দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে আবারও অস্বস্তিকর বিতর্ক। জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ নিয়ে তদন্ত ও সমালোচনার মধ্যেই এক যুগের বেশি পুরোনো এক ঘটনা নতুন করে সামনে এসেছে। অভিযোগ, ২০১১ ও ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া বিদেশি রেফারিদের করপোরেট কার্ড ব্যবহার করে ‘যৌনসেবা’সহ অনুপযুক্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করেছিল কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা কেএফএ। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম জেটিবিসি সরকারি একটি পুরোনো তদন্তের তথ্য প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার জন্য শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে কেএফএ। তবে সংস্থাটির দাবি, বর্তমানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে না এবং করপোরেট কার্ড ব্যবহার করে এমন খরচ করাও পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
অভিযোগের সময়কাল ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত। সে সময় ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১২ অলিম্পিকের বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করছিল দক্ষিণ কোরিয়া।
জেটিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের এক তদন্তে বিদেশি ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য অনুপযুক্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করার সাতটি ঘটনার সন্ধান পাওয়া যায়। বিভিন্ন শহরের ম্যাসাজ পার্লারে করপোরেট কার্ডের মাধ্যমে কয়েক লাখ কোরিয়ান ওন পর্যন্ত অর্থ পরিশোধের তথ্যও উঠে আসে তদন্তে।
এসব ঘটনার মধ্যে বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক বাছাইপর্বের ম্যাচের পাশাপাশি কিছু প্রীতি ম্যাচও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিউল, চ্যাংওন ও উলসানসহ দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক শহরে এমন আয়োজনের তথ্য পাওয়া গেছে।
ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, বিষয়টি কি বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে আরও বিস্তৃত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিল? তবে বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এসব সুবিধার কারণে ম্যাচের ফল বা রেফারিদের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব পড়েছিল কি না। বিদেশি ম্যাচ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ থাকলে তা ফুটবলের নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতার জন্য গুরুতর বিষয়।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য বা প্রতিবেদনে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে এসব সুবিধার বিনিময়ে কোনো রেফারি ম্যাচের সিদ্ধান্ত বদলেছেন কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে ফল প্রভাবিত করেছেন।
অর্থাৎ ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সরাসরি প্রমাণ না থাকলেও রেফারিদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরির অভিযোগই কেএফএর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এক যুগের বেশি পুরোনো সেই ঘটনা সামনে আসায় দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল প্রশাসনের ওপর তাই নতুন করে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।
অ্যাডাম আব্বাসের আগমনে যশোরের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে ছিল উৎসবের আমেজ। নতুন সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানান খেলোয়াড়েরা, পিঠ চাপড়ে দেন, অনুশীলনের মাঠও মেতে ওঠে হাসি-ঠাট্টায়। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব সামনে রেখে যখন দলটির প্রস্তুতিতে প্রাণচাঞ্চল্য, তখনই প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সের একটি বার্তায় বদলে যায় সেই চিত্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইংলিশ কোচের দেওয়া বার্তার শুরুই ছিল বিষণ্ণতা আর হতাশার কথা দিয়ে। সেখানে বেতন না পাওয়ার কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকট, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং স্ত্রী-সন্তানদের কাছে অর্থ পাঠাতে না পারার অসহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
যে কোচ প্রতিদিন মাঠে দাঁড়িয়ে তরুণ ফুটবলারদের স্বপ্ন দেখানোর কাজ করেন, তাকেই যখন নিজের জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলতে হয়, তখন বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের ফুটবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে। জেরার্ডের বার্তা প্রকাশের পরই ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর দ্বিতীয় বার্তায় অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা পরিষ্কার করেন তিনি। সেখানে ব্যাংকিং জটিলতা, রাস্তায় মানুষের কৌতূহল এবং অর্থ চাওয়ার মতো বিব্রতকর অভিজ্ঞতার কথাও জানান এই ইংলিশ কোচ।
