Home Blog Page 35

১৫ মাস নিষিদ্ধ আমিরাতের ক্রিকেটার আসিফ খান

ডোপিংয়ের দায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিজ্ঞ ব্যাটার আসিফ খানকে ১৫ মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এই শাস্তির বিষয়টি জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেওয়া ডোপ পরীক্ষায় আসিফের শরীরে নিষিদ্ধ উপাদান মাস্টারলোনের মেটাবোলাইট শনাক্ত হয়। আইসিসির অ্যান্টি-ডোপিং কোডের ২.১ ধারা লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (ওয়াডা)–এর সঙ্গে কেস রেজুলেশন চুক্তিতে সম্মত হওয়ায় এই শাস্তির বিরুদ্ধে আসিফের আপিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে। এটি শেষ হবে ২০২৬ সালের ৭ ডিসেম্বর।

তবে ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর থেকে দলের অনুশীলনে যোগ দিতে পারবেন আসিফ। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন ৮ ডিসেম্বরের পর।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদের শুরু থেকে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অর্জিত আসিফের সব ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান, পদক, পয়েন্ট ও প্রাইজমানিও বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ভারত, ওমান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা তাঁর শেষ তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পারফরম্যান্সও ক্যারিয়ারের রেকর্ড থেকে বাদ যাবে।

পাকিস্তানের সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটার আসিফ ২০২২ সালের মার্চে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক করেন। এখন পর্যন্ত দেশটির হয়ে ৩৮টি ওয়ানডে ও ৫৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি।

ক্রিকেটের ‘দ্য ডন’-এর ১১৮তম জন্মদিন আজ

ক্রিকেটে কিছু রেকর্ড আছে, সময়ের সঙ্গে যেগুলোর মাহাত্ম্য একটুও কমে না। বরং বছরের পর বছর পেরিয়ে সেগুলোই হয়ে ওঠে কিংবদন্তির পরিচয়। ক্রিকেটে এমনই এক অবিস্মরণীয় সংখ্যা-৯৯.৯৪। এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিং গড়ের মালিক স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। আজ ক্রিকেটের ‘দ্য ডন’-এর ১১৮তম জন্মবার্ষিকী।

১৯০৮ সালের ২৭ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের কুটামুন্ডিতে জন্ম নেন ব্র্যাডম্যান। ছোটবেলা থেকেই ব্যাট হাতে নিজের প্রতিভার জানান দেন তিনি। বাড়ির উঠোনে গলফ বল, একটি স্টাম্প আর পানির ট্যাংককে সঙ্গী করে চলত তার অনুশীলন। দেয়ালে বল ছুড়ে স্টাম্প দিয়ে তা ফের আঘাত করার সেই অনুশীলনই ধীরে ধীরে তৈরি করে তার অসাধারণ চোখ ও হাতের সমন্বয়।

ক্রিকেটের পাশাপাশি টেনিসের প্রতিও ছিল ব্র্যাডম্যানের আগ্রহ। একসময় টেনিস খেলতে গিয়ে প্রায় দুই বছর ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটেই ফিরে আসেন। স্থানীয় ক্লাব বোরালের হয়ে ৩২০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসসহ একের পর এক নজরকাড়া পারফরম্যান্সে নির্বাচকদের দৃষ্টি কাড়েন। ১৯২৬ সালে নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ট্রায়ালে ডাক পাওয়ার পর ক্রিকেটকেই জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।

১৯২৮ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট অভিষেক হয় ব্র্যাডম্যানের। শুরুটা অবশ্য সুখকর ছিল না। কিন্তু ব্যর্থতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ১৯৩০ সালের ইংল্যান্ড সফরেই বিশ্ব ক্রিকেটকে নিজের আগমনের বার্তা দেন তিনি। ওই সফরে ৩৩৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়।

