Home Blog Page 41

নাগোয়ায় পদকের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করতে চান ইরানের শাহিন ইজাদিয়ার

0

এশিয়ান প্যারা গেমসে এখন পর্যন্ত শাহিন ইজাদিয়ার সংগ্রহে আছে ২৪টি পদক

এশিয়ান প্যারা গেমসে নিজের ২৪টি পদকের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করতে চান ইরানের প্যারা-সাঁতারু শাহিন ইজাদিয়ার। নাগোয়া আসরে আরও পদক জিতে নিজের রেকর্ডকে এমন উচ্চতায় নিতে চান, যা ভবিষ্যতে ভাঙা কঠিন হয়ে যায়।

ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পদকজয়ী প্যারালিম্পিক সাঁতারু ইজাদিয়ার এখন ব্যস্ত আসন্ন এশিয়ান প্যারা গেমসের প্রস্তুতিতে। জাপানের নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আসরের আগে ইরানের ১৫তম প্রস্তুতি ক্যাম্পে অনুশীলন করছেন তিনি। মাশহাদে চলছে তার এই প্রস্তুতি, যা চলবে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

নাগোয়া এশিয়ান প্যারা গেমস শুরু হওয়ার কথা ১৯ অক্টোবর। সেখানে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিজ্ঞ এই প্যারা-সাঁতারু।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজাদিয়ার জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি ভালো ফর্মে আছেন এবং প্রতিযোগিতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই অনুশীলন করছেন তিনি।

এশিয়ান প্যারা গেমসে ইজাদিয়ারের সাফল্যের ইতিহাসও অসাধারণ। ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান প্যারা গেমসে তিনি জিতেছিলেন অবিশ্বাস্য ছয়টি সোনা ও একটি রুপার পদক। এক আসরে সাতটি পদক জিতে সেবার আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন ইরানের এই তারকা।

তবে পরবর্তী ২০২২ হাংজু এশিয়ান প্যারা গেমসে আগের মতো সাফল্য পাননি তিনি। সেবার তার অর্জন ছিল দু’টি রুপা ও তিনটি ব্রোঞ্জ পদক। কিন্তু সেই পারফরম্যান্সকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে নারাজ ইজাদিয়ার।

তার মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিটি পদকেরই আলাদা মূল্য রয়েছে। নিজের হাংজুর পারফরম্যান্স ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেলপস এর উদাহরণও টেনেছেন। এক আসরে ফেলপসের আটটি সোনা জয়ের মতো অবিশ্বাস্য সাফল্য প্রতিবারই পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন ইজাদিয়ার।

প্যারা-সাঁতারে পদক জেতার লড়াই কতটা কঠিন, সেটিও ভালোভাবে জানেন এই অভিজ্ঞ অ্যাথলেট। তার মতে, সাঁতারে অনেক সময় এক সেকেন্ডের ক্ষুদ্র অংশই পদকের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ফলে প্রতিযোগিতার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় কে পদক জিতবেন।

তবু নিজের সর্বোচ্চটা দিতে কোনো কমতি রাখতে চান না ইজাদিয়ার। নাগোয়ায় তার লক্ষ্য একটাই, পডিয়ামে ওঠা এবং ইরানের জন্য আরও পদক এনে দেওয়া।

এশিয়ান প্যারা গেমসে এখন পর্যন্ত তার সংগ্রহে রয়েছে ২৪টি পদক। এই অসাধারণ রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করাই এবার তার প্রধান লক্ষ্য।

অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের দিক থেকে ইজাদিয়ার ইতোমধ্যে ইরানের প্যারা-সাঁতারের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। নাগোয়ায় আরও কয়েকটি পদক জিততে পারলে তার রেকর্ড আরও শক্ত অবস্থানে যাবে।

তবে রেকর্ডের পাশাপাশি নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তাই বয়স ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবারও এশিয়ার সেরা প্যারা-সাঁতারুদের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ইজাদিয়ার।

২৪ পদকের রেকর্ড এখন তার। নাগোয়ায় আরও পদক জিতে সেই রেকর্ডকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও কঠিন এক চ্যালেঞ্জে পরিণত করতে চান ইরানের এই প্যারা-সাঁতারু।

ক্যাঙ্গারুর দেশে রক্তিম সূর্যোদয়, টেস্ট সিরিজ ড্র সোনালী ভোরের নতুন দিগন্ত

0

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ-২০২৬

২৩ বছর একটা প্রজন্মেরও বেশী সময়। এই সময়ে টেস্ট ক্রিকেটের কুলীন সদস্য ক্যাঙ্গারুদের দেশে যাওয়া হয়নি বাউল সুরের বাংলাদেশের, কারণ একটাই তা হল ছোট দেশ, খেলতে পারবেনা এমন নানা অযুহাত আরও কত কি! অবশেষে বাংলাদেশ সুযোগটা দারুন ভাবে কাজে লাগালো প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে (ডারউইন টেস্ট জিতে)। যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা রাখাই এক সময় দূর আকাশের তারা ছোঁয়ার মতো দুঃস্বপ্ন বলে মনে হত, সেখানে রচিত হল এক অমর কাব্য। অহংকার আর বিশ্বসেরার তকমা গায়ে জড়ানো ক্যাঙ্গারু বাহিনীর বুক চিরে ১-১ সমতায় শেষ হলো ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজ কেবল কোনো পরিসংখ্যানের হিসাব নয়; এটি লাল-সবুজের ক্রিকেট ইতিহাসে এক বুক ভরা শ্বাস নেওয়ার গল্প, ক্যাঙ্গারুর দেশ রক্তিম সূর্যোদয়, টেস্ট সিরিজ ড্র সোনালী ভোরের নতুন দিগন্ত।

