Home Blog Page 51

এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানের নেতৃত্ব দিবেন দারবিশ রাসুলি

0

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ এশিয়ান গেমসের জন্য ১৫ সদস্যের ক্রিকেট দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান। বেশিরভাগই তরুণ ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটার নিয়ে গড়া এই দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে টপ অর্ডার ব্যাটার দারবিশ রাসুলি-কে। দলে রাখা হয়েছে ছয়জন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে, অর্থাৎ যারা এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ পাননি। এ ছাড়া আরও পাঁচজন ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ১০টিরও কম।

আফগানিস্তানের এবারের দলটিতে অভিজ্ঞতার জায়গায় মূল ভরসা থাকবেন অধিনায়ক রাসুলি, করিম জানাত ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। তাদের সঙ্গে একমাত্র অন্য ক্রিকেটার হিসেবে ১০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে নাঙ্গেলিয়া খারোতে-র। এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব দেয়ার কথা রয়েছে তার।

শাপাগিজা লিগের পারফরমারদের সুযোগ

এশিয়ান গেমসের দল নির্বাচনে আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা শাপাগিজা ক্রিকেট লিগের (এসসিএল) পারফরম্যান্সকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা সাম্প্রতিক সময়ে ভালো করেছেন, তাদের বেশ কয়েকজনকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ শাপাগিজা ক্রিকেট লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন মোহাম্মদ আকরাম। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি।

একই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের মালিক খালিদ তানিওয়ালকেও দলে নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য থাকা তরুণদের ওপরও আস্থা রেখেছে আফগানিস্তান।

টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার পেয়েই জাতীয় দলে ইসমাত

দলে জায়গা পেয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার ইসমাত আলম। আফগানিস্তানের হয়ে ইতোমধ্যে দুটি টেস্ট খেলেছেন তিনি। তবে এবারের দলে জায়গা পাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে শাপাগিজা ক্রিকেট লিগে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স।

সর্বশেষ এসসিএলে ২৯৪ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৯ উইকেট। ব্যাটিংয়ে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৮, আর বোলিং গড় ১৬ দশমিক ৭৭। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের জন্য টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারও জিতেছেন ইসমাত।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের নায়কও দলে

দলে সুযোগ পেয়েছেন ফয়সাল শিনোজাদা, যিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তরুণ এই ব্যাটারের ওপরও আস্থা রেখেছে আফগানিস্তান।

এ ছাড়া দলে আছেন আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর ছেলে হাসান ঈসাখাইল। তার জন্য এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।

শ্রীলঙ্কায় আলো ছড়ানো ফারমানউল্লাহও দলে

পেস বোলিং বিভাগে বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারেন ফারমানউল্লাহ। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত একদিনের ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ ও ভারত ‘এ’-এর বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তিনি।

সেই প্রতিযোগিতায় ১০ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন ফারমানউল্লাহ। তার সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কারও পেলেন এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা করে নিয়ে।

স্পিনে খারোতে, সঙ্গে আরব গুল

আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণের মূল দায়িত্ব থাকবে নাঙ্গিয়ালিয়া খারোতের ওপর। তার সঙ্গে দলে থাকা আরেকজন মূল স্পিনার হলেন লেগস্পিনার আরব গুল মোমান্দ।

অন্যদিকে পেস আক্রমণে ফারমানউল্লাহর সঙ্গে থাকবেন আবদুল্লাহ আহমাদজাই ও ফরিদুন দাউদজাই। অলরাউন্ডার ইসমাত আলম ও করিম জানাতও দলের পেস বোলিং বিকল্প হিসেবে থাকছেন।

অর্থাৎ তুলনামূলক তরুণ ও অনভিজ্ঞ দল হলেও আফগানিস্তান ব্যাটিং, স্পিন, পেস ও অলরাউন্ডার—সব বিভাগেই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে।

এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানের লক্ষ্য

২০২৬ এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হবে জাপানের আইচি-নাগোয়ায়। প্রতিযোগিতা চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এবার আফগানিস্তান যে দল পাঠাচ্ছে, সেখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সংখ্যা কম। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করা তরুণদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের জাতীয় দলের জন্যও একটি ভিত্তি তৈরি করতে চাইছে তারা।

অধিনায়ক দারবিশ রাসুলি, অভিজ্ঞ নাজিবউল্লাহ জাদরান ও করিম জানাতের পাশাপাশি শাপাগিজা লিগের সফল ক্রিকেটাররা দলটির নেতৃত্ব দেবে। বিশেষ করে ইসমাত আলম, মোহাম্মদ আকরাম, খালিদ তানিওয়াল ও ফারমানউল্লাহর মতো ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের ওপর নজর থাকবে।

এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর জন্য আফগানিস্তান দল

দারবিশ রাসুলি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ ইসহাক (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ আকরাম, হাসান ঈসাখাইল, খালিদ তানিওয়াল, ইমরান মির, ফয়সাল শিনোজাদা, নাজিবউল্লাহ জাদরান, ফারমানউল্লাহ, ইসমাত আলম, করিম জানাত, নাঙ্গেলিয়া খারোতে, আরব গুল মোমান্দ, ফরিদুন দাউদজাই ও আবদুল্লাহ আহমাদজাই।