১৯৩২-৩৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ব্র্যাডম্যানকে থামাতে ইংল্যান্ড বেছে নেয় ‘বডিলাইন’ কৌশল। শরীর লক্ষ্য করে একের পর এক বল ছুড়তে থাকেন ইংলিশ বোলাররা। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি থামানো যায়নি অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটিং মহাতারকাকে। তার অসাধারণ ব্যাটিং কৌশলের সামনে ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা খুব একটা সফল হয়নি। সেখান থেকেই আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে তার ‘দ্য ডন’ খ্যাতি।

ব্র্যাডম্যানের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানই বলে দেয়, কেন তাকে সর্বকালের সেরাদের একজন বলা হয়। ৫২ টেস্টে ৬৯৯৬ রান করেছেন তিনি, ব্যাটিং গড় ৯৯.৯৪। ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে তার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪ রান। সেটি করতে পারলেই টেস্ট ব্যাটিং গড় পৌঁছে যেত ১০০-তে। কিন্তু ইংল্যান্ডের এরিক হলিসের বলে শূন্য রানে বোল্ড হয়ে যান ব্র্যাডম্যান। ফলে ১০০ ব্যাটিং গড়ের সেই অধরা মাইলফলক আর ছোঁয়া হয়নি। তবু ৯৯.৯৪-এর রেকর্ডই তাকে ক্রিকেট ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

১৯৪৮ সালে ক্রিকেটকে বিদায় জানান ব্র্যাডম্যান। এরপর প্রশাসক ও ক্রিকেট পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছ থেকে লাভ করেন নাইটহুড। এরপর থেকেই তিনি বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিত হন ‘স্যার ডন ব্র্যাডম্যান’ নামে।

২০০১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে ৯২ বছর বয়সে মারা যান ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি। তবে মৃত্যুর দুই দশকেরও বেশি সময় পরও তার ৯৯.৯৪-এর গল্প ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সমান বিস্ময়ের। তাই সময় বদলালেও বদলায়নি ‘দ্য ডন’-এর মাহাত্ম্য। ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি আজও এক অনন্য উচ্চতার নাম-স্যার ডন ব্র্যাডম্যান।

মিরপুর স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শহীদ আবু সাঈদের নাম মুছে ফেলা নিয়ে ক্ষোভ

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একটি গ্যালারি থেকে শহীদ আবু সাঈদের নাম মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বুধবার (২৭ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামের একটি গ্যালারির নাম ‘শহীদ আবু সাঈদ গ্যালারি’ করা হয়েছিল।

পরে নতুন বিসিবি সভাপতির অধীনে সেই নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আসিফ মাহমুদের পোস্টে গ্যালারির নাম মুছে ফেলার আগের ও পরের দৃশ্যের ছবিও তুলে ধরা হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শহীদ আবু সাঈদের নামে নামকরণ করা গ্যালারির পরিচয় মুছে ফেলার বিষয়টি কেবল একটি নাম পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং এটি জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের বিপিএলকে ঘিরে মিরপুর স্টেডিয়ামে শহীদ আবু সাঈদের নামে গ্যালারি করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সে সময় স্টেডিয়াম-সংক্রান্ত প্রচারণায়ও আবু সাঈদের নাম ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। শহীদ আবু সাঈদ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত নিহত ব্যক্তি। রংপুরে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর তার প্রতিবাদী অবস্থানের ছবি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

মিরপুরের গ্যালারি থেকে তার নাম মুছে ফেলার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার সাইয়েদ আবদুল বাতেন খেলা লাইভকে বলেন,‘কিছু সংস্কারের জন্য আবু সাঈদের নামে সাইনবোর্ড খুলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেটা তো ফের লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে এখন যেভাবে আলোচনা হচ্ছে এটা ঠিক না।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের সিরিজে বিশ্বকাপে চোখ হৃদয়ের

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সামনে এখন ব্যস্ত সূচি। আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের প্রথম ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দলে এসেছে ছয়টি পরিবর্তন। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও মুখোমুখি হবে দুই দল।

