Home Blog Page 42

৫৬ বছর পর সিনসিনাটি ওপেনের নারী ফাইনালে দুই আমেরিকান

0

কোকো গফ ও জেসিকা পেগুলা

সিনসিনাটি ওপেনের নারী এককের ফাইনালে এবার দেখা যাবে দুই আমেরিকান তারকার লড়াই। সেমিফাইনালে জয়ের পর শিরোপার মঞ্চ নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোকো গফ ও জেসিকা পেগুলা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৫৬ বছর পর এই টুর্নামেন্টের নারী এককের ফাইনালে ফিরছে অল-আমেরিকান দ্বৈরথ।

সেমিফাইনালের প্রথম ম্যাচে চতুর্থ বাছাই কোকো গফের সামনে ছিলেন চেক প্রজাতন্ত্রের সারা বেইলেক। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করেন গফ। প্রথম সেটে বেইলেক কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গফ ছিলেন বেশি কার্যকর। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে প্রথম সেট জিতে নেন তিনি।

দ্বিতীয় সেটে আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেননি গফ। একের পর এক আক্রমণাত্মক শট এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে বেইলেককে চাপে রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেট ৬-১ ব্যবধানে জিতে সরাসরি দুই সেটে ম্যাচ শেষ করেন গফ। ফলে ক্যারিয়ারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয় তার।

তবে দিনের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ছিল আরও বেশি উত্তেজনা। তৃতীয় বাছাই জেসিকা পেগুলার প্রতিপক্ষ ছিলেন টুর্নামেন্টের সপ্তম বাছাই ও সাবেক বিশ্বসেরা ইগা সিওনতেক। শুরু থেকেই দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়।

প্রথম সেটে পেগুলা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে এগিয়ে যান। তবে ম্যাচ ছেড়ে দেননি সিওনতেক। দ্বিতীয় সেটে নিজের খেলায় নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে এনে ৬-৪ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।

ফলে ম্যাচ গড়ায় তৃতীয় ও নির্ধারক সেটে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই লড়াইয়ে দুই খেলোয়াড়ই কখনো দুর্দান্ত, আবার কখনো কিছুটা অস্থির টেনিস খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নিজেদের করে নেন পেগুলা। ৬-৪ ব্যবধানে তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচও নিজের করে নেন তিনি।

ইগা সিওনতেককে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর পেগুলা জানান, ম্যাচটি পুরো সময়ই ছিল কঠিন। কখনো তিনি ভালো খেলেছেন, আবার কখনো নিজের সেরাটা খেলতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের গতিপথ বোঝাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে দিনের নানা প্রতিকূলতা সামলে শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে সন্তুষ্ট তিনি।

পেগুলার এই জয় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে সিনসিনাটি ওপেনের ইতিহাসে। কারণ ১৯৭০ সালের পর এবারই প্রথম এই টুর্নামেন্টের নারী এককের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই আমেরিকান খেলোয়াড়।

১৯৭০ সালে শেষবার অল-আমেরিকান ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন রোজি ক্যাসালস ও ন্যান্সি রিচি। সেই ম্যাচে ক্যাসালসকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন রিচি। এরপর দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিনসিনাটির নারী ফাইনালে আর দুই আমেরিকানকে একসঙ্গে দেখা যায়নি।

এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন গফ ও পেগুলা। ফলে ফাইনালটি শুধু শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ নয়, আমেরিকান টেনিসের জন্যও হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক এক লড়াই।

দুজনের ক্যারিয়ারেই বড় সাফল্য রয়েছে। গফ ইতোমধ্যেই বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে পেগুলাও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব টেনিসের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। এবার সিনসিনাটির হার্ডকোর্টে দুজনের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে কে উঠবেন চ্যাম্পিয়নের মঞ্চে।

