Home Blog Page 60

বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

0

হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত মেসি পরিবার। বাবাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে নিজ শহর রোজারিওতে ফিরেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি।

বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বুধবার সকালে ফোর্ট লডারডেল, ফ্লোরিয়া থেকে রওনা দেন মেসি। দীর্ঘ যাত্রা শেষে স্থানীয় সময় রাত ৮টার কিছু পর আর্জেন্টিনার রোজারিওতে পৌঁছান তিনি। এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শোকের সময় কাটাচ্ছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। বিশেষ করে মা সেলিয়ার পাশে থাকবেন মেসি।

হোর্হে মেসির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা পারিবারিকভাবেই সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেষ বিদায়ের আয়োজন রাখা হয়েছে ব্যক্তিগত ও সীমিত পরিসরে। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠিত হবে শেষকৃত্য। তবে বাবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোজারিওর একটি কবরস্থানের বাইরে জড়ো হন মেসির অসংখ্য ভক্ত। প্রিয় তারকার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকবার্তা এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। মেসির দীর্ঘদিনের ক্লাব বার্সেলোনা, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ, রোজারিও সেন্ট্রাল ও নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ ফুটবল বিশ্বের অনেক ক্লাব ও সংগঠন মেসি পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে।

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে হোর্হের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই ছেলের প্রতিভায় আস্থা রেখেছিলেন তিনি। মেসির ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন হোর্হে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ছেলেকে নিয়ে স্পেনে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্তেও তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী। পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে মেসির জায়গা পাওয়ার পথ তৈরি হয়।

ছেলের বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার পুরো যাত্রায় ছায়ার মতো পাশে ছিলেন হোর্হে। মেসির অসাধারণ সাফল্যের নেপথ্যে তাঁর বাবার অবদান তাই অনস্বীকার্য। ফুটবলবিশ্বে মেসি যতই বড় তারকা হয়ে উঠেছেন, তাঁর ক্যারিয়ার ও ব্যবসায়িক বিষয় দেখাশোনাতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন হোর্হে।

বাবাকে শেষ বিদায় জানানোর পর মেসির আবার মায়ামিতে ফেরার কথা রয়েছে। তবে এই কঠিন সময়ে পরিবারের সঙ্গে থাকার জন্য তাঁকে প্রয়োজনীয় সময় দিয়েছে তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামি।

মেসির জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক আবেগঘন ও কঠিন সময়। বিশ্ব ফুটবলের কোটি কোটি ভক্ত যখন তাঁর সাফল্য উদ্‌যাপন করেন, সেই সাফল্যের নেপথ্যে থাকা অন্যতম প্রধান মানুষ হোর্হে মেসিকে এবার শেষ বিদায় জানাতে নিজ শহরে ফিরেছেন তাঁর কিংবদন্তি ছেলে।

কপাল পুড়ছে ক্যারিবিয়ানদের বেঁচে গেল বাংলাদেশ

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দৌড়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে গেছে।

ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নামতে হতে পারে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আফ্রিকা মহাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৭ বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ১৪টি দল। এর মধ্যে সহ-আয়োজক দ. আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

বাকি আটটি দল চূড়ান্ত হবে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে। আয়োজক জিম্বাবুয়ে বর্তমানে র‌্যাংকিংয়ে সেরা আটে না থাকায় সেরা নয় দলের মধ্যে থাকলেই একটি দলের সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত হবে।

এই হিসাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। বর্তমানে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশের রেটিং ৮৩। অন্যদিকে ১০ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং ৭৭। অষ্টম স্থানে থাকা আফগানিস্তানের রেটিং ৯০। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত সেরা নয় দলের মধ্যে থাকতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

কিন্তু সময়ের মধ্যে তাদের হাতে রয়েছে মাত্র দুটি ওয়ানডে। প্রতিপক্ষ ভারত, তাও ভারতের মাটিতে। ফলে  বাংলাদেশকে টপকে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ক্যারিবীয়দের জন্য প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশের জন্য অবশ্য পরিস্থিতি বেশ স্বস্তির।

