Home Blog Page 38

ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের স্কোয়াডে ফিরলেন নাভিন

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছেন নাভিন-উল-হক। ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ঘোষিত আফগানিস্তান দলে জায়গা পেয়েছেন এই পেসার। একই সঙ্গে ইব্রাহীম জাদরানকে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়েছে।

ডান কাঁধের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন পুনর্বাসনে ছিলেন নাভিন। চোটের কারণে গত বছরের এশিয়া কাপ ও এ বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে পারেননি তিনি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা নাভিন ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া নাভিন এখন মনোযোগ দিচ্ছেন শুধু টি-টোয়েন্টিতে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে প্রায় ২১ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় আছেন তিনি।

আফগানিস্তানের স্কোয়াডে ফিরেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইবও। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতে তাঁর কার্যকারিতা দলের মাঝের সারিতে বাড়তি ভারসাম্য এনে দিতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে প্রথমবারের মতো স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন উইকেটকিপার নূর রহমান।

স্পিন বিভাগে আফগানিস্তান রেখেছে শক্তিশালী আক্রমণ। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী, নূর আহমাদ, নাঙ্গিয়াল খারোতি ও মুজিব উর রহমান থাকছেন দলে। পেস আক্রমণে নাভিনের সঙ্গে আছেন ফজলহক ফারুকি ও আবদুল্লাহ আহমাদজাই।

মূল স্কোয়াডের বাইরে রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে ইজাজ আহমাদজাই, শাহিদুল্লাহ কামাল ও ফারিদ আহমাদ মালিককে।

ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজ তাই আফগানিস্তানের জন্য যেমন নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ, তেমনি দীর্ঘ বিরতির পর নাভিন-উল-হকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরারও বড় মঞ্চ।

আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড:
ইব্রাহিম জাদরান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটকিপার), নূর রহমান (উইকেটকিপার), সেদিকুল্লাহ আতাল, দারবিশ রাসুলি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, নাঙ্গিয়াল খারোতি, নূর আহমাদ, মুজিব উর রহমান, ফজলহক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমাদজাই ও নাভিন-উল-হক।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের আশা দেখছেন বাশার

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক ৯ উইকেটে জয়ের পর ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারলেও সিরিজ ড্র করাকে বড় অর্জন মনে করছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ফাইনালের দৌড়ে ভালো অবস্থানে আছে বলে মনে করেন বাশার। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খুব ভালো অবস্থানে আছি। আমাদের সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যকে হঠাৎ পাওয়া কোনো ঘটনা মনে করছেন না বাশার। তাঁর মতে, পাকিস্তানের বিপক্ষেও বাংলাদেশ ভালো করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত টেস্ট জয়ের মাধ্যমে দল অনেক দূর এগিয়েছে।

তবে বাংলাদেশকে এখনই পরিপূর্ণ টেস্ট দল বলতে রাজি নন বাশার। তিনি বলেন, ‘টেস্ট দল হিসেবে আমরা এখনই অসাধারণ কোনো দল হয়ে গেছি, তা বলব না। আমাদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে বিশ্ব ক্রিকেটে আমরা নিজেদের একটি শক্ত বার্তা দিতে পেরেছি।’

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে সম্মান নিয়ে দেশে ফেরার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলেও মনে করেন প্রধান নির্বাচক। তাঁর ভাষায়, ‘আমার মনে হয় আমরা সেই সম্মান অর্জন করে মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরতে পারছি।’

ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টে হারের কারণ হিসেবে টস ও কন্ডিশনকে বড় কারণ মনে করছেন বাশার। অস্ট্রেলিয়া পেস সহায়ক উইকেট তৈরি করে ঝুঁকি নিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রধান নির্বাচক।

চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশের হাতে আর অল্প কয়েকটি ম্যাচ রয়েছে। বছরের শেষ দিকে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়ে শুরু হবে পরবর্তী পর্ব। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে রেটিং পয়েন্ট বাড়ায় ওভালের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশের আশাও এখন টিকে আছে।

বাংলাদেশ আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়া ৬০ রানে অলআউট হত!

ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই পড়েছিল ১৮ উইকেট। পিচে অতিরিক্ত মুভমেন্ট ও বাউন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ম্যাচের পর থেকেই। এবার সেই বিতর্কে যোগ দিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। তাঁর মতে, বাংলাদেশ টস জিতে প্রথমে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে বড় বিপদে পড়তে হতো। এমনকি স্বাগতিকদের ৬০ রানের মধ্যেই অলআউট করে দেওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।

নিজের পডকাস্ট ‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’-এ ব্রড বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি টস জিতে বোলিং করত, তাহলে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে গুটিয়ে দিতে পারত। তখন আপনি বড় ধরনের বিপদে পড়ে যেতেন। পিচে বল যতটা নড়াচড়া করেছে, সেটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে।’

ম্যাকাইতে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই সেই সিদ্ধান্তের সুফল পান মিচেল স্টার্ক। পিচের অতিরিক্ত মুভমেন্ট ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে বাঁহাতি এই পেসার মাত্র ১২ রান খরচায় নেন ৬ উইকেট। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৬৪ রানে।

তবে বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত শেষ হলেও অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রথম দিনটা খুব একটা স্বস্তির ছিল না। দিনের শেষেই স্বাগতিকদের ৮ উইকেট পড়ে যায়। দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ২১০ রানে। বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন শরীফুল ইসলাম। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন।

তবে ম্যাচের ফল নির্ধারণে আবারও বড় ভূমিকা রাখেন স্টার্ক। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচে তাঁর মোট শিকার দাঁড়ায় ১০টি। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। তাতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়।

ম্যাচের ফল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গেলেও পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্রড। তাঁর মতে, কোনো দল যদি খেলোয়াড়ে-খেলায় নিজেদের প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকে, তাহলে এমন পিচ বানানো উচিত নয়, যেখানে কন্ডিশন ম্যাচের ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্রড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে। কিন্তু তাদের নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’ এরপর নিজের যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, আপনি যদি মনে করেন যে খেলোয়াড়ে-খেলায় আপনি প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো দল, তাহলে আপনার ফ্ল্যাট পিচে খেলা উচিত।’

অর্থাৎ ব্রডের মতে, নিজেদের শক্তির ওপর আস্থা থাকলে অস্ট্রেলিয়ার এমন একটি ব্যাটিংবান্ধব উইকেট তৈরি করা উচিত ছিল, যেখানে দুই দলের ব্যাটিং সামর্থ্যের পার্থক্য কাজে লাগিয়ে তারা ম্যাচ জিততে পারত। অতিরিক্ত বাউন্স ও মুভমেন্টে ভরা পিচের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন হতো না।

ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার পিচ নিয়ে বিতর্কের মূল কারণও এখানেই। ম্যাচে মাত্র দুই দিনেই পড়ে ৩০ উইকেট। প্রথম দিনেই দুই দলের ১৮ ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরতে হয়।

এরপরও অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিচটি সর্বোচ্চ ‘খুব ভালো’ রেটিং পেতে যাচ্ছে। ফলে পিচের মূল্যায়ন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও পিচ নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর মতে, উপমহাদেশে একই ধরনের উইকেটে এক দিনে ১৮টি উইকেট পড়লে পিচ নিয়ে আরও বেশি সমালোচনা হতো।

শান্তর সেই বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই সুর মিলিয়েছেন ব্রড। অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ সমতায় শেষ করলেও ম্যাকাইয়ের পিচ ও ম্যাচের ধরন নিয়ে বিতর্ক যে এখনো শেষ হয়নি, ব্রডের মন্তব্যে সেটিই আবার সামনে এসেছে।

হকির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ভারত

0

একসময় বিশ্ব হকির সবচেয়ে গৌরবময় শক্তিগুলোর একটি ভারত। অলিম্পিকের সোনালি ইতিহাস, অসংখ্য কিংবদন্তি খেলোয়াড় আর হকির বিশ্বমঞ্চে দীর্ঘদিনের প্রভাব-সব মিলিয়ে ভারতকে ঘিরে প্রত্যাশা সবসময়ই থাকে আকাশছোঁয়া। কিন্তু বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে চলমান পুরুষদের হকি বিশ্বকাপে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারল না দলটি। দ্বিতীয় রাউন্ডে টানা দুই ম্যাচে হেরে শিরোপার লড়াই থেকে বিদায় নিয়েছে ভারত।

দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৫-৩ গোলে হেরেছে ভারত। তার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল তারা। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে সবার নিচে থেকে পরবর্তী পর্বের লড়াই থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে ভারতকে।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ভারতের জন্য টিকে থাকার শেষ সুযোগ। জয় তো বটেই, নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য ভালো ফলের প্রয়োজন ছিল তাদের। শুধু জয় নয়, গোলের ব্যবধান যেমন ভালো করার দরকার ছিল তেমনি অন্য ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করছিল তাদের ভাগ্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য খুঁজে পায়নি ভারত। তিন গোল করেও পাঁচ গোল হজম করতে হয়েছে, যা ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ভারতের চাপ সামলাতে না পারারই প্রতিচ্ছবি।

এর আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও ভারতের শুরুটা আশাব্যঞ্জক হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের হার তাদের কঠিন অবস্থায় ঠেলে দেয়। দ্বিতীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ের পর সেই পরিস্থিতি আর বদলানোর সুযোগ থাকল না।

