Home Blog Page 55

দুই বছর পর টেস্টের সেরা দশে বাবর

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় শুধু পাকিস্তানের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানই ঘটায়নি, র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় পুরস্কার এনে দিয়েছে দলটির ক্রিকেটারদের। সর্বশেষ আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় উন্নতি করেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম, ব্যাটার আবদুল্লাহ শফিক ও স্পিনার সাজিদ খান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৮ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। এর মধ্য দিয়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর দেশের বাইরে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। সেই ম্যাচে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বাবর ও শফিক। বল হাতে পাকিস্তানের সেরা পারফরমার ছিলেন সাজিদ।

দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৮৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন বাবর। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ২৪ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। দুই ইনিংসে কার্যকর অবদানের পুরস্কারও পেয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। সর্বশেষ টেস্ট ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১০ নম্বরে উঠে এসেছেন বাবর।

বাবরের জন্য এই প্রত্যাবর্তন বিশেষ তাৎপর্যের। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে সর্বশেষ টেস্ট ব্যাটারদের সেরা দশে ছিলেন তিনি। এরপর প্রায় দুই বছর পর আবারও র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে জায়গা করে নিলেন ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বড় অবদান অবশ্য এসেছে আবদুল্লাহ শফিকের কাছ থেকে। তিন নম্বরে নেমে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১৬০ রান করেন তিনি। দুর্দান্ত এই ইনিংসের সুবাদে টেস্ট ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৫ ধাপ লাফ দিয়ে ৩২ নম্বরে উঠে এসেছেন শফিক।

বল হাতে পাকিস্তানের সেরা ছিলেন সাজিদ খান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে নিয়মিত চাপ তৈরি করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও তুলে নেন ডানহাতি এই স্পিনার। তাঁর পারফরম্যান্সে টেস্ট বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে ৩০ নম্বরে উঠেছেন সাজিদ। টেস্ট অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও পাঁচ ধাপ উন্নতি করে ৩২ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

টেস্ট ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। বোলারদের তালিকায় শীর্ষে আছেন ভারতের পেসার। আর টেস্ট অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর জায়গা ধরে রেখেছেন ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা।

টেস্টের পাশাপাশি পরিবর্তন এসেছে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়েও। আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সাম্প্রতিক দুই ম্যাচের পর ওয়ানডে ব্যাটারদের তালিকায় উন্নতি করেছেন আফগানিস্তানের ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ।

বেলফাস্টে দ্বিতীয় ম্যাচে ৭১ রানের ইনিংস খেলার পর তিন ধাপ এগিয়ে ১১ নম্বরে উঠেছেন গুরবাজ। একই তালিকায় আফগানিস্তানের হাশমতউল্লাহ শাহিদি চার ধাপ এগিয়ে ৫০ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডের অলরাউন্ডার কার্টিস ক্যামফারও ওয়ানডেতে ফিরে ৫৯তম স্থানে উঠেছেন।

ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি টানা ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ফলে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত হয়েছে তাঁর।

অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের পেসার মার্ক অ্যাডায়ারও ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে পুনরায় জায়গা করে নিয়েছেন। ১৭ নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি।

৫ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চান শান্ত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচকে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লড়াই করতে চান শান্ত। তাঁর লক্ষ্য, পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলা।

বুধবার ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে উইকেট নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। উইকেটে ঘাস থাকায় দুই দলের ব্যাটার ও বোলারই সহায়তা পেতে পারেন বলে মনে করছেন তিনি। তবে বোলারদের জন্য সুবিধা কিছুটা বেশি থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

শান্ত বলেন, ‘উইকেট দেখে ভালোই মনে হচ্ছে। উইকেটে ঘাস আছে। মনে হয় বোলিং-ব্যাটিং দুই দিকেই সহায়তা থাকবে, তবে বোলাররা একটু বেশি সুবিধা পেতে পারে।’

উইকেটের চরিত্র বিবেচনায় একাদশে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনই নিশ্চিত করতে চাননি শান্ত। সাধারণত দুই স্পিনার ও তিন পেসার নিয়ে খেলার পরিকল্পনা থাকলেও ম্যাচের আগে কন্ডিশন আরেকবার দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শান্ত বলেন, ‘আমরা আগে সাধারণ কম্বিনেশনে খেলেছি, ২ স্পিনার, ৩ সিমার। তবে কালকের কন্ডিশন আবার দেখার সুযোগ রয়েছে, এরপর সিদ্ধান্ত নেব।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলার সুযোগকে বিশেষ কিছু হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২০০৩ সালে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ বিরতির পর আবার সেই সুযোগ পাওয়ায় রোমাঞ্চিত শান্ত।

