ফুলহামের মূল দলে অভিষেক হয়েছিল মাত্র দুই সপ্তাহ আগে। এরপর আরও দুই ম্যাচে মাঠে নেমে সম্ভাবনাও দেখিয়েছিলেন ফারহান আলি ওয়াহিদ। তবে নতুন মৌসুমে আপাতত ইংলিশ ক্লাবটির মূল দলের পরিকল্পনায় থাকছেন না বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ ফুটবলার।
১৯ বছর বয়সী ফারহানকে এক মৌসুমের জন্য ধারে ইংল্যান্ডের পঞ্চম স্তরের ক্লাব বোরহ্যাম উডে পাঠিয়েছে ফুলহাম। সেখানে জাতীয় লিগে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবেন এই উইঙ্গার।
গত ২৫ জুলাই নরউইচ সিটির বিপক্ষে প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে ফুলহামের মূল দলের হয়ে অভিষেক হয় ফারহানের। এরপর আল আহলি ও ফারেসির বিপক্ষেও মাঠে নামেন তিনি। টানা তিন ম্যাচে সুযোগ পাওয়ায় নতুন মৌসুমে মূল দলে তার জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ভিন্ন পরিকল্পনাই করেছে ফুলহাম। নিয়মিত সিনিয়র ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে ফারহানকে ধারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাবটি।
বোরহ্যাম উডে গিয়ে ইংল্যান্ডের পঞ্চম স্তরের প্রতিযোগিতা জাতীয় লিগে খেলবেন ফারহান। গত মৌসুমে এই প্রতিযোগিতার প্লে-অফ ফাইনালে উঠেছিল ক্লাবটি।
নতুন মৌসুমে শনিবার ঘরের মাঠে ট্যামওয়ার্থের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে বোরহ্যাম উড। সেখানে নিয়মিত একাদশে খেলার সুযোগ পেলে ফারহানের জন্য সিনিয়র ফুটবলে নিজেকে আরও পরিণত করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হবে।
ফুলহামের মূল দলে জায়গা না হলেও ধারে গিয়ে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনই এখন ফারহানের পরবর্তী পদক্ষেপ। ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে ভবিষ্যতে আবারও ফুলহামের মূল দলে ফেরার পথ খুলে যেতে পারে এই তরুণের।
সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার ১০ দিনের মধ্যেই আবারও ২২ গজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আজিঙ্ক রাহানে। ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক এবার খেলবেন ইউরোপের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। গত ৩০ জুলাই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন রাহানে। তবে ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি দূরে থাকছেন না তিনি। ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসরে নেদারল্যান্ডসের ফ্র্যাঞ্চাইজি আমস্টারডাম ফ্লেমসের হয়ে খেলবেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। রাহানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে আমস্টারডাম ফ্লেমস। নতুন এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত আছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্টিভ ওয়াহও। নতুন লিগে খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাহানে। ইউরোপে ক্রিকেটের বিস্তারে ভূমিকা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রাহানে বলেন, ‘ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ক্রিকেটারদের দায়িত্ব হলো খেলাটাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। ইউরোপ ক্রিকেটে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী দিনে এই অঞ্চলটি ক্রিকেটের অন্যতম সম্ভাবনাময় জায়গা হয়ে উঠতে পারে।’ ভারতের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৮৫টি টেস্ট, ৯০টি ওয়ানডে ও ২০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন রাহানে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার রান ৮ হাজারের বেশি। তিন সংস্করণ মিলিয়ে রয়েছে ১৫টি শতক। অধিনায়ক হিসেবেও ভারতের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় লিখেছেন রাহানে। ২০২০-২১ মৌসুমে তার নেতৃত্বেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্টে মাত্র ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার পরও রাহানের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতেছিল ভারতীয় দল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও এবার ইউরোপের মাটিতে নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্রিকেটের সঙ্গে নিজের সম্পর্কটা ধরে রাখছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গড়ার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে কিশোর-কিশোরীদের প্রতিভা অন্বেষণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
