Home Blog Page 39

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা’ গোলের বল বিক্রি ৪১ কোটিতে!

0

১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করে বলেছিলেন যে ‘‘হ্যান্ড অব গড” তার কয়েক মিনিট পর আবার শতাব্দীর সেরা গোলও করেছিলেন। আজ ম্যারাডোনা নেই কিন্তু রয়েছে তার গোলের সেই বল! সেই ম্যাচের রেফারি তিউনিসিয়ার আলী বিন নাসের ম্যাচ শেষে বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন এবং তিন দশকেরও বেশি সময় সংরক্ষণ করে ২০২৩ সালে তিনি লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছিলেন যে, এটিই ছিল ওই ম্যাচে ব্যবহৃত বল; পরবর্তী সময়ে নানা ভাবে যাচাইয়েও এর সত্যতা প্রমানিত হয়েছে। সম্প্রতি ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা, গোলের বল নিলামে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হল ৪১ কোটি টাকায়।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের আজতেকা বল

বিখ্যাত সেই বলটি তৈরী করেছিল অ্যাডিডাস যা “অ্যাডিডাস আজতেকা” মডেলের। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ২২ আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রে নিলামে বলটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। তবে বলের গায়ে নেই ম্যারাডোনার কোন সই বা দৃশ্যমান কোন ছাপ তবে আছে শুধু তাঁর পায়ের এবং হাতের ছোঁয়া যা দেখাও যায়না আবার ছোঁ|য়াও যায়না। তারপরও এই বলের এত মূল্য। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, একই বলেই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত গোল এবং অন্যতম সেরা গোল—দুটিই হয়েছিল।

অকশনস প্রতিষ্ঠানের আশায় গুড়ে বালি: টেক্সাসের নিলাম প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ অকশনস শনিবার বলটি বিক্রি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করেছিল এই বলের দাম অন্তত ১ কোটি ডলার হবে কিন্তু আশায় গুড়ে বালি। শেষ পর্যন্ত বিক্রয়মূল্য সেই প্রত্যাশার অর্ধেকেরও কম হয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ের প্রথম গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’, দ্বিতীয় গোলটি পরে ফিফার ভোটে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নির্বাচিত হয়। ম্যাচটি হয়েছিল মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে।

এই বল দিয়ে ম্যারাডোনা দুটি গোল করেছিলেন যার প্রথমটি বিতর্কিত এবং ২য়টি বিখ্যাত

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বৈরিতাঃ মূলতঃ সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল বিতর্ক থেকেই ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বৈরিতা শুরু হয়। ৫১ মিনিটে গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে উঠে বাঁ হাত দিয়ে বল জালে পাঠিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। রেফারি আলি বিন নাসের ঘটনাটি ঠিকমতো দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধ হয়। পরে ম্যারাডোনা মজা করে বলেছিলেন, গোলটি হয়েছিল ‘ম্যারাডোনার মাথা আর ঈশ্বরের হাতের’ মিশেলে। অবশ্য তার ৪ মিনিট পর পরের গোলটি ছিল পুরোপুরি ফুটবল ইতিহাসেরই সেরা নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে দৌড় শুরু করে ইংল্যান্ডের একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে শিলটনকে পরাস্ত করে গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা।

তবে ম্যারাডোনার ওই ম্যাচের জার্সি বলের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল ২০২২ সালে। সোথবিজে জার্সিটির দাম উঠেছিল ৯৩ লাখ ডলার, ম্যাচে ব্যবহৃত কোনো ক্রীড়াসামগ্রীর জন্য যা রেকর্ড পরিমাণ মূল্য।

সারকথা: ম্যারাডোনা নেই কিন্তু তার ফুটবল কীর্তি তাকে দিয়েছে অমরত্ব। তার চলাফেরা ও লাইফ স্টাইল নিয়ে সমালোচানা থাকলেও শুধু এই একটি “গোল” ছাড়া তার খেলায় ছিল অসাধারণ শিল্পের ছোঁয়া। আর তাইতো তিনি আজও বিশ্ব ফুটবলের ম্যারাডোনা।