পরিবার থেকে দূরে বাংলাদেশে কাজ করতে এসে যে একাকীত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, জেরার্ডের বক্তব্যে সেটিও উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশের ফুটবলে বিদেশি কোচদের বেতন সংক্রান্ত জটিলতা নতুন কোনো ঘটনা নয়।
এর আগে ইংলিশ কোচ জেমি ডের পাওনা পরিশোধ নিয়ে বাফুফের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি গড়িয়েছিল ফিফা পর্যন্ত, জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। তারও আগে ডাচ কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফের সহকারী রেনে কোস্টারের সঙ্গেও পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছিল বাফুফে। শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনায় ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছিল ফেডারেশনকে।
জেরার্ডের সাম্প্রতিক বার্তা তাই বাংলাদেশের ফুটবলে বিদেশি কোচদের পারিশ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুরনো প্রশ্নগুলোই আবার সামনে এনেছে।
তবে পরিস্থিতির মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন জেরার্ড। তিনি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের জটিলতা বা ভয় ছাড়াই তরুণ ফুটবলারদের গড়ে তোলার কাজে মনোযোগ দিতে চান।
যশোরে এখনো চলছে অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্প। সামনে উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারতের বিপক্ষে কঠিন বাছাইপর্ব। অ্যাডাম আব্বাসকে ঘিরে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস আর নতুন স্বপ্নের সেই পরিবেশের মধ্যেই এখন প্রশ্ন, কোচের তৈরি হওয়া এই অস্থিরতা কতটা প্রভাব ফেলবে দলের প্রস্তুতিতে?
মাঠে যখন তরুণদের চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন, তখন সেই মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তার ছায়া কতটা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবার ফুটবলেও বড় বিনিয়োগের পথে। ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলের ৩০ শতাংশের কিছু বেশি অংশীদারত্ব কিনতে যাচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী এই ব্যবসায়ী। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী অমিত ভাটিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে লিভারপুলে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন বেজোস। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো স্যাভেরিনও।
বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ২৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে স্যাভেরিনের সম্পদ ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অমিত ভাটিয়া ভারতীয় শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তালের জামাতা এবং এর আগে ইংলিশ ক্লাব কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সেরও শেয়ারহোল্ডার ছিলেন।
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পর লিভারপুলের মোট মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে কোনো ফুটবল ক্লাবকে ঘিরে এটি বিশ্বের অন্যতম বড় লেনদেন হতে পারে।
তবে বিনিয়োগটি আপাতত সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব হিসেবেই থাকছে। ভবিষ্যতে বেজোস ও তার সহযোগীরা লিভারপুলে আরও বড় অংশীদারত্ব কিংবা নিয়ন্ত্রণ নিতে চান কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
২০১০ সালে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলের মালিকানা নেয় ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ বা এফএসজি। এরপর ক্লাবটি ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছে।
ফুটবলের পাশাপাশি এফএসজির মালিকানায় রয়েছে বেসবলের বোস্টন রেড সক্স ও আইস হকির পিটসবার্গ পেঙ্গুইনস।
গত মাসেই অমিত ভাটিয়ার নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম লিভারপুলে কৌশলগত বিনিয়োগে আগ্রহ দেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল এফএসজি। এবার সেই আগ্রহই বড় বিনিয়োগের রূপ নিতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে আবারও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া। ঘরের মাঠে সিরিজ হওয়ায় স্বাগতিকদের পরিষ্কার ফেবারিট ধরা হলেও অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ এড়িয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে মনোযোগ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্রাভিস হেড।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৮৭.৫।