শনিবার বিকেলে ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে একটি সুস্থ জাতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে।
তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোর-কিশোরীদের প্রতিভা খুঁজে বের করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির লক্ষ্যেও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ঝিনাইদহের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও একাধিক ঘোষণা দেন আমিনুল হক। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের ১০টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্পোর্টস ভিলেজ ঝিনাইদহে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জেলার বর্তমান স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ গ্যালারিসহ আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম।
ঝিনাইদহে সুইমিংপুল নির্মাণের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ২২টি জেলায় একটি করে সুইমিংপুল রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৬৪টি জেলায় একটি করে সুইমিংপুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার আওতায় ঝিনাইদহেও সুইমিংপুল নির্মাণ করা হবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধাসহ ইনডোর স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরে ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুজ্জামান মনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মজিদ।
এশিয়ান গেমসের আসন্ন আসরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। বর্তমানে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে চলমান আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন খেলোয়াড়েরা।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যাম্পে থাকা ২৪ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ২০ জনকে জার্মানির কন্ডিশনিং ক্যাম্পের জন্য চূড়ান্ত করার কথা ছিল। তবে খেলোয়াড়দের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা, দীর্ঘমেয়াদী উন্নতি এবং দলের শক্তিমত্তা বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে ক্যাম্পে থাকা ২৪ জন খেলোয়াড়কেই প্রায় এক মাসের কন্ডিশনিং ক্যাম্পের জন্য জার্মানিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ফেডারেশন।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান সাজেদ এ. এ. আদেল এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে ঢাকায় চলমান এই ক্যাম্প নিয়ে দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। জাতীয় দলের সিনিয়র ক্যাম্পেইনার মাইনুল ইসলাম কৌশিক জানান, মাঠের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হচ্ছে।
নতুন কোচের অধীনে খেলোয়াড়েরা প্রতিদিন নিত্যনতুন আধুনিক টেকনিক ও ট্যাকটিকস রপ্ত করছেন।এবারের ক্যাম্পে আধুনিক ইউরোপীয় শৈলীর হকি অনুশীলনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে গোল স্কোরিং, পেনাল্টি কর্নার, বক্সের ভেতর দ্রুত গোল করার কৌশলগুলো নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা লিওনেল মেসির জীবনে নেমে এলো গভীর শোক। মারা গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকার বাবা হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। আর্জেন্টিনার একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে গোল ডটকম।
দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন হোর্হে মেসি। গত জুনেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সে সময় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও তার অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি এবং মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচ দেখতে লুসাইল স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। ছবিটি ৯ ডিসেম্বর ২০২২ তোলা। (ছবি: গেটি ইমেজেস)