এবার এশিয়া কাপের ফাইনালে চোখ জ্যোতির

২০১৮ সালে নারী এশিয়া কাপ জয়ের পর আর ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ আসরেও সেমিফাইনালে থেমেছিল পথচলা। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চায় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য তাই শুধু সেমিফাইনাল নয়, ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।

সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আগামীকাল ২৬ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এর আগে গতকাল সোমবার মিরপুরে এশিয়া কাপ সামনে রেখে অফিশিয়াল ফটোসেশনে অংশ নেন দলের ক্রিকেটাররা। সেখানে নিজেদের লক্ষ্য ও প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।

২০২৪ সালের নারী এশিয়া কাপে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যাওয়ায় সেমিফাইনালেই ভারতের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাদের। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চান জ্যোতি।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘শেষবার আমরা ভালো খেলতে পারিনি। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সেমিফাইনালে ভারতের সঙ্গে পড়েছিলাম। সেমিফাইনালের বাধা পার হতে পারিনি। এবার আমাদের ফাইনাল খেলার ইচ্ছা আছে। ফাইনালে খেলতে পারলে তখন শিরোপা জয়ের বিষয়টি সামনে আসবে। আমরা ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করছি।’

এবারের আসরের আগে দলের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট জ্যোতি। অনুশীলনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কায়ও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে দল। সব মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক।

জ্যোতি বলেন, ‘প্রস্তুতি অনেক ভালো হয়েছে। এবার আমরা অনেকগুলো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। শ্রীলঙ্কায় দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছি। প্রস্তুতির দিক থেকে আমি মনে করি, আমরা খুব ভালো অবস্থায় আছি। এবার আমাদের মূল লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। বারবার সেমিফাইনাল খেলি, বাদ পড়ে ফিরে আসি। এবার আমরা এই বাধাটা ভাঙতে চাই।’

আগামী ২৮ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুরু হবে নারী এশিয়া কাপের ষষ্ঠ আসর। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচই হবে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া।

৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ অভিযান। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় মাঠে নামবে জ্যোতির দল। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা এবং ৮ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দুই সেমিফাইনাল। ১৩ সেপ্টেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের নারী এশিয়া কাপের।

২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নারী এশিয়া কাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই সাফল্যের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে হলে আগে পেরোতে হবে সেমিফাইনালের বাধা। জ্যোতির দল অবশ্য এবার সেই বাধা ভেঙে ফাইনালে উঠেই শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে চায়।

দুই কোচের হাতাহাতি, ৯৯৯ – এ কল করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ

0

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইপর্ব সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সময় বাংলাদেশ যুব ফুটবল দলে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এমনকি দুই কোচের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে গড়ালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডাকেন ব্রিটিশ কোচ জোন্স।

আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্ব। যুব এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের। এর ঠিক আগে দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে এমন বিরোধ স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার ঢাকার একটি টিম হোটেলে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ মিশুর মধ্যে প্রথমে কথাবার্তা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়েছে বলে দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

এরপরই জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন জোন্স। খবর পেয়ে পুলিশ রাজধানীর হোটেল হলিডে ইনে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি আর বড় ধরনের সংঘাতে গড়ায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এখনো দুই কোচের কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাতীয় দলের ক্যাম্পে পুলিশ যাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের ফুটবলে খুব একটা দেখা যায় না। তাই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে এমন ঘটনা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

দলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য ও ম্যানেজার সামিদ কাশেম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। তার আশা, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দলের খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তবে দলের ম্যানেজারের ক্যাম্পে নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা ক্যাম্পের বড় একটি অংশ অনুষ্ঠিত হয়েছে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে। ম্যানেজার জানিয়েছেন, ঢাকার বাইরে ক্যাম্প হওয়ায় সবসময় সরাসরি উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি। তবে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি তার।