টপ এন্ড টি-২০র চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের

প্রথমবার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ এইচপি দল এখন অস্ট্রেলিয়ায়। আসরেরপুরো টুর্নামেন্টই অনুষ্ঠিত হবে ডারউইনে। এরই মধ্যে সেখানে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। অনুশীলনের ফাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন এইচপি দলের অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি মনে করি প্রত্যেকবারই আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই এসেছিলাম। একবার রানার্স-আপ, আরেকবার হয়তো প্রথম রাউন্ডেই বাদ পেড়েছিলাম। আর এখন আমাদের লক্ষ্য থাকবে হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন হওয়া, তবে আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোনোর জন্য চেষ্টা করব।’

এইচপি দলের কোচিং প্যানেলে যুক্ত আছেন বাংলাদেশের সাবেক দুই তারকা ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস। এই দুজনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে এইচপির জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন শুক্কুর।

এ বিষয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘আপনারা যদি দেখেন দুজনেই কিন্তু এখনো ক্রিকেট পুরোটা ছাড়েনি, প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলছে। সুতরাং আমি মনে করি উনাদের মাঠের অভিজ্ঞতাটা আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খুব ভালো একটা জিনিস হবে।’

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে হলে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে পাওয়া এই জয় শুধু সিরিজে এগিয়ে দেয়নি, বাংলাদেশের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্নও জিইয়ে রেখেছে। রোববারের জয়ে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট পাওয়ার পরও টেবিলে অবস্থান বদলায়নি বাংলাদেশের, তবে পয়েন্টের শতাংশ (পিসিটি) বেড়ে হয়েছে ৬৬.৬৭।

চলমান ২০২৫–২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলেছে পাঁচটি টেস্ট। এর মধ্যে তিনটিতে জয়, একটিতে ড্র এবং একটিতে হার। ৪০ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। সামনে রয়েছে আরও সাতটি টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান সিরিজের শেষ টেস্টের পর বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ এবং সবশেষ ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ। অর্থাৎ ফাইনালের আগে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে মোট সাতটি টেস্ট।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে পয়েন্টের শতাংশ। অন্তত ৬০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালের দৌড়ে থাকার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বাকি সাত টেস্টে বাংলাদেশকে দারুণ ফল করতে হবে। হিসাব অনুযায়ী, আরও ৪৭ পয়েন্ট দরকার তাদের।

অর্থাৎ বাকি সাত ম্যাচের অন্তত চারটিতে জয় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য প্রায় অপরিহার্য। তিনটি জয় ও দুটি ড্র পেলে পিসিটি দাঁড়াবে ৫৮.৩৩ শতাংশে, যা ফাইনালের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই শুধু সিরিজ জেতাই নয়, বাকি ম্যাচগুলোতেও যত বেশি সম্ভব পয়েন্ট সংগ্রহ করতে হবে শান্ত-তাসকিনদের।

অবশ্য বাংলাদেশের সামনে কাজটি মোটেই সহজ নয়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের শেষ ম্যাচটি খেলতে হবে কেয়ার্নসে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। তার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেবে বাংলাদেশ।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে ২২ রানে হারলেও মিরপুরে ১০৮ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও সবশেষ টেস্টে জয় পেয়েছে তারা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কিংসটনে ক্যারিবীয়দের ১০১ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

তবে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১৬টি টেস্ট খেলেও একটিতেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। এবার তাদের মাটিতে সেই ইতিহাস বদলাতে পারলে ফাইনালের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে যাবে দলটি।

বর্তমান পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া ৭৭.৭৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা, তাদের পিসিটি ৭৫.০০। নিউজিল্যান্ড ৭২.২২ শতাংশ নিয়ে তৃতীয়। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ, ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে। ভারতের পিসিটি ৪৮.১৫, অবস্থান পঞ্চম।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু একটি টেস্ট জয় নয়; বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়েও নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে বাকি সাত টেস্টে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে হবে বাংলাদেশকে।

সিফার্টের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথমবার ‘দ্য হান্ড্রেড’ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস

0

টিম সিফার্টের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ইতিহাস গড়ল ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। লর্ডসে দ্য হান্ড্রেডের পুরুষ বিভাগের ফাইনালে ট্রেন্ট রকেটসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস।

ফাইনালে ট্রেন্ট রকেটসের দেওয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্য ২ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় সুপার জায়ান্টস। জয়ের নায়ক নিউজিল্যান্ডের টিম সিফার্ট। মাত্র ৩৮ বলে ৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে তিনি মেরেছেন ৭টি ছক্কা। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ম্যানচেস্টারের হাতে।

ট্রেন্ট রকেটস প্রথমে ব্যাট করে ১০০ বলে ৮ উইকেটে তোলে ১৫৮ রান। দলের হয়ে অ্যানিউরিন ডোনাল্ড ১৯ বলে ৩৮, লুইস গ্রেগরি ১৬ বলে ৩২ এবং বেন ডাকেট ৩১ রান করেন। ম্যানচেস্টারের হয়ে আফগানিস্তানের লেগস্পিনার নূর আহমেদ নেন ৩ উইকেট। পরে ১৫৯ রানের লক্ষ্যে নেমে সিফার্টের ব্যাটে ভর করে ৫ উইকেটের সহজ জয় পায় সুপার জায়ান্টস। ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে মোহাম্মদ আমির ৩ উইকেট নিলেও দলকে জেতাতে পারেননি।

তিন ম্যাচ হারের পর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের শিরোপা জয় এবারের মৌসুমের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। কেননা গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচ হেরে তারা বাদ পড়ার দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তোলে তারা।

এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সময় দলের নেতৃত্বেও আসে পরিবর্তন। ব্যক্তিগত কারণে এইডেন মার্করাম দেশে ফিরে যাওয়ার পর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেন জস বাটলার। এরপর বাটলারের নেতৃত্বেই বদলে যায় সুপার জায়ান্টসের ভাগ্য।

পুরো মৌসুমে দুর্দান্ত ছিলেন সিফার্টও। চারটি হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি এবং মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেন।

ওয়াল্টার-সিফার্ট জুটিই বদলে দেয় ম্যানচেস্টারের ভাগ্য

এইডেন মার্করামের অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে এসেক্সের পল ওয়াল্টারকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটিও ম্যানচেস্টারের জন্য বড় সাফল্য হয়ে আসে।

রকেটসের বিপক্ষে ফাইনালেও দ্রুত রান করেন ওয়াল্টার। মাত্র ১৪ বলে ২২ রান করেন তিনি। পাঁচ ইনিংসে তার মোট রান দাঁড়ায় ২৪৭, আর স্ট্রাইক রেট ছিল দুর্দান্ত ১৭৯।

বাঁহাতি ওয়াল্টার ও ডানহাতি সিফার্টের ওপেনিং জুটি পুরো টুর্নামেন্টেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করেছে। বাটলারও স্বীকার করেছেন, এই জুটি ম্যানচেস্টারের শিরোপা জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ফাইনালে দু’জন মিলে মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রান যোগ করেন। সিফার্ট ইনিংসের প্রথম বলেই কভার দিয়ে চার মারেন। চতুর্থ ওভারেই লেগ সাইড দিয়ে হাঁকান ছক্কা। এরপর বাটলারের সঙ্গে ছক্কার লড়াইয়ে নামেন তিনি।

বাটলার ৩৪ রানে লং-অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও সিফার্ট থামেননি। পরে লিউস ডু প্লয়ের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে যান।

শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আমিরের ওয়াইড ইয়র্কারে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন সিফার্ট। তার ৭২ রান দ্য হান্ড্রেড ফাইনালের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

শেষ মুহূর্তে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল সুপার জায়ান্টস

সিফার্ট আউট হওয়ার সময় ম্যানচেস্টারের প্রয়োজন ছিল ২২ বলে ২৩ রান। জয় তখন প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপর নাটক জমে ওঠে।

আমিরের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দেন হেনরিখ ক্লাসেন। এরপর মাইকেল ব্রেসওয়েলকে এলবিডব্লিউ করেন আমির।

অন্যদিকে বেন স্যান্ডারসনের বলে পরপর দুইবার শট মিস করেন লিয়াম ডসন। তবে শেষ পর্যন্ত ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বল সীমানা পার করে দেন তিনি। দুই বল বাকি থাকতেই ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন ডসন।

নূর আহমেদের স্পিনে বিপর্যস্ত রকেটস

এর আগে ট্রেন্ট রকেটসের ইনিংস শুরু হয়েছিল ভালোভাবেই। পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা তুলেছিল ৩৩ রান। অবশ্য ভাগ্যও সহায় ছিল রকেটসের। লিয়াম ডসনের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বেন ডাকেটের ক্যাচ শর্ট থার্ডম্যানে ফেলেন জশ টাং।

আফগান স্পিনার নূর আহমেদ

কিন্তু নূর আহমেদ বোলিংয়ে আসতেই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে যায়।

টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ সময় খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি নূর। গ্রুপ পর্বের আট ম্যাচ এবং এলিমিনেটর মিলিয়ে তার উইকেট ছিল মাত্র পাঁচটি। কিন্তু ফাইনালে নিজের সেরা পারফরম্যান্সটাই তুলে রাখেন আফগান স্পিনার।

প্রথম বলেই ফিন অ্যালেন লং-অফে ক্যাচ দেন। চতুর্থ বলে বেন ডাকেটের ভেতরের এজ ও প্যাডে লেগে বল চলে যায় বাটলারের হাতে। মাত্র চার বলের মধ্যে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে রকেটসকে বড় ধাক্কা দেন নূর।

ডোনাল্ডের পাল্টা আক্রমণ

তবে তিন নম্বরে নেমে অ্যানিউরিন ডোনাল্ড ব্যাট হাতে নূরকে পাল্টা আক্রমণ করেন। প্রথম বলেই ল্যাপ-সুইপে চার মারেন তিনি। এরপর নূর টানা দুই ওভার করতে এলে ছক্কা ও চার মেরে তার ওপর চাপ তৈরি করেন।

ডোনাল্ড পরে সনি বেকারের বলেও আরও দুটি বাউন্ডারি মারেন। কিন্তু মাঝের দিকে একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাম বিলিংস রানআউট হন। বল হাতে ডসন স্টাম্প ভাঙতে সক্ষম হন।

এরপর আবার আঘাত হানেন নূর। টিম ডেভিডের ব্যাট থেকে গুগলি এজ হয়ে বাটলারের হাতে যায়। পুরো মৌসুমে টিম ডেভিডের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে তাকে দলে নেওয়া হলেও মৌসুমে তার রান ছিল মাত্র ৯০।

এরপর ডসনকে আক্রমণ করতে গিয়ে নিজেই ইয়র্কারে উইকেট হারান ডোনাল্ড। মাত্র ১৯ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। ফলে মাত্র ৩২ বলের মধ্যবর্তী এক পর্যায়ে ৪৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে রকেটস।