প্রথম টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে হাসান মাহমুদ প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ

বিদেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জেতা যেখানে আমাদের কাছে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ছিল, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে তাদেরই চেনা কন্ডিশনে লড়াই করা ছিল অগ্নিপরীক্ষার মতো। পরীক্ষায় যেন পাশ না করি, তাই ভেন্যু করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অপরপ্রান্তে, করা হয়নি মেলবোর্ন কিংবা সিডনি বা পার্থে কিন্তু আমাদের ছেলেরা শুধু ক্রিকেট খেলেনি, খেলেছে হৃদয়ের সমস্ত আবেগ আর বিশ্বাস উজাড় করে। ডারউইনের সেই স্মরণীয় টেস্টে প্রতিপক্ষের শক্ত দুর্গ গুঁড়িয়ে দেওয়ার মহাকাব্যিক জয়টি কেবল একটি ম্যাচ জেতা ছিল না; তা ছিল ২০ কোটি মানুষের বহুদিনের জমানো দীর্ঘশ্বাসকে আনন্দাশ্রুতে রূপান্তরের এক অভাবনীয় মুহূর্ত।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্ট সিরিজ ড্রয়ের প্রাপ্তি অনেক গভীরের উপলব্ধি। এটি আমাদের শিখিয়েছে ভয়কে জয় করে কীভাবে বিশ্বমঞ্চে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে চোখ মেলতে হয়। তাই এই জয় তরুণদের ভেতরে বুনে দিয়েছে সেই অমিত আত্মবিশ্বাস- “আমরাও পারি, বিশ্বসেরাদের ডেরায় গিয়েই ইতিহাস গড়ে ছিনিয়ে আনতে জয়।” পেস ইউনিটের আক্রমনে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত হওয়া আর আমাদের বোলার ও ব্যাটারদের সাহসী লড়াইয়ের প্রতিটি মুহূর্ত প্রমাণ করেছে, এই বাংলাদেশ আর পেছনের সারির কোনো দল নয়।

ডারউইন টেস্টে ১০১ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয়ের পরতে পরতে লেখা থাকবে হাসান মাহমুদের পেস কর্তৃত্ব, তানজিদ তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিং, নাজমুল শান্তর অধিনায়কত্ব, তাসকিনের পাশাপাশি শরিফুলের দায়িত্ব নেওয়ার ইঙ্গিত, মেহেদি মিরাজের অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স ও টেইল এন্ডারদের নিয়ে হার না মানা ব্যাটিং লড়াই আর দলীয় চেতনায় প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করা।

ক্যাঙ্গারুর দেশে রক্তিম সূর্যোদয়, টেস্ট সিরিজ ড্র সোনালী ভোরের নতুন দিগন্ত
২য় টেস্টে শরিফুল চোখে চোখ রেখে বোলিং করেছেন

সারকথা: ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে আজ বাংলাদেশ যেন নতুন করে নিজের পরিচয় লিখেছে। দূর পরবাসের সেই চেনা সবুজ ঘাসে আজ কেবল প্রতিপক্ষের আধিপত্যের স্মৃতি নেই, জড়িয়ে রইল টাইগারদের ঘাম, রক্ত আর বুক ভরা জেদের গল্প। তাই এই ড্র ই শেষ কথা নয় এই জয় বিশ্বক্রিকেটে লাল-সবুজের নতুন রাজত্বের সোপান। ক্যাঙ্গারুর দেশে রচিত এই টেস্ট রূপকথা যুগের পর যুগ পথ দেখাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে, প্রেরণা যোগাবে আগামী প্রজন্মকে।

এশিয়ান গেমসে ভালো করার লক্ষ্য ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের

0

বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ, রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান শাকিলসহ কমিটির অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নবনিযুক্ত সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন কমিটির সদস্যরা। এরপর দায়িত্ব গ্রহণ ও পরিচিতি পর্ব শেষে ফেডারেশনের বিগত দিনের কার্যক্রম ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আগামী দিনে ব্যাডমিন্টনের উন্নয়ন ও ফেডারেশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার করণীয় নিয়েও মতবিনিময় করেন সদস্যরা।

সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায় আসন্ন এশিয়ান গেমস ব্যাডমিন্টন। এই প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান শাকিল। এতে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হবে ২০তম এশিয়ান গেমস।

২০২৬ এশিয়ান গেমসে ব্যাডমিন্টন শুরু ২০ সেপ্টেম্বর থেকে

২০২৬ এশিয়ান গেমসে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর। জাপানের আইচি প্রিফেকচারের ইচিনোমিয়া সিটি মিউনিসিপ্যাল জিমনেশিয়ামে বসবে ব্যাডমিন্টনের এই আসর।

মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় থাকছে মোট পাঁচটি পদক ইভেন্ট। পুরুষ ও নারী এককের পাশাপাশি থাকছে পুরুষ ও নারী দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত। এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে দলীয় ইভেন্টও।

এশিয়ান গেমসে ব্যাডমিন্টন বরাবরই অন্যতম আকর্ষণীয় ইভেন্ট। বিশেষ করে এশিয়ার শক্তিশালী দেশগুলোর শাটলারদের লড়াই ঘিরে থাকে বাড়তি আগ্রহ। ২০২৬ আসরেও তাই একক, দ্বৈত ও দলীয় ইভেন্টে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপে চমক দেখানো কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলবে ভারত, ৬ অক্টোবর ম্যাচ!