ফাইনালের পথে গফের যাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তির হলেও পেগুলাকে পার হতে হয়েছে শক্ত প্রতিপক্ষ সিওনতেক-কে। বিশেষ করে প্রায় তিন ঘণ্টার সেমিফাইনালে তিন সেটের লড়াই জিতে ফাইনালে ওঠায় পেগুলার মানসিক দৃঢ়তারও বড় পরীক্ষা হয়েছে।

সিনসিনাটি ওপেনের নারী ফাইনালে তাই এবার একদিকে থাকবে গফের তারুণ্য ও আক্রমণাত্মক টেনিস, অন্যদিকে পেগুলার অভিজ্ঞতা ও চাপ সামলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। দুই আমেরিকান তারকার লড়াইয়ে যে-ই জিতুন, সিনসিনাটি ওপেনের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে।

শুধু নারী একক নয়, এবারের সিনসিনাটি ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনালেও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রান্সেস টিয়াফো লড়বেন ফ্রান্সের আর্থার ফিলসের বিপক্ষে। ফলে নারী ও পুরুষ, দুই একক ইভেন্টের ফাইনালেই থাকছে আমেরিকান টেনিসের প্রতিনিধিত্ব।

নাকাশিমার দৌড় থামিয়ে সিনসিনাটি ওপেনে ফাইনালে টিয়াফো

0

সিনসিনাটি ওপেনে দারুণ ছন্দে থাকা ব্র্যান্ডন নাকাশিমাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রান্সেস টিয়াফো। শনিবার অল-আমেরিকান সেমিফাইনালে ১৭তম বাছাই টিয়াফো সরাসরি সেটে ৭-৫, ৬-৩ গেমে হারান ২৫ বছর বয়সী নাকাশিমাকে।

এই জয়ে তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার সিনসিনাটি ওপেনের ফাইনালে জায়গা করে নিলেন টিয়াফো। ২০২৪ সালেও এই এটিপি মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। এবার শিরোপা জিতে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য পাওয়ার হাতছানি ২৮ বছর বয়সী এই আমেরিকানের সামনে।

ফাইনালে টিয়াফোর প্রতিপক্ষ ২১তম বাছাই ফ্রান্সের আর্থার ফিলস। প্রথম সেমিফাইনালে সপ্তম বাছাই ইতালির ফ্লাভিও কোবোল্লিকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন ফরাসি এই খেলোয়াড়। ফলে টিয়াফো-ফিলস ফাইনালের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হবে নতুন এক এটিপি মাস্টার্স ১০০০ চ্যাম্পিয়ন।

নাকাশিমার বিপক্ষে প্রথম সেটে শুরু থেকেই ছিল টানটান লড়াই। প্রথম ছয় গেমের মধ্যে চারটিতেই সার্ভিস ব্রেক হয়। ৪-৫ গেমে নিজের সার্ভিস ধরে রাখতে গিয়ে তিনটি সেট পয়েন্টের মুখেও পড়েন টিয়াফো। তবে দুটি সেট পয়েন্ট দুর্দান্ত ফোরহ্যান্ড উইনারে বাঁচিয়ে শেষ পর্যন্ত সেটটি ৭-৫ ব্যবধানে জিতে নেন তিনি।

দ্বিতীয় সেটে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে নেন টিয়াফো। ফোরহ্যান্ডের কার্যকর ব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেটের কাছে উঠে আক্রমণাত্মক টেনিস খেলে ৬-৩ গেমে সেট জিতে ম্যাচ নিশ্চিত করেন তিনি। পুরো ম্যাচ শেষ করতে সময় লাগে ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট।

সিনসিনাটিতে এই সাফল্যের মাধ্যমে নতুন শতাব্দীতে একাধিকবার ফাইনালে ওঠা তৃতীয় আমেরিকান পুরুষ খেলোয়াড় হলেন টিয়াফো। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন অ্যান্ডি রডিক ও মার্ডি ফিশ।

চলতি মৌসুমে এটিপি ট্যুরে আমেরিকান পুরুষ খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও এখন টিয়াফোর দখলে। লাইভ র‍্যাঙ্কিংয়ে উঠে এসেছেন ১২ নম্বরে।