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। ২৩ বছর আগে খেলেছিলাম, সৌভাগ্য যে আবার আসতে পেরেছি। আমরা লড়াই করতে চাই। অধিনায়ক হিসেবে আমরা ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। ভালো লাগছে। এখানে টেস্ট খেলা এক্সাইটিং। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ।’

টেস্টটি কত দিনে শেষ হবে, তা নিয়ে অবশ্য এখনই ভাবতে চান না শান্ত। ম্যাচের ফল বা স্থায়িত্বের চেয়ে প্রতিটি সেশনে ভালো ক্রিকেট খেলাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। পাঁচ দিন ধরে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চান তিনি।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা তো ৫ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই, সেশন বাই সেশন খেলতে চাই। প্রতিটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ। কয়দিন যাবে, এ ধরনের আলোচনা থাকবেই। আমাদের লক্ষ্য থাকবে কত ভালো খেলতে পারি।’

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ তাই ফলের হিসাবের চেয়ে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে চায়। ডারউইনের প্রথম টেস্টে শান্তদের লক্ষ্য থাকবে শুরু থেকেই লড়াইয়ে থাকা এবং প্রতিটি সেশনে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।

নাহিদ রানাকে মিস করবে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বড় অস্ত্র হতে পারতেন নাহিদ রানা। সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমেও বারবার আলোচনায় এসেছিল তাঁর গতি। তবে চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত এই সিরিজে তাঁকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে বৃহস্পতিবার স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। নাহিদ রানার না থাকাটা দলের জন্য বড় ঘাটতি হলেও বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। একই সঙ্গে সতীর্থকে মিস করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের আগের দিন বুধবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শান্ত বলেন, ‘অবশ্যই ওকে (নাহিদ) মিস করব। তবে এখন আসলে যদি-কিন্তু চিন্তা করে লাভ নেই। খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে নাহিদ রানা এখানে নেই।’

রানার অনুপস্থিতিতে দলের অন্য পেসারদের ওপর আস্থা রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে তাঁরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারবেন বলে বিশ্বাস শান্তর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে পেস ইউনিট আছে, আমি বিশ্বাস করি তারাও এই কন্ডিশনটা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবে। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমরা সেসব নিয়ে কাজ করেছি। ছেলেরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছে।’

২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর পাওয়া এই সুযোগটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন শান্ত।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। ২৩ বছর আগে বাংলাদেশ এখানে খেলেছিল। সৌভাগ্য যে আবার সেই সুযোগ এসেছে। আমরা লড়াই করতে চাই। অধিনায়ক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’

নাহিদ রানা না থাকলেও নিজেদের পেস আক্রমণ ও ব্যাটিং ইউনিটের ওপর আস্থা রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

প্রথম টেস্টের জন্য লিটন শতভাগ ফিট-শান্ত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত টেস্ট সিরিজ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। প্রথম টেস্টের আগে আজ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিরিজ নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। একই সঙ্গে লিটন দাস ও শরিফুল ইসলামের চোটের সর্বশেষ পরিস্থিতিও জানিয়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া আগেই প্রথম টেস্টের একাদশ ঘোষণা করেছে। তবে চোটের কারণে বাংলাদেশ এখনো নিজেদের একাদশ চূড়ান্ত করতে পারেনি। ম্যাচের দিন সকালে একাদশ ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘এখনও একাদশ সাজানো হয়নি। দলে কিছু ছোটখাটো চোট সমস্যা রয়েছে। তাই কাল আমরা একাদশ নির্ধারণ করব।’

লিটন দাসের চোট নিয়েও অবশ্য স্বস্তির খবর দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর ভাষায়, লিটন এখন শতভাগ ফিট। তাই প্রথম টেস্টে তাঁর খেলার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। শান্ত বলেন, ‘লিটন শতভাগ ফিট আছে এখন। লিটন ভাই আসায় অবশ্যই ব্যাটিংয়ের গভীরতা আরও বেড়েছে। ধারাবাহিকতা আছে তার। কাল যে টেস্ট শুরু হবে, আশা করি ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো করবে। প্রস্তুতি ভালো হয়েছে।’