জেরার্ড জোন্সকে নিয়ে এর আগেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কোচিংয়ের দিক থেকে তার যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার আচরণ নিয়ে একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন এই ব্রিটিশ কোচ।

জানা গেছে, বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ও পরিবারের দুর্ভোগ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জোন্স। বিষয়টি নিয়ে বাফুফের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

শুধু মিশুর সঙ্গে নয়, এর আগে যশোরের ক্যাম্পেও কোচিং স্টাফের অন্য সদস্যদের সঙ্গে জোন্সের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে দলের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভাষ্য। স্প্যানিশ গোলরক্ষক কোচের সঙ্গেও তার মতবিরোধের কথা জানা গেছে। একপর্যায়ে ওই কোচ ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

দলের সঙ্গে থাকা একজন চিকিৎসকও জোন্সের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে যশোর ক্যাম্প থেকে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে জোন্সের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সহকারী কোচ মিশু আসন্ন উজবেকিস্তান সফরে দলের সঙ্গে থাকবেন কি না। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিশুকে সফরে না নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন জোন্স। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের নিয়োগ নিয়েও কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার জেরার্ড জোন্সের কোচিং যোগ্যতা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও তার আচরণ ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

জোন্সের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম। তার ব্যাখ্যা, কোচ বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের সিভি, যোগ্যতা এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কাউকে সরাসরি কাজের সুযোগ না দিলে তার আচরণ বা কর্মপরিবেশে কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নেবেন, সেটি পুরোপুরি বোঝা কঠিন।

জেরার্ড জোন্সের সঙ্গে বাফুফের চুক্তির মেয়াদ দুই বছর। তবে উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠেয় বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার পর তাকে আর দায়িত্বে রাখার বিষয়ে ফেডারেশনের আগ্রহ নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে কোচ নিজেও বাংলাদেশে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহী এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে নানা পক্ষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, জোন্স হয়তো দ্রুত বাংলাদেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন। এমনকি চুক্তির আর্থিক বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে যাওয়ার সম্ভাবনাও কেউ কেউ দেখছেন। তবে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মাঠের বাইরে কোচিং স্টাফদের এই দ্বন্দ্ব যেন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলে। সামনে অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাইপর্ব। সেখানে বাংলাদেশের লক্ষ্য যুব এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া।

অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের মাত্র কয়েক দিন আগে দলের ভেতরে কোচদের বিরোধ, ধাক্কাধাক্কি এবং পুলিশ ডাকার ঘটনা তৈরি করেছে বিব্রতকর পরিস্থিতি। এখন বাফুফের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, দ্রুত কোচিং স্টাফের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে খেলোয়াড়দের মনোযোগ পুরোপুরি মাঠের খেলায় ফিরিয়ে আনা।

ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে যা বলল বাফুফে

0

বাংলাদেশে এক দিনের সফর শেষে ফিরে গেছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। গতকাল ঢাকায় এসে তারা জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে প্রতিনিধি দলটি।

প্রতিনিধি দলের সফর নিয়ে আজ আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাফুফে। মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের কর্মকর্তারা। তবে দুই ভেন্যুর ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল রুম এবং স্টেডিয়ামে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে নিরাপত্তা গেটের অবকাঠামো আরও উন্নত করা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন তাঁরা। এসব উন্নয়ন স্বল্প সময়ের মধ্যেই করা সম্ভব বলেও মত দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা।

গতকালই ঢাকা ছেড়েছে প্রতিনিধি দলটি। সফর শেষে তারা ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের কাছে একটি প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ব্রাজিল ফেডারেশন। এরপর দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সভা হবে। সেই সভায় বাংলাদেশকে ব্রাজিলে খেলতে আমন্ত্রণ এবং বাংলাদেশে ব্রাজিলের ম্যাচের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে আয়োজনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধি দলের সফরের আগে থেকেই বাংলাদেশে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলছে। বাফুফের নির্বাহী সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সভাপতির সঙ্গে গতকাল বেশ ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দুই ফেডারেশন এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে কাজ করবে।’