গ্রেগরি-স্যান্টনারের লড়াই

রকেটসের ইনিংসকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো জায়গায় নিয়ে যান লুইস গ্রেগরি। গত মৌসুমে তিনি ম্যানচেস্টারের হয়ে খেলেছিলেন, তখন দলের নাম ছিল ম্যানচেস্টার অরিজিনালস। তবে দ্য হান্ড্রেডের শুরু থেকেই রকেটসের সঙ্গে ছিলেন এবং ২০২২ সালে দলটির অধিনায়ক হিসেবে শিরোপাও জিতেছিলেন।

ফাইনালে ম্যানচেস্টারের বিপক্ষে তিনি আবারও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গে মাত্র ২৫ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন গ্রেগরি।

নূর আহমেদের পরপর দুটি বলে বাউন্ডারি মেরে তার বোলিংয়ের হিসাবও কিছুটা খারাপ করে দেন। এরপর লেগ সাইডে টানা তিনটি ছক্কা মারেন গ্রেগরি।

শেষ পর্যন্ত টাংয়ের ধীরগতির বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ৩২ রান।

এরপর স্যান্টনার ও ক্রেইগ ওভারটন শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারি মেরে রকেটসকে দেড়শ রানের গণ্ডি পার করান। ইনিংসের শেষ দুই বলে উইকেট নেন সনি বেকার। তারপরও ১০০ বলে ১৫৮ রানকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোরই মনে হচ্ছিল।

কিন্তু সিফার্টের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত সেই স্কোর যথেষ্ট হয়নি।

ম্যানচেস্টারের ইতিহাসে প্রথম হান্ড্রেড শিরোপা

এই জয়ের মাধ্যমে দ্য হান্ড্রেডে প্রথমবারের মতো পুরুষ কিংবা নারী, ম্যানচেস্টারের কোনো দলই চ্যাম্পিয়ন হলো। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস ফ্র্যাঞ্চাইজির দীর্ঘ শিরোপা-খরাও কাটল।

ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ট্রফির অপেক্ষা ছিল সাতটি আইপিএল মৌসুম ও চারটি এসএ২০ মৌসুমজুড়ে। শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল লর্ডসে।

আর পুরো যাত্রার শেষ অধ্যায় লিখলেন টিম সিফার্ট। টানা তিন ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার উপক্রম হওয়া দলটিই শেষ পর্যন্ত টানা পাঁচ জয়ে প্রথমবারের মতো দ্য হান্ড্রেডের চ্যাম্পিয়ন হলো। যেখানে সিফার্টের ৩৮ বলে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস এবং নূর আহমেদের ৩ উইকেট বড় অবদান রেখেছে।

২৮ অক্টোবর শুরু নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুম

0

প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি সেন্ট্রাল ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস

নতুন মৌসুমের সূচি ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। আগামী ২৮ অক্টোবর ফোর্ড ট্রফির ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে দেশটির ২০২৬-২৭ ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুম। টানা তৃতীয় মৌসুমের মতো এবারও পুরুষদের একদিনের ক্রিকেটের এই প্রতিযোগিতাই হবে ঘরোয়া মৌসুমের প্রথম আসর।

ফোর্ড ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস এর মুখোমুখি হবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে।

প্রথম রাউন্ডে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে। অকল্যান্ড খেলবে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে, আর ওয়েলিংটনের প্রতিপক্ষ ওটাগো।

২৮ অক্টোবর শুরু ১০ রাউন্ডের ফোর্ড ট্রফি

পুরুষদের ফোর্ড ট্রফিতে এবার মোট ১০ রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। গত কয়েক মৌসুমের মতো এবারও একই কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে।

প্রথম পাঁচ রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবর ও নভেম্বরজুড়ে। এরপর প্লাঙ্কেট শিল্ড ও সুপার স্ম্যাশের জন্য প্রতিযোগিতায় বিরতি থাকবে। ফেব্রুয়ারিতে আবার শুরু হবে ফোর্ড ট্রফি। এরপর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনালস উইকেন্ড।

অর্থাৎ নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমে তিন ফরম্যাটের প্রতিযোগিতাকে সমন্বয় করেই সূচি সাজানো হয়েছে।

মেয়েদের মৌসুম শুরু ১৪ নভেম্বর

পুরুষদের একদিনের প্রতিযোগিতার প্রায় দুই সপ্তাহ পর শুরু হবে নিউজিল্যান্ডের মেয়েদের ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুম।

১৪ নভেম্বর হ্যালিবার্টন জনস্টোন শিল্ড দিয়ে শুরু হবে মেয়েদের ঘরোয়া মৌসুম। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে সেন্ট্রাল হিন্ডসের বিপক্ষে।

পামারস্টন নর্থের ফিটজহারবার্ট পার্কে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

১৪টি ভেন্যুতে হবে ম্যাচ

পুরুষ ও নারী, দুই প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এবারের মৌসুমে মোট ১৪টি ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে অকল্যান্ডের কলিন মেইডেন পার্কও আবার সূচিতে ফিরছে।

২০২৩ সালের পর মাঠটির পুনর্নির্মাণের কারণে সেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। পুনর্নির্মাণ শেষে এবার আবার নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের ভেন্যুর তালিকায় ফিরছে ঐতিহাসিক মাঠটি।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান ক্রিকেট অপারেশনস কর্মকর্তা ক্যাথরিন ক্যাম্পবেল বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের যেকোনো অঞ্চলে বসবাসকারী দর্শকদের কাছাকাছি কোনো না কোনো মাঠে ফোর্ড ট্রফি কিংবা হ্যালিবার্টন জনস্টোন শিল্ডের ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকবে।

