Home Blog Page 48

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বড় লাফ

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ের পুরস্কার মিলেছে আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়েও। ব্যাটিং ও বোলিং-দুই বিভাগেই বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটার এগিয়েছেন। সবচেয়ে বড় উন্নতি হয়েছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও পেয়েছে স্বীকৃতি। ডারউইন টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে আইসিসির সর্বশেষ প্রকাশিত খেলোয়াড় র‍্যাঙ্কিংয়ে।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম। সেঞ্চুরি করে র‍্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছেন তানজিদ। ৮৪ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন টেস্ট ব্যাটারদের তালিকায় ৮৮তম স্থানে।

অধিনায়ক শান্ত ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার সুবাদে এগিয়েছেন নয় ধাপ। তিনি এখন টেস্ট ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ২০তম। পাঁচ ধাপ উন্নতি করে মুমিনুল হক উঠেছেন ৩১তম স্থানে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম, ১৮তম স্থানে।

সাদমান ইসলামও এগিয়েছেন তিন ধাপ। তিনি এখন ৫৮তম। মেহেদী হাসান মিরাজ পাঁচ ধাপ এগিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ৫৯তম স্থানে। অন্যদিকে ব্যর্থতার কারণে পাঁচ ধাপ পিছিয়েছেন লিটন দাস। তাঁর অবস্থান এখন ২৮তম।

টেস্ট ব্যাটারদের শীর্ষস্থানেও এসেছে পরিবর্তন। ডারউইন টেস্টে দুই ইনিংসে মাত্র ২২ ও ১৭ রান করার পর তিন ধাপ পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমেছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। তাঁর জায়গা দখল করেছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক। দ্বিতীয় স্থানে জো রুট এবং তৃতীয় স্থানে আছেন স্টিভ স্মিথ।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উন্নতি হয়েছে। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ তিন ধাপ এগিয়ে এখন ২৪তম।

তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চমক হাসান মাহমুদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া এই পেসার এক লাফে ২৬ ধাপ এগিয়েছেন। তাঁর বর্তমান অবস্থান ৩৮তম।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে অবশ্য সবার ওপরে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তিনি আছেন ১১তম স্থানে। তাসকিন আহমেদ এক ধাপ এগিয়ে ৪৯তম এবং ইবাদত হোসেন চার ধাপ এগিয়ে ৮২তম স্থানে রয়েছেন।

টেস্ট বোলারদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের জাসপ্রীত বুমরাহ।

অলরাউন্ডারদের তালিকায়ও বাংলাদেশের মিরাজ রয়েছেন ওপরের দিকে। অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও ৩২০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি আছেন তৃতীয় স্থানে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেনের রেটিং ৩৪৪। ফলে পরের টেস্টে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে ব্যবধান আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে মিরাজের।

সব মিলিয়ে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর প্রভাব শুধু দলীয় সাফল্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্যক্তিগত র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পারফরম্যান্স আরও ভালো হলে র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সুতারের ১০ উইকেটে বড় জয় ভারতের

গলের ধীরগতির উইকেটে শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ ভেঙে ১৬৫ রানের বড় জয় পেয়েছে ভারত। শেষ দিনে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৬ উইকেট। তবে লঙ্কান ব্যাটারদের দৃঢ় প্রতিরোধে ম্যাচ গড়ায় দীর্ঘ লড়াইয়ে। শেষ পর্যন্ত মানভ সুতুরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে নতুন বল ছাড়াই জয় নিশ্চিত করে ভারত।

প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রান করার পর শ্রীলঙ্কাকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় ভারত। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৩ রান করে ভারত। ফলে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭২ রান। চতুর্থ দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ২০৬ রানে ৪ উইকেট। শেষ দিনে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল বাকি ৬ উইকেট। শুরুতে মোহাম্মদ সিরাজ ও রবীন্দ্র জাদেজা এক প্রান্ত থেকে চাপ তৈরি করেন। অন্যদিকে সোনাল দিনুশা ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা প্রতিরোধ গড়ে অর্ধশতক তুলে নেন।