0

২০২৬ বিশ্বকাপে চমক জাগানো কেপ ভার্দের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে ভারত। ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষের আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ অক্টোবর মুখোমুখি হতে পারে ভারত ও কেপ ভার্দে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে কলকাতা ও কোচিয়ার দু’টি স্টেডিয়াম বিবেচনায় রয়েছে।

বিশ্বকাপে অভিষেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনায় আসে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে তারা তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নজর কাড়ে। নকআউট পর্বেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে আফ্রিকার দলটি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ ১-১ সমতায় রাখার পর অতিরিক্ত সময়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হারে কেপ ভার্দে।

বিশ্বকাপের এমন পারফরম্যান্সের পর কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি ভারতের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। তুলনামূলক শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে খেলে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করার সুযোগ পাবেন ভারতীয় ফুটবলাররা। বিশেষ করে ভারতের প্রধান কোচ খালিদ জামিল এর জন্য এটি হতে পারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের প্রস্তুতি ও কৌশল যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ সাফল্যের অন্যতম আলোচিত মুখ ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলটির গোলবার অক্ষত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও কেপ ভার্দে নিজেদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দেয়।

ভারতের জন্য অক্টোবরের আন্তর্জাতিক সূচি এমনিতেই বেশ ব্যস্ত। ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ভারতের। এরপর তিন দিনের ব্যবধানে ৬ অক্টোবর কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি হলে ভারতীয় দলের সামনে টানা দুই হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হবে।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটির ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়াম এবং কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম এই দু’টি ভেন্যু নিয়ে আলোচনা চলছে। ম্যাচটি আয়োজনের জন্য কোন ভেন্যু বেশি উপযুক্ত হবে, সেটিও বিবেচনা করছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন বা এআইএফএফ।

ভারতীয় দলের প্রস্তুতিও শুরু হবে সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোকে সামনে রেখে। ২১ সেপ্টেম্বরের দিকে কলকাতায় ভারতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে কোচ খালিদ জামিল ব্রাজিল ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দলকে প্রস্তুত করবেন।

তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। দুই ফেডারেশনের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। তাই ৬ অক্টোবরের তারিখ ও ভেন্যু চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ম্যাচটিকে সম্ভাব্য সূচি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ম্যাচটি চূড়ান্ত হলে ২০২৬ সালে ভারতের জন্য তৈরি হবে আরও একটি ব্যতিক্রমী আন্তর্জাতিক সূচি। ব্রাজিল ও কেপ ভার্দের পর নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ম্যাচ রয়েছে ভারতের। ফলে একই বছরে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা চারটি দলের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হতে পারে ভারতীয় দলের।

সব মিলিয়ে ব্রাজিলের মতো বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তির বিপক্ষে ম্যাচের পর বিশ্বকাপে চমক দেখানো কেপ ভার্দের মুখোমুখি হওয়া—ভারতের জন্য অক্টোবর হতে যাচ্ছে বড় পরীক্ষার সময়। আর কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের পর তাদের বিপক্ষে মাঠে নামলে ভারতীয় ফুটবলের সামর্থ্যও কঠিন এক পরীক্ষার মুখে পড়বে।

বোল্টের বিশ্বরেকর্ড ভাঙলো মানবাকৃতির রোবট ‘টিয়েনকুং ‘

0

১০০ মিটারে হিউম্যানয়েড রোবট সময় নিলো ৯.৩৯ সেকেন্ডে

মানুষের গতির রেকর্ড এবার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে রোবট। চীনের একটি হিউম্যানয়েড রোবট ১০০ মিটার দৌড় শেষ করেছে মাত্র ৯.৩৯ সেকেন্ডে। এই সময় কিংবদন্তি স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও কম।

চীনের বেইজিংয়ে চলমান বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে শনিবার এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ‘টিয়েনকুং’ নামের রোবটটি। বেইজিং সেন্টার ফর হিউম্যানয়েড রোবোটিকসের তৈরি এই রোবটই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

২০০৯ সালে জার্মানির বার্লিনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার দৌড়ে ৯.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন উসাইন বোল্ট। সেই রেকর্ড আজও মানুষের স্প্রিন্টে অম্লান। তবে বেইজিংয়ের রোবট গেমসে টিয়েনকুং ৯.৩৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার শেষ করায় প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া রোবটগুলোর গতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর প্রথম বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে ১০০ মিটার দৌড়ে বিজয়ী রোবটের সময় ছিল ২১.৫০ সেকেন্ড। এবার সেই সময় নেমে এসেছে ১০ সেকেন্ডের নিচে।