৩০ সেপ্টেম্বরের আগে লিটন দাসদের আর কোনো ওয়ানডে নেই। এই সময়ে ভারত বাংলাদেশে আসার কথা থাকলে সফর অনিশ্চিত। ফলে রেটিং বাড়ানোর সুযোগ না থাকলেও কমে যাওয়ার ঝুঁকিও নেই। অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশের সঙ্গে ছয় রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান ঘোচানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কঠিন।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে বাছাইপর্ব খেলতে হয়েছিল তাদের। ২০১৯ সালে বাছাই পেরিয়ে মূল পর্বে উঠলেও ২০২৩ সালে আর পারেনি। জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত সেই বাছাইপর্বে জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা হারায় তারা।

সেই ব্যর্থতার পর এবারও যদি র‌্যাংকিংয়ের সেরা নয় থেকে ছিটকে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তাহলে টানা তৃতীয়বার বাছাইপর্বের কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

যে কারণে রদ্রির দাম কমাবে না ম্যানচেস্টার সিটি

রদ্রিকে নিয়ে দলবদলের বাজারে চলছে নানা আলোচনা। রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ হলেও বার্সেলোনার আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে স্প্যানিশ দুই ক্লাবের আগ্রহের মধ্যেও ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার রেখেছে-উপযুক্ত প্রস্তাব না পেলে রদ্রিকে ছাড়বে না তারা।

ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রদ্রির মূল্য ৭ কোটি ইউরোর বেশি মনে করে ম্যানচেস্টার সিটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের জন্য বার্সেলোনার সাড়ে ৪ কোটি ইউরোর প্রস্তাব ইতিমধ্যে ফিরিয়ে দিয়েছে সিটি। তবে দুই ক্লাবের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে।

রদ্রির স্পেনে ফেরার আগ্রহের বিষয়টি ম্যানচেস্টার সিটি জানে। তাকে আটকে রাখারও খুব বেশি আগ্রহ নেই ক্লাবটির। অসন্তুষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে দলে রাখতে চায় না তারা। রদ্রির সাম্প্রতিক চোট, বয়স এবং চুক্তির মেয়াদ-সবকিছুই বিবেচনায় রাখছে সিটি।

তবে এসব কারণে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম প্রস্তাবে রদ্রিকে ছাড়তে রাজি নয় ইংলিশ ক্লাবটি। সিটির সঙ্গে রদ্রির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী মৌসুমের পর। অর্থাৎ চুক্তি নবায়ন না হলে এরপর ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে তাঁর। ফলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে বিক্রি করে কিছু অর্থ পাওয়াটাই সিটির জন্য বেশি যৌক্তিক।

এদিকে রদ্রিকে দলে ভেড়াতে বার্সেলোনার আগ্রহের পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের নামও আলোচনায় ছিল। তবে আপাতত বার্সেলোনাই এই দৌড়ে এগিয়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রদ্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের চাওয়া মূল্যে অনড় থাকায় দলবদলের বাজারে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে ঘিরে আলোচনা আরও কিছুদিন চলবে বলেই মনে হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সংগঠনের প্রথম সভাপতি কুসাল মেন্ডিস

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ইতিহাস প্রায় দেড় শ বছরের। দেশটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেরও বয়স এক শ বছরের বেশি। ১৯৮১ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে শ্রীলঙ্কা। তবে এত দিন দেশটির সক্রিয় পেশাদার ক্রিকেটারদের জন্য বোর্ড স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত কোনো সংগঠন ছিল না। সেই ঘাটতি পূরণে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কান প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (এসএলপিসিএ)।