ব্রাজিল আগামী ৬ অক্টোবর ঢাকায় একটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে বাফুফে। তবে এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে শাহীন বলেন, ‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। এ রকম ম্যাচ করতে হলে সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে।’

ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের ইতিবাচক মূল্যায়নের পর এখন তাদের প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছে বাফুফে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই ফেডারেশনের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। আর সেই আলোচনাতেই পরিষ্কার হতে পারে, ৬ অক্টোবর ঢাকায় ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে।

রুবেলের ঘূর্ণিতে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক জয়

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে মোহাম্মদ রুবেলের ঘূর্ণির রহস্য যেন কিছুতেই ভেদ করতে পারছেন না প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানেরা। টানা তৃতীয় ম্যাচেও ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলকে এনে দিলেন দারুণ এক জয়। তাঁর স্পিন-জাদুতে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমিকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ এইচপি।

ডারউইন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সোমবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১৩১ রানের বেশি করতে পারেনি ভিক্টোরিয়া। জবাবে ১৬ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইরফান শুক্কুরের নেতৃত্বাধীন দল। এই জয়ে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে বাংলাদেশ এইচপি।

বাংলাদেশের এই টানা সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান রুবেলের। তিন ম্যাচে তাঁর শিকার এখন ১১ উইকেট, যা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আগের দুই ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়া এই স্পিনার প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছেন।

ভিক্টোরিয়ার ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আক্রমণে আসেন রুবেল। প্রথম বলেই কেলাওয়ে কেম্পবেলকে বোল্ড করে শুরু করেন নিজের ঘূর্ণি-জাদু। পরের ওভারে একই ধরনের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড করেন লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ডকে। দুজনের কেউই বুঝতে পারেননি বলটি কোন দিকে ঘুরবে।

এরপর সপ্তম ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে ভিক্টোরিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়ান বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসান। ৪০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি। চার নম্বরে নেমে উইল সাদারল্যান্ড কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ২৫ বলে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি।

নিজের পরের স্পেলে ফিরে আবারও জোড়া আঘাত করেন রুবেল। হ্যারি হোয়েস্ত্রা ও অস্টিন আনলেজার্ককে বোল্ড করে ভিক্টোরিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। একপ্রান্তে অধিনায়ক স্যাম হার্পার লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৬ বলে ৪৯ রান করেন। রুবেলের ৪ উইকেটের পাশাপাশি রকিবুল হাসান ২৮ রানে নেন ৩ উইকেট।

১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৮ ওভারের মধ্যেই ফিরে যান হাবিবুর রহমান সোহান (০), আরিফুল ইসলাম (১৫), জিসান আলম (১১) ও সাব্বির রহমান (৫)। মাত্র ৩৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ এইচপি।

সেই চাপ সামলে দলকে ম্যাচে ফেরান শামীম হোসেন ও ইরফান শুক্কুর। মাত্র ৫১ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দুজন। ইরফান ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ বলে ৪৩ রান করে দলকে জয়ের কাছাকাছি রেখে ফেরেন।

এরপর ছক্কা মেরে নিজের ফিফটি পূরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের জয়ও নিশ্চিত করেন শামীম। ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৩ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা বাংলাদেশ এইচপি এবার চোখ রাখছে পরের ম্যাচে। নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমির মুখোমুখি হবে তারা।

ফিফার নির্বাচনে জিততে ইনফান্তিানোর নতুন কৌশল

নির্বাচনে জিততে নতুন কৌশল ইনফান্তিানো। ‘দুর্বল ফেডারেশনগুলোর চ্যাম্পিয়ন’-পুনর্নির্বাচনের ইশতেহারে নিজের পরিচয় এভাবেই তুলে ধরেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আগামী মার্চের নির্বাচনে আবারও সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত তিনি। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেকসান্দের চেফেরিন জানিয়েছেন, তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তবে ইনফান্তিনোর একজন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন বলে মনে করছেন তিনি।

