যাস্টন ভিলার হয়ে গত কয়েক মৌসুমে নিজেকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মার্টিনেজ। বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরিচিত গোলরক্ষকে পরিণত করে। ভিলার হয়েও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি। গত মৌসুমে ক্লাবটির ইউরোপা লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছেন ক্লাবের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ।

তবে গত দুই গ্রীষ্ম ধরেই মার্টিনেজকে ঘিরে ছিল দলবদলের গুঞ্জন। চলতি দলবদলেও তাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাস। শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা আর চূড়ান্ত রূপ নেয়নি।

এদিকে মার্টিনেজের ভিলা ছাড়ার পথ আরও সহজ করেছে ক্লাবটির নতুন গোলরক্ষক সংগ্রহ। পারমা থেকে জাপানের আন্তর্জাতিক গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে দলে নিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। উনাই এমেরির অধীনে নতুন মৌসুমে সুজুকিই দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হতে পারেন।

সব মিলিয়ে ভিলা পার্কে মার্টিনেজ অধ্যায়ের সমাপ্তি এখন সময়ের ব্যাপার। শেষ মুহূর্তে কোনো জটিলতা তৈরি না হলে, খুব শিগগিরই চেলসির জার্সিতে দেখা যাবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষককে।

লর্ডসে ইমরান-ঝড়, স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে পিসিবির অভিযোগ

0

লর্ডসের বৃহষ্পতিবার শুরু হয়েছে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট। ঐতিহাসিক এই মাঠে ক্রিকেটের বাইরেও তৈরি হয়েছিল অন্য এক উত্তাপ। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যদিও এখন কারাগারে বন্দি তবে লর্ডসে তিনি ঝড় হয়ে দেখা দিয়েছিলেন। তার দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচার হয়েছে। এই সাক্ষাতকার ঘিরে স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে টানাপোড়েনে জড়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, প্রতিবাদ হিসেবে মধ্যাহ্নবিরতির পর পাকিস্তান দল মাঠে না নামার সম্ভাবনাও বিবেচনা করেছিল পিসিবি।

প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে স্কাই স্পোর্টসে প্রচারিত ওই ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার মাইক অ্যাথারটন। সাক্ষাৎকারে ইমরানের দুই ছেলে তাঁদের বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিন বছর ধরে কারাবন্দি থাকা ইমরানের জীবন নিয়েও তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারটি প্রচারের আগেই স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল পিসিবি। এমনকি সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হলে লাঞ্চের পর পাকিস্তান দলের মাঠে ফেরার বিষয়েও আপত্তি জানানোর কথা জানানো হয়েছিল। আলোচনার পর স্কাই প্রথমে সাক্ষাৎকারটি প্রচার পিছিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ১৮ মিনিটের পুরো অংশই সম্প্রচার করা হয়।

ততক্ষণে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা দ্বিতীয় সেশনে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময় ২টা ৪০ মিনিটেই মাঠে নামে পাকিস্তান। অর্থাৎ, সম্ভাব্য প্রতিবাদ মাঠ পর্যন্ত গড়ালেও ক্রিকেট বন্ধ হয়নি। ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর ছেলেরা বাবার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তাঁকে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের।

ইমরান খান

ইমরানের বোন ও ছেলেরা দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়নি। একই সঙ্গে তাঁরা ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

ঘটনাটির সঙ্গে মাইক অ্যাথারটনের সম্পৃক্ততাও আলাদা তাৎপর্য তৈরি করেছে। গত সপ্তাহেই অ্যাথারটনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি লিখে কারাগারে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। চিঠিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়করাও ছিলেন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই ধরনের একটি চিঠি দিয়েছিলেন, যার কোনো জবাব পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

লর্ডসে স্কাই স্পোর্টসের সম্প্রচারের পর পাকিস্তানে বিষয়টি অবশ্য আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সিরিজটির সম্প্রচারকারী পাকিস্তান টেলিভিশন (পিটিভি) ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারটি প্রচার করেনি।