তবে জাদেজার স্পিনে ভাঙে এই জুটি। বড় টার্নের পরের বলটি একটু ধীরগতিতে করে ধনঞ্জয়াকে সুইপ খেলতে বাধ্য করেন তিনি। টপ-এজ হয়ে ক্যাচ যায় হাতে। এরপর নীরোশান ডিকভেলা বেশ অস্বস্তিতে ব্যাট করেন। কুলদীপ যাদবের বলে রিভার্স সুইপ ও সুইপের চেষ্টা করেন তিনি। প্রাসিধ কৃষ্ণের শর্ট বলেও বারবার ক্রিজে অবস্থান বদলাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে কথার লড়াইয়ের পর হুক খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডিকভেলা।

এরপরও দিনুশা ও কেশারা নুয়ান্থা ১৫ ওভার লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু দিনুশার ভুলেই খুলে যায় ভারতের জয়ের দরজা। মানভ সুথার রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে লেগ সাইডের বাইরে বল করেন। অতিরিক্ত বাউন্সে বল ব্যাটের কানায় লেগে লেগ-গালিতে থাকা একমাত্র ক্যাচিং ফিল্ডারের হাতে যায়।

এরপর মাত্র ১০ বলের মধ্যে আরও তিন উইকেট তুলে নেন সুথার। তাঁর শেষ তিন শিকারই আসে প্রত্যাশার চেয়ে কম টার্নে। দ্রুতগতির ও স্কয়ার সিমে করা বলগুলোতে তিনি ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করেন। শেষ পর্যন্ত কেশারা নুয়ান্থাকে বোল্ড করে ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে ৫৫ রান খরচ করেন সুথার। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর শিকার ১০ উইকেট। দুই টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ উইকেটের কীর্তি।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দিনুশা প্রথম ইনিংসে ১০০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৮৪ রান করেন। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা করেন ৫৯। ভারতের হয়ে সুথারের পাশাপাশি জাদেজা তিনটি এবং প্রথম ইনিংসে সুথার চারটি উইকেট নেন।

তরুণ ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া ভারতের জন্য এই জয়টি বিশেষ স্বস্তির। ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক কন্ডিশনে সাম্প্রতিক সময়ে দুটি সিরিজ হারা দলটি এবার গলে দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সে বড় জয় তুলে নিল।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বসিত শরিফুল, লক্ষ্য সিরিজ জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের আনন্দ ছুঁয়ে গেছে শরিফুল ইসলামকেও। একাদশে সুযোগ না পেলেও সতীর্থদের অসাধারণ সাফল্যের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বসিত বাঁহাতি এই পেসার। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই ৯ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার দ্বিতীয় টেস্টেও ভালো পারফরম্যান্স করে সিরিজ নিশ্চিত করতে চান শরিফুল।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শরিফুল বলেন, ‘খুবই ভালো লেগেছে এরকম একটা জয়ের অংশ হতে পেরে। স্কোয়াডে না থাকলেও ছবির ভিতর তো অন্তত এসেছি। খুবই ভালো লাগছে। চেষ্টা করব এটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।’

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের তুলনায় ম্যাকাইয়ের আবহাওয়াও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক বলে মনে করেন শরিফুল। তিনি বলেন, ‘ডারউইনে এখান থেকে বেশি গরম ছিল। এখানের আবহাওয়া আমাদের জন্য ভালো, কারণ দেশে এখন অনেক গরম। সেই হিসেবে আমাদের জন্য উপযুক্ত।’

দীর্ঘ সফর না হলেও ফ্লাইট বিলম্বের কারণে যাত্রাপথ কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে বলেও জানান তিনি। শরিফুল বলেন, ‘দীর্ঘ সফর বলব না, তবে ফ্লাইট ডিলে হওয়ায় আমাদের ট্রানজিটটা বড় হয়েছে।’