চার দিনের ম্যাচে অধিনায়ক না থাকলেও ওয়ানডে সিরিজে নেতৃত্ব দেবেন তাওহীদ হৃদয়। বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাঁর চোখ এখন শুধু এই সিরিজে ভালো করার দিকে নয়, আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতেও।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতীয় দলের সফর এবং সামনে বিশ্বকাপ-দুটিকে মাথায় রেখেই ‘এ’ দলের হয়ে কাজে লাগাতে চান হৃদয়। তিনি বলেন, ‘সাউথ আফ্রিকায় আমাদের সামনে জাতীয় দলের সফর আছে এবং বিশ্বকাপ আছে, সবকিছু বিবেচনা করেই চেষ্টা করব যতটুকু প্রস্তুতি নেওয়া যায় ওখানে।’

‘এ’ দলের হয়ে খেলার সময় ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে বড় করে দেখছেন না হৃদয়। বরং দলের জন্য অবদান রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ দলের খেলা হোক বা জাতীয় দলের বা এলাকার খেলা হোক, চেষ্টা থাকে যে সব সময় দলের জন্য যতটুকু অবদান করা যায়। এ দলে আমার নিজস্ব কোনো লক্ষ্য নাই। আমি প্রতিটি ম্যাচ বা প্রতিটি দিন উপভোগ করার চেষ্টা করি।’

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের দ্বিতীয় ও শেষ চার দিনের ম্যাচ শুরু হবে ৩০ আগস্ট। পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। এরপর ৬, ৯ ও ১২ সেপ্টেম্বর হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ব্লুমফন্টেইন, কিম্বার্লি ও পচেফস্ট্রুমে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে তাই কেবল ‘এ’ দলের সিরিজ হিসেবেই দেখছেন না হৃদয়। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ ব্যস্ততা ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সফরকে কাজে লাগাতে চান বাংলাদেশের এই ব্যাটার।

শরিফুলকে এনওসি না দেওয়ার কারণ জানাল বিসিবি

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েও মাঠে নামা হচ্ছে না শরিফুল ইসলামের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাঁকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) না দেওয়ায় ইংলিশ কাউন্টিতে খেলা হচ্ছে না বাঁহাতি এই পেসারের।

কেন্টের ড্রেসিংরুমে বাংলাদেশের আরেক পেসার হাসান মাহমুদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল শরিফুলের। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি, তাঁর কাজের চাপ এবং সম্প্রতি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে ফেরার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে ছাড়পত্র দেয়নি বিসিবি।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের দায়িত্বে থাকা শাহরিয়ার নাফীস মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে তিনি বলেন, ‘শরিফুলকে তাঁর কাজের চাপ ও সামনে থাকা আন্তর্জাতিক সূচি বিবেচনা করে এনওসি দেওয়া হয়নি। কারণ, আগামী তিন মাসে আমাদের পাঁচটি টেস্ট, সাতটি টি-টোয়েন্টি ও ছয়টি ওয়ানডে রয়েছে।’

তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই বাংলাদেশের নিয়মিত মুখ শরিফুল। এর সঙ্গে সম্প্রতি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে ফিরেছেন তিনি। তাই কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে আরও চারটি ম্যাচ খেললে তাঁর ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে বলে মনে করছে বিসিবি।

নাফীস বলেন, ‘শরিফুল এমন একজন খেলোয়াড়, যে সব সংস্করণেই খেলে। এর সঙ্গে সে মাত্রই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে ফিরছে। তাই তাকে চারটি কাউন্টি ম্যাচ খেলার জন্য এনওসি দিলে তার শরীরে যে বাড়তি চাপ পড়বে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। এতে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য সে পুরোপুরি ফিট নাও থাকতে পারে।’

শরিফুলকে কাউন্টিতে না পাঠানোর সিদ্ধান্তে টিম ম্যানেজমেন্ট ও মেডিকেল বিভাগের মতামতও নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির আগে ম্যাচ খেলার চেয়ে অনুশীলনের মাধ্যমে তাঁকে প্রস্তুত রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নাফীসের ভাষায়, ‘এ কারণেই টিম ম্যানেজমেন্ট ও মেডিকেল বিভাগ মনে করছে, তার জন্য এখন খেলার চেয়ে অনুশীলন করা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য পুরোপুরি ফিট ও প্রস্তুত থাকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে শরিফুলকে এনওসি না দিলেও কেন্টের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার অনুমতি পেয়েছেন বাংলাদেশের আরেক পেসার খালেদ আহমেদ।