ফিফা টুর্নামেন্টগুলোর স্বত্ব নিয়ে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং সেটির ২০ শতাংশ ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব সম্প্রতি বাতিল করেছেন ইনফান্তিনো। সেই বিতর্কের এক মাস পরও বিশ্ব ফুটবলের শাসনব্যবস্থা নিয়ে তাঁর সঙ্গে ইউরোপের বিরোধ কমেনি। বরং ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।

উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল কনফেডারেশন (কনক্যাকাফ)-এর জোটগুলো ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। চেফেরিনও একাধিকবার ফিফা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেছেন।

‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিক্স: লিডিং’ পডকাস্টে চেফেরিন বলেছেন, সামনে তিনি দুটি সম্ভাবনা দেখছেন। তাঁর মতে, ইনফান্তিনো বুঝতে পারেন যে তাঁর প্রয়োজনীয় সমর্থন নেই। আর যদি তিনি মার্চের নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে তাঁর বিপরীতে একজন প্রার্থী দাঁড়াতে পারেন।

চেফেরিন বলেন, ‘দুটি বিকল্প আছে। একটি হলো, তিনি বুঝতে পারবেন যে তাঁর সমর্থন নেই। আর এই সমর্থন শুধু ভোটারদের রাজনৈতিক সমর্থন নয়; ফুটবল কমিউনিটি, সমর্থক, ফুটবলার, সাবেক ফুটবলার ও কোচদের সমর্থনও এর সঙ্গে জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো, তিনি মার্চের নির্বাচনে যাবেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, তাঁর বিরুদ্ধে একজন প্রার্থী থাকবেন। যদিও আমি এখনো জানি না, সেই প্রার্থী কে।’

চেফেরিনের মন্তব্যের বিষয়ে ইনফান্তিনো ও ফিফার বক্তব্য জানতে চেয়েছে রয়টার্স। এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের মার্চের নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফ।

চেফেরিনের দাবি, বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনোর সঙ্গে তাঁর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ফিফা সভাপতির উত্তরসূরি হওয়ার ব্যাপারে তাঁর নিজের কোনো আগ্রহ নেই—এটিকেই নিজের বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম কারণ মনে করেন তিনি।

ইনফান্তিনোর বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে ইউরোপিয়ান সুপার লিগের চেয়েও ফুটবলের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করেন চেফেরিন। ২০২১ সালে সুপার লিগের বিরুদ্ধে উয়েফার সফল লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিরোধিতা শুধু ইউরোপের বড় ফুটবল দেশগুলো থেকেই আসেনি।

‘একদিকে ছিল ইংল্যান্ড, জার্মানি-যারা এটা চায় না, কারণ এই অর্থ তাদের জন্য খুব বড় নয়। অন্যদিকে ছিল সান মারিনো, সাইপ্রাস, লিখটেনস্টাইন… তারাও বলেছে, আমরা বিক্রির জন্য নই,’ বলেন চেফেরিন।

২০১৬ সাল থেকে ফিফা সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনোর অবশ্য সরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং ২০৩১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে পুনর্নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য তুলনামূলক কম সচ্ছল ফুটবল ফেডারেশনগুলোর সমর্থনের ওপরই ভরসা করছেন তিনি।

সম্প্রতি ডমিনিকান রিপাবলিকে ক্যারিবিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের (সিএফইউ) সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ফিফার প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ধনী ও দরিদ্র ফুটবল ফেডারেশনগুলোর ব্যবধান কমানোই ফিফার অন্যতম দায়িত্ব।

ইনফান্তিনোর ভাষায়, ‘আমরা বিশ্বের ২১১টি দেশের প্রতিটিতে ফুটবলের প্রসার ঘটাতে চাই। সবার জন্য বিনিয়োগ ও সুযোগ তৈরি করতে হবে আমাদের। বিশ্ব ফুটবলের জন্য সুযোগ, প্রবেশাধিকার ও সম্পদ খুঁজে বের করে তা সবার মধ্যে পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু দেশের উন্নতির প্রয়োজন নেই এবং তারা সেটি চায়ও না। কিন্তু বড় দেশগুলোর সঙ্গে বাকিদের যে ব্যবধান, আমাদের তা কমাতে হবে। গত ১০ বছর ধরে, এমনকি গত ১০ সপ্তাহেও আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি। আগামী বছরগুলোতেও আমরা তা করে যাব।’

