Home Blog Page 57

ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ আয়োজন নিয়ে আশাবাদী আমিনুল হক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ আয়োজন নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

আমিনুল হক জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সিরিজ আয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও তাঁকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার। বিষয়টি উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও ভারতের পক্ষ থেকে আলোচনা হয়েছে। ফলে সিরিজ আয়োজন নিয়ে তাঁরা আশাবাদী।

আমিনুল হক বলেন, ‘ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে, তাঁরাও খুব আশাবাদী। গত বিশ্বকাপ থেকে যে দোটানা তৈরি হয়েছে, তা খুব দ্রুতই সমাধান করতে পারব। এখন পর্যন্ত আশাবাদী, বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে আলোচনা হয়েছে, এর মাধ্যমে সমাধান করে ফেলতে পারব।’

সিরিজটি নিয়ে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান বলেও জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে চাই। আমি আশা করি, স্পোর্টসের মাধ্যমে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখব। যে দোটানা তৈরি হয়েছে, তা স্মুথলি রান করতে চাই।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললাম। তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন। খুব ইতিবাচকভাবে তিনি বলেছেন, আমরা দ্রুতই ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ, কীভাবে দ্রুত খেলার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি…।’

এর আগে গত বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেন আমিনুল হক। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি মেনে নিতে পারেননি বলে জানান।

আমিনুল বলেন, ‘গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিগত সরকার যে হটকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, হঠাৎ করে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া, একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে আমি মেনে নিতে পারি না। এটা সঠিক হয়নি।’

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সেটি দ্রুত কমিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলেও জানান আমিনুল।

তিনি বলেন, ‘এটাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে যে দোটানা তৈরি হয়েছে… আমি ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরাও ভারতীয় হাইকমিশন থেকে শুরু করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।’

সব মিলিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের জটিলতা দ্রুতই কাটবে বলে আশা করছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, ক্রিকেট দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।

দীর্ঘদিন পর মিডিয়ার সামনে আজহারউদ্দিন, ‘ভারত ছাড়ো দিবসের’ অনুষ্ঠানে সাবেক অধিনায়ক

0

দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেট কিংবা রাজনীতির আলোচনায় খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে। অবশেষে সোমবার, ১০ আগস্ট, ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আবারও মিডিয়ার সামনে এলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও কংগ্রেস নেতা।

হায়দরাবাদের গান্ধী ভবনে সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত হয় ‘ভারত ছাড়ো দিবসের’ পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আজহারউদ্দিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তেলেঙ্গানা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি মহেশ কুমার গৌদ, মন্ত্রী পন্নম প্রভাকর ও ভি. শ্রীহরি। অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের জেলা ও সিটি পর্যায়ের সভাপতি, জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মী এবং এনএসইউআই, যুব কংগ্রেস ও সেবা দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্মরণ করা হয় ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলনের’ ভূমিকা।

তবে পুরো আয়োজনেই বাড়তি নজর ছিল আজহারউদ্দিনকে ঘিরে। ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে পা রাখার পর তেলেঙ্গানার রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় পর্যায়ের মিডিয়ায় তাঁর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সেই জায়গা থেকে সোমবারের এই কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এনেছে সাবেক এই ভারতীয় অধিনায়ককে।

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়া আজহারউদ্দিন ২০০৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন। পরবর্তীতে তেলেঙ্গানা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির কার্যকরী সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তেলেঙ্গানা সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো দিবসের’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনে আসার কারণে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভারতের সাবেক এই ক্রিকেট তারকা।

ইনফান্তিনোকে সরানো হবে ‘ভয়াবহ ভুল’ – ডোনাল্ড ট্রাম্প

0

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনো কারণে ইনফান্তিনোকে সরানোর চিন্তা করা হলে সেটি ফিফার জন্য ‘ভয়াবহ ভুল’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ফিফা সভাপতির পাশে দাঁড়ান ট্রাম্প। সেখানে ইনফান্তিনোকে ‘চমৎকার’ ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘যে কারণেই হোক, ফিফা যদি সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা বিবেচনা করে, সেটি হবে ভয়াবহ ভুল।’ একই সঙ্গে ফিফার বর্তমান সভাপতির নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন তিনি।

ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য বিতর্ক কম নেই। কর্মক্ষেত্রে এক নারীর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগ এবং একটি বেসরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প ব্যর্থ হওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে ইনফান্তিনো তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগও তিনি মানতে রাজি নন।

২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতির পদে পুনর্নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়ার কথা ইনফান্তিনোর। ২০১৬ সালে প্রথমবার ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। এবারও ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির নেতৃত্ব ধরে রাখার পথে এগোচ্ছেন সুইস-ইতালিয়ান এই আইনজীবী।

এদিকে, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিফার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। তাই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

ইনফান্তিনোকে সরানোর সম্ভাবনা নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন ট্রাম্পের এমন মন্তব্য তাঁর অবস্থানকে নিঃসন্দেহে শক্তিশালী করেছে। তবে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক আগামী মার্চের নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

শ্নাইডারকে উড়িয়ে টরন্টো সেমিফাইনালে সোয়িয়াতেক

0

টরন্টোতে দাপুটে পারফরম্যান্সে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন ইগা সিওনতেক। সোমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ১৫তম বাছাই ডায়ানা শ্নাইডারকে মাত্র ৬৪ মিনিটে ৬-২, ৬-১ গেমে হারিয়েছেন সপ্তম বাছাই এই পোলিশ তারকা। ম্যাচজুড়ে শ্নাইডারকে কোনো সুযোগই দেননি সাবেক বিশ্বসেরা।

শ্নাইডারের বিপক্ষে সিওনতেকের এটি টানা দ্বিতীয় জয়। একই সঙ্গে ‘ডব্লিউটিএ ১০০০’ পর্যায়ে ২৩তম সেমিফাইনালে উঠলেন তিনি। ২০০৯ সালে বর্তমান ফরম্যাট চালুর পর সেমিফাইনালে ওঠার হারে সিওনতেক এর সামনে আছেন শুধু সেরেনা উইলিয়ামস। ১০০০ পর্যায়ের সেমিফাইনালে সিওনতেক এর চেয়ে বেশি উঠেছেন সিমোনা হালেপ ২৯ বার, সেরেনা ২৬ এবং ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা ২৪ বার। আগনিয়েস্কা রাদওয়ানস্কার সঙ্গে ২৩টি করে সেমিফাইনাল নিয়ে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন তিনি।

শ্নাইডারের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল সিওনতেকের হাতে। প্রথম গেমেই প্রতিপক্ষের সার্ভ ভেঙে দেন তিনি। এরপর নিজের সার্ভ ধরে রেখে প্রথম সেট ৬-২ ব্যবধানে জিতে নেন। দ্বিতীয় সেটেও একই চিত্র। ২-১ গেমে আবার শ্নাইডারের সার্ভ ভাঙার পর টানা ছয় গেম জিতে ম্যাচ শেষ করেন সিওনতেক।

দারুণ এই জয়ের পেছনে ছিল তাঁর অসাধারণ সার্ভিস পারফরম্যান্স। পুরো ম্যাচে কোনো ব্রেক পয়েন্টের মুখোমুখিই হতে হয়নি তাঁকে। প্রথম সার্ভ থেকে ২৬টির মধ্যে ২৩টি পয়েন্ট জিতেছেন, সাফল্যের হার ৮৮.৫ শতাংশ যা চলতি মৌসুমে তাঁর সেরা।

শুধু তাই নয়, ম্যাচে মাত্র ৮টি আনফোর্সড এরর করেছেন সিওনতেক, যা চলতি মৌসুমে তাঁর এক ম্যাচে সর্বনিম্ন। বিপরীতে শ্নাইডার একের পর এক ফোরহ্যান্ড ভুল করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যান।

টরন্টো ও মন্ট্রিয়লের মতো বর্তমান ১১টি ডব্লিউটিএ ১০০০ ভেন্যুর মধ্যে ১০টিতেই অন্তত একবার সেমিফাইনালে উঠেছেন সিওনতেক। একমাত্র ব্যতিক্রম উহান। আর শীর্ষ ২০ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে তাঁর ক্যারিয়ার জয়ের হার ৬৭.৮ শতাংশ। ১৯৯০ সালের পর এই তালিকায় তাঁর ওপরে আছেন কেবল স্টেফি গ্রাফ, সেরেনা উইলিয়ামস, মনিকা সেলেস ও মার্টিনা হিঙ্গিস।