পাকিস্তান সরকার অবশ্য ইমরান খানকে কারাগারে নির্যাতন করা কিংবা পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে কারাবন্দি হওয়ার পর ইমরানের সঙ্গে তাঁর পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের ৯০০টির বেশি সাক্ষাৎ হয়েছে।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র সম্পন্ন, ৩৬ দলের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত

0

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৬-২৭ মৌসুমের লিগ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হলো গত রাতে মোনাকোয়। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত হয়েছে ৩৬ দলের লিগে দলগুলো কোন ৮টি দলের বিপক্ষে খেলবে। টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি লিগ পর্বে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনাকে। সিটি ও বার্সাও মুখোমুখি হবে প্রথম পর্বে। ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ইন্টার মিলান ও আর্সেনালকে। আবার আর্সেনাল প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখকে। এভাবেই চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৬-২৭ মৌসুমের ড্র সম্পন্ন হয়েছে আর ৩৬ দল পেয়েছে চূড়ান্ত প্রতিপক্ষ।

লিগ পর্বের প্রথম রাউন্ডের খেলা হবে ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর, এই তিন দিন। ২৭ জানুয়ারি লিগ পর্বে শেষ ম্যাচ খেলবে দলগুলো। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ ৮ দল সরাসরি উঠবে শেষ ষোলোতে। নবম থেকে ২৪তম-এই ১৬টি দল খেলবে নকআউট প্লে–অফে। জয়ী আটটি দল যোগ দেবে শেষ ষোলোতে।

বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ:  

ম্যানচেস্টার সিটি (হোম), পিএসজি (অ্যাওয়ে), অ্যাস্টন ভিলা (হোম), স্পোর্তিং (অ্যাওয়ে), ফেইনুর্দ (হোম), গালাতাসারাই (অ্যাওয়ে), কোমো (হোম), সাবা (অ্যাওয়ে)।

পিএসজির প্রতিপক্ষ:  

বার্সেলোনা (হোম), ম্যানচেস্টার সিটি (অ্যাওয়ে), রোমা (হোম), অ্যাস্টন ভিলা (অ্যাওয়ে), গালাতাসারাই (হোম), ভিয়ারিয়াল (অ্যাওয়ে), স্লোভান ব্রাতিসলাভা (হোম), কোমো (অ্যাওয়ে)

ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিপক্ষ:

পিএসজি (হোম), বার্সেলোনা (অ্যাওয়ে), স্পোর্তিং (হোম), পোর্তো (অ্যাওয়ে), নাপোলি (হোম), লাইপজিগ (অ্যাওয়ে), অ্যাথেন্স (হোম), লাঁস (অ্যাওয়ে)।

আর্সেনালের প্রতিপক্ষ:  

রিয়াল মাদ্রিদ (হোম), বায়ার্ন মিউনিখ (অ্যাওয়ে), বরুসিয়া ডর্টমুন্ড (হোম), রিয়াল বেতিস (অ্যাওয়ে), লিল (হোম), নাপোলি (অ্যাওয়ে), সাবা (হোম), স্লাভিয়া প্রাগ (অ্যাওয়ে)

লিভারপুলের প্রতিপক্ষ:

 আতলেতিকো মাদ্রিদ (হোম), ইন্টার মিলান (অ্যাওয়ে), পোর্তো (হোম), ক্লাব ব্রুগা (অ্যাওয়ে), ভিয়ারিয়াল (হোম), ফেনেরবাচে (অ্যাওয়ে), লাঁস (হোম), লাস্ক (অ্যাওয়ে)

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ:  

বায়ার্ন মিউনিখ (হোম), আতলেতিকো মাদ্রিদ (অ্যাওয়ে), রোমা (হোম), স্পোর্টিং সিপি (অ্যাওয়ে), লাইপজিগ (হোম), ভিয়ারিয়াল (অ্যাওয়ে), সাবাহ (হোম), কোমো (অ্যাওয়ে)

বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ:  

আর্সেনাল (হোম), আতলেতিকো মাদ্রিদ (অ্যাওয়ে), রিয়াল বেতিস (হোম), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (অ্যাওয়ে), বোডো/গ্লিমট (হোম), লিল (অ্যাওয়ে), স্লাভিয়া প্রাগ (হোম), ভাইকিং (অ্যাওয়ে)