দরিদ্র ফুটবল দেশগুলোর উন্নয়নে ইউরোপ বাধা দিচ্ছে-ইনফান্তিনোর এমন বক্তব্য অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন চেফেরিন। উয়েফাকে সুবিধাভোগী অভিজাতদের সংগঠন হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টারও সমালোচনা করেন তিনি।

চেফেরিন বলেন, ‘আমি যা শুনি, তা হলো-তারা এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন অহংকারী ইউরোপ আমাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাকে (ইনফান্তিনো) কেউ মনে করিয়ে দেওয়া উচিত যে, তিনিও একজন ইউরোপীয়। তাঁর প্রতি উয়েফার সমর্থন ছিল, যা তিনি ভুলে গেছেন।’

বিতর্কের মধ্যেই ফিফার ছয় নর্ডিক সদস্য-ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফ্যারো আইল্যান্ডস-রোববার হেলসিঙ্কিতে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে তারা ইনফান্তিনোর পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক জোটগুলোর সমর্থন পাওয়া ইনফান্তিনো অবশ্য কনফেডারেশনগুলোর বিরোধিতা পাশ কাটিয়ে সরাসরি সদস্যদেশগুলোর কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। ডমিনিকান রিপাবলিকে গিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডও এরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

সেখানে একটি অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনায় সন্তুষ্ট ইনফান্তিনো। ফিফার উন্নয়ন তহবিল থেকে আয়োজিত ওই টুর্নামেন্টকে নিজের নেতৃত্বে ফিফার কাজের বড় উদাহরণ হিসেবেও তুলে ধরেছেন তিনি। যদিও কনক্যাকাফের সভাপতি চেয়েছিলেন, ইনফান্তিনো যেন টুর্নামেন্ট থেকে দূরে থাকেন। তাঁর উপস্থিতিতে মূল আয়োজনের বদলে ফিফা সভাপতিকে ঘিরেই বেশি আলোচনা হতে পারে-এমন আশঙ্কাই ছিল এর পেছনে।

বিসিবির ভাবনায় আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয়!

অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। দেশে ফিরে অবশ্য খুব বেশি দিন বিশ্রামের সুযোগ মিলছে না লিটন-শান্তদের। সামনে অপেক্ষা করছে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি। সেই সূচিতে নতুন করে যোগ হতে পারে জিম্বাবুয়েও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজটি ত্রিদেশীয় সিরিজে রূপ দেওয়ার আলোচনা চলছে।

সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। ভারত শেষ পর্যন্ত সফরে না এলে ওই সময়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে স্কিল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। এরপর অক্টোবরের শুরুতেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমিরাতে একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। সিরিজ আয়োজন নিয়ে দুই পক্ষের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। তবে এখনো ম্যাচগুলোর চূড়ান্ত সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এর মধ্যেই ওয়ানডে সিরিজে নতুন দল যুক্ত করার আলোচনা শুরু হয়েছে। বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

জিম্বাবুয়ে এতে সম্মতি দিলে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ আর থাকছে না। সেটি রূপ নেবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে। স্বাভাবিকভাবেই তাতে বাংলাদেশের ম্যাচসংখ্যাও বাড়বে।

এখন জিম্বাবুয়ের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে আয়োজকেরা। তারা রাজি হলে অক্টোবরের শুরুতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসতে পারে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের ত্রিদেশীয় ওয়ানডে লড়াই।

অর্থাৎ ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরতি দিয়ে স্কিল ক্যাম্পে সময় কাটানোর সম্ভাবনা থাকলেও অক্টোবরেই আবার মাঠে ফিরতে হবে বাংলাদেশকে। আর সেই ফেরাটা আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ দিয়ে নয়, জিম্বাবুয়েকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ দিয়েও হতে পারে।