সেমিফাইনালে সিওনতেকের প্রতিপক্ষ নবম বাছাই এলিনা সভিতোলিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে সেটে পিছিয়ে পড়েও ১৬তম বাছাই একাতেরিনা আলেক্সান্দ্রোভাকে ৩-৬, ৬-০, ৬-৩ গেমে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছেন ইউক্রেনের এই তারকা।

স্ভিতোলিনার বিপক্ষে ক্যারিয়ারে সাতবার মুখোমুখি হয়ে চারবার জিতেছেন সিওনতেক। তবে চলতি মৌসুমে দুইবারের দেখায় দুবারই জয় পেয়েছেন স্ভিতোলিনা। ফলে টরন্টোর সেমিফাইনালে সিওনতেকের সামনে থাকবে কঠিন এক প্রতিপক্ষ এবং সাম্প্রতিক হারের জবাব দেওয়ার সুযোগ।

বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদলে ক্ষুব্ধ স্কটল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস

আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফরম্যাটে পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সহযোগী সদস্য দেশ স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। টুর্নামেন্ট শুরুর ১৮ মাসেরও কম সময় আগে ফরম্যাট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে তারা ‘হতাশাজনক ও অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেছে।

২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গত মাসে নতুন একটি ‘সুপার সিরিজ’ পর্ব যুক্ত করেছে আইসিসি। বাছাইপর্বে শীর্ষ ১১ দলের পরের তিন দল-অর্থাৎ ১২তম, ১৩তম ও ১৪তম দল—এই পর্বে খেলবে। তিন দলের এই প্রতিযোগিতা থেকে মাত্র একটি দল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে জায়গা পাবে। সেখানে মোট ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে।

ফরম্যাট পরিবর্তনের ঘোষণার পর ক্রিকেট স্কটল্যান্ড, রয়্যাল ডাচ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএনসিবি) ও অন্য সহযোগী সদস্য বোর্ডগুলো আইসিসির সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে তারা সিদ্ধান্তের বিষয়ে লিখিত তথ্য এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দাবি করে। তবে দ্বিতীয় বৈঠকের দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হলেও আইসিসির কাছ থেকে কোনো জবাব না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস।

সোমবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে দুই বোর্ড বলেছে, ফরম্যাটের এই পরিবর্তন সহযোগী সদস্যদের ক্রিকেটের জন্য ‘পিছিয়ে যাওয়ার’ শামিল। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের যে সম্প্রসারণ হয়েছে, সেটিও এতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছে তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্রিকেট যখন নতুন দর্শক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, তখন উদীয়মান দেশগুলোর জন্য অর্থবহ সুযোগ কমিয়ে দেওয়া ভুল বার্তা দিচ্ছে।

স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস আরও বলেছে, বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের উন্নয়নে তারা আইসিসি ও অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তাদের ‘গুরুতর উদ্বেগ’ রয়েছে।

দুই বোর্ডের অভিযোগ, ফরম্যাট পরিবর্তনের পর আইসিসির সঙ্গে দুটি বৈঠকে ভবিষ্যতে পরিচালনাগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগী সদস্যদের পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পরিকল্পনা বৈঠকে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত মাসে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ডের অধিনায়কেরাও ‘ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ফরম্যাট পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। পরে নামিবিয়া ক্রিকেটের প্রধান রুডি ভ্যান ভুরেন খেলোয়াড়দের নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ক্রিকেটের বিকাশে টি-টোয়েন্টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতে, বিশ্বকাপের মাত্র ১৮ মাস আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সহযোগী সদস্যদের জন্য আর্থিক ও পরিচালনাগত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সীমিত সম্পদের দেশগুলোর জন্য এত অল্প সময়ে পরিকল্পনা বদলানো কঠিন বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ সহযোগী দেশগুলোর জন্য বিনিয়োগ, খেলোয়াড় উন্নয়ন ও স্পনসরশিপ পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মতে, আইসিসি টুর্নামেন্টের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর অনেকগুলোই এসেছে সহযোগী সদস্যদের পূর্ণ সদস্য দেশকে হারানোর মধ্য দিয়ে।

শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সহযোগী সদস্যদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করা হোক।

আবার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

0

ওয়ানডে বিশ্ব ক্রিকেটে একসময় তাদের ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। প্রথম দুই বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন তারা। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পেতেই লড়াই করছে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও সরাসরি খেলার সুযোগ হারিয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের টিকিট পেতে এবারও তাদের নামতে হবে বাছাইপর্বের কঠিন পরীক্ষায়।