হোর্হে মেসি শুধু লিওনেল মেসির বাবা ছিলেন না, ছিলেন তার ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। ছোটবেলা থেকেই মেসির প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ছেলের ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পুরো যাত্রাতেই পাশে ছিলেন হোর্হে। মেসির পেশাদার জীবনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিলেন তিনি।
বাবার অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মেসির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। গত জুনে বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মেসি। গোল উদযাপনের সময় চোখে পানি দেখা যায় তার।
৯ ডিসেম্বর: ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ শুরুর আগে লুসাইল স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে লিওনেল মেসির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ছিলেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো, ছেলে মাতেও মেসি রোকুজ্জো, বাবা হোর্হে মেসি, ছেলে সিরো মেসি রোকুজ্জো এবং ছেলে থিয়াগো মেসি রোকুজ্জো। (গেটি ইমেজেস)
ম্যাচ শেষে মেসিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন তিনি কাঁদছিলেন। উত্তরে আর্জেন্টাইন তারকা বলেছিলেন, তার কান্নার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি কয়েকটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
মেসির সেই বক্তব্যের পরই তার বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, হোর্হে মেসির অসুস্থতার কারণেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন লিওনেল। তবে সে সময় তার পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়, হোর্হে মেসি শারীরিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনা ও সংবেদনশীলতার অভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। হোর্হে মেসি ও তার পরিবারের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করার আহ্বান জানায় পরিবার।
এরপর জুলাইয়ের শেষদিকে মেজর লিগ সকারের অল-স্টার ম্যাচেও অংশ নেননি লিওনেল মেসি। ধারণা করা হয়, বাবার পাশে থাকতেই গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। কয়েক দিন পর অবশ্য আবার মাঠে ফেরেন ইন্টার মায়ামির হয়ে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাবাকে হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা পেলেন না ফুটবলের এই মহাতারকা।
মেসির জীবনে হোর্হে মেসির অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছেলের প্রতিভা বিকাশ থেকে শুরু করে পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া; প্রতিটি ধাপেই বাবার উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। তাই বাবার মৃত্যু শুধু মেসির ব্যক্তিগত জীবনের বড় ক্ষতি নয়, তার দীর্ঘ ফুটবলযাত্রার সঙ্গী একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে হারানোও।
বিশ্বের কোটি কোটি মেসিভক্তের কাছে লিওনেল মেসি ফুটবলের এক কিংবদন্তি। কিন্তু মাঠের বাইরের জীবনে তিনি একজন সন্তানও। সেই সন্তানের জীবনে আজ নেমে এসেছে গভীর শোক। বাবার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ মেসি পরিবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতোমধ্যেই মেসির প্রতি সমবেদনা জানানো হচ্ছে।
ফুটবল মাঠে অসংখ্যবার অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন মেসি। কিন্তু জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে প্রিয় বাবাকে হারানোর বেদনার সামনে নিঃসন্দেহে কোনো জয়ই বড় নয়।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ১৫৮ রানে অলআউট হলে ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল জয়ের জন্য এই রান যথেষ্ট কিনা? বা আমাদের ব্যাটাররা আপ টু দ্য মার্ক ব্যাট করেছে কিনা? তবে দিন শেষে জয়ের কারণে হয়তো সব প্রশ্নই ফিকে হয়ে যাবে কারণ ‘প্রথম টি-২০ ম্যাচে বাংলাদেশ এইচপি দল ৮৯ রানে জয়ী’।
বাংলাদেশ এইচপি দলের অধিনায়ক সাব্বির রহমান