সংগঠনটির প্রথম সভাপতি হয়েছেন শ্রীলঙ্কার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস। দেশের পেশাদার ক্রিকেটারদের জন্য স্বাধীন ও সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করাই নতুন এই সংগঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এসএলপিসিএ গঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। পুরুষ দলের তারকা ক্রিকেটার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার পাশাপাশি নারী দলের অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুও সংগঠনটি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

বিশ্বজুড়ে পেশাদার ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সরাসরি অধিভুক্ত হয়েছে এসএলপিসিএ। এত দিন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা ডব্লিউসিএর আন্তর্জাতিক কর্মসূচি, খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং খেলোয়াড়দের অধিকার নিয়ে বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে কাঠামোগতভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

চলতি বছরের শুরুতে চামারি আতাপাত্তুকে ডব্লিউসিএর খেলোয়াড় পরামর্শক বোর্ডে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপরই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় সংগঠনের সম্পর্ক আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

ভারত ও পাকিস্তানের মতো শ্রীলঙ্কাও এত দিন ডব্লিউসিএকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া বা এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকা উল্লেখযোগ্য ক্রিকেট বোর্ডগুলোর একটি ছিল। এসএলপিসিএ গঠনের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থার পরিবর্তন হলো।

এর ফলে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সংগঠনটি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন, ইংল্যান্ডের প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতো প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় সংগঠনগুলোর পথ অনুসরণ করবে।

শ্রীলঙ্কায় অবশ্য ২০০১ সাল থেকে ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠনের অস্তিত্ব ছিল। তবে সেটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের প্রাধান্যেই পরিচালিত হয়েছে। সংগঠনটির স্বাধীনতা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের কেউ কেউ এটিকে কখনো বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে, আবার কখনো বোর্ডের চাপের মধ্যে থাকা সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নতুন এসএলপিসিএর ক্ষেত্রে সেই চিত্র বদলানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নারী ও পুরুষ-দুই জাতীয় দলের সক্রিয় ক্রিকেটার, বর্তমান অধিনায়ক এবং শীর্ষ খেলোয়াড়েরা সরাসরি সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকবেন। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই প্রথমবার, যখন নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের একটি সংগঠনে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে এসএলপিসিএ বলেছে, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে ইতিবাচক পরিবর্তন ও সংস্কারের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে। ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের একটি সংগঠিত ও কার্যকর মতামত থাকা প্রয়োজন।

সংগঠনটির ভাষ্য, ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্বের এই কাঠামো আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক ও সহযোগিতামূলক ক্রিকেটব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) ও ক্রিকেটারদের মধ্যে অবশ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টানাপোড়েন দেখা গেছে। চলতি বছরের শুরুতেও আইপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়া এবং বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষা নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল।

নতুন সংগঠনটি এসব বিষয়ে ক্রিকেটারদের সম্মিলিত প্রতিনিধিত্ব করবে। বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় ক্রিকেটারদের স্বার্থ তুলে ধরা, বিরোধ মীমাংসা এবং খেলোয়াড়দের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই হবে এসএলপিসিএর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

কুসাল মেন্ডিসের নেতৃত্বে এই সংগঠনের যাত্রা তাই শুধু নতুন একটি ক্রিকেটার সংগঠনের আত্মপ্রকাশ নয়; শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসনে সক্রিয় ক্রিকেটারদের আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত ভূমিকারও সূচনা।

ভারতের সিরিজ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশে ভারতের নির্ধারিত সাদা বলের সিরিজ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে সিরিজটি আয়োজন করা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।

ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ভারত সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারা এখনো আশাবাদী, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের কয়েকজন নেতা ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও।

বিসিবির একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে ক্রিকবাজ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর সেপ্টেম্বরে ভারতকে বাংলাদেশে এনে সিরিজ আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সব ঘটনাপ্রবাহের পর এখন আমি সিরিজটি নিয়ে সন্দিহান। সিরিজের বিষয়ে আমরা ওপাশ থেকে কোনো সাড়া পাব বলে মনে হয় না। সত্যি বলতে, সিরিজটি ২৮ আগস্টের মধ্যেই হওয়ার কথা ছিল। হাতে আর কতদিনই বা আছে?’