আতলেতিকো মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ:

বায়ার্ন মিউনিখ (হোম), লিভারপুল (অ্যাওয়ে), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (হোম), পিএসভি (অ্যাওয়ে), ফেনেরবাচে (হোম), বোডো/গ্লিমট (অ্যাওয়ে), ভাইকিং (হোম), স্টুটগার্ট (অ্যাওয়ে)।

ইন্টার মিলানের প্রতিপক্ষ:

 লিভারপুল (হোম), রিয়াল মাদ্রিদ (অ্যাওয়ে), ক্লাব ব্রুগা (হোম), ডর্টমুন্ড (অ্যাওয়ে), শাখতার (হোম), ফেইনুর্দ (অ্যাওয়ে), স্টুটগার্ট (হোম), ব্রাতিস্লাভা (অ্যাওয়ে)।

রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ:

ইন্টার মিলান (হোম), আর্সেনাল (অ্যাওয়ে), পিএসভি (হোম), রোমা (অ্যাওয়ে), লাইপজিগ (হোম), শাখতার (অ্যাওয়ে), লাস্ক (হোম) ও অ্যাথেন্স (অ্যাওয়ে)।

আলোচিত খেলা গুলো:

ম্যানচেস্টার সিটি–পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি–বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ–আর্সেনাল, বায়ার্ন–আর্সেনাল, লিভারপুল–ইন্টার এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–বায়ার্ন। লিগ পর্বে প্রতিটি দল ৮টি ম্যাচ খেলবে-৪টি হোম ও ৪টি অ্যাওয়ে। প্রথম ম্যাচ ডে ৮-১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

লর্ডসে পাকিস্তানের বোলিং-ঝড়

0

লিডসের দুঃস্বপ্নের পর লর্ডসে যেন অন্য এক পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল পরাজয়ের ক্ষত বুকে নিয়েই দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নেমেছিল তারা। আর প্রথম দিনের শুরুতেই বল হাতে সেই ক্ষতের জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলি। দুজনের দুর্দান্ত সুইং ও সিমে ইংল্যান্ড একসময় ৩৬ রানে হারিয়ে ফেলেছিল তিন উইকেট। তবে জেমি স্মিথ ও জর্ডান কক্সের প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত লর্ডসে প্রথম দিনটি দাঁড়াল সমানে সমান।

বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে আকাশের মুখ ছিল ভার। টস জিতে এমন কন্ডিশনে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে খুব বেশি ভাবতে হয়নি পাকিস্তানকে। শুরুতেই তার সুফলও মেলে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে এমিলিও গের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল উইকেটের পেছনে চলে গেলে শরীর ছুড়ে দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

এরপর আব্বাসের রাজত্ব। মাত্র ১০ বল পর তাঁর বলে এলবিডব্লিউ হন বেন ডাকেট। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নটআউট হলেও অধিনায়ক বাবর আজমকে রিভিউ নিতে রাজি করান আব্বাস। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বল অফ স্টাম্পের ওপর আঘাত করত। এভাবেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন অভিজ্ঞ এই পেসার।

এরপর আব্বাসের শিকার জো রুট। ১৩ বলের অস্বস্তিকর অবস্থান শেষ হয় তাঁর প্যাডে বল আঘাত করলে। লাঞ্চের আগে আব্বাসের বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৪ রান।

মোহাম্মদ আব্বাস

তবে সকালের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ডেলিভারিটি আসে মোহাম্মদ আলির হাত থেকে। হ্যারি ব্রুককে অফ স্টাম্পের বাইরে খোঁচা দিতে প্রলুব্ধ করে বলটি আচমকা ভেতরে ঢুকে যায়। ব্যাটের নাগাল এড়িয়ে সোজা গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের ইনিংস জয়ে সর্বোচ্চ রান করা ব্রুক ফিরলেন এবার মাত্র ৪ রানে।