ঘরের মাঠের সুবিধা এবং বাংলাদেশের সফরের শুরুটা ভালো না হওয়ায় দুই টেস্টের সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সফরের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় টাইগারদের পারফরম্যান্স নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আলোচনা।
তবে এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না ট্রাভিস হেড। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটার মনে করছেন, অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে হেড বলেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টের জন্য খেলা হওয়ায় এই সিরিজ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই অনেক নজর থাকবে। তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললে প্রত্যাশার চাপ থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দলের বিপক্ষে নামার সময় নিজের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করাটাও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
হেডের মতে, ক্রিকেট অত্যন্ত কঠিন একটি খেলা। তাই আগামী দুই টেস্টে নিজেদের প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘরের মাঠে অভিষেকের অপেক্ষায় ওয়েদারাল্ড
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করবেন ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড। সিরিজের প্রথম টেস্টটি ওয়েদারাল্ডের জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ এক মুহূর্ত। ডারউইনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটারের এটিই হবে নিজের শহরে প্রথম টেস্ট।
নিজ শহরের দর্শকদের সামনে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন ওয়েদারাল্ড। একই সঙ্গে নিজের এলাকার মানুষের সামনে ভালো করতে না পারলে বাড়তি সমালোচনার মুখে পড়তে হবে বলেও মজা করে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ সিরিজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ারকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
অ্যাশেজের পর উন্নতির লক্ষ্য ওয়েদারাল্ডের
গত গ্রীষ্মের অ্যাশেজ সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ওয়েদারাল্ডের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের পুরো সিরিজেই খেলেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি ৪-১ ব্যবধানে জিতলেও ওয়েদারাল্ডের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অনুজ্জ্বল। ১০ ইনিংসে ২২.৩৩ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ২০১ রান।
এরপর নিজের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে কাজ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টারশায়ারের হয়ে ছয় ম্যাচে ৪৮৩ রান করেছেন ওয়েদারাল্ড। তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল অসাধারণ ৬০.৩৭।
কাউন্টি ক্রিকেটে নিজের শক্তির জায়গাগুলো আরও ভালোভাবে বোঝার পাশাপাশি কোথায় উন্নতি করা প্রয়োজন, সেদিকেও কাজ করেছেন তিনি। অ্যাশেজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরিবর্তন এনে আরও কার্যকর ব্যাটিং পরিকল্পনা তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন এই ওপেনার।
ওয়েদারাল্ড বলেন, ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতি ও সেটআপে কিছু পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তবে নিজের স্বাভাবিক খেলায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চাননি। বরং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেসব জায়গায় তিনি ভালো করেন, সেগুলো আরও কার্যকর করার পাশাপাশি দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন।
হেডের নেতৃত্বে ওপেনিং জুটি
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু করবেন ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড। অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হেড আবারও ওপেনিংয়ে ফিরছেন।
বাংলাদেশ সিরিজের আগে হেড নিজেও প্রত্যাশার চাপ সামলে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দুই টেস্টে অস্ট্রেলিয়া যে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চায় না।
দুই টেস্টের সূচি
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। ম্যাচটি চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।
দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট, ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে খুব বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়া জাতীয় দলকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে তারা। ১০৬ রানের লক্ষ্য মাত্র ৮.২ ওভারেই পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ এইচপি। হাতে ছিল আরও ৭৪ বল। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে মালয়েশিয়াকে ধবলধোলাই করেছে এইচপি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮৯ রানের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
সোমবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় মালয়েশিয়া। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে চাপে ছিল তারা। দলীয় ১৪ রানেই ওপেনার সাইফ উল্লাহ মালিককে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন মোহাম্মদ রুবেল। রানের খাতা খোলার আগেই ৫ বল খেলে ফেরেন সাইফ।
এরপর অধিনায়ক সৈয়দ আজিজকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন আসলাম খান বিন মালিক। ২০ বলে ১৮ রান করে আসলামকে ফেরান রাকিবুল হাসান। এক প্রান্ত আগলে রাখা আজিজের সঙ্গে পরে জুটি বাঁধেন আহমেদ আকীল ওয়াহিদ। ৩৩ বলে ৩০ রান করে দলীয় ৭৭ রানে আবু হায়দার রনির বলে আউট হন আকীল।
শেষ দিকে শারভিন মুনিয়ান্ডিকে নিয়ে ইনিংস টানার চেষ্টা করেন আজিজ। তবে বাংলাদেশের বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে রান তোলার গতি বাড়াতে পারেনি মালয়েশিয়া। শেষ ওভারের আগের ওভারে ৫২ বলে ৪০ রান করে ফেরেন আজিজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১০৫ রান সংগ্রহ করে মালয়েশিয়া। শারভিন ৭ বলে ১১ ও বিজয় উনি ২ বলে ২ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশ এইচপির হয়ে ২ উইকেট নেন আবু হায়দার রনি। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ রুবেল ও রাকিবুল হাসান।
১০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ এইচপি। ওপেনার জাওয়াদ আবরারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকে তারা। ৮ বলে ২৩ রান করে দলীয় ২৬ রানে আউট হন জাওয়াদ।
এরপর আর থামেনি বাংলাদেশের রান তোলার গতি। জিসান আলম একাই মালয়েশিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হন। তিনে নামা আরিফুল ইসলাম ৩ বলে ৪ এবং সাব্বির রহমান ৮ বলে ১২ রান করে ফিরলেও জিসানের ব্যাটে জয় তখন সময়ের ব্যাপার।
মাত্র ১৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন জিসান। শেষ পর্যন্ত ২১ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই ওপেনার। তাঁর ইনিংসজুড়ে ছিল দারুণ সব শট। শামীম হোসেন পাটোয়ারী ৬ বলে ৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন।
মালয়েশিয়ার হয়ে আরিফ উল্লাহ নেন ২ উইকেট, একটি উইকেট পেয়েছেন প্রশান্ত মাধুকার। দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এইচপির এটি দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে ৮৯ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দাপুটে পারফরম্যান্সে মালয়েশিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করল তারা।
আইসিসির জুলাই মাসের সেরা ক্রিকেটারের মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাস্টিন গ্রিভস। মাসজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে মনোনয়ন পেলেন তারা। এর মধ্যে একজনকে মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতবেন।
বাংলাদেশের হয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে দারুণ ধারাবাহিক ছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ওয়ানডে সিরিজে ৩ ম্যাচ মিলিয়ে ১৫৯ রান করেছিলেন তানজিদ। ব্যাটিং গড় ৫৩ এবং স্ট্রাইকরেট ছিল ৮৯.৮৩। ওয়ানডে সিরিজে যদিও ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ দল।
এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। ৩ ম্যাচ মিলিয়ে তানজিদের ব্যাট থেকে এসেছে ১৪০ রান, ব্যাটিং গড় ৭০ এবং স্ট্রাইকরেট ১২৭.২৭। দুই সিরিজেই বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান এসেছে তানজিদের ব্যাট থেকে। ওয়ানডে সিরিজে হারলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।
ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ভারত সিরিজে ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। ৩ ওয়ানডে মিলিয়ে ৩১ রান করলেও পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্রুকের রান ২২৯, ব্যাটিং গড় ১১৪.৫০। স্ট্রাইকরেট ২১৪.০১। টি-টোয়েন্টি সিরিজে সিরিজসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও জিতেছিলেন হ্যারি ব্রুক। ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ভারতকে।
জুলাই মাসে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ছিলেন জাস্টিন গ্রিভস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে খেলেছেন ১৮০ রানের ঝলমলে ইনিংস, যে ম্যাচ ড্র করে লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের বিপক্ষে টারুবা টেস্টে বল হাতে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। সব মিলিয়ে দুই টেস্ট খেলে ২১৫ রানের সাথে ৮ উইকেট তুলেছেন গ্রিভস। এই মাসে ২ ওয়ানডে থেকে গ্রিভস তুলেছেন ৩২ রান। নারীদের মধ্যে মাসের সেরার মনোনয়ন পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস, শ্রীলঙ্কার হার্শিতা সামারাবিক্রমা এবং ইংল্যান্ডের ন্যাট স্ক্রিভার-ব্রান্ট।