বাংলাদেশের পেসারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে খুশি শরিফুল। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, ‘অবশ্যই, পেসাররা যখন ভালো করে অবশ্যই ভালো লাগে। তবে শুধু পেসার না, টিম বাংলাদেশ যখন ভালো করে, তখন আরও বেশি ভালো লাগে। কারণ আমরা ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করি, তখনই আমরা সুন্দরভাবে জয় ছিনিয়ে আনতে পারি।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের সাফল্যের পর এখন বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের সুযোগ। সেই লক্ষ্যেই দ্বিতীয় টেস্টে নিজেদের সেরাটা দিতে চান শরিফুল ও দলের অন্য সদস্যরা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে লজ্জার হার মানতে পারছেন না অস্ট্রেলিয়া কোচ

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের বড় হার এখনো মেনে নিতে পারছেন না অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। ঘরের মাঠে এমন পারফরম্যান্সে হতাশ এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। তাঁর মতে, প্রথম টেস্টে নিজেদের মান অনুযায়ী ক্রিকেট খেলতে পারেনি দল।

আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিং ও চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়া। তার ওপর ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরু করেছিল তারা। কিন্তু ডারউইনে মাঠের লড়াইয়ে পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিল স্বাগতিকেরা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। হাসান একাই নেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার পর বোলাররাও বাংলাদেশকে আটকে রাখতে পারেননি। বাংলাদেশ ৪২৮ রান তুলে নেয়, পায় ২২৮ রানের বড় লিড।

বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তৃতীয় দিন শেষে ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু শতকে শেষ পর্যন্ত সেই লজ্জা এড়ায় স্বাগতিকেরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। সেই লক্ষ্য অনায়াসে পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের প্রথম টেস্ট জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

এমন পারফরম্যান্সে হতাশ ম্যাকডোনাল্ড। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এই টেস্টে আমরা খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছি। এ ধরনের উইকেটে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০০ রানের কম করার মানে হচ্ছে, আমাদের অবশ্যই অনেক উন্নতি করতে হবে। এটা মেনে নেওয়া কঠিন। আমরা নিজেদের মান ধরে রাখতে পারিনি।’

বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার একাদশ নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। তবে একটি ম্যাচের ফলের পর আবেগের বশে দলে বড় পরিবর্তন আনতে চান না ম্যাকডোনাল্ড। দল নিয়ে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাই জানিয়েছেন তিনি।

ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘একটা ম্যাচ হারলেই আবেগপ্রবণ হয়ে সবকিছু বদলে ফেলা খুব সহজ। কিন্তু আমরা সেভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। দল নিয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করব। কোন পরিকল্পনায় খেললে দল সাফল্য পাবে, সেটা দেখব। দলে পরিবর্তন আনলে যদি সাফল্য আসে, তবে সেই পথেও হাঁটব আমরা।’

ডারউইনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টেই ঘুরে দাঁড়াতে চান ম্যাকডোনাল্ড। তবে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস এখন অনেক বেশি—এ কথা স্বীকার করতেও দ্বিধা করেননি তিনি।

‘প্রথম টেস্ট অতীত হলেও ওই ম্যাচ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আমার বিশ্বাস, ভুল শুধরে নিয়ে পরের টেস্টেই দল সাফল্যের ধারায় ফিরবে। তবে কাজটি সহজ হবে না। কারণ বাংলাদেশ দল এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং দুর্দান্ত ছন্দে আছে। এমন দলকে হারাতে হলে শতভাগ ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে,’ বলেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ।

বাংলাদেশের কাছে টেস্ট সিরিজ হার এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনের হার ভুলে সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে এবার ঘুরে দাঁড়াতেই হবে স্বাগতিকদের।

হাসানের বোলিংয়ে কিংবদন্তি ম্যাকগ্রাকে খুঁজে পেয়েছেন ফ্লেমিং

২০০৩ সালে ডারউইন ও কেয়ার্নসে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর সেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই ফিরে এসে ডারউইনে পেল অবিস্মরণীয় এক জয়। ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক সেই জয়ের পর প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও এসেছে প্রশংসা, বিশেষ করে তানজিদ হাসান তামিম ও হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্স নিয়ে।