সিরিজটি পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে কি না, জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার তা মনে হয় না। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই মুহূর্তে বিষয়টি আমাদের সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আশা ছাড়তে চাইছে না বিসিবি। ২০২২ সালের পর আর বাংলাদেশ সফরে আসেনি ভারতীয় ক্রিকেট দল। এর মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতের বাংলাদেশ সফরও একপর্যায়ে পিছিয়ে যায়।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কেও কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পরে ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। বিসিবি ও ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) মধ্যে আলোচনার পর সেপ্টেম্বরে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবিও সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছিল। কিন্তু ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করায় সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

এখন পর্যন্ত সিরিজ বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে সময় যত এগোচ্ছে, সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ মাঠে গড়ানো নিয়ে সংশয়ও তত বাড়ছে।

মেসির বাবার মৃত্যুতে শোকের ছায়া ফুটবল বিশ্বে

0

ছেলের হাত ধরে যে হোর্হে মেসি ফুটবল বিশ্বকে শাসন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর বিদায়ে শোকাহত পুরো আর্জেন্টিনা। মেসির জীবনে সবচেয়ে বড় প্রভাব রাখা এই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। দেশটির সব পর্যায়ের ম্যাচের আগে পালন করা হবে এক মিনিট নীরবতা, খেলোয়াড়রা পরবেন কালো আর্মব্যান্ড। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থেকে মেসির প্রিয় বার্সেলোনা, শোক জানিয়েছে ফুটবল বিশ্বের প্রায় সব মহল। ছেলের সাফল্যের নেপথ্যের কারিগর হোর্হে মেসির বিদায়ে যেন শোকের ছায়া নেমেছে পুরো ফুটবল বিশ্বে।

সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে গড়ে তোলার নেপথ্যের অন্যতম প্রধান মানুষ ছিলেন তাঁর বাবা হোর্হে মেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

হোর্হে মেসির মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, এএফএ। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলের সব বিভাগের পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে এক মিনিট নীরবতা পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা পরবেন কালো আর্মব্যান্ড। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এএফএর কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

লিওনেল মেসির বাবা হওয়ার পাশাপাশি হোর্হে ছিলেন তাঁর প্রথম এজেন্ট ও ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রধান সারথি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ছেলেকে নিয়ে স্পেনে পাড়ি জমানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তী সময়ে মেসির বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে জায়গা পাওয়ার পথ তৈরি করে।

মেসির এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বের বড় বড় ক্লাব। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। আর মেসির প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে হোর্হের অবদান।

হোর্হের সাবেক ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ থেকে শুরু করে কনমেবল, সবাই জানিয়েছে শোক ও শ্রদ্ধা। একজন বাবার বিদায়ে তাই শুধু একটি পরিবার নয়, শোকাহত পুরো ফুটবল বিশ্ব। আর এই কঠিন সময়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বের অসংখ্য মানুষ ও প্রতিষ্ঠান।

বাবার মৃত্যুতে মাঠের বাইরে মেসি, মন্টেরের কাছে হার মায়ামির

0

একজন সন্তান হারিয়েছেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কে। আর ফুটবল হারিয়েছে এমন এক মানুষকে, যিনি নেপথ্যে থেকে গড়ে দিয়েছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের পথ।

শনিবার বাবা হোর্হে মেসিকে হারিয়েছেন লিওনেল মেসি। ৬৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার রোসারিওর একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন হোর্হে। বাবার মৃত্যুর শোকে মাঠে নামেননি মেসি। আর তাঁকে ছাড়া লিগস কাপের ম্যাচে মন্টেরের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ইন্টার মায়ামি।