হকি বিশ্বকাপে ভারত ও আর্জেন্টিনার লড়াই

দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে ভারত রয়েছে চার দলের মধ্যে সবার নিচে। ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল কিংবা শিরোপার স্বপ্ন শেষ। এখন তাদের সামনে কেবল সম্মান রক্ষার লড়াই। সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।

এই বিশ্বকাপে এশিয়ার আরেক প্রতিনিধি পাকিস্তানও আগেই মূল লড়াই থেকে বিদায় নিয়েছে। পাকিস্তান এখন একাদশ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। অর্থাৎ এশিয়ার দুই প্রতিনিধিই বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছে।

হকির ইতিহাসে যে দেশের নাম এত উজ্জ্বল, সেই ভারতকে এবার বিশ্বকাপ শেষ করতে হবে শিরোপার দৌড়ের অনেক বাইরে থেকে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সপ্তম স্থানের ম্যাচটি তাই তাদের জন্য বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ে অন্তত কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজে নেওয়ার সুযোগ।

জুরেলের শতকে ভারতের দাপট, চাপে শ্রীলঙ্কা

0

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দ্বিতীয় দিনের খেলায় ধ্রুব জুরেলের অনবদ্য শতকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে ভারত। বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতায় খেলার সময় কমে এলেও ভারতের ব্যাটিং দাপট থামেনি। জুরেলের ১৭৭ বলে ১১৫ রানের ইনিংসের সুবাদে ৯ উইকেটে ৫০৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার দুই উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের আরও চাপে ফেলে সফরকারীরা।

দিনের শুরুতে জুরেলের সঙ্গী ছিলেন অভিষেক হওয়া সারাংশ জৈন। তবে তিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আসিথা ফার্নান্দোর বাউন্সারে রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর ব্যাট হাতে মাঠে ফেরেন আগের দিন আঘাত পাওয়া ঋষভ পান্ত। আর পান্ত নামতেই ভারতের ইনিংস পায় নতুন গতি।

শ্রীলঙ্কার পরিকল্পনা ছিল শর্ট বল দিয়ে পান্তকে চাপে রাখা। কিন্তু পান্ত সেই পরিকল্পনাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। একটি শর্ট বল হুক করে মাঠের ছাদে পাঠানোর পর যেন নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে যান ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৮৯ বলে ৬৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।

অন্য প্রান্তে ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের জুরেল। ঝুঁকিহীন ব্যাটিং, সিঙ্গেলস নেওয়া এবং সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি-এভাবেই তিনি এগিয়ে নেন ভারতের স্কোর। পান্তের সঙ্গে ১৫২ বলে ১১২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন জুরেল।

লাহিরু কুমারাকে আউট করার পর ভারতীয় খেলোয়াড়দের উল্লাস

লাঞ্চের পর পান্ত আউট হলেও জুরেল দায়িত্ব ছাড়েননি। এরপর মানব সুথারের সঙ্গে ধীরস্থির একটি জুটি গড়ে ভারতের সংগ্রহ আরও বাড়ান। সুথার আউট হওয়ার পরও জুরেল উইকেটের গুরুত্ব বুঝে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেন।

সেঞ্চুরির পথে অবশ্য কিছুটা স্নায়ুচাপে পড়েছিলেন জুরেল। ৯৯ রানে পৌঁছানোর পর ২১ বল খেলেও রান নিতে পারেননি তিনি। শ্রীলঙ্কাও ফিল্ডারদের কাছে এনে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত মিড-অফের দিকে দ্রুত একটি সিঙ্গেল নিয়ে শতক পূর্ণ করেন জুরেল। রান নেওয়ার সময় সরাসরি থ্রো স্টাম্পে লাগলে তিনি রানআউট হতে পারতেন।

সেঞ্চুরি পূরণের পর ভারত দ্রুত রান বাড়িয়ে ৫০০ পেরিয়ে ৯ উইকেটে ৫০৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। এরপর শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং শুরু হলেও বৃষ্টি খেলার ছন্দে বাধা দেয়। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর মাত্র তিন ওভারেই দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বলে লাহিরু উদারার ব্যাটের লিডিং এজ থেকে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন গালিতে দাঁড়িয়ে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল। এরপর নাইটওয়াচম্যান প্রবাথ জয়াসুরিয়াকে এলবিডব্লিউ করেন মানব সুথার। শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা আলো নিয়ে আম্পায়ারদের কাছে অভিযোগ করলেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।

শেষ পর্যন্ত আলো স্বল্পতায় দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। অভিষেক হওয়া কামিল মিশারা তখন অপরাজিত ছিলেন। তবে দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের চিত্র একেবারেই স্পষ্ট-জুরেলের সেঞ্চুরি, পান্তের দ্রুত রান এবং পরে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভারত এখন ম্যাচে শক্ত অবস্থানে। শ্রীলঙ্কার সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক লড়াই।