‘ফাস্ট বোলিং কার্টেল’ পডকাস্টে বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তিন পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা, ডেমিয়েন ফ্লেমিং ও জেসন গিলেস্পি। আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে হাসান মাহমুদের বোলিং। তাঁর নিখুঁত লেংথ, নিয়ন্ত্রণ ও সিম মুভমেন্ট দেখে মুগ্ধ ফ্লেমিং তো সরাসরি তাঁকে তুলনা করেছেন ম্যাকগ্রার সঙ্গে।

ম্যাকগ্রার উপস্থিতিতেই ফ্লেমিং বলেন, ‘সে ম্যাকগ্রার মতো বল করেছে।’ হাসানের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় গুণ হিসেবে ফ্লেমিং দেখেছেন তাঁর লেংথের ধারাবাহিকতা। পিচে আর্দ্রতা থাকলেও অন্য অনেক বোলারের মতো শর্ট লেংথে না গিয়ে হাসান যে জায়গায় বারবার বল করেছেন, সেটিই মুগ্ধ করেছে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান পেসারকে।

ম্যাকগ্রাকে উদ্দেশ করে ফ্লেমিং বলেন, ‘হাসান মাহমুদ বোলিংয়ে একেবারে নিখুঁত লেংথটা খুঁজে পেয়েছিল। পিচে যখন কিছুটা আর্দ্রতা ছিল, তখন হয়তো অন্য কেউ একটু শর্ট লেংথে বল করে ফেলত। আমি নিশ্চিত নই তুমি কোনো হাইলাইটস দেখেছ কি না, তবে এটা ছিল একদম ম্যাকগ্রার মতো বোলিং। প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে সামনে নিয়ে আসা, লেংথ থেকে বলকে মুভ করানো এবং একই জায়গায় একটানা বোলিং করে যাওয়া-সবকিছুই ছিল দারুণ।’

বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরের সাফল্যকে শুধু দুই দলের ফল হিসেবে দেখছেন না ম্যাকগ্রা। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচক বার্তা।

ম্যাকগ্রা বলেন, ‘ক্রিকেটকে ভালোবাসে বাংলাদেশ। এর আগে তারা অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল ২৩ বছর আগে। বাংলাদেশ ভালো করতে পারবে না-এমন ধারণা থেকেই অস্ট্রেলিয়া এত বছর বাংলাদেশের সঙ্গে ঘরের মাঠে খেলেনি। এরপর তারা অস্ট্রেলিয়ায় এসে এমন পারফর্ম করল! এটা বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক দিক।’

ডারউইনের পর ম্যাকাই টেস্টেও বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা দেখছেন ম্যাকগ্রা। তাঁর আশা, ডারউইনের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে পরের ম্যাচেও বড় কিছু করতে পারে বাংলাদেশ।

‘ম্যাকাইয়েও যদি একই পারফরম্যান্স বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারে, তাহলে দারুণ কিছু পেতে পারে তারা’-বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি এই পেসার।

আইসিসি মাসসেরা খেলোয়াড়: পুরস্কারের জোড়া মুকুট ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরে

0

তানজিদ হাসানকে পেছনে ফেলে মাসসেরা হলেন জাস্টিন গ্রিভস

২০২৬ সালের জুলাই মাসের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে আইসিসির ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ (মাসসেরা খেলোয়াড়) বিজয়ী খেলোয়াড়দের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। পুরুষ বিভাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস এবং নারী বিভাগে ক্যারিবীয় দলপতি হেইলি ম্যাথিউস যৌথভাবে এই মাসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিজেদের করে নিয়েছেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক বিরল ‘ডাবল’ অর্জনের গৌরব অর্জন করল।

এটি প্রথমবার যেখানে একই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরুষ ও নারী, উভয় বিভাগের ক্রিকেটাররাই আইসিসির এই সম্মাননা জিতলেন। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পুরস্কারের ইতিহাসে পুরুষ ও নারী দল হিসেবে একই দেশের দুটি পুরস্কার জয়ের ঘটনা এটি নিয়ে মাত্র পঞ্চমবারের মতো ঘটল।

জাস্টিন গ্রিভসের প্রথম জয়

টেস্ট ক্রিকেটে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য জুলাই মাসের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন জাস্টিন গ্রিভস। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম আইসিসি মাসসেরার পুরস্কার। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এবং বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসানকে পেছনে ফেলে তিনি এই সম্মাননা অর্জন করেন।