মেসির অনুপস্থিতি ম্যাচ শুরুর আগেই অনুভূত হয়েছে মায়ামির নু স্টেডিয়ামে। খেলা শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠে হোর্হে মেসির নাম। মায়ামির খেলোয়াড়েরা মাঠে নামেন কালো আর্মব্যান্ড পরে।

ম্যাচের ১০ মিনিটে, যে ১০ নম্বর জার্সি মেসির পরিচয়ের সঙ্গে মিশে গেছে, সেই মুহূর্তটিও হয়ে ওঠে আবেগঘন। গ্যালারিজুড়ে সমর্থকেরা মেসির নামে স্লোগান দেন, উড়তে থাকে পতাকা। একটি পতাকায় লেখা ছিল-‘ফুয়েরজা লিও’-শক্ত থাকো, লিও।

পলের গোলে মেসিকে শ্রদ্ধা

মেসির ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো দি পল এদিন মায়ামির অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড পরেছিলেন। ৩২ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর নিজের জার্সি খুলে ফেলেন তিনি। ভেতরে দেখা যায় মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি।

মেসির বাবার মৃতু্যতে মেসির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে মায়ামির সমর্থকরা

গোলটি যেন শুধু মায়ামিকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য ছিল না; ছিল দূরে থাকা সতীর্থের প্রতি ভালোবাসারও এক নীরব বার্তা। তবে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি মায়ামি। ম্যাচের বাকি সময়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় তুলে নেয় মন্টেরি। ফলে মেসিকে ছাড়া আবেগঘন রাতটি মায়ামির জন্য পরিণত হয় হতাশায়।

সুয়ারেজের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা

মেসির দীর্ঘদিনের বন্ধু ও মায়ামির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও ম্যাচটিতে খেলতে পারেননি নিষেধাজ্ঞার কারণে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। সুয়ারেজ লিখেছেন, ‘বন্ধু, তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরছি। তোমার বাবা ওপার থেকেও আগের মতোই গর্বের সঙ্গে তোমাকে দেখবেন। এই কঠিন সময়ে মেসি পরিবারের প্রতি আমার সব ভালোবাসা। শান্তিতে থাকুন, হোর্হে।’

মেসির বাবার মৃতু্যতে ম্যাচের আগে নীরবতা পালন

মায়ামিও দিনের শুরুতেই মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছিল, ‘আমাদের হৃদয় আমাদের অধিনায়ক লিও এবং পুরো মেসি পরিবারের সঙ্গে।’

বাবার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল মেসির যাত্রা

হোর্হে মেসি শুধু লিওনেল মেসির বাবা ছিলেন না; তাঁর ফুটবলজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষও ছিলেন। এজেন্ট হিসেবে ছেলের ক্যারিয়ার পরিচালনার পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিষয়গুলোও দেখাশোনা করেছেন তিনি।

চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে রুখে দিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

0

প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইর বিপক্ষে হার এড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গোথেনবার্গের প্রীতি ম্যাচটি দল ১-১ গোলে ড্রতে শেষ হয়েছে। পিএসজিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ইব্রাহিম মবায়ে, আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমতা ফেরানো গোলটি করেছেন ব্রায়ান এমবুমে।

মাইকেল ক্যারিকের দলের জন্য ম্যাচের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র দুই মিনিটেই গোল হজম করে বসে ইউনাইটেড। দ্রুত আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান মবায়ে। ম্যাচের শুরুতেই ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড।

কয়েক মুহূর্ত পরই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। দূরপাল্লার শটে খভিচা কাভারাসখেলিয়া চেষ্টা করেছিলেন, তবে তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে নেয় ইউনাইটেড। আক্রমণে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন নতুন তারকা এমবুমে। তাঁর একটি হেড পিএসজির রক্ষণে আটকে যায়। পরে ফ্রি-কিক থেকে গোলের চেষ্টা করেন তিনি। পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ সেটি ঠেকিয়ে দেন। প্যাট্রিক ডরগুও হেড থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টাও রুখে দেন সাফোনভ। তবে ইউনাইটেডের চাপ শেষ পর্যন্ত কাজে আসে ৩২ মিনিটে।