জোড়া গোলে নতুন ক্লাবে জয়ের নায়ক সালাহ

0

তুরস্কের সুপার লিগে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই নিজের চেনা রূপে ফিরলেন মোহামেদ সালাহ। মিশরীয় তারকার জোড়া গোলে বাসেকসেহিরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ত্রাবজোনস্পোর। হ্যাটট্রিকও প্রায় করে ফেলেছিলেন তিনি। তবে যোগ করা সময়ে তাঁর করা গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় তিন গোলের কীর্তি হয়নি।

চলতি মৌসুমেই লিভারপুলের সঙ্গে নয় বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে ফ্রি ট্রান্সফারে তুরস্কে পাড়ি জমান ৩৪ বছর বয়সী সালাহ। ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে ২৫৭ গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার জোর গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ত্রাবজোনস্পোরকেই বেছে নেন তিনি। সপ্তাহে ২ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড বেতনে দুই বছরের চুক্তিতে তুরস্কের ক্লাবটিতে যোগ দেন ‘মিসরীয় রাজা’।

ত্রাবজোনস্পোরের হয়ে এটি সালাহর তৃতীয় ম্যাচ। ঘরোয়া লিগে কাসিমপাশার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এরপর ইউরোপা লিগের প্লে-অফে ফেরেনৎসভারোসের বিপক্ষে প্রথম একাদশে থাকলেও সেই ম্যাচে হেরেছিল তাঁর দল।

বাসেকসেহিরের বিপক্ষে অবশ্য শুরু থেকেই ছিলেন সালাহ। আর মাঠে নেমেই বুঝিয়ে দেন, কেন তাঁকে ঘিরে এত প্রত্যাশা। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলকিপার মুহাম্মদ শেনগেজারের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ এক গোলে ত্রাবজোনস্পোরকে এগিয়ে দেন তিনি।

পরে পেনাল্টি থেকে এলদর শমুরোদভ গোল করলে সমতায় ফেরে বাসেকসেহির। তবে বিরতির পর মাত্র তিন মিনিটেই আবার এগিয়ে যায় ত্রাবজোনস্পোর। প্রায় ১০ গজ দূর থেকে প্রথম স্পর্শেই কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান সালাহ।

ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে ডি-বক্সে ডাইভ দেওয়ার অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড। এরপর যোগ করা সময়ে আসে হ্যাটট্রিকের দারুণ সুযোগ। প্রায় ৪৫ গজ দূর থেকে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়েছিলেন সালাহ। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

এর আগেও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি। তবে আক্রমণের শুরুতে ফাউল হওয়ায় সেটিও বাতিল হয়। ফলে হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হলেও জোড়া গোলেই দলের জয়ের নায়ক সালাহ। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও টেস্ট খেলার কথা বললেন ক্যারি

প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের বড় জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাকাই টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ব্যবধানে জিতে সিরিজ ১-১-এ ড্র করেছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের শেষ ম্যাচটি দ্রুত শেষ হলেও তৃতীয় দিনে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভবিষ্যতে আরও টেস্ট খেলার আশাও জানিয়েছেন তিনি।

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের পেসার শরীফুল ইসলামকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন ক্যারি। ওয়ানডে সিরিজেও তাঁর বোলিংয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ওয়ানডে সিরিজে তাকে আমরা দেখেছিলাম। ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সে ৬ উইকেট নিয়েছিল। এখানে এসেও একই কাজ করেছে। সে দারুণ বোলিং করেছে। বাংলাদেশের সব পেসারই এই সিরিজে অনেক ভালো বল করেছে। শরীফুল নিজের বোলিংয়ের পুরস্কারটা পেয়েছে প্রথম দিনেই। সিরিজজুড়ে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটাররা ২০০-এর বেশি রান করে ভালো লিড এনে দিয়েছিল। হ্যাঁ, শরীফুল অনেক ইম্প্রেসিভ ছিল।’