তিনি জানান, এবারের সূচিও সমর্থকদের দেশের সেরা ঘরোয়া ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সরাসরি দেখার সুযোগ করে দেবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভেন্যুতেও শীর্ষ মানের ক্রিকেট আয়োজন করা হবে।

আবারও একসঙ্গে ফাইনালস উইকেন্ড

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য ফোর্ড ট্রফির কম্বাইন্ড ফাইনালস উইকেন্ড এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। গত কয়েক মৌসুমে এই উদ্যোগ সফল হয়েছে বলে মনে করছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড।

এবারও একসঙ্গে ফাইনালস উইকেন্ড আয়োজন করা হবে। এর ভেন্যু হিসেবে থাকছে সেলো বেসিন রিজার্ভ।

ক্যাথরিন ক্যাম্পবেল বলেন, কম্বাইন্ড ফাইনালস উইকেন্ড সফল আয়োজন হিসেবে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। এবারও সেটি ফিরিয়ে আনতে তারা উচ্ছ্বসিত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচির সঙ্গেও এবারের ঘরোয়া মৌসুমের সময়সূচি ভালোভাবে সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। ফলে গ্রীষ্মের ব্যস্ত সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও দর্শকদের জন্য মানসম্পন্ন ম্যাচ থাকবে।

প্লাঙ্কেট শিল্ড ও সুপার স্ম্যাশের সূচি পরে

এখন পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি নিউজিল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্লাঙ্কেট শিল্ড এবং টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সুপার স্ম্যাশের পূর্ণাঙ্গ সূচি।

প্লাঙ্কেট শিল্ডের সূচি প্রকাশ করা হবে ২ সেপ্টেম্বর। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষদিকে ঘোষণা করা হবে সুপার স্ম্যাশের সূচি।

সব মিলিয়ে ২৮ অক্টোবর ফোর্ড ট্রফি দিয়ে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে প্লাঙ্কেট শিল্ড, সুপার স্ম্যাশ এবং হ্যালিবার্টন জনস্টোন শিল্ডের মাধ্যমে এগোবে নিউজিল্যান্ডের ২০২৬-২৭ ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুম। আর নতুন মৌসুমের শুরুতেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের লড়াই ঘিরে থাকবে বাড়তি আগ্রহ।

অস্ট্রেলিয়ায় এবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন মিরাজের

রেকর্ড গড়ে প্রথম টেস্টে জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ায় এবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন মিরাজের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জিততে পারলে আগামী বছরে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে টাইগারদের জন্য।

ডারউইন টেস্টে গতকাল চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আইসিসির ওয়েবসাইটকে সিরিজ জয়ের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন মিরাজ।

জাতীয় দলের এই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় টেস্টেও হারানোর মতো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ দল। প্রথম টেস্ট জয়ের পর এমন ভাবনাই অবশ্য স্বাভাবিক। মিরাজের ভাষায়, ‘অবশ্যই আমরা সেভাবেই (সিরিজ জয়) ভাবছি এবং আমরা যে প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছি, সেটিতেই মনোযোগ ধরে রাখতে চাই।’

এছাড়া মিরাজ বলেন, ‘যেহেতু আমরা প্রথম ম্যাচ জিতেছি, এখন সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। (তবে) টেস্ট ম্যাচ জেতা কখনোই সহজ নয়। এ মুহূর্তে আমরা শুধু ছান্দসিক ধারাটা ধরে রাখতে চাই, আর পরের ম্যাচ নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করব পরে।’

ম্যাকাইয়ে আগামী শনিবার শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ডারউইনে বাংলাদেশের জয়ে দারুণ পারফর্ম করেন মিরাজ। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে টেলএন্ডারদের নিয়ে লড়াই করে ফিফটি তুলে নেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৫ উইকেট। মিরাজের দুর্দান্ত এ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তানজিদ হাসান সেঞ্চুরি করলেও ম্যাচসেরা হন অস্ট্রেলিয়ার দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ।

ডারউইন টেস্টের আগে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে হারে বাংলাদেশ। মিরাজ জানান, প্রস্তুতি ম্যাচে হার দিয়ে সফর শুরু করলেও দলের সামর্থ্যের ওপর টিম ম্যানেজমেন্ট কখনো বিশ্বাস হারায়নি।

এছাড়া মিরাজের ভাষায়, ‘যখন আমি নিজেই ছন্দে ছিলাম না, তখন আমাদের টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল এই কন্ডিশনে কীভাবে খেলতে হবে, সে বিষয়ে আমাকে দারুণ উৎসাহ জুগিয়েছেন। মানসিকভাবে আমি বেশ স্বস্তিতে ছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। একপর্যায়ে তিনি নেটেও আমাকে বল করেন।’

লজ্জার হারের পর যে শাস্তির মুখে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল

ডারউইন টেস্টে টাইগারদের বিপক্ষে ৯ উইকেটে লজ্জা হারের পর শাস্তির মুখে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ধীরগতির ওভার রেটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করতে পারে আইসিসি।

ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের কাছে হারে প্যাট কামিন্সের দল। এই ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে নির্ধারিত ৯০ ওভারের চেয়ে ৪ ওভার কম বোলিং করেছে অস্ট্রেলিয়া। ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষ করে ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রানে।