জাস্টিন গ্রিভস

শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল ছিলেন গ্রিভস। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সফরকারীরা ৯ উইকেটে ৫৪৯ রান করার পর গ্রিভসের হার না মানা ১৮০ রানের অসাধারণ ইনিংসে ভর করে ম্যাচটি ড্র করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা নিশ্চিত করে দলটির ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়। এছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দলটির ৯০ রানের জয়ে বল হাতে তিনি প্রথম ইনিংসে ২৭ রানে ৫ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।

অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে গ্রিভস জানান, “ঘরের মাঠে ব্যাটে-বলে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারাটা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। টেস্ট ক্রিকেটে এমন প্রভাব বিস্তারকারী পারফরম্যান্স করতে পেরে আমি আনন্দিত।”

রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো সেরা হেইলি ম্যাথিউস

অন্যদিকে নারী বিভাগে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট এবং শ্রীলঙ্কার ব্যাটার হার্শিতা সামারাবিক্রমাকে পেছনে ফেলে রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো আইসিসি মাসসেরা খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন হেইলি ম্যাথিউস।

হ্যারি ব্রুক

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আইসিসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজের তিন ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে তিনি প্রথম দুই ম্যাচেই শতক হাঁকান। পুরো সিরিজে ১৩২.৫০ গড়ে ২৬৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও নিয়েছিলেন ৭টি উইকেট।

নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ম্যাথিউস বলেন, “পুনরায় আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার পেয়ে আমি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত। এটি আমাকে নিজের মান ধরে রাখতে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ে নিয়মিত অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।”

বিশ্বজুড়ে আইসিসির নিবন্ধিত ক্রিকেট ভক্তদের ভোট এবং সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়

রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে গুঞ্জন

0

তুর্কি এমপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবির পর ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়; তবে সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকার পক্ষ থেকে এখনো আসেনি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তি ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা রবার্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ঘিরে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। তবে এ খবরের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ, রবার্তো কার্লোস নিজে কিংবা তাঁর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত তুরস্কের সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে ঘিরে। সেখানে তিনি দাবি করেন, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তিত্ব ও ইসলামি পণ্ডিত শেখ জিহাদ হাম্মাদেহ তাঁকে রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের খবর জানিয়েছেন।

আলী শাহিনের দাবি, রবার্তো কার্লোস বেশ কিছুদিন ধরে ইসলাম সম্পর্কে জানাশোনা করছিলেন। পরে শেখ জিহাদ হাম্মাদেহের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। ব্রাজিলে তাদের সাক্ষাতের সময় কার্লোস শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলেও দাবি করেন তুর্কি এই এমপি।

তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা রবার্তো কার্লোসের নিজস্ব বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও ইসলাম গ্রহণ নিয়ে কোনো ঘোষণা দেখা যায়নি।

এদিকে মরক্কো বংশোদ্ভূত ফিফা এজেন্ট সুহায়লা আত তোহিরির সঙ্গে রবার্তো কার্লোসের ঘনিষ্ঠতা ও বিয়ের খবর প্রকাশের পর তাঁর ধর্মান্তরের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও তুর্কি কিছু সংবাদমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনের সঙ্গে ধর্মান্তরের দাবিকে যুক্ত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত পুরো বিষয়টি মূলত তৃতীয় পক্ষের দাবির ওপর নির্ভরশীল। রবার্তো কার্লোস, তাঁর পরিবার, ম্যানেজমেন্ট কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

ফলে আপাতত রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের খবরকে অনিশ্চিত দাবি বা গুঞ্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান তারকার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ইউএস ওপেনে ফিরছেন ভেনাস, অপেক্ষায় সেরেনা