দীর্ঘ ৩১ বছরের অপেক্ষা অবশেষে শেষ হলো ব্রাজিলের। দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ-এ প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে দেশটির পুরুষ ক্রিকেট দল। স্থানীয় সময় রোববার কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে পানামাকে মাত্র ৩ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ব্রাজিল।
১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় আগের ১৯ আসরে অংশ নিয়েও শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। দু’বার অবশ্য খুব কাছে গিয়েছিল তারা। ২০০৪ সালে ফাইনালে গায়ানার কাছে হারের পর ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হয় দলটি। এবার আর হতাশ হতে হয়নি।
ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৮ রান সংগ্রহ করে ব্রাজিল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন ওপেনার উইলিয়াম ম্যাক্সিমো। অধিনায়ক মিশেল আসুনসাও যোগ করেন ৩০ রান।
জবাবে লক্ষ্য তাড়ায় শেষ পর্যন্ত জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায় পানামা। তবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৫ রানের বেশি করতে পারেনি তারা। ফলে মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
ফাইনালে ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ব্রাজিল অধিনায়ক আসুনসাও। ব্যাট হাতে ৩০ রানের পর বল হাতে ১৯ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের পর ব্রাজিল ক্রিকেটে উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানকে দেশটির ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই এই সাফল্যকে দেখা হচ্ছে।
পুরুষদের দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে অবশ্য সবচেয়ে সফল দল আর্জেন্টিনা। ২০ আসরের মধ্যে ১২ বার শিরোপা জিতেছে তারা। তবে সর্বশেষ দু’টি আসরে আর্জেন্টিনা দল পাঠায়নি।
ব্রাজিল নারী ক্রিকেট দল
অন্যদিকে মেয়েদের প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলের সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য। আর্জেন্টিনার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সাতবার দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল নারী ক্রিকেট দল।
তবে এবার পুরুষদের ক্রিকেটেও ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল ব্রাজিল। ৩১ বছরের অপেক্ষা শেষে প্রথমবার দক্ষিণ আমেরিকার সেরা হওয়ার স্বাদ পেল দেশটির পুরুষ ক্রিকেট দল।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কঠিন কন্ডিশনে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজে একদিকে যেমন বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে টাইগারদের জন্য, অন্যদিকে দলের সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ওপর। ব্যাট হাতে রান করা, মাঠে কৌশলী নেতৃত্ব দেওয়া কিংবা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ঠিক রাখা, সব ক্ষেত্রেই শান্তকে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। তবে সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে এসেছে বড় ধাক্কা। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটিং। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছে টাইগাররা।
নাজমুল হোসেন শান্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক।
প্রস্তুতি ম্যাচে শান্ত নিজেও ব্যাট হাতে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরেছেন শূন্য রানে। তবে গত দেড় বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় ভরসা তিনিই। চার নম্বরে ব্যাট করা শান্তর স্বাভাবিক খেলার ধরন আক্রমণাত্মক। কিন্তু দলের টপ অর্ডারের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সময় নিজের স্বাভাবিক খেলায় লাগাম টানতে হয় তাকে।
গত তিন বছরে বাংলাদেশ নিয়মিতই ওপেনিং জুটি পরিবর্তন করেছে। এখনো স্থায়ী কোনো জুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অনেক সময় নতুন বলের চাপ সামলাতে মুমিনুল হকের সঙ্গে শান্তকেই দ্রুত উইকেটে আসতে হয়। অস্ট্রেলিয়াতেও সেই চ্যালেঞ্জ থাকছে। তবে মাঝের সারিতে মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার এবং লিটন দাসের ফেরায় কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে বাংলাদেশ।
তবে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের জন্য শান্তর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শুধু ব্যাট হাতে নয়, অধিনায়ক হিসেবেও।