দ্বিতীয় দিনে খেলা হয়েছে ৮৬ ওভারের। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার করে জরিমানা গুনতে হতে পারে।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টেস্টে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার করে বল করতে হয়। সে হিসাবে সারা দিনে অন্তত ৯০ ওভার খেলতে হয়। নিয়ম ভঙ্গের কারণে সর্বনিম্ন ৯০ ওভারের কোটা থেকে প্রতি ওভার কম হওয়ার জন্য ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ কেটে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ক্রিকেটের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যেক খেলোয়াড় টেস্টের জন্য ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা) পারিশ্রমিক পান। এর ৫ শতাংশ হলো ১ হাজার ডলার (প্রায় ৮৭ হাজার টাকা)। যেহেতু অস্ট্রেলিয়া দল চার ওভার কম বোলিং করেছে, তাই জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ হাজার ডলার (প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা) পর্যন্ত। সব মিলিয়ে জরিমানার অঙ্কটা হতে পারে মোট ৪৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা)।

অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরা জরিমানার মুখে পড়বেন কি না, তা নির্ধারণের সময় ভেন্যুর তাপমাত্রা এবং উইকেট পতনের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে পারেন ডারউইন টেস্টের ম্যাচ রেফারি। ডারউইনে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাই হয়তো তাঁদের এই শাস্তি থেকে বাঁচানোর একমাত্র ভরসা-খেলোয়াড়েরা এমনটাই আশা করছেন বলে জানিয়েছে নিউজ ডট কম এইউ।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, শুধু জরিমানা নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার ৪ পয়েন্টও কেটে নেওয়া হতে পারে। ৮৪ পয়েন্ট ও ৭৭.৭৮ শতাংশ জয় নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের কাছে হারের পর চাপে লাবুশেন, টেস্ট ক্যারিয়ারই কি এবার শঙ্কায়?

0

বাংলাদেশের কাছে ডারউইনে লজ্জাজনক হারের পর বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও স্বীকার করেছেন, দলে জায়গা ধরে রাখতে লাবুশেনের এখন ‘বড় রান’ করা জরুরি।

ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে লাবুশেন দুই ইনিংসে করেন ১ ও ৩১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১ রান করার সময় তাকে ভালো ছন্দেই দেখা যাচ্ছিল। বল ভালোভাবে দেখছিলেন, প্যাডের ওপরের বল ক্লিপ (ফ্লিক) করছিলেন এবং ব্যাকফুটে গিয়ে সোজা ব্যাটে শট খেলছিলেন। কিন্তু আবারও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন তিনি।

এই ৩১ রানই এখন লাবুশেনের জন্য বড় আক্ষেপের কারণ। কারণ, টেস্টে তার সেঞ্চুরি-খরা এখন ৪২ ইনিংসে পৌঁছেছে। সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে। এরপর ৪২ ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ২৫ দশমিক ৩২। এই সময়ে পেয়েছেন মাত্র নয়টি ফিফটি।

আবারও বাদ পড়ার শঙ্কা

লাবুশেনকে এর আগে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তখন তাকে নিজের ব্যাটিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন তিনি।

গত মৌসুমের শুরুতে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে শেফিল্ড শিল্ড ও ওয়ানডে ক্রিকেট মিলিয়ে মাত্র নয় ইনিংসে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেন লাবুশেন। সেই পারফরম্যান্সের জোরেই অ্যাশেজ সিরিজে আবার অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা করে নেন।

অ্যাশেজের শুরুতে দুটি ফিফটি করে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই ব্যাটে রান নেই। সর্বশেষ নয় টেস্ট ইনিংসে তার সংগ্রহ মাত্র ১৬৬ রান, গড় ১৮ দশমিক ৪৪। শেষ চার ইনিংসের তিনটিতে ৩০ রানের ঘর পার করলেও কোনোটিকেই ফিফটিতে রূপ দিতে পারেননি।

তাই বাংলাদেশ সিরিজের পর আবারও নির্বাচকদের কাঠগড়ায় লাবুশেন।

‘শেষ পর্যন্ত ৩১ রানই’

লাবুশেনের ব্যাটিং পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ ম্যাকডোনাল্ড। তবে তার মতে, ব্যাটিংয়ে উন্নতি কিংবা ভালো শুরুর চেয়ে শেষ পর্যন্ত রানটাই গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাকডোনাল্ড বলেন, লাবুশেনের দ্বিতীয় ইনিংসের ৩১ রান পর্যন্ত তাকে ভালোই মনে হচ্ছিল। তার মুভমেন্ট ভালো ছিল, প্যাডের বল ঠিকভাবে খেলছিলেন এবং সোজা ব্যাটে ব্যাকফুট থেকে শটও খেলছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি ৩১ রানই। বড় স্কোর নয়।

কোচ আরও জানান, লাবুশেন নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারছেন এবং হতাশ। তাকে ফর্মে ফেরাতে শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচিং স্টাফদেরও দায়িত্ব রয়েছে। লাবুশেন যে কিছু পরিবর্তন করেছেন, চাপের মধ্যেও তার কিছুটা প্রয়োগ করতে পেরেছেন—এটি ইতিবাচক দিক। তবে সেই পরিবর্তনের সুফল পেতে হলে সেটিকে বড় রানে পরিণত করতে হবে।