জয়ে নতুন যুগের শুরু চেলসির

0

নতুন কোচ জাভি আলোনসোর অধীনে জয় দিয়েই মৌসুম শুরু করল চেলসি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ক্রেভেন কটেজে ফুলহ্যামের বিপক্ষে পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে সফরকারীরা। ম্যাচে চেলসির আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত, তবে পুরোনো রক্ষণদুর্বলতা এবং গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের ভুল নতুন কোচের জন্য চিন্তার কারণ হয়েই থাকল।

ম্যাচ শুরুর মাত্র ৩১ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল পেয়ে যায় চেলসি। লেভি কলওয়েলের হেড থেকে বল পেয়ে দারুণ পাস বাড়ান কোল পালমার। সেই পাসে ছুটে গিয়ে গোলরক্ষক বের্ন্ড লেনোকে পরাস্ত করে স্টাইলিশ ফিনিশে বল জালে পাঠান জোয়াও পেদ্রো। খেলার বয়স মিনিট পার হওয়ার আগেই চেলসি সমর্থকরা আনন্দ করার সুযোগ পেয়ে যায়।

তবে দ্রুত পাওয়া গোলের সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি চেলসি। রক্ষণে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে প্রথমার্ধেই সমতা ফেরান ফুলহ্যামের জশ কিং। তার শট ঠেকাতে গিয়ে নিকটবর্তী পোস্টে বড় ভুল করেন সানচেজ। বল তার হাতের ফাঁক গলে জালে জড়িয়ে যায়।

এরপর আবার আক্রমণের ঝড় তোলে চেলসি। মৌসুমে বিপুল অর্থ ব্যয় করে দলে নেওয়া মরগান রজার্স অভিষেকেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন। পালমারের তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে রজার্স বল জালে পাঠিয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই তার গোল চেলসিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।

গোলের পর চেলসির কোচ জাভি আলোনসো

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার গোল পায় চেলসি। এবার ব্যবধান বাড়ান পালমার। বক্সের মধ্যে জোয়াও পেদ্রোর চমৎকার বল নিয়ন্ত্রণের পর ঠিক সময়ে পৌঁছে লেনোর পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে ঠেলে দেন ইংল্যান্ডের এই তারকা। তাতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় শিরোপা প্রত্যাশী দলটি।

কিন্তু নাটক তখনও বাকি। টিমোথি কাস্তানিয়ের প্রচেষ্টায় সানচেজ বল ঠেকালেও তা চলে যায় গঞ্জালো গার্সিয়ার মাথায়। তার হেডের বল আশ্রয় নেয় জালে, ব্যবধান কমান তিনি। পরে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন অ্যান্টোনি রবিনসন, তবে তার লব গোলের বাইরে যায়। ফলে হতাশ হতে হয় ফুলহামকে। আর নবম দল হিসেবে এবারের মৌসুমের প্রথম ম্যাচে চেলসির জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

শেষ দিকে সানচেজ রায়ান সেসেগননের শক্তিশালী শট ঠেকিয়ে কিছুটা ভুল শোধ করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চেলসি। জয় মিললেও নতুন মৌসুমের শুরুতেই স্পষ্ট-আক্রমণে চেলসির শক্তি আছে, কিন্তু রক্ষণ সামলানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

টিভিতে আজকের খেলা: ২৫ আগষ্ট ২০২৬

কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিন আজ। টপ এন্ড টি-টুয়েন্টিতে আছে বাংলাদেশ এইচপির ম্যাচ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আছে চেলসির ম্যাচ।

ক্রিকেট
কলম্বো টেস্ট-৩য় দিন

ভারত-শ্রীলঙ্কা
সকাল ১০-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১

টপ এন্ড টি-টুয়েন্টি
হায়দরাবাদ-নিউজিল্যান্ড ‘এ’
বেলা ১১টা, টি স্পোর্টস

বাংলাদেশ এইচপি-অ্যাডিলেড
বেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টস

ইমার্জিং চার দিনের ম্যাচ
বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা
বেলা ১-৩০ মি., ইউটিউব/ক্রিকেটএসএটিভি

ফুটবল
চ্যাম্পিয়নস লিগ: প্লে-অফ

সাবাহ-বিয়ার শেভা
রাত ১০-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ২

লিনৎস-সেল্টিক
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ২

বোডো/গ্লিমট-নেইমাগেন
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ৫

দুই হাত নেই, পা-ই ভরসা; এশিয়ান প্যারা গেমসে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নেপালের হরকা মান ঘার্তির