অন্যদিকে শরিফুল ইসলামের প্রথম টেস্টে খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করলেও দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে পাওয়ার আশা করছেন শান্ত।

তিনি বলেন, ‘শরিফুল ফিটনেস টেস্ট পাস করেছে। ভালো বোলিংও করছে। আশা করি দ্বিতীয় টেস্টে খেলবে।’

পায়ের চোটের আগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন এবাদত হোসেন। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ফেরার পর এখনো সেরা ছন্দে ফিরতে না পারলেও তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন অধিনায়ক। সুযোগ পেলে এবাদত দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেই বিশ্বাস শান্তর।

এবাদতকে নিয়ে শান্ত বলেন, ‘এবাদত ইনজুরির আগে দুর্দান্ত খেলছিল। চোট কাটিয়ে ফেরার পর ২-৩টি টেস্ট খেলেছে। ভালো বোলিং করছে। কাল খেলার সুযোগ পেলে আশা করি দলের জন্য বিশেষ কিছু করবে।’

সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে নামার আগে বাংলাদেশ দলে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও লিটনের ফিট হয়ে ওঠা স্বস্তি দিচ্ছে দলকে। ম্যাচের সকালেই চূড়ান্ত হবে বাংলাদেশের একাদশ।

দেখে নিন বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার একাদশ

ডারউইনে বৃহস্পতিবার শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ প্রথম টেস্টে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায়। টেস্টের এক দিন আগেই একাদশ ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। আর ম্যাচের দিন সকালেই সম্ভবত একাদশ ঘোষণা করবে সফরকারীরা।

বাংলাদেশের ব্যাটারদের শক্তিশালী পেস আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে। প্রত্যাশিতভাবে জশ হ্যাজলউডকে জায়গা দিতে বাদ পড়তে হয়েছে স্কট বোল্যান্ডকে। তার সঙ্গে প্রাথমিক দলে থেকেও বাদ পড়া অন্য খেলোয়াড় হলেন জশ ইংলিস।

প্রায় এক বছরের বেশি আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম সারির পেস বোলারদের একসঙ্গে পাচ্ছে। গত অক্টোবরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি হ্যাজলউড। ইনজুরিতে খেলা হয়নি অ্যাশেজ সিরিজের কোনো ম্যাচ। প্যাট কামিন্স কেবল একটি ম্যাচ খেলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর ওই একটি ম্যাচই খেলেন তিনি।

ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে থাকবেন জেক ওয়েদারাল্ড। অ্যাশেজেও তারা ওপেনিংয়ে জুটি বেঁধেছিলেন। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ার পর একাদশে ফিরেছেন নাথান লায়ন। টেস্টের আগের দিন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ক্যাম্পে কয়েকটি ছোটখাটো চোটের কথা জানিয়ে তার একাদশ ঘোষণা করেননি। তবে নিশ্চিত করেছেন যে লিটন দাস তার জায়গায় খেলার জন্য ফিট আছেন।

প্রথম টেস্টের অস্ট্রেলিয়া একাদশ ঃ জেক ওয়েদারাল্ড, ট্র্যাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড

বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক কামিন্স

অবশেষে দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে টাইগাররা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে প্রথম টেস্ট। বাংলাদেশকে হালকাভাবে দেখছেন না অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বরং টাইগারদের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের আগের দিন বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বাংলাদেশকে কেমন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, আমি কখনো সহজ কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। তাই বাংলাদেশও শক্ত প্রতিপক্ষ হবে বলেই আমার ধারণা। আমাদের কয়েকজনের বিপক্ষে তাদের কয়েকজন ক্রিকেটারকে আমরা আসলে খুব একটা দেখিনি। ফলে টেস্টের আগে কিছুটা অজানাও থাকবে। তবে গত কয়েক বছরে তারা বেশ কিছু বড় জয় পেয়েছে এবং দলে বেশ কিছু ভালো প্রতিভা রয়েছে। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

এছাড়া বাংলাদেশের দল নিয়েও এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়নে যেতে চাননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক, ‘এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন। হয়তো কয়েক সপ্তাহ পর আমাকে জিজ্ঞেস করলে আরও ভালোভাবে বলতে পারব। তবে আইসিসির কোনো ইভেন্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে গেলে আপনি কিছুটা নার্ভাস থাকবেন, কারণ তাদের দলে বেশ কিছু বড় মাপের খেলোয়াড় রয়েছে।’