আমাদ দিয়ালো বল বাড়িয়ে দেন এমবুমের দিকে। সুযোগ পেয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে সাফোনভকে পরাস্ত করেন তিনি। বল জালে জড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমতায় ফেরে ইউনাইটেড।

বল দখলের লড়াইয়ে ম্যান ইউ ও পিএসজির খেলোয়াড়রা

প্রথমার্ধের বাকি সময়েও আক্রমণে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন এমবুমে। তাঁর আরেকটি ফ্রি-কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। কর্নার থেকে হ্যারি ম্যাগুয়ারের হেডও ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।

তবে প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের জন্য স্বস্তির পাশাপাশি ছিল উদ্বেগও। ম্যাচের মাত্র ২০ মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মেসন মাউন্টকে। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন টাইলার ফ্লেচার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল ইউনাইটেড। ম্যাগুয়ারের লম্বা পাস ধরে ডান দিক দিয়ে পেনাল্টি এলাকায় ঢুকে ভেতরের দিকে কাট করেন এমবুমে। এরপর দূরের ওপরের কোণে বাঁকানো শট নেন তিনি। কিন্তু দুর্দান্ত দক্ষতায় সেটি ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।

দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেডের হয়ে অভিষেক হয় গ্রীষ্মকালীন নতুন সংযোজন ইউরি তিয়েলেমান্সের। অল্প সময় মাঠে থাকলেও তাঁর খেলায় সম্ভাবনার ঝলক দেখা গেছে। তবে আবারও চোটের ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। ৪৯ মিনিটে গোলরক্ষক টম হিটন মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। দলের আর কোনো অভিজ্ঞ সিনিয়র গোলরক্ষক না থাকায় তাঁর বদলি হিসেবে গোলপোস্টের দায়িত্ব নেন ডারমট মি।

দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজিও একাধিক নিয়মিত খেলোয়াড়কে মাঠে নামায়। মারকিনিয়োস, ভিতিনিয়া, নুনো মেন্দেস ও জোয়াও নেভেসের মতো তারকারা মাঠে এলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের পরিচিত আক্রমণাত্মক ধারও সেভাবে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।

প্রাক-মৌসুমের ম্যাচ হলেও ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে ইউনাইটেডের পারফরম্যান্সে স্বস্তির জায়গা থাকল। মাত্র দুই মিনিটে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসা এবং শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানে ড্র করা-ক্যারিকের দলের জন্য সেটিই আপাতত বড় প্রাপ্তি।

আর ইউনাইটেডের আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ হয়ে থাকলেন এমবুমে-একটি গোল, আরও কয়েকটি সুযোগ এবং পুরো ম্যাচজুড়ে ধারাবাহিক হুমকি দিয়ে।

সাকিবের ফাইনাল-সেরা বোলিংও বাঁচাতে পারল না জাফনাকে

0

এক পাশে সাকিব আল হাসানের বল হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, অন্য পাশে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে নীরবতা। বাংলাদেশের দুই তারকা ছিলেন জাফনা কিংসের হয়ে। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসতে পারলেন না তাঁরা। সাকিব নিজের দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ফাইনালে সেরা বোলিং করেও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারলেন না।

জাফনা কিংসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গল গ্যালান্টস। কলম্বোয় শনিবার রাতে আগে ব্যাট করে মাত্র ১২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় টুর্নামেন্টের সফলতম দল জাফনা। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে গল।

এটি গলের জন্য শুধু একটি শিরোপা নয়, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানও। আগের পাঁচ আসরে তিনবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছুঁতে পারেনি গলের কোনো দল। ষষ্ঠ আসরে এসে অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচল। ইতিহাস গড়ার রাতে অবশ্য হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশের সাকিব ও হৃদয়কে।

ফাইনালে ব্যাট হাতে সাকিবের কাছ থেকে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। সাত নম্বরে নেমে ১৩ বলে ৯ রান করেছেন তিনি। তবে বল হাতে তিনিই ছিলেন জাফনার সবচেয়ে বড় ভরসা। চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট। শুধু জাফনার ব্যাটিং লাইনআপে আঘাতই করেননি, কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে আশার আলোও জ্বালিয়েছিলেন সাকিব।

বল হাতে এসহান মালিঙ্গা

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি সাকিবের ১৭তম ফাইনাল। আর এতগুলো ফাইনালের মধ্যে এটাই তাঁর সেরা বোলিং। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই মাইলফলক অবশ্য ব্যক্তিগত অর্জন হয়েই রইল; দলের হাতে উঠল না ট্রফি।

এবারের এলপিএলে সাকিব চার ইনিংসে ব্যাট করে করেছেন ৪১ রান। বল হাতে ৯ ইনিংসে তাঁর শিকার ১১ উইকেট।

আগের ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা তাওহিদ হৃদয়ের কাছ থেকে ফাইনালেও বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চার নম্বরে নেমে ১০ বলে মাত্র ১০ রান করে ফিরে যান তিনি।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই চাপে পড়ে জাফনা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই হারায় দুটি উইকেট। এরপর আর ম্যাচে সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়েছে, কিন্তু রানের গতি বাড়ানোর মতো ব্যাটিংও দেখা যায়নি। ১৩তম ওভারে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হন ওপেনার কামিল মিশারা। ৩২ বলে ৪১ রান করে তিনিই হন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

এরপর আট নম্বরে নেমে চামিন্দা উইক্রামাসিংহের ১৬ বলে ২৪ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি আর কেউ। গলের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা ও ইশান মালিঙ্গা। দুজনই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট।

অল্প পুঁজি নিয়েও শুরুতে ম্যাচ জমিয়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিল জাফনা। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ সিরাজ ফেরান স্যাম হার্পারকে। পরের ওভারে ট্রাভিন ম্যাথুকে সাজঘরে পাঠান চারিথ আসালাঙ্কা। মাত্র ১০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর থমাস রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু নবম ওভারে বল হাতে এসে সেই প্রতিরোধ ভেঙে দেন সাকিব।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে গলও কিছুটা চাপে ছিল। কিন্তু জাফনার বোলারদের ওপর ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তারা। চামিকা করুনারত্নে করেন ১৬ রান। শাহান আরাচিগের ব্যাট থেকে আসে ১৪। এরপর অধিনায়ক দাসুন শানাকার ৯ বলে ২০ রানের ঝোড়ো ইনিংস ম্যাচের শেষ উত্তেজনাটুকুও মুছে দেয়। ২৫ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে গল গ্যালান্টস।

টিভিতে আজকের খেলা: ০৯ আগস্ট ২০২৬

আজ দক্ষিণ আফ্রিকায় ত্রিদেশীয় ইমার্জিং সিরিজে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ইমার্জিং।

ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজ
বাংলাদেশ ইমার্জিং–দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং
দুপুর ১.৩০ মি., ইউটিউব/ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা

প্রীতি ক্লাব ফুটবল
ম্যানসিটি–আতলেতিকো
বিকেল ৫টা, ফ্যানকোড

লিভারপুল–মোনাকো
সন্ধ্যা ৭.৩০ মি., ফ্যানকোড

কারাবাও কাপ
ম্যানসফিল্ড–শেফিল্ড ইউনাইটেড
রাত ৯টা, ফ্যানকোড

দ্য হানড্রেড
সানরাইজার্স লিডস–ওয়েলশ ফায়ার
সন্ধ্যা ৭.৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২

লন্ডন স্পিরিট–বার্মিংহাম ফিনিক্স
রাত ১১টা, স্টার স্পোর্টস ২