২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট, রোবটদের বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস চলাকালে বেইজিংয়ে রোবটদের ফুটবল খেলতে দেখা যায়।

আয়োজকদের ভাষায়, মাত্র এক বছরের এই পরিবর্তন রোবট প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিরই প্রমাণ। বিশেষ করে চীনের রোবট শিল্প যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই ফলাফল তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন তারা।

বেইজিংয়ের ‘আইস রিবন’ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এবারের প্রতিযোগিতায় ১৬টি দেশ থেকে অংশ নিয়েছে ৬৬৬টি দল। সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় রয়েছে ২ হাজার ৫৬টি রোবট।

মানুষের মতো দেখতে ও চলাফেরা করতে সক্ষম এসব রোবট শুধু দৌড়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না। অ্যাথলেটিকসের পাশাপাশি বক্সিং, ফুটবল, ভারোত্তোলন, জিমন্যাস্টিকসসহ বিভিন্ন খেলায় অংশ নিচ্ছে তারা।

তবে রোবটদের দৌড় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। দৌড় শেষ করার পর অনেক রোবটকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ম্যাটের ওপর পড়ে যেতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার দৌড়ের শেষে ধীরে ধীরে পেছনের দিকে পড়ে গিয়ে দর্শকদের বিনোদনের খোরাক হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব দৃশ্য নিয়ে হাস্যরস হলেও আয়োজকরা বলছেন, রোবটগুলোর সক্ষমতাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাদের মতে, এক বছর আগেও রোবটগুলো ছিল ধীরগতির এবং ভারী ধরনের যন্ত্র, যাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ট্র্যাকে দৌড় শেষ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

এবার সেই রোবটগুলোর গতি এতটাই বেড়েছে যে বিশ্বরেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে তারা। টিয়েনকুংয়ের ৯.৩৯ সেকেন্ডের দৌড় সেই পরিবর্তনেরই বড় উদাহরণ।

তবে রোবটের সময়কে মানুষের বিশ্বরেকর্ডের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা নিয়ে প্রযুক্তিগত প্রশ্নও রয়েছে। মানুষের দৌড় এবং রোবটের দৌড়ের গঠন, শক্তির উৎস ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ এক নয়। তাই টিয়েনকুংয়ের ৯.৩৯ সেকেন্ডকে বোল্টের মানব স্প্রিন্ট রেকর্ডের আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার আগে এই পার্থক্যগুলো বিবেচনা করতে হবে।

তারপরও রোবটের গতি বৃদ্ধির হার প্রযুক্তি বিশ্বে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে ২১.৫০ সেকেন্ড থেকে ৯.৩৯ সেকেন্ড, এই পরিবর্তন হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

চীন ইতোমধ্যে হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো রোবটের গতি, ভারসাম্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বাস্তব জীবনের কাজে ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। মর্গান স্ট্যানলি রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে হিউম্যানয়েড রোবটের বাজারের মূল্য ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হিউম্যানয়েড রোবটের সংখ্যা এক বিলিয়নের বেশি হতে পারে।

এর মধ্যে চীনের ভূমিকা হতে পারে সবচেয়ে বড়। মর্গান স্ট্যানলির এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে চীনে প্রায় ৩০ কোটি ২৩ লাখ হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহৃত হতে পারে।

অর্থাৎ বেইজিংয়ের এই রোবট গেমস শুধু খেলাধুলার প্রদর্শনী নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সম্ভাবনাও তুলে ধরছে। আর ১০০ মিটারে ৯.৩৯ সেকেন্ডের দৌড় দেখিয়ে টিয়েনকুং যেন সেই ভবিষ্যতের গতিরই একটি ঝলক দেখিয়ে দিল।

বেইজিংয়ে শুরু বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস, মাঠে নামছে দুই হাজারের বেশি রোবট

0

মানুষের মতো দেখতে রোবটদের নিয়ে শুরু হয়েছে এক অভিনব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। চীনের বেইজিংয়ে বসেছে দ্বিতীয় বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মহড়ায় সারিবদ্ধভাবে মার্চ করেছে হিউম্যানয়েড রোবট। আর এখন শুরু হয়েছে মূল প্রতিযোগিতা।

পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশ নিয়েছে দুই হাজারের বেশি হিউম্যানয়েড রোবট। মোট ৫১টি ইভেন্টে অনুষ্ঠিত হবে ১ হাজার ৩০১টি ম্যাচ। এবারের আসরটি ২২ থেকে ২৬ আগস্ট বেইজিংয়ের ন্যাশনাল স্পিড স্কেটিং ওভালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দ্বিতীয় বার্ষিক বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতাটি ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

শুধু রোবটের দৌড় কিংবা ফুটবলই নয়, এবারের প্রতিযোগিতার পরিধি আরও বড়। ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি রোবটদের বাস্তব জীবনের কাজ করার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। মোট ৫১টি প্রতিযোগিতার মধ্যে ৩০টি প্রচলিত ক্রীড়াভিত্তিক এবং ২১টি বাস্তব কাজের পরিস্থিতি অনুকরণ করে সাজানো হয়েছে।