ডারউইনের উইকেট সম্পর্কে কামিন্সের ধারণা, শক্ত এবং ভালো ব্যাটিং সহায়ক হতে পারে, ‘উইকেটটা সত্যিই ভালো মনে হচ্ছে। আমি সেখানে গিয়ে অনুভবও করেছি। দেখতে ও স্পর্শে বেশ শক্ত মনে হয়েছে। গত বছর এখানে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের একটি ম্যাচ হয়েছিল এবং সেটি বেশ ভালো ব্যাটিং উইকেট ছিল, তবে পেস ও বাউন্সও ছিল। তাই এখানে ঠিক কী ধরনের উইকেট পাব, সেটা নিয়ে খুব বেশিকিছু জানি না। তবে দেখতে ভালোই লাগছে।’

আফগানিস্তানের সূচিতে ফিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের সিরিজ

0

আগস্টের শেষে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ভারতের। তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি-ছয় ম্যাচের সেই সিরিজ ঘিরে অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু কয়েক দিন ধরেই সিরিজটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। এবার সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারতের আরেকটি সিরিজের সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। আর তাতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের সিরিজটি আরও বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল।

ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের তারিখ ও ভেন্যু চূড়ান্ত করেছে এসিবি। আগামী ১৩, ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের তিনটি টি-টোয়েন্টি হওয়ার কথা। তবে সিরিজটি আফগানিস্তানের মাটিতে নয়, ভারতের দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এবারই প্রথম আফগানিস্তান ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আতিথেয়তা দিচ্ছে।

সমস্যাটা তৈরি হচ্ছে সূচির সংঘাতে।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বার্ষিক সিরিজ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট ভারতীয় দলের বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। দুই দলের খেলার কথা ছিল তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী ওয়ানডেগুলো ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর এবং টি-টোয়েন্টি ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আয়োজনের কথা।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু ১৩ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি একই দিনে পড়ছে। ফলে বর্তমান সূচি অপরিবর্তিত থাকলে একই সঙ্গে দুটি সিরিজ খেলা ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়।

এ কারণেই এসিবির ঘোষণা বাংলাদেশের জন্য নতুন করে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নাসিব খান জানিয়েছেন, আগামী ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে আলোচনা করেই ম্যাচগুলোর তারিখ ও ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারত

চিঠিতে নাসিব খান লিখেছেন, ২০২৬ সালে ভারতের আফগানিস্তান সফর ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এবং সিরিজের তারিখ বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই বক্তব্যই বাংলাদেশের সিরিজ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে এনে দিয়েছে। কারণ, আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সিরিজটি যদি নির্ধারিত সময়েই হয়, তাহলে বাংলাদেশ সফরও করতে চাইলে ভারতের সূচিতে আবার পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থাৎ এখন সামনে দুটি সম্ভাবনা-বাংলাদেশ-ভারত সিরিজের সূচি পরিবর্তন অথবা সিরিজটি নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত।

এমনিতেই বাংলাদেশ সফর নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে নানা আলোচনা চলছে। এখন আফগানিস্তান সিরিজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সেই আলোচনায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ভারতের সূচিতে বাংলাদেশের জায়গাটি ঠিক কোথায় থাকবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

২০২২ সালের পর থেকে ভারত আর বাংলাদেশ সফর করেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুই দলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সর্বশেষ ভারত সফর করেছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। সেই সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট ও দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ।

রোনালদোর জীবনে নতুন অধ্যায়, সঙ্গী সেই জর্জিনা

0

ফুটবল মাঠে তিনি জিতেছেন প্রায় সবকিছু। গোলের পর গোল করে গড়েছেন অবিশ্বাস্য এক সাম্রাজ্য। ভেঙেছেন রেকর্ড, ছুঁয়েছেন কিংবদন্তির উচ্চতা। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে সুন্দর জয়টি যেন এলো একেবারে অন্য এক মাঠে-ভালোবাসার মঞ্চে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবার বিয়ে করলেন তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে। পর্তুগালে এক ঘরোয়া বেসামরিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চার হাত এক হলো তাঁদের। যে সম্পর্কের শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে মাদ্রিদে, দীর্ঘ এক দশকের পথ পেরিয়ে সেই সম্পর্ক এবার পেল আনুষ্ঠানিক পরিণতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের আংটি পরা একটি ছবি প্রকাশ করে সুখবরটি জানান রোনালদো ও জর্জিনা। ছবিটিতে যেন ফুটে উঠল এক দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ-তারকা, খ্যাতি কিংবা ফুটবলীয় সাফল্যের বাইরে দুজন মানুষের একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকার।