0

দুই হাত নেই, তাই বলে থেমে থাকেননি নেপালের ২১ বছর বয়সী প্যারা সাঁতারু হরকা মান ঘার্তি। হাতের বদলে শক্তিশালী দুই পা আর শরীরের ওপরের অংশের জোরে পানিতে ছুটে চলেছেন তিনি। এবার তার লক্ষ্য জাপানে এশিয়ান প্যারা গেমসে পদক জিতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস তৈরি করা।

প্রতিদিন সকালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি সুইমিংপুলে নেমে পড়েন ঘার্তি। মাত্র ২৫ মিটারের পুলটিই তখন তার কাছে হয়ে ওঠে বিশাল এক স্বপ্নের মঞ্চ। অন্য সাঁতারুরা যেখানে হাতের দীর্ঘ স্ট্রোকের ওপর নির্ভর করেন, সেখানে ঘার্তিকে পুরোপুরি ভরসা করতে হয় পা ও শরীরের শক্তির ওপর।

অক্টোবর মাসে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান প্যারা গেমস। সেখানে নেপালের প্রতিনিধিত্ব করবেন চারজন প্যারা সাঁতারু। তাদেরই একজন ঘার্তি। দেশের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর অনুশীলন করে বড় মঞ্চে পদকের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

ঘার্তির কাছে এটি শুধুই আশা নয়, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য। প্রতিযোগিতায় একটি পদক জিততে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিতে চান তিনি।

তবে তার এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না।

প্রায় এক দশক আগে পশ্চিম নেপালের বাগলুং জেলায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ঘার্তি। সেই দুর্ঘটনায় চিরতরে হারান দুই হাত।

যে ঘটনা তার জীবনের সব স্বপ্ন থামিয়ে দিতে পারত, সেটিই যেন তাকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে বাধা না বানিয়ে নতুন করে জীবন সাজানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

২০২০ সালে প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে যাত্রা শুরু করেন ঘার্তি। শুরুতে ছিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ধীরে ধীরে সাঁতার হয়ে ওঠে তার ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের পথ।

কাঠমান্ডুর যে হোস্টেলে থাকেন ঘার্তি, সেখানে তার বিছানার ওপর সাজানো রয়েছে একের পর এক পদক। প্রতিটি পদক যেন তার লড়াই ও সাফল্যের গল্প বলে।

অনুশীলনের সময় পানিতে শরীরের অবস্থান ও কৌশলের দিকে বিশেষ নজর দেন তিনি। কিন্তু প্রতিযোগিতা শুরু হলে কৌশলের হিসাব যেন ভুলে যান। তখন তার একমাত্র চিন্তা, গতি।

ঘার্তির ভাষায়, রেসের সময় শরীরের ভারসাম্য বা কৌশল নিয়ে বেশি ভাবেন না। যতটা সম্ভব জোরে সাঁতার কাটেন। গতি বাড়াতে পা দিয়ে আরও শক্তি প্রয়োগ করেন।

তার এই পায়ের শক্তিই মুগ্ধ করেছে কোচকেও।

ঘার্তির কোচ শুভা শ্রেষ্ঠার মতে, তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যে জিনিসটি তিনি হারিয়েছেন সেটি নয়, বরং যা নিজের মধ্যে তৈরি করেছেন। দুই হাত না থাকলেও ঘার্তি দুই পায়ের অসাধারণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে তৈরি করেছেন।

কোচের ভাষায়, “তার পা-ই তার স্তম্ভ, আর তার পা দুটো ভীষণ শক্তিশালী।”

গত বছর জাপানে অনুষ্ঠিত প্যারা সুইমিং ওয়ার্ল্ড সিরিজে ঘার্তির পারফরম্যান্স তাকে এশিয়ান প্যারা গেমসে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা এনে দেয়। নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতার সময় পূরণ করে এবার এশিয়ার বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

জাপানে S5 শ্রেণিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ঘার্তি। এর মধ্যে রয়েছে পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল। এই ইভেন্টে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ চীনের গুও জিনচেং। S5 শ্রেণিতে পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে গুওয়ের বিশ্বরেকর্ড ২৯.৩৩ সেকেন্ড।

তবে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় লড়াই করার আগে নেপালের অ্যাথলেটদের আরও একটি বড় বাধা মোকাবিলা করতে হয় সীমিত সুযোগ-সুবিধা।

আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় নেপালের ক্রীড়া অবকাঠামো এখনও বেশ সীমিত। প্যারা অ্যাথলেটদের জন্য অর্থায়ন কম, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ সুবিধা অপ্রতুল এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগও খুব বেশি নয়।

তারপরও ঘার্তির স্বপ্ন বড়।

এশিয়ান প্যারা গেমসে নেপালের পদক জয়ের ইতিহাসও খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। এখন পর্যন্ত দেশটির মাত্র একজন অ্যাথলেট এই আসর থেকে পদক জিতেছেন। তায়কোয়ান্দো অ্যাথলেট পালেশা গোবর্ধন আগের আসরে ব্রোঞ্জ জেতার পর প্যারালিম্পিকেও পদক অর্জন করেছেন।