কেন্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর খালেদকে এনওসি দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন নাফীস। তাঁর মতে, খালেদ বর্তমানে পুরোপুরি ফিট এবং সাম্প্রতিক সময়ে খুব বেশি ম্যাচও খেলেননি। ফলে কাউন্টিতে তাঁকে খেলতে পাঠাতে আপত্তি দেখছে না বিসিবি।

নাফীস বলেন, ‘খালেদকে কেন্টের জন্য এনওসি দেওয়া হয়েছে, কারণ সে পুরোপুরি ফিট এবং সাম্প্রতিক সময়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি।’

একই দলের হয়ে কাউন্টি খেলার সুযোগ পেলেও শরিফুল ও খালেদের ক্ষেত্রে বিসিবির সিদ্ধান্ত হয়েছে ভিন্ন। শরিফুলের ক্ষেত্রে চোট থেকে ফেরা ও সামনে থাকা ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে খালেদের ম্যাচের চাপ কম থাকায় তাঁকে ইংল্যান্ডে খেলার অনুমতি দিয়েছে বিসিবি।

ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি থেকে সরে আসছে উয়েফা

0

ফিফার সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি থেকে সরে আসার পথে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা। বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি বা তাতে অংশীদারত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা আর সামনে আনা হবে না-এমন আশ্বাস পাওয়ার পর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উয়েফা।

আগে ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দিয়েছিল উয়েফা। এই অচলাবস্থার কারণে আগামী মাসে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে ফিফা জানিয়েছে, বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা সব দলই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে।

রয়টার্সকে ফিফার এক মুখপাত্র বলেছেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও ফুটবল মানুষকে একত্র করার ক্ষমতা রাখে। পোল্যান্ডে সব দল ও খেলোয়াড়কে স্বাগত জানানোর প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার মোনাকোয় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উয়েফার কর্মকর্তারা নির্বাহী কমিটি ও অধিকাংশ সদস্য ফেডারেশনের সভাপতিদের জানাবেন যে বয়কট প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়েছে। উয়েফার দাবি ছিল, ফিফার প্রস্তাবটি পুরোপুরি প্রত্যাহারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিকল্পনা আর নেওয়া হবে না-এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তবে বয়কটের হুমকি থেকে সরে এলেও ফিফার বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে অবস্থান বদলাচ্ছে না উয়েফা। সংশ্লিষ্ট এক সূত্র রয়টার্সকে বলেছেন, এটি উয়েফার পরাজয় নয়; বরং তরুণ খেলোয়াড়দের জীবনে একবার পাওয়া সুযোগ নষ্ট না করার বাস্তব সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে পরিবর্তনের দাবি ও উয়েফার অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও ইউরোপে অসন্তোষ বাড়ছে। ইউরোপিয়ান লিগসের সভাপতি ক্লডিয়াস শেফার দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছেন, ফিফায় ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেই এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সংস্কার প্রয়োজন।

এর মধ্যেই ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতাকে আর সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এক বিবৃতিতে এফআইজিসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা পরিচালনা ও উন্নয়ন নিয়ে ফিফা সভাপতির সাম্প্রতিক উদ্যোগের বিষয়ে উয়েফা ও এর সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিনের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে একমত হয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইনফান্তিনোর ওপর চাপ যে ক্রমেই বাড়ছে, সেটিও স্পষ্ট। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো জানিয়েছেন, আগামী মাসে নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ইনফান্তিনোকে নিয়ে তাদের অবস্থান ঠিক করা হবে।

ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে এখন তিনটি কনফেডারেশনও চাপ তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ। তবে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) ও দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল) এখনো ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে।