টি-২০ ক্রিকেটে সাব্বির বড় ব্যাটারের নাম। যদিও জাতীয় দলের বাইরে তিনি তবে আকাশে বাতাসে অনেক কথা শোনা যায় জাতীয় দলে ফিরতে পারেন, জানি সেটা পরের হিসেব তবে ফিরতে হলে তাকে এই সমস্ত সুযোগ গুলো যে ভাল ভাবে কাজে লাগেতে হবে তা আর নতুন করে বলার কি আছে। ওপেনার আবরারের মিডল অর্ডারে ৪০ রানই ছিল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান। এছাড়া ৭ নম্বরে নেমে সাকলাইন ৩২ রানের ক্যামিও না খেললে ১৫০ রান হয়তো পার হতো না। মৃত্যৃঞ্জয় শেষ দিকে ১টি ছক্কাসহ ৫ বলে ৯ রান করে অপারাজিত থাকলেও রুবেল ৪ বলে ২ রান করে শেষ বলে রান নিতে গিয়ে আউট হয়েছেন। হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৫৯ রানের টার্গেট যে কম ছোট স্কোর তা বলা যাবে না তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরের উইকেট ও স্পোর্টিং উইকেটের চরিত্র দেখিয়েছে বিভিন্ন ম্যাচে তা মনে রাখা দরকার।
মালয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল ১৫৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুটা ভাল করতে পারেনি দুই ওপেনার শুন্য রানে আউট হয়েছেন। টপাটপ কিছু উইকেট পড়েছে বিশেষ করে শুন্যতে ১ম উইকেট ৬ রানে ২য় উইকেটের পর ২৮ রানে ৩য় উইকেটের পতন হলে সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে চলে যায় মালয়েশিয়া, তাই পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে মাত্র ২৮ রান তুলতে পেরেছিল অতিথি দল। মূলতঃ সফরকারীরা কতদুর যাবে আর তাদের জন্য এই ম্যাচটা ২০ ওভার খেলাটাই যে সম্মানের হবে তা আর বুঝতে বাকি ছিলনা। ৪র্থ উইকেট হারায় সফরকারীরা ৭ম ওভারের প্রথম বলেই এবার আউট আকিল যা দিন শেষে তার রানই হয়েছে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ। তারপর টেনেটুনে ১০ রান করতেই আবার ৫ম উইকেটের পতনের পর ৪১ রানে ৬ষ্ঠ উইকেট। এরপর ৫০ রানের আগে আর কোন উইকেট পড়বে কিনা তা নিয়ে সঙ্কা থাকলেও দলীয় হাফ সেঞ্চুরীর বাধা পেরিয়ে গেছে কোন উইকেট না হারিয়ে।
দলীয় ৫০ রান করার ১৩ রান পরেই আবার উইকেটে মড়ক লাগে এবার ৬৩ রানেই পড়ে ৭ম, ৮ম এবং ৯ম উইকেট! তবে মিরপুরে উপস্থিত বেশ কিছু দর্শকেদের জয় দেখার জন্য বেশক্ষন আর অপেক্ষা করতে দেননি মালয়েশিয়ার ব্যাটাররা ১০ম উইকেটের পতন ৬৯ রানে।
একসময় মালয়েশিয়া দলের ২০ ওভার খেলাটাও যে কৃতিত্ব বলে মনে হয়েছিল তা দলীয় থিম ট্যাং বা খেলোয়াড়রা মনে করেছেন কিনা তা অবশ্য তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বোঝা যায়নি তাই ১৬ ওভার খেলেই শেষ মালয়েশিয়ার ইনিংস।
বাংলাদেশ এইচপি দলের ৬ জন বোলার বল করেছেন সবাই উইকেট পেয়েছেন তবে রাকিবুল ও রুবেল ২টি করে নিয়েছেন আর রনি, সাকলাইন, মেহরব ও মৃত্যুঞ্জয় সবাই ১টি করে উইকেট পেয়েছেন। মালয়েশিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেছেন আকিল এছাড়া আজিম ১৫ ও বিজয় টেইল এন্টারে এসে ১৪ রান করেন। বাংলাদেশ ৮৯ রানে জয় লাভ করে সিরিজে ১-০ ব্যাবধানে এগিয়ে গেল। দু-দেশের মধ্যে ২য় টি-২০ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। টি-স্পোর্টস ইউটিউব চ্যানেল খেলা সরাসরি দেখাবে।
৩ ম্যাচ টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৫৮ রানে অলআউট হয়েছে। ওপেনার শুন্যতে আউট হলে অপর ওপেনার আবরার ২৮ (১৮) রান করে সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন তবে ওয়ান ডাউনে নামা আরিফুল ১২ বলে ১৫ করে লম্বা ইনিংস খেলার আভাস দিলেও আউট হয়ে গেছেন। ২০ ওভার শেষে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ১৫৮ রানে অলআউট এইচপি দল।
জাতীয় দলের একসময়ের হার্ডহিটার অভিজ্ঞ সাব্বির রহমান ১৪ রানেই শেষ করেছেন তার সম্ভাবনাময় ইনিংস। এরপর প্রীতম ৪ রানে আউট হলে মেহরব হাল ধরে একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন ২২ বলে ৪০ রানের তা না হলে বাংলাদেশের রান ১৫০ ছাড়িয়ে যেত না। তবে মেহরব আর সাকলাইনের মধ্যে বেশ ভাল একটা পার্টনারশিপ গড়ে উঠেছিল সাকলাই ভাল একটা ক্যামিও খেলেছেন ৭ নম্বরে নেমে। আবু হায়দা রনি ও রাকিবুল দ্রুত আউট হলে শেষ দিকে মৃত্যুঞ্জয় ৫ বলে একটি ৬ হাকালে ১৫৮ রানে শেষ হয়ে এইচপির ইনিংস। শেষ ব্যাটার ৪ বলে ২ রান করে শেষ বলে রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়েছেন।
মালয়েশিয়া ১৫৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শষে খবর পাওয়া পর্যন্ত ৬ ওভারে ১ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৮ রান করেছিল মালয়েশিয়া। চলমান…