0

বয়স ৪৬। একসময় যে মঞ্চে তিনি ছিলেন রাজত্বের অন্যতম দাবিদার, সেই ইউএস ওপেনেই আবার ফিরছেন ভেনাস উইলিয়ামস। যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস অ্যাসোসিয়েশন (ইউএসটিএ) তাঁকে দিয়েছে ওয়াইল্ডকার্ড। আর বোন সেরেনা উইলিয়ামসের জন্যও যেন দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নারী এককের একটি ওয়াইল্ডকার্ড এখনো বাকি-সেটি শেষ পর্যন্ত সেরেনার হাতে উঠবে কি না, সেই অপেক্ষা।

আগামী ৩০ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া ইউএস ওপেনের মূল পর্বে সরাসরি জায়গা পেয়েছেন ভেনাস ও ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন স্লোয়ান স্টিফেন্স। নিউইয়র্কের এই আসরে ভেনাসের অভিষেক হয়েছিল ২৯ বছর আগে, ১৯৯৭ সালে। অভিষেকেই ফাইনালে উঠে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। পরে ২০০০ ও ২০০১ সালে ফ্লাশিং মিডোসে টানা দুইবার জিতে নেন ক্যারিয়ারের সাত গ্র্যান্ড স্ল্যামের দুটি।

তবে এবারের প্রত্যাবর্তন আগের মতো সাফল্যের নিশ্চয়তা নিয়ে আসছে না। চলতি মৌসুমে একক ম্যাচে ১০ বার নেমে প্রতিবারই হেরেছেন ভেনাস। সর্বশেষ একক জয়টি এসেছিল ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়াশিংটনে। গ্র্যান্ড স্ল্যামে একক ম্যাচ জেতার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ-২০২১ সালের উইম্বলডনের পর আর কোনো জয় নেই।

তারপরও গত এক মাসে ওয়াশিংটন, টরন্টো ও সিনসিনাটিতে একক ও দ্বৈত-দুই বিভাগেই খেলেছেন ভেনাস। গত বছর ইউএস ওপেনের দ্বৈতে কানাডার লেইলা ফার্নান্দেজকে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছিলেন।

সেরেনা উইলিয়ামস ও ভেনাস উইলিয়ামস

বোন সেরেনার গল্পটাও যেন অসমাপ্ত এক প্রত্যাবর্তনের। ৪৪ বছর বয়সী ২৩ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী তারকা ২০২২ সালে ইউএস ওপেনেই ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট খেলেছেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু চার বছর পর জুনে আবার টেনিসে ফেরেন তিনি। উইম্বলডনে এককেও খেলেছেন, যদিও প্রথম রাউন্ডে হারের পর হাঁটুর চোটে ভেনাসের সঙ্গে দ্বৈত খেলাও বাতিল করতে হয়।

মঙ্গলবার সিনসিনাটি ওপেনে দুই বোন আবার একসঙ্গে কোর্টে ফেরেন। উত্তেজনাপূর্ণ তিন সেটের ম্যাচে হারলেও গ্যালারিতে ছিল উপচে পড়া দর্শক।

নারী দ্বৈতের ওয়াইল্ডকার্ড এখনো ঘোষণা হয়নি। পাশাপাশি ২৪ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া নতুন কাঠামোর মিশ্র দ্বৈত প্রতিযোগিতায়ও তিনটি জায়গা খালি রয়েছে। ফলে নিউইয়র্কে উইলিয়ামস বোনদের আরেকটি অধ্যায়ের সম্ভাবনা এখনো বেঁচে আছে।

পুরুষ এককে ফ্রান্সের গায়েল মঁফিসও পেয়েছেন ওয়াইল্ডকার্ড। ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন স্টান ভাভরিঙ্কার জন্যও একটি জায়গা খালি রয়েছে। বছরের শেষে অবসরের ঘোষণা দেওয়া সুইস তারকার শেষ ইউএস ওপেনও হতে পারে এটি।

শীর্ষের লড়াই নয়, তবু হেডিংলিতে আগুন জ্বালাতে প্রস্তুত দুই দল

0

টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে ইংল্যান্ডে। হেডিংলির আকাশে আবার ভেসে উঠছে লাল বলের ক্রিকেটের পরিচিত আবহ। তবে এবারের প্রত্যাবর্তনের গল্পটা একটু অন্য রকম। এখানে নেই শিরোপার লড়াই, নেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে ওঠার উত্তেজনা। বরং আছে দুই অস্থির দলের নিজেদের খুঁজে ফেরার গল্প। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান-বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান তালিকায় যথাক্রমে সপ্তম ও অষ্টম দল। আজ থেকে হেডিংলিতে মুখোমুখি তারা।