দ্বিতীয় সেশনে অবশ্য আলো ফুটল লর্ডসে, ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়েও। বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমান প্রথম দিকে দারুণ নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ধীরে ধীরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ড্যান লরেন্স ও জর্ডান কক্সের জুটি ভাঙে রান নেওয়ার ভুল বোঝাবুঝিতে। এরপর কক্স ও স্মিথের ব্যাটে ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানো।

মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা কক্স দেখালেন পরিণত ব্যাটিং। একের পর এক আক্রমণ সামলে তুলে নেন অর্ধশতক। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৬৭ রানের জুটি গড়েন স্মিথ। দুজন মিলে যখন ইংল্যান্ডকে বিপদমুক্ত করার পথে, তখন সালমান আগার অসাধারণ ক্যাচে থামে কক্সের ইনিংস। দ্বিতীয় স্লিপে বদলি ফিল্ডার হিসেবে দাঁড়িয়ে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বাতাস থেকে ক্যাচটি তুলে নেন সালমান।

কক্সের বিদায়ের পরও স্মিথ থামেননি। দুর্দান্ত স্ট্রেট ড্রাইভে দশম বাউন্ডারি তুলে নেওয়ার পর তাঁর ব্যাটে দেখা দিচ্ছিল বড় ইনিংসের সম্ভাবনা। কিন্তু আবারও মোহাম্মদ আলি। ব্রুককে ফেরানোর মতোই ভেতরে ঢুকে আসা ডেলিভারিতে স্মিথের ব্যাট পরাস্ত, বল গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। তিন বলের মধ্যে আলির দ্বিতীয় শিকার হন অলিভার রবিনসনও।

শেষদিকে জোফ্রা আর্চারের ছক্কা ইংল্যান্ডের ইনিংসে কিছুটা রোমাঞ্চ যোগ করেছিল। কিন্তু আব্বাসের চতুর্থ শিকারে তাঁর প্রতিরোধও থামে। ইংল্যান্ডের ইনিংস তখন শেষ উইকেটের অপেক্ষায়। কিন্তু ঠিক তখনই নেমে আসে আলো-স্বল্পতা। প্রায় ৬টা ১০ মিনিটে খেলা বন্ধ হয়, পরে দিনের খেলা পরিত্যক্ত হয়।

লুটনকে হারিয়ে কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে চেলসি

0

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে জয়ের মঞ্চ প্রস্তুতই ছিল। দরকার ছিল শুধু শেষ স্পর্শের। সেটিই এনে দিলেন ড্যানি ওয়েলবেক। বিরতির পর তাঁর হেডে খুলল চেলসির জয়ের দরজা, শেষদিকে হাকিম ওডোফিনের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান বাড়ল। শেষ পর্যন্ত লুটন টাউনকে ২-০ গোলে হারিয়ে কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিল জাবি আলোনসোর দল।

লিগ ওয়ানের প্রতিপক্ষ বলেই ম্যাচটিকে হালকাভাবে নেয়নি চেলসি। বরং একাদশে ছিল বেশ কিছু পরিচিত মুখ। কোল পালমার, মর্গান রজার্স ও এস্তেভাওকে শুরু থেকেই মাঠে নামিয়েছিলেন আলোনসো। তবে দলে ছিলেন না এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাব্য প্রস্তাবকে ঘিরে তাঁর অনুপস্থিতি আলোচনায় ছিল।

গোলপোস্টের নিচেও ছিল নতুন মুখ। ফুলহামের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচে দুটি ভুলের পর রবার্ট সানচেজকে বেঞ্চে রেখে ২১ বছর বয়সী বেলজিয়ান গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্সকে অভিষেক করান আলোনসো। একই দিনে বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে অ্যাস্টন ভিলা থেকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে চুক্তি হওয়ায় চেলসির গোলরক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে পরিষ্কার আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু লুটনের সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করা সহজ হয়নি। পালমার ও এস্তেভাওর বোঝাপড়ার পর চেলসির ইংলিশ ফরোয়ার্ডের পরপর দুই শট ঠেকিয়ে দেন লুটন গোলরক্ষক জশ কিলি। রিস জেমসের ফ্রি-কিক থেকেও বিপদ সামাল দেন তিনি।