অন্যদিকে নাকাশিমার দুর্দান্ত সামার হার্ডকোর্ট মৌসুম থামল সেমিফাইনালে। এই সময়ে ১৫ ম্যাচ খেলে ১২টিতেই জিতেছেন তিনি। এর মধ্যে মন্ট্রিয়ল মাস্টার্সের ফাইনালে ওঠাও ছিল উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

ফাইনালের আগে টিয়াফো অবশ্য ফিলসের বিপক্ষে একমাত্র মুখোমুখি লড়াইয়ে হেরেছেন। গত বছর মিয়ামি ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে প্রায় তিন ঘণ্টার লড়াইয়ে টিয়াফোকে হারিয়েছিলেন ফরাসি খেলোয়াড়টি। এবার সেই হারের জবাব দিয়ে সিনসিনাটির শিরোপা জিততে চাইবেন টিয়াফো।

ফাইনালে তাই লড়াইটা শুধু শিরোপার নয়, দুজনেরই সামনে ক্যারিয়ারের প্রথম এটিপি মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা জয়ের সুযোগ।

খেলতে খেলতে মাঠেই পর্তুগিজ ফুটবলারের মৃত্যু

0

প্রস্তুতি ম্যাচ চলছিল। হঠাৎ করেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন ২৫ বছর বয়সী পর্তুগিজ ফুটবলার কেভিন ক্যাস্ত্রো। দ্রুত ছুটে আসেন সতীর্থ ও দুই দলের চিকিৎসাকর্মীরা। মাঠেই শুরু হয় জরুরি চিকিৎসা, ব্যবহার করা হয় ডিফিব্রিলেটর। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন এই মিডফিল্ডার।

শনিবার পর্তুগালের মালভেইরায় ঘটেছে মর্মান্তিক ঘটনাটি। রিয়াল স্পোর্ট ক্লাবের হয়ে এস্ত্রেলা দা আমাদোরার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলছিলেন ক্যাস্ত্রো। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় অসুস্থ বোধ করে মাঠে পড়ে যান তিনি।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এ বোলা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাস্ত্রো মাঠে পড়ে যাওয়ার পর দ্রুত তাঁর কাছে ছুটে যান দুই দলের চিকিৎসাকর্মীরা। এস্ত্রেলা দা আমাদোরার চিকিৎসকেরা ডিফিব্রিলেটর ব্যবহার করে তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। পরে জাতীয় জরুরি চিকিৎসা সংস্থা আইএনইএমের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

চলতি মৌসুমেই পর্তুগালের তৃতীয় স্তরের ক্লাব রিয়াল স্পোর্টে যোগ দিয়েছিলেন ক্যাস্ত্রো। এর আগে ক্যারিয়ারের বড় সময় কাটিয়েছেন ইংল্যান্ডে। ওয়েস্টব্রমের হয়ে ২০২১ সালে সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তাঁর। ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন দুটি ম্যাচ।

আর্সেনালের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচ দিয়ে ওয়েস্টব্রমের মূল দলে অভিষেক হয় ক্যাস্ত্রোর। এরপর সোয়ানসি সিটির বিপক্ষেও মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ওয়েস্টব্রম থেকে ধারে বার্টন অ্যালবিয়ন, নটস কাউন্টি ও গেটসহেডে খেলেছেন এই ফুটবলার।

পরে ইয়র্ক সিটি, চিপেনহ্যাম টাউন, ক্যামব্রিজ সিটি ও ইস্টবোর্ন বরোর মতো ইংলিশ ক্লাবেও খেলেছেন ক্যাস্ত্রো। গত মাসে যোগ দিয়েছিলেন রিয়াল স্পোর্টে। কিন্তু নতুন ক্লাবে তাঁর পথচলা থেমে গেল মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।

ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ওয়েস্টব্রম। তাঁর স্মরণে বার্নলির বিপক্ষে আজকের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের ২৫তম মিনিটে এক মিনিট করতালি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাবটি। এ ছাড়া কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন ওয়েস্টব্রমের খেলোয়াড়েরা।

টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬ষ্ঠ স্থানে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগিয়ে ৬ষ্ঠ স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। এতদিন ৯ম স্থানে থাকা বাংলাদেশ ৩ ধাপ এগিয়ে উঠে এলো ৬ষ্ঠ স্থানে। তবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশে হেরেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অর্থাত ইতিহাসে প্রথমবার দু’দিনেই টেস্ট হারল ইনিংস এবং ৫১ রানের ব্যবধানে।

এর আগে সফরের শুরুটা একপেশে দাপট দেখিয়ে। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার তাদের মাটিতে হারিয়ে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ইতিহাসের স্মরণীয় অবস্থানে উঠেছে।

ম্যাকাই টেস্ট শেষ হতেই আজ (রোববার) আইসিসি তাদের দলীয় টেস্ট র‌্যাঙ্কিং হালনাগাদ করেছে। যেখানে বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়ে উঠেছে ষষ্ঠ স্থানে। এর আগে টেস্ট ফরম্যাটে কখনোই এত উঁচুতে যেতে পারেনি টাইগাররা। এই মুহূর্তে নাজমুল হাসান শান্তদের রেটিং পয়েন্ট ৭৮।

তবে বাংলাদেশের এই অবস্থান হয়তো বেশি সময় স্থায়ী হবে না। কারণ রেটিং পয়েন্টে তাদের সঙ্গে পরবর্তী তিনটি দলের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট। বাংলাদেশ ছয়ে ওঠায় অবনতি হয়েছে সেই তিন দলের। একধাপ অবনতির পর যথাক্রমে সাতে শ্রীলঙ্কা (৭৬ রেটিং), আটে পাকিস্তান (৭৫ রেটিং) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৭৪ রেটিং) নয় নম্বরে নেমে গেছে।

পুরুষ ক্রিকেটের টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে যথাক্রমে অবস্থান করছে– অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড। মূলত নম্বর ওয়ান দল অজিদের ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটে হারানোর পুরস্কারই পেল বাংলাদেশ। ম্যাকাই টেস্টে জিততে পারলে রেটিং পয়েন্টে তারা আরও এগিয়ে যেতে পারত।

এদিকে, এর আগে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সেরা অবস্থান ছিল সপ্তম। ঘরের মাঠে গত মে মাসে পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। এরপরই তারা প্রথমবারের মতো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বরে উঠেছিল। তবে রেটিং ব্যবধান কম থাকায় অবনতি হতে সময় লাগেনি। এর মাঝে জিম্বাবুয়েতে গিয়ে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে হেরেছিল বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ায় আসতে ২৩ বছর অপেক্ষা করতে চান না শান্ত

২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ডারউইন ও কেয়ার্নসে সেই সফরের দুটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল তারা। ‘ছোট দল’ হিসেবে ভারত, ইংল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো নিয়মিত অস্ট্রেলিয়ায় খেলার সুযোগও হয়নি বাংলাদেশের। দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়া সফরে আসতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩ বছর। তবে এবার সুযোগ পেয়েই ডারউইনে চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

অবশ্য ম্যাকাইয়ে এসে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি তারা। আজ রোববার দুই দিনেই শেষ হয়েছে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ায় আবারও খেলার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। একই সঙ্গে দলের ব্যর্থতার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনকে ব্যাটারদের জন্য কঠিন মনে হয়েছে শান্তর। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি অস্ট্রেলিয়া কত ভালো দল। তারা তাদের চেহারা দেখিয়েছে। এই টেস্ট ম্যাচে আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারিনি। এটা ছিল ভিন্ন কন্ডিশন। বাতাসে একটু হালকা বাড়তি বাউন্স ও সুইং ছিল। আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল।’