তালিকার অবস্থান হয়তো এই সিরিজকে ‘আন্ডারকার্ড’ বলে মনে করাতে পারে। দুই দলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও সেই অস্থিরতার ছবি আঁকে। ইংল্যান্ড শেষ ১০ টেস্টের মাত্র দুটিতে জিতেছে। পাকিস্তানের জয় দুইটি শেষ সাত টেস্টে। ইংল্যান্ড সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ২০২৪ সালের শেষ দিকে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আরও বড় দুশ্চিন্তা ইংল্যান্ডের জন্য-ঘরের মাঠে সর্বশেষ সিরিজেই তারা তিন টেস্টের সিরিজ হেরেছে, ২০১২ সালের পর ঘরের মাটিতে যা ছিল প্রথম এমন ঘটনা।

পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা অবশ্য কম নয়। ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জয় সেই ১৯৯৬ সালে। অর্থাৎ প্রায় তিন দশক ধরে এই কন্ডিশনে সাফল্যের অপেক্ষায় তারা। তবে পরিসংখ্যানের চেয়েও দুই দলের সাম্প্রতিক অস্থিরতা বেশি আলোচিত।

ইংল্যান্ডের গত কয়েক মাস যেন একের পর এক ঝড়ের ভেতর দিয়ে গেছে। টেস্ট দলের দীর্ঘদিনের অধিনায়ক বেন স্টোকস চোটের কারণে ছিটকে গেছেন, এরপর বিদায় নিয়েছেন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামও। অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও তাঁকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছিল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। নেতৃত্বের ভার আবার উঠেছে জো রুটের কাঁধে। অর্থাৎ ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে রুটের দ্বিতীয় অধিনায়কত্ব-অধ্যায় শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দলটি নিজেই নিজের পরিচয় খুঁজছে।

পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিতে পারেন শন মাসুদ

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে এখন যেন পুরোনো দর্শন আর নতুন বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দলটি। একসময় প্রতিটি পরিস্থিতিতে আক্রমণ, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা আর ভয়ডরহীন ক্রিকেট ছিল তাদের পরিচয়ের অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক ফল বলছে, সেই দর্শনের নতুন সংস্করণ এখনো জন্ম নেয়নি। জো রুট অবশ্য অতীত কিংবা ভবিষ্যতের দিকে না তাকিয়ে বর্তমানেই থাকতে চান। সিরিজ শুরুর আগে তাঁর কথাতেও সেই বার্তা, গত ছয় মাসের ব্যর্থতায় আটকে থাকা কিংবা আগামী ছয় মাসের ভাবনায় ডুবে যাওয়ার বদলে বর্তমানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

পাকিস্তানের গল্প আরও নাটকীয়। ২০২৩-২৪ মৌসুমের পর থেকে টেস্ট দলের কোচের আসনে বসেছেন পাঁচজন। জেসন গিলেস্পি থেকে আকিব জাভেদ- একেকজন এসেছেন, পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন, আবার সরে গেছেন। আকিবের অধীনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান পেয়েছিল বিশেষ সাফল্য। স্পিননির্ভর কৌশলে ‘আকিব-বল’ নামের নতুন এক ক্রিকেট দর্শন হাজির করে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল তারা। সেটিই ছিল অধিনায়ক শান মাসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একমাত্র টেস্ট সিরিজ জয়।

কিন্তু সেই অধ্যায়ও শেষ। মাসুদের অধিনায়কত্বের অবসান ঘটেছে, আবার নেতৃত্বে ফেরার কথা বাবর আজমের। অথচ সিরিজ শুরুর আগেই চোটে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন বাবর। ফলে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে সালমান আগাকে-টেস্টে প্রথমবারের মতো।