২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি জায়গা নিশ্চিত হবে ৩০ সেপ্টেম্বরের আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দলের মাধ্যমে। তবে আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েকে এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয় দিয়ে আফগানিস্তানও সেই সরাসরি-যোগ্যতার তালিকায় নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।

সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া দলগুলো হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং দুই আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে।

এই তালিকায় নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ। র‌্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে দশ নম্বরে থাকা ক্যারিবীয়দের সামনে ভারতের বিপক্ষে কাট-অফের আগে দুটি ওয়ানডে থাকলেও সেগুলো জিতলেও সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার মতো অবস্থানে ফিরতে পারবে না তারা। ফলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে যেতে তাদের আবারও পাড়ি দিতে হবে বাছাইপর্বের পথ।

২০২৩-এর দুঃস্বপ্ন আবারও

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বিষয়টি আরও হতাশার। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও সরাসরি জায়গা করতে পারেনি তারা। বাছাইপর্বে নেমে সুপার সিক্সে পঞ্চম হয়ে বিদায় নেয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেটিই ছিল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপের মূল পর্বে অনুপস্থিত থাকা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার সেই ধাক্কার প্রভাব পড়ে পরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও। ২০১৩ সালের পর ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। অর্থাৎ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটে একসময় যে দল বিশ্বকাপের মুকুটের অন্যতম দাবিদার ছিল, তারাই এখন টুর্নামেন্টের মূল পর্বে জায়গা পাওয়ার জন্য বাছাইপর্বের লড়াইয়ে নামছে।

এবার বাছাইপর্বের কাঠামোও কঠিন

২০২৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শুরু হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে। বাছাইপর্বের আয়োজক এখনো নির্ধারিত হয়নি। এই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা পাবে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া দলগুলো খেলবে ‘সুপার সিরিজ’ নামে পরিচিত প্রথম রাউন্ডে। সেখানে তিন দলের লড়াই শেষে শীর্ষ দলটি উঠবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে।

বাছাইপর্বের এই নতুন কাঠামো অবশ্য সহযোগী দেশগুলোর কাছে খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি। কারণ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পথ আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী আয়োজক নয়-এমন নিচের দিকের দুই পূর্ণ সদস্য দল বাছাইপর্বে খেলবে। এই তালিকায় ইতিমধ্যে রয়েছে আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ-২-এর শীর্ষ চার দল। আর বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফ থেকে আসবে আরও চার দল। প্লে-অফে খেলবে লিগ-২-এর নিচের চার দল এবং চ্যালেঞ্জ লিগের চার দল। আট দলের এই প্লে-অফ থেকে শীর্ষ চার দল পাবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের টিকিট।

স্পিনের ঘূর্ণিতে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে আফগানিস্তান

0

একবার আফগানিস্তান এগিয়ে যায়, তো পরক্ষণেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আয়ারল্যান্ডের হাতে। কখনো মনে হয়েছে আফগানিস্তানের জয় সময়ের ব্যাপার, আবার কখনো মনে হয়েছে অঘটনের পথে হাঁটছে ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নায়ক হয়ে উঠলেন আফগানিস্তানের বিশ্বতারকা রশিদ খান। তাঁর ব্যাটের দৃঢ়তায় আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান।

২০২৭ বিশ্বকাপের মূলপর্বে এটি আফগানিস্তানের টানা চতুর্থ অংশগ্রহণ হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করতে হয়েছে তাদের।

আয়ারল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ৪৭তম ওভারে ২০৬ রানে অলআউট হয়। রানটা খুব বড় নয়, কিন্তু ম্যাচের একপর্যায়ে এই স্কোরই আফগানিস্তানের জন্য পাহাড়সম মনে হচ্ছিল। ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল আফগানরা। তখন আয়ারল্যান্ডের সামনে ছিল অবিশ্বাস্য এক জয়ের সম্ভাবনা।

কিন্তু ক্রিজে অবিচল ছিলেন রশিদ। চাপের মুহূর্তে অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে ৩৭ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৫তম ওভারে হ্যারি টেক্টরের বলে দুই রান নিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে শুরু হয় আফগান ক্রিকেটারদের উল্লাস।