বিয়ের আয়োজন হয়েছে পর্তুগালের উপকূলীয় শহর ক্যাসকাইসে। রাজধানী লিসবন থেকে প্রায় ২০ মাইল পশ্চিমের এই শহরেই জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন ফুটবলের অন্যতম সেরা মহাতারকা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল তাঁদের পাঁচ সন্তানও। ফলে এটি কেবল দুজন মানুষের বিয়ে হয়ে থাকেনি; হয়ে উঠেছে একটি পরিবারের একসঙ্গে নতুন করে পথচলার মুহূর্ত।

রোনালদোর জীবনে মাঠের গল্প যতটা বর্ণিল, ব্যক্তিজীবনের গল্পও ততটাই দীর্ঘ। স্পোর্টিং থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জুভেন্টাস, এরপর আল নাসর-প্রতিটি ঠিকানায় নিজের ছাপ রেখে গেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। পর্তুগালের জার্সিতেও তিনি লিখেছেন ইতিহাসের পর ইতিহাস। ক্যারিয়ারে প্রায় এক হাজার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া এই মানুষটির কাছে রেকর্ড যেন প্রতিদিনের সঙ্গী।

স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে রোনালদো

কিন্তু সব রেকর্ডের ঊর্ধ্বে যে কিছু মুহূর্ত থাকে, রোনালদোর জীবনে সম্ভবত এই দিনটি তেমনই একটি। একজন ফুটবলারের জীবন সাধারণত সংখ্যায় মাপা হয়-গোল কত, ম্যাচ কত, ট্রফি কত, রেকর্ড কত। রোনালদোর ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। অথচ মানুষ রোনালদোর গল্পটি সংখ্যার চেয়ে অনেক বড়। সেই গল্পে আছে স্বপ্ন, পরিশ্রম, সাফল্য, ব্যর্থতা, পরিবার এবং ভালোবাসা।

জর্জিনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও তাই নিছক তারকা-জুটির গল্প নয়। ২০১৬ সালে মাদ্রিদে তাঁদের পরিচয় থেকে যে সম্পর্কের শুরু, তা সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছে পারিবারিক বন্ধন। আলো ঝলমলে ফুটবলজীবনের পাশাপাশি জর্জিনা ছিলেন রোনালদোর ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। এবার সেই সম্পর্কের নাম হলো-বিয়ে।

রোনালদোর বয়স এখন ৪১। জীবনের যে বয়সে একজন মানুষ নিজের অর্জনগুলোর দিকে ফিরে তাকান, সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি যেন আরেকটি নতুন স্বপ্নের দরজা খুললেন। ফুটবল তাঁকে দিয়েছে বিশ্বজোড়া খ্যাতি; কিন্তু পরিবার দিয়েছে এমন এক আশ্রয়, যেখানে কোনো গোলের হিসাব নেই, কোনো রেকর্ডের চাপ নেই।

অদ্ভুত এক সমাপতনও আছে সময়ের খেলায়। বিয়ের মাত্র চার দিন পরই আল নাসর শুরু করবে ২০২৬-২৭ সৌদি প্রো লিগের অভিযান। অর্থাৎ জীবনের এক অধ্যায় শেষ করে আবার ফিরতে হবে তাঁকে নিজের চেনা পৃথিবীতে-সবুজ মাঠে, বলের পেছনে, গোলের নেশায়।

কিন্তু এবার মাঠে নামার আগে তাঁর জীবনের গল্পে যোগ হলো নতুন একটি শব্দ-স্বামী। যে মানুষটি এতদিন বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের কাছে ছিলেন ফুটবলের নায়ক, তিনি এখন নিজের পরিবারের কাছেও অন্য এক পরিচয়ে ধরা দেবেন। পাঁচ সন্তানের বাবা, জর্জিনার জীবনসঙ্গী-এই পরিচয়গুলো হয়তো তাঁর কোনো ব্যালন ডি’অর ট্রফির পাশে লেখা থাকবে না, কোনো গোলের পরিসংখ্যানেও জায়গা পাবে না। তবু মানুষের জীবনে কিছু অর্জন থাকে, যেগুলোর মূল্য কোনো পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যায় না।