তবে অস্থিরতার মধ্যেও পাকিস্তানের জন্য আশার জায়গা আছে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে তাদের বোলাররা ঐতিহাসিকভাবেই বিপজ্জনক। এবার হয়তো অতীতের মতো গতির ঝড় নেই, কিন্তু মোহাম্মদ আব্বাস আছেন। তাঁর বোলিংয়ে আগুনের চেয়ে বেশি আছে অস্ত্রোপচারের সূক্ষ্মতা। বলকে ঠিক জায়গায় ফেলতে পারলে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের জন্য তিনি হয়ে উঠতে পারেন বড় হুমকি।

আর এবারের ইংলিশ গ্রীষ্মের আবহাওয়াও পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলতে পারে। দীর্ঘ খরা ও রেকর্ড উষ্ণতার পর লিডসে বৃষ্টি ফিরেছে। তবে শুষ্ক গ্রীষ্মের প্রভাব যদি পিচে থেকে যায় এবং উইকেট স্পিনবান্ধব হয়ে ওঠে, তাহলে পাকিস্তানের হাতে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর আরও একটি অস্ত্র থাকবে।

গল টেস্টে জয়ের পথে ভারত, শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ২৮৮ রান

0

গল টেস্টে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেছে ভারত। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ২৮৮ রান, হাতে আছে ৬ উইকেট। অন্যদিকে, ম্যাচ জিততে ভারতের দরকার আর মাত্র ৬ উইকেট।

চতুর্থ দিন শেষে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৮৪ রান। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ৩১ রানে অপরাজিত আছেন। ভারতের হয়ে মানব সুতার ২টি এবং মোহাম্মদ সিরাজ ও প্রসিধ কৃষ্ণ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৩ রানে অলআউট হয়। রিশভ পান্ত ঝোড়ো ৬৬ রানের ইনিংস ভারতকে বড় লিড এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৬৯ বলে ৬৬ রান করেন পান্ত। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। এ ইনিংসের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০০ ছক্কার মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। টেস্টে এখন তাঁর চেয়ে বেশি ছক্কা আছে মাত্র দুই ব্যাটারের।

ভারতের হয়ে দেবদূত পাড়িক্কাল করেন ৪৪ রান। লোকেশ রাহুলের সঙ্গে তাঁর ৬৫ রানের জুটি ভারতকে এগিয়ে দেয়। তবে লাঞ্চের দুই পাশে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় ভারত। রাহুল, পাড়িক্কাল, শুভমান গিল ও ধ্রুব জুরেল অল্প সময়ের ব্যবধানে ফিরে যান।

শ্রীলঙ্কার হয়ে অসিথা ফার্নান্দো ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। ঘরের মাঠে ২০১৯ সালের পর কোনো শ্রীলঙ্কান পেসারের এটিই সেরা বোলিং ফিগার।

ভারত শেষ পর্যন্ত ৩৭১ রানের লিড নিয়ে ইনিংস শেষ করে। ফলে শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭২ রান। তবে রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

মোহাম্মদ সিরাজের বোলিংয়ে নিশান মাদুশকা হুক করতে গিয়ে ক্যাচ দেন। এরপর অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা পাসিন্দু সূরিয়াবান্দারাকে বোল্ড করেন মানব সুতার। প্রসিধ কৃষ্ণের দুর্দান্ত স্পেলে কুশল মেন্ডিসও ফেরেন। পরে সুতারের বলে লাহিরু উদারাকে গালিতে ক্যাচ দেন ধ্রুব জুরেল।

দিনের শেষদিকে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি। তবে খারাপ আলোয় ৬টা ৮ মিনিটে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

চার দিন শেষে ম্যাচে মোট ২৮০ ওভার খেলা হয়েছে। শেষ দিনে আবহাওয়া ও আলোর পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ভারত প্রায় ৭০ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়ে শেষ সেশনে শ্রীলঙ্কার বাকি ব্যাটারদের চাপে ফেলতে পারবে ভারত।

গল টেস্টে তাই শেষ দিনে জমে উঠেছে রোমাঞ্চ। ইতিহাস গড়তে শ্রীলঙ্কার সামনে ২৮৮ রানের কঠিন সমীকরণ, আর ভারত তাকিয়ে আছে মাত্র ৬ উইকেটের দিকে।