দৌড়, ফুটবল, টেবিল টেনিস, ওজন তোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শারীরিক দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে রোবটগুলো। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়িতে চার্জ দেওয়া, রেস্তোরাঁয় সেবা দেওয়া, জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করা কিংবা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোগের মতো কাজও করতে হচ্ছে তাদের।

এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ১৬টি দেশের ৬৬৬টি দল। মোট রোবটের সংখ্যা ২ হাজার ৫৬টি। চীনের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বেশি। দেশটির ৬৪১টি দল নিয়ে এসেছে ১ হাজার ৯৭৫টি রোবট।

তবে এই আয়োজনকে শুধু বিনোদন বা প্রদর্শনী হিসেবে দেখছেন না আয়োজকরা। হিউম্যানয়েড রোবটকে ভবিষ্যতে বাস্তব জীবনের কাজে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব, সেটিই বড় পরীক্ষার বিষয়। তাই রোবটগুলোর গতি, ভারসাম্য ও শক্তির পাশাপাশি তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে কাজ করার সক্ষমতাও যাচাই করা হচ্ছে।

এবারের আসরে স্বয়ংক্রিয়তার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৪০ শতাংশের বেশি কাজ এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে রোবটকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। অর্থাৎ দূর থেকে মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পরিস্থিতি বুঝে কাজ সম্পন্ন করতে হবে রোবটকে।

উদ্বোধনের পর থেকেই রোবটদের পারফরম্যান্সে চমক দেখা গেছে। ১০০ মিটার দৌড়ে চীনের একটি হিউম্যানয়েড রোবট ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেছে। সংখ্যার হিসাবে এই সময় উসাইন বোল্টের ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুত। তবে রোবটের এই সময়কে মানুষের বিশ্বরেকর্ডের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত পার্থক্যও বিবেচনায় রাখতে হয়।

শুধু দৌড় নয়, উচ্চলাফেও রোবটের সক্ষমতা নজর কেড়েছে। একটি হিউম্যানয়েড রোবট ২ দশমিক ৮৮ মিটার স্ট্যান্ডিং হাই জাম্প করে চমক দেখিয়েছে। মানুষের বর্তমান বিশ্বরেকর্ড ২ দশমিক ৪৫ মিটার।

তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও চোখে পড়ছে। দ্রুত দৌড়ানোর পর অনেক রোবট ঠিকভাবে থামতে না পেরে নিরাপত্তা ব্যারিয়ারে ধাক্কা খাচ্ছে। অর্থাৎ গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ভারসাম্য, নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তব পরিস্থিতিতে নিরাপদভাবে কাজ করার সক্ষমতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

এই কারণেই এবারের বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসকে শুধু কে কত দ্রুত দৌড়াতে পারে, তার প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং মানুষের মতো জটিল পরিবেশে রোবট কতটা নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে, সেটিই হয়ে উঠেছে বড় পরীক্ষা।

চীনের জন্যও এই আয়োজনের গুরুত্ব অনেক। দেশটি হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারে বড় বিনিয়োগ করছে। বিশ্ব রোবট সম্মেলনের সঙ্গেও এই গেমস আয়োজন করা হয়েছে, ফলে একসঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে রোবট প্রযুক্তির গবেষণা, ক্রীড়া সক্ষমতা এবং বাস্তব জীবনে ব্যবহারের সম্ভাবনা।

২০২৫ সালে প্রথমবার বেইজিংয়ে আয়োজন করা হয়েছিল বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। প্রথম আসরে অংশ নিয়েছিল ৫০০টির বেশি রোবট। মাত্র এক বছর পর এবার অংশগ্রহণের পরিসর অনেক বেড়েছে। দ্বিতীয় আসরে দুই হাজারের বেশি রোবট এবং ৬৬৬টি দল অংশ নিচ্ছে।

ফলে বেইজিংয়ের এই আয়োজন এখন শুধু রোবটদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাইয়ের এক বড় মঞ্চ। মানুষের মতো হাঁটা, দৌড়ানো, খেলাধুলা কিংবা কাজ করার সক্ষমতা কতটা এগিয়েছে। আগামী পাঁচ দিন ধরে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস।

ঐতিহাসিক জয় থেকে লজ্জার হার – অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের দুই রূপ

0

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখল দুই বিপরীত চিত্র। ডারউইনে যে দলটি ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল, সেই দলই ম্যাকাইয়ে নেমে গেল চরম ব্যর্থতার খাদে। ব্যাটিংয়ে ভয়াবহ ধসের কারণে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৫১ রানে হারতে হলো বাংলাদেশকে।

এই পরাজয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। সিরিজ জয় না পেলেও ডারউইনের ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় অর্জন হিসেবেই থাকবে। তবে ম্যাকাইয়ের ব্যাটিং বিপর্যয় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, সেরা পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

ডারউইনে বাংলাদেশ শুধু অস্ট্রেলিয়াকে হারায়নি, গড়েছিল একাধিক রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র তৃতীয়বার টেস্ট খেলতে নেমেই জয় তুলে নিয়ে এশিয়ার দ্রুততম দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয়ের নজির গড়ে টাইগাররা। টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেটি ছিল বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় জয়। একই সঙ্গে এসইএনএ দেশগুলোর মাটিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়ও আসে সেই ম্যাচে।