এই ধরনের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিয়মিত খেলার বিকল্প দেখছেন না শান্ত। তাঁর মতে, ‘দল হিসেবে এগিয়ে যেতে হলে এই ধরনের কন্ডিশন মোকাবেলা করতে হবে আমাদের। আমি মনে করি, এই অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। সব ব্যাটারের জন্যই এটা বেশ কঠিন ছিল। তাদের ব্যাটিংও শরিফুলের কারণে অস্বস্তিতে পড়েছিল। সত্যি কথা বলতে, এই কন্ডিশনে ব্যাট করা বেশ কঠিন।’

তবে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আরও উন্নতি করবে বলে বিশ্বাস শান্তর। তাই পরবর্তী সফরের জন্য আর ২৩ বছর অপেক্ষা করতে চান না তিনি।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত হতে হবে এবং আমি বিশ্বাস করি, একই কন্ডিশনে যদি আমরা আরও বেশি সুযোগ পাই, এটা আমাদের সাহায্য করবে। আমরা সেটাই চাই। এখানে আসার জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করার দরকার নেই। আমরা যদি প্রায়ই এখানে আসার সুযোগ পাই, আমাদের খেলার উন্নতি হবে।’

ম্যাকাইয়ে ব্যাটিং ধস, ইনিংস ও ৫১ রানে হার বাংলাদেশের

0

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকাইয়ে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই চরম ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়েছে ম্যাচ। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাকাইয়ের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। জবাবে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়াও বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। ২১০ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। ফলে ১৪৬ রানের লিড পায় অস্ট্রেলিয়া।

এই জায়গা থেকে বাংলাদেশের সামনে ছিল ম্যাচ বাঁচানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ের চিত্র বদলায়নি। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে মাত্র ৯৫ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মিচেল স্টার্ক। তৃতীয় ওভারে টানা দুই বলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে বড় ধাক্কা দেন তিনি। সাদমানের ক্যাচ নেন মার্নাস লাবুশেন। পরের বলেই মুমিনুলের অফস্টাম্প উপড়ে দেন স্টার্ক। মাত্র ৫ রানেই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। স্টার্ককে টানা দুটি চার মেরে আত্মবিশ্বাস দেখান তিনি। কিন্তু তানজিদ হাসান তামিম বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি। প্যাট কামিন্সের বলে ৩৪ বলে ৯ রান করে ফিরে যান তিনি।

ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসা তানজিদ এরপর টানা দুই ইনিংসে শূন্য করার পর ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ রান করেন। ফলে দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর ব্যাট হাতে টানা তিন ইনিংসেই বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হন এই ওপেনার।

মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। দুজনের ২৭ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে সাময়িকভাবে স্থিরতা দেয়। কিন্তু নাথান লায়নের স্পিনে সেই জুটি ভেঙে যায়। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

মিচেল স্টার্কের বোলিংয়ে বোল্ড হন লিটন দাস। এর মধ্য দিয়ে টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।

এরপর প্যাট কামিন্সের একের পর এক আঘাতে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারও ভেঙে পড়ে। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন মাত্র ১ রান। হাসান মাহমুদের ব্যাট থেকে আসে ২ রান। শেষদিকে তাইজুল ইসলাম ৭ রান করে স্টার্কের বলে বোল্ড হলে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি নিশ্চিত হয়।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তাসকিন আহমেদ অপরাজিত ছিলেন ৮ রানে। কিন্তু দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে তাদের প্রতিরোধও পরাজয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।

ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শরিফুল ইসলামের অসাধারণ বোলিং। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার। এটি টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সগুলোর একটি। তার দুর্দান্ত স্পেলে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানের মধ্যেই আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ক্যামেরন গ্রিন। তার ৬৭ রানের ইনিংস স্বাগতিকদের লিড বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে অলআউট হয়। গ্রিনকে প্রথমে এলবিডব্লিউ দেননি আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। পরে বাংলাদেশের রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলায়।

অস্ট্রেলিয়ার শেষ দিকের ব্যাটারদের মধ্যে নাথান লায়ন অপরাজিত ৩২ রান করেন। জশ হ্যাজেলউড যোগ করেন ৬ রান। তাদের অবদানে অস্ট্রেলিয়ার লিড আরও বাড়ে এবং বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি কঠিন হয়ে পড়ে।