এস্তেভাওয়ের উচ্ছ্বাস

এস্তেভাও নিজেও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। ভ্যালেন্টিন বারকোর থ্রু বল ধরে তাঁর নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রজার্সও ঘরের মাঠে অভিষেকেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন-তাঁর জোরালো শট গিয়ে লাগে ক্রসবারের নিচের অংশে।

অবশেষে অপেক্ষার অবসান দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। ৫০ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে এস্তেভাও বল বাড়িয়ে দেন মালো গুস্তোর দিকে। ডান দিক থেকে গুস্তোর নিখুঁত ক্রস উড়ে যায় লুটনের গোলের দূর পোস্টে। সেখানেই অপেক্ষায় ছিলেন ওয়েলবেক। নিখুঁত সময়ে মাথা ছুঁইয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালে। চেলসির জার্সিতে এটি তাঁর প্রথম গোল।

গোলের পরও চেলসির আক্রমণের ধার কমেনি। পালমারের বাঁকানো এক দুর্দান্ত শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচে আবারও নিজের ছাপ রাখেন ইংল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ড। ফুলহাম ম্যাচেও চেলসির অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।

লুটন খুব কমই আক্রমণে উঠতে পেরেছে। মাঝেমধ্যে দূরপাল্লার চেষ্টায় স্বাগতিকদের চমকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা। কেসি পালমারের একটি শক্তিশালী শট গোলের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর বাইরে পেন্ডার্সকে খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।

৮৮ মিনিটে ম্যাচের শেষ অধ্যায়ও লিখে ফলে চেলসি। এস্তেভাও ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু ক্রস বাড়ান। বিপদমুক্ত করতে গিয়ে ওডোফিনের পায়ে লেগে বল চলে যায় নিজেদের জালে। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চেলসি।

যোগ করা সময়ে বদলি জেমি গিটেন্সের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তৃতীয় গোলটি না এলেও চেলসির আধিপত্যের গল্প তাতে বদলায়নি।

আর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তটি ছিল ম্যাচের শেষভাগে। প্রথমবারের মতো স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের গ্যালারি থেকে শোনা গেল আলোনসোর নামের স্লোগান।

রদ্রির প্রত্যাবর্তনের রাতে বার্সার টানা ২০তম জয়

0

ক্যাম্প ন্যুতে বৃহস্পতিবার রাতটা ছিল প্রত্যাবর্তনের। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মাঠে ফিরলেন রদ্রি, অন্যদিকে ঘরের মাঠে বার্সেলোনা লিখল আরেকটি জয়ের গল্প। বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে অ্যাথলেটিক ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বর্তমান লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। রাফিনিয়া ও ফেরমিন লোপেজর গোলে পাওয়া এই জয় লা লিগায় বার্সার ঘরের মাঠের টানা জয়কে নিয়ে গেল ২০ ম্যাচে।

ক্যাম্প ন্যুতে শেষ বাঁশি বাজার আগেই অবশ্য ম্যাচের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি এসে গিয়েছিল। ৬৩ মিনিটে রাফিনিয়া ও মার্ক বার্নালের বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন রদ্রি ও দানি ওলমো। দীর্ঘ চোট ও অস্ত্রোপচারের পর রদ্রির পায়ে আবার বল-গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বাসের ঢেউ।

চলতি মাসের শুরুতেই ম্যানচেস্টার সিটি থেকে মোট ৭৬.৫ মিলিয়ন ইউরোর প্যাকেজে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জেতার পর সামান্য পিঠের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল তাঁকে। ফলে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এলচের বিপক্ষে বার্সার ৫-০ গোলের জয়ে ছিলেন না। অ্যাথলেটিকের বিপক্ষেই হলো তাঁর বহু প্রতীক্ষিত বার্সা অভিষেক।