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিকে হত্যার ষড়্ন্ত্রেএফর অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হওয়া একটি পুলিশি নথিতে উঠে এসেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলার, রেফারি ও কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার হুমকি, স্টকিং ও অনলাইন হয়রানির ঘটনা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ইনফরমাসিওন ডট ইএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় এফবিআইয়ের সঙ্গে কাজ করেছে ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কো-অপারেশন সেন্টার, আইপিসিসি। এই যৌথ নিরাপত্তা কেন্দ্র থেকে সন্ত্রাসী হুমকি, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং দর্শকদের বিভিন্ন অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়।
মেসিকে হত্যার সবচেয়ে গুরুতর হুমকিটি আসে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের আগে। ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি আরও দুজনকে নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। তাদের কাছে রয়েছে ‘হোমমেড বোমা’ ও একটি এআর-১৫ রাইফেল। পুলিশি নথি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের টার্গেট করার কথা বলার পাশাপাশি বিশেষভাবে মেসির নাম উল্লেখ করেন।
এরপর আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের দিনও মেসিকে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে শরীরে বাঁধা বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেবেন। একই সময়ে স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে বোমা রাখার দাবি করে পুলিশকে ফোন করেন আরেক ব্যক্তি। পরে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
শুধু মেসিই নন, নিরাপত্তা হুমকিতে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। রোনালদোর থাকার জায়গার তথ্য জানতে চাওয়া এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হিউস্টনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কানাডায় এক ব্যক্তি রোনালদোর সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। মিয়ামিতেও তাকে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন একজন। এমনকি পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন।
এদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আলেক্সান্ডার সোরলথ, জামিনটন ক্যাম্পাজ ও লুকাস দিনিয়ের মতো খেলোয়াড়রাও হুমকি পেয়েছেন। ম্যাচে ভুল বা সুযোগ নষ্ট করার পর কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় মৃত্যুর হুমকি। আর্জেন্টিনা-ইজিপ্ট ম্যাচের বিতর্কিত পারফরম্যান্সের পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে আসে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা।
সব মিলিয়ে ফাঁস হওয়া এই পুলিশি নথি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তাদের ঘিরে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে।
ছেলেকে নিয়ে বাবাদের স্বপ্ন সবসময় আকাশ ছোঁয়া। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তেমনী তার ছেলেকে নিয়েও আশাবাদী। রোনালদোর বিশ্বাস তার ছেলে (ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জুনিয়র) একদিন তাকেও ছাড়িয়ে যাবে ফুটবল মাঠে।
ছেলের প্রশংসা করতে গিয়ে রোনালদো বলেন ছেলে আমার কীর্তিকেও ছাপিয়ে যাবে। তবে আবার একটি বিষয়ে সাবধানও করে দিয়েছেন তিনি। আর তা হল- সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে রোনালদোর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা গেছে, আল নাসরের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অনুশীলন দেখছেন তিনি। বাকি দলের সঙ্গে অনুশীলন করছিল রোনালদোর ছেলেও। পাশে বসে থাকা এক ফুটবল কর্তাকে রোনালদো বলেন, ‘ও খুব ভাল ছেলে। সত্যি বলছি, ও খুব ভাল। বাকিরা (সন্তানেরা) আরো বেশি শক্তিশালী।
বিশেষ করে ছোটগুলো। কিন্তু এই ছেলেটাকে নিয়ে কোনও সমস্যা হয় না। ওর বয়সে আমি যেরকম ছিলাম, তার চেয়েও ও শক্তিশালী। আমি ছোটখাটো দেখতে ছিলাম। মনে হয় ও আমার চেয়েও বড় হবে।
রোনালদো ২০২২-এ সৌদি ফুটবল ক্লাব আল নাসরে যোগ দিয়েছিলেন। তার পরের বছরই রোনালদোর ছেলে আল নাসরের অনূর্ধ্ব-১৩ দলে যোগ দেয়। তার আগে সে বাবা রোনালদোর সাথে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব দলে অনুশীলন করেছিলেন। এ বছরের মার্চে রোনালদোর ছেলেকে দেখা গিয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে। তার পর পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৬ দলেও অনুশীলন করেছে। অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ম্যাচও খেলেছে।