ম্যাকাইয়ের আগে ডারউইনে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। সেই জয়ের সুবাদে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামে শান্তর দল।

কিন্তু ম্যাকাইয়ে দুই ইনিংসেই ব্যাটিংয়ের চরম ব্যর্থতা বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানের বড় জয় নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। ইতিহাসের সিরিজ জয় না এলেও ডারউইনের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফিরছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

  • অস্ট্রেলিয়া: ২১০ রান
    • ক্যামেরন গ্রিন: ৬৭
    • স্টিভ স্মিথ: ৪২
    • শরিফুল ইসলাম: ৭/৪৮
  • বাংলাদেশ, প্রথম ইনিংস: ৬৪ রান
    • মিচেল স্টার্ক: ৬/১২
    • প্যাট কামিন্স: ৩/২৫
  • বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ইনিংস: ৯৫ রান
    • নাজমুল হোসেন শান্ত: ৩১
    • মিচেল স্টার্ক: ৪/৩৯
    • প্যাট কামিন্স: ৩/১০
    • নাথান লায়ন: ৩/২৫

ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়ী।

ম্যাকাইয়ে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ। রোববার টেস্টের তৃতীয় দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাংটিংয়ে নেমে ৭১ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এখনও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ৭৫ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ইনিংসে ব্যবধানে হার এড়াতে এই রান টপকাতে হবে বাংলাদেশকে। হাতে আছে মাত্র ৩ উইকেট।

এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যর্থ হয় টাইগাররা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া বড় স্কোর গড়তে পারেনি। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। এতে বাংলাদেশের চেয়ে ১৪৬ রানের লিড নেয় স্বাগতিকেরা। বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম একাই নিয়েছেন ৭ উইকেট।

অন্যদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছেন ১টি করে উইকেট। তবে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাংটিংয়ে নেমে আবারও ব্যর্থ বাংলাদেশ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইতিহাস গড়ে ৯ উইকেটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে লিটনের 0 0 0

অস্ট্রেলিয়া সফরে দুঃসময় যেন পিছু ছাড়ছে না লিটন দাসের। পায়ের চোটের কারণে প্রথম ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তাঁর। পরে দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে দলে ফেরানো হয় তাঁকে। কিন্তু মাঠে ফিরে এখন পর্যন্ত হতাশই করেছেন এই ব্যাটার। দুই টেস্টে তিন ইনিংস খেলেছেন, প্রতিবারই ফিরেছেন শূন্য রানে।

ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১২ বল খেলে মিচেল স্টার্কের বলে আউট হয়েছিলেন লিটন। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ৫ বল খেলে একই বোলারের শিকার হন তিনি। আজ দ্বিতীয় ইনিংসেও স্টার্কের কাছেই ফিরলেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।

ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনের ২৩তম ওভারে নিজের প্রথম বল খেলেন লিটন, বোলার স্টার্ক। ছয় বলের সেই ওভারে বেশ অস্বস্তিতেই ছিলেন তিনি। এর আগে স্টার্কের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ নিয়েছিলেন বেউ ওয়েবস্টার। ৪৬ বলে ৬ চারে ৩১ রান করে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলীয় ৫১ রানে বাজে শট খেলে স্টার্কের সহজ ক্যাচ হন তিনি।

এরপর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন লিটন। তবে সেই জুটিও বেশিক্ষণ টেকেনি। লিটন মোট ১০টি বল খেলেছেন স্টার্কের। প্রথম ৯ বল কোনোভাবে সামলে নিলেও দশম বলে তৃতীয় স্লিপে ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তাতেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তিন ইনিংসে তিনটি শূন্য নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো লিটনকে।

দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৯ রান। মুশফিক ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানের জবাবে ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ।