রদ্রি নামার আগেই অবশ্য বার্সেলোনা এগিয়ে গিয়েছিল। ৩৭ মিনিটে পেদ্রির নিখুঁত থ্রু বল ধরে এগিয়ে যান রাফিনিয়া। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক উনাই সিমোনকে পাশ কাটিয়ে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর তিন ম্যাচে তৃতীয় গোল।

গোলের পর লোপেজ

তবে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছে বার্সা। অ্যাথলেটিকের গোলরক্ষক সিমোন ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো। মোট আটটি দুর্দান্ত সেভ করে তিনি স্বাগতিকদের আরও বড় জয় থেকে বঞ্চিত করেন। দ্বিতীয়ার্ধে লামিনে ইয়ামালের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বার্সার হয়ে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে নামা অ্যান্থনি গর্ডনও বিরতির পর অল্পের জন্য গোল বঞ্চিত হন।

শেষ পর্যন্ত ৮২ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করে বার্সা। বদলি করিম আদেয়েমির নিচু ক্রস ঠিকমতো সামলাতে পারেননি অ্যাথলেটিকের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে। বল পেয়ে মাত্র দুই গজ দূর থেকে ফেরমিন লোপেজ সেটিকে জালে ঠেলে দেন।

অ্যাথলেটিকের জন্য রাতটি ছিল আরও হতাশার। পুরো ম্যাচে বার্সার গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি তারা। ক্যাম্প ন্যুতে তাদের জয়হীন থাকার সময়ও বেড়ে হলো ১৬ ম্যাচ।

অন্যদিকে বার্সেলোনার জন্য জয়টি শুধু তিন পয়েন্টের হিসাব নয়। ঘরের মাঠে লা লিগায় টানা ২০ জয়ের অসাধারণ ধারাটি আরও দীর্ঘ হলো। এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ২৫টি ঘরোয়া লা লিগা ম্যাচ জিতেছিল তারা।

সেই পুরোনো রেকর্ডের ছায়া এখন আবার ক্যাম্প ন্যুতে। আর সেই পথচলায় নতুন এক নাম যোগ হয়েছে-রদ্রি।

টিভিতে আজকের খেলা: ২৮ আগষ্ট ২০২৬

লর্ডসে চলছে ইংল্যান্ড–পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট। নারী টি–টুয়েন্টি এশিয়া কাপ শুরু আজ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্যালেসের মুখোমুখি সিটি।

ক্রিকেট
গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯–বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৭
সকাল ৯–৩০ মি., টি স্পোর্টস

লর্ডস টেস্ট–২য় দিন
ইংল্যান্ড–পাকিস্তান
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ২

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেট
হংকং–থাইল্যান্ড
রাত ৮–৩০ মি., টি স্পোর্টস ও সনি স্পোর্টস ১

ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

প্যালেস–ম্যান সিটি
রাত ১টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

লা লিগা
আলাভেস–ভিয়ারিয়াল
রাত ১–৩০ মি., টি স্পোর্টস

শুরু হচ্ছে বিসিবি জিডি ট্রফি, দেখে নিন কে কোন দলে

দেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের নিয়ে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে জিডি ট্রফি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল। মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ।

তিন দলের অংশগ্রহণে লিগভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে দুবার করে খেলবে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। জয়ের জন্য থাকছে ২ পয়েন্ট, ম্যাচের ফল না হলে থাকছে ১ পয়েন্ট।

শুক্রবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৭দল। ম্যাচ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। এরপর ৩০ আগস্ট অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে খেলবে অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

পহেলা সেপ্টেম্বর মাঠে নামবে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল। প্রথমপর্বে প্রতিটি দলের দুটি করে ম্যাচ খেলার পর আবার একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে খেলবে তারা। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ৯ সেপ্টেম্বর ফাইনালে মুখোমুখি হবে।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের স্কোয়াড: নয়ন বাবু, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, সৌরভ কর্মকার, ইমরান ভূঁইয়া, লরেন্স রয়, হোসাইন শেখ (অধিনায়ক), রিফাত হাওলাদার, আজহা বিন মুহিব, ইয়াসিন মজুমদার, মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ, আলিফ হাসান লিখন, সাকিবুল ইসলাম, সিফাত আলী, মো. মাজেদুল ও নুর-এ আল ইসলাম জাভি।

স্ট্যান্ডবাই: বায়েজিদ বোস্তামি, ফরহাদ আহমেদ, সুজন, মো. ইফতেখার ও আয়মান হোসাইন।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্কোয়াড: আবদুল্লাহ আল মুহি, শেখ জারিফ সিয়াম, কাওসার আহমেদ, আহসান আল মুমিন, ফারহান সাদিক, আদ্রিত ঘোষ, ফরিদ হোসাইন ফয়সাল (অধিনায়ক), রুবিউল হাসান অনিক, আল রাফি, আবদুর রহিম, রুবায় ইসলাম রিজন, তাফিউল আলম তামিম, শেখ আতিউর রহমান আকাশ, শাকিল আহমেদ ও রাকিবুল হাসান।

স্ট্যান্ডবাই: মজহারুল ইসলাম সাগর, আল আমিন রনি, কুমার নিলয়, রাকিব খান, শহিদুল ইসলাম ও মেহরাব হাসান সিজান।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের স্কোয়াড: জাওয়াদ আবরার, আদিল বিন সিদ্দিক, মো. রিফাত বেগ, আজিজুল হাকিম তামিম, কালাম সিদ্দিকী এলিন (অধিনায়ক), খালিদ হাসান, মো. রিজান হোসেন, আহরার আমিন, দেবাশিস সরকার দেবা, মো. আবদুল্লাহ, শেখ পারভেজ জীবন, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, নুহায়েল সানদীদ, মো. স্বাধীন ইসলাম ও মুহিউদ্দিন তারেক।

স্ট্যান্ডবাই: রাহিন আহমেদ, সাদ ইসলাম রাজিন ও মারুফ মৃধা।

আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ বিসিবির মেডিকেল বিভাগ

অবশেষে নিজেদের মেডিকেল বিভাগকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে বাড়ানো হবে চিকিৎসাসুবিধা। এ জন্য একাডেমি ভবনে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গায় ধাপে ধাপে আধুনিক মেডিকেল ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বিসিবি।

বর্তমানে বিসিবির মেডিকেল বিভাগে ছোটখাটো শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা জরুরি চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও মেলে কেবল ম্যাচ ও আনুষ্ঠানিক অনুশীলনের সময়। এ ছাড়া চোট থেকে সেরে ওঠা ক্রিকেটারদের জন্য নেই কোনো পুনর্বাসন কেন্দ্র। মাত্র দুজন চিকিৎসক নিয়ে চলছে বিভাগের কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার মেডিকেল কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। তিনি বলেন, মেডিকেল বিভাগের চিকিৎসকসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

শামীম বলেন, ‘একাডেমি ভবনে আমাদের মেডিকেল বিভাগের জন্য প্রায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেওয়া আছে। সেখানে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। একটা পরিকল্পনাও করেছি। এখানে আমাদের চিকিৎসক সংখ্যা কম। চিকিৎসক সংখ্যা বাড়াতে হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা, ইমার্জেন্সির কোনো ব্যবস্থা নেই।’

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইমার্জেন্সি মেডিকেল ইউনিট, বহির্বিভাগ (ওপিডি), পুনর্বাসন ইউনিট ও অবজারভেশন বে করার কথা জানিয়েছেন তিনি। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কোনো মানের সঙ্গে আপস করতে চান না বলেও জানান শামীম।

তিনি বলেন, ‘শর্ট টার্মে কী কী আমরা করতে পারি, সেভাবে আলোচনা করেছি। প্রত্যেকটা জায়গা একেবারে অত্যাধুনিক হবে। আমরা মানের দিক থেকে কোনো ছাড় দেব না।’

তবে অবকাঠামো উন্নয়নের আগে দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনার পরিকল্পনা করছেন শামীম। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত একটা অ্যাম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছি।’

বিসিবির বিভিন্ন ভেন্যুতে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সুবিধা না থাকায় চোটের সমস্যায় ক্রিকেটারদের ঢাকায় আসতে হয়। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়েও চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করতে চায় বিসিবি।