টিভিতে আজকের খেলা: ১২ আগষ্ট ২০২৬

উয়েফা সুপার কাপ আজ, মুখোমুখি পিএসজি ও অ্যাস্টন ভিলা। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইমার্জিং টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি বাংলাদেশ।

ক্রিকেট
১ম ওয়ানডে

বাংলাদেশ অ-২৩-মালয়েশিয়া
সকাল ৯-৩০ মি., টি স্পোর্টস

ইমার্জিং টি-টুয়েন্টি: ফাইনাল
বাংলাদেশ-দ. আফ্রিকা
বিকেল ৫টা, ইউটিউব/ক্রিকেটএসএটিভি

ফুটবল
উয়েফা সুপার কাপ

পিএসজি-অ্যাস্টন ভিলা
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ২

দ্য হানড্রেড
ওয়েলশ-লন্ডন স্পিরিট
রাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ২

বার্মিংহাম-এমআই লন্ডন
রাত ১১-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২

বিশ্বকাপজয়ী পগবার ক্যারিয়ারেই এখন অনিশ্চয়তার ছায়া

0

২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শিরোপাজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন পল পগবা। মাঝমাঠে ছিলেন নিয়মিত মুখ, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সেই পগবাই এখন ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াইয়ে। একের পর এক চোট আর মাঠের বাইরে থাকার ধাক্কায় নতুন মৌসুম শুরুর আগেই আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার।

বর্তমানে মোনাকোর হয়ে খেলছেন পগবা। ইংল্যান্ডে মোনাকোর প্রাক-মৌসুম অনুশীলন চলাকালে ছোট পরিসরের একটি ম্যাচে বাঁ ঊরুতে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, এরপর অনুশীলন শেষ না করেই মাঠ ছাড়তে হয় ৩৩ বছর বয়সী এই তারকাকে।

চোটটি এসেছে একেবারেই অসময়ে। প্রাক-মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৫ মিনিট মাঠে ছিলেন পগবা। গত সপ্তাহের শেষ দিকে সতীর্থদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু ফিরেই আবারও ছিটকে গেলেন।
গত মৌসুমেও চোটের কারণে মোনাকোর হয়ে মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন পগবা। ফলে তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে ক্লাবের মধ্যে আগে থেকেই ছিল প্রশ্ন। মোনাকোর জেনারেল ম্যানেজার থিয়াগো স্কুরোও জানিয়েছিলেন, প্রাক-মৌসুমই হবে পগবাকে যাচাই করার গুরুত্বপূর্ণ সময়। নতুন চোট সেই পরিকল্পনাতেই বড় ধাক্কা দিয়েছে।

অথচ এই পগবাই একসময় ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু এরপর থেকেই ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে তার ক্যারিয়ার।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে কয়েক মৌসুম কাটিয়ে ২০২১-২২ মৌসুমে ফ্রি ট্রান্সফারে জুভেন্টাসে ফিরেছিলেন পগবা। কিন্তু ইতালিতে ফেরার পরও চোট থেকে মুক্তি মেলেনি। এর মধ্যেই পারিবারিক বিরোধ, আদালতের মামলা এবং ডোপিং কেলেঙ্কারি তার ক্যারিয়ারে আরও বড় ধাক্কা হয়ে আসে।

২০২৪ সালে ডোপিংয়ের দায়ে চার বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন পগবা। পরে শাস্তির মেয়াদ কমানো হলে ২০২৫ সালে আবারও মাঠে ফেরার সুযোগ পান তিনি। এরপর মোনাকোতে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করার চেষ্টা করছিলেন এই ফরাসি তারকা।
কিন্তু বারবার চোট যেন সেই প্রত্যাবর্তনের পথেই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নতুন মৌসুম শুরুর আগেই বাঁ ঊরুর এই চোট তাই শুধু একটি ম্যাচ মিস করার আশঙ্কা নয়, বরং পগবার পুরো ক্যারিয়ার নিয়েই আবারও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।