ডারউইনে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৪২৬ রান। পুরো ম্যাচে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ৯ উইকেটে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

কিন্তু ম্যাকাইয়ে গল্পটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে আটকে রাখার পরও সেই লিড কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি হয়। মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

অর্থাৎ পুরো ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র ১৫৯ রান। অথচ ডারউইনের প্রথম ইনিংসেই ৪২৬ রান করেছিল দলটি।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে দুই ইনিংসেই তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারেনি দল। একই সঙ্গে ২১ বছর পর প্রথমবার কোনো দল টেস্টের দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো।

মিচেল স্টার্কের চতুর্থবার ১০ উইকেট

ম্যাকাইয়ের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মূল কারিগর ছিলেন মিচেল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে বাঁহাতি এই পেসার মাত্র ১২ রান খরচ করে তুলে নেন ৬ উইকেট। বাংলাদেশের টপ অর্ডারের সামনে তার গতি, সুইং ও বাউন্সের কোনো জবাবই ছিল না।

দ্বিতীয় ইনিংসেও স্টার্কের দাপট থামেনি। এবার ৩৯ রানে নেন আরও ৪ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে তার শিকার ১০ উইকেট, খরচ মাত্র ৫১ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো এক ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।

তবে বাংলাদেশের ব্যর্থতার দায় শুধু স্টার্কের ওপর চাপানো যাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা কঠিন পরিস্থিতিতে ভালো বল করলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররাও নিজেদের ভুলে বিপদ ডেকে এনেছেন। অনেক ব্যাটার এমন বলেও শট খেলেছেন, যেগুলো ছেড়ে দেওয়া সম্ভব ছিল। আবার অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডাররা যে জায়গায় সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, সেখানেই একের পর এক ক্যাচ বা উইকেটের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চার ব্যাটার কোনো রানই করতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উইকেট হারিয়েছে দলটি। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ওপর কোনো পর্যায়েই চাপ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ব্যাটিং ব্যর্থতার কোনো অজুহাত দেননি। তার মতে, টস ও প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের কঠিন পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা ভালো বল করলেও নিজেদের ব্যাটিং যে প্রত্যাশামতো হয়নি, সেটি স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছেন তিনি।

ম্যাকাইয়ের উইকেটও অবশ্য ব্যাটারদের জন্য সহজ ছিল না। নতুন বলে ছিল গতি, বাউন্স ও মুভমেন্ট। প্রথম দিনেই দুই দলের ১৮টি উইকেট পড়ে। তবে একই কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ভালোভাবে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন।

শান্ত এ প্রসঙ্গে উপমহাদেশের উইকেট নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তার বক্তব্য, উপমহাদেশে এক দিনে ১৮ বা ১৯ উইকেট পড়লে পিচ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। অথচ ম্যাকাইয়েও প্রথম দিন ১৮টি উইকেট পড়েছে। তার মতে, ভিন্ন কন্ডিশনে এমন পরিস্থিতিকেও একইভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার মাঝেও বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি ছিলেন শরিফুল ইসলাম। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে দলে ফিরে বাঁহাতি এই পেসার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন। মাত্র ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট শিকার করেন তিনি।

এটি দেশের বাইরে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। তার দুর্দান্ত স্পেলের কারণে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানের মধ্যেই আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল। ক্যামেরন গ্রিনকে ৬৭ রানে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহের সম্ভাবনাও থামিয়ে দেন শরিফুল।

ডারউইনে সেঞ্চুরি করা গ্রিন ম্যাকাইয়েও গুরুত্বপূর্ণ ৬৭ রান করেন। ফলে পরপর দুই টেস্টে ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য কার্যকর অবদান রাখেন এই অলরাউন্ডার।

কিন্তু শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো কাজে আসেনি। কারণ বোলাররা অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটাররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

পরাজয়ের আরেকটি বড় দিক ছিল ম্যাচের অস্বাভাবিক দ্রুত সমাপ্তি। পুরো টেস্টে খেলা হয়েছে মাত্র ৭৫০ বল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম টেস্ট এবং টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচগুলোর একটি।

মাত্র দুই দিনেই ম্যাচ শেষ হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার তীব্রতাও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই ইনিংসেই একশর নিচে অলআউট হয়ে ইনিংস হার, ডারউইনের দুর্দান্ত জয়ের ঠিক এক সপ্তাহ পর এমন পরিণতি নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।

তবে অধিনায়ক শান্ত মনে করেন, একটি ম্যাচের ব্যর্থতায় ডারউইনের অর্জনকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, প্রথম টেস্টের ঐতিহাসিক জয় কেউ ভুলে যায়নি। দেশের ক্রিকেটের জন্য সেটি ছিল বিশাল অর্জন এবং সেই সাফল্য অবশ্যই উদযাপন করা উচিত।

একই সঙ্গে ম্যাকাইয়ের ব্যর্থতা থেকেও শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন শান্ত। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে কীভাবে আরও ভালো ব্যাটিং করা যায়, সেটি নিয়ে কাজ করতে হবে বাংলাদেশকে।

সব মিলিয়ে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরের দুই টেস্টের সিরিজ। ফলাফলের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের জন্য আগের যেকোনো অস্ট্রেলিয়া সফরের চেয়ে আলাদা। কারণ প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

কিন্তু একই সিরিজে ম্যাকাইয়ের ব্যাটিং ধস দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও। সামর্থ্য আছে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার, কিন্তু সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখার ধারাবাহিকতা এখনো তৈরি হয়নি।

ডারউইনে ছিল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণের গল্প। ম্যাকাইয়ে সেই স্বপ্নের বিপরীত ছবি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটির পর মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে এমন বড় পরাজয়, অস্ট্রেলিয়া সফর তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একসঙ্গে দেখাল সাফল্যের শিখর এবং ব্যর্থতার গভীরতম জায়গা।

শরিফুলে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক

চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ছিলেন না পেসার শরিফুল ইসলাম। তবে দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলের সঙ্গে ঠিকই যোগ দিয়েছিলেন। আর একাদশে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন ডানহাতি এই পেসার। প্রথম ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার ৭ ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি।

তার বোলিং অস্ট্রেলিয়া দলেরও নজর কেড়েছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স আলাদা করে তাকে নিয়ে কথা বলেন, ‘হ্যাঁ, সে (শরিফুল) অনেক ভালো বল করেছে। কিছু রানও করেছে। দারুণ সুইং করিয়েছে। বাতাসও ছিল এখানে। সব মিলিয়ে দারুণ ছিল তার বোলিং।’

বাংলাদেশ দলের টেম্পারমেন্ট নিয়ে কামিন্স বলেন, ‘আসলে যখন রান পাচ্ছেন তখন আপনার স্টাইল, মেথড এসব নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। আগের সপ্তাহের কথা বলতে গেলে, বাংলাদেশ তাদের টেম্পার অনুযায়ী না খেলে কিছুটা স্লো খেলেছে। অনেক বেশি ধৈর্যশীল ছিল। সবসময় মারতেই হবে এমন নয়। কন্ডিশন মাঝেমধ্যে আপনার চরম পরীক্ষা নেবে। ব্যাটাররা অনেক সময় মেরে রান বের করার বা স্ট্রাইক রোটেট করার সুযোগ নিতে চায়। তখন মার্জিন অব এরর অনেক ছোট হয়ে যায়। মিস করার সুযোগও বেশি থাকে তখন।’

এছাড়া দলের বোলিং নিয়ে কামিন্স বলেন, ‘আসলে সঠিক জানি না। বেশ ভালো বোলিং হয়েছে আজকে। ভালো ব্যাটিং উইকেট তবে ফাস্ট এবং বাউন্সি ছিল অনেকটাই। যেটা তাদের হোম কন্ডিশনের চেয়ে ভিন্ন। ফলে দুই কারণই (বাজে শট এবং উইকেট) এখানে কাজ করেছে সম্ভবত।’

আত্মসম্মানের ব্যাপার ছিল- প্যাট কামিন্স

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে ডারউইনে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য জয়। স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারায় শান্তরা। ওই হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্তভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্যাট কামিন্সের দল। ম্যাকাইতে দুই দিনের মধ্যেই বাংলাদেশকে হারিয়েছে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে।

দুই ইনিংসেই এক শর নিচে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ, দুই দিনে টেস্ট হারও তাদের এই প্রথম। এমন দাপট দেখানো জয়ে কি প্রথম টেস্টে হারের প্রতিশোধ নিল অস্ট্রেলিয়া? রবিবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, ‘এটা আসলে আত্মসম্মানের ব্যাপার। একটা ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর পরেরটা জেতার জন্য মরিয়া হতে হয়। এতে চেষ্টা বাড়ানো যায় কি না, তা আমি নিশ্চিত নই। তবে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোটা খুব দরকার ছিল। আমরা তা করতে পেরে আনন্দিত।’

অবশ্য ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংও তেমন ভালো হয়নি। একমাত্র ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়েছে তারা। তাদের এমন ব্যাটিংয়ের পর অনেকেই উইকেটের দায় দেখছেন, বোলাররা বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন বলে ধারণা তাদের। তবে এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন কামিন্স। দুই দিনে টেস্ট শেষ হয়ে যাবে এমন কিছুও নাকি ভাবনায় ছিল না তাঁর, ‘সবকিছু যেন চোখের পলকে ঘটে গেল। পিচ বেশ ভালোই ছিল। দেখে মনে হয়নি যে এটা পাঁচ সেশনের মধ্যে ৩০ উইকেট পড়ে যাওয়ার মতো।’

দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামও একমাত্র ইনিংসে ৭ উইকেট পেয়েছেন। বোলারদের কৃতিত্ব তো আছেই, দুই দিনে টেস্ট হওয়ার পেছনে কামিন্স দায় দেখছেন ব্যাটসম্যানদেরও, ‘দুর্দান্ত বোলিং যেমন ছিল, তেমনই মাঝে মাঝে গড়পড়তার চেয়েও বাজে ব্যাটিং দেখা গেছে। যার (ব্যাটিং ভালো করতে না পারাদের) মধ্যে আমি নিজেও আছি। সম্ভবত এসব কারণেই ম্যাচটা দ্রুত শেষ হয়ে গেল।’