এর আগে বল হাতেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন রশিদ। দুর্দান্ত লেগস্পিনে ৪৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান তিনি। রহস্যময় স্পিনার এএম গজনফরের সঙ্গে মিলে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণকে করে তোলেন আরও ভয়ংকর। দুজন মিলে নেন ৬ উইকেট।

তবে আয়ারল্যান্ডের লড়াইও ছিল প্রশংসনীয়। একসময় ১২৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকে নবম উইকেটে ৭৬ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে ম্যাচে প্রাণ ফেরান জাই মুনদ্রা ও গ্যাভিন হোয়ি। হোয়ি ৩৬ রান করেন, আর নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ইনিংসেই মুনদ্রা করেন ৩১ রান।

আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের উল্লাস

হোয়ি শুধু ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও আয়ারল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর লেগস্পিনে ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তাঁর শিকার ছিলেন আফগানিস্তানের ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজও। ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেও শেষ পর্যন্ত হোয়ির ঘূর্ণিতে ফিরতে হয় তাঁকে।

রান তাড়ায় শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন গুরবাজ। ফাস্ট বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত এগিয়ে নেন আফগানিস্তানকে। তবে হোয়ির ঘূর্ণিতে সেদি কুল্লাহ আতাল ফেরার পর অধিনায়ক রহমত শাহকে দুর্দান্ত এক ইনসুইঙ্গারে বোল্ড করেন মার্ক অ্যাডেয়ার। এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানরা।

হাশমতউল্লাহ শাহিদি ও দারবিশ রাসুলিও দ্রুত ফিরে গেলে ১৫৪ রানে ৬ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাইও ভুল শটে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ম্যাচ আরও জমে ওঠে। ১৭৬ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর আয়ারল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা তখন বেশ উজ্জ্বল।

কিন্তু রশিদ ছিলেন অন্য পরিকল্পনায়। ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান। আফগানিস্তানের প্রয়োজন যখন মাত্র ১৫ রান, তখন হাত খুলে খেলতে শুরু করেন তিনি। তাঁর কবজির মোচড়ে আসা একটি শটে লক্ষ্য নেমে আসে এক অঙ্কে। শেষ পর্যন্ত টেক্টরের বলে দুই রান নিয়ে আফগানিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

রশিদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ইয়ামিন আহমদজাই। ২৬ বল খেলে ৪ রানে অপরাজিত থেকে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ২০২২ সালের পর প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেই বল হাতে দুটি উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার।

তিন বছরের নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন অ্যাথলেট কোয়েচ

0

রক্তে ডোপিংয়ের দায়ে তিন বছরের জন্য অ্যাথলেটিক্স থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডল-ডিস্ট্যান্স রানার জোনাহ কোয়েচ। অস্বাভাবিক রক্তের নমুনার মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ডোপিংয়ের প্রমাণ পাওয়ার পর এই শাস্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (ইউএসএডিএ)।

কোয়েচের ডোপিং শনাক্ত হয় অ্যাথলেট বায়োলজিক্যাল পাসপোর্ট (এবিপি)-এ তাঁর রক্তের মানের ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ পরিবর্তন ধরা পড়ার পর। এই ব্যবস্থায় একজন অ্যাথলেটের রক্তের বিভিন্ন মান দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট ডোপিং পরীক্ষায় নিষিদ্ধ পদার্থ সরাসরি ধরা না পড়লেও রক্তের পরিবর্তনের ধরন দেখে ডোপিংয়ের সম্ভাব্য প্রমাণ শনাক্ত করা যায়।

ইউএসএডিএ জানিয়েছে, কোয়েচ নিষিদ্ধ পদার্থ অথবা নিষিদ্ধ পদ্ধতি ব্যবহারের দায় স্বীকার করে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন। তাঁর সব প্রতিযোগিতামূলক ফলও বাতিল করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই থেকে। একই সঙ্গে ওই সময়ের পর অর্জিত পদক, পয়েন্ট ও পুরস্কারও তাঁকে ফেরত দিতে হবে।

ডোপিংয়ের ঘটনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে গত বছরের ইউএস আউটডোর চ্যাম্পিয়নশিপের ফলাফলে। পুরুষদের ১৫০০ মিটারে চমক দেখিয়ে ৩ মিনিট ৩০.১৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন কোয়েচ। তাঁর সেই সময়টি ছিল প্রতিযোগিতার নতুন রেকর্ড। তিনি পেছনে ফেলেছিলেন ইথান স্ট্র্যান্ড এবং ২০২৪ অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোল হকারের মতো তারকাদের।