পর্তুগাল অ-১৫ দলে অনুশীলনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জুনিয়র
মানসিক চাপ: হ্যাঁ-মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্তসফলবাবারসন্তানহওয়ায়বড়সুবিধা পাওয়ার জন্য ছেলেরবড়মানসিকচাপতৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বাবা যদি বিশ্বসেরা পর্যায়ের ব্যক্তি হন, তাহলে সন্তানের সবচেয়ে বড় লড়াই অনেক সময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, নিজেরপরিচয়ওপ্রত্যাশারসঙ্গে।মনোবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলেসামাজিক তুলনার চাপ। সেজন্য ছেলে রোনালদো জুনিয়রের কাজ হবে “বাবার মতো হতে হবে”- এই চাপ থেকে বের হওয়া।
সারকথা: রোনালদো যেভাবে বড় হওয়ার ক্ষুধা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন সেই ক্ষুধা কি তার ছেলের মধ্যে থাকবে বা কাজ করবে? বাবার সাথে চলতে থাকতে আর অনুশীলন করতে করতে সবকিছু পাওয়া তার হয়েই যাচ্ছে বলা যায় এটা যদি তার মাথায় কাজ করে তাহলে মনে হয়না ছেলে বাবাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন। বাকিটা সময়ই বলে দেবে। পাঠক আপনি কি মনে করেন তা কমেন্টে জানাতে পারেন।
বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের মেন্টর হিসেবে নতুন দায়িত্বে কাজ শুরু করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সিরিজটি তাঁর জন্য এই দায়িত্বে প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। শুরুতেই এইচপি দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর কাজ বেশ সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন দলের প্রধান কোচ সোহেল ইসলাম।
মালয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ এইচপি দল। শনিবার ৮ আগস্ট মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে ১০ আগস্ট। এরপর ১২, ১৪ ও ১৬ আগস্ট বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে হবে তিনটি ওয়ানডে।
মেন্টর হিসেবে দলের অনুশীলনে ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। শুধু মাঠের টেকনিক্যাল দিক নয়, নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাও তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এইচপি দলের প্রধান কোচ সোহেল ইসলাম মাহমুদউল্লাহর কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘রিয়াদ প্রথম সিরিজে এসেছেন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে চমৎকার কাজ করছেন। তাঁর যোগাযোগ খুবই ভালো এবং তিনি অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করছেন। বিভিন্ন সময়ে বিপাকে পড়লে কীভাবে চিন্তা করতেন, সেই বিষয়গুলো ওদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন। পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের টেকনিক্যাল বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলছেন।’
মাহমুদউল্লাহর অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করেন সোহেল ইসলাম। বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কারণে ক্রিকেটারদের কাছে তাঁর কথার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
সোহেল বলেন, ‘ছেলেরা তাঁকে বিশ্বাস করে, কারণ তিনি আমাদের দেশের ক্রিকেটে একটা উদাহরণ। তিনি যখন কথা বলেন, তখন ছেলেদের মধ্যে বিশ্বাসটা বেশি থাকে। এটা আমাদের ছেলেদের ওপর খুব ভালো প্রভাব ফেলছে।’
মালয়েশিয়া দল এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসেছে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলতে। মিরপুরে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে দুই দলের লড়াই। এরপর ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে।
তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া এইচপি দলের জন্য সিরিজটি যেমন নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ, তেমনি মাহমুদউল্লাহর মেন্টর হিসেবে কাজেরও বড় পরীক্ষা। তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্রিকেটাররা মাঠে কতটা নিজেদের মেলে ধরতে পারেন, সেটিই এখন দেখার।