দ্বিতীয়বার বাদ পড়লে ফেরাটা কঠিন

লাবুশেনকে নিয়ে এবারের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব অন্যদের তুলনায় বেশি। কারণ, ৩২ বছর বয়সে ৬৪ টেস্ট খেলার পর যদি এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার দল থেকে বাদ পড়েন, তাহলে তার টেস্ট ক্যারিয়ারে ফেরাটা কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও লাবুশেন গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। স্টিভেন স্মিথ আর কতদিন টেস্ট খেলবেন, তা নিশ্চিত নয়। তাই স্মিথের বিদায়ের পর তিন নম্বর পজিশনে একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে লাবুশেনকে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা ছিল অস্ট্রেলিয়ার।

ওয়ানডেতেও একই ধরনের পরিকল্পনা ছিল। স্মিথ ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর লাবুশেনকে দলের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সফরেও ওয়ানডে দলে তার জায়গা ধরে রাখা হয়েছিল। এমনকি ফর্ম ভালো না থাকলেও তাকে বাদ না দিয়ে ব্যাটিং অর্ডারে সাত নম্বরে নামানো হয়েছিল। কারণ, আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় লাবুশেনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে অস্ট্রেলিয়া।

পরিবর্তনের দাবিতে চাপ বাড়ছে

বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়া দলে পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়েছে। তবে কোচ ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, জয় পেলেও দলের পরিবর্তনের দাবি ওঠে, তাই এমন হারের পর সেই দাবি ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

তার মতে, যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারছেন না, তাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে।

ওয়েদারাল্ডও চাপে

শুধু লাবুশেন নন, অস্ট্রেলিয়ার আরেক ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডও বড় চাপের মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তিনি করেন ২৩ ও শূন্য রান ।

জেক ওয়েদারাল্ডও টেস্ট শেষে চাপে পড়েছেন।

১২টি টেস্ট ইনিংস শেষে ওয়েদারাল্ডের ব্যাটিং গড় এখন মাত্র ২০ দশমিক ৩৬। অ্যাশেজের পর নিজের ব্যাটিং সেটআপে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। মূলত বারবার এলবিডব্লিউ হওয়ার সমস্যা কাটাতেই এই পরিবর্তন।

কিন্তু নতুন সেটআপের কারণে অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলার সিদ্ধান্তে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি এমন দুটি বলে আউট হয়েছেন, যেগুলোর একটি এজ হয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে যায় এবং অন্যটি ব্যাটে লেগে স্টাম্পে ফিরে আসে।

ম্যাকডোনাল্ড মনে করেন, ছোট নমুনা দেখে ওয়েদারাল্ডের নতুন পদ্ধতি সফল হয়েছে কি না, এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।

বিকল্প ব্যাটার কে?

লাবুশেন ও ওয়েদারাল্ডকে বাদ দিলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাদের জায়গায় খেলবেন কে?

বাংলাদেশ সিরিজের সময় ঘরোয়া ক্রিকেটও চলছে না। ফলে নির্বাচকদের হাতে বিকল্প খুব বেশি নেই। ১৩ সদস্যের দলে একমাত্র অতিরিক্ত ব্যাটার জশ ইংলিশ। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র ছয়বার টপ থ্রিতে ব্যাট করেছেন তিনি।

এর বাইরে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বর্ধিত দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছিলেন ম্যাট রেনশ ও কুপার কনোলি।

তিনজনের মধ্যে টপ থ্রিতে খেলার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে ৩০ বছর বয়সী রেনশকে। গত শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে ১০ ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ব্যাটিং গড় ছিল ৪৯ দশমিক ৯০, গত মৌসুমে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে শীর্ষ ২৫ জনের মধ্যে যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

ম্যাকেতে রেনশর রেকর্ডও ভালো। সেখানে তিনটি শেফিল্ড শিল্ড ইনিংসের দুটিতেই করেছেন সেঞ্চুরি, ১৭০ ও ১৩৫ রান।

তরুণদের সুযোগের দাবী, কিন্তু বিকল্প সীমিত

বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার দাবিও উঠেছে। কিন্তু নির্বাচকদের সামনে সমস্যাও আছে। কারণ, ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের দিক থেকে শক্তিশালী বিকল্প খুব বেশি নেই।

২২ বছর বয়সী কুপার কনোলি দুই মাস আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেছিলেন। কিন্তু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার টপ থ্রিতে ব্যাট করেছেন তিনি। এমনকি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখনো সেঞ্চুরি নেই তার।

স্যাম কনস্টাস ও ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচেও খুব একটা নজর কাড়তে পারেননি। তবে প্রাক-মৌসুমে নিজেদের নিয়ে কাজ করছেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের ভারত সফরে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের সঙ্গে তাদের পাঠানো হতে পারে।

‘পরবর্তী সিদ্ধান্তটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’

অস্ট্রেলিয়ার কোচ ম্যাকডোনাল্ডও স্বীকার করেছেন, দলের বয়স, বর্তমান পারফরম্যান্স এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের পর পরিস্থিতি, সবকিছু মিলিয়ে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবেই।

তার মতে, এই খেলোয়াড়দের সামনে এখনো অনেক ক্রিকেট বাকি। তবে দল কোন পথে এগোবে, সেটি ঠিক করাই এখন মূল বিষয়।

বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, সেটিও উল্লেখ করেছেন ম্যাকডোনাল্ড। তার ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট হারানো খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। এখন আবেগ সরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য।

আর সেই পথের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে লাবুশেন ও ওয়েদারাল্ডকে ঘিরে। ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টের আগে নির্বাচকদের বৈঠকেই নির্ধারিত হতে পারে তাদের ভবিষ্যৎ।