দুই দিনের মধ্যেই টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়াকে অবশ্য অস্বাভাবিকভাবে দেখছেন না ক্যারি। তাঁর মতে, ম্যাচের দৈর্ঘ্য নয়, দলের কাজ হচ্ছে নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে জয় নিশ্চিত করা। ক্যারি বলেন, ‘আসলে দারুণ টেস্ট ম্যাচ ছিল। আমার টেস্টের পঞ্চম দিনের অনেক ভালো স্মৃতি আছে, আবার দুই দিনের টেস্ট ম্যাচেও ভালো স্মৃতি আছে। ভিন্ন কিছু নয়। আমাদের কাজ পারফর্ম করে ম্যাচ জেতা। দুই দিন হোক, তিন বা চার দিন হোক, আমরা খুশি।’

ডারউইন টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোয় অস্ট্রেলিয়া দলের প্রশংসাও করেছেন ক্যারি। তিনি বলেন, ‘আমার পয়েন্ট অব ভিউ হচ্ছে, আমরা প্রথম টেস্টে সব দিকেই আউটপ্লেড হয়েছিলাম। এখানে বাউন্স ব্যাক করেছি এবং কাজটা ভালোভাবে শেষ করেছি। ২০০-এর বেশি রান করেছি, আরও বেশি করতে পারতাম। আমরা এগুলো বুঝতে পারছি। বোলিংও অনেক ভালো হয়েছে। পরের টেস্টের আগে কিছুটা সময় আছে, প্রায় এক মাসের মতো। সবাই উন্নতি করতে চায়।’

দলে পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি ক্যারি। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচকদের বলে জানিয়েছেন তিনি। ক্যারির ভাষায়, ‘দল নিয়ে পরিবর্তনের ব্যাপারে নির্বাচকেরা ভাবছেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারছি না। অস্ট্রেলিয়ান গ্রুপ হিসেবে প্রথম টেস্ট ম্যাচের পর আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তা নিয়ে গর্বিত। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ অনেক ভালো একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল, এখানে আমরা বাউন্স ব্যাক করেছি।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আগস্টে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতাও উপভোগ করেছেন ক্যারি। ডারউইন ও ম্যাকাইয়ের ভেন্যু নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে সেখানে আরও সাদা বলের ক্রিকেট আয়োজন করা হবে।

‘আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট ম্যাচ খেলা দারুণ। আগে হয়তো এমন সময়ে বিদেশে খেলা হতো। এবার দেশে খেলেছি। দারুণ কিছু ভেন্যু, ডারউইন দারুণ স্টেডিয়াম ছিল। এখানের পিচও বেশ ভালো ছিল। আশা করি সামনে আরও সাদা বলের ম্যাচ হবে এখানে।’

এসিসির সভায় তামিম, পেলেন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা। এশিয়ার ক্রিকেট নিয়ে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এসিসির সভাপতি নির্বাচনের পালাক্রমে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অন্যতম।

এত দিন এশিয়ার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা এসিসির সভাপতি পদে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে পালাক্রমে দায়িত্ব দেওয়া হতো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এই তালিকায় যুক্ত হলো আফগানিস্তানও। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিও এসিসির সভাপতির দায়িত্ব নিতে পারবেন।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এসিসির নতুন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ক্রিকেট বোর্ডের সহ-সভাপতি খালিদ আল জারুনি। এ ছাড়া ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য কাতার, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ ও বাহরাইন থেকে নির্বাহী বোর্ডের নতুন সদস্য নির্বাচন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল এবারই প্রথম এসিসির কোনো সভায় অংশ নিয়েছেন। সভায় তাঁকে এসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এশিয়ার ক্রিকেটের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সভায় এসিসি সভাপতি সৈয়দ মহসিন রাজা নকভি বলেন, ‘এশিয়ায় ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও প্রজন্মকে এক সুতোয় বাঁধার একটি মাধ্যম। আমাদের আজকের এসব সিদ্ধান্ত এশিয়ার ক্রিকেটকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে।’