শুরু থেকেই স্টার্কের তোপে পড়ে সফরকারীরা। তৃতীয় ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার। প্রথমে সাদমান ইসলামকে ১ রানে পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ বানান। পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প উপড়ে দেন তিনি। ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর অধিনায়ক শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চারও মারেন তিনি। প্রায় একশ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে দলের রানের গতি বাড়াচ্ছিলেন শান্ত। তবে তাঁকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম।

অষ্টম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারির কাছে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ। ৩৪ বলে ৯ রান করে থামেন তিনি। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর টানা দুই ইনিংসে ডাক মেরেছিলেন তানজিদ। এবার রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ইতিহাস গড়েছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়েই অস্ট্রেলিয়া ২১০ রানে অলআউট হয়। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায়।

শরিফুলের ৭ উইকেটে প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে থামল অস্ট্রেলিয়া

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এতে বাংলাদেশের চেয়ে ১৪৬ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকেরা। বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম একাই নিয়েছেন ৭ উইকেট। অন্যদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।

দ্বিতীয় দিন ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। আগের দিন ফিফটি তুলে নেওয়া ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়নের ব্যাটে ভর করে লিডটা আরও বাড়িয়ে নেয় তারা। তবে শেষ পর্যন্ত শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২১০ রানে।

৬৭ রানে অপরাজিত থাকা গ্রিনকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি শরিফুল। ১০৫ বলে ৬৭ রান করা গ্রিনকে দারুণ এক ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। এরপর জশ হ্যাজলউডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। ১৮ বলে ৬ রান করে আউট হন হ্যাজলউড।

অন্য প্রান্তে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন নাথান লায়ন। ৬২ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে লায়নের লড়াই অস্ট্রেলিয়ার লিডকে খুব বেশি দূর নিতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানের জবাবে এখন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের পালা। আর প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের লিড নিয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে গুটিয়ে যায়।

মেসির গোল সত্ত্বেও হার মায়ামির

0

মেজর লিগ সকারে আবারও পয়েন্ট হারাল ইন্টার মায়ামি। নিজেদের মাঠে টরন্টো এফসির কাছে ২-১ গোলে হেরেছে লিওনেল মেসির দল। ম্যাচের তিনটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। টরন্টো প্রথমে দুই গোলের ব্যবধান গড়ে তোলার পর মেসি একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি মায়ামি।

প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের দেখা পায়নি। বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৯তম মিনিটে জশ সার্জেন্টের গোলে এগিয়ে যায় টরন্টো। ঘরের মাঠের দলটির সেই এগিয়ে যাওয়ার সুবিধা আরও বাড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই। ডেরিক এতিয়েনের গোলে ব্যবধান ২-০ করে টরন্টো।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে চাপের মুখে পড়ে ইন্টার মায়ামি। এরপর দলের ত্রাতা হয়ে ওঠার চেষ্টা করেন লিওনেল মেসি। সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলের সহায়তায় গোল করে ব্যবধান কমান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কিন্তু বাকি সময়ে আর সমতায় ফিরতে পারেনি মায়ামি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

ইন্টার মায়ামি ও টরেন্টো এফসি ম্যাচের লড়াই

এই হারে ইন্টার মায়ামির পয়েন্ট তালিকার অবস্থান অবশ্য বদলায়নি। ২১ ম্যাচে ১১ জয় ও ৬ ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট। ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে মেসির দল।

শীর্ষে থাকা নাশভিল এসসি ২০ ম্যাচে ১৪ জয় ও ৪ ড্রয়ে সংগ্রহ করেছে ৪৬ পয়েন্ট। ফলে মায়ামি দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখলেও শীর্ষ দলের সঙ্গে তাদের ব্যবধান এখন ৭ পয়েন্ট। অন্যদিকে ২১ ম্যাচ শেষে টরন্টোর এটি গুরুত্বপূর্ণ জয়; তাদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২৪ পয়েন্ট।

মেসির গোল মায়ামিকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত সেটি কেবল ব্যবধান কমানোর গোল হয়েই থাকল। বাবার মৃতু্যর পর মাঠে ফিরে টানা দ্বিতীয় গোল করলেন তিনি।