ফলে বড় আন্তর্জাতিক আসরে নেপালের অ্যাথলেটরা অনেক সময় অংশগ্রহণের মধ্যেই সাফল্য খুঁজে নেন। কিন্তু ঘার্তির স্বপ্ন সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দেওয়া।

নেপাল ন্যাশনাল প্যারা সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সরোজ শ্রেষ্ঠার মতে, নেপালের অ্যাথলেটরা শুধু অংশ নিতে যায়, এমন ধারণা বদলাতে চান তারা। ঘার্তিকে নিয়ে তাদের স্বপ্ন আরও বড়। এমন একটি সাফল্য চান, যা অনেক সক্ষম অ্যাথলেটও এখনো অর্জন করতে পারেননি।

তবে ঘার্তির স্বপ্ন শুধু পদক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়।

সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেছেন তিনি। এবার কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। দুই হাত না থাকলেও পায়ের আঙুল ব্যবহার করেই কম্পিউটার পরিচালনা করেন ঘার্তি।

সাঁতার তার কাছে নিজের জীবন বদলে দেওয়ার একটি মাধ্যম। তিনি বিশ্বাস করেন, বড় কোনো রেকর্ড গড়তে পারলে তার জীবনের সুযোগও আরও বাড়বে।

আর তখনই অন্যদের অনুপ্রাণিত করার মতো জায়গায় নিজেকে দেখতে চান ঘার্তি।

দুই হাত হারিয়েও থেমে যাননি। বরং দুই পায়ের শক্তিকে সম্বল করে এগিয়ে চলেছেন। এবার জাপানে এশিয়ার সেরা প্যারা সাঁতারুদের সঙ্গে লড়াই করে নেপালের পতাকাকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার স্বপ্ন হরকা মান ঘার্তির।

পুনর্বাসন থেকে প্যারা সাঁতারের চ্যাম্পিয়ন, ১৬ বছরেই মালয়েশিয়ার নতুন তারকা আসিইল রাজিন

0

চিকিৎসকের পরামর্শে শুরু হয়েছিল সাঁতার। উদ্দেশ্য ছিল শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করা। কিন্তু সেই পুনর্বাসনের সাঁতারই ১৬ বছর বয়সী আসিইল রাজিন রাজমানকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার মঞ্চে। এখন মালয়েশিয়ার হয়ে একের পর এক প্রতিযোগিতায় পদক জিতছেন কুয়ালালামপুরের এই তরুণ প্যারা-সাঁতারু।

ছোটবেলায় শেখার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে আসিইলকে। তার চিকিৎসক মনে করেছিলেন, সাঁতার তার বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই পুনর্বাসনের অংশ হিসেবেই পানিতে নামা শুরু করেন তিনি।

তখন কি আর জানতেন, সেই সাঁতারই একদিন তার জীবনের অন্যতম বড় পরিচয় হয়ে উঠবে?

ধীরে ধীরে সাঁতারের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় আসিইলের। থেরাপি থেকে শুরু হওয়া পথটা পরিণত হয় প্রতিযোগিতামূলক খেলায়। একসময় দেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান তিনি। এরপর সাফল্যও আসতে থাকে দ্রুত।

১৬ বছর বয়সী প্যারা সাঁতারু আসিইলের কাছে সাঁতার শুধু খেলা নয়, এটি তার গভীর ভালোবাসা ও আবেগ।

২০২৪ সালের প্যারা সুকমায় নারীদের S14 ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সোনা জিতে নিজের প্রতিভার জানান দেন আসিইল। সেখানে তার সময় ছিল ১ মিনিট ২৩ দশমিক ৩৫ সেকেন্ড। এই পারফরম্যান্সে আগের গেমস রেকর্ডও ভেঙে দেন তিনি। আগের রেকর্ড ছিল ১ মিনিট ২৬ দশমিক ২৯ সেকেন্ড।

এরপর আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেকে মেলে ধরেন এই তরুণী। ২০২৫ এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমস অনুষ্ঠিত হয় দুবাইয়ে। সেখানে মালয়েশিয়ার হয়ে অংশ নিয়ে পদক জেতেন আসিইল। একই বছর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসিয়ান প্যারা গেমসেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।

অল্প বয়সেই ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতিও পেয়েছেন আসিইল। ২০২৫ সালের কেপিএম-মিএসএসএম-মিলো ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হয় সেরা নারী প্যারা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার।

তবে পদক জেতাই আসিইলের কাছে সবকিছু নয়। নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন নিজেকেই। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় আগের পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য।

দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৫ এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে আসিইল রাজিন রাজমান।