রোনালদোকে ছাড়াই আল নাসরের অবিশ্বাস্য জয়

0

ম্যাচের ১৩ মিনিটেই গোলরক্ষক লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আল নাসর পিছিয়ে পড়ে দুই গোলে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও তুলে নেন কোচ আঙ্গে পোস্টেকোগলু। মনে হচ্ছিল, আল নাসরের জন্য রাতটি হয়তো হতাশারই হতে যাচ্ছে। কিন্তু ১০ জনের দলটি লিখল দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প।

সৌদি প্রো লিগে মঙ্গলবার রাতে আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতে নেয় আল নাসর। দলের এই নাটকীয় জয়ের নায়ক সাদিও মানে। ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি ম্যাচের ৯০তম মিনিটে জয়সূচক গোলও করেন সাবেক লিভারপুল তারকা।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আল নাসর। ১৩ মিনিটে গোলরক্ষক বেন্টো লাল কার্ড দেখলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় দলটিকে। সেই সুযোগে আল ইত্তিফাক প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায়।

বিরতির পর কৌশলে বড় পরিবর্তন আনেন পোস্টেকোগলু। ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে সৌদি মিডফিল্ডার আবদুল্লাহ আল-খাইবারিকে নামান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে দলের প্রয়োজন ছিল ভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা এবং সংখ্যায় একজন কম থাকা দলের ভারসাম্য ফেরাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কোচের সেই সিদ্ধান্তের পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৬ মিনিট আগে গোল করে ব্যবধান কমান মানে। এরপর জোয়াও ফেলিক্সের সহায়তায় গোল করে সমতা ফেরান আবদেলেলাহ আল-আমরি। আর ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন ৯০তম মিনিটে আবারও আঘাত করেন মানে। তার গোলেই অবিশ্বাস্যভাবে জয় নিশ্চিত করে আল নাসর।

সাইড বেঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ম্যাচ শেষে রোনালদোকে বিরতিতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে পোস্টেকোগলু বলেন, রোনালদো সাম্প্রতিক সময়ে খুব বেশি ফুটবল খেলেননি। ১০ জন নিয়ে খেলার পরিস্থিতিতে দ্বিতীয়ার্ধে ভিন্ন কৌশলের প্রয়োজন ছিল। তবে ম্যাচের আসল গল্প হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন দলের লড়াকু মানসিকতাকে। পোস্টেকোগলুর ভাষায়, ১০ জনের আল নাসর যা করেছে, সেটিই আলোচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, দলের খেলোয়াড়রা শুধু মানসম্পন্ন নন, তারা লড়াকুও। কঠিন পরিস্থিতি মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্তই তাদের চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে।পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ খেলে ক্যারিয়ারের ২৫তম মৌসুমে আল নাসরে ফিরেছেন রোনালদো। গত শুক্রবার আল রিয়াদের বিপক্ষে গোল করে ক্যারিয়ারে ৯৭৭ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তার হাজারতম গোলের স্বপ্নেও কিছুটা ধাক্কা খেলো।

মরিনহোর ঘরে ফেরা রাঙালেন এমবাপ্পে

0

দীর্ঘ ১৩ বছর পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে ফিরে এসেই জয় উদ্‌যাপন করলেন হোসে মরিনহো। আর তার স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের রাতকে আরও রঙিন করে দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি তারকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদ ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদকে।

এই জয়ে টানা দ্বিতীয় লা লিগা ম্যাচে পুরো তিন পয়েন্ট পেল মরিনহোর দল। অন্য গোলটি করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সোসিয়েদাদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন লুকা সুচিচ।

এমবাপ্পের জন্যও ম্যাচটি ছিল বিশেষ। রিয়ালের জার্সিতে তিন গোল করার মধ্য দিয়ে ক্লাবটির হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০৫ ম্যাচে ৮৯টিতে। অসাধারণ এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, মাদ্রিদের আক্রমণভাগে কতটা দ্রুত নিজের জায়গা পাকা করেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের আগে থেকেই বার্নাব্যুতে ছিল উৎসবের আবহ। মরিনহোর নাম ঘোষণা হতেই গ্যালারি থেকে ভেসে আসে উচ্ছ্বাস। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মার্ক কুকুরেয়া ট্রফি নিয়ে মাঠে আসেন এবং তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