নাজমুল হোসেন শান্ত।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক হয়ে গেছেন শান্ত। ১৯ টেস্টে অধিনায়কত্ব করে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে আটটি ম্যাচ। এর আগে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে ৩৪ টেস্টে বাংলাদেশের জয় ছিল সাতটি। অর্থাৎ তুলনামূলক কম ম্যাচেই দেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েছেন শান্ত।
শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ধরনেও আলাদা ছাপ ফেলেছেন তিনি। শান্তকে কাছ থেকে দেখা সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের মতে, মাঠের বাইরে শান্ত শান্ত-স্বভাবের হলেও মাঠে সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ।
সুজনের ভাষায়, শান্ত মাঠের বাইরে শান্ত ও নীরব, কিন্তু মাঠে তিনি আগ্রাসী। জয়ের মানসিকতা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ছোট লক্ষ্যও সতীর্থদের দিয়ে রক্ষা করার আত্মবিশ্বাস তার আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বিখ্যাত ইনিংস ঘোষণা তার নেতৃত্বের সাহসের বড় উদাহরণ।
শান্তর নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি শুধু মাঠে অধিনায়কত্ব করেন না, মাঠের বাইরেও সতীর্থদের নিয়ে ভাবেন। দলের ক্রিকেটারদের ফিটনেস, মানসিক অবস্থা এবং প্রয়োজনের বিষয়গুলোতেও নজর রাখেন তিনি। অর্থাৎ অধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্ব শুধু টস, ফিল্ডিং সাজানো কিংবা বোলার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
সুজন আরও বলেন, শান্ত ক্রিকেট নিয়ে সব সময় ভাবেন এবং মাঠ ও মাঠের বাইরে সমানভাবে অধিনায়কের ভূমিকা পালন করেন। তবে শান্তকে নিজের ব্যাটিংয়ের ওপর আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
কারণ একজন অধিনায়কের নেতৃত্ব তখনই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়, যখন তিনি নিজেও পারফর্ম করেন। মাহমুদের মতে, শান্ত যদি ব্যাট হাতে রান না করেন, তাহলে তার অধিনায়কত্বের মূল্যও কমে যাবে। তাই ব্যাটিংয়ের সময় তাকে শুধু ব্যাটার হিসেবে ভাবতে হবে, অধিনায়ক হিসেবে নয়।
শান্তর নেতৃত্বের এই ভারসাম্যই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কারণ অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাংলাদেশের জন্য কাজটা সহজ হবে না। ইনজুরির কারণে দলের অন্যতম সেরা পেসার নাহিদ রানা নেই। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও চোটের কারণে প্রথম টেস্টে অনিশ্চিত। ফলে বোলিং আক্রমণেও শান্তকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
কোচিং স্টাফদের মতে, শান্তর সবচেয়ে বড় শক্তি তার যোগাযোগ দক্ষতা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিনিয়র কোচ সোহেল ইসলাম মনে করেন, শান্ত সতীর্থদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারেন এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রত্যেক খেলোয়াড়কে প্রস্তুত থাকতে বলেন। এতে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
শান্তর নেতৃত্বে এই আত্মবিশ্বাসের ছাপ সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা গেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে। পেস ও স্পিন, দুই ধরনের বোলিংই তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবহার করেছেন। এমনকি বাংলাদেশের চিরাচরিত ধীরগতির উইকেটের বদলে পেস ও বাউন্সের সহায়ক উইকেট তৈরির ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল। সেই সিদ্ধান্তে পাকিস্তানকে চমকে দিয়ে সিরিজে দারুণ ফল পায় বাংলাদেশ।
বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৬৭ রানের লিড নিয়েই ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে চাপে ফেলার সিদ্ধান্ত ছিল শান্তর সাহসী নেতৃত্বের উদাহরণ। এরপর পেস ও স্পিনের সমন্বয়ে আক্রমণ সাজিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলও আদায় করে নেয় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ায় অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে প্রতিপক্ষের কন্ডিশন, পেস আক্রমণ এবং বাউন্স; সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশকে। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাও শান্তর বড় দায়িত্ব।
তবে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা শান্তর দলের আছে। এর আগেও বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে বাংলাদেশ। সেসব সময়ে শান্ত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবারও সতীর্থদের আস্থা তার ওপরই।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতার অন্যতম বড় স্তম্ভ মুশফিকুর রহিম। মুমিনুল হক ও তাইজুল ইসলামের মতো টেস্ট বিশেষজ্ঞদেরও শান্ত নিয়মিত সমর্থন দিয়ে আসছেন। বড় মুহূর্তে মুশফিকের সঙ্গে আলোচনা করেন, প্রয়োজন হলে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাছ থেকেও পরামর্শ নেন।
অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ায় শান্ত একা নন। তার পাশে রয়েছে দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। আর শান্তর কাছ থেকে দল চায়, মাঠে সাহসী সিদ্ধান্ত, ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ইনিংস এবং মাঠের বাইরে সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর নেতৃত্ব।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু একটি টেস্ট সিরিজ নয়, নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় সুযোগ। সেই লড়াইয়ে নাজমুল হোসেন শান্তই দলের মূল ভরসা। ব্যাট হাতে রান, মাঠে আক্রমণাত্মক নেতৃত্ব আর ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক পরিবেশ, সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পরীক্ষায় শান্তকেই হতে হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।
কারণ এই সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্যের সমীকরণ অনেকটাই সহজ, শান্ত যতটা ভালো নেতৃত্ব দেবেন এবং ব্যাট হাতে যতটা অবদান রাখবেন, অস্ট্রেলিয়ায় টাইগারদের লড়াই ততটাই শক্তিশালী হবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বড় হারে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে ২৬৩ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে তারা। এমন হারে সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লেগেছে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ফল দিয়ে বাংলাদেশকে বিচার করতে নারাজ অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্রাভিস হেড। তাঁর মতে, প্রস্তুতি ম্যাচে দলের মানসিক মনোযোগ সব সময় পুরোপুরি থাকে না। তাই এমন ম্যাচের ফলাফলকে কোনো দলের সামর্থ্যের প্রকৃত প্রতিফলন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
সোমবার অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলন সেশনের আগে হেড বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচগুলো এমনই। কয়েক বছর ধরে আমিও এমন সাধারণ কিছু ম্যাচ খেলেছি। তারা সব সময় চ্যালেঞ্জিং, কারণ মানসিকভাবে আপনার মনোযোগ হয়তো অন্য কোথাও থাকে।’
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেছেন হেড। মিরাজের সেঞ্চুরির কথা উল্লেখ করে তিনি মনে করেন, প্রস্তুতি ম্যাচের ফল ভুলে বাংলাদেশ দ্রুতই মূল সিরিজে মনোযোগ দেবে।
হেড বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা বৃহস্পতিবারের ম্যাচ নিয়েই ভাববে। ওই ম্যাচ থেকে বেরিয়ে আসতে যা প্রয়োজন, সেটাই চিন্তা করবে তারা।’
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটসম্যান আরও বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে তারা ভালো খেলেছিল। প্রায় ২৭০ রান করেছিল এবং একটি শতকও ছিল। হয়তো ফলাফলটা বাইরে থেকে হতাশাজনক লাগছে। তারাও সম্ভবত একটু হতাশ। কিন্তু ভেতরে ভেতরে দল হিসেবে তাদের মনোযোগ থাকবে বৃহস্পতিবারের দিকে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই দুই টেস্টের সিরিজ বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক। প্রায় ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল বলের ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৭ সালে টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। দীর্ঘ বিরতির পরের এই সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বড় হার পেলেও হেড মনে করছেন, মূল লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামর্থ্য ভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে।
সদ্য সমাপ্ত শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ এলপিএলে মাত্র ৫ ম্যাচ খেলেই ক্রিকইনফোর সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয়। ফাইনালে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, জেতেনি তার দল জাফনা কিংসও। তবুও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে জায়গা পেয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে।
৫ ম্যাচে ব্যাট করে ৭৫ গড়ে প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ১৫১। যেখানে ছিল ২০ বলে ফিফটি হাঁকানোর রেকর্ডও। যথাক্রমে তার ইনিংসগুলো ছিল ৩৫, ৩১, ২১, ৫৪* ও ১০। ক্রিকইনফোর দেওয়া সেরা একাদশে অধিনায়ক করা হয়েছে কলম্বো ক্যাপসের কামিন্দু মেন্ডিসকে। হৃদয় সহ জাফনা কিংস থেকে এই একাদশে সুযোগ পেয়েছেন ৪ ক্রিকেটার। চ্যাম্পিয়ন গল গ্যালান্টস থেকে সুযগ পেয়েছেন ৩ ক্রিকেটার।
মজার কথা এবার ড্রাফটে দলই পাননি হৃদয়। তবে তাসকিন আহমেদের বদলি হিসেবে টুর্নামেন্টের মাঝপথে যোগ দেন। এরপর ব্যাট হাতে দেখিয়েছেন ঝলক, পেয়েছেন পুরষ্কার। তবে জাফনা কিংসে তার আরেক বাংলাদেশী সতীর্থ সাকিব আল হাসান সেরা একাদশে সুযোগ পাননি।