তার ভাষায়, সাঁতারে সবচেয়ে ভালো লাগে এই বিষয়টি, এখানে সবসময় নিজের জন্য নতুন একটি লক্ষ্য তৈরি করা যায়। পদক অবশ্যই আনন্দ দেয়, কিন্তু নিজের সেরা সময়কে উন্নত করা এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠাই তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

আসিইল বর্তমানে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা বা এস১৪ শ্রেণিতে প্যারা সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।। পাশাপাশি সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় একটি সাধারণ স্কুলে পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে তার প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাসহায়তা দেওয়া হয়।

একজন প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারু হিসেবে তার দৈনন্দিন জীবনও বেশ কঠিন। প্রায় প্রতিদিনই পুলে অনুশীলন করতে হয়। শুধু সাঁতার নয়, সঙ্গে থাকে শক্তি ও ফিটনেস বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ।

পুলের বাইরেও রয়েছে কঠোর নিয়ম। খাবারের মান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুম, সবকিছুর দিকে নজর রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়তা পান বাবা-মায়ের কাছ থেকে।

আসিইলের মতে, অ্যাথলেট হওয়া মানে শুধু পুলে কঠোর পরিশ্রম করা নয়। অনুশীলনের বাইরে নিজের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবেই প্রতিযোগিতায় নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া সম্ভব।

সাঁতার তার জীবনে শুধু সাফল্যই এনে দেয়নি, বদলে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসও। একসময় নিজেকে নিয়ে ভয় ও অনিশ্চয়তায় ভুগতেন আসিইল। কিন্তু খেলাধুলা তাকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছে।

২০২৫ সালের আনুগেরাহ সুকান কেপিএম-এমএসএসএম-মিলো অনুষ্ঠানে ‘আনুগেরাহ পুতেরি প্যারা’ পুরস্কার পাওয়ার পর বাবা-মা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আসিইল রাজিন রাজমান।

তবে পথটা সবসময় মসৃণ ছিল না। ভালো ফল না এলে হতাশা তৈরি হয়, অনুশীলনে খারাপ দিন আসে। এসব পরিস্থিতি সামলানোই আসিইলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

এখন তিনি জানেন, প্রতিদিন ভালো যাবে না। ব্যর্থতা এবং পিছিয়ে পড়াও একজন অ্যাথলেটের যাত্রার অংশ। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানো এবং নতুন করে চেষ্টা করাটাই আসল।

এই মানসিক শক্তির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার বাবা-মা। ছোটবেলা থেকে তারা মেয়ের পাশে থেকেছেন, তার স্বপ্ন পূরণে নানা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আসিইলের সাফল্যের পেছনে তাই বাবা-মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন তিনি।

কোচদের প্রতিও কৃতজ্ঞ এই তরুণ সাঁতারু। কঠিন সময়ে তাকে উৎসাহ দেওয়া, নিয়মের মধ্যে রাখা এবং প্রতিদিন আগের চেয়ে ভালো করার জন্য চাপ দেওয়ার কৃতিত্ব দেন কোচদের।

অন্য প্যারা অ্যাথলেটরাও আসিইলের অনুপ্রেরণা। তাদের সাফল্য দেখে তার বিশ্বাস আরও শক্ত হয়েছে, শারীরিক বা অন্য কোনো সীমাবদ্ধতা সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই।

মালয়েশিয়ার প্যারা স্পোর্টস নিয়েও ইতিবাচক আসিইল। তার মতে, গত কয়েক বছরে প্যারা অ্যাথলেটরা আগের তুলনায় বেশি পরিচিতি ও স্বীকৃতি পাচ্ছেন। তবে এখানেই থেমে গেলে চলবে না।

তরুণ প্যারা অ্যাথলেটদের জন্য আরও সুযোগ, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রতিভাবান অনেক শিশু-কিশোর এখনো পর্যাপ্ত সুযোগ বা আত্মবিশ্বাসের অভাবে খেলাধুলায় আসতে পারছে না বলেও মনে করেন আসিইল।

মিলোর মতো ক্রীড়া উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার প্রত্যাশাও তার।

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় স্বপ্ন রয়েছে আসিইলের। প্রতিটি ইভেন্টে সময় আরও কমানো, নিজের পারফরম্যান্স উন্নত করা এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে চান তিনি।

আর নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটদের জন্য তার বার্তা খুবই সহজ, শুরু করতে ভয় পেও না, নিয়ম মেনে অনুশীলন করো এবং সহজে হাল ছেড়ো না।

কারণ প্রথম দিনেই কেউ সেরা হয় না। পথে ক্লান্তি আসবে, হতাশা আসবে, প্রত্যাশামতো ফলও নাও আসতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থতা, প্রতিটি ছোট অর্জন এবং প্রতিটি কঠিন অভিজ্ঞতাই একজন অ্যাথলেটকে আরও পরিণত করে।