এশিয়ান গেমসের হকি দল চূড়ান্ত, প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ

0

এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত হকি দল ঘোষণা করা হয়েছে। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি ও পুষ্কর খিসা মিমোকে রেখে দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। তবে দল চূড়ান্ত হলেও মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা। বিদেশের মাটিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা থাকলেও ভিসা জটিলতায় আটকে আছে সেই উদ্যোগ।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অনুষ্ঠিত হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। হকিতে বাংলাদেশের অভিযান অবশ্য শুরু হবে এক দিন আগেই। ১৮ সেপ্টেম্বর পুল ‘এ’তে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরপর একই গ্রুপে ভারতের পাশাপাশি স্বাগতিক জাপান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেও মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আগস্টের শুরুতে জার্মান কোচ পিটার রাচ গেরহার্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩৪ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে খেলোয়াড় বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৯ আগস্ট দলটি কমিয়ে করা হয় ২৪ জনে। এরপর সেখান থেকে চূড়ান্ত করা হয়েছে ১৮ সদস্যের দল।

এই দলে জায়গা পেয়েছেন দেশের হকির দুই অভিজ্ঞ মুখ রাসেল মাহমুদ জিমি ও পুষ্কর খিসা মিমো। আগের অ্যাডহক কমিটির সময় প্রাথমিক দলেই রাখা হয়নি এই দুই তারকাকে। পরে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩ আগস্ট তাদের প্রাথমিক দলে ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত দলেও জায়গা ধরে রেখেছেন তারা।

চার দিনের বিরতির পর শুক্রবার আবারও অনুশীলনে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। জার্মান কোচ গেরহার্ড দেশের বাইরে থাকায় কয়েক দিনের জন্য অনুশীলনে বিরতি ছিল। তবে অনুশীলন শুরু হলেও প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশের প্রস্তুতির মূল পরিকল্পনা ছিল জার্মানিতে গিয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলা। কিন্তু জার্মানির ভিসা না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ভিসা জটিলতা কাটাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হলেও এখনো জার্মান ভিসার সবুজ সংকেত মেলেনি।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও নির্বাচক কমিটির সদস্য আরিফুল হক প্রিন্স জানিয়েছেন, জার্মান দূতাবাস বর্তমানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশের ভিসা পেতে দেরি হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত তারা জার্মানির ভিসার জন্য অপেক্ষা করবেন। এরপরও যদি ইতিবাচক কোনো বার্তা না আসে, তাহলে বিকল্প পরিকল্পনায় যাবে বাংলাদেশ।

বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে হকি ফেডারেশন। সেখানে চীনের জাতীয় দলের বিপক্ষে ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জার্মানি সফর সম্ভব হলে সর্বোচ্চ নয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই সফর বাতিল হলে চীনই হতে পারে বাংলাদেশের প্রস্তুতির প্রধান গন্তব্য।

শুধু চীনে ম্যাচ খেলা নয়, সেখান থেকে জাপানে যাওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। জার্মানি সফর বাতিল হলে চীন হয়ে এশিয়ান গেমসের ভেন্যু জাপানে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে ফেডারেশন। তবে এই পরিকল্পনাও নির্ভর করছে কিছু প্রশাসনিক অনুমোদন ও অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের ওপর।

জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড, জিমি, মিমো এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে আরিফুল হক প্রিন্স, সাজেদ এএ আদেল ও মিজানুর রহমান ডনের জন্য মোট ছয়টি অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড প্রয়োজন। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের পরিবর্তনের প্রস্তাবে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া সম্মতি দেওয়ার পর নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।

এশিয়ান গেমসের পর ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছিলেন মিমো। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, গেমসের পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। একইভাবে হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও দীর্ঘদিনের তারকা জিমিকে এশিয়ান গেমসের পর অবসরের কথা ভাবতে বলেছিলেন।

তবে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। ১২ দলের এশিয়ান গেমস হকি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যদি পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থান অর্জন করতে পারে, তাহলে ডিসেম্বরের একটি বহুজাতিক টুর্নামেন্টে জিমি ও মিমোর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নতুন কৃত্রিম হকি টার্ফের উদ্বোধন উপলক্ষে ওই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশের চূড়ান্ত ১৮ সদস্যের দলে রয়েছেন; বিপ্লব কুজুর, আশরাফুল হক শাদ, আশরাফুল ইসলাম, হোজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রেজাউল করিম বাবু, রোমান সরকার, শহীদুর রহমান সাজু, ওবিদুল হোসেন জয়, দীন ইসলাম ইমন, খালেদ মাহমুদ রাকিন, পুষ্কর খিসা, সোহানুর রহমান সবুজ, ফারহাদ আহমেদ শেতুল, মাহবুব হোসেন, মাইনুল ইসলাম কৌশিক, রাসেল মাহমুদ জিমি ও রাকিবুল হাসান রকি।

দল চূড়ান্ত হলেও এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ মিলবে কি না!

এশিয়ান গেমসে পুল ‘এ’তে শক্তিশালী ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। তাই মূল প্রতিযোগিতার আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচের ঘাটতি পূরণ করাই এখন কোচ গেরহার্ড ও হকি ফেডারেশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।