শুরু থেকেই অবশ্য রিয়ালকে চ্যালেঞ্জ জানায় সোসিয়েদাদ। মিকেল ওয়ারজাবালের সুযোগ ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। এরপর রিয়াল ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আরদা গুলের ও জুড বেলিংহ্যামের সৃজনশীলতায় আক্রমণ সাজাতে থাকে স্বাগতিকরা।

গোলের পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়ার

বিরতির পাঁচ মিনিট আগে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। ফেদেরিকো ভালভার্দের বুদ্ধিদীপ্ত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে গোল করেন তিনি। তবে বিরতির আগেই রিয়ালের রক্ষণে ফাঁক গলে ম্যাচে সমতা ফেরান সুচিচ।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রিয়াল। ম্যাচের এক ঘণ্টার মাথায় বেলিংহ্যামের সঙ্গে ওয়ান-টু করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। আট মিনিট পর বেলিংহ্যামের লড়াকু প্রচেষ্টায় বল পেয়ে সহজ সুযোগ থেকে গোল করেন ভিনিসিয়ুস।

শেষের দিকে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত থ্রু বল থেকে চিপ করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। যোগ করা সময়ে ব্রাহিম দিয়াজের একটি গোল ভিএআরে বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।

সব মিলিয়ে, মরিনহোর বার্নাব্যুতে প্রত্যাবর্তনের রাতটি হয়ে থাকল এমবাপ্পের। পুরোনো কোচের নতুন অধ্যায়ের শুরুতে নতুন নায়কের হ্যাটট্রিক-রিয়াল মাদ্রিদের জন্য দারুণ এক স্মৃতি হয়ে থাকলো।

টিভিতে আজকের খেলা: ২৭ আগষ্ট ২০২৬

কলম্বো টেস্টের শেষ দিন আজ। শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট। রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ড্র। আছে বার্সেলোনার ম্যাচ।

ক্রিকেট
টপ এন্ড টি-টুয়েন্টি

হায়দরাবাদ-নেপাল
সকাল ৯-৩০ মি., টি স্পোর্টস

বাংলাদেশ এইচপি-নিউজিল্যান্ড ‘এ’
বেলা ১-৩০ মি., টি স্পোর্টস

কলম্বো টেস্ট-৫ম দিন
ভারত-শ্রীলঙ্কা
সকাল ১০-১৫ মি., সনি স্পোর্টস ১

লর্ডস টেস্ট-১ম দিন
ইংল্যান্ড-পাকিস্তান
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ২

ফুটবল
চ্যাম্পিয়নস লিগ

লিগ পর্বের ড্র
রাত ১০টা, সনি স্পোর্টস ১ ও উয়েফা

লা লিগা
বার্সেলোনা-বিলবাও

রাত ১টা, টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাড

সুরিয়াবান্দারা-কামিন্দুর লড়াইয়ের পরও কলম্বো টেস্টে ভারতের নাগালে শ্রীলঙ্কা

0

কলম্বো টেস্টে চতুর্থ দিনে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬ রানের লিড নিতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। ফলোঅন পাওয়া শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৯ রান করে দিন শেষ করেছে। ফলে ভারতের ৫০৩ রানে ৯ উইকেট ঘোষণার জবাবে তাদের লিড ১৬ রান। শেষ দিনে ম্যাচ জিততে ভারতের দরকার আর মাত্র চার উইকেট।

চতুর্থ দিনের শুরুতে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৯০ রানে। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার সোনাল দিনুশা দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন। ৮৫ রানে দিন শুরু করে ১০৩ রান করেন তিনি। তাঁর ব্যাটেই শ্রীলঙ্কা ফলোঅন এড়ানোর কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২১৩ রানে পিছিয়ে থাকায় ভারত ফলোঅন করায়।

পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা এবং কামিন্দু মেন্ডিস তৃতীয় উইকেটে ১১৫ রান যোগ করেন। ছবি- গেটি ইমেজেস।

দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই লাহিরু উদারাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা ও কামিল মিশারার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়েন তারা। মিশারা ৩৮ রানে ফিরলেও সুরিয়াবান্দারা ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে।

এরপর কামিন্দু মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ১৭২ বল থেকে ১১৫ রান যোগ করেন সুরিয়াবান্দারা। এক পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২০৯ রান। অর্থাৎ ভারতের প্রথম ইনিংসের স্কোর থেকে মাত্র চার রান পিছনে ছিল তারা, হাতে ছিল আরও সাত উইকেট।

কামিন্দুও তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি। একাধিক বড় শটে ভারতের স্পিনারদের চাপে ফেলেছিলেন তিনি। তবে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার শর্ট বলের পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত ধরা দেন কামিন্দু। ৫৫ রানে তাঁর ক্যাচ নেন শুভমান গিল। ১৭২ বলের জুটিতে সুরিয়াবান্দারার সঙ্গে ১১৫ রান যোগ করেন তিনি।

ব্যক্তিগত ৫৫ রানের সময় শুভমান গিলের ক্যাচে পরিণত হন কামিন্দু মেন্ডিস। ছবি: গেটি ইমেজেস।

কামিন্দু ফেরার পরও শ্রীলঙ্কার আশা টিকিয়ে রেখেছিলেন সুরিয়াবান্দারা। কিন্তু দিনের শেষ সেশনে হঠাৎই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। মানভ সুতার প্রথমে ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে আউট করেন। এরপর মাত্র দুই ওভারের ব্যবধানে সুরিয়াবান্দারাকেও ফেরান তিনি। মাত্র ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় এই ব্যাটারের।

এরপর সরাংশ জৈনের বলে নীরোশান ডিকভেলাও এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ২০৯ রানে তিন উইকেট থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই দলটির স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ২১৮ রান। অর্থাৎ মাত্র ছয় রানের ব্যবধানে পড়ে তিন উইকেট।

শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে দিনের খেলা আগেভাগে শেষ হয়। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৯। ক্রিজে সোনাল দিনুশা ৭ রানে অপরাজিত। তাঁর সঙ্গে আছেন অপর এক ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রান করা দিনুশাই এখন শ্রীলঙ্কার শেষ ভরসা।

ভারতের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল মানভ সুতার। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নেওয়া প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাও দ্বিতীয় ইনিংসে একটি উইকেট পেয়েছেন। সরাংশ জৈন পেয়েছেন একটি উইকেট।

ম্যাচের হিসাব বলছে, শ্রীলঙ্কা এখনও ভারতের চেয়ে মাত্র ১৬ রানে এগিয়ে। তবে হাতে রয়েছে মাত্র চার উইকেট। তাই শেষ দিনে ভারত দ্রুত উইকেট তুলে নিলে শ্রীলঙ্কাকে অল্প রানের মধ্যেই অলআউট করে সহজ লক্ষ্য পেতে পারে। অন্যদিকে সোনাল দিনুশার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা যদি শেষ চার উইকেটে আরও ১০০ কিংবা তার বেশি রান যোগ করতে পারে, তাহলে ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ চতুর্থ দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও ভারতের হাতে। তবে শ্রীলঙ্কার শেষ চার উইকেট এবং সোনাল দিনুশার ব্যাটই ঠিক করবে, শেষ দিনে ম্যাচ কতটা জমে ওঠে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ২৯০ ও ৬ উইকেটে ২২৯ (ফলোঅন)
ভারত: ৯ উইকেটে ৫০৩ রান (ঘোষণা)

লিড: চতুর্থ দিন শেষে ভারতের চেয়ে ১৬ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সোনাল দিনুশা প্রথম ইনিংসে ১০৩, পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা ৮০ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে সুরিয়াবান্দারা ৯২ এবং কামিন্দু মেন্ডিস ৫৫ রান করেন। ভারতের হয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ও মানব সুতার প্রথম ইনিংসে ৩টি করে উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে সুতার নিয়েছেন ২ উইকেট।