বিশেষ করে লাবুশেনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি হতে পারে তার টেস্ট ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। একদিকে ৬৪ টেস্টের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে দীর্ঘ সেঞ্চুরি-খরা ও টানা কম রান, বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের পর আবারও বাঁচা-মরার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার তিন নম্বর ব্যাটার।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে কাজ উপভোগ করছেন সাব্বির

বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের মেন্টর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে কাজ করে দারুণ উপভোগ করছেন সাব্বির রহমান। দীর্ঘদিনের সতীর্থ রিয়াদের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ ও নির্দেশনা কাজে দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ এইচপি দল। দলের সঙ্গে মেন্টর হিসেবে আছেন মাহমুদউল্লাহ। একই দলে সুযোগ পেয়েছেন সাব্বির রহমানও। সর্বশেষ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সুযোগ পেলেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি তিনি। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেয়েছেন সাব্বির।

দীর্ঘদিনের সতীর্থ মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডারউইনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সাব্বির বলেন, ‘রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ এক কথায় ফ্যান্টাস্টিক। যেভাবে আমাদের মনিটর করছেন, পার্ট বাই পার্ট বুঝিয়ে দিচ্ছেন-মনে হচ্ছে আমার কলিগই আমাকে বুঝাচ্ছেন। অনেক দিন খেলেছি উনার সঙ্গে। সাত-আট বছর খেলেছি। তাই খুব ফ্রিলি কথা বলতে পারছি। ফ্যান্টাস্টিক ওয়ার্ক।’

টপ এন্ড সিরিজে বাংলাদেশ এইচপি দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে আছেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস। দেশি কোচদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার বিসিবির উদ্যোগকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাব্বির।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এটা বড় অর্জন হবে। দেশি কোচরা প্লেয়ারদের চেনেন। যারা আসছেন, সবাই ১০-১২-১৫ বছর জাতীয় দলে খেলেছেন। এটা খুব ভালো উদ্যোগ। তামিম ভাই (বিসিবি সভাপতি) খুব ভালোভাবে এটা নিচ্ছেন। প্লেয়ারদের জন্য ভালো ব্যাপার।’

আগামী ২২ আগস্ট নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টপ এন্ড সিরিজে নিজেদের যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ এইচপি দল।

অস্ট্রেলিয়া জয় নিয়ে যা বললেন হাসান

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশের এই জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে এবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐতিহাসিক এই জয় নিয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন হাসান। একই সঙ্গে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম বল থেকেই লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ।

টেস্ট ম্যাচ জয়ের অনুভূতিটাই অন্য রকম বলে জানিয়েছেন হাসান। প্রতিপক্ষ যখন অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, তখন সেই অনুভূতি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে।

হাসান বলেন, ‘অসাধারণ লাগছে। আপনি যখন একটি টেস্ট ম্যাচ জিতবেন, অনুভূতিটাই অন্যরকম। আর প্রতিপক্ষ যদি বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হয় এবং তাদের বিপক্ষে আপনি ম্যাচ জিততে পারেন, তাহলে অনুভূতিটা একেবারেই অন্য এক পর্যায়ের।’

অস্ট্রেলিয়া সফরে আসার সময়ই এমন জয়ের কথা ভেবেছিলেন কি না, জানতে চাইলে হাসান জানান, ফলাফল নিয়ে বেশি না ভেবে প্রতিদিন নিজেদের উন্নতির দিকেই মনোযোগ ছিল দলের।

‘আমরা শুধু প্রতিদিন নিজেদের খেলা আরও উন্নতি, আরও ভালো করার কথা ভাবছিলাম। অনুশীলনে আসা, নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং ম্যাচে গিয়ে সেশন ধরে ধরে চিন্তা করা—এটাই আমাদের পরিকল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটার ফল এমন হয়েছে,’ বলেন তিনি।

ডারউইন টেস্টে টস জিতে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে বোলিংয়ের সুযোগ দেয়। সেই মুহূর্ত থেকেই ম্যাচে নিজেদের সুযোগ দেখেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। হাসানের ভাষায়, প্রথম বল থেকেই লড়াই করার মানসিকতা ছিল দলের।

তিনি বলেন, ‘আসলে প্রথম দিন থেকেই আমরা সেটা ভাবতে শুরু করেছিলাম। যখন তারা টস জিতে আমাদের বোলিংয়ে পাঠাল, তখনই আমরা ভাবতে শুরু করি যে, হ্যাঁ, এখন থেকেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রথম বল থেকেই আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। পুরো দিন আমরা এভাবেই এগিয়েছি।’

হাসানের ৯ উইকেটের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় ম্যাচে বড় লিড পায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ করে ৪২৬ রান। এতে ২২৮ রানের লিড পায় সফরকারীরা। বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেন তানজিদ হাসান। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪, মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫ এবং মুমিনুল হক ৪৯ রান করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ১০৪ রানের সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে অলআউট হয় তারা। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর দেশে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। ম্যাচ শেষে হাসানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন কি না।

হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ভিডিও কল পেয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। তিনি ভিডিও কলে কথা বলেছেন। এরপর সবাই আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল। তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে তিনি খুব খুশি। তিনি বাংলাদেশে আমাদের জন্য অপেক্ষা করবেন। আমরা সেখানে গেলে তার সঙ্গে দেখা হবে এবং ম্যাচটি নিয়ে আরও কিছু কথা বলব।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বড় অর্জন। একই সঙ্গে হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারেও ডারউইন টেস্ট হয়ে থাকল স্মরণীয় এক অধ্যায়।