পুনর্বাসনের জন্য পানিতে নামা সেই ছোট্ট মেয়েটিই আজ মালয়েশিয়ার প্যারা সাঁতার এর সম্ভাবনাময় তারকা। ১৬ বছর বয়সে আসিইল রাজিনের গল্প তাই শুধু পদক জয়ের গল্প নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় আর সীমাবদ্ধতাকে জয় করার গল্প।

এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারতের হয়ে লড়বেন অরুণাচলের টিংগং ওয়াংপান

0

অরুণাচল প্রদেশের প্যারা অ্যাথলেট টিংগং ওয়াংপান এবার এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্যারা ক্রীড়া মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। ২০২৬ এশিয়ান প্যারা গেমসে পুরুষদের ৪০০ মিটার টি-থার্টিসেভেন (T37) ইভেন্টে অংশ নেবেন তিনি।

অরুণাচল প্রদেশের সিএম এসেস দলের এই অ্যাথলেটের নির্বাচনের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই বড় মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন টিংগং ওয়াংপান।

টিংগংয়ের এই অর্জনকে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও আত্মনিবেদনের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন অরুণাচল প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী চাওনা মেইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি টিংগংকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অটুট থাকার মানসিকতা।

টিংগংয়ের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সুযোগ। এশিয়ান প্যারা গেমসের মতো আন্তর্জাতিক আসরে ভারতের জার্সি গায়ে দৌড়ানোর সুযোগ পাওয়া যেকোনো অ্যাথলেটের জন্যই বড় সম্মানের। এবার ৪০০ মিটার টি-থার্টিসেভেন (T37) ক্যাটাগরিতে নিজের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য থাকবে তার।

টিংগংয়ের নির্বাচনের পাশাপাশি ভারতের প্যারা অ্যাথলেটদের প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে। এশিয়ান প্যারা গেমসের প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য ৭১ জন অ্যাথলেটের তালিকা প্রকাশ করেছে স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া, এসএআই। সেখানে রয়েছেন ৫১ জন পুরুষ ও ২০ জন নারী অ্যাথলেট।

নির্বাচিত অ্যাথলেটদের নিয়ে দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এসএআই কেন্দ্রে প্রস্তুতি ক্যাম্প পরিচালিত হবে। বেঙ্গালুরু, দিল্লি ও সোনিপতে হবে এই ক্যাম্প। সেখানে অ্যাথলেটদের ফিটনেস, ইভেন্টভিত্তিক দক্ষতা, কারিগরি প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এশিয়ান প্যারা গেমসের এবারের আসর অনুষ্ঠিত হবে জাপানে। ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আইচি ও নাগোয়া অঞ্চলে বসবে এশিয়ার প্যারা ক্রীড়াবিদদের এই বড় মিলনমেলা।

এবারের আসরে এশিয়ার ৪৫টি জাতীয় প্যারালিম্পিক কমিটির প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেট অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মোট ১৮টি প্যারা স্পোর্টসে হবে প্রতিযোগিতা। ফলে টিংগংয়ের মতো অ্যাথলেটদের সামনে থাকবে এশিয়ার সেরা প্রতিযোগীদের সঙ্গে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ।

বিশেষ করে ৪০০ মিটার T37 ইভেন্টে গতি, শক্তি ও কৌশলের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা। একটি ছোট ভুলও ফলাফলে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তাই মূল প্রতিযোগিতার আগে প্রস্তুতি ক্যাম্পে নিজের পারফরম্যান্সের প্রতিটি দিক আরও উন্নত করার লক্ষ্য থাকবে টিংগংয়ের।

অরুণাচল প্রদেশ থেকে উঠে এসে ভারতের জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেওয়া এবং এরপর এশিয়ান প্যারা গেমসের দলে সুযোগ পাওয়া টিংগংয়ের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তার এই সাফল্য রাজ্যের অন্য প্যারা অ্যাথলেটদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের প্যারা স্পোর্টস অঙ্গন গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় অ্যাথলেটদের সাফল্যও বেড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এশিয়ান প্যারা গেমসে বড় দল নিয়ে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

আর সেই দলের অংশ টিংগং ওয়াংপান। এখন তার সামনে একটাই লক্ষ্য, প্রস্তুতি ক্যাম্পে নিজের সেরাটা দেওয়া এবং জাপানের মাটিতে ভারতের হয়ে ৪০০ মিটার T37 ইভেন্টে শক্তিশালী পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া।

অরুণাচলের মাটি থেকে এশিয়ার মঞ্চে, টিংগং ওয়াংপানের সামনে এখন নিজেকে প্রমাণ করার নতুন সুযোগ।