জোনাহ কোয়েচ

কিন্তু ডোপিংয়ের শাস্তির কারণে সেই শিরোপা এখন আর কোয়েচের থাকছে না। ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই-যেদিন তাঁর প্রথম অস্বাভাবিক রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়-সেদিন থেকেই তাঁর ফল বাতিল বলে গণ্য হবে।

কোয়েচের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছিল ইউএস আউটডোর চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ও পরে-৩০ জুলাই এবং ৮ আগস্ট। পরবর্তী সময়ে তাঁর এবিপিতে রক্তের মানে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে টোকিওতে পুরুষদের ১৫০০ মিটারের ফাইনালে ১৩তম হওয়ার পর আর কোনো প্রতিযোগিতায় দেখা যায়নি কোয়েচকে। সেই দৌড়ই আপাতত তাঁর সর্বশেষ প্রতিযোগিতা হয়ে আছে।

কেনিয়ায় জন্ম নেওয়া কোয়েচ ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সে অংশ নেন। পরে ২০২১ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করেন।

টিভিতে আজকের খেলা: ১১ আগষ্ট ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী টি-টুয়েন্টিতে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং দল।

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ
ফর্টিস–মুরাস
বেলা ৩টা, টি স্পোর্টস

ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ ২
কানাডা-আমিরাত
বিকেল ৪টা, ফ্যানকোড

ইমার্জিং নারী টি-টুয়েন্টি
বাংলাদেশ-দ. আফ্রিকা
বিকেল ৫টা, ইউটিউব/ক্রিকেটএসএটিভি

দ্য হানড্রেড
ম্যানচেস্টার-লিডস (নারী)
সন্ধ্যা ৭-৪৫ মি., স্টার স্পোর্টস ২

ম্যানচেস্টার-লিডস (পুরুষ)
রাত ১১-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২

ভিনিসিয়ুসকে হারিয়ে নতুন রসদের খোঁজে আর্সেনাল

0

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা সফল হয়নি। ব্রুনো গিমারাইসকে পাওয়ায় মাঝমাঠ অবশ্য আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামার আগে স্কোয়াডের আরও কয়েকটি জায়গা শক্তিশালী করতে চান আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা।

কয়েক সপ্তাহ ধরে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুসকে দলে নেওয়ার চেষ্টা চালানোর খবর আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মাদ্রিদেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। রিয়ালের সঙ্গে ছয় বছরের নতুন চুক্তিতেও সম্মত হয়েছেন তিনি।
ভিনিসিয়ুসকে না পাওয়ায় আক্রমণভাগে বিকল্প খুঁজছে আর্সেনাল। এরই মধ্যে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারাইসকে দলে ভেড়াতে পেরে সন্তুষ্ট আর্তেতা। এবার অন্য পজিশনগুলোতেও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় যোগ করতে চান তিনি।

রোববার বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারের পর সমর্থকদের নতুন খেলোয়াড় চাওয়ার প্রসঙ্গে আর্তেতা বলেন, ‘আমরা সেই চেষ্টাই করছি। তবে স্কোয়াড শক্তিশালী করতে সঠিক খেলোয়াড়ও দলবদলের বাজারে থাকতে হবে। আমরা বিষয়টির দিকে খুব ভালোভাবে নজর রাখছি।’

আর্সেনালের আক্রমণভাগে বিশেষ করে বাঁ প্রান্তে আরও মানসম্পন্ন বিকল্প প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। ভিনিসিয়ুসকে পাওয়া গেলে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হতো। পাশাপাশি পিঠের চোটে ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা মাঠের বাইরে থাকায় রক্ষণেও নতুন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি চলছে, তবে টানা দুই ম্যাচে তিন গোল হজম করায় রক্ষণ নিয়েও ভাবতে হচ্ছে আর্তেতাকে। গত বৃহস্পতিবার রিয়াল বেতিসের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর রোববার ডর্টমুন্ডের বিপক্ষেও প্রথমার্ধে দুই গোল হজম করে আর্সেনাল। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।

প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরুর আগে তাই দলবদলের বাজারে আর্তেতার নজর শুধু একজন খেলোয়াড়ে নয়, বরং স্কোয়াডের একাধিক জায়গায়।