শামীম বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিকভাবেও চিন্তা করেছি। পাঁচটা ভেন্যু আছে আমাদের। সেখানে একজন করে ডাক্তার, ফিজিও ও ট্রেনার নিয়োগ করা যায় কি না, সেটা নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’

বিসিবির মেডিকেল বিভাগের উন্নয়নের মাধ্যমে শুধু ক্রিকেটার নয়, দেশের অন্যান্য খেলোয়াড়ও উপকৃত হবেন বলে মনে করেন শামীম। তাঁর মতে, দেশে একটি শক্তিশালী স্পোর্টস মেডিসিন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার মানুষ এর সুফল পাবেন।

চোট পাওয়া ক্রিকেটারদের চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা কমিয়ে দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। শামীম বলেন, ‘আমরা ক্রিকেট বোর্ডের সবার সহায়তায় মেডিকেল ইউনিটকে আন্তর্জাতিক মানের এবং এর চেয়ে ভালো করে তৈরি করতে পারব। যে পরিকল্পনা করছি, তাতে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসবে, আমাদের বাইরে যেতে হবে না। এটা আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি।’

ভারত-শ্রীলঙ্কার টেস্ট নাটকীয় ড্র

প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৯০ রানে অলআউট হওয়া লঙ্কানদের জন্য নিশ্চিত হার-ই অপেক্ষা করছিল। কেউ কেউ হয়তো ভাবছিলেন, ইনিংস ব্যবধানেই হারবে স্বাগতিকরা। কিন্তু সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করলেন লঙ্কান তরুণ ব্যাটার সোনাল দিনুশা। টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন এই ব্যাটার। তাতেই জয়বঞ্চিত হয়েছে ভারত।

গল টেস্টের প্রথম ইনিংসে শতক পূরণের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৪ রান করেছিলেন লঙ্কান তারকা ব্যাটার সোনাল দিনুশা। দ্বিতীয় ম্যাচে যেন আরও দুর্দান্ত পারফর্ম করলেন তিনি। এবার দুই ইনিংসেই শতক পূরণ করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাই গড়েছেন অনন্য কীর্তি। তৃতীয় লঙ্কান ব্যাটার হিসেবে চার ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।

তার অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কারণেই মূলত জয় বঞ্চিত হয়েছে ভারত। কেননা প্রথম ইনিংসে ভারতের ৯ উইকেটে ৫০৩ রানে ইনিংস ঘোষণার পর ২৯০ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ২১৩ রানে পিছিয়ে থেকে ইনিংস শুরু করে চতুর্থ দিন পর্যন্ত ৬ উইকেট হারানোর পর মাত্র ২৬ রানের লিড নিতে পেরেছিল তারা।

তবে শেষ দিনে যেন রোমাঞ্চ তুলে রেখেছিলেন সোনাল দিনুশা। লো-অর্ডার ব্যাটারদের নিয়েই গড়তে থাকেন প্রতিরোধ। সপ্তম উইকেটে কেশারা নুয়ান্থা সঙ্গে তার জুটিটা ১১২ রানের। এটাই মূলত ড্রয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। ফিফটি পূরণ করতে না পারলেও ১৫০ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৪৬ রানের একটি ইনিংস খেলেন নুয়ান্থা। পরের উইকেটে নেমে ২ রান করেন প্রবাথ জয় সুরিয়া।

নবম উইকেটে সোনাল দিনুশাকে সঙ্গ দিতে থাকেন লাহিরু কুমারা। এই জুটিতে আসে ৪৭ রান। মাত্র ১২ রান করলেও ৯০টি বল মোকাবিলা করেছেন কুমারা, যা ম্যাচটি ড্র করার ক্ষেত্রে বড় অবদান রেখেছে।

নবম উইকেটের পতন ঘটলেও থামেননি দিনুশা। শেষ উইকেট জুটিতে আসিথা ফার্নান্দোকে নিয়েও লড়ে যান তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত প্রথম ইনিংস ৫০৩/৯
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস ২৯০/১০
শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস ৪২৯/৯
ফলাফলা ড্র