Home Blog Page 52

ইউরোপসেরা পিএসজিকে হারিয়ে লেন্সের ট্রফি জয়

0

ইউরোপের মঞ্চে সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ঘরোয়া ফুটবলে ধাক্কা খেল প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ট্রফে দে শঁপিয়ঁর ফাইনালে প্রথমার্ধেই একজন খেলোয়াড় হারিয়েও ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে লেন্স। অধিনায়ক ফ্লোরিয়ান থোভাঁর একমাত্র গোলেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে গত মৌসুমের ফরাসি কাপজয়ী দলটি।

স্টাদ বলার্ত-দেলেলিসে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল পিএসজি। তবে প্রতিপক্ষের আধিপত্যের মধ্যেই ৩২ মিনিটে আচমকা গোল করে এগিয়ে যায় লেন্স। অধিনায়ক থোভাঁর ফিনিশে এগিয়ে গিয়ে স্বাগতিকরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে।

তবে গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিরতির মাত্র ছয় মিনিট আগে বড় ধাক্কা খায় লেন্স। মাগনেস আকলিউশের ওপর দেরিতে করা ট্যাকলের কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কিলিয়ান আন্তোনিও। ফলে ১০ জনের দল হয়ে যায় লেন্স। শেষ ৪৫ মিনিটে পিএসজির একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হয় তাদের।

একজন বেশি নিয়ে খেলেও সমতায় ফিরতে পারছিল না পিএসজি। গোলের সুযোগ তৈরি করলেও লেন্সের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ দিকে ফাবিয়ান রুইজ বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরানোর আনন্দ করেছিলেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ফলে ম্যাচে ফেরার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হয় পিএসজির।

পিএসজি’র বিপক্ষে জয়ে একমাত্র গোল করা ফ্লোরিয়ান থোভাঁর সঙ্গে সতীর্থরা

এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দুই দলই ১০ জনে নেমে আসে। খেলা শেষ হওয়ার মাত্র চার মিনিট আগে লেন্সের মিশাল স্কোরাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পিএসজির বদলি খেলোয়াড় নুনো মেন্দেসও লাল কার্ড দেখেন। ফলে শেষ বাঁশি বাজার সময় দুই দলের একজন করে খেলোয়াড় মাঠের বাইরে ছিলেন।

এই জয় লেন্সের জন্য বিশেষ তাৎপর্যের। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো কুপ দে ফ্রান্স জেতার পর এবার ট্রফে দে শঁপিয়ঁও ঘরে তুলল তারা। অর্থাৎ নতুন মৌসুমের শুরুতেই ফরাসি ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলকে হারিয়ে আরেকটি শিরোপা যোগ হলো তাদের ট্রফি ক্যাবিনেটে।

আরও উল্লেখযোগ্য, নতুন কোচ দিনো টপমোলারের অধীনে এটিই লেন্সের বড় সাফল্যগুলোর একটি। জুনে পিয়ের সেজের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেন টপমোলার। নতুন কোচের অধীনে প্রথম বড় পরীক্ষাতেই তাঁর দল দেখাল দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের মানসিকতা। বিশেষ করে প্রথমার্ধে লাল কার্ড দেখার পর প্রায় পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন নিয়ে পিএসজির আক্রমণ ঠেকিয়ে জয় তুলে নেওয়া ছিল তাদের সাফল্যের অন্যতম বড় দিক।

অন্যদিকে পিএসজির জন্য হারটি এল ইউরোপীয় সাফল্যের মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে। বুধবার সালজবুর্গে অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতেছিল তারা। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকার প্রত্যাশা থাকলেও ফরাসি মৌসুমের প্রথম বড় পরীক্ষায় লেন্সের কাছে হেরে গেল তারা।

ম্যানসিটিকে উড়িয়ে আর্সেনালের শিরোপার বার্তা

0

ইংলিশ ফুটবলের নতুন মৌসুমের পর্দা উঠল একতরফা লড়াইয়ে। প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল এফএ কাপজয়ী ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কমিউনিটি শিল্ড জিতে মৌসুম শুরুর আগেই বড় বার্তা দিল। কার্ডিফের প্রিন্সিপালিটি স্টেডিয়ামে মাত্র ২৪ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করে আর্সেনাল যে ঝড়ের সূচনা করেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই ঝড়েই উড়ে গেল ম্যানসিটি।

ম্যাচটি ছিল দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে গত মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগজয়ী আর্সেনাল, অন্যদিকে এফএ কাপের চ্যাম্পিয়ন ম্যানসিটি। নতুন মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলের বড় শিরোপার অন্যতম দুই দাবিদারের লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছিল কমিউনিটি শিল্ডকে। কিন্তু মাঠে আর্সেনালের আধিপত্যই ছিল চোখে পড়ার মতো।

২৩ সেকেন্ডে গোল

ম্যাচের মাত্র ২৩ সেকেন্ডে রিকার্দো কালাফিওরির গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। শুরুতেই গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ম্যানসিটি তেমন কোনো ধারালো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। বরং আর্সেনালের আক্রমণভাগ বারবার স্বাগতিকদের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছে।

২৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কাই হাভার্টজ। তাঁর হেড ম্যানসিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার হাত গলে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্সেনাল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তৃতীয় গোল

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে তৃতীয় গোল। ৪৮ মিনিটে ম্যানসিটির বক্সে অনেকটা বাধাহীনভাবে ঢুকে পড়েন আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। দোন্নারুম্মাকে অসাধারণ এক ডামিতে বসিয়ে দিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান তিনি। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় আর্সেনাল।

গোলের পর আর্সেনাল খেলোয়াড় রিকার্ডো

অন্যদিকে ম্যানসিটির আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। বিশ্বকাপের পর সদ্য অনুশীলনে ফেরা আর্লিং হালান্ডও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ৫৩ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগে মাত্র সাতবার বল স্পর্শ করেন নরওয়েজিয়ান তারকা। পুরো ম্যাচে ম্যানসিটি আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।

কোচকে ম্যানসিটি সমর্থকদের ব্যঙ্গ

ম্যাচের একপর্যায়ে আর্সেনালের সমর্থকেরা ম্যানসিটির নতুন কোচ এনজো মারেসকার উদ্দেশে ব্যঙ্গ করে ‘সকালে তোমাকে বরখাস্ত করা হবে’-স্লোগানও দেন। গার্দিওলা-পরবর্তী যুগে ম্যানসিটির প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই এমন পরাজয় তাই মারেসকার জন্য শুরুটা করে দিল দুঃস্বপ্নের মতো।

অন্যদিকে আর্সেনাল অধিনায়ক ওডেগার্ডের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, দল নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে এবং মৌসুম শুরুর জন্য প্রস্তুত। তাঁর কথায়, আর্সেনাল এবারও বড় কিছু করতে চায়।

প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্সেনালের প্রথম ম্যাচ শুক্রবার ঘরের মাঠে কভেন্ট্রির বিপক্ষে। দুই দিন পর ম্যানচেস্টার সিটির নতুন মৌসুম শুরু হবে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ঘরের মাঠে।

টিভিতে আজকের খেলা: ১৭ আগষ্ট ২০২৬

গলে চলছে শ্রীলঙ্কা-ভারত প্রথম টেস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকায় চার দিনের ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল।

ক্রিকেট
গল টেস্ট-৩য় দিন

শ্রীলঙ্কা-ভারত
সকাল ১০-১৫ মি., সনি স্পোর্টস ১

চার দিনের ম্যাচ (ইমার্জিং)
বাংলাদেশ-দ. আফ্রিকা
বেলা ১-৩০ মি., ইউটিউব/ক্রিকেটসাউথআফ্রিকা

ফুটবল
লা লিগা

দেপোর্তিভো-এলচে
রাত ১টা, বিগিন অ্যাপ

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ
কার্ডিফ-রেক্সহাম
রাত ১টা, ফ্যানকোড

অবসর নিচ্ছেন রোনালদো

0

ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ সময়টা বোধ হয় খুব কাছেই চলে এসেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ মৌসুমই সম্ভবত তার খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ বছর হতে যাচ্ছে।

তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি তিনি।

বিখ্যাত সাময়িকী ভোগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছেন, ‘সম্ভবত এটাই ফুটবলে আমার শেষ বছর। আমি এমন এক কীর্তি করে যেতে চাই, যা মানুষ আজীবন মনে রাখবে।’

অবসরের পরের জীবন নিয়েও ভাবছেন রোনালদো।

ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার পর কীভাবে সময় কাটাবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সামনে অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে।

রোনালদোর ভাষায়, ‘আমাকে ব্যস্ত রাখার মতো অনেক কিছু আছে। তাই শুধু একটি বিষয় বলাটা কঠিন। ফুটবল ছেড়ে দিলে জীবনে বড় একটি শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

সেই সময় আমাকে শুধু একটি উপায়ে নয়, বিভিন্নভাবে শূন্যতা পূরণ করতে হবে।’

অবসরের পর আরো আনন্দ করতে, বেশি ভ্রমণ করতে এবং নিজের পছন্দের প্যাডেল খেলা দেখতে ও খেলতে চান রোনালদো, ‘আমি আরো আনন্দ করতে চাই, আরো বেশি ভ্রমণ করতে চাই, প্যাডেল দেখতে ও খেলতে চাই, যেটা আমি সত্যিই পছন্দ করি। আর আমি যা অর্জন করেছি, সেগুলো উপভোগ করে যেতে চাই। এটা ২৫ বছরের পথচলা, যেখানে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।’

রোনালদোর এসব মন্তব্যের পর তার অবসর নিয়ে জল্পনা আরো জোরালো হয়েছে।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা রোনালদো ২০০২ সালে স্পোর্তিং লিসবনের হয়ে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। 

এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো ক্লাবে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন।

ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য পেলেও রোনালদোর ট্রফির তালিকায় নেই বিশ্বকাপ। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা ২০২৬ বিশ্বকাপেও পর্তুগালকে কাক্সিক্ষত সাফল্য এনে দিতে পারেননি। ফলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই ট্রফিটি তার অধরাই রয়ে গেছে। 

তবে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকা বিশাল। দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি এখন পর্যন্ত ৯৭৬ গোল করেছেন। সামনে তার অন্যতম বড় লক্ষ্য ১০০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া।

সম্প্রতি দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করেছেন রোনালদো

বার্সেলোনায় যেতে মরিয়া রদ্রি, ৭ কোটি ইউরোর প্রস্তাবে এগোচ্ছে চুক্তি

0

স্প্যানিশ ফুটবলে বড় এক দলবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বার্সেলোনা। আর কাতালান ক্লাবটির এই আগ্রহে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হয়ে উঠেছে খোদ রদ্রির ইচ্ছা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, বার্সেলোনায় যোগ দিতে বেশ আগ্রহী ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মিডফিল্ডার। এমনকি বার্সেলোনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই যোগাযোগ রাখছেন তিনি।

ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রদ্রি। স্পেন জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন ধরে খেলছেন তিনি। জাতীয় দলের সতীর্থদের মধ্যে বার্সেলোনার বেশ কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কই এবার বার্সেলোনায় তার সম্ভাব্য দলবদলের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রায় নিয়মিত মেসেজ আদান-প্রদান করছেন রদ্রি। স্পেন জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলার সুবাদে এরিক গার্সিয়া, দানি ওলমো, পেদ্রি, গাভি, লামিনে ইয়ামাল, ফারমিন লোপেজ, পাও কুবার্সি এবং গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার নিজের ইচ্ছার কথাও পরিষ্কার করেছেন রদ্রি।

বার্সার তৃতীয় প্রস্তাব

রদ্রিকে পেতে এরই মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে তৃতীয় প্রস্তাব দিয়েছে বার্সেলোনা। প্রথম দু’টি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এবার আরও বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি।

নতুন প্রস্তাবে রদ্রির জন্য ৭ কোটি ইউরো নিশ্চিত ট্রান্সফার ফি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর সঙ্গে পারফরম্যান্স ও অন্যান্য শর্তের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সব ভ্যারিয়েবল পূরণ হলে চুক্তির মোট মূল্য আরও বাড়তে পারে।

এর আগে বার্সেলোনার দুটি প্রস্তাব ম্যানচেস্টার সিটি গ্রহণ করেনি। সিটির চাওয়া মূল্য এবং বার্সেলোনার আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য থাকায় আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছিল। তবে তৃতীয় প্রস্তাবের পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

রদ্রির ইচ্ছাই বার্সার বড় শক্তি

দলবদলের বাজারে কোনো খেলোয়াড়ের নিজের আগ্রহ অনেক সময় চুক্তি সম্পন্নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রদ্রির ক্ষেত্রেও সেটিই দেখা যাচ্ছে। ম্যানচেস্টার সিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বার্সেলোনার প্রকল্পের প্রতি তার আগ্রহ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

বার্সার কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে দলটির খেলার ধরনও রদ্রিকে আকৃষ্ট করছে বলে জানা গেছে। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, পজেশন ধরে রাখা এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রদ্রির দক্ষতা বার্সেলোনার ফুটবল দর্শনের সঙ্গে ভালোভাবেই মানিয়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে পেদ্রির মতো একজন সৃজনশীল মিডফিল্ডারের পাশে রদ্রিকে খেলানো গেলে বার্সেলোনার মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী হতে পারে। রক্ষণে ভারসাম্য রাখার পাশাপাশি আক্রমণের শুরুতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন রদ্রি।

জাতীয় দলের বন্ধুত্ব এবার ক্লাব ফুটবলে প্রভাব ফেলছে

রদ্রির সম্ভাব্য বার্সেলোনা যাত্রায় স্পেন জাতীয় দলের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লা রোজাদের হয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার কারণে বার্সার অনেক ফুটবলারকে খুব কাছ থেকে চেনেন তিনি।

পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো ও লামিনে ইয়ামালের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও তার সম্পর্ক রয়েছে। জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে তৈরি হওয়া এই বন্ধুত্ব বার্সেলোনার পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে রদ্রিকে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে বার্সেলোনার খেলোয়াড়রাও রদ্রির সম্ভাব্য আগমনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে ইঙ্গিত মিলছে। যদিও দলবদল এখনো চূড়ান্ত হয়নি, রদ্রির নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি দুই পক্ষের আগ্রহের মাত্রা স্পষ্ট করছে।

এখনো বাকি চূড়ান্ত সমঝোতা

তবে সবকিছু ইতিবাচক দিকে এগোলেও রদ্রির বার্সেলোনা যাত্রা এখনো নিশ্চিত নয়। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চূড়ান্ত আর্থিক সমঝোতা করতে হবে বার্সেলোনাকে। তৃতীয় প্রস্তাবটি আগের দুটির তুলনায় বড় হলেও সিটি সেটি গ্রহণ করবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বার্সেলোনা চাইছে দ্রুত চুক্তিটি সম্পন্ন করতে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেওয়ার আগে আর্থিক ও ক্রীড়া, দুই দিকই বিবেচনা করবে।

সব মিলিয়ে রদ্রির বার্সেলোনা অধ্যায় এখনো নিশ্চিত না হলেও পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটাই এগিয়েছে। ৭ কোটি ইউরোর প্রস্তাব, দুই ক্লাবের চলমান আলোচনা এবং বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার রদ্রির প্রবল ইচ্ছা, এই তিন বিষয়ই দলবদলটিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

যদি শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, তাহলে রদ্রির বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া হবে ইউরোপের চলতি দলবদল মৌসুমের অন্যতম বড় ট্রান্সফার।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, সমালোচনায় অজি মিডিয়া

0

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে তোলপাড় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাঙ্গনে। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে এমন বড় পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং, দল নির্বাচন ও সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশটির গণমাধ্যম।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডটএইউ শিরোনাম করেছে, ‘অস্ট্রেলিয়ানরা অপমানিত, বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী’। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন-এবিসিও বলেছে, প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়াকে ছাপিয়ে গেছে। একই সঙ্গে নিজেদের শক্তির ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণেও অস্ট্রেলিয়া ভুগেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।

ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় মাত্র ১৯৮ রানে। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে একাই ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। জবাবে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রান এবং পায় ২২৮ রানের বিশাল লিড।

দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লড়াই করতে পারেনি। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। এক উইকেট হারিয়েই সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় টাইগাররা।

বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট সতর্ক করেছিলেন, বাংলাদেশের জয় ক্রিকেট বিশ্বে বড় ধরনের আলোড়ন তুলবে।

এই হারের পর সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়ে। দুই ইনিংসেই তাদের টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের বোলাররা নিয়মিত চাপ তৈরি করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেছেন।

হারের পর কোনো অজুহাত দেননি অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তিনি জানান, দলের প্রস্তুতি ভালোই ছিল। তবে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে এবং অস্ট্রেলিয়া যথেষ্ট সময় ব্যাট করতে পারেনি। পাশাপাশি বল হাতেও প্রয়োজনীয় সাফল্য পাওয়া যায়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলের কম্বিনেশন নিয়েও ভাবার ইঙ্গিত দিয়েছেন কামিন্স।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই পরাজয়ের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ বাংলাদেশ এর আগে কখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে ফিরে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়াকে চার দিনের মধ্যেই উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

এখন দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার হাতে সময় এক সপ্তাহেরও কম। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকেতে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ, এই ঐতিহাসিক জয়কে সিরিজ জয়ে রূপ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

0

ডারউইন থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে লেখা হলো নতুন ইতিহাস। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মারারা স্টেডিয়ামে চার দিনের লড়াইয়ে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই অস্ট্রেলিয়াকে টেক্কা দিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। চতুর্থ দিনের শুরুতেই সেই ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। জশ হ্যাজলউডের বলে শূন্য রানে বোল্ড হন তানজিদ হাসান তামিম। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সাদমান অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে, মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৩০ রান। শেষ চারটি রান আসে মুমিনুলের ব্যাট থেকেই।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের ভিত্তি অবশ্য তৈরি হয়েছিল প্রথম দিনেই। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। পেসার হাসান মাহমুদ ছিলেন আক্রমণের প্রধান নায়ক। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামিয়ে প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন হাসান।

এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ইতিহাস গড়েন তানজিদ হাসান। দ্বিতীয় দিনের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ১৯৭ বলে ১০১ রান করেন এই ওপেনার। আটটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসটি শুধু বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেয়নি, তৈরি করেছে নতুন রেকর্ডও-অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার তানজিদ। অধিনায়ক শান্ত ৮৪, মুমিনুল হক ৪৯ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫ রান করে তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জশ হ্যাজলউড ৮৯ রানে ৬ উইকেট নেন। এই ম্যাচেই ৩০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান অস্ট্রেলীয় পেসার।

মেহেদী হাসান মিরাজ

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। ক্যামেরন গ্রিনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি স্বাগতিকদের পতন কিছুটা বিলম্বিত করে। গ্রিন করেন তাঁর প্রথম ঘরের মাঠের টেস্ট সেঞ্চুরি। কিন্তু তাঁর লড়াইও অস্ট্রেলিয়াকে বড় লিড এনে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া, ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি নেন ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসের ৩ উইকেট মিলিয়ে ম্যাচে ৯ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ।

এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে বিশেষ এক অধ্যায়। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সফরে ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ১৩২ রানে হেরেছিল তারা। ২৩ বছর পর একই শহরে ফিরে সেই অস্ট্রেলিয়াকেই ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রতিশোধের গল্প লিখল বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের টেস্টে দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয়ই প্রথম। আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৯ উইকেটের এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিঃসন্দেহে অন্যতম বড় সাফল্য।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া:
১৯৮ ও ২৮৪
বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ৫৭/১
ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: বাংলাদেশ এগিয়ে ১-০
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: হাসান মাহমুদ

মেসির পেনাল্টি মিস, ন্যাশভিলের কাছে বিধ্বস্ত মায়ামি

0

ফুটবলে মেসির নামের পাশে ‘অসাধারণ’ শব্দটি যেন চিরচেনা। কিন্তু শনিবারের রাতটি ছিল তাঁর জন্য ঠিক উল্টো। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন টানা তৃতীয়বার। তাঁর ফেরার ম্যাচেই ইন্টার মায়ামি হেরেছে ৪-১ গোলে, ন্যাশভিল এসসির কাছে। এর মধ্য দিয়ে মায়ামিকে টানা তৃতীয় হার হজম করতে হলো।

জিওডিস পার্কে ম্যাচের ১৭ মিনিটে অ্যান্ডি নাহারের গোলে এগিয়ে যায় ন্যাশভিল। মাত্র ছয় মিনিট পরই সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় মায়ামি। পেনাল্টি থেকে গোল করার দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু আর্জেন্টাইন তারকার নিচু শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন ন্যাশভিল গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়াকে। ফিরতি বলে সার্জিও রেগিলন গোল করলেও ভিডিও পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল হয়-পেনাল্টি নেওয়ার সময় সতীর্থের আগেভাগে বক্সে ঢুকে পড়ার কারণে।

পেনাল্টিতে মেসির ব্যর্থতা বিরল

মেসির পেনাল্টি ব্যর্থতার এই ধারাটি বেশ বিরল। ইএসপিএন’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর এবারই প্রথম টানা তিনটি পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেজর লিগ সকারে অবশ্য ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের পর এটিই তাঁর প্রথম পেনাল্টি মিস।

তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মায়ামিকে সমতায় ফেরান তেলাসকো সেগোভিয়া। মেসির তৈরি করে দেওয়া সুযোগে দারুণ ফুটওয়ার্কে গোল করেন তিনি। মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারে মায়ামি।

বাস্তবে হলো ঠিক উল্টো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় ন্যাশভিল। সাবেক এমএলএস এমভিপি হানি মুখতার করেন জোড়া গোল। মাঝখানে সাম সারিজের দারুণ ব্যাকহিল ফিনিশে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। সারিজের গোলের আগে মেসি ফাউলের আবেদন করে রেফারির সঙ্গে তীব্রভাবে তর্ক করেন এবং দেখেন হলুদ কার্ড।

পেনাল্টি শট নিচ্ছেন মেসি

দ্বিতীয়ার্ধেও ব্যর্থ মেসি

ম্যাচের শেষ দিকেও ভাগ্য ফেরেনি মেসির। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে একই আক্রমণে তাঁর শট দুই পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর শেষ পর্যন্ত জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।

ন্যাশভিলের চতুর্থ গোলটিতেও মায়ামির ভুল ছিল বড় ভূমিকা। গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো নিজের বক্সের অনেক বাইরে এসে পিছলে পড়েন। ন্যাশভিল গোলরক্ষক শোয়াকের লম্বা কিক ধরে মুখতার প্রায় ফাঁকা জালে বল পাঠান। ছয় ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর ন্যাশভিলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল মায়ামি। ম্যাচটি জিতলে ন্যাশভিলকে টপকে ইস্টার্ন কনফারেন্স ও সাপোর্টার্স শিল্ডের শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল তাদের। কিন্তু বড় হারে এখন ন্যাশভিলের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে মায়ামি। নিয়মিত মৌসুমে বাকি ১৫ ম্যাচ।

এই ম্যাচটি মেসির জন্যও ছিল আবেগের। বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর প্রথমবার মায়ামির শুরুর একাদশে ফিরেছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর মন্টেরেরির বিপক্ষে ম্যাচে খেলেননি। এরপর লিওনের বিপক্ষে বুধবারের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। এবার ফিরলেন শুরু থেকেই, কিন্তু মাঠ ছাড়লেন হতাশা নিয়েই।

লিগস কাপ থেকে বিদায়

লিগস কাপে টানা দুই ম্যাচ হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এবার এমএলএসেও টানা তৃতীয় হার মায়ামির। সেই সঙ্গে মেসির রাতও শেষ হলো গোলহীন, পেনাল্টি মিস এবং বাতিল হওয়া গোলের হতাশায়। মায়ামির সামনে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দ্রুতই আসছে। বুধবার ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মাঠে খেলবে তারা। সেখানে মেসি ও তাঁর দল কীভাবে এই হতাশার জবাব দেয়, এখন সেটিই দেখার।

গ্রিনের প্রতিরোধেও ইনিংস হারের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

0

ডারউইনের আকাশে তখনও অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটু আলো। কিন্তু সেই আলো ক্রমেই ম্লান হয়ে আসছে। বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকেরা এখন দাঁড়িয়ে ইনিংস হারের দ্বারপ্রান্তে। চতুর্থ দিনের লাঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৪৩ রান। ইনিংস হার এড়াতে তাদের প্রয়োজন আরও ১৫ রান। হাতে মাত্র তিন উইকেট।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৪২৬ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৯৮ রানে। ফলে বাংলাদেশ পেয়েছিল ২২৮ রানের বিশাল লিড। সেই লিডের চাপ নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিনের শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের আভাস দিয়েছিল তারা। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই আবার ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং।

সকালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা আঁটসাঁট রেখেছেন আক্রমণ। গতকাল চার উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া আজ লাঞ্চের আগেই হারিয়েছে আরও তিনটি। ফলে ১৬১ থেকে ২৪৩-৭ উইকেটে থেমেছে তাদের প্রথম সেশনের পথচলা।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ার বিপদের মুহূর্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লড়াইটা এখনো টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। লাঞ্চে অপরাজিত ৮৫ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন গ্রিন। ১৭২ বলের ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ধৈর্য আর প্রতিরোধের বার্তা। অন্য প্রান্তে তাঁর সঙ্গী মিচেল স্টার্ক, অপরাজিত ১৪ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার আরও একটা উইকেট শিকারের পর বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডারদের উচ্ছ্বাস

বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লাঞ্চ পর্যন্ত ২৮ ওভারে ৫০ রান দিয়ে নিয়েছেন চার উইকেট। হাসান মাহমুদ পেয়েছেন দুটি।

বাংলাদেশের সামনে এখন অপেক্ষা কেবল তিনটি উইকেটের। আর অস্ট্রেলিয়ার সামনে ইনিংস হার থেকে বাঁচার জন্য মাত্র ১৫ রান। সেই ১৫ রান পেরোতে পারলেই অন্তত ইনিংস হার এড়াতে পারবে স্বাগতিকেরা। কিন্তু গ্রিন-স্টার্ক জুটি ভাঙলেই বাংলাদেশের সামনে খুলে যেতে পারে জয়ের দরজা।

ডারউইনের এই টেস্টে এরই মধ্যে বাংলাদেশ লিখেছে একাধিক নতুন গল্প। প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিমের শতক, হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং এবং ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছিল তারা। এখন সেই চাপ রূপ নিতে পারে ঐতিহাসিক জয়ে। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে শেষ সেশনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

আর অস্ট্রেলিয়ার শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন গ্রিন। তাঁর ব্যাট যতক্ষণ কথা বলবে, ততক্ষণ বেঁচে থাকবে স্বাগতিকদের আশা। কিন্তু ১৫ রান পেরোনোর আগেই যদি বাংলাদেশের বোলাররা শেষ তিনটি দরজা খুলে ফেলতে পারেন, ডারউইনে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেবে বাংলাদেশের এক অবিস্মরণীয় জয়।

লিডস টেস্টের আগে বাবরের হাতে চোট, উদ্বেগে পাকিস্তান

0

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজ শুরুর আগেই পাকিস্তান শিবিরে অস্বস্তির ছায়া। প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়েছেন অধিনায়ক বাবর আজম। ডান হাতে বলের আঘাত লাগার পর আর ব্যাট করেননি তিনি। দলের মেডিক্যাল স্টাফের পর্যবেক্ষণে আপাতত বিশ্রামে রাখা হয়েছে তাঁকে।

লিডসে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৯ আগস্ট। তার আগে শুক্রবার প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট করার সময় চোট পান বাবর। হাতে বল লাগার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিং ছেড়ে সাজঘরে ফিরে যান পাকিস্তান অধিনায়ক। গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের ঠিক আগে অধিনায়কের এই চোট স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে আপাতত বড় কোনো শঙ্কার কারণ দেখছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাবরের চোট পরীক্ষা করেছেন দলের চিকিৎসক। পিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, চোট গুরুতর নয়। সতর্কতা হিসেবে প্রফেশনাল কাউন্টি ক্লাব সিলেক্ট একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁকে আর না খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান দলের জন্য এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা-চোটটি গুরুতর নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। মেডিক্যাল স্টাফের তত্ত্বাবধানে থাকবেন বাবর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার থেকে অনুশীলনে ফেরার কথা তাঁর। এরপরই বোঝা যাবে লিডস টেস্টে তাঁর মাঠে নামার প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে।

পাকিস্তান টেস্ট দলের অধিনায়ক বাবর আজম

ইংল্যান্ড সফরের আগে বাবরের উপস্থিতি পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট ক্রিকেটে টানা ব্যর্থতার পর শান মাসুদকে সরিয়ে আবারও তাঁকে অধিনায়কত্বে ফিরিয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয়বার টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়েছিলেন বাবর। সেখানে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে।

সেই সিরিজের পর এবার সামনে ইংল্যান্ড। তিন টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচ লিডসে ১৯ আগস্ট। সিরিজ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে অধিনায়কের হাতে চোট তাই পাকিস্তানের প্রস্তুতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা হয়ে এসেছে। আপাতত দলের অপেক্ষা বাবরের দ্রুত সুস্থ হয়ে অনুশীলনে ফেরার। লিডসের লড